লগইন রেজিস্ট্রেশন

‘সুন্নাহ্ ও ‘হাদীস’ : এই শব্দ গুলির অর্থ

লিখেছেন: ' মেরিনার' @ বৃহস্পতিবার, ডিসেম্বর ১৭, ২০০৯ (১২:৩৭ পূর্বাহ্ণ)

‘সুন্নাহ্’ ও ‘হাদীস’ – এই শব্দ গুলির অর্থ

[এই ব্লগে এবং অন্যত্রও, প্রায়ই দেখা যায় যে বচসা ও তর্ক-বিতর্কের একটা প্রধান বিষয় হচ্ছে "সুন্নাহ" তথা "হাদীস"। আমরা তাই, ইনশাল্লাহ, পর্যায়ক্রমে scholarly source থেকে কতগুলো লেখা উপস্থাপন করবো।]
প্রথমেই যে পদক্ষেপ নেওয়া উচিত তা হচ্ছে, ‘সুন্নাহ’ ও ‘হাদীস’ এই শব্দগুলির সংজ্ঞা পরিষ্কার ভাবে নির্ধারণ করা । ব্যাপারটা নিদিষ্ট ভাবে ‘সুন্নাহ্’ শব্দের বেলায় বেশী গুরুত্বপূর্ণ। আসলে সুন্নাহ্ শব্দটির ভিন্ন ভিন্ন প্রয়োগই হচ্ছে ‘সুন্নাহ্’ ও এর গুরুত্ব সম্বন্ধে বিভ্রান্তির এক প্রধান উৎস। বিভিন্ন বিষয়ের স্কলাররা সুন্নাহ্ শব্দটিকে বিভিন্নভাবে ব্যবহার করে এসেছেন। দ্বীনী জ্ঞানের প্রতিটি শাখা, তার প্রয়োজন ও উদ্দেশ্য অনুযায়ী সবচেয়ে প্রযোজ্য উপায়ে শব্দটির সংজ্ঞা দিয়েছে এবং সেটিকে ব্যবহার করেছে। আর সেজন্যই সার্বিকভাবে ইসলামে সুন্নাহ্র অবস্থান সম্পর্কিত যে কারো ধারণা বেশ করুণ একটা পরিণতি লাভ করতে পারে, যদি না কেউ সুন্নাহ্ সম্বন্ধে ভাবতে গিয়ে, এই দিকটাকে ধর্তব্যে না আনে।


“সুন্নাহ্” শব্দের অর্থসমূহ

যখন সবচেয়ে সাধারণভাবে, সাদামাটা অর্থে সুন্নাহ শব্দটি ব্যবহৃত হয়, তখন বুঝতে হবে যে, এ দ্বারা রাসূল (সা.)-এঁর সার্বিক শিক্ষা ও জীবনের ধরণকে বোঝানো হচ্ছে। কিন্তু সঠিক ভাবে বলতে গেলে, বলতে হবে যে, বিভিন্ন শ্রেনীর স্কলাররা বেশ ভিন্ন রকমের ধারণা দিতে শব্দটি ব্যবহার করেন। এটা এজন্য যে, জ্ঞানের বিভিন্ন শাখাগুলোর উদ্দেশ্য ও লক্ষ্যসমূহ ভিন্ন। সাধারণভাবে যখন ব্যবহার হয়ে থাকে, তখন শব্দটির যে অর্থ -আর- আক্বীদাহ, ফিকহ, শরীয়াহ ও হাদীসের স্কলাররা যখন বিশেষ অর্থে শব্দটি ব্যবহার করে থাকেন, তখন তার যে অর্থ দাঁড়ায় – যে কাউকে সুনির্দিষ্ট ভাবে এ দুইয়ের মধ্যে পার্থক্য করতে হবে।


‘সুন্নাহর’ আভিধানিক অর্থ

‘সুন্নাহ’ শব্দটির (যার বহুবচন হচ্ছে সুনান) আভিধানিক সংজ্ঞা দিতে গিয়ে লেন [E. W. Lane] বলেন, “কাজকর্মের বা আচরণের বা জীবনের একটা পথ, রাস্তা, নিয়ম বা রীতি, ভাল বা খারাপ যাই হোক, অনুমোদিত অথবা অননুমোদিত যাই হোক … একটা পদ্ধতি যা পূর্ববতী প্রজন্মেও লোকদের দ্বারা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বা তারা যা প্রতিষ্ঠিত করতে চেয়েছে এবং পরবর্তী প্রজন্মের লোকেরা যা করার চেষ্টা করেছে।”

Lane যেমনটা দৃষ্টি আকর্ষণ করলেন, ব্যাপারটা একটা প্রশংসনীয় জীবনযাত্রা হতে পারে, আবার নিন্দনীয় জীবনযাত্রাও হতে পারে। আভিধানিকভাবে ‘সুন্নাহ’ শব্দটা এই দুটোর যে কোন একটা বোঝাতে ব্যবহার করা যেতে পারে । কিন্তু সাধারণ অভিব্যক্তিতে শব্দটিকে এক প্রশংসনীয় জীবনযাত্রা বোঝাতেই ব্যবহার করা হয়, আর তাই, যদি কখনো নেতিবাচক ভাবে ব্যবহার করার প্রয়োজন হয়,তবে পটভূমি ব্যাখ্যা করে বা অতিরিক্ত বিশেষণ ব্যবহার করে ব্যাপারটা পরিস্কার করে দেওয়া হয় ।

রাসূল (সা.)-এঁর বক্তব্যে শব্দটির আভিধানিক ব্যবহার দেখতে পাওয়া যায় । আসলে নিম্মলিখিত হাদীসটিতে ‘সুন্নাহ’ শব্দটি তার আভিধানিক অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে:

জাবির ইবনে আবদুল্লাহর বর্র্র্র্ণনায় এসেছে: বেদুইনদের একটা দল আল্লাহর রাসূলের (সা.) কাছে এসে হাজির হয় যারা ছিল পশমী বস্ত্র পরিহিত। রাসূল (সা.) তাদের দুর্দশাগ্রস্থ অবস্থা ও তারা যে অভাবতাড়িত সে ব্যাপারটা খেয়াল করলেন । তিনি তখন লোকজনকে দান খয়রাত করার তাগিদ দিলেন, কিন্তু তাঁর চেহারায় রাগের চিহ্ন দেখার পূর্ব পর্যন্ত তারা বেশ গড়িমসি করছিল। তারপর আনসাদের একজন একপাত্র রূপা নিয়ে এসে হাজির হলেন। তারপর আরেকজন আসলেন। তাদের দেখাদেখি অন্যরাও [ দান সামগ্রী নিয়ে} আসলেন, তখন রাসূল (সা.)-এঁর চেহারায় সন্তুষ্টি ফুটে উঠল। আল্লাহর রাসূল (সা.) তখন বললেন , ‘‘যে কেউ ইসলামে কোন ভাল প্রথা (সুন্নাহ) প্রচলিত করবে, তারপরে যার উপর অন্যেরা আমল করবে, তখন তার নামে পরবর্তী আমলকারীর মতই একটি নেকি লিপিবদ্ধ হবে - তাদের যে কারো অর্জিত নেকির কোন কমতি হওয়া ছাড়াই। আর যে কেউ যদি ইসলামে কোন মন্দ প্রথার (সুন্নাহ) প্রচলন করে এবং তারপর যদি লোকেরা সেটার উপর আমল করে, তবে তার নামেও আমলকারীর সমান পরিমাণ গুনাহ লিপিবদ্ধ হবে - তাদের দুজনের কৃত-কর্মের গুনাহর কোন কমতি ছাড়াই ।’ ” ( সহীহ মুসলিম)

বিভিন্ন শ্রেনীর স্কলাররা সূন্নাহর যে সব সংজ্ঞা দিয়েছেন, সে আলোচনায় যাবার আগে এ বিষয়টা খেয়াল করা উচিত যে, কুর’আনে ‘সুন্নাত আল্লাহ’ বা আল্লাহর নিয়ম সম্বন্ধে বলা হয়েছে । আল্লাহ বলেন : “তোমাদের পূর্বে যারা চলে গিয়েছে তাদের নামে আল্লাহর নিয়ম (বা রীতি)। এবং তোমরা আল্লাহর নিয়মে কোন পরিবর্তন পাবে না।” (আহযাব, ৩৩:৬২, আল ফাত্হ,৪৮:২৩,আল ইসরা,১৭:৭৭)

‘আল্লাহর সুন্নাহ’ বলতে এখানে তাঁর সিদ্ধান্ত, আইন, আদেশসমূহ এবং তাঁর নির্ধারণসমূহ বোঝানো হয়েছে যেগুলো বদলায় না এবং যে গুলো সব সময় সকল জনগোষ্ঠির উপর প্রযোজ্য - যেমন পূর্ববতী ঐ সমস্ত জনগণকে ধংস করার সুন্নাহ, যারা কিনা অনবরত আল্লাহর ওহী অনুযায়ী জীবন যাপন করতে অস্বীকার করেছিল।

বিভিন্ন শাখা প্রশাখা ব্যতিরেকে যে অর্থে সুন্নাহ শব্দটির ব্যবহার সবাই করে থাকেন, সেটা হচ্ছে কুর’আনের পাশাপাশি শব্দটি যখন উল্লেখ করা হয়, অর্থাৎ যখন কেউ বলেন ‘কুর’আন ও সুন্নাহ’ অথবা “আল্লাহর কিতাব ও রাসূলের সুন্নাহ’ । এই অর্থে যখন সুন্নাহ শব্দটি ব্যবহার করা হয়, তখন আমরা বুঝি যে এই শব্দ দ্বারা রাসূল (সা.)-এঁর মাধ্যমে প্রাপ্ত দিক নির্দেশনাকে বোঝানো হচ্ছে, যা কুর’আনের মাধ্যমে প্রাপ্ত দিকনির্দেশনার অতিরিক্ত।

[Page7~10, The Authority and Importance of Sunnah - Jamaal al-Din M. Zarabozo থেকে অনুদিত।]

Processing your request, Please wait....
  • Print this article!
  • Digg
  • Sphinn
  • del.icio.us
  • Facebook
  • Mixx
  • Google Bookmarks
  • LinkaGoGo
  • MSN Reporter
  • Twitter
২১০ বার পঠিত
1 Star2 Stars3 Stars4 Stars5 Stars ( ভোট, গড়:০.০০)

২ টি মন্তব্য

  1. কুর’আনের পাশাপাশি শব্দটি যখন উল্লেখ করা হয়, অর্থাৎ যখন কেউ বলেন ‘কুর’আন ও সুন্নাহ’ অথবা “আল্লাহর কিতাব ও রাসূলের সুন্নাহ’ । এই অর্থে যখন সুন্নাহ শব্দটি ব্যবহার করা হয়, তখন আমরা বুঝি যে এই শব্দ দ্বারা রাসূল (সা.)-এঁর মাধ্যমে প্রাপ্ত দিক নির্দেশনাকে বোঝানো হচ্ছে, যা কুর’আনের মাধ্যমে প্রাপ্ত দিকনির্দেশনার অতিরিক্ত।

    (Y) (Y) (Y) পারফেক্ট ।