লগইন রেজিস্ট্রেশন

যে সুন্নাহ প্রত্যাখ্যান করে তার বেলায় বিধান-১

লিখেছেন: ' মেরিনার' @ শুক্রবার, ডিসেম্বর ১১, ২০০৯ (১১:১৫ অপরাহ্ণ)


দ্বীনের এমন কিছু অস্বীকার করা যা কিনা নিশ্চিতভাবেই এর অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত।

[আমরা আগের একটা পোস্টে বলেছিলাম যে, প্রায় ১১৮টি মহামূল্যবান classical বইয়ের রেফারেন্স সমৃদ্ধ, স্প্যানিস ধর্মান্তরিত মুসলিম Jamal al-Din M Zarabozo-র গবেষণা গ্রন্থ "The Authority and Importance of Sunnah" থেকে, আমরা কিছু অংশ অনুবাদ করে করে তুলে দেবো আপনাদের জন্য, যা পড়লে যে কেউ বুঝবেন যে, হাদীস বা সুন্নাহর ব্যাপারে classical স্কলাররা কত serious ছিলেন। আজ সেই বই থেকে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের একাংশ তুলে দেবো ইনশা'আল্লাহ্, যে অধ্যায়ের নাম হচ্ছে:"যে সুন্নাহ প্রত্যাখ্যান করে তার বেলায় বিধান" । মূল বইটি সংগ্রহ করতে চাইলে বা ঐ বই সম্বন্ধে জানতে চাইলে, নীচের লিংকে ক্লিক করুন: http://www.al-basheer.com/cgi-bin/category.cgi?item=10007&type=store]

এই বইয়ে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় প্রমাণিত হয়েছে যার ভিতর রয়েছে:

১)সুন্নাহ হচ্ছে আল্লাহর কাছ থেকে আসা এক ধরণের ওহী।
২)সুন্নাহর অবস্থান ও মর্যাদা কুর’আনের বহু আয়াত দ্বারা নিশ্চিত করা হয়েছে। কেউ যদি দাবী করে যে, সে কুর’আন অনুসরণ করছে আর তথাপি যদি সে সুন্নাহ অনুসরণ করতে অস্বীকার করে, তাহলে সে কেবল কুর’আন অনুসরণ করার তার দাবী সেই মিথ্যা প্রতিপন্ন করছে।
৩)ইসলামী আইনের উৎস হিসেবে এবং দলীল হিসেবে সুন্নাহর মর্যাদা কুর’আনের সমপর্যায়ের এবং তা কুর’আনের সাথে হাতে হাত রেখে চলে।
৪)সুন্নাহর স্মরণাপন্ন হওয়া ছাড়া খোদ কুর’আনকেই সঠিকভাবে বোঝার উপায় নেই।
৫)উপরে বর্ণিত এ সকল পয়েন্টগুলোই নবী (সা.) এঁর সময় থেকেই প্রতিষ্ঠিত এবং এই বিষয়গুলোর ব্যাপারে স্কলাররা কোন ব্যতিক্রম ছড়াই একমত।

সুন্নাহর কর্তৃত্ব ও মর্যাদার ব্যাপারে পরিস্কার সাক্ষ্য-প্রমাণ, সুন্নাহকে সেই সমস্ত বিষয়গুলোর মর্যাদা দান করে যেগুলো প্রশ্নাতীতভাবে দ্বীন ইসলামের একটা অংশ গঠন করে এবং যেগুলো সম্পর্কে প্রত্যেকের জ্ঞান থাকাটা অপরিহার্য। অপর কথায় বলতে গেলে স্কলারগণ এবং জনসাধারণ সবাই এই বিষয়গুলো সম্বন্ধে একই রকম সচেতন হওয়া উচিত। অবশ্য একটা আদর্শ ইসলামী পরিবেশে বড় হলে যে কারো দ্বীনের এই অত্যাবশ্যকীয় ব্যাপারগুলো না মেনে উপায় নেই। দ্বীনের এই অংশগুলোর যে কোনটি অস্বীকার করা হচ্ছে কুফর ও রিদ্দার সমতুল্য। ইবন তাইমিয়্যা বলেন, “পরিষ্কার ও নিশ্চিতভাবে প্রতিষ্ঠিত অবশ্যকরণীয় এবং পরিষ্কার ও নিশ্চিতভাবে প্রতিষ্ঠতি বর্জনীয় বিষয়গুলোতে বিশ্বাস স্থাপন হচ্ছে ঈমানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তিগুলোর এবং দ্বীনের মূলনীতিগুলোর একটি। যে সেগুলো অস্বীকার করে সে [স্কলারদের ইজমামতে] একজন কাফির।”

একইভাবে ইমাম নবভী বলেছেন, “আজ দ্বীন ইসলাম ছড়িয়ে পড়েছে। মুসলমানদের ভিতর যাকাতের বাধ্যবাধকতার জ্ঞান এমনভাবে ছড়িয়ে পড়েছে যে, জনসাধারণ ও বিশেষজ্ঞগণ উভয় দলই সে সম্বন্ধে জানেন, বরং বলা যায় স্কলারগণ এবং অজ্ঞ ব্যক্তিগণ সকলেই এ ব্যাপারে সচেতন। কোনরূপ ব্যাখ্যার কারণে কেউ কেউ তা অস্বীকার করতে চাইলে তাকে ক্ষমা করা হয় না। মুসলিম সম্প্রদায় যেটার ব্যাপারে একমত, দ্বীনের এমন কোন দিক যদি কেউ অস্বীকার করে, তবে তার বেলায়ও একই বিধান প্রযোজ্য যদি সেই জ্ঞান ইতোমধ্যেই ছড়িয়ে পড়ে থাকে। এরকম বিষয়গুলোর ভেতর দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত সালাত, রমাদান মাসের রোযা, সংসর্গ পরবর্তী গোসল, ব্যভিচারের নিষেধাজ্ঞা, মদের উপর নিষেধাজ্ঞা, নিকটাত্মীয়কে বিয়ের ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা……. ইত্যাদি থাকবে। কিন্তু এটা যদি কেবল বিশেষজ্ঞদের ইজমার ব্যাপার হয়ে থাকে, যেমন একজন মেয়েলোক ও তার ফুফু বা খালার সাথে বিবাহিত হওয়ার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা, একজন খুনীর যে মীরাসের অধিকার নেই ( যে খুন হয়েছে তার রেখে যাওয়া সম্পত্তি থেকে), এই বাস্তবতা যে একজন দাদী ১/৬ উত্তরাধিকার লাভ করে এবং এই ধরণের আরো বিষয়সমূহ – কেউ যদি এর একটিকে অস্বীকার করে তবে তাকে কাফির বলে গণ্য করা হয় না। বাস্তবে, ‘যতক্ষণ না তাকে ব্যাপারগুলো সম্বন্ধে জ্ঞানদান করা হচ্ছে ততক্ষণ’ তাকে মাফ করে দেয়া হয়। কেননা এই ধরণের বিষয়গুলোর জ্ঞান, জনসাধারণের ভিতর ছড়িয়ে দেওয়া হয় নি।”
অন্যান্য অনেক স্কলারদের থেকে এই ধরণের উদ্ধৃতি দেওয়া যাবে।
স্কলারদের সিদ্ধান্ত অনেকটা এই রকম যে, যা কিছু শক্তভাবে ও প্রশ্নাতীতভাবে দ্বীন ইসলামের অংশ হিসবে প্রতিষ্ঠিত, তা যে অস্বীকার করবে সে একজন কাফের এবং এই সিদ্ধান্ত যুক্তিযুক্ত। বাস্তবে যখন কেউ এই ধরণের কিছু অস্বীকার করে – অর্থাৎ সুন্নাহর অবস্থান ও মর্যাদা অথবা দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত সালাত এধরণের কিছু – তখন সে আসলে খোদ কুর’আন এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ের ব্যাপারে নাযিলকৃত কুর’আনের সকল আয়াতসমূহ অস্বীকার করা ছাড়া আর কিছুই করছে না। কুর’আনকে অস্বীকার করা এবং মিথ্যা মনে করা স্পস্টতই কুফর ও রিদ্দা। দুর্ভাগ্যবশত যে সব মুসলিমের পশ্চিমা ইহুদী ও খৃস্টান অতীত রয়েছে, তারা এ বিষয়ে ঢিলেঢালা হতে পারেন। উদাহরণস্বরূপ এ ব্যাপারটা দুর্লভ নয় যে একজন খৃস্টান বাইবেল অথবা খৃস্টান মতবাদের যতটুকু ইচ্ছা ততটুকু প্রত্যাখান করবে এবং তা সত্ত্বেও একই সময়ে সে নিজেকে একজন পরিপূর্ণ ও সৎকর্মশীল খৃস্টান মনে করবে। ইসলামের বেলায় এই মনোভাব গ্রহণযোগ্য নয়। একবার কেউ ইসলাম গ্রহণ করে তখন তাকে অবশ্যই গোটা কুর’আন ও সুন্নাহকে নিরঙ্কুশ সত্য বলে গ্রহণ করতে হবে, সন্দেহাতীত ভাবে।
এ ছাড়া নিশ্চিতভাবে যা কিছু দ্বীন ইসলামের একটা অংশ হিসাবে প্রতিষ্ঠিত, তার যে কোন কিছুতে সন্দেহ প্রকাশ করা হচ্ছে অবিশ্বাস বা কুফরের সমতুল্য। এই সিদ্ধান্ত কুর’আনের আয়াত সমূহ থেকে প্রমাণ করা যায়। যে কারো উচিত সুনির্দিষ্টভাবে কুর’আনের নিম্নলিখিত আয়াতগুলো খেয়াল করা:
“তাহলে কি তোমরা কিতাবখানির একটি অংশ বিশ্বাস কর এবং বাকীটুকু অস্বীকার কর? সুতরাং তোমাদের মধ্যে যারা এরকম করে তাদের একমাত্র প্রতিফলন পার্থিব জীবন হীনতা। এবং কিয়ামতের দিন তারা কঠিনতম শাস্তির দিকে নিপ্তি হবে। তারা যা করে আল্লাহ সে সম্মন্ধে অনবহিত নন।” (সূরা বাকারা, ২:৮৫)
যাদেরকে জাহান্নামের আগুনে নিক্ষেপ করা হবে তাদের বর্ণনা করতে গিয়ে আল্লাহ বলেন:
“সে সাদাকা দেয় নি এবং সালাত আদায় করেনি। বরং সে সত্য প্রত্যাখ্যান করেছিল এবং মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিল।” (সূরা ক্বিয়ামা, ৭৫:৩১-৩২)
আল্লাহ আরো বলেন:
“তার চেয়ে আর কে অধিকতর জুলুম করে যে আল্লাহ সম্মন্ধে মিথ্যা রচনা করে অথবা তার নিদর্শনকে প্রত্যাখ্যান করে? জালেমগণ কখনোই সফলকাম হয় না।” (আল আনআম, ৬:২১)
অন্যত্র আল্লাহ বলেন:
“যারা আমার নিদর্শনকে অস্বীকার করে এবং সে সম্মন্ধে অহংকার করে তাদের জন্য আকাশের দ্বার উন্মুক্ত করা হবে না এবং তারা জান্নাতেও প্রবেশ করতে পারবে না – যতক্ষণ না সূঁচের ছিদ্রপথে উট প্রবেশ করে। অপরাধীদেরকে আমরা এভাবেই প্রতিফল দেব।” (আ’রাফ, ৭:৪০)
এরকম আরো বহু আয়াত যদিও আছে, সবশেষে আমরা আরো একটি আয়াত উল্লেখ করবো যেখানে আল্লাহ বলেন:
“….. কাফিরগণ ছাড়া কেউ আমাদের নিদর্শনাবলী অস্বীকার করে না।” (আনকুবুত, ২৯:৪৭)

[Page213~217, The Authority and Importance of Sunnah - Jamaal al-Din M. Zarabozo থেকে অনুদিত।]

Processing your request, Please wait....
  • Print this article!
  • Digg
  • Sphinn
  • del.icio.us
  • Facebook
  • Mixx
  • Google Bookmarks
  • LinkaGoGo
  • MSN Reporter
  • Twitter
৭৬ বার পঠিত
1 Star2 Stars3 Stars4 Stars5 Stars ( ভোট, গড়:০.০০)