***মতবিরোধ***
লিখেছেন: ' manwithamission' @ বৃহস্পতিবার, ডিসেম্বর ১০, ২০০৯ (২:৪৩ পূর্বাহ্ণ)
নু’মান ইবনে বশীর (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা অবশ্যই …………………………….., তানা হলে আল্লাহ তোমাদের মাঝে বিরোধ সৃষ্টি করে দিবেন। (সহীহ আল বুখারী, আযান অধ্যায়)
আমি জায়গাটা ইচ্ছা করেই খালি রাখলাম, লেখার শেষের দিকে শূন্যস্থান পূরণ করবো।
ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবন ব্যবস্থা। ইসলামের মাধ্যমে আমরা মুসলিম ভাইয়েরা একে অপরের ভাই হয়ে যাই। এই ভাই রক্তের বন্ধনের ভাইয়ের মতো নয়, এই ভাই শুধু তারাই হতে পারবে যারা এক আল্লাহতে দৃঢ় বিশ্বাসী এবং আল্লাহ কর্তৃক প্রদত্ত বিধানে তারা ঐক্যমত পোষণ করে। ইসলাম একটি নিয়ামত আমাদের জন্য। মহান আল্লাহ তাআলা তাওহীদ বিশ্বাসীদের ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ থাকতে বলেছেন এবং বিভিন্ন দল-উপদলে বিভক্ত হতে কঠোরভাবে নিষেধ করেছেন।
“নিশ্চয় যারা স্বীয় ধর্মকে খন্ড-বিখন্ড করেছে এবং অনেক দল হয়ে গেছে, তাদের সাথে আপনার কোন সম্পর্ক নেই। তাই তাদের ব্যাপার আল্লাহ তাআলার নিকট সমর্পিত। অতঃপর তিনি বলে দিবেন যা কিছু তারা করে থাকে।” ( সূরা আনআমঃ ১৫৯)
দল-উপদলে বিভক্ত হওয়া মুশরিকদের কীর্তি। আল্লাহ তাদের মতো আমাদের বিভক্ত হতে কঠোরভাবে নিষেধ করেছেন।
“সবাই তাঁর অভিমুখী হও এবং ভয় কর, নামায কায়েম কর এবং মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত হয়ো না। যারা তাদের ধর্মে বিভেদ সৃষ্টি করেছে এবং অনেক দলে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। প্রত্যেকেই নিজ নিজ মতবাদ নিয়ে উল্লসিত” (সূরা আর-রূমঃ ৩১-৩২)
আল্লাহ এই জায়গায় সবাইকে আল্লাহ অভিমুখী হতে বলেছেন এবং তাঁকে ভয় করতে বলেছেন, নামায কায়েম তথা নামায প্রতিষ্ঠা করতে বলেছেন আর ঠিক এর পরেই বলেছেন মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত হয়ো না যারা ধর্মে বিভেদ সৃষ্টি করেছে। এখানে লক্ষ্য করুন, মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত তারাই হবে যারা ধর্মে বিভেদ সৃষ্টি করে বিভিন্ন দল-উপদল তৈরী করে বিভক্ত হয়ে পরবে। আর এ থেকে বাঁচার জন্য আল্লাহ তাআলা তিনটি উপায় বলে দিয়েছেন।
১. আল্লাহ অভিমুখী হওয়া
২. একমাত্র আল্লাহ তাআলাকেই ভয় করা
৩. নামায কায়েম করা
আমাদেরকে আল্লাহ অভিমুখী হতে হবে অর্থাৎ সর্বক্ষেত্রে আল্লাহ প্রদত্ত বিধান মেনে চলতে হবে কারণ আমরা মুসলিমরা সবাই আল্লাহর নিকট আত্মসমর্পণকারী। একমাত্র আল্লাহকেই ভয় করতে হবে। একমাত্র আল্লাহকেই ভয় করা কথাটা বলা যতটা সহজ বাস্তব জীবনে তা বাস্তবায়ন করা ততটাই কঠিন। কিছু উদারহরণ দিই, হায় হায় লোকে কি বলবে আমি যদি অমুক কাজটা তমুকভাবে করি; বস রাগান্বিত হয়ে যাবেন, আমার খবর আছে যদি আমি সুদের সাথে সম্পৃক্ত না হই; আমি তমুক ক্ষমতাবান পদে আসীন হয়েছি খোলামেলাভাবে চললে লোকে আমাকে মেরে ফেলতে পারে, আমি তাদের ভয় করি; নাহ হক কথাটা আমি তার সামনে বলতে পারবো না, সে আমাকে মেরেই ফেলবে প্রভৃতি। একরকম হাজারো নমুনা রয়েছে যা আমাদের একমাত্র আল্লাহকে ভয় করা থেকে বিরত রাখে এবং আমাদের মাঝে মতবিরোধ তথা দল-উপদল সৃষ্টিতে সাহায্য করে। এরপর আল্লাহ তাআলা বলেছেন নামায কায়েম করতে। জামাতে নামায পড়তে যাওয়ার সময় আমাদের কাতার সোজা করে দাড়াতে হয়, কিন্তু কাজটা যে কতটা কঠিন তা আমাদের ধারণাতেই নেই। কাতার সোজা করতে আমরা সাদা চোখে যতটুকু বুঝি তা হলে মসজিদে কাতারে যে দাগ টানা হয়েছে সে অনুযায়ী লাইন সোজা করে দাড়ানো, এর চেয়ে বেশী কিছু আমরা বুঝি না বা আমাদের বুঝানো হয় না বা বুঝলেও মানতে দেওয়া হয় না। আর এই কাতারে ঠিকমতো না দাড়ানোর ফলে আমাদের মাঝে মত বিরোধ সৃষ্টি হচ্ছে, বিভিন্ন দল-উপদল সৃষ্টি হচ্ছে। অনেকেই হয়তো বুঝতে পারছেন না কিভাবে তা হল! এখন লেখার শুরুতে দেওয়া হাদীসের সম্পূর্ন অংশটুকু তুলে ধরছি।
নু’মান ইবনে বশীর (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা অবশ্যই কাতার সোজা করে নিবে, তানা হলে আল্লাহ তোমাদের মাঝে বিরোধ সৃষ্টি করে দিবেন। (সহীহ আল বুখারী, আযান অধ্যায়)
এখন প্রশ্ন হলো কাতারে সোজা করে দাড়ানোর নিয়ম কি? আসুন দেখি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সুন্নাহ কি বলে।
কাতারে সোজা হয়ে দাড়ানোর নিয়ম হল: আনাস (রা) বলেনঃ আমাদের প্রত্যেকেই তারা পাশ্ববর্তী ব্যক্তির কাঁধের সাথে কাঁধ এবং পায়ের সাথে পা মিলাতাম। (সহীহ আল বুখারী, আযান অধ্যায়)
অর্থাৎ কাতার সোজা করে দাড়ানোর যথার্থ নিয়ম হলো এইটা। কিন্তু আমরা কি এমন করে কাতার সোজা করে দাড়াই? নাহ, দাড়াই না। আমরা অনেকটুকু জায়গা ফাকা রেখে দাড়াই। আর পাশে একটু মলিন কাপড় বা একটু গরীব লোক হলে তো কথাই নেই যতটা ফাক করা যায় ততটা তো করিই সম্ভব হলে জায়গা পরিবর্তন করে দাড়াতে চেষ্টা করি। দেখুন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “তোমরা অবশ্যই কাতার সোজা করে নিবে, তানা হলে আল্লাহ তোমাদের মাঝে বিরোধ সৃষ্টি করে দিবেন”। কথাটি যে কতটা বাস্তবা তা অস্বীকার করার উপায় নেই। আজ দেখুন আমাদের মুসলমান ভাইদের মাঝে বিরোধের অভাব নেই। নামাযে আপনার পাশে, বাসে আপনার সিটের পাশে অন্য একজন মুসলিম ভাই বসে আছে তার সাথে দেখুন আপনার কত মতের অমিল, কত বিরোধ। আর উৎকৃষ্ট উদাহরণ দেখুন, আমাদের এই ব্লগ, ভার্চুয়াল জগত, আমরা একে অপরকে বাস্তবে কোনদিন দেখিই নাই অথচ আমাদের মুসলিম ভাইদের মাঝে বিরোধের অভাব নেই।
মসজিদে জামাতে নামাযে আমরা যদি আল্লাহর সামনে ঐক্যবদ্ধ হয়ে, একমাত্র আল্লাহ অভিমুখী হয়ে, একমাত্র আল্লাহকে ভয় করে কাতার সোজা করে দাড়াতে না পারি তাহলে মসজিদের বাইরে যে আমরা কখনই ঐক্যবদ্ধ হতে পারবো না, ঐক্যবদ্ধ হতে পারবো না। কারণ, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “তোমরা অবশ্যই কাতার সোজা করে নিবে, তানা হলে আল্লাহ তোমাদের মাঝে বিরোধ সৃষ্টি করে দিবেন”। আর দেখুন আমাদের মাঝে তাই হয়েছে। আমাদের মাঝে কত শত বিরোধ সৃষ্টি হয়েছে। অথচ সাহাবীদের দেখুন, দেখুন তাদের ভ্রাতৃত্ব, দেখুন তাদের ঐক্যবদ্ধ জীবন যা সম্ভব হয়েছে একমাত্র আল্লাহ অভিমুখী হওয়ার কারণে, একমাত্র আল্লাহকে ভয় করার কারণে এবং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কর্মনীতিকে যথার্থভাবে মেনে চলার কারণে।
মহান আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে ইসলামকে সঠিকভাবে বুঝার তৌফিক দান করুন এবং সেই অনুযায়ী জীবন অতিবাহিত করার সামর্থ্য দান করুন। আমীন।
আকুলু কাউলি হাযা ওয়া আস্তাগফিরুল্লাহ।
Processing your request, Please wait....












মহান আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে ইসলামকে সঠিকভাবে বুঝার তৌফিক দান করুন এবং সেই অনুযায়ী জীবন অতিবাহিত করার সামর্থ্য দান করুন। আমীন।
আমীন।