লগইন রেজিস্ট্রেশন

“কমুনিজমের ইহুদী প্রেতাত্মা এবং সুদূর প্রসারী শিক্ষা ব্যবস্থা”

লিখেছেন: ' manwithamission' @ বৃহস্পতিবার, নভেম্বর ১৯, ২০০৯ (১০:৪৭ পূর্বাহ্ণ)

বিশ্বাব্যাপী ইহুদীবাদকে সুপ্রতিষ্ঠিত করার জন্য অনেক আগে থেকেই ইহুদী শিক্ষিত জ্ঞানী ব্যক্তিরা তাদের প্রটোকল প্রণোয়ন করে এবং সেই মোতাবেক তাদের কার্যক্রম পরিচালিত করে। তারা তাদের কর্মকান্ডে এতই সুচতুরতা প্রকাশ করেছে যে, তারা গইমদের (নন ইহুদীরে গইম বলে অভিহিত করা হয়) ‘নির্বোধ’ বলে অভিহিত করে। তাদের প্রটোকল পুস্তকের “বিশ্বজোড়া বিপ্লব” অধ্যায়ে গইম নেতাদের তারা চিহ্নিত করেছে এইরুপে, “বাঘের মত চেহারার অধিকারী এসব লোকগুলোর অন্তরটা মেষের মতো এবং এদের মগজ এত হালকা যে, এর মধ্য দিয়ে সকল প্রকারের বায়ু অবাধে যাতায়াত করতে পারে। আমরা তাই তাদের মগজে একটা “সুখের ঘোড়া” ঢুকিয়ে দিয়েছি। এ ঘোড়াটি হচ্ছে ব্যক্তিত্বের অবসান করে সমষ্টির চিন্তা…… এ নির্বোধেরা এখনও বুঝতে পারেনি এবং কখনো বুঝতে পারবে না যে, এ খেয়ালী সখের ঘোড়াটি প্রাকৃতিক নিয়মরে বিরোধী পথে চলতে উদ্যত।…… গইমদের এই নিম্নমানের চিন্তা শক্তিই আমাদের সাফল্যের জামানত”।

কমুনিষ্ট আন্দোলনের মূলে যাদের মন-মগজ কাজ করছে তাদের সকলেই ইহুদী। কমুনিজমের জন্মদাতা কার্ল মার্কস মাতাপিতা উভয় দিক থেকেই ইহুদী! লেলিন এবং ট্রটস্কিও ইহুদী বংশেরই সন্তান। লেলিনের মা এবং স্ট্যালিনের স্ত্রী ইহুদী ছিল।

রুশীয় বিপ্লবের পূর্ব মুহুর্তে ইহুদী সম্প্রদায় নানাবিধ চক্রান্তে লিপ্ত ছিল। তাদের চক্রান্তের কিছু নমুনা নিম্নরুপ:
*প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শেষ হবার পর লেনিন তার দুশো কমরেড নিয়ে একটি রেলগাড়িতে করে গোপনে রাশিয়ায় প্রবেশ করেছিল তাদের মধ্যে যে ১৬৫ জনের নামের তালিকা পাওয়া যায় আর যার মধ্যে ১২৬ জনই ছিল ইহুদী।

*লেলিনের পর ট্রটস্কিও ৩০০ ইহুদী নিয়ে রাশিয়ায় প্রবেশ করে এবং রুশীয় বিপ্লবের ছক আকতে থাকে।

*বলশেভিক দল রাশিয়ার শাসন ক্ষমতা দখল করার পরে শাসন যন্ত্র ইহুদীদের হাতে চলে যায়। বিপ্লবোত্তর রাশিয়ার শাসন যন্ত্রের ৫৫৬টি গুরুত্বপূর্ণ পদের ৪৫৭টিই ছিল ইহুদীদের করায়ত্ত। আর বলশেভিক আন্দোলন ইহুদীদের অর্থ-সম্পদে পরিচালিত হচ্ছিল এবং জ্যাকব শিফ, কুহন লুইবা, ব্যাংকিং হাউজ, ওয়েস্ট ফলেন রাইন ল্যান্ড সিন্ডিকেট, ইয়ার্জিন ব্যাংকিং হাউজ প্রমুখ ব্যাংক মালিকগণই অর্থ সাহায্য দিয়ে বলশেভিক আন্দোলন মজবুত করে গড়ে তুলেছিল।

বিভিন্ন সমিতির ছদ্মাবরণে ইহুদী সম্প্রদায়:
১. ফ্রিম্যাসন আন্দোলন
২. লায়ন ও রোটারী ক্লাব
৩. জাতিসংঘ * (জাতিসংঘের নাম দেখে অনেকেই হয়তো অবাক হবেন, তাই একটু না বল্লেই নয়)
*নিয়ইয়র্কের বিখ্যাত ইহুদী আইন ব্যবসায়ী হেনরী ক্লায়েন তার বই Zions rule the world New York,1948, এর এক জায়গায় লিখেছেন- “জাতিসংঘ ইহুদীবাদের নামান্তর মাত্র। ১৮৯৭ সাল থেকে ১৯০৫ সালের মধ্যে জারীকৃত বিজ্ঞ ইহুদীবাদী মুরুব্বীদের প্রোটকল পুস্তকে যে সুপার গভর্নমেন্টের বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে এটা তাই।”

এখন ইহুদীদের সুদূর প্রসারী শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে একটু বলি।
বিশ্বব্যাপী ইহুদীবাদ যাতে করে নির্ভিগ্নে পরিচালিত হতে পারে এবং তাদের এই ইহুদীবাদ তত্ত্ব যেন কেউ বুঝতে না পারে আর তাদের অজান্তেই যেন তারা একে সমর্থন করে এই থিওরী মাথায় রেখেই তারা বিশ্বব্যাপী শিক্ষা ব্যবস্থা পরিবর্তন করার জন্য পরিকল্পনা করে। তাদের প্রটোকল পুস্তকের “শিক্ষাব্যবস্থার নয় রুপ” অধ্যায়ে এই বিষয়ের বিস্তারিত বিবরণ রয়েছে। আমি উল্লেখযোগ্য কিছু অংশের ভাবানুবাদ তুলে ধরছি।
“বিশ্ববিদ্যালয় গুলোতে ছাত্ররা মিলনান্তক বা বিয়োগান্তক নাটকে যেভাবে আগ্রহ প্রকাশ করে, ঠিক সেভাবে শাসনতান্ত্রিক বিষয়গুলোতে তাদের নাক গলাতে দেয়া যাবে না।”

“গইমদের বিশ্বজোড়া শিক্ষা ব্যবস্থার প্রতি লক্ষ্য করলে দেখা যাবে, রাষ্ট্র সংক্রান্ত ব্যাপারে ভ্রান্ত ধারণার বশবর্তী বিপুল জনতা অবাস্তব কল্পনা বিলাসী ও অচ্ছুত নাগরিক সৃষ্টি করে মাত্র। আমরা অবশ্যই তাদের শিক্ষা ব্যবস্থায় এমন সব মূলনীতি শামিল করবো যা প্রচলিত শিক্ষানীতিকে সম্পূর্ণরুপে অচল করে দিবে।…… যুবসমাজকে শাসন কর্তৃপক্ষের অনুগত সন্তান শ্রেণীতে পরিণত করবে। শান্তি শৃংখলার আশায় তারা শাসককে ভালোভাসবে এবং সমর্থন করবে।”

“গইম সরকারের ভুল-ভ্রান্তির ইতিহাস তাদের স্মৃতিপটে জাগ্রত করে রাখার ব্যবস্থা করবো। বাস্তব কর্মজীবন সম্পর্কে চর্চা করা, প্রতিষ্ঠিত সমাজ ব্যবস্থার প্রতি দায়িত্ব পালন, জনগণের পারস্পরিক সম্পর্ক, দুস্কৃতির বিস্তার সাধনকারী স্বার্থপর ও অন্যায় কার্যকলাপ থেকে বিরত থাকা ইত্যাদি ধরনের বিষয় পাঠ্য তালিকায় প্রথম সারিতে স্থান লাভ করবে”।

“মানুষ খেয়ালের বশে পরিচালিত হয় ও খেয়ালের নেশায়ই জীবনযাপন করে আর এসব খেয়াল মানুষের মন-মগজে শিক্ষার মাধ্যমেই বদ্ধমূল হয়ে যায়। বিভিন্ন ধরনের বৈচিত্রময় পদ্ধতিতে আমরা মানুষের স্বাধীন চিন্তার শেষ বিন্দুটুকু পর্যন্ত তাদের নিকট থেকে ছিনিয়ে নিয়ে মানুষগুলোকে আমাদের কাজে নিয়োগ করবে।”

“চিন্তাধারা নিয়ন্ত্রণ করার উদ্দেশ্যে আমরা ইতোমধ্যেই উদ্দেশ্যমূলক শিক্ষাদানের ব্যবস্থা জারী করেছি। এটা করার উদ্দেশ্য হলো, গইম সমাজকে চিন্তাশক্তিহীন অনুগত পশুর স্তরে নামিয়ে আনা যেন তাদের চোখের সামনে কোন কিছু পেশ না করা পর্যন্ত তারা নিজস্ব চিন্তার সাহয্যে কোন ধারণাই পোষণ করতে না পারে”।

ইহুদী সম্প্রপ্রদায় তাদের ইহুদীবাদ পরিচালনা করার জন্য কি জঘন্য, চক্রান্তই না করেছে। যেমন:

**ভবিষ্যত প্রজন্মকে পূর্বের প্রকৃত ইতিহাস না জানানো ব্যবস্থা তারা করেছে, তারা যেন শুধু তাদের দেশের সরকারের ভুল-ভ্রান্তি নিয়ে ব্যস্ত থাকে। আমাদের দেশে একটু খেয়াল করুন, বর্তমান প্রজন্ম মুসলমানদের তথা বিশ্বের বিভিন্ন ইতিহাস থেকে প্রায় অজ্ঞ বলা যায়। তাদের এমনভাবে তৈরী করা হচ্ছে যেন তারা শুধু নিজের সুখ চিন্তায় বিভোর হয়ে থাকে। আর এই প্রক্রিয়াটাকে এতই সুচতুরভাবে করা হয়েছে যে আমরা এখন এটাকেই স্বাভাবিক হিসেবে ধরে নিয়েছি।

**যুব সমাজকে এমনভাবে তৈরী করা হবে যেন তারা সরকারের একান্ত অনুগত হয়ে জীবন যাপন করে, কোন রকমের বিপ্লব বা পরিবর্তনের চিন্তা যেন তারা না করতে পারে। তবে পরিবর্তনের চিন্তা তারা করবে কিন্তু তা হবে তাদের পরিকল্পিত শিক্ষা ব্যবস্থার আলোকেই মানে তাদেরই(ইহুদীদের) চিন্তার বিপ্লব ঘটবে। আজকে আমাদের দেশে দেখুন, যুবসমাজকে পঙ্গু করে ফেলা হয়েছে। কমুনিজমের প্রেতত্মা বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে রয়েছে যা ইহুদীদের চক্রান্তের ফসল।

**যুব সমাজকে এমনভাবে তৈরী করা হচ্ছে যেন তারা স্বাভাবিক নৈতিকতা বোধ এবং অন্যায় নিয়ে মাথা ঘামায় কিন্তু বৃহৎ পরিসরে তারা অজ্ঞ থাকে। আর এইসব দিয়ে আমাদের মুসলিম যুবসমাজকে ইসলাম থেকে যোজন যোজন দূরে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। কারণ, স্বাভাবিক একটা চিন্তা যখন মাথায় বদ্ধমূল হয়ে যায় তখন সেই ছাত্র তথা যুব সমাজ তা নিয়েই সন্তুষ্ট থাকে।

***বৃহৎ পরিসরে যুব সমাজ যেন স্বাধীন চিন্তা ধারার অধিকারী না হয়। তারা চিন্তা করবে ইহুদীদের শিখানো পদ্ধতীতে। তাদেরকে যা শিক্ষা দেওয়া হবে তারা তাই তাদের মস্তিস্কে এমনভাবে বদ্ধমূল করে নিবে যে, তার বিরুদ্ধে চিন্তা করার শক্তিটুকু তারা পাবে না।
আজকে আমাদের সমাজে দেখুন, প্রবল ইচ্ছা শক্তি, বুদ্ধি সম্পন্ন যুবসমাজ এমন সব কাজে তাদের মূল্যবান সময় ব্যয় করে যা কোন ভালো ফলাফল নিয়ে আসে না। যুব সমাজের মধ্যে প্রেমের বীজ এমনভাবে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে আর এই বিষয়টিকে এতই আকর্ষণীয় করে তোলা হয়েছে যে, এই বিষয়ে তাদের সাথে কথা বলতে গেলে হয়তো তারা অনেক সময় সম্মতি দিবে কিন্তু‘ ভিতরে ভিতরে তার কোন পাত্তাই দিবে না। আরেকজনকে নিয়ে সুখি হওয়া, শারীরীক সম্পর্ক, বিভিন্ন প্রকার কু-চিন্তায় তারা তাদের সময় ব্যয় করে। আর এই চিন্তাটাকে এতই সুন্দর করে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে যে, তাদের কাছে এটাই স্বাভাবিক মনে হয়।

***একটি দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ,এই শিক্ষাব্যবস্থার আলোকেই ভবিষ্যত প্রজন্ম গড়ে উঠবে। কাজেই সেই শিক্ষা ব্যবস্থায় যদি ইসলাম বিষয়টি উপেক্ষিত থাকে তাহলে তা হবে ইহুদীদের স্বপ্নের বাস্তবায়ন। কুরআন এবং সহীহ সুন্নাহ থেকে দূরে রেখে নামধারী মুসলিমই শুধু গড়ে উঠবে। ২০ থেকে ২৫ বছর পড়-লেখা করার পর মুখে হয়তো সে ঠিকই বলবে আমি আল্লাহকে ভালবাসি কিন্তু বাস্তব জীবনে সে প্রতিনিয়ত আল্লাহর আদেশকে অমান্য করবে আর সে বিষয়ে তার কোন ধারণাই হবে না।

“মানুষের মধ্যে এমন একদল লোক আছে যারা আল্লাহ ছাড়া অন্যদেরকে শরীক বানিয়েছে এবং তাদেরকে এমনভাবে ভালবাসে যেমন আল্লাহকে ভালোবাসা উচিত, আর যারা ঈমান এনেছে তারা আল্লাহকেই সর্বাধিক ভালবাসে”।
(সূরা আল বাকারা: ১৬৫)

“আর যারা আল্লাহর জিকির হতে বিরত থাকে, আমি তাদের জন্য শয়তানকে নির্দিষ্ট করে দিই, সেই-ই তাদের সাথী হয়ে যায়। আর নিশ্চয় তারা তাদেরকে সঠিক রাস্তা থেকে দূরে সরিয়ে দেয় যদিও তারা ধারণা করে যে, তারা হেদায়াত প্রাপ্ত”। (সূরা আয যুখরফ: ৩৬-৩৭)

মহান আল্লাহ আমাদের শয়তান এবং শয়তানের অনুসারীদের, বিদআতীদের এবং শিরকপূর্ণ কথা, চিন্তা ও কাজ থেকে হিফাজত করুন। আমীন।

ইহুদী চক্রান্তের মূল প্রটোকলটি পড়তেঃ এখানে ক্লিক করুন
এই প্রটোকলটি বাংলায় বের হয়েছেঃ “ইহুদী চক্রান্ত” সম্পাদনায়ঃ আব্দুল খালেক।
প্রকাশনায়ঃ আধুনিক প্রকাশনী।

Processing your request, Please wait....
  • Print this article!
  • Digg
  • Sphinn
  • del.icio.us
  • Facebook
  • Mixx
  • Google Bookmarks
  • LinkaGoGo
  • MSN Reporter
  • Twitter
৬২৯ বার পঠিত
1 Star2 Stars3 Stars4 Stars5 Stars ( ভোট, গড়:০.০০)

১ টি মন্তব্য