লগইন রেজিস্ট্রেশন

***আমেরিকান ধর্ম যাজক ইউসুফ এসতেসের ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করার কাহিনী…….***

লিখেছেন: ' manwithamission' @ রবিবার, জানুয়ারি ২৪, ২০১০ (১০:৪৮ পূর্বাহ্ণ)

কিছুদিন আগে ইউসুফ এসতেস এর বক্তৃতার ভিডিও দেখলাম, সেখানে তিনি তার মুসলিম হওয়ার কাহিনী বলেছিলেন। আমি জানতাম তিনি একজন প্রিচার(ধর্ম যাজক) ছিলেন আর পরে একজন মুসলিম হয়েছেন কিন্তু কিভাবে হয়েছিলেন তা জানতাম না। মূল ভিডিওটি ছিল ইংলিশে, আমার কাছে তার ইসলাম গ্রহণের ঘটনাটি খুবই ভাল লেগেছিল তাই আমি মনে করলাম যদি এটা বঙ্গানুবাদ করে অন্যদেরকে জানাই হয়তো অন্যদেরও ভাল লাগবে আর ভাল জিনিস সেয়ার করার মজাই আলাদা। আমি বঙ্গানুবাদের ক্ষেত্রে খুব একটা দক্ষ না, যেহেতু মূল ভিডিওটি বক্তৃতা আকারে ছিল, তাই আমি চেষ্ট্রা করেছি মূল আবহটি বঙ্গানুবাদে ফুটিয়ে তোলার জন্য। আশাকরি আপনাদের কাছে ইউসুফ এসতেসের ইসলাম গ্রহনের ঘটনাটি ভাল লাগবে।

বিসমিল্লাহ ওয়াল হামদুলিল্লাহ ওয়াসসালাতু ওয়া সালাম রাসূলিল্লাহ ওয়া আলা আ’লিহি ওয়া সাহাবী আজমানইন আশহাদু আল্লাহ ইলাহা ইললাল্লাহু ওয়াদাহু লা’শারীকালা ওয়াশহাদু আন্না মুহাম্মাদান আবদুহু ওয়া রাসূলুহু। আসসালামু আলাইকুম। আমার নাম ইউসুফ। আপনারাও ইউসুফ বলেন তারাও ইউসুফ বলে। আমি আমার স্ত্রীকে ইউসুফ নামটা শেখাতে চেষ্ট্রা করতাম কিন্তু সে প্রায়ই ভুল উচ্চারণ করতো, সে বলতো , ‘ইউসলেস’। হা, হা, হা। আমাকে অনেকেই জিজ্ঞাসা করে থাকেন মুসলিম, খ্রিস্টান উভয়েই, যে আমি কিভাবে মুসলিম হলাম। খ্রিস্টানরা যখন শুনে তখন তারা অবাক হয়, তারা বলে, তুমি একজন প্রিচার ছিলে! তুমি জিসাসকে চিনতে পারনি? কামান ম্যান। খ্রিস্টান ধর্মে যারা ধর্মীয় বাণী প্রচার করে তাদের প্রিচার বলা হয়, কোন কোন সময় প্রিস্টও বলা হয়ে থাকে তবে প্রিস্ট বলতে সাধারণত বুঝায় যারা ক্যাথলিক চার্চে থাকে, ক্যাথলিক ছাড়া কেউ প্রিস্ট হতে পারে না, প্রটোস্ট্যান্ডদের বলা হয় পাস্তুর, মিনিস্টার, রেভারেন্ড, প্রিচার। আমি একজন প্রিচার এবং মিউজিকের মিনিস্টার ছিলাম। আমি এবং আমার বাবা উভয়েই মিনিস্টার ছিলাম এবং আমরা দু’জনেই ব্যবসা করতাম। আমাদের কাছে ব্যবসাটাই বড় ছিল, মানে ব্যবসাটিকেই আমরা বেশী প্রাধান্য দিতাম। ব্যবসা করার পর সময় পেলে আমরা প্রিচারের কাজ করতাম। আমাদের ব্যবসা বিস্তৃত ছিল টেক্সাসে, ওয়াইহিসহ আরো অনেক এড়িয়াতে। আমাদের ব্যবসার ধরণটা ছিল আমরা মানুষের নিকট থেকে জিনিস নিয়ে বিক্রি করতাম যেমন হ্যান্ডিক্রাফ্ট, বিশেষত মহিলারা এগুলো বানিয়ে আমাদের নিকট দিত আর আমরা এগুলো বিক্রি করতাম আর তাতে আমাদের সেই সাথে তাদেরও ভালই লাভ হতো। একদিন আমাকে বাবা বললো আমরা ইজিপ্টে ব্যবসা করবো। আমি বললাম, এটাতো খুব ভালো হয়, আমরা ইন্টারন্যাশনাল ব্যবসা করব। বাবা আরো বললেন, আমরা ইজিপ্টের যে লোকের সাথে ব্যবসা করবো সে কায়রোর অধিবাসী; তাদের পিড়ামিড আছে, নীল নদ আছে; আমি বললাম সেটা তো খুবি ভাল। সবশেষে আমরা বাবা বললেন, সে একজন মুসলিম! আমি এ মুহুর্তটা কখনই ভুলতে পারি না, আমি ডাইনিং আর কিচেনের মাঝে দাড়িয়ে বাবার সাথে কথা বলছিলাম, কিন্তু যখন শুনলাম সে একজন মুসলিম! আমি বললাম, সে একজন মুসলিম! নো ওয়ে, আমি তার সাথে ব্যবসা করবো না। হেই ড্যাড কামান, তোমার এই ব্যাপাড়ে অন্যদের চেয়ে বেশী জানা উচিত। আমরা প্রিচার আর সে হচ্ছে গডের একজন শত্রু! আমাদেরকে এভাবেই শেখানো হতো, বিভিন্ন টিভি চ্যানেলে তারা মুসলিমদের সম্পর্কে খারাপ কথাগুলো প্রকাশ করতো, মুসলিমরা কখনই ভাল না। এখনতো মুসলিমদের ঢালাওভাবে টেরোরিস্ট বলা হয় কিন্তু তখন মুসলিম মানেই ছিল হাইজ্যাকার, কিডন্যাপার। তারা আমাদের শিখানো হত মুসলিমরা কোন গডে বিশ্বাস করে না! তারা মরুভুমিতে অবস্থিত একটা কালো বাক্সের পূজো করে আরা তারা দিনে পাঁচবার মাটিতে চুমো দেয়। মুসলিমদের ব্যাপাড়ে আমরা এটুকুই জানতাম! আমাদের এভাবেই শিখানো হতো। আর এই মুসলিম আমাদের সাথে ব্যবসা করবে! আমি বাবাকে বললাম না আমি করবো না কিন্তু তিনি আমাকে বললেন তুমি তার সাথে দেখাতো কর, সে খুবই একজন চমৎকার মানুষ। কিন্তু আমি কিছুতেই রাজি হচ্ছিলাম না কারণ আমি কিছুতেই বিষয়টি মেনে নিতে পারছিলাম না। বাবা বললেন, আমি চাই তুমি তার সাথে শুধু দেখা কর। আমি বললাম, ঠিক আছে আমি দেখা করব। আমি এটি শুধু তোমার জন্য করব। এরপর আমি চিন্তা করলাম আমি যেদিন তার সাথে দেখা করব সেদিন আমি প্রথমে চার্চে যাব তারপর আমার ডান হাতে থাকবে বাইবেল, বুকের উপর ঝুলানো থাকবে বেশ বড় একটা ক্রুশ, মাথায় থাকবে একটা ক্যাপ, যাতে লেখা থাকবে, ‘জিসাস ইজ দা লর্ড’, আমার সাথে থাকবে আমার খ্রিস্টান স্ত্রী, আমরা মুসলিমটাকে দেখিয়ে ছাড়ব জিসাস কে?

সেইদিনটি আসল, আমি চার্চে গেলাম; চার্চে সেদিন ওল্ড টেস্টামেন্ট থেকে দাউদ (আ) এর স্যালভেশনের কাহিনী বলা হয়েছিল, আমার মাথায় একটা কথা ঢুকে গেল, দাউদ (আ) এর স্যালভেশন! কিন্তু স্যালভেশনতো শুধু জিসাসের জন্য। (খ্রিস্টান ধর্মে কারো স্যালভেশন বলতে বুঝায়, যে সে শয়তানের স্প্রিট থেকে মুক্ত কারণ জিসাস এরজন্য ক্রসের উপর মারা গিয়েছিলেন।) যাই হোক, তারপর আমি বাবার অফিসে গেলাম, আমি আশা করেছিলাম যে সাদা লম্বা কাপড় পড়া, বিশাল লম্বা দাড়িওয়ালা, কালো কোট পরিহিত, তলোয়ার খাপ সহকারে কাউকে দেখবো। কিন্তু আমি সেখানে সেরকম কাউকে দেখতে পেলাম না। আমি বাবাকে বললাম, কোথায় সে ব্যাক্তি ? বাবা বললেন, তোমার পাশেই তো! আমি দেখলাম, খুবই সাধারন একজন মানুষ আমাদের মতই। আমি হাত মিলিলাম, জিজ্ঞেস করলাম, হাও ডু ইউ ডু? তুমি কেমন আছ? তারপর সেও আমার সাথে হাত মিলাল আর বললো যে তার নাম, মুহাম্মাদ। আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম, তুমি গডে বিশ্বাস কর? সে বললো, হ্যা অবশ্যই করি! আচ্ছা, গডের নবী মুসা, ইব্রাহিম? সে বললো, জ্বী আমি করি! আমি মনে করলাম সে হয়তো কথার কথা হিসেবে আমার সাথে স্বীকার করে যাচ্ছে তাই আমি তাকে জিজ্ঞেস কররাম, জিসাসের ব্যাপাড়ে? সে বললো, আমি করি! এরপর আমি চিন্তা করলাম এর সাথে তো ব্যবসা করা যায়, কোন সমস্যা নেই। আমি তার সাথে চা পান করতে করতে অনেক বিষয় নিয়ে আলাপ করলাম আর যেহেতু আমি প্রিচার ছিলাম তাই তাকে বাইবেল থেকে অনেক কিছু বলতে লাগলাম। আমি জেনেসিস অধ্যায়টি খুললাম, আর তাকে বললাম, চল ইব্রাহিম নিয়ে আলোচনা করি…. ইব্রাহিমের দুইটি ছেলে ছিল…..। শুনে সে শুধু বললো, হুমমম…। সে কায়রোর আল আজহার ইউনিভার্সিটির একজন গ্রাজুয়েট ছিল।

এরপর তার সাথে আমার আরো একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা ঘটেছিল রমাদান মাসে। সে তার বন্ধুদের সাথে থাকতো কিন্তু তার বন্ধুরা হঠাৎ তাদের থাকার জায়গা পরিবর্তন করলো আর তাই সে সিদ্ধান্ত নিল যেহেতু রমাদান মাস তাই সে মসজিদে ইতিকাফে বসবে। আমি তখন ইতিকাফের ব্যাপাড়টি নিয়ে কিছুই জানতাম না। আমি মনে করেছিলাম তার কোথাও থাকার জায়গা নেই তাই সে মসজিদে যাচ্ছে। আমি আমার বাবাকে ব্যাপড়টি বললাম, আর বললাম সে আমাদের সাথে এসে থাকুক। কিন্তু বাবা বললেন, তার তো টাকা আছে! আমি বললাম নেই, না হলে সে মসজিদে থাকবে কেন? আমরা খ্রিস্টানরা কি কখনো চার্চে থাকি? ওহ… কি বিপদেই না সে পড়েছে! বাবা বললেন, না তোমার কিছু করার দরকার নেই। আমি বললাম, তাকে বলে তো দেখি! তাই আমি তাকে আমাদের বাসায় এসে থাকার জন্য অফার করলাম কিন্তু সে তাতে রাজি হল না সে বললো মসজিদে তাকে থাকতে হবে এবং সেখানে তাকে কিছু ভাল কাজ করতে হবে। আমি মনে করলাম ব্যাপাড়টি বোধহয় তার আত্মসম্মানে বাধা দিচ্ছে তাই আমি তাকে বললাম, ঠিক আছে তুমি আমাদের বাসায় পে করে থাক! সে বললো কত? আমি বললাম, সপ্তাহে ১৫ ডলার! আমেরিকাতে ১৫ডলার মানে কিছুই না। সে একটু ইতস্তত করতে লাগলো! আমি তাকে বললাম, ১৫ ডলার শুধু থাকার জন্য খাবারের ব্যাপারটি আলাদা। সে তখন রাজি হল। এরপর আমি বাবাকে বললাম, দেখলে তো আমি কিভাবে তাকে রাজি করালাম। সে এখন পুরো ব্যাপাড়টি টাকা পে করার মাধ্যমে বিবেচনা করছে। পরে আমি বিষয়টি জানতে পেরেছিলাম যে সে আসলেই আমাদের সাথে থাকতে চেয়েছিল আমারিকানদের জীবন-যাপন বিশেষভাবে সে জানতে চেয়েছিল প্রিচাররা কিভাবে দাওয়াত দেয় এবং তাদের লাইফ স্টাইল।

এরপর সে আমাদের বাসায় এসে থাকতে লাগল। আমি তার সাথে বিভিন্ন জায়গায় যেতাম আর সে ধীরে ধীরে খ্রিস্টিয়ানিটি সম্পর্কে জেনেছিল। আমরা ব্যবসার জন্য একসাথে ভ্রমণ করতাম আর আমরা একটি লম্বা টেবিলের উপর জিনিসগুলো রেখে বিক্রি করতাম। মানুষজন এসে টেবিলের উপর জিনিসগুলো দেখতো আর যখন তারা কিনতে চাইতো টেবিলের উপর রাখা কোন জিনিস তখন সে তার ব্যাগ থেকে বের করে নতুন জিনিসটি তাদেরকে দিতো। প্রথমদিকে আমি শুধু লক্ষ্য করতাম কিছু বলতাম না। এরপর একসময় আমি তাকে বললাম, হেই মুহাম্মাদ, তুমি ব্যাগ থেকে বের করে নতুন জিনিস কেন বিক্রি করছ? টেবিলের উপর রাখা জিনিসগুলো পুরোনো সেগুলো আগে বিক্রি হওয়া দরকার। আগে পুরাতন গুলো শেষ হোক তারপর নতুনগুলো। কিন্তু সে বললো, আমার ধর্ম আমাকে এমনটি শেখায় না! আমার ধর্ম আমাকে বলে, ব্যবসার সময় জিনিস বিক্রয়ের ক্ষেত্রে তুমি মানুষকে সর্বোত্তম জিনিসটি দিবে! আমি শুনে একটু অবাক হলাম..কি বলবো ভেবে পেলাম না…. ওকে, হোয়াটএভার!

তার সাথে থাকতে থাকতে আমি অনেক কিছু শিখতে লাগলাম। আর বিশেষ করে যে বিষয়টি ভাল লাগতো তা হলো আল্লাহর নিকট বিনয় প্রকাশ! আসলে সে অনেক জ্ঞানী ব্যক্তি ছিল। আমি তার সাথে অনেক বিষয়ে তর্ক করতাম কিন্তু সে ছিল অনেক বুদ্ধিমান আর জ্ঞানী ব্যক্তি, সে বিতর্কগুলোতে সবসময়ই আমাকে জিততে দিতো। আমি তার সাথে যে কোন বিতর্কে জিততাম। কিন্তু সে যদি আমাকে হারাতে চাইতে তাহলে সে সহজেই হারাতে পারতো! সে এভাবেই দক্ষতার সাথে আমার সাথে ব্যবসা করে যাচ্ছিল।

আমি আরো একজন প্রিচার কে চিনতাম, যে তার বাম কাধে বেশ বড় আকারের একটা ক্রুশ নিয়ে ফুটপাথ দিয়ে ঘুরে বেড়াতো আর লোকজন তাকে থামিয়ে ধর্মীয় বিষয় নিয়ে কথা বলতো। সে একদিন হার্ট এট্যাক করলো তাই তাকে হাসপাতালে যেতে হয়েছিল। তাই আমি তাকে দেখতে হাসপাতালে গিয়েছিলাম আর যখন আমি তার সাথে দেখা করতে গিয়েছিলাম তখন আমার আরো একজন লোকের সাথে দেখা হল যে হুইল চেয়ারে বসা ছিল। এই ভদ্রলোকের একটা সমস্যা ছিল, সে কারো সাথে কথা বলতে চাইতো না। আমি তাকে বললাম, আমি তোমাকে জিসাসের কাহিনী শুনাই তোমার অনেক ভাল লাগবে। আমি আমার বাইবেলটি বের করলাম। আমি তাকে নবী ইউনুস (আ) এর কাহিনী বলতে লাগলাম। আমি আরো বললাম দেখ, তাকে মাছের পেটে কতদিন থাকতে হয়েছিল! তার তোমার চেয়ে অনেক বড় সমস্যা হয়েছিল এবং গড তাকে বাঁচিয়েছিলেন সুতরাং গড তোমাকেও বাঁচাবে। সে শুধু বললো, হুমমমম…. সে আমার সাথে কথা বলতে চাইছিল না। আমি তাকে বললাম, তোমার নাম কি? সে আমাকে তার নাম বললো না! আমি তাকে বললাম, তুমি কোথা থেকে এসেছ? সে বললো আমি বিনাস থেকে এসেছি! আমি একটু অবাক হলাম, বিনাসটা আবার কোথায়? যদিও টেক্সাসে বিনাস বলে একটা এড়িয়া ছিল। সে আমাকে বললো, অন্য গ্রহ থেকে!

এরপর আমি প্রায়ই তার সাথে দেখা করতে যেতাম আর বাইবেল থেকে কাহিনী বলে শুনাতাম। একদিন আমি তাকে হুইল চেয়ার ঠেলে ঘুরাচ্ছিলাম হঠাৎ সে কাঁদতে শুরু করলো। সে বললো, আমি তোমার কাছে আমার অপরাধের(কনফেস) কথা বলবো আর তুমি আমার ক্ষমা করার ব্যবস্থা করে দিবে। ক্যাথলিক চার্চে প্রিস্টের নিকট অপরাধের(কনফেস) কথা বলা হয় আর প্রিস্ট তাকে তার ক্ষমা করার ব্যবস্থা করে দেন! আমি ক্যাথলিক ছিলাম না, আমি তাকে বললাম, দেখ আমি প্রিস্ট নই, আমি একজন প্রিচার। সে বললো আমি জানি, তুমি এটা ভাল করতে পারবে, আর আমি একজন প্রিস্ট! আমি বললাম, ওহ মাই গড! মনে মনে বললাম, এই ভদ্রলোক একজন প্রিস্ট! তার বাইবেলের জ্ঞান আমার চেয়ে অনেক বেশী। সে বললো, আমার একটি কঠিন সময় অতিবাহিত হচ্ছে, আমার হার্ট অ্যাটাক হয়েছিল, আমি অনেক সমস্যার সমাধান করতে চেয়েছিলাম, আমি হাসপাতালে ছিলাম, আমি ক্ষমা প্রার্থী বলে সে কাঁদতে লাগলো। যখন সে কাঁদতে শুরু করলো আমি খুব ব্যাথিত হলাম আমি বলাম ঠিক আছে।

আমার বন্ধু হাসপাতালে থাকা অবস্থায় আমি প্রায়ই যেতাম আর সে হাসপাতার থেকে চলে যাওয়ার পরও আমি যেতাম ঐ লোকটির সাথে দেখা করার জন্য। একদিন আমি হাসপাতালে গেলাম, যেয়ে জানতে পারলাম লোকটি চলে গেছে! আমি হাসপাতালের কর্তৃপক্ষকে জিজ্ঞেস করলাম, সে কোথায় গেছে? নার্স বললো, সে বাড়িতে চলে গেছে। বাড়িতে চলে গেছে! সে সাউথ আমেরিকার একজন মিশনারী প্রিস্ট(ফাদার), সে কিভাবে বাড়িতে যেতে পারে? সে বললো, সে তার পরিবারের নিকট চলে গেছে। আমি বললাম, আমি তাকে চিনি, আর তার কোন পরিবার নেই, সে কোথায় যাবে? নার্স বললো, আমি জানি না আর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এর জন্য দায়ী নয়। আমি বললাম, ঠিকআছে আমাকে তার ডকুমেন্টগুলো দেখতে দাও। নার্স বললো, আমি তা করতে পারবো না, ফাইলগুলো তালাবদ্ধ আর ঐগুলো বাইরের কেউ দেখতে পারে না। আমি নার্সটির মুখোমুখি হলাম আর বললাম, দেখ এই লোকটি যে কোন সময় রাস্তায় মারা যেতে পারে আর তখন এর জন্য তুমি দায়ী হবে। সে বললো, ঠিক আছে, ফাইলগুলো ঐ জায়গায় আছে ধরা পড়লে আমি কিছু জানি না, আমি অন্যদিকে তাকিয়ে থাকলাম। আমি ফাইলে দেখলাম সে কোন ঠিকানার কথা লিখে গেছে, আমি দেখলাম সে এমন এক জায়গায় গেছে যেখানে মানুষ সাধারণত যায় যাদের কোন থাকার জায়গা থাকে না।

আমি সে জায়গায় গেলাম, আমি তার দেখা পেলাম, সে ক্র্যাচে ভার দিয়ে হাটছিল। সে আমাকে দেখে কাঁদতে লাগলো আর বলতে লাগলো আমাকে এই জায়গা থেকে উদ্ধার কর। আমি তাকে বললাম ঠিকআছে তুমি আমার বাড়িতে আস। এখন আমার বাড়িতে দুইজন অতিথি হল, একজন হল ক্যাথলিক প্রিস্ট আর অন্যজন হল মুসলিম। আমি চিন্তা করেছিলাম, আমি প্রিস্টকে প্রোটোস্ট্যান্ট বানাবো আর সেই সাথে মুসলিমটিকেও খ্রিস্টান বানাবো! এই ব্যাপাড়ে আমার খুবই উচ্চ আশা ছিল কিন্তু আমি যা আশা করেছিলাম সে অনুযায়ী আসল ঘটনা ঘটে নি। কিছু অদ্ভুত ঘটনা ঘটতে শুরু করেছিল।

আমরা রাত্রে খাওয়ার টেবিলে আলাপ আলোচনা করতাম যেমন, বাইবেল কাকে বলে? স্যালভেশন কি? আমার বাবার কাছে যে বাইবেলটি ছিল সেটি ছিল কিং জেমস ভার্সন। আপনার হয়তো অনেকেই এই ভার্সনটির কথা শুনে থাকবেন। আর আমার কাছে ১৯৫৩ এর রিভাইসড স্ট্যান্ডার্ড ভার্সন এবং এর মধ্যে লেখা ছিল কিং জেমস ভার্সনে অনেকগুলো বড় বড় ভুল রয়েছে! প্রায়ই আমার বাবার সাথে বাইবেলের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা হতো, বাবা বলতেন, এই ব্যাপাটি এই রকম আমি বলতাম না ব্যাপারটি আসলে এই রকম! আমার স্ত্রীর কাছে ছিল জিমি সোওয়াগঢ় ভার্সন, এটি ছিল আরো ভিন্ন রকমের! আর ক্যাথলিক প্রিস্টের কাছে ছিল অন্য একটি ভার্সন যাকে বলা হয় ওল্ডার ভার্সন, তারা ডিয়াল করতো ৭৩টি বই নিয়ে আর আমরা ডিয়াল করতাম ৬৬টি বই নিয়ে! আর তার ভার্সনের সাথে আমার ভার্সনের অনেক অমিল ছিল এবং অনেক বিষয় ছিল যেগুলোতে কোন মিলই ছিল না। আমারা প্রায়ই একই বিষয় নিয়ে প্রত্যেকে ভ্ন্নি ভিন্ন মত পোষণ করতাম, আমি বলতাম একরকম, বাবা বলতো একরকম, প্রিস্ট বলতো এক রকম, স্ত্রী বলতো এক রকম আর মুহাম্মদ এক পাশে চুপ করে বসে থাকতো। আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম, তোমার কুরআনের কতগুলো ভার্সন রয়েছে? সে বললো, কুরআনের কোন ভার্সন নেই, এর একটিই মাত্র অর্জিনাল ভার্সন যা আরবী ভাষায় রচিত হয়েছিল আর আরবী ভাষা এখনো বহাল তবিয়তে বর্তমান রয়েছে! এই বইতে রয়েছে পথ নির্দেশনা তাদের জন্য যারা তাকওয়া সম্পন্ন। আর ভাল লোকেরাই এর থেকে হেদায়াত পেতে পারে। কিন্তু যখন সে বললো, এর একটি মাত্র ভার্সন আছে, আমি স্তব্ধ হয়ে গেলাম! সে আরো বললো, এটি এর অর্জিনাল আরবী ভাষায় রয়েছে। আমি মনে করলাম সে মিথ্যা বলছে, সে অবশ্যই মিথ্যা বলছে এবং সে সম্ভবত এই কথা বলছে এই জন্য যে সে আমাদের দেখেছে আমরা কিভাবে একে অপরের সাথে বিরোধ করছি! আর আমি তখন আরবী ভাষা জানতাম না তাই আমি বুঝতে পারলাম না আমার আসলে কি বলা উচিত, হতে পারে অর্জিনাল, আই ডোন্ট নো! সে আমাদের আর কিছু বলে নি কিন্তু সে আমাদের মাথায় একটা চিন্তা ঢুকিয়ে দিয়েছিল, তার কুরআনের ভার্সন মাত্র একটি আর আমাদের এতগুলো!

অন্য একসময় আমাদের একটা আলোচনা হয়েছিল ঐ প্রিচের সাথে যে ক্রস নিয়ে ঘুরে বেড়াত, আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম, আমি ট্রিনিটি সম্পর্কে জানতে চাই। সে বললো, তুমিতো জান ট্রিনিটি কি? আমি জানি তবে আমি আরো ক্লিয়ার ব্যাখ্যা জানতে চাই যাতে আমি অন্যদের কাছে ভালভাবে এটি বর্ণনা করতে পারি। তখন সে বললো, আচ্ছা ঠিক আছে, ব্যাপারটি একটা আপেলের মত, আপেলের চারপাশে থাকে সেপ বা স্কীন আর এরপর থাকে নরম অংশ আর তারপর থাকে বীজ, তিনটি অংশ কিন্তু একটি আপেল। এই ব্যাখ্যা শোনার পর মুসলিম লোকটির নিকট যাচ্ছিলাম ট্রিনিটি ব্যাখ্যা করার জন্য কিন্তু যাওয়ার পথেই এই ব্যাখ্যাটি আমার নিজের কাছেই বেমানান মনে হলো কারণ আমি যখনই বীজের কথা বলবো তখন নিশ্চয় মুসলিম লোকটি বলবে আপেলের বীজ অনেকগুলো থাকে সুতরাং তিনটি জিনিস হল কোথায়? তাহলে কি তোমাদের গড অনেকগুলো? নো নো নো, এভাবে হবে না তাই আমি আবার প্রিচের নিকট ফিরে গেলাম এবং তাকে বললাম যদি কেউ বলে আপেলের অনেকগুলো বীজ থাকে তখনতো এই যুক্তি খাটবে না। তখন সে বললো আচ্ছা ঠিক আছে, ডিম দিয়ে তুমি ব্যাখ্যা করতে পারবে কারণ ডিমের চারপাশে থাকে খোলস, তারপর থাকে সাদা অংশ এবং এরপর থাকে হলুদ অংশ। তিনটি অংশ কিন্তু একই জিনিস। আমি মনে করলাম এইবার ঠিক আছে কিন্তু পথিমধ্যে আবার আমার মাথার মধ্যে অন্য একটি চিন্তা জেগে উঠলো, ডিমের মাঝে হলুদ অংশ অনেক সময় দুইটা থাকে তাহলে তো গড চারটি হয়ে গেল অথবা হলুদ অংশটি পচাঁ থাকতে পারে! নাহ আমি আর প্রিচকে জিজ্ঞেস করতে যাব না।

এরপর একদিন বাজারে একটা লোকের সাথে কথা বলার সময় আমি ভাবছিলাম মুহাম্মদ বলেছিল, ইসলামে গড একজন আর তিনি আল্লাহ। তখন আমি লোকটিকে বললাম, তুমি জান, ট্রিনিটি বিষয়ে আমার সন্দেহ আছে! সে অবাক হল, বললো তুমি কি আমার সাথে মশকরা করছ? তুমি একজন প্রিচার আর তুমি বলছ তোমর ট্রিনিটি বিষয়ে সন্দেহ হয়? আমি বললাম, তুমি চিন্তা করে দেখ ট্রিনিটি বলতে আসলে কি বুঝায়? নাহ এটা আসলে লজিক বিহীন, কিভাবে তিনজন একজন হতে পারে? তখন লোকটি বললো, ঠিক আছে, আমি তোমাকে জিনিসটি ব্যাখ্যা করছি, আমি একজন, আমার স্ত্রী অন্যজন আর আমার ছেলে আরেকজন কিন্তু আমরা তিনজনে মিলে এক, একটা পরিবার। এটা হচ্ছে গডের ফ্যামিলি, তুমি ব্যাপারটিকে এইভাবে চিন্তা কর। কিন্তু এই বিষয়টি ট্রিনিটি ব্যাপারটিকে আরো অধিক সন্দেহযুক্ত করে তুললো। কারণ যদি ডিভোর্স হয়! ধর তোমার ডিভোর্স হল, তোমার স্ত্রী তোমার সব সম্পত্তির মালিক হয়ে গেল তখন তোমার আর কি থাকল? না না এভাবে হবে না, আমি ট্রিনিটি বিষয়ে সঠিক ব্যাখ্যা চাই।

এরপর থেকে আমি পুরো বিষয়টি আরো ভালভাবে চিন্তা করলাম কিন্তু এই ব্যাখ্যাগুলোর কোনটিই আমার যুক্তির নিকাট টিকতে পারলো না, তাহলে আমি অন্যকে বুঝাবো কি করে? আমি মুহাম্মদকে জিজ্ঞাসা করলাম, তুমি গডের ব্যাপাড়ে কি চিন্তা কর? সে বললো, আউযু বিল্লাহিমিনাশ শায়তনির রাজিম, বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম, কুলহু আল্লাহু আহাদ; আল্লাহুস সামাদ; লাম ইয়ালিদ ওয়ালাম ইউলাদ; ওয়ালাম ইয়া কুল্লাহু কুফুওয়ান আহাদ। তখন সে ব্যাপরটিকে এইভাবে ব্যাখ্যা করল,
বলুন, তিনি আল্লাহ, এক,
আল্লাহ অমুখাপেক্ষী,
তিনি কাউকে জন্ম দেননি এবং কেউ তাকে জন্ম দেয়নি
এবং তার সমতুল্য কেউ নেই।

আমিও আসলে বিষয়টি এইভাবে চিন্তা করেছিলাম কিন্তু আমি তো তা গ্রহণ করতে পারি না আর ব্যাখ্যাটি ছিল খুবই সহজ কিন্তু অনেক যুক্তিযুক্ত। মহান আল্লাহ কুরআনে আমাদেরকে বলতে বলেছেন, ডোন্ট সে থ্রি, ট্রিনিটির কথা বলো না। ওল্ড টেস্টামেন্ট মানে হচ্ছে তাওরাত, সং মানে হচ্ছে যবুর আর নিউ টেস্টামেন্ট মানে হচ্ছে ইন্জিল; এই তিনটির কোথাও ট্রিনিটি শব্দটি নেই, একটিবারও নেই! একটি বারও ট্রিনিটি শব্দটি নেই। কিন্তু এটি কুরআনে রয়েছে! এটি আমাদের বলছে, তাদের ট্রিনিটি বলতে না কর! আমাদের কোন বইয়ে ট্রিনিটি শব্দটি নেই কিন্তু আল্লাহ বলছেন, তোমরা ট্রিনিটি বলো না! তারপর, বাইবেল শব্দটি বাইবেলের কোথাও নেই! একটি বারের জন্য বাইবেল শব্দটি উল্লেখ নেই! বাইবেল শব্দটি এসেছে গ্রীক শব্দ বিবলিয়োস থেকে যার মানে হচ্ছে, বুক বা বই। কিন্তু বই শব্দটি কুরআনে রয়েছে অনকেবার! এটি হচ্ছে, কিতাব! আহলে কিতাব, পিপল অব দি বুক অর্থাৎ আহলে কিতাবধারীরা। আমরা বাইবেলে যদিও কিছু পাই তাও খুবই সংক্ষিপ্ত আকারে কিন্তু কুরআন এ সে বিষয়গুলো আছে একেবারে ব্যাখ্যাসহ! কুরআন দিয়েই আমি বাইবেল অনেক ভালভাবে ব্যাখ্যা করতে পারি কারণ বাইবেলে যা আছে তা দিয়ে আমি বিষয়গুলো পরিস্কারভাবে ব্যাখ্যা করতে পারি না! তখন এই ব্যাপারটি আমার মাথায় জেগে উঠলো, সে যা বলছে তাতো সত্য! কিন্তু আমিতো ব্যাপারটি গ্রহণ করতে পারি না।

যাইহোক আমি বিষয়গুলো একত্রিত করলাম এবং আমার প্রিচিং এর বক্তৃতায় আমি বলতে লাগলাম আমি কুরআন থেকে যা শিখেছি তা বাইবেলের চেয়েও খুব সুন্দর করে ব্যাখ্যা করা আছে! অনেকেই আমার কথা পছন্দ করল আর অনেকেই পছন্দ করলো না। আর যখন আমি স্যালভেশন নিয়ে কথা বলছিলাম তখন আমি বলেছিলাম, আমাদের কোন রক্ষাকারী নেই একমাত্র গড ছাড়া আর এটি বাইবেলে উল্লেখ করা আছে। এটি একদম পরিস্কারভাবে উল্লেখ করা আছে, জিসাস তোমার রক্ষাকারী নন কিন্তু গড তোমার রক্ষাকারী! যখন আমি এই বিষয়টি পেলাম তখন আমি বললাম আমাকে বিষয়টি একটু অন্যভাবে ব্যাখ্যা করতে দাও। কিন্তু আমি যা করছিলাম তা সত্য গোপন করার মত আমি সত্যকে পরিবর্তন করে দিচ্ছিলাম। এই বিষয়ে আমাকে অবশ্যই কিছু করতে হবে। আমি বিশ্বাস করলাম গড মাত্র একজনই, আমি তাদের বললাম, ট্রিনিটির কথা ভুলে যাও। আমার বাবা কখনই ট্রিনিটি বিশ্বাস করতেন না! সুতরাং এই ব্যাপাড়ে তার কোন সমস্যা ছিল না।

এরপর আর একটি নতুন ঘটনা ঘটল। প্রিস্টটি মুসলিমটিকে জিজ্ঞেস করল, আমি কি তোমার সাথে তোমাদের চার্চে মানে মসজিদে যেতে পারি? সে বললো, অবশ্যই কোন সমস্যা নেই, তুমি আসতে পার। সে গিয়েছিল এবং যখন ফিরে এসেছিল তখন আমি তাকে একদিকে নিয়ে জিজ্ঞেস করলাম, তারা সেখানে(মসজিদে) কি করে? আমাদের বল, তারা সেখানে কি করে? তারা কি কোন প্রাণী হত্যা করে সেই জায়গায়? কি করে তারা সেখানে? তখন সে বললো না, তারা বুকে হাত বেধে দাড়ায়, প্রার্থনা (নামায) করে আর এরপর তার মসজিদ থেকে বের হয়ে যায়! আমি তখন বললাম, হোয়াট? কি? তারা প্রার্থনা করে আর মসজিদ থেকে বের হয়ে যায়? প্রিস্ট বললো, হ্যা তাইতো। আমি বললাম, আচ্ছা ঠিকআছে, তারা কি রকম মিউজিক ব্যবহার করে? সে বললো, তাদের কোন মিউজিক নেই। নো মিউজিক, তুমি কিভাবে গডের প্রার্থনা করবে মিউজিক ছাড়া? ও ম্যান! এরপর আমি মুহাম্মদকে জিজ্ঞেস করলাম, মুহাম্মদ তোমাদের কোন মিউজিক নেই? সে বললো, না নেই। আমি পিয়ানো আর অর্গানের ব্যবসা করতাম। আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম, পৃথিবীতে কতগুলো মসজিদ আছে? সে বললো, মিলিয়ন! মিলিয়ন! মিলিয়ন!………… আমি জিজ্ঞেস করলাম, তাদের কোনটিতেই পিয়ানো নেই? সে বললো, নাহ! যে কোন ধরনের মিউজিক যন্ত্র? সে বললো, নাহ! আমি চিন্তা করলাম, আমি তো ধনী হয়ে যাব যদি তাদের মসজিদে মিউজিকের যন্ত্রপাতি সরবারহ করতে পারি! আমি তাকে জিজ্ঞাসা করলাম, আরবদের কোন মিউজিক নেই? সে বললো, আরবদের মিউজিক আছে। আমি মনে মনে বললাম, আমি আমার পরবর্তী মিলিয়ন ডলারের ব্যবসা দেখতে পাচ্ছি।

এরপর একদিন, প্রিস্টটি আবার তাকে জিজ্ঞেস করলো, সে আবার মসজিদে যেতে চায়। সময়টি ছিল জুলাই মাসের মাঝামাঝি ১৯৯১। তারা এবার যে মসজিদে গিয়েছিল সেটি ছিল টেক্সাসে আর আমরা ডালাসের দক্ষিণে থাকতাম। সারা রাত আমরা তাদের জন্য অপেক্ষা করতে লাগলাম, কিন্তু তাদের আর কোন খবর নেই! কি হল, আমরা চিন্তা করতে লাগলাম, যাই হোক, অনেক রাতে তারা ফিরে এল। যখন তারা ফিরে এল আমি মুহাম্মদকে চিনতে পারছিলাম কিন্তু পাশের জনকে চিনতে পারছিলাম না কারণ সে ছিল আরবদের মত পোষাক পরিহিত সাদা জুব্বা, মাথায় ছিল কাপড় আরবদের মত। যখন কাছে আসল, আমি বললাম, পি! প্রিস্টের নাম ছিল পিটার কিন্তু যেহেতু সে প্রিস্ট ছিল তাই আমরা তাকে ফাদার বলে ডাকতাম, নামধরে ডাকতে পারতাম না। আমি বললাম, পি, তুমি মুসলিম হয়েছ? সে বললো, আশ হাদু আল্লাহ ইলাহা ইল্লাল্লাহ ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদুর রাসূলূল্লাহ! আমি বললাম, ও মাই গড! আমি তার সামনে ক্যামেরা ফিট করে তার ইন্টারভিউ নিতে চেয়েছিলাম যে সে কিভাবে মুসলিম হলো, কিন্তু মজার ব্যাপার হল, আমার ইন্টারভিউয়ের সময় সে ঘুমিয়ে পড়েছিল! হা, হা, হা।

যাই হোক, ব্যাপারটি আমাকে ভীষণভাবে নাড়া দিল। আমি এখন কি করব? আমি একজন প্রিচার যে মানুষকে ধর্মীয় কথা বলে চেন্জ করার চেষ্ট্রা করি আর এখানে একজন প্রিস্ট মুসলিম হয়ে গেল! আমার বাবা বললো, ভাল তো, তার কাছে ভাল লেগেছে সে গ্রহণ করেছে! আমি ভেবে পাচ্ছিলাম না আমি কি করব! তাই আমি সিদ্ধান্ত নিলাম আমি আমার স্ত্রীর সাথে কথা বলবো। আমাদের বাসা দু’তলা অ্যাপার্টমেন্ট ছিল আর আমরা দু’তলায় থাকতাম, আমি স্ত্রীকে সব খুলে বললাম, প্রিস্ট মুসলিম হয়েছে! এবং সে কুরআনের কথা বলছে! কিন্তু হঠাৎ করে আমার স্ত্রী বললো, আমি ডিভোর্স চাই! আমি অবাক হয়ে গেলাম, আমি বললাম, কি ঘটেছে? সে বললো, তোমরা ধর্ম নিয়ে কথা বলছ…. ইসলাম নিয়ে অনেক কথা হচ্ছে… আমি থাকে থামিয়ে দিয়ে বললাম, নো নো নো এখানে কোন সমস্যা নেই! আমি শুধু তাদের পর্যবেক্ষণ করতেছিলাম, আমাকে বিশ্বাস কর, আমি মুসলিম হব না। সে তাও বললো, আমি ডিভোর্স চাই! আমি বললাম, আবার কি হল? সে বললো, একজন মুসলিম একজন খ্রিস্টানকে বিয়ে করতে পারে না। আমি তাকে বললাম, ওহ, আমার দিকে তাকাও, আমি প্রতিজ্ঞা করছি, আমি মুসলিম হব না। ঠিক আছে? সে বলেছিল, একজস মুসলিম একজন খ্রিস্টানকে বিয়ে করতে পারবে না, সুতরাং আমি তো মুসলিম হচ্ছি না, তাহলে সমস্যাটি কোথায়? সে তখন বললো, সেটাই তো সমস্যা, কারণ একজন মুসলিম নারী একজন খ্রিস্টান পুরুষকে বিয়ে করতে পারে না, আমি মুসলিম হতে চাই! তাই আমার ডিভোর্সের প্রয়োজন। আমি এই মুহুর্তের কথাটি কখনো ভুলবো না, আমি চিন্তা করলাম, শেষপর্যন্ত আমি সত্য কথাটি বলতে পারব! আমি ভাবিনি যে সে মুসলিম হওয়ার বিষয়টি পছন্দ করবে। আমি তখন বললাম, ঠিক আছে, ভাল খবরটি হচ্ছে, আমিও মুসলিম হতে চাই! কিন্তু সে আমাকে বললো, আমি তোমাকে বিশ্বাস করি না। আমি বললাম, আসলে ব্যাপারটি একটু অন্য রকম হয়ে গেছে, আমিও মুসলিম হতে চেয়েছিলাম, কিন্তু বলতে ভয় পাচ্ছিলাম, আর এখন আমরা দুই জনেই মুসলিম হবো, সুতরাং সবকিছুই আগের মত থাকবে, ঠিক আছে? কিন্তু সে বললো, হয় তুমি এখন মিথ্যা কথা বলছ বা পাঁচ মিনিট আগে মিথ্যা কথা বলেছিলে, তাই আমি কোন মিথ্যাবাদীকে বিয়ে করব না। (সো গেট আউট) বেড়িয়ে যাও!

আমি ধীরে ধীরে সিড়ি দিয়ে নামছিলাম, তখন আমি চিন্তা করছিলাম, (ওয়েট এ মিনিট!) এটা আমার বাবার বাড়ি, আমি আমার বাড়ি ছেড়ে কোথায় যাব? আমি মুহাম্মদের নিকট গেলাম, তাকে ঘুম থেকে ডেকে তুললাম, আর তাকে বললাম, তোমার সাথে আমরা কথা আছে! আমার সাথে আস। আমরা বাসার বাইরে বের হলাম, গ্রামের রাস্তা ধরে হাটছিলাম, তখন ছিল সুবহে সাদিক এর সময়। আমি তাকে বললাম, কিভাবে মুসলিম হতে হয়, মুসলিমরা কিসে বিশ্বাস করে, আমাকে সবকিছু খুলে বল, আমি কোন তর্ক করতে চাই না, আমাকে সবকিছু খুলে বল! সে আমাকে সব কিছু খুলে বললো, আমি বললাম, আমরা এই পর্যন্তই জানা প্রয়োজন ছিল। আমি আমার সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেল্লাম। সে আমাকে বললো, দেখ আমি কিন্তু তোমাকে কোন চাপ দিচ্ছি না, এটা সম্পূর্ণ তোমার নিজের ব্যাপার! তুমি নিজেই তোমার সিদ্ধান্ত নাও আমি তোমাকে জোর করতে পারি না! আমি যখন তাকে ফজরের নামাজ পড়তে দেখলাম আমি অভিভূত হয়ে গেলাম, সে যখন সিজদায় গেল, সেই দৃশ্যটি ছিল খুবই সুন্দর। কি বিনয়, কি সুন্দর করে রাব্বিল আলামিনের কাছে আত্মসমর্পণ! আমিও তার মত করে সিজদা দিতে চাইলাম, আমি অন্য একটি রুমে গেলাম, যেখানে আমাকে কেউ দেখতে পাবে না, আমি সিজদায় চলে গেলাম, তখন আমার মুখ দিয়ে শুধু একটা শব্দই বের হল, ও গড আমাকে সঠিক পথে পরিচালিত কর, ও গড তুমি যদি সেখানে থেকে থাক আমাকে সঠিক পথে পরিচালিত কর! (ও গড গাইড মি! ও গড ইফ ইউ দেয়ার গাইড মি! ) আমি কতক্ষণ পর উঠে বসলাম, আমার চারদিকে তাকালাম, সেখানে কোন রেইনবো ছিল না, কোন অস্বাভাবিকতা ছিল না, কোন এন্জেল ছিল না! সব কিছুই স্বাভাবিক ছিল। এটা ছিল টেক্সাসের অন্যান্য দিনগুলোর মতই। কিন্তু আমার ভিতরে আমি বুঝতে পারলাম, সেখানে বেশ বড় একটি পরিবর্তন ঘটে গেছে! আমি সেটি অনুভব করছি! আমি বুঝতে পারলাম আমার কি করা উচিত। আমি আমার স্ত্রী, বাবার সাথে কথা বললাম, এরপর আমি গোসল করে পবিত্র হলাম, তখন সময় ছিল, সকাল ১০টা, আমি মুহাম্মদ আর নতুন মুসলিম ইয়াহিয়া ( আগে প্রিস্ট ছিল) সামনে দাড়িয়ে বললাম, আশ হাদু আল্লাহ ইলাহা ইল্লাল্লাহ ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদুর রাসূলূল্লাহ! এবং ঠিক এর একটু পরেই আমার স্ত্রী শাহাদা(সাক্ষ্য) পাঠ করল, আশ হাদু আল্লাহ ইলাহা ইল্লাল্লাহ ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদুর রাসূলূল্লাহ! এর কয়েকমাস পর আমার বাবা সত্যের সাক্ষ্য দিয়েছিলেন। আশ হাদু আল্লাহ ইলাহা ইল্লাল্লাহ ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদুর রাসূলূল্লাহ! ধীরে ধীরে আমরা অনেককেই ইসলাম গ্রহণ করতে দেখলাম।

আমরা পুরো বিশ্বকে বলতে চাই, ইসলাম কি? আমরা চাই সবাই জানুক প্রকৃত ইসলাম কাকে বলে! আমরা কিভাবে অজানা থেকে যাব এই সুন্দর ধর্ম ইসলাম থেকে? আমাদের যে দায়িত্বটি হচ্ছে, মানুষকে জানাতে হবে। আমি মসজিদের ইমামদের বলতে চাই, মানুষকে জানান, মানুষকে বলেন ইসলামের কথা। এটা আমাদের কর্তব্য মানুষকে জানানো ইসলাম সম্পর্কে জানানো। আল্লাহ আপনাদের জিজ্ঞেস করবে না যে তারা শাহাদা পাঠ করেছিল কিনা কিন্তু আল্লাহ আপনাকে জিজ্ঞেস করবেন আপনি মানুষের কাছে ইসলামের বাণী পৌছিয়েছিলেন কিনা। আমি আপনাদের বলতে চাই, আমি হাজার হাজার মানুষকে শাহাদাত পাঠ করতে দেখেছি। আমি এটা বিতর্কের মাধ্যমে করি নি। আমি খ্রিস্টান প্রিচার ছিলাম, সুতরাং আমি উভয়দিকটিই জানি। আমি খ্রিস্টান হিসেবে প্রশ্ন করি আর মুসলিম হিসেবে উত্তর দিই। আমি এই কাজটি অনেকবার করেছি আর তাতে আমি অনেক ভাল ফল পেয়েছি। আমার কথা শেষ করার পূর্বে আপনাদের একটা ঘটনা বলি। আমি একবার হেগার্স টাউন ভার্জিনিয়ার চার্চে গিয়েছিলাম। এটি ছিল ১৯৯৯ এর ঘটনা। আমি সেখানে রবিবারদিন গিয়েছিলাম এবং বক্তব্য রেখেছিলাম আর আমি জানি খ্রিস্টানদের কিভাবে বুঝাতে হয় কারণ আমি নিজেই খ্রিস্টান ছিলাম, দুইজন মানুষ সেখানে তাৎক্ষণিক ইসলাম গ্রহণ করেছিল তাদের প্রিচারের সামনে, তারা বললো, আমরা বুঝতে পেরেছি আসলেই গড একজন। তাদের মধ্যে একজন ছিল সেই প্রিচারের মেয়ে! আমি আপনাদের একটা কথা বলি, আমি যদি সেখানে চার্চে বিতর্ক করে প্রিচারকে অপদস্থ করতাম তাহলে কি সে কখনও আমার সাথে কথা বলতে চাইবে? না কখনো নয়। আমি তাদের সাথে খুবই ভাল ব্যবহার করেছিলাম যার কারণে তিনমাস পরে তারা আবার আমাকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিল সেখানে গিয়ে বক্তৃতা করার জন্য। আপনাদের যে কথা বলে আমার কথা শেষ করব, আল্লাহর দিকে মানুষকে ডাকা, এটা আমাদের কোন কথা নয়, এটা আল্লাহর কথা আর আল্লাহ যাকে চান তাকে হিদায়াত করেন। আমরা এখানে জোর করতে পারি না। আমাদের দায়িত্ব মানুষের কাছে সুন্দরভাবে ইসলামের দাওয়াত পৌছে দেওয়া। মহান আল্লাহ আমাদের সহায় হোন। আমীন!

বিশেষ দ্রষ্টব্যঃ এই লেখাটি সামু ব্লগে গত ২৫ শে জুলাই, ২০০৯ রাত ২:৪৫ এ প্রকাশ করা হয়েছিল। ইউসুফ ইসতেসের ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করার কাহিনীটি আমার নিকটা খুবই চমৎকার লাগে। আর তাই লেখাটি আপনাদের সাথে শেয়ার করলাম।

Processing your request, Please wait....
  • Print this article!
  • Digg
  • Sphinn
  • del.icio.us
  • Facebook
  • Mixx
  • Google Bookmarks
  • LinkaGoGo
  • MSN Reporter
  • Twitter
২৩৫ বার পঠিত
1 Star2 Stars3 Stars4 Stars5 Stars (ভোট, গড়: ৪.০০)

৬ টি মন্তব্য

  1. ইউসুফ ইসতেসের ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করার কাহিনী-ইউটিউব ভিডিও
    এই ভিডিওগুলো থেকেই কাহিনীটি বঙ্গানুবাদ করা হয়েছে। ভিডিওটির পাঁচটি পার্ট। ইচ্ছা করলে ভিডিওগুলো দেখে নিতে পারেন।

  2. সত্যিই অসাধারণ। তাছাড়া অনুবাদটাও খুব ভালো হয়েছে। ধন্যবাদ।

  3. আসলে শিরোনাম দেখে ভাবছিলাম পড়বোনা। কিন্তু কেমন করে পড়ে নিলাম তাও একবারে। (*) ভাল লাগলো।

    আমি আপনাদের একটা কথা বলি, আমি যদি সেখানে চার্চে বিতর্ক করে প্রিচারকে অপদস্থ করতাম তাহলে কি সে কখনও আমার সাথে কথা বলতে চাইবে? না কখনো নয়। আমি তাদের সাথে খুবই ভাল ব্যবহার করেছিলাম যার কারণে তিনমাস পরে তারা আবার আমাকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিল সেখানে গিয়ে বক্তৃতা করার জন্য। আপনাদের যে কথা বলে আমার কথা শেষ করব, আল্লাহর দিকে মানুষকে ডাকা, এটা আমাদের কোন কথা নয়, এটা আল্লাহর কথা আর আল্লাহ যাকে চান তাকে হিদায়াত করেন। আমরা এখানে জোর করতে পারি না। আমাদের দায়িত্ব মানুষের কাছে সুন্দরভাবে ইসলামের দাওয়াত পৌছে দেওয়া। মহান আল্লাহ আমাদের সহায় হোন। আমীন!

    এখানে এই কথাগুলো কেউ মেনে চলে?

  4. উমর ভাই দারুন হয়েছে। ইংলিশে বিদ্দেষীদের ভালই জবাব দেওয়া হয়েছে। কিন্তু বাংলায় অনেক কিছুই নেই। সবার এগিয়ে আসা উচিত। বাংলায় ইসলামী লেখাগুলি তেমন ভাল মানের ও থাকে না। তার উপর জাল রেওয়াত সহ আজগুবি জিনিস থাকে যা বই গুলির শিক্ষাও ঠিকভাবে আনতে পারে না। কি অবস্থা। এই সুযোগে কিছু ইসলাম বিদ্দেষী মানুষ কে নাস্তিক বানাবার পায়তারা করতেছে। এদের ইসলাম সম্পর্কে ধারনা দেখলা মাথা খারাপ হয়ে যায়। একবার এক নাস্তিক সাইটে এক মুস্লিম বিজ্ঞানীর (১০০০ বছর আগের) উক্তি দিলাম, ঐ নাস্তিক(আসলে হিন্দু, আর হিন্দুইসম নাস্তিকতাও সৃকৃতি দেয়) বলল, আফনেরা ধর্মের নামে গাজা খুরি জিনিস ও বিশ্বাস করেন( আমি উক্তি দিলাম, বিলিভের কোন কথাই ছিল না)। ঐ নাস্তিক পাগল জানে না যে কুরান হাদিস ছাড়া আর কিছুই ইসলামের অংশ নয়। আইস্টাইনের কথা ইহুদি ধর্মের অংশ নয়। এ সাধারন জিনিস টি তারা বোঝেও না বোঝে, নিজেদের কে নিজেরাই ধোকায় ফালাইতাছে। অদ্ভুত।

  5. শেয়ার করার জন্যে অনেক ধন্যবাদ।