***State of Arrogance***
লিখেছেন: ' manwithamission' @ সোমবার, ডিসেম্বর ১৪, ২০০৯ (১০:২৫ পূর্বাহ্ণ)
মানুষ যখন আল্লাহ প্রদত্ত নাযিলকৃত কিতাব থেকে দূরে সরে যায় তখন তার মাঝে অহমিকা, দাম্ভিকতা মূলক আচরন প্রকাশ পায় যাকে আমরা State of Arrogance নামে আখ্যায়িত করতে পারি। এর ফলে মানুষ তার চারপাশে যা দেখে এবং সে যা জ্ঞান অর্জন করে তাতে বিশ্বাস করতে শুরু করে আর এর উপর ভিত্তি করে সে বাঁচতে চেষ্টা করে। এই State of Arrogance দলভুক্ত মানুষের সংখ্যা যখন বেড়ে যায় এবং যখন তারা ক্ষমতা প্রাপ্ত হয় তখন তারা এমন একটা পর্যায়ে পৌছে যায় যখন ভুল কি সঠিক, সত্য না মিথ্যা এটা নির্ণয় করার মাপকাঠি তারা হারিয়ে ফেলে। যার ফলশ্রুতিতে সে যা করে এবং তার একই দলভুক্ত আরো ক্ষমতাবানরা যা করে তাকেই তারা সঠিক বলে ভাবতে শুরু করে, যাকে আমরা State of Arrogance এর একদম নিম্নতম পর্যায়ে অবহিত করতে পারি। নমরুদ, ফিরাউন , আবু জেহেল, আবু লাহাব এদেরকে আমরা State of Arrogance এর উদাহরণ হিসেবে ধরতে পারি। এরা এতটাই State of Arrogance এর নিম্নস্তরে আরোহন করেছিল যে সত্য প্রকাশিত হওয়ার পর এবং তারা বিশ্বাস করতে যে সত্যকে অস্বীকার করার উপায় নেই কিন্তু তবুও তারা তা অস্বীকার করতো এবং চরম দাম্ভিকতা মূলক আচরণ প্রদর্শন করতো। আল্লাহ প্রদত্ত আয়াত বা নিদর্শনগুলো যা ছিল প্রকাশ্য দিবালোকের মত সত্য কিন্তু তারা শুধু অস্বীকারই করতো না বরং সেই নিদর্শনগুলোকে ধ্বংস করার এবং যে বা যারা এই সত্য নিদর্শনগুলোর অনুসারী তাদের নিঃশেষ করার প্রচেষ্টা চালাতো। ইব্রাহিম (আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে মেরে ফেলার জন্য নমরুদ অগ্নিকুন্ড প্রজ্জ্বলিত করেছিল, মুসা (আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে মেরে ফেলার জন্য ফিরাউন সৈন্য বাহিনী সহ ধাওয়া করেছিল, মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে হত্যা করার জন্য আবু জেহেল ও আবু লাহাব সম্প্রদায় রাতের অন্ধকারে তাঁর বাড়ি ঘেরাও করেছিল। এই তিনটি ক্ষেত্রেই আল্লাহ তাআলা তাঁদের রক্ষা করেছিলেন। আর পরবর্তীতে এই তিন জন নবীই তাঁদের উপর আল্লাহ প্রদত্ত অর্পিত দায়িত্ব সম্পূর্ন করেছিলেন।
বর্তমানে পৃথিবীতে State of Arrogance সম্প্রদায় ভুক্ত মানুষদের সংখ্যা বেশী এবং তাদের হাতে ক্ষমতা অর্পিত হয়েছে। আর ঠিক সেই নমরুদ, ফিরাউন , আবু জেহেল এবং আবু লাহাবদের মতো তারা আল্লাহর আয়াত বা নিদর্শনগুলোকে অস্বীকার করে চলছে। State of Arrogance সম্প্রদায় ভুক্ত মানুষদের আল্লাহ তাআলা সতর্ক করে দিয়েছেন এবং সময় থাকতেই আল্লাহর নিকট আত্মসমর্পনের আদেশ করেছেন। নবী-রাসূলদের একটা অন্যতম প্রধান দায়িত্ব ছিল মানুষকে সতর্ক করা। “আমি আপনাকে সত্যধর্মসহ পাঠিয়েছি সংবাদদাতা ও সতর্ককারীরূপে। এমন কোন সম্প্রদায় নেই যাতে সতর্ককারী আসেনি।” (সূরা ফাতির : ২৪) আল্লাহকে রব হিসেবে মেনে নেওয়া, একমাত্র তাঁর ইবাদত করা, একমাত্র তাঁরই প্রদত্ত বিধান মোতাবেক জীবন বাস্তবায়িত করা। আল্লাহ প্রদত্ত কিতাবকে অস্বীকার করা, অবিশ্বাস করা State of Arrogance সম্প্রদায়ভুক্ত মানুষদের বিভিন্নভাবে সতর্ক করা হয়েছে।
আদ সম্প্রদায় তাদের অর্জিত জ্ঞান খুবই গর্ব করতো এবং আল্লাহকে অস্বীকার করতো।
“যারা ছিল আদ, তারা পৃথিবীতে অযথা অহংকার করল এবং বললো, আমাদের অপেক্ষা অধিক শক্তিধর কে? তারা কি লক্ষ্য করেনি যে, যে আল্লাহ তাদেরকে সৃষ্টি করেছেন, তিনি তাদের অপেক্ষা অধিক শক্তিধর? বস্তুতঃ তারা আমার নিদর্শনাবলী অস্বীকার করতো” ( সূরা ফুসিলাত : ১৫)
“যারা আল্লাহর প্রতি মিথ্যা আরোপ করে, কিয়ামতের দিন আপনি তাদের মুখ কাল দেখবেন। অহংকারীদের আবাসস্থল জাহান্নামে নয় কি?” ( সূরা যুমার : ৬০)
“যারা আমার আয়াতসমূহকে মিথ্যা বলবে এবং তা থেকে অহংকার করবে তারাই দোযখী এবং তথায় চিরকাল থাকবে” ( সূরা আরাফ : ৩৬)
State of Arrogance সম্প্রদায়ভুক্ত মানুষেরা দাম্ভিকতা করে আল্লাহর প্রদত্ত বিধানকে পরিবর্তন করতে চায় এবং তাদের অর্জিত জ্ঞান তাদের এটা চিন্তা করাতে বাধ্য করে যে তারা যা করছে সেটাই ঠিক। কিছু অল্প সময়ের ক্ষমতা এবং অধিক লোকবল তাদেরকে আরো State of Arrogance এর নিম্ন পর্যায়ে নামিয়ে নিয়ে যায়। আমাদের বর্তমান সমাজে এই সম্প্রদায়ভুক্ত মানুষের অভাব নেই। মুখে যদিও এরা বলবে আল্লাহ সর্বশক্তিমান, আমি আল্লাহকে ভালবাসি কিন্তু কর্ম করবে আল্লাহ প্রদত্ত আদেশের বিপরীত। যেমন: ব্যাপক হারে সুদ ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান থাকা, এমন আইন তৈরী করা যা আল্লাহ প্রদত্ত বিধানের বিরুদ্ধে যায় প্রভৃতি।
সাধারণ মানুষদের মাঝে State of Arrogance বিভিন্নভাবে বিদ্যমান তবে মূল বিষয়টা ঘুরে ফিরে একই। সাধারণ মানুষও চরম দাম্ভিকতাপূর্ণ আচরণ প্রদর্শন করে, তাদের প্রচন্ড গর্ব থাকে তাদের অর্জিত জ্ঞান, সার্টিফিকেট, ডক্টরেট ডিগ্রী, অর্থ-সম্পত্তি এর উপর আর মোটামুটি এগুলোর উপর ভিত্তি করেই তারা বাঁচতে চেষ্টা করে। তাদের এই অর্জিত জ্ঞান, অর্থ-সম্পত্তি তাদেরকে আল্লাহ থেকে দূরে সরিয়ে দেয় কারণ জ্ঞান অর্জন ও অর্থ-সম্পত্তি অর্জন করার উদ্দেশ্য ভিন্ন ছিল যেমন: একটা নির্দিষ্ট পদ অর্জন করা, একটা নির্দিষ্ট পদে চাকুরী পাওয়া, মানুষের সম্মান পাওয়া। আর যার ফলশ্রুতুতি আমরা মানুষের মাঝে বিভিন্ন শ্রেণীবিভাগ দেখতে পাই। উপরের শ্রেণীভুক্ত মানুষেরা নিম্ন শ্রেণীভুক্ত মানুষদের মানুষ হিসেবে দেখে না, তারা আশা করে এই নিম্ন শ্রেণীর মানুষেরা তাদের সম্মান করবে, তাদের কথার উপর কথা বলবে না, তাদের অধিকার সীমিত, তারা সব সময় নিম্ন শ্রেণীর মানুষদের সাথে বড় গলায় কথা বলবে প্রভৃতি। এই শ্রেণীবিভাগ তারা সর্বত্র প্রয়োগ করে এমনকি আল্লাহ প্রদত্ত বিধান পরিবর্তন করতেও তারা দ্বিধাবোধ করে না। বিভিন্ন বিধি-নিষেধ তৈরী করে আর বিধি-নিষেধগুলো আবার সবার জন্যই সমানভাবে প্রযোজ্য নয়। যাদের ক্ষমতা, অর্থ-সম্পত্তি, খ্যাতি থাকে তাদের বেলায় বিধি-নিষেধগুলো মোমের মত গলে যায়। এই State of Arrogance সম্প্রদায়ভুক্ত মানুষেরা সমাজের ভারসাম্য নষ্ট করছে যদিও সে বিষয়ে তাদের কোন বোধদয় হয় না। আর অহংকারী, দাম্ভিকতাপূর্ণ আচরন কোনভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
“অহংকারবশে তুমি মানুষকে অবজ্ঞা করো না এবং পৃথিবীতে গর্বভরে পদচারণ করো না। নিশ্চয় আল্লাহ কোন দাম্ভিক অহংকারীকে পছন্দ করেন না। পদচারণায় মধ্যবর্তিতা অবলম্বন কর এবং কন্ঠস্বর নীচু কর। নিঃসন্দেহে গাধার স্বরই সর্বাপেক্ষা অপ্রীতিকর” (সূরা লোকমান : ১৮-১৯)
এই অবস্থা থেকে বাঁচার উপায় কি? যদি আমরা এই প্রশ্নটির উত্তর বের করতে চেষ্টা করি কুরআন এবং সহীহ সুন্নাহর বাইরে যেয়ে তাহলে তা কোন সুফল বয়ে আনবে না বা বাহ্যিক দৃষ্টিতে কিছুটা ভাল মনে হলেও প্রকৃত পক্ষে আগে যা ছিল তাই থাকবে। আমরা যদি আল্লাহকে ভয় করি, আমাদের ঈমানকে স্ফটিকের মত স্বচ্ছ করি এবং আমাদের ঈমান যদি দৃঢ় হয় সংখ্যায় অল্প হলেও আল্লাহ তাআলা আমাদের সাহায্য করবেন। ব্যাপক হারে কুরআনের চর্চা এবং সহীহ হাদীস অধ্যায়ন আর সেই সাথে আল্লাহ যেভাবে চান সেভাবে আমাদের জীবনটাকে গড়ে তুলতে হবে। মহান আল্লাহ তাআলা আমাদের ঈমানকে দৃঢ় করে দিন। আমীন।
Processing your request, Please wait....












সাধারণ মানুষও চরম দাম্ভিকতাপূর্ণ আচরণ প্রদর্শন করে, তাদের প্রচন্ড গর্ব থাকে তাদের অর্জিত জ্ঞান, সার্টিফিকেট, ডক্টরেট ডিগ্রী, অর্থ-সম্পত্তি এর উপর আর মোটামুটি এগুলোর উপর ভিত্তি করেই তারা বাঁচতে চেষ্টা করে। তাদের এই অর্জিত জ্ঞান, অর্থ-সম্পত্তি তাদেরকে আল্লাহ থেকে দূরে সরিয়ে দেয় কারণ জ্ঞান অর্জন ও অর্থ-সম্পত্তি অর্জন করার উদ্দেশ্য ভিন্ন ছিল যেমন: একটা নির্দিষ্ট পদ অর্জন করা, একটা নির্দিষ্ট পদে চাকুরী পাওয়া, মানুষের সম্মান পাওয়া।</strong
সহমত।
“মানুষ কী নিয়ে অহংকার করে ? তার জীবনের সূচনাতো ক’ফোঁটা তুচ্ছ পানি (অর্থাত পিতার বীর্য্য) থেকে, আর জীবনের সমাপ্তিতো বিগলিত, দুর্গন্ধযুক্ত লাশে, আর মধ্যবর্তী সময়টুকু সে পেটের মধ্যে মল-মূত্র বয়ে বেড়ায় !!” – জনৈক মণীষী।
আজকের প্রেক্ষাপটে কাদেরকে আপনার Arrogant মনে হয়?