লগইন রেজিস্ট্রেশন

দাজ্জালের আবির্ভাব

লিখেছেন: ' হাসান আল বান্না' @ শুক্রবার, মার্চ ২৬, ২০১০ (৫:৪৯ অপরাহ্ণ)

এক ভাইয়ের দাজ্জাল সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাব লিখতে গিয়ে দেখি উত্তরটা একটু বড়ই হয়ে গেছে। তাই নতুন করে পোষ্ট করলাম। উদ্দেশ্য – যারা এই বিষয়ে ভাল জানেন তাদের মতামতও নিই।

দাজ্জালের আবির্ভাব
প্রিয় নবী মুহম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উম্মতদের ঈমান পরীক্ষার জন্যই আল্লাহ আখেরী জামানায় দাজ্জাল প্রেরণ করবেন।
দাজ্জাল আল্লাহরই সৃষ্টি। দাজ্জালকে অনেকে একটা সিষ্টেম মনে করে। টেলিভিশন আবিস্কৃত হওয়ার পর অনেকেই একে এক চোখ বিশিষ্ট দাজ্জাল বলে মনে করেছেন। কিন্তু তা নয়, বরং হাদিসে আল্লাহর রাসুল তাকে মানুষ হিষেবেই দেখিয়েছেন। প্রত্যেক নবীই তাঁদের উম্মতদেরকে দাজ্জাল সম্পর্কে সতর্ক করেছেন। আমাদের নবী মুহম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামও আমাদেরকে দাজ্জালের ফিতনা সম্পর্কে হুশিয়ার করেছেন বার বার। চেষ্টা করি দাজ্জাল সম্পর্কে সংক্ষেপে আমার পড়া হাদিসগুলো সংক্ষেপে শেয়ার করতে-

- দাজ্জাল এক চোখ বিশিষ্ট একজন মানুষ রূপে আবির্ভূত হবে। তার ডান চোখ কানা হবে আর বাম চোখ দেখতে বেড়িয়ে আসার আঙুরের মত দেখাবে। তার কপালে লেখা থাকবে কাফ-ফা-রা (কাফির)।
- দাজ্জাল এর ফিতনা ( ট্রায়াল, টেষ্ট) হবে এযাবত পৃথিবীতে আসা সব ফিতনা থেকে কঠিন।
- দাজ্জাল এর ফিতনা মক্কা ও মদিনা ব্যাতিত পৃথিবীর সব ‘শহরে’ প্রবেশ করতে পারবে । লক্ষ্য করুন ‘শহর’ ।
- দাজ্জালের একহাতে আগুন আর আরেক হাতে পানি থাকবে। যা মূলত একে অপরের বিপরীত (আপ-সাইড-ডাউন)। অর্থাৎ দাজ্জাল যাকে তার আগুনে নিক্ষেপ করবে, আল্লাহ তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন, দাজ্জাল যাকে তার বেহেশতে প্রবেশ করাবে, মূলত: আল্লাহ তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করবেন।

- দাজ্জাল পৃথিবীতে ৪০ দিন অবস্থান করবে। তার ১ একদিন বছরের সমান, ১ একদিন মাসের সমান, ১ একদিন সপ্তাহের সমান, বাকী দিন গুলো আমাদের দিনের মত। হাদিসে যেহেতু বাকী ৩৭ দিন আমাদের দিনের মত বলা হয়েছে, কিন্তু প্রথম ৩ দিনকে বছর, মাস আর দিনের সমান তুলনা করা হয়েছে, সুতরাং প্রথম ৩ দিনের ব্যাপ্তি বা ডাইমেনশন মূলত পৃথিবীর সময়ের চেয়ে ভিন্ন। কোরআনে আখেরাতের সময় এর যে সকল উল্লেখ আছে, তার মধ্যে আখেরাতের ১ দিনের সমান দুনিয়ার ১০০০ বছর – এই ব্যাপ্তিটাই দাজ্জালের ১ম দিনের ব্যাখ্যা হিসেবে বণর্না করেন অনেক স্কলার। অর্থাৎ, তার ১ম দিন দুনিয়ার হিসেবে ১০০০ বছরের সমান। সুতরাং তার হায়াৎ ১০০০ বছরের চেয়েও বেশি। তবে সে তার হায়াতের শেষ ৩৭ দিন যা আমাদের সময়ের সমান ডাইমেনশনে প্রবেশ না করা পযর্ন্ত আমরা তাকে আমাদের চোখে দেখতে পাবোনা কিংবা চিনতে পারবো না বলে ধরে নেয়া যায়।

- হাদিসে তামীমুদ্দারী থেকে জানা যায় দাজ্জাল পৃথিবীর কোন এক দ্বীপে শেকলে আবদ্ধ আছে। যাকে তামীমুদ্দারী নামে একজন সাহাবী ও তার সঙ্গীগণ দেখতে পান। ঘটনাটি নবী মুহম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সময়কার। রোমাঞ্চকর এই অভিযানে জাচ্চাসা নামে দাজ্জালের স্পাইদের সাথেও তারা কথা বলেন। এই হাদিস থেকে জানা যায় দাজ্জাল অলরেডি পৃথিবীতে আছে। তার নতুন করে জন্ম নেয়ার প্রয়োজন নেই। তবে সে আল্লার হুকুম ছাড়া শেকলমুক্ত হতে পারবেনা। কবে আল্লাহ তাকে মুক্ত হওয়ার হুকুম দিবেন? তা আল্লাহই ভালো জানেন।

- দাজ্জালের সঙ্গী হবে ৭০ হাজার পার্শিয়ান শাল পড়া ইহুদি। শাল বলতে এখানে আমি বুঝেছি তারা নিজেদের পরিচয় গোপন রাখতে সক্ষম হবে। যেমন শালকে আমরা শরীরে কোন কিছু বহন করা বস্তুকে ঢেকে রাখতেও ব্যবহার করি।

- দাজ্জালকে হাদিসে মসীহ-উদ-দাজ্জাল বলা হয়েছে। মসীহ বলা হয় হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম কে। দাজ্জালকে মসীহ-উদ-দাজ্জাল বলার কারণ সে নিজেকে মসীহ বলে প্রচার করবে। মূলত ইহুদি ও খৃষ্টানরা হযরত ঈসা আলাইহিস্‌ সালামের অর্ন্তধান (ক্রস বিদ্ধ হননি, আল্লাহ উঠিয়ে নিয়েছেন) এর পর থেকেই একজন মসীহের জন্য অপেক্ষা করছে। দাজ্জালের আবির্ভাবের পর তারাই সবার আগে তাকে মসীহ বলে স্বীকার করবে আর তার উপর ঈমান আনবে। পরবর্তীতে বাকিরা…

- দাজ্জাল এর বড় অস্ত্র হবে মিথ্যা আর প্রতারণা। সে তার অনুসারীদেরকে বিশ্বাস করাতে পারবে যে সে মসীহ ও নবী, তার পর সে নিজেকে খোদা বলেও দাবী করবে। সে মৃতকে জীবন্ত করতে সক্ষম হবে। আকাশ থেকে বৃষ্টি নামাতে পারবে। মুহুর্তেই জমিন উর্ভর করে তাতে ফসল ফলিয়ে দিতে পারবে। উল্লেখ্য, সে আসার আগে পৃথিবীতে পর পর ৩ বছর অনাবৃষ্টি হবে। তার ক্ষমতা দেখে দলে দলে লোক তার আহ্বানে সাড়া দিবে।

- আল্লাহ ঈমাম মাহদী আলাইহিস সালামকে প্ররণ করবেন । দামেস্কের একটি মসজিদে ফজরের নামাজ এর পূর্বে আল্লাহ হযরত ঈসা আলাইহিস্‌ সালামকে প্রেরণ করবেন। আল্লাহর হুকুমে ঈসা আলাইহিস্‌ সালাম দাজ্জালকে হত্যা করবেন।

- আমরা কি দাজ্জালের সময়কালের মধ্যে আছি? – হাদিসে তামিমুদ্দারী বলছে হাঁ, আমরা তার সময়কালের মধ্যে আছি।

- দাজ্জাল তাহলে কোথায় আছে?
ইসলামিক স্কলার ইমরান এন হোসেন বলেন, দাজ্জাল এর দ্বীপ হচ্ছে বৃটেন। বৃটেন মূলত একটি দ্বীপরাষ্ট্র। দাজ্জাল যখন তার হায়াতের ১ দিন কিংবা আমাদের সময়ের ১০০০ বছর অতিক্রান্ত করছে তখন সে ছিল বৃটেনে আর বৃটেন ছিল পৃথিবীর সুপার পাওয়ার, দাজ্জাল তার হায়াতের ২য় দিন (যা ১ দিনের তুলনায় মাসের সমান ) যখন অতিক্রম করছে তখন সে আছে আমেরিকায় আর আমেরিকা হলো সুপার পাওয়ার। দাজ্জাল তার হায়াতের ৩য় দিন যখন অতিক্রম করবে তখন সে থাকবে ইসরাঈলে আর ইসরাঈল হবে নেষ্কট সুপার পাওয়ার। যা প্রথম ২ দিনের তুলনায় হবে সপ্তাহের সমান কিংবা অল্প সময়ের জন্য। এর পরেই দাজ্জাল – দাজ্জাল রূপে আবির্ভূত হবে। এই বণর্নার সাথে আমি একমত। কারণ দাজ্জালের টার্গেট কিন্তু অবিশ্বাসীরা নয়, তার টার্গেট মূলত মুসলমান, যারা আল্লাহর সাথে কাউকেই শরীক করতে রাজী নয়। তার মিশন ইসলাম ধ্বংস। আর, আমরা দেখেছি বৃটেনকে ইসলামী খেলাফতের নিভূ নিভূ প্রদীপটি কে নিভিয়ে দিতে। খেলাফত নেই তো ইসলামিক ইন্সটিটিউসনসও নেই, সুতরাং ইসলামী শরীয়াও নেই, এখন ইসলাম ধ্বংস অতি সহজ। এই সহজ সত্যটা দাজ্জালেরও জানা। শুধু তাই নয়, দাজ্জাল তার আখেরী ঠিকানা ইসরাঈলকে ও সৃষ্টি করেছে এই বৃটেন থেকেই। তার পর সে তার হায়াতের মাসের সমান দিনটি অতিক্রান্ত করছে আমেরিকা থেকেই, যে অবিশ্বাস্য ধূর্ততার সাথে এই ইসরাঈল এর নিরাপত্তার জন্য একের পর এক মিশন চালিয়ে যাচ্ছে। আর মুসলমান তার অন্তিম সময় এসে গেছে ভেবে মৃত্যুর পূর্বে সরবত পানের মতই দুনিয়ার ভোগে ব্যস্ত। ইহুদিরা জানে তাদের বহুল প্রতিক্ষিত মসিহ্‌ আসবে। খৃষ্টানরাও তার প্রতিক্ষায় প্রহর গুণছে। আমেরিকা নিজে দাজ্জাল ও তার অন্তিম ঠিকানার নিরাপত্তা বলয়কে সুদৃঢ় করা জন্য ইতিমধ্যেই পৃথিবীর চারিদিকে শত শত সেনা ঘাটি স্থাপন করেছে। দাজ্জাল তার সফল অস্ত্র পেপার মানি, রিবা বা সম্পদ ঘ্রাস পদ্ধতি , মিডিয়া, শিরক, স্যাটেলাইট টিভি, বেহাপনার ফিতনা ইত্যাদি সফলতার সাথেই মুসলমানদের ঘরে ঘরে পৌছে দিয়েছে। তার ভয়ন্কর ফাসাদ থেকে এমনকি প্রত্যন্ত বাংলার দূর্গম গ্রামও থেকে বেঁচে নেই। অল্প কিছুসংখ্যক ছাড়া বাকি মুসলমান সবকিছুরই ডাউন-সাইড-আপ ভাবছে। দাজ্জাল বসে নেই । টার্গেট – ইসরাঈল, আল-আকসা (হার্ট অব দি মুসলিম ঊম্মাহ), যেখানে বসে দাজ্জাল পৃথিবীতে তার রাজত্ব কায়েম করবে। সে হবে ইহুদি খৃষ্টানদের প্রত্যাশিত মসিহ। তার স্বপ্ন – উম্মতে মুহম্মদি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, দলে দলে তারা তার মসিহি আর খোদায়ীকে মেনে নিবে। নাউজুবিল্লাহ।।

“আল্লাহুম্মা ইন্নি আজুবিকা মিন আজাবিল কাব্‌র, ওমিন আজাবিন্‌নার, ওয়ামিন ফিতনাতিল মাহ্‌ইয়ায়া ওয়ামামাতি, ওয়ামিন ফিতনাতিল মাসিহ্‌-আদ-দাজ্জা্ল ” – হাদিস ২৩:৪৫৯ বোখারী।

রেফারেন্স: বোখারী (বুক:হাদিস নং) -
23:459, 26:626, 30:103, 30:104, 30:105
30:106, 46:719, 52:290, 55:553, 55:574০০
56:659, 59:652, 59:685, 60:230, 71:627
73:194, 75:376,
মুসলিম (বুক:হাদিস নং) -
1:296, 1:316, 1:320, 1:323, 1:324, 1:325
1:327, 4:1216, 4:1217, 4:1219, 4:1220,
4:1221, 4, 5, 9, 4:1973, 7:3186, 7:3187,
25:5352, 31:6133, 31:6134, 41:6931,4995,4996

আরো বিস্তারিত জানতে পড়ুন – http://imranhosein.org/

Processing your request, Please wait....
  • Print this article!
  • Digg
  • Sphinn
  • del.icio.us
  • Facebook
  • Mixx
  • Google Bookmarks
  • LinkaGoGo
  • MSN Reporter
  • Twitter
২,৯৪০ বার পঠিত
1 Star2 Stars3 Stars4 Stars5 Stars (ভোট, গড়: ৫.০০)

২৩ টি মন্তব্য

  1. দাজ্জালের ১ম দিন ১ বছরের সমান হবে এটা তো খুবই মশহুর। কিন্তু ১০০০ বছরের সমান এই রেফারেন্সটা জানালে ভালো হত!

    হাসান আল বান্না

    @সাদাত, কিন্তু ১০০০ বছরের সমান এই রেফারেন্সটা জানালে ভালো হত!

    তারা আপনাকে আজাব ত্বরান্বিত করতে বলে। অথচ আল্লাহ্‌ কখনও তার ওয়াদা ভঙ্গ করেন না। আপনার পালনকর্তার কাছে একদিন তোমাদের গণনার এক হাজার বছরের সমান ।

    ———————————
    ২২ – সূরা হাজ্জ্ব – আয়াত – ৪৭

    সাদাত

    @হাসান আল বান্না,

    এটা তো জানি।
    এখানে আল্লাহপাকের একদিনের কথা বলা হচ্ছে।

    কিন্তু দাজ্জালের ১ম দিন ১০০০ বছরের সমান এটার রেফারন্সটা জানতে চাচ্ছি। অথবা দাজ্জালের প্রথম দিন আল্লাপাকের ১ দিনের সমান এটার রেফারেন্সটা কোথায়?

    মালেক_০০১

    @সাদাত,

    কিন্তু দাজ্জালের ১ম দিন ১০০০ বছরের সমান এটার রেফারন্সটা জানতে চাচ্ছি। অথবা দাজ্জালের প্রথম দিন আল্লাপাকের ১ দিনের সমান এটার রেফারেন্সটা কোথায়?

    এই রেফারেন্সতো নাই। এইটা ইমরান এন হোসেনের মতামত। উনি ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেছেন মাত্র। সঠিকও হতে পারে, ভুলও হতে পারে। আল্লাহই ভাল জানেন।

    হাসান আল বান্না

    @সাদাত, …অথবা দাজ্জালের প্রথম দিন আল্লাপাকের ১ দিনের সমান এটার রেফারেন্সটা কোথায়?

    সহীহ মুসলিম এর বুক ৪১ এর ৭০১৫ হাদিসটি পড়ুন।
    দীর্ঘ এই হাদিসটিতে সাহাবীগণ রাসুলুল্লাহি আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে কথোপকতন করছেন…
    “…
    আমরা বল্লাম: আল্লাহ্‌র রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম , কতদিন সে দুনিয়াতে বিচরণ করবে?

    তিনি বল্লেন (রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ): চল্লিশ দিন, একদিন এক বছরের মত, একদিন এক মাসের মত, একদিন এক সপ্তাহের মত এবং বাকি দিনগুলি হবে তোমাদের দিনের মত।

    আমরা বল্লাম: আল্লাহ্‌র রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম , যে দিনটি বছরের সমান সেই দিনটির সালাত পড়ার জন্য কি একদিনের সালাতই কি যথেষ্ট হবে?

    উত্তের তিনি বল্লেন (রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ): না। তোমরা অবশ্যই সময় অনুমান করে পড়বে। “

    সাদাত

    @হাসান আল বান্না,
    এ হাদিস আমি জানি, এটা আমার প্রশ্ন ছিল না।

    হাসান আল বান্না

    @সাদাত, কিন্তু দাজ্জালের ১ম দিন ১০০০ বছরের সমান এটার রেফারন্সটা জানতে চাচ্ছি।

    এখানে যে দিনটিকে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বছরের সাতে তুলনা করেছেন সেটি প্রকৃতপক্ষে আমাদের সময়ে কত বছর হতে পারে এই সিদ্ধান্তটা ইসলামী চিন্তাবিদদের জন্য একটা চ্যালেঞ্জ। আপনিও নিশ্চই লক্ষ্য করেছেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাজ্জালের ১ দিনকে আখেরাতের দিন বলেননি, আখেরাতের দিন নয় তাও বলেন নি, আর তা দুনিয়ার দিনের সমানও নয়। একদিকে হাদিসে তামিমুদ্দারী অনুযায়ী দাজ্জাল দুনিয়াতেই আছে। অন্যদিকে তার দিনটি বছরের ন্যায় দীর্ঘ যার সময়ের পরিধি একদিনের সালাতের জন্য যথেষ্ট নয়। এর পর স্কলাররা কোরআন হাদিসে সময়ের আর যেসব উল্লেখ আছে তার সাথে এই দিনটির ব্যাপ্তি পরিমাপ করার চেষ্টা করেছেন। কোরআনের উপরোক্ত আয়াতে আল্লাহ্‌র ১ দিনকে আমাদের গণনায় ১০০০ বছর বলা হয়েছে। ( এই আয়াত কোরআন ও হাদিসে দুনিয়ার সামান্য হায়াতের বিনিময়ে আল্লাহ আখেরাতের অনন্ত কাল জাহান্নাম কিংবা অনন্তকাল জান্নাতের সংবাদের সাথে খুবই সামঞ্জস্যপূর্ণ।) অর্থাৎ দুনিয়ার আর আখেরাতের সময়ের ব্যাপ্তির অনুপাত ১দিন:১০০০বছর কিংবা ব্যাপক। তো, দাজ্জালের সংক্রান্ত হাদিসগুলি আমাদের সময়ে আসার সাথে সাথে এরি মধ্যে ১৪০০ বছর সময় পার হয়ে গেছে। অর্থাৎ আজকে যারা সহীহ মুসলিমের ৭০১৫ হাদিসটি এবং হাদিসে তামিমুদ্দারী একসাথে পড়বে তারা সহজেই এই সিদ্ধান্তে আসবে যে দাজ্জাল মূলত, রাসুলুল্লাহু সাল্লাহু আলাইহি ওয়াল্লামের জমানা থেকেই দুনিয়াতে আছে, আর সে তার হায়াতের ১দিন যা কোরআনে উল্লিখিত আমাদের সময়ের গণনায় ১০০০ বছরের সমান তা পার হয়ে গেছে। আমি ডুমুর গাছের কাছে শুধু এটুকু জ্ঞানই আছে। বিষয়টি যেহেতু কম্প্লিকেটেড, আপনিও আপনার মতামত শেয়ার করতে পারেন।

  2. তামিম দারি(রা.) এর হাদিসটার স্ট্যাটাস কী? এটা আগে জানা দরকার।

    দাজ্জাল পৃথিবীতে থাকা আর আত্মপ্রকাশ এক কথা না।

    দাজ্জালের আত্মপ্রকাশের ১ম দিন=১ বছর।

    এই ১ বছর যদি আমাদের বছর না হয়ে আল্লাহপাকের হিসাবের বছর হয়। তবে

    দাজ্জালের ১দিন= আল্লাহপাকের ১ বছর= ৩৬৫ * আল্লাহপাকের ১ দিন= ৩৬৫ * আমাদের ১০০ বছর= আমাদের ৩৬৫০০০ বছর

    হবার কথা।

    সাদাত

    @সাদাত,

    একটু ভুল ছিল:

    দাজ্জালের আত্মপ্রকাশের ১ম দিন=১ বছর।

    এই ১ বছর যদি আমাদের বছর না হয়ে আল্লাহপাকের হিসাবের বছর হয়। তবে

    দাজ্জালের ১দিন= আল্লাহপাকের ১ বছর= ৩৬৫ * আল্লাহপাকের ১ দিন= ৩৬৫ * আমাদের ১০০০ বছর= আমাদের ৩৬৫০০০ বছর

    হবার কথা।

    হাসান আল বান্না

    @সাদাত, এই ১ বছর যদি আমাদের বছর না হয়ে আল্লাহপাকের হিসাবের বছর হয়। তবে

    হাঁ, আপনার হিসাব টাও সঠিক হতে পারে, যদি দাজ্জালের ১দিন= আল্লাহপাকের ১ বছর হয়, কিন্তু হাদিসের কোথাও ১ বছরকে আল্লাহপাকের একবছর বলে উল্লেখ নেই। শুধু ১ বছরের মত বলা হয়েছে (one day like a year) ।

    সাদাত

    @হাসান আল বান্না,

    আমার বক্তব্য:

    এক.
    দাজ্জালের আত্মপ্রকাশের আগে থেকেই দাজ্জাল পৃথিবীতে থাকবে। হাদিসে যে ১ম দিনের কথা বলা হয়েছে সেটা আত্মপ্রকাশের পর প্রথম দিন।

    দুই.
    হাদিসে দাজ্জালের আত্মপ্রকাশের পর ১ম দিনকে ১ বছরের সমান বলা হয়েছে। আমার পজিশনও এটাই।

    আপনি উল্লেখ করেছেন:
    কোরআনে আখেরাতের সময় এর যে সকল উল্লেখ আছে, তার মধ্যে আখেরাতের ১ দিনের সমান দুনিয়ার ১০০০ বছর – এই ব্যাপ্তিটাই দাজ্জালের ১ম দিনের ব্যাখ্যা হিসেবে বণর্না করেন অনেক স্কলার। অর্থাৎ, তার ১ম দিন দুনিয়ার হিসেবে ১০০০ বছরের সমান। সুতরাং তার হায়াৎ ১০০০ বছরের চেয়েও বেশি।

    আমার বক্তব্য:
    দাজ্জালের ১ম দিন= আখেরাতের/আল্লাহর এক দিন, এই মতের উৎস কী?

    আপনি যে স্কলারদের কথা বললেন উনাদের হিসাব অনুযায়ী,

    দাজ্জালের ১ম দিন ১০০০ বছর না হয়ে ৩৬৫০০০ বছর হবার কথা। এই মত আমার কাছে গ্রহণযোগ্য মনে হচ্ছে না। তাই আমি এই মতের সোর্সটা জানতে চাচ্ছি।

    হাসান আল বান্না

    @সাদাত, দাজ্জালের ১ম দিন= আখেরাতের/আল্লাহর এক দিন, এই মতের উৎস কী?

    ভাই সাদাত, ১০০০ বছরের ব্যাখ্যাটা সম্পূর্ণ ধারণা নির্ভর। যেমনটি আপনি ধারণা করছেন ৩৬৫০০০ বছর হবার কথা।
    এর যেকোন একটি কিংবা দুটিই ভুল কিংবা শুদ্ধ হতে পারে। কারণ এর কোনোটিই হাদিসটিতে উল্লেখ নেই।
    তবে, এর সাধাসিধে অর্থ দ্বার করালে যা দাড়ায় অর্থাৎ ১ দিন ১ বছরের ন্যায়, তাহলে দাজ্জালের প্রথম দিনটি হতে হবে দীর্ঘ একটি দিন, যা ১ * ৩৬৫ * ২৪ ঘন্টা লম্বা। বুঝতেই পারছেন, বিষয়টি ব্রেইন-স্টর্মিং এর দাবী রাখে।

    সাদাত

    @হাসান আল বান্না,

    কিছু মনে কইরেন না। একটা জিনিস না বুঝলে আমি শান্তি পাই না।

    ৩৬৫০০০ বছর কিন্তু আমার ধারণা না, আমি এটা সমর্থনও করি না।

    হাদিস আছে ১দিন ১ বছরের সমান হবে, এটাই তো সোজা সাপ্টা বুঝ।

    কেউ যদি সেই ১ বছরের প্রত্যেক দিনকে আখেরাতের দিন হিসেবে বিবেচনা করে তবে তার হিসেবে দাজ্জালের প্রথম দিন ১০০০ বছর না হয়ে ৩৬৫০০০ বছর হওয়ার কথা!

    হাসান আল বান্না

    @সাদাত, হাদিস আছে ১দিন ১ বছরের সমান হবে, এটাই তো সোজা সাপ্টা বুঝ।

    ভাই সাদাত,
    ব্যাপারটা সোজা সাপ্টা হলে রাসুলুল্লাহু সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলতেন দাজ্জাল দুনিয়াতে (১ বছর/৩৬৫ + ১ মাস/৩০, ১ সপ্তাহ/৭ + ৩৭দিন) ৪৩৯ দিন থাকবে। খেয়াল করুন, তিনি ৪০ দিন বললেন, তার পর বললেন, ১ দিন হবে ১ বছরের ন্যায় । অন্যদিকে সালাত আদায়ের প্রশ্নে রাসুলুল্লাহু সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, সালাত সময় অনুমান করে পড়তে হবে, ১ দিনের সালাত যথেষ্ট নয়। এই কথাটির সোজা সাপ্টা ব্যাখ্যা করলে আপনাকে এমন একটি দিনের জন্য অপেক্ষা করতে হবে যা ১ বছরের ন্যায় দ্বীর্ঘ, অর্থাৎ, এক বছরের মধ্যে সূয্য উদিত হবে মাত্র একবার।

    এই হিসাবটি যেই বলুক, এটা কোনো ডকট্রিন নয় যে তার হিসাবে ভুল হলে সালাত আদায় হবে না। যে সব হাদিস সোজা সাপ্টা বিশ্লেষনের বাইরে বাড়তি চিন্তাভাবনার দাবী রাখে কিংবা অনুমাননির্ভর তথ্য উপস্থাপনের সুযোগ দেয় সে সব ক্ষেত্রে আপনি শুধু এই দোয়াই করতে পারেন যে আল্লাহ যেন আমাদেরকে সত্যের কাছাকাছি সিদ্ধান্তে পৌছে দেন।

    সাদাত

    @হাসান আল বান্না,

    মনে হয় আমি আমার পয়েন্টটা বুঝাতে পারি নাই। যা হোক এই টপিকের এখানেই ইতি টানলাম।

  3. “আল্লাহুম্মা ইন্নি আজুবিকা মিন আজাবিল কাব্‌র, ওমিন আজাবিন্‌নার, ওয়ামিন ফিতনাতিল মাহ্‌ইয়ায়া ওয়ামামাতি, ওয়ামিন ফিতনাতিল মাসিহ্‌-আদ-দাজ্জা্ল ”

    দোয়াটি আমি এভাবে জানতামঃ
    আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা মিন আজাবিল ক্বাবরি, ওয়ামিন আজাবি জাহান্নাম, ওয়ামিন ফিতনাতিল মাহইয়ায়া ওয়াল মামাতি, ওয়ামিন শাররি ফিতনাতি মাসিহিদ দাজ্জাল।

    কোনটি সঠিক?

    সাদাত

    @দ্য মুসলিম,

    পার্থক্য তো তেমন নাই।
    নার হচ্ছে দোযখ, আর মুছলমানের দোযখ হচ্ছে জাহান্নাম।
    দুই এক জায়গায় উনি থেমে পড়েছেন, আপনি না থেমে।

    হাসান আল বান্না

    @দ্য মুসলিম,
    ওয়ামিন শাররি = এবং শয়তান হতে
    ওয়ামিন ফিতনাতিল মাসিহ-আদ-দাজ্জাল = এবং দাজ্জালের ফিতনা হতে।

    ২৩-৪৫৯) Narrated Abu Huraira : Allah’s Apostle used to invoke (Allah): “Allahumma ini a’udhu bika min ‘adhabi-l-Qabr, wa min ‘adhabi-nnar, wa min fitnati-l-mahya wa-lmamat, wa min fitnati-l-masih ad-dajjal. (O Allah! I seek refuge with you from the punishment in the grave and from the punishment in the Hell fire and from the afflictions of life and death, and the afflictions of Al-Masih Ad-Dajjal.”

    এই মুহুর্তে হাতের কাছে এটুকু তথ্যই আছে। শুদ্ধতা যাচাইয়ে আর কোনো ভাইও এগিয়ে আসতে পারেন।

    সাদাত

    @হাসান আল বান্না,

    ওয়ামিন শাররি = এবং অনিষ্ট হতে

    ওয়ামিন শাররি ফিতনাতিল মাসিহিদ দাজ্জাল = এবং দাজ্জালের ফিতনার অনিষ্ট হতে
    ওয়ামিন ফিতনাতিল মাসিহিদ দাজ্জাল = এবং দাজ্জালের ফিতনার হতে

    হাসান আল বান্না

    @সাদাত,

    ধন্যবাদ ভাই সাদাত।

    সাদাত

    @সাদাত,
    একটা শব্দ বাদ পড়েছিল

    ওয়ামিন শাররি ফিতনাতিল মাসিহিদ দাজ্জাল = এবং মাসিহ দাজ্জালের ফিতনার অনিষ্ট হতে
    ওয়ামিন ফিতনাতিল মাসিহিদ দাজ্জাল = এবং মাসিহ দাজ্জালের ফিতনা হতে

    হাসান আল বান্না

    @সাদাত, ধন্যবাদ ভাই সাদাত।