লগইন রেজিস্ট্রেশন

***মতবিরোধ কি ও কেন? মতবিরোধের সীমারেখা কতটুকু?***

লিখেছেন: ' manwithamission' @ শনিবার, এপ্রিল ১০, ২০১০ (৯:৪৫ পূর্বাহ্ণ)

বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম

মতবিরোধ কি?
এই বিষয়ে কম বেশী সবাই জানেন, মতের না মিল হলেই মতবিরোধ দেখা দেয়।

মতবিরোধ কেন?
কেউ কোন একটি বিষয়ে মত প্রকাশ করলো আর অন্য আরেকজন একই বিষয়ে ভিন্ন আরেকটি মত প্রকাশ করলো এভাবে অন্য আরেকজন একই বিষয়ে অন্য আরেকটি মত প্রকাশ করলো। আমার মতটিই সঠিক! বাকীগুলো ভুল! এই মনোভাব মতবিরোধের সূচনা করে। আর ধীরে ধীরে এই বিরোধ এতটাই প্রকোট আকার ধারণ করে যে, এক পক্ষ অন্য পক্ষের নিকট শত্রুতুল্য হয়ে যায়।

মতবিরোধের সীমারেখা কতটুকু?
এক মানুষের সাথে অন্য মানুষের মতের মিল না হতেই পারে আর সেটাই স্বাভাবিক। একই বিষয়ে মানুষ ভিন্ন ভিন্ন মত প্রকাশ করে কারণ সে তার নিকট যা ভাল মনে করে সেটাকেই সঠিক বলে রায় দেয়। এখন, সঠিক বলে রায় দেওয়াটা ভুল হতে পারে আবার সঠিকও হতে পারে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে আমরা যারা মুসলিম হিসেবে নিজেদের পরিচয় দিই, ইসলাম নামক নিয়ামতটির অধিকারী বলে নিজেদের দাবী করি, তাদের মতবিরোধের সীমারেখা কতটুকু?
বিষয়টি একটি সত্য ঘটনার আলোকে ব্যাখ্যা করি বুঝতে সহজ হবে।

ইসলামের প্রথম যুদ্ধ ‘বদর’। যুদ্ধে জয় লাভের পর যুদ্ধলব্ধ মালামাল বন্টন নিয়ে সাহাবীদের মধ্যে মতানৈক্য হয়। এই বিষয়ে তারা ভিন্ন ভিন্ন মত প্রকাশ করতে থাকেন।

যারা শত্রুদের পরাজয়ের পর তাদের পিছু হটেছিলেন তারা বললেনঃ যারা শত্রুদের তাড়িয়ে এই মালামাল সংগ্রহ করেছে সুতরাং এ মালামাল তাদেরই প্রাপ্য।

যারা নবী ﷺ এর ব্যক্তিগত গার্ড ছিলেন তারাও এ মালামালের ভাগ চাইলেন, কারণ তারা বললেনঃ নবীজিকে রক্ষা করার দায়িত্ব পালন না করতে হলে এই মালামাল তারাও সহজেই সংগ্রহ করতে পারতেন, কাজেই এই মালামাল তাদেরও প্রাপ্য।

যারা এই মালামাল হিফাজত করছিল, তারাও এই মালের ভাগ চাইলেন কারণ তারা মালামাল যথার্থভাবে হিফাজত করেছেন।

মুসলমানদের মধ্যে এই মতবিরোধ যখন চরমে উঠলো তখন রাসূল ﷺ সমস্ত মালপত্র তার সামনে আনার জন্যে সাহাবাদের নির্দেশ দিলেন। আর এর একটু পরেই আল্লাহ তাআলা সূরা আনফাল নাযিল করেন এবং যুদ্ধলব্ধ মালামাল সংক্রান্ত বিরোধটিকে মিমাংসা করে দেয়। এই সূরার আলোকেই মহানবী ﷺ সমস্ত মালামাল সব যোদ্ধাদের মধ্যে সমানভাবে ভাগ করে দেন।

“(হে মুহাম্মদ) লোকেরা তোমার কাছে (যুদ্ধলব্ধ ও যুদ্ধে পরিত্যক্ত) অতিরিক্ত (মাল-সামাল) সম্পর্কে (আল্লাহ তাআলার হুকুম) জানতে চাচ্ছে; তুমি (তাদের) বলো, (এ) অতিরিক্ত সম্পদ হচ্ছে (মূলত) আল্লাহ তাআলার জন্যে এবং (তাঁর) রাসূলের জন্যে, অতএব (এ ব্যাপারে) তোমরা আল্লাহ তাআলাকে ভয় কর এবং (এ নির্দেশের আলোকে) নিজেদের মধ্যকার সম্পর্ক সংশোধন করে নাও, আল্লাহ তাআলা এবং তাঁর রাসূলের আনুগত্য কর, যদি তোমরা সত্যিকার (অর্থে) মুমিন হয়ে থাক” (সূরা আনফালঃ ১)

মতবিরোধের সীমারেখা এ পর্যন্তই অর্থাৎ যখনই “ওহি” পাওয়া যাবে তখনই যাবতীয় মতবিরোধ শেষ, কোন যুক্তি নেই, কোন দ্বিমত নেই এবং “ওহি” অনুযায়ী মেনে চলতে বিন্দুমাত্র বিলম্ব করা যাবে না। মতবিরোধ নিরসনের জন্যে “ওহি” ব্যাতীত অন্য কোন সমাধান নেই। কারণ এটাই আল্লাহ তাআলার নির্দেশ।

“অতপর কোন ব্যাপারে তোমরা যদি একে অপরের সাথে মতবিরোধ করো, তাহলে সে বিষয়টি (ফয়সালার জন্যে) আল্লাহ তাআলা ও তাঁর রাসূলের দিকে ফিরিয়ে নিয়ে যাও, যদি তোমরা (সত্যিকার অর্থে) আল্লাহর উপর এবং শেষ বিচার দিনের উপর ঈমান এনে থাকো! (তাহলে) এই পদ্ধতীই হবে (তোমাদের বিরোধ মীমাংসার) সর্বোৎকৃষ্ট উপায় এবং বিরোধপূর্ণ বিষয়সমূহের ব্যাখ্যার দিক থেকেও (এটি) হচ্ছে উত্তম পন্থা।” (সূরা নিসাঃ ৫৯)

এখন কোন বিষয়ে যদি সরাসরি কোরআনে থাকে, সহীহ হাদীসে থাকে আর এরপরও সেগুলো না মেনে নেওয়ার জন্যে বিভিন্ন যুক্তি প্রদর্শন করে তাহলে সে ব্যক্তি বা ব্যক্তিরা যে নিজস্ব নাফসের তথা নিজস্ব প্রবৃত্তির আনুগত্য করছে তাতে কোনই সন্দেহ নেই। নাফসের আনুগত্য করলে নীচের বিষয়গুলো সংগঠিত হয়ঃ

১. কুরআন ও হাসীস বুঝা এবং উপলব্ধি করা হতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে।
২. নাফসের অনুসরণ সত্যের পথে প্রতিবন্ধক হয় এবং অন্তরের আলো নির্বাপিত করে দেয়। গুণাহ ও পাপকাজকে তুচ্ছ মনে করে।
৩. নাফসের অনুসরণ বান্দাহকে হিদায়েত থেকে দূরে সরিয়ে দেয়। যার ফলে সিরাতুল মুস্তাকিমের পথে এলোমেলো চলাফেরা করতে শুরু করে।
৪. কুরআন হাদীসের দলীলকে পরিহার করে অথবা নিজের প্রবৃত্তি অনুযায়ী এ সবের ব্যাখ্যা প্রদান করে।
৫. বাতিলের উপর বিতর্কে লিপ্ত হওয়া এবং সত্য জেনেও বাতিলের উপর নিজের অবস্থানকে অবিচল রাখা। আর এর থেকে নিজেকে মুক্ত করাকে ক্যান্সারক্রান্ত রোগীর মত দুরহ ব্যাপার হয়ে যায়।
৬. স্বীয় নাফসের অনুকুলে হলে গ্রহণ করে আর যদি তা না হয় তখন বিভ্রান্ত জায়গা থেকে গ্রহণ করতেও সে দ্বিধা করে না। আর অন্যদেরও বিভ্রান্ত করতে দ্বিধা করে না।
৭. নিজের সমালোচনা বাদ দিয়ে অন্যের সমালোচনায় মুখর হওয়া। হক বা সত্য হতে দূরে সরে পড়ে এবং নসিহত কবুল করতে চায় না।
৮. দ্বীনের কিছু বিষয়কে বড় আকারে দেখা আর কিছু বিষয়কে একদম ছোট বা গৌণ মনে করা।
৯. ব্যক্তি ভালবাসার প্রতি ঝুকে পড়া। অন্তরে অসুস্থাতা ও কাঠিন্য তৈরী হয় এবং অন্তর মরে যায়।
১০.দ্বীনের মধ্যে নতুন সৃষ্টির বিষয়টিকে তুচ্ছ জ্ঞান করা। আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করা তার জন্যে কঠিন হয়ে পড়ে।

নাফসের অনুসরণের ভয়াবহতা আরো ব্যাপক। রাসূল ﷺ বান্দাহর উপর নাফসের বিষয়ে খুব বেশী আশংকা করতেন। কাজেই সব কিছুর উপর ‘ওহী’ কে গুরত্ব দিতে হবে। নিজের নাফসের দাস হওয়া থেকে আল্লাহ তাআলা আমাদের হিফাজত করুন। আমীন।

সবশেষে একটি সত্য ঘটনা দিয়ে লেখাটি শেষ করব। সূরা আনফালের উপরোক্ত আয়াতটি নাযিল হওয়ার পর সাহাবারা রাসূল ﷺ এর এতই আনুগত্য করতেন যে সবকিছুর আগে রাসূল ﷺ কি বলেছেন তাকে গুরুত্ব দিতেন। বদরের যুদ্ধের একজন বন্দী আবু আজীজ বলেনঃ ‘একদল আনসার বদর থেকে আমাকে বন্দী হিসেবে মদীনায় নিয়ে যায়। সকালের নাস্তায় এবং রাতের খাবারে তারা নিজেরা শুকনো খেজুর খেয়ে আমাকে রুটি দিতেন। তারা এটা করতেন নবীজির নির্দেশে। তারা নবীজির নির্দেশ এতই কঠোরভাবে মানতেন যে তাদের মধ্যে কেউ এক টুকরা রুটি পেলেও সেটা আমাকে দিতেন। এতে আমি লজ্জিত হয়ে তাদেরকেই খেতে বলতাম কিন্তু তারা তা স্পর্শও করতেন না।

মহান আল্লাহ তাআলার শান্তি ও রহমত রাসূল এর উপর, তার পরিবার ও সাহাবীদের উপর এবং কিয়ামত পর্যন্ত তাদেরকে যারা অনুসরণ করবে তাদের উপর অর্পিত হোক। মহান আল্লাহ তাআলা আমাদের মুসলমান ভাইদের আল্লাহর ও তার রাসূলের আনুগত্য করার তৌফিক দান করুন এবং আমাদেরকে তার পূর্ণ আনুগত্যশীল ও কৃতজ্ঞ বান্দাহদের দলে শামিল করে নিন। আমীন।

Processing your request, Please wait....
  • Print this article!
  • Digg
  • Sphinn
  • del.icio.us
  • Facebook
  • Mixx
  • Google Bookmarks
  • LinkaGoGo
  • MSN Reporter
  • Twitter
২৯০ বার পঠিত
1 Star2 Stars3 Stars4 Stars5 Stars (ভোট, গড়: ৫.০০)

১১ টি মন্তব্য

  1. মতবিরোধের সীমারেখা এ পর্যন্তই অর্থাৎ যখনই “ওহি” পাওয়া যাবে তখনই যাবতীয় মতবিরোধ শেষ, কোন যুক্তি নেই, কোন দ্বিমত নেই এবং “ওহি” অনুযায়ী মেনে চলতে বিন্দুমাত্র বিলম্ব করা যাবে না। মতবিরোধ নিরসনের জন্যে “ওহি” ব্যাতীত অন্য কোন সমাধান নেই। কারণ এটাই আল্লাহ তাআলার নির্দেশ।

    ব্যাপারটা কী এতটাই সহজ।

    কুরআনের আয়াতের ব্যাখ্যায় মতবিরোধ কি অসম্ভব?
    হাদিসের ব্যাখ্যায় মতবিরোধ কি অসম্ভব?
    হাদিস সহিহ হওয়ার ব্যাপারে মতবিরোধ কি অসম্ভব?

    এখন কোন বিষয়ে যদি সরাসরি কোরআনে থাকে, সহীহ হাদীসে থাকে আর এরপরও সেগুলো না মেনে নেওয়ার জন্যে বিভিন্ন যুক্তি প্রদর্শন করে তাহলে সে ব্যক্তি বা ব্যক্তিরা যে নিজস্ব নাফসের তথা নিজস্ব প্রবৃত্তির আনুগত্য করছে তাতে কোনই সন্দেহ নেই।

    সরাসরি আল-কুরআনে বা হাদিসে থাকলেই কি সে ব্যাপারে মতবিরোধ অসম্ভব? আর মতবিরোধ হলে তার কারণ “নিজস্ব প্রবৃত্তির আনুগত্য”?

    নাসিখ/মানসুখ নিয়ে মতবিরোধ কি অসম্ভব?
    প্রথম যুগের হাদিস আর শেষ যুগের হাদিস ভিন্নধর্মী হলে কোনটার ওপর আমল করা হবে এ নিয়ে মত বিরোধ কি “নিজস্ব প্রবৃত্তির আনুগত্য”?

    আপনারা যে কী পরিমাণ চরমপন্থা অবলম্বন করছেন, সম্ভবত নিজেরাও তা বুঝতে পারছেন না।

    সাদাত

    @সাদাত,

    আপনার লেখা পড়তে পড়তে আমি ও মতবিরোধ শব্দটাই ব্যবহার করেছি।
    আমি এগুলোকে মতবিরোধ না হলে মতভিন্নতা বলি, যা ইসলামে একটি অবধারিত সাধারণ বিষয়।

    manwithamission

    @সাদাত, আসসালামু আলাইকুম ভাই,

    ইরবাদ ইবনে সারিয়াহ (রা) কর্তৃক বর্ণিত,
    আল-ইরবাদ বলেনঃ একদিন আল্লাহর রাসূল ﷺ আমাদের জামাতে নামাজে ইমামতি করলেন, এরপর আমাদের দিকে ঘুরে বসলেন এবং দীর্ঘক্ষণ আমাদের উপদেশ দান করলেন এবং এক সময় তার চোখ দিয়ে অশ্রু পতিত হচ্ছিল এবং তার হৃদয় সন্ত্রস্থ হয়ে গিয়েছিল।
    একজন লোক বললোঃ ওহে আল্লাহর রাসূল! এটি বিদায়ী ভাষণ বলে মনে হচ্ছে, কাজেই আপনি আমাদেরকে কি করতে হবে বলে আদেশ করেন?
    তারপর তিনি ﷺ বল্লেনঃ আমি তোমাদের আল্লাহকে ভয় করতে নির্দেশ দিচ্ছি এবং একজন আবিসিনিয়ান দাসের ( যদি সে মুসলমানদের নেতা হয়) কথা শুনবে এবং মান্য করবে, যারা আমার পর জীবিত থাকবে তারা অনেক অনৈক্য দেখতে পাবে। তখন তোমরা আমার সুন্নাহকে এবং আমার পর সঠিক পথে পরিচালিত খলিফাদের অনুসরণ করবে। একে আকড়ে ধরে রাখবে। নতুন উদ্ভাবন পরিত্যাগ করবে, (দ্বীন ইসলামে) প্রত্যেক নতুন উদ্ভাবনই বিদআহ আর প্রত্যেক বিদআহই হচ্ছে পথভ্রষ্টতা। (Model Behavior of the Prophet (Kitab Al-Sunnah) , Dawud :: Book 40 : Hadith 4590)

    যারা আমার পর জীবিত থাকবে তারা অনেক অনৈক্য দেখতে পাবে। তখন তোমরা আমার সুন্নাহকে এবং আমার পর সঠিক পথে পরিচালিত খলিফাদের অনুসরণ করবে। একে আকড়ে ধরে রাখবে।
    রাসূল ﷺ এই কথা অনুসরণ করা যদি চরমপন্থা বলেন তাহলে আমার কোন আপত্তি নেই।

    আর আপনার বাকী প্রশ্নগুলোর উত্তর নফসের আক্রান্ত বৈশিষ্ট্যগুলোর মধ্যেই দেওয়া আছে।

    সাদাত

    @manwithamission,

    কোন ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবার জন্য সমগ্র কুরআন, সকল হাদিস এবং সাহাবায়ে কেরাম(রা.) এর আমল সম্পর্কে অবগত হতে হয়। ব্যাপারটা কোন ছেলেখেলা নয়। এটা মুজতাহিদ আলিম এবং ফকীহ, মুফতিদের কাজ।

    দু/চারটা হাদিসের ওপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়াই বরং নফসের আনুগত্য।

    তামীম

    @সাদাত,
    সহমত।

    manwithamission

    @সাদাত, রাসূল ﷺ এর সহীহ সুন্নাহ আকড়ে ধরে থাকাকে আপনি বললেন দু’একটা হাদীসের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া নফসের অনুসরণ করা! ভাল বলেছেন! রাসূল ﷺ এর সহীহ সুন্নাহ ধরে থাকাকে মানে কি শুধু দু’একটা সহীহ হাদীস মানা আর অন্যগুলোর অস্বীকার করা? মোটেই না। মতবিরোধ করে লাভ নেই, ‘ওহী’ কে মেনে নিন, সকল মতবিরোধের অবসান হবে, ইনশাল্লাহ।

    ইমাম ইবনুল কায়্যিম রহিমাহুল্লাহ বলেঃ
    “ইলম হচ্ছেঃ যা আল্লাহ তাআলা বলেছেন, যা আল্লাহর রাসূল ﷺ বলেছেন এবং যা রাসূল ﷺ এর সাহাবীরা বলেছেন। এগুলো এমন নয় যে এর মধ্যে কিছু মিথ্যা রয়েছে। রাসূল ﷺ এর সুন্নাহ এবং ফকীহদের(আলেমদের) মতামতের মধ্যে আমরা যে দ্রুততার সাথে অজ্ঞের মতো মতানৈক্যে পৌছে যাই তা ইলম নয়।”

    হাফিজ

    @manwithamission, সবাই কিন্তু বলছে “কোরআন হাদিস” দলীল । তারপরেও মতবিরোধ থেকেই যাচ্ছে । আপনি যত দল আছে সবাইকে জিজ্ঞেস করুন , সবাই বলবে কোরআন হাদিস দলীল । তারপরো এক জনের সাথে একজনের বিরোধ ।

    দ্য মুসলিম

    @হাফিজ,

    কোরআন অনলীরাও কিন্তু ১০০% কোরআনের দলিল দিয়ে থাকেন। যদিও তার ৯০% ই অপব্যাখ্যা।

    সাদাত

    @manwithamission,

    আপনার সাথে বেশি কথায় যাব না। আপনি শুধু আমার এই প্রশ্নগুলোর উত্তর দিন:
    ১.কুরআনের আয়াতের ব্যাখ্যায় মতভিন্নতা কি অসম্ভব?
    ২.হাদিসের ব্যাখ্যায় মতভিন্নতা কি অসম্ভব?
    ৩.হাদিস সহিহ হওয়ার ব্যাপারে মতভিন্নতা কি অসম্ভব?
    ৪.সরাসরি আল-কুরআনে বা হাদিসে থাকলেই কি সে ব্যাপারে মতভিন্নতা অসম্ভব? আর মতবিরোধ হলে তার কারণ “নিজস্ব প্রবৃত্তির আনুগত্য”?
    ৫.প্রথম যুগের হাদিস আর শেষ যুগের হাদিস ভিন্নধর্মী হলে কোনটার ওপর আমল করা হবে এ নিয়ে মতভিন্নতা কি “নিজস্ব প্রবৃত্তির আনুগত্য”?

    মুসলিম৫৫

    @manwithamission, সহমত! (F)

    দ্য মুসলিম

    @manwithamission,

    আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ।

    আমার মনে হয় এ ক্ষেত্রে সাদাত ভাই ঠিক বলেছেন। বর্তমান সময়ে আপনি পবিত্র কোরআনের ইউনিভার্সাল কোন তাফসীর পাবেন না। তাফসীরে ইবনে কাসীর, কুরতুবী, মারেফুল কুরআন, মাজহারী, তাফহীমুল কুরআন, ইউসুফ আলী ইত্যাদি। এক্ষেত্রে মতভিন্নতা অসম্ভব কিছু নয়। এসব তাফসীরে যে বিভিন্ন মতভিন্নতা রয়েছে সেটা আপনি আমার চেয়ে ভালো জানবেন। এমনকি সেই সাহাবী রাঃ গণের সময়েও কোরআনুল কারীমের ব্যাখ্যায় মতভিন্নতা ছিলো। আর হাদীসের ব্যাখ্যায় ও মতভিন্নতা রয়েছে। সুতরাং এটাকে নফসের প্রবৃত্তি হিসেবে চিহ্নিত করা আমার কাছে যুক্তি যুক্ত মনে হয়নি।