***মৃত হৃদয়***
লিখেছেন: ' manwithamission' @ বৃহস্পতিবার, ফেব্রুয়ারি ৪, ২০১০ (১২:৪৫ পূর্বাহ্ণ)
মৃত হৃদয়
ইমাম ইবনুল ক্যায়্যিম
যখন সারাবিশ্বে হাজার হাজার মুসলিমকে মেরে ফেলা হচ্ছে, মানুষকে আল্লাহর দিকে ডাকতে যেয়ে, ভাল কাজের আদেশ এবং অসৎ কাজের নিষেধ করতে যেয়ে হাজার হাজার মুসলিমকে কারাবরণ, নির্মম শাস্তি ভোগ করতে হচ্ছে তখন অধিকাংশ মুসলিম আশ্চর্যজনক ভাবে নিরবতা পালন করে যাচ্ছে। তাদের এই বিষয়টা নিয়ে কোন চিন্তাই নেই বরং তাদের চিন্তা শুধু বস্তুবাদী দুনিয়ার প্রয়োজন নিয়ে। তাদের অন্তর দুনিয়ার জীবনের ভালভাসায় এতটাই মেতে আছে যে পরকালের কথা তারা ভুলে গেছে।
আল্লাহ তাআলা বলেন, “তাদেরকেই বরং তুমি দেখতে পাবে বেঁচে থাকার ব্যাপারে তারা বেশী লোভী, আল্লাহ তাআলার সাথে যারা শিরক করে- এ লোকেরা তাদের চেয়েও অগ্রসর, এদের প্রত্যেক ব্যক্তিই হাজার বছর জীবিত থাকতে চায়, কিন্তু যত দীর্ঘ জীবনই এদের দেওয়া হোক না কেন, তা কখনো আযাব থেকে বাঁচাতে পারবে না; আল্লাহ তাআলা এদের (যাবতীয়) কাজকর্ম (পুংখানুপুংখ) পর্যবেক্ষণ করেন” (সূরা বাকারাঃ ৯৬)। বর্তমানে অধিকাংশ মুসলমান তাদের জীবনের সাথে এতটাই জড়িয়ে গেছে যে তাদের ইচ্ছা-আকাঙ্খা সবকিছুই পরিবার, বাড়ী-ঘর, টাকা-পয়সা এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের সাথে দৃঢ়ভাবে সম্পৃক্ত। তারা ভুলে গেছে যে পরকালকে এই সব পার্থিব বিষয়ের চেয়েও বেশী অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত। পার্থিব বিষয়ে আমরা আল্লাহর আদেশ মেনে চলার ক্ষেত্রে শুধু সেগুলোই মানব না যেগুলো সহজ এবং আমাদের মনমতো বরং পার্থিব সকল ক্ষেত্রে আমরা আল্লাহর আদেশ মেনে চলব। বর্তমানে কিছু মুসলমান দাবী করছে, কিছু নফল নামাজ এবং নফল রোজা সৎ কাজের আদেশ এবং অসৎ কাজের নিষেধ করার কাজের চেয়ে বেশী উত্তম আর এভাবেই তারা দূর্বল মুসলিম হয়ে বেঁচে থাকার জন্য যুক্তি উপস্থাপন করে। এই ধরণের মুসলিমরা আবার ঐ সকল মুসলিমদের পর্যন্ত দোষারোপ করে যারা সৎ কাজের আদেশ এবং অসৎ কাজের নিষেধ করার কর্তব্য পালন করে!
এই ধরণের মানসিকার মানুষদের সম্পর্কে ইবনুল ক্যায়্যিম বলেন: “শয়তান অধিকাংশ মানুষের কাছে অবশ্য কর্তব্য ফরজ ইবাদতের চেয়ে নফল ইবাদতগুলোকে আকর্ষণীয় করে মানুষদের বিভ্রান্ত করছে। যেমন: কিছু নফল নামাজ আর কিছূ নফল রোজাকে তারা খুবই গুরুত্বের সাথে পালন করে আর সৎ কাজের আদেশ এবং অসৎ কাজের নিষেধ করার ফরজ ইবাদতটিকে অবহেলা করে। তারা এই কাজটিকে এতটাই অবহেলার চোখে দেখে যে তাদের অন্তরে সৎ কাজের আদেশ এবং অসৎ কাজের নিষেধ ফরজ ইবাদতটি করার বিন্দুমাত্র ইচ্ছা থাকে না। যার ফলশ্রুতিতে তাদের সামনে হয়তো অনেক সময় এই ফরজ ইবাদতটি এসে যায় কিন্তু বিন্দুমাত্র ইচ্ছা না থাকার কারণে তারা কোন আগ্রহই অনুভব করে না। স্কলারগণ এই ধরণের মানসিকতা সম্পন্ন মানুষদের একদম নীচু পর্যায়ের মুসলিম বলে অভিহিত করেন। ইসলামের প্রধান বিষয়ই হচ্ছে আল্লাহ যে সকল কাজ করতে বলেছেন সেই সকল কাজ পালন করা। যে ব্যক্তি ফরজ ইবাদতগুলো করে না সে ঐ ব্যক্তির চেয়েও নিকৃষ্ট বা নীচুস্তরের যে পাপকর্ম করে। বর্তমানে কারো যদি কুরআন সম্পর্কে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সুন্নাহ সম্পর্কে, সাহাবীদের জীবন সম্পর্কে সামান্যতম জ্ঞানও থাকে তাকে অনেক ধার্মিক ব্যক্তি বলে মনে করা হয় কিন্তু বাস্তবে সে ধার্মিকতার মাপকাঠিতে একদম নীচু স্তরের। অধিকন্তু, এই ধরণের ব্যক্তিদের অন্তরে কি ধরণের আল্লাহর প্রেম রয়েছে যখন তার সামনে শিরক সংগঠিত হয়, আল্লাহর মনোনীত একমাত্র জীবন ব্যবস্থা ইসলামকে পরিত্যাগ করা হয়, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সুন্নাহকে অবজ্ঞা, অবহেলা করা হয় তখনও সে শান্ত হৃদয়ের বোবা ধার্মিক হিসেবেই সন্তুষ্ট থাকে। আসলে এই ধরণের লোকেরা বোবা শয়তানের মতো! একইভাবে যে মিথ্যা কথা বলে সে কথা বলা শয়তানের মতো। এই ধরণের লোকেরা শুধু তাদের জীবন নিয়েই সুখী থাকে, তাদের পর্যাপ্ত সম্পদ, খাদ্য, নিরাপত্তা থাকলেই তারা সন্তুষ্ট ইসলামের, মুসলমানদের কি হল না হল তা নিয়ে তারা বিন্দুমাত্র কেয়ার করে না। এই ধরণের লোকদের মধ্যে যে সর্বোত্তম সে হয়তো একটু দুঃখভরাক্রান্ত মুখাবয়ব করবে। কিন্তু তাদের হৃদয় যে বিষয়গুলোর সাথে আবদ্ধ হয়ে আছে যেমন টাকা, যদি কোন কিছু তাদের এই টাকার জন্য হুমকি স্বরুপ হয় কিংবা কোন কারণে যদি কিছু টাকা খরচ হয়ে যায় তখন সে পেরেশান হয়ে যায় পুনরায় কিভাবে সে টাকাগুলো ফিরে পাবে। এই ধরণের মানুষদের হৃদয় মরে গেছে, তারা শুধু আল্লাহর অসন্তুষ্টিই অর্জন করছে আর তারা জানবেও না কখন তাদের উপরে আচমকা বিপর্যয় নেমে আসবে। জীবন্ত হৃদয়ের অধিকারী তারাই যারা আল্লাহকে খুশী করার জন্যই রাগান্বিত হয় অর্থাৎ শিরক, বিদআত, সুন্নাহ, আল্লাহর আদেশের অবমাননা দেখলেই সে তা বন্ধ করার জন্য উদ্যোগ নেয়। আর ইসলামকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য, মুসলামানদের দূর্দশা দূর করার জন্য সে এই বিষয়টিকে বস্তুবাদী বিষয়ের চেয়ে অগ্রাধিকার দেয় এবং তার সর্বোচ্চ সামর্থ্য দিয়ে সাহায্য করে। (A’alaam al-Muwaqqi’een, volume 2, page 176).
Processing your request, Please wait....












ইসলামের প্রধান বিষয়ই হচ্ছে আল্লাহ যে সকল কাজ করতে বলেছেন সেই সকল কাজ পালন করা। যে ব্যক্তি ফরজ ইবাদতগুলো করে না সে ঐ ব্যক্তির চেয়েও নিকৃষ্ট বা নীচুস্তরের যে পাপকর্ম করে।