লগইন রেজিস্ট্রেশন

***ইমাম ইবনুল কাইয়্যেমের লেখার বৈশিষ্ট্য***

লিখেছেন: ' manwithamission' @ শুক্রবার, মার্চ ২৬, ২০১০ (১০:১৩ অপরাহ্ণ)

আসসালামু আলাইকুম,
মাশাল্লাহ, ব্লগে অনেক মুসলিম ভাই লেখালেখি করে থাকেন। ইমাম ইবনুল কাইয়্যেমের জীবনী পড়তে যেয়ে তার লেখার বৈশিষ্ট্যটি আমার নিকট চমৎকার লেগেছে। ইনশাল্লাহ, মুসলিম ভাইরা এথেকে উপকৃত হবেন।

একঃ ইবনুল কাইয়্যেম (রহ) এর লেখার প্রথম এবং প্রধান বৈশিষ্ট হলো তিনি সকল বিষয়ে কুরআন সুন্নার দলীলকে অগ্রধিকার দিয়েছেন । তিনি বলেন,
দ্বীনের প্রতি বিনয়ী হওয়ার আসল পরিচয় হচ্ছে (রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লাম) যা নিয়ে আগমন করেছেন সে অনুযায়ী চলা , এর সামনে আত্মসমর্পন করা ও বশ্যতা স্বীকার করা আর এজন্য প্রয়োজন হলো তিনটি কাজ করা ।

যুক্তিতর্ক, কিয়াস,ভাব-আবেগ ও রাজনীতিক মতাদর্শ এই চারটি বিপরিতধর্মী বিষয়ের মাধ্যমে রাসূলের আনীত কোন বিধানের বিরোধিতা না করা ।
প্রথমটির অনুসরণ করে থাকে এক ধরনের কুটিল, অহংকারী দার্শনিক । তারা তাদের অসার যুক্তির দোহাই দিয়ে ওহীর জ্ঞানের বিরোধিতা করে থাকে। তারা বলে যে , যুক্তিতর্ক ও ওহীর জ্ঞান একটি অপরটির সাথে সাংঘর্ষিক হলে আমরা যুক্তিতর্ককে অগ্রাধিকার দেবো ওহীর জ্ঞানের ওপর ।

দ্বিতীয়তঃ ফিকহার অনুসারী একদল লোক আছেন যারা কিয়াস ও ওহীর জ্ঞান একটি অপরটির সাথে সাংঘর্ষিক হলে তারা কিয়াসকে কুরআন সুন্নাহর ওপর অগ্রাধিকার দেন ।
তৃতীয়তঃ তাসাউফ পন্থী অহংকারী কুটিল একধরনের লোক, যাদের ভাবাবেগ কুরআন সুন্নাহর সাথে সাংঘর্ষিক হলে তারা তাদের ভাবাবেগকে অগ্রাধিকার দিয়ে থাকেন কুরআন সুন্নাহ নয়।
চতুর্থতঃ যালিম, অসাধু অহংকারী রাজনীতিবিদ, আমীর ওমারাহ। শরীয়াত ও রাজনীতি একটি অপরটির সাথে সাংঘর্ষিক হলে তারা তাদের রাজনৈতিক চিন্তাকে শরীয়াতের ওপর প্রাধান্য দিয়ে থাকে বরং শরীয়াতকে উপেক্ষা করে। এই চার ধরনের চিন্তার অধিকারীরা হলো অহংকারী । আর এথেকে মুক্ত থাকাই হলো দ্বীনের প্রতি বিনয়ের আসল পরিচয় ।

তাঁর আরেকটি মূলনীতি হলো, দ্বীনের কোন দলিল প্রমাণের ওপর তিনি ত্রুটি আরোপ করতেন না । অর্থাৎ, তিনি এটা মনে করতেন না যে, এই দলীলের নির্দেশিকা ভুল, অপূর্ণাঙ্গ বা অসংগতিপূর্ণ বরং এধরনের কোন পরিস্থিতির সন্মুখীন হলে তিনি তাঁর নিজের মধ্যে বুঝের কমতি আছে বলে মনে করতেন । যেমন প্রখ্যাত কবি মুতানাব্বি বলেছেন, ।
وكم من عائب قولا صحيحا و آفته من الفهم السقيم
কতক (জ্ঞানপাপি) আছে যারা সঠিক কথাটিকেই ত্রুটিপূর্ণ মনে করে । অথচ তার অসুস্থ বুদ্ধি-ই হচ্ছে সমস্যার আসল কারণ।

দুই : কুরআন সুন্নাহর পর সাহাবী (রা) দের কথাকে তিনি অগ্রাধিকার দিতেন ।

তিন : কোন মাসয়ালা সম্পর্কে আদ্যপান্ত সব কিছু না জেনে হুট করে তিনি কোন কথা বলতেন না , বরং সব মতামতকে চুলচেড়া বিশ্লেষণ করে তারপর নিজের মত ব্যক্ত করতেন।

চার : মতামতদানে , বা কোন মাসয়ালাকে প্রাধান্যদানে তিনি ছিলেন মুক্ত চিন্তার অধিকারী । অর্থাৎ, তিনি হাম্বালী মাযহাবের অনুসারী হলেও মাযহাবের অন্ধ অনুসরণের সংকীর্ণতা থেকে বের হয়ে স্বাধীন চিন্তায় মতামত ব্যক্ত করতেন।

পাঁচ: তিনি আধুনিক গবেষকদের মত তথ্য সূত্রের বরাত দিয়ে অনেকগুলো বই লিখেছেন । উদাহরণ হিসাবে তাঁর ‘যাদুল মায়াদ ফী হাদ্ইয়ে খাইরিল ইবাদ’ গ্রন্থটির কথা উল্লেখ করা যেতে পারে । তিনি এই বইটি লিখতে গিয়ে তথ্যসূত্র হিসাবে প্রায় ১৮০ টি বইয়ের নাম উল্লেখ করেছেন ।

ছয় : রচনা ও বর্ণনাশৈলীর দিক থেকে তিনি ছিলেন অসাধারণ। ভাষা ছিল তাঁর অত্যন্ত সাবলীল। যে কোন বিষয়কে অতি চমৎকার ভাবে উপস্থাপন করতে তাঁর কোন জুড়ি ছিল না বললেই চলে ।

আল্লাহ তাআলার শান্তি ও রহমত রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, তার পরিবার, সাহাবী এবং কিয়ামত পর্যন্ত তাদের যারা অনুসরণ করবে তাদের উপর অর্পিত হোক। আমীন।

Processing your request, Please wait....
  • Print this article!
  • Digg
  • Sphinn
  • del.icio.us
  • Facebook
  • Mixx
  • Google Bookmarks
  • LinkaGoGo
  • MSN Reporter
  • Twitter
৩৭৬ বার পঠিত
1 Star2 Stars3 Stars4 Stars5 Stars (ভোট, গড়: ৫.০০)

৮ টি মন্তব্য

  1. দুই : কুরআন সুন্নাহর পর সাহাবী (রা) দের কথাকে তিনি অগ্রাধিকার দিতেন ।

    সহমত । এবং এটাই হওয়া উচিত ।

    তিন : কোন মাসয়ালা সম্পর্কে আদ্যপান্ত সব কিছু না জেনে হুট করে তিনি কোন কথা বলতেন না , বরং সব মতামতকে চুলচেড়া বিশ্লেষণ করে তারপর নিজের মত ব্যক্ত করতেন।

    ঠিক বলেছেন , না জেনে বলা উচিত নয় ।


    চার : মতামতদানে , বা কোন মাসয়ালাকে প্রাধান্যদানে তিনি ছিলেন মুক্ত চিন্তার অধিকারী । অর্থাৎ, তিনি হাম্বালী মাযহাবের অনুসারী হলেও মাযহাবের অন্ধ অনুসরণের সংকীর্ণতা থেকে বের হয়ে স্বাধীন চিন্তায় মতামত ব্যক্ত করতেন।

    ইবনুল কাইয়্যুম ছিলেন মুজতাহিদ পর্যায়ের আলেম । ওনার পক্ষে সম্ভব হাম্বলী বা অন্যান্য মাজহাবের মধ্যে তুলনাত্নক বিষয়ে মত দেয়া । উনি যদি কোন একটি মাসআলায় অন্যরকম মত দ্যান অবশ্যই দেখবেন সে বিষয়ে ওনার গভীর জ্ঞান রয়েছে এবং মাসআলা ইস্তিমবাত করার মতো যোগ্যতা রয়েছে । আমাদের মতো আম জনতার এটা অনুসরন করা উচিত নয় ।

    পাঁচ: তিনি আধুনিক গবেষকদের মত তথ্য সূত্রের বরাত দিয়ে অনেকগুলো বই লিখেছেন । উদাহরণ হিসাবে তাঁর ‘যাদুল মায়াদ ফী হাদ্ইয়ে খাইরিল ইবাদ’ গ্রন্থটির কথা উল্লেখ করা যেতে পারে । তিনি এই বইটি লিখতে গিয়ে তথ্যসূত্র হিসাবে প্রায় ১৮০ টি বইয়ের নাম উল্লেখ করেছেন ।

    জ্বি বইটা আসলেই ভালো ।

    ছয় : রচনা ও বর্ণনাশৈলীর দিক থেকে তিনি ছিলেন অসাধারণ। ভাষা ছিল তাঁর অত্যন্ত সাবলীল। যে কোন বিষয়কে অতি চমৎকার ভাবে উপস্থাপন করতে তাঁর কোন জুড়ি ছিল না বললেই চলে ।

    ইবনে তাইয়িমার দুইজন ছাত্র “ইবনে কাসির” এবং “ইবনুল কাইয়ুম” । দুইজনই অসাধারন ।

    আল্লাহ পাক তাদের বেহেশত নসীব করুন ।

    manwithamission

    @হাফিজ, আসসালামু আলাইকুম ভাই,

    আমার কাছে এই বৈশিষ্টট্যটি খুবই ভাল লেগেছে – তাঁর আরেকটি মূলনীতি হলো, দ্বীনের কোন দলিল প্রমাণের ওপর তিনি ত্রুটি আরোপ করতেন না । অর্থাৎ, তিনি এটা মনে করতেন না যে, এই দলীলের নির্দেশিকা ভুল, অপূর্ণাঙ্গ বা অসংগতিপূর্ণ বরং এধরনের কোন পরিস্থিতির সন্মুখীন হলে তিনি তাঁর নিজের মধ্যে বুঝের কমতি আছে বলে মনে করতেন । যেমন প্রখ্যাত কবি মুতানাব্বি বলেছেন, ।
    وكم من عائب قولا صحيحا و آفته من الفهم السقيم
    কতক (জ্ঞানপাপি) আছে যারা সঠিক কথাটিকেই ত্রুটিপূর্ণ মনে করে । অথচ তার অসুস্থ বুদ্ধি-ই হচ্ছে সমস্যার আসল কারণ।

    আমাদের মাঝে অনেক ভাই আছেন যারা অনেক সময় কিছু সহীহ হাদীস নিয়ে দ্বিধায় পড়ে যান, কিন্তু তাই বলে কি সেটা ভুল? নাহ, মোটেই না, বরং সেটা আমাদের বোঝার ভুল। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যেটা হয়তো অনেক মুসলিম ভাইয়েরা জানেন কিন্তু ভেবে দেখার সময় পাননি – বিষয়টা হলো, যার ঈমান যত বেশী, যে যত বেশী ইলম চর্চা করে, যে যত বেশী আল্লাহর আনুগত্য করে তিনি যেভাবে একটা জিনিস যেভাবে বুঝবেন আর বাকী সবাই কিন্তু একইভাবে বুঝবে না। তাই আমাদের সব সময় আল্লাহর নিকট সহীহ নিয়তে দোয়া করা উচিত আমরা যেন বিভ্রান্তের মধ্যে পড়ে না যাই, কারণ, আল্লাহ তাআলাই একমাত্র আমাদের রক্ষা করতে পারেন বিভ্রান্তে পতিত হওয়া থেকে।
    আল্লাহ তাআলা আমাদের হিফাজত করুন। আমীন।

    হাফিজ

    @manwithamission,

    আমাদের মাঝে অনেক ভাই আছেন যারা অনেক সময় কিছু সহীহ হাদীস নিয়ে দ্বিধায় পড়ে যান, কিন্তু তাই বলে কি সেটা ভুল? নাহ, মোটেই না, বরং সেটা আমাদের বোঝার ভুল।

    অবশ্যই এটা আমাদের বোঝার ভুল । ইমানের পরীক্ষা ।

    যার ঈমান যত বেশী, যে যত বেশী ইলম চর্চা করে, যে যত বেশী আল্লাহর আনুগত্য করে তিনি যেভাবে একটা জিনিস যেভাবে বুঝবেন আর বাকী সবাই কিন্তু একইভাবে বুঝবে না। তাই আমাদের সব সময় আল্লাহর নিকট সহীহ নিয়তে দোয়া করা উচিত আমরা যেন বিভ্রান্তের মধ্যে পড়ে না যাই, কারণ, আল্লাহ তাআলাই একমাত্র আমাদের রক্ষা করতে পারেন বিভ্রান্তে পতিত হওয়া থেকে।
    আল্লাহ তাআলা আমাদের হিফাজত করুন। আমীন।

    আমীন । আমাদের আল্লাহ সুবহানাহু তাআলার কাছে দোয়া করা উচিত তিনি যেন আমাদের “সহীহ বুঝ” দ্যান ।

    হাফিজ

    @manwithamission,

    অফ টপিক: আপনি কোন একটি পোস্টে লিখেছিলেন “পূজা বা শিরক সম্বন্ধে ” ঠিক আমার খেয়াল নেই । বাংলাদেশের এখন প্রায় প্রতিটি মার্কেটে মূর্তি রেখে সেগুলোর গায়ে পোষাক বিজ্ঞাপন দিয়ে থাকে । এটা যে কতবড় গোনাহ সেটা কি আমরা ভেবে দেখেছি ? আপনি যদি সময় পান এই বিষয়টা নিয়ে ভবিষ্যৎ – এ লিখলে আশাকরি আমরা উপকৃত হবো ।

    মালেক_০০১

    @হাফিজ,বর্তমান যমানা খুব কঠিন ভাই :( । ঘরে বইসা নেট চালাইলেও ঈমান লইয়া টানাটানি। আল্লাহ আমাদের হেফাজত করুন। আমীন।

    হাফিজ

    @মালেক_০০১, ঠিকই বলেছেন । এই ব্যাপারগুলো নিয়ে ভাবলে কষ্ট হয় । একটি মুসলিম দেশে কিভাবে রাস্তাঘাটে এত মূর্তি থাকতে পারে সেটা বিস্নয়কর ।

    মালেক_০০১

    @হাফিজ, বর্তমান যমানা খুব কঠিন ভাই :( । ঘরে বইসা নেট চালাইলেও ঈমান লইয়া টানাটানি :( । আল্লাহ আমাদের হেফাজত করুন। আমীন।

    মালেক_০০১

    ইন্টারনেটের স্পীডে সমস্যার কারণে এক কমেন্ট দুইবার করা হয়ে গিয়েছে :(