“কুর’আন অনলি” যিন্দিকরা মুসলিম বিশ্বের শ্রেষ্ঠ গবেষণা গ্রন্থগুলো পাশ কাটিয়ে যায়
লিখেছেন: ' মেরিনার' @ বৃহস্পতিবার, নভেম্বর ৫, ২০০৯ (১২:৩৮ অপরাহ্ণ)
“কুর’আন অনলি” যিন্দিকরা যেহেতু ইসলামকে ধ্বংস করার মিশন নিয়ে মাঠ নেমেছে, তাই তারা মুসলিম স্কলারদের [মূলত আরবী] কাজের বিশাল ভান্ডারকে পাশ কাটিয়ে গিয়ে, পশ্চিমা ইসলাম বিদ্বেষীদের গোয়েবলসীয় মিথ্যাচার, “His Master’s Voice”-এর প্রভুভক্ত সারমেয়র মত ঘেউ ঘেউ করে repeat করতে থাকে। অথচ, আমরা এর আগের একটা পোস্টে দেখিয়েছি যে, হাদীস সংরক্ষণের পদ্ধতি পৃথিবীর ইতিহাস সংরক্ষণের যে কোন পদ্ধতির চেয়ে শ্রেয়। প্রায় ১১৮টি মহামূল্যবান বইয়ের রেফারেন্স সমৃদ্ধ, স্প্যানিস ধর্মান্তরিত মুসলিম Jamal al-Din M Zarabozo-র গবেষণা গ্রন্থ “The Authority and Importance of Sunnah” থেকে, আমরা কিছু অংশ অনুবাদ করে তুলে দিচ্ছি, যা পড়লে যে কেউ বুঝবেন যে, হাদীস বলার বা উদ্ধৃত করার ব্যাপারে প্রথম যুগের মুসলিমরা কত সাবধান ও serious ছিলেন:
“….কখন ইসনাদের ব্যবহার প্রথম শুরু হয়েছিল, সে সম্বন্ধে বলতে গিয়ে, তিনি বলেছিলেন যে স্বাভাবিকভাবেই সাহাবীরা ইসনাদ ব্যবহার করতেন। কিন্তু তাঁদের আর রাসূলের (সা.) মাঝে যেহেতু কোন মধ্যবর্তী ব্যক্তিত্ব থাকতেন না, সেহেতু তাঁরা যে ইসনাদ ব্যবহার করতেন তা স্পষ্ট বোঝা যেত না। সাহাবীরা যেভাবে হাদীস বর্ণনা করতেন, তাতে এটা পরিষ্কার হয়ে যেতো যে, হয় তাঁরা হাদীসটিকে সরাসরি নবীর কাছ থেকে শুনেছেন, অথবা তাঁদের বর্ণনায় এটা পরিষ্কার হয়ে যেতো যে, তাঁরা ঐ নির্দিষ্ট হাদীসটি সরাসরি নবীর (সা.) কাছ থেকে শোনেননি। আনাস বিন মালিক এবং ইবন আব্বাসের মত, এমন অনেক স্বল্প বয়সী সাহাবীগণ যেসব হাদীস বর্ণনা করেছেন, তা তাঁরা সরাসরি নবীর (সা.) কাছ থেকে শোনেননি, বরং তাঁরা সেগুলো অপর কোন সাহাবীর মুখে শুনেছেন যিনি সরাসরি নবীর (সা.) কাছ থেকে শুনেছেন।……..
…..সুতরাং ইসনাদ পদ্ধতির প্রথম ব্যবহার ছিল সাহাবীদের সময় – যদিও এটা বলা যেতে পারে যে সেটা সম্বন্ধে হয়তো তারা সচেতন ছিলেন না। আল যুহরী সম্বন্ধে মালিকের বক্তব্যের প্রসঙ্গে জিয়া আল উমারী লেখেন, “এর অর্থ এই নয় যে, যুহরীর পূর্বে ইসনাদের অস্তিত্ব ছিল না। বাস্তবে সাহাবীদের জীবদ্দশায়ই লোকে ইসনাদ সম্বন্ধে জিজ্ঞেস করতে শুরু করেছিলো এবং সেই জিজ্ঞাসা মুখ্য তাবেয়ীদের পর্যন্ত জারী ছিল। কিন্তু আল যুহরীর সময়ে লোকে ইসনাদ উল্লেখ করার ব্যাপারে ব্যাপক গুরুত্ব আরোপ করতে শুরু করেছিল।”
…….এবার খ) এর প্রসঙ্গে আসা যাক, যখন শ্রোতাগণ বর্ণনাকারীদের ইসনাদ উল্লেখ করতে বাধ্য করতে শুরু করেছিলেন – ফুল্লাতাহ্ উল্লেখ করেন যে, আবু বকর (রা.) ছিলেন প্রথম ব্যক্তি, যিনি বর্ণনাকারীকে তার বর্ণনার নির্ভরযোগ্যতা প্রমাণ করতে বাধ্য করেছিলেন, কেননা কখনো কখনো তিনি কেউ একটা হাদীস উপস্থাপন করলে, সাক্ষ্য-প্রমাণ ছাড়া সেই হাদীস গ্রহণ করতে চাইতেন না। ওমর (রা.) একই রকম করতেন। এটা করে তাঁরা এ ব্যাপারটা পরিষ্কার করে নিতে চাইতেন যে, বর্ণনাকারী ব্যক্তি সরাসরি রাসূল (সা.)-এঁর কাছ থেকে হাদীসটি শুনেছেন কিনা, নাকি কোন মধ্যবর্তী ব্যক্তির মাধ্যমে বর্ণনাটি তার কাছে এসেছে। তাঁদের মুখ্য উদ্দেশ্য ছিল কোন একটি বর্ণনা সঠিক বা শুদ্ধ কিনা সেটা নিশ্চিত করা, যদিও তা করতে গিয়ে না চাইলেও তাঁরা বর্ণনাকারীকে তার হাদীসের ইসনাদ সম্বন্ধেই জিজ্ঞাসা করছিলেন। সুতরাং তাঁদের সময়টাতেই [নবীর (সা.) মৃত্যুর ঠিক পর পর - আবু বকর (রা.) ও ওমরের (রা.) সময়টাতে] বর্ণনাকারীদের ইসনাদ উল্লেখ করার চাপ প্রয়োগের প্রথম সূচনা হয়েছিল। চতুর্থ খলিফা, অর্থাৎ ফিতনার সময়কার খলিফা আলী (রা.) কখনো কখনো কোন বর্ণনাকারী ব্যক্তিকে এ ব্যাপরে হলফ করতে বাধ্য করতেন যে, সে বর্ণিত হাদীসটি নিজে সরাসরি নবীর (সা.) কাছ থেকে শুনেছে। স্পষ্টতই তার পরে বর্ণনাকারীর জন্য ইসনাদ উল্লেখ করার প্রয়োজনীয়তার ব্যাপারটা অব্যাহতভাবে চলতে থাকে।…….” [Page#191~192"The Authority and Importance of Sunnah" by Jamal al-Din M Zarabozo]
ঐ একই সূত্র থেকে নীচের লেখাগুলো পড়লে যে কেউ বুঝবেন যে, হিজরী প্রথম শতাব্দীর শেষভাগ পযর্ন্ত সাহাবীদের উপস্থিতি থাকায় [১১০ হিজরীতে শেষ সাহাবীর মৃত্যুর মধ্য দিয়ে সাহাবীদের যুেগর পূণর্ অবসান ঘটে] ইসনাদের শাস্ত্র পুরোপুরি সংজ্ঞায়িত করার প্রয়োজন পড়ে নি। তাছাড়া বুখারী বা মুসলিমের মত encyclopedic সংকলন না থাকলেও, লিখিত হাদীস গ্রন্থ যে ছিল না – একথা বলা কেবল মূখর্তাই নয় বরং পশ্চিমাদের মিথ্যাচারকে সমর্থন যোগানোর এক আত্মঘাতি ভুল:
“….আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস (রা.) (হিজরতের তিন বৎসর পূর্ব থেকে ৬৮ হিজরী…..) জ্ঞান আহরণে এতই উৎসাহী ছিলেন যে কেবল একটি ঘটনা সম্মন্ধে তিনি তিরিশজন সাহাবীকেও প্রশ্ন করতেন …..। মনে হয় তিনি যা কিছু শুনতেন সব লিখে রাখতেন এবং কখনো এমনকি তাঁর ক্রীতদাসদের এই কাজে নিয়োজিত করতেন। নিম্নলিখিত ব্যক্তিগণ তাঁর লিখিত সংগ্রহ থেকে হাদীস গ্রহণ করেছেন: আলী ইবন আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস আমর বিন দিনার, আল-হাকাম বিন মিকসাম, ইবন আবু মুলায়কা, ইকরিমা…..কুরাইব, মুজাহিদ নাজদা….. সাঈল বিন যুবায়ের।
আবদুল্লাহ ইবন ওমর ইবন আল খাত্তাব (হিজরী পূর্ব ১০ থেকে ৭৪ হিজরী)। তিনি বহু সংখ্যক হাদীস বর্ণনা করেছেন এবং তিনি সেসব হাদীস বর্ণনায় এতই সাবধানী ছিলেন যে তিনি শব্দসমূহের বিন্যাস পরিবর্তন করা অনুমোদন করতেন না, এমনকি যদি তাতে অর্থের কোন পরিবর্তন নাও হতো। ….. তাঁর কিতাব ছিল। একটা বই ছিল যা মূলত ওমরের (রা.) ছিল এবং সেটা তাঁর মালিকানায় ছিল, যেটা নাকি তিনি তাঁকে বহুবার পড়ে শুনিয়েছেন…..। তাঁর কাছ থেকে লিখিত অবস্থায় নিম্নলিখিত ব্যক্তিরা হাদীস গ্রহণ করেছিলেন: জামিল বিন যাইদ আর তাঈ, ….. ইবন ওমারের ভৃত্য নাফি, সাঈদ বিন যুবায়ের, আবদুল আজিজ বিন মারওয়ান, আবদুল মালেক বিন মারওয়ান, ওবায়দুল্লাহ বিন ওমর, ওমর বিন ওবায়দুল্লাহ…..।
আনাস বিন মালিক (জন্ম হিজরী পূর্ব দশম বর্ষ, মৃত্যু ৯৩ হিজরী)। ….. তিনি তাঁর ছেলেদের উপদেশ দিয়েছিলেন নবীর (সা.) হাদীস লিখে রাখতে ও মুখস্থ করতে। তিনি বলতেন, “যারা লিখে রাখেন না তাদের জ্ঞানকে আমরা মূল্য দিই না।” এখানে জ্ঞান অর্থ হচ্ছে নবীর (সা.) হাদীসসমূহ।
হুরায়রাহ বিন আবদাল রহমান বলেন, “আনাস বিন মালিক যখন হাদীস বর্ণনা করতেন তখন অনেক লোক জমায়েত হতো। আর তিনি তাঁর বইগুলি নিয়ে এসে তাদের দিয়ে বলতেন, ‘আমি এই সব হাদীসগুলো নবীর (সা.) মুখে শুনেছি, তারপর লিখে রেখেছি এবং তারপর তাঁকে পড়ে শুনিয়েছি।” নিম্নলিখিত ব্যক্তিগণ তাঁর লিখিত সংগ্রহ থেকে হাদীস গ্রহণ করেছেন। আবদুল্লাহ বিন দিনার তাঁর কাছ থেকে একটা বড় বই সংগ্রহ করেছিলেন….. ইবরাহিম বিন হোদবা তাঁর কাছ থেকে একখানি নুসখা কিতাব সংগ্রহ করেছিলেন…….। সহাবীদের মাঝে এক চমকপ্রদ উদাহরণ হচ্ছেন আবু হুরায়রা (রা.)। আবদুল্লাহ ইবন আমর ইবন আল আস (রা.) সম্বন্ধে তাঁর বক্তব্য থেকে পরিষ্কারভাবে জানা যায় যে, নবীর (সা.) জীবদ্দশায় তিনি হাদীস লিখে রাখেন নি। কিন্তু নিম্নলিখিত বর্ণনা থেকে এটাও স্পষ্ট বোঝা যায় যে নবীর (সা.) মৃত্যুর পরে তিনি যে সমস্ত হাদীস মানতেন সেগুলো হয় তিনি নিজে লিপিবদ্ধ করেছিলেন অথবা অন্যদের দিয়ে করিয়েছিলেন। আমর ইবন উমাইয়া বলেন, “আমি আবু হুরায়রার উপস্থিতিতে একটা হাদীস বর্ণনা করলাম এবং তিনি সেই হাদীস প্রত্যাখ্যান করলেন। আমি বললাম, ‘আমি তো এ হাদীস আপনার কাছ থেকে শুনেছি।’ তিনি বললেন, ‘তুমি যদি আমার কাছ থেকে ঐ হাদীস শুনে থাক তবে তা আমার বইগুলির মাঝে লিখিত অবস্থায় পাওয়া যাবে।’ তিনি আমার হাত ধরে তাঁর বাসায় নিয়ে গেলেন এবং আমি নবীর (সা.) হাদীসের অনেক বই দেখতে পেলাম। আর (তার একটিতে) আমি সংশ্লিষ্ট হাদীসটি পেয়ে গেলাম।”
বাশীর ইবন নাহিক বলেন, “আবু হুরায়রার কাছ থেকে আমি যা শুনতাম তা লিখে রাখতাম। তাঁর কাছ থেকে বিদায় নেওয়ার সময় আমি আমার [নোট] বই নিয়ে তাঁর কাছে যেতাম এবং সেটা তাঁকে পড়ে শোনাতাম। আর বলতাম, ‘আমি কি আপনার কাছ থেকে এরকম শুনিনি?’ এবং তিনি তখন বলতেন, ‘হ্যাঁ।’ ” এসব ঘটনা থেকে প্রমাণিত হয় যে তাঁর নিজের সংগ্রহীত হাদীসের একটা লিখিত সংকলন ছিল এবং অন্যরা তাঁর কাছে হাদীস লিখে নিলেও তিনি বাধা দেননি। মুস্তাফা আল আজামী ‘প্রথম শতাব্দীর উত্তরাধিকারী’ শিরোনামে ৪৯জন এমন ব্যক্তিত্বের প্রত্যেকের চরিত্র নিয়ে গবেষণা করেছেন, যারা হাদীস লিপিবদ্ধ করতেন।
এই তালিকার একজন হচ্ছেন আবিদাহ ইবন আমর আল সালমানী যার কাছে বহু বই ছিল, কিন্তু এগুলো ব্যবহার করতে গিয়ে কেউ ভুল করতে পারে এই ভয়ের বশবর্তী হয়ে সেগুলো যেন পুড়িয়ে ফেলা হয় অথবা মুছে ফেলা হয় এমন অসিয়ত করে গিয়েছিলেন। এখানে লক্ষ্য করার বিষয় হচ্ছে যে তাঁর এই অতি সাবধানতার মূলে কিন্তু নবীর (সা.) কোন নিষেধাজ্ঞা ছিল না, বরং তার গ্রন্থসমূহ থেকে তাঁর হাদীস বর্ণনা করার বেলায় লোকে ভুল করবে এই ভয়েই কেবল তিনি অমনটা বলে গিয়েছিলেন।
এরপর আল-আজামী ‘প্রথম শতাব্দীর শেষ ভাগ ও দ্বিতীয় শতাব্দীর প্রথম ভাগ জুড়ে যারা ছিলেন সেইসব স্কলারদের’ তালিকায় ৮৭জনের নাম লিপিবদ্ধ করেছেন যারা হাদীস লিপিবদ্ধ করেছেন। তারপর তিনি ‘দ্বিতীয় শতাব্দীর শুরুর দিকের স্কলারদের’ বর্ণনা করতে গিয়ে ২৫১ জন এমন ব্যক্তির নাম তালিকাভুক্ত করেছেন যারা হাদীস সংগ্রহ করেছেন ও লিখে রেখেছেন। এভাবে আল-আজামী ২৫০ হিজরীর আগেই যারা মৃত্যুবরণ করেছেন এমন মোট ৪৩৭ স্কলারের তালিকা বানিয়েছেন যারা হাদীস লিপিবদ্ধ করে গেছেন। এদের অনেকেই ওমর বিন আবদুল আযীযের যুগের আগের যুগের ছিলেন – যদিও বলা হয়ে থাকে যে তিনি ছিলেন প্রথম ব্যক্তি যিনি হাদীস সংগ্রহের উদ্যোগ নিয়েছিলেন। ওমর বিন আব্দুল আযীযের কাহিনীকে আসলে ভুল বোঝা হয়ে থাকে এবং এটা মনে করার কোন কারণ নেই যে তাঁর আগে কেউ হাদীস সংগ্রহ করেন নি। (বুখারীর বর্ণনায় এসেছে যে ওমর বিন আবদুল আযীয (৬১হিঃ – ১০১হিঃ) আবুবকর বিন মোহাম্মদকে (মৃত্যু ১০০ হিজরী) এক চিঠিতে লেখেন, “হাদীসের জ্ঞানের সন্ধান কর এবং তা লিখে রাখ, কেননা আমার ভয় হয় দ্বীনের জ্ঞান হারিয়ে যাবে এবং দ্বীনের জ্ঞানে জ্ঞানী ব্যক্তিগণও শেষ হয়ে যাবেন। নবীর (সা.) হাদীস ছাড়া আর কিছুই গ্রহণ করো না।” তিনি সা’দ ইবন ইবরাহিম এবং আল-জুহরীকে একই কথা বলে চিঠি লিখে পাঠিয়েছিলেন। কেউ কেউ, যেমন এম, জেড, সিদ্দিকী এ ব্যাপারে ভুল ধারণা নিয়ে বলেছেন যে, ওমর বিন আবদুল আযীযের এই অনুরোধ থেকেই হাদীস সংগ্রহের সূচনা হয়েছে।)
আজামীকে উদ্ধৃত করে বলতে গেলে বলতে হয়
-
“সাম্প্রতিক গবেষণা থেকে প্রমাণিত হয়েছে যে নবীর (সা.) প্রায় সকল হাদীসই সাহাবীদের জীবদ্দশায় লিখে ফেলা হয়েছে, যা হিজরী প্রথম শতাব্দীর শেষ পর্যন্ত বিস্তৃত।”
এই শেষ বক্তব্যটি আংশিকভাবে আজামীর নিজের গবেষণার উপর প্রতিষ্ঠিত যেখানে তিনি অনেক সাহাবী ও তাবেঈনদের কথা উল্লেখ করেছেন যাদের কাছে লিখিত অবস্থায় হাদীস সংরক্ষিত ছিল। তাঁর লেখার অন্যত্র তিনি বলেছেন,
-
“আমার পি.এইচ.ডি. থিসিস স্টাডিজ ইন আর্লি হাদীস লিটারেচারে আমি এ ব্যাপারটা প্রতিষ্ঠা করেছি যে এমনকি হিজরী প্রথম শতাব্দীতেও হাদীসের শত শত পুস্তিকা ব্যবহৃত হচ্ছিল। আমরা যদি আরো একটি শতাব্দী ধর্তব্যে আনি তবে ব্যবহৃত পুস্তিকা ও পুস্তকের সংখ্যা নির্ণয় করা কঠিন হয়ে দাঁড়াবে। এমনকি বেশ কাটছাঁট করে আন্দাজ করতে চাইলেও সেগুলোর সংখ্যা বেশ কয়েক হাজারে এসে দাঁড়াবে।”
কিন্তু কথা হচ্ছে আজামী যেমনটা তাঁর পি.এইচ.ডি. থিসিসে দেখিয়েছেন হাদীসের যদি এমন বহু নথি ও সংগ্রহ থেকে থাকে, তবে সেগুলোর কেবল অল্প কিছুতেই আজকের দিনেও পাওয়া যায় কেন – এমন প্রশ্ন কারো মনে জাগতেই পারে। এই শুরুর দিকের কাজগুলোর কি পরিণতি হয়েছিল সে সম্বন্ধে আল-আজামী নিজেই আলোচনা করেছেন। তিনি লিখেছেন, “এই বইগুলো নষ্ট করে ফেলা হয়নি বা সেগুলো নষ্টও হয়ে যায়নি বরং পরবর্তী সময়ের স্কলারদের কাজে সেগুলোর আত্মীকরণ ঘটেছে। যখন এনসাইকোপিডিয়া শ্রেণীর কিতাবসমূহ সংকলিত হয়েছে তখন স্কলাররা আর প্রথম যুগের পুস্তক বা পুস্তিকাগুলো সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা বোধ করেননি। আর তাই ধীরে ধীরে সেগুলো হারিয়ে গেছে।”
প্রথম যুগের কাজগুলোর ভেতর একটা সুনির্দিষ্ট কাজ আমাদের মনোযোগী পর্যবেক্ষণের দাবী রাখে। সেটা হচ্ছে হাম্মাম ইবন মুনাব্বির সহীফা। এটা হচ্ছে আসলে হাদীসের এক লিখিত সংগ্রহ যা সাহাবী আবু হুরায়রা (রা.) তাঁর ছাত্র হাম্মামের কাছে লিখে রাখার জন্য বর্ণনা করেছিলেন। যেহেতু আবু হুরায়রা (রা.) ৫৮ হিজরীর দিকে মৃত্যুবরণ করেছিলেন, সেহেতু হাম্মামের কাছে এই সংগ্রহ তার পূর্বেই নিশ্চয়ই বর্ণনা করা হয়েছিল। এরপর ঐ সহীফা কিভাবে হস্তান্তরিত হয়েছিল তা জানতে চাইলে দেখা যায় যে হাম্মাম (মৃত্যু ১৪১ হিজরী) তাঁর ছাত্র মামারকে (মৃত্যু ১১৩ হিজরী) সেটা পড়ে শুনিয়েছিলেন। এ প্রসঙ্গে হামিদুল্লাহ লেখেন, “সৌভাগ্যবশত তাঁর (হাম্মাম) শিষ্যদের ভিতর মামার ইবন রাশিদের মত একজন ব্যতিক্রমী ও উৎসাহী মানুষ ছিলেন যিনি কিনা কোন যোগ-বিয়োগ ছাড়াই সেটা তাঁর ছাত্রদের কাছে পৌঁছে দিয়ে গেছেন। মামারও এ ব্যাপারে সৌভাগ্যবান ছিলেন যে, তাঁরও এমন একজন বিশ্ববিখ্যাত শিষ্য ছিলেন যিনি বিদ্যাশিক্ষার ব্যাপারে নিজেকে অন্যদের চেয়ে স্পষ্ট শ্রেষ্ঠত্ব দান করতে পেরেছিলেন, যাঁর নাম হচ্ছে আবদুর রাজ্জাক ইবন হাম্মাম…..। তাঁর শিক্ষক মামারের মতই তিনি সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন যে, হাম্মামের সহীফাকে তিনি তাঁর নিজের কাজে মিশিয়ে ফেলবেন না, বরং সেটাকে অক্ষুন্ন অবস্থায় সংরক্ষণ করবেন এবং একটা স্বয়ংসম্পূর্ণ কাজ হিসাবে – তাঁর পরবর্তী প্রজন্মের কাছে হস্তান্তর করে যাবেন। তাঁর ছাত্রদের ভিতর দুইজন পরবর্তীতে বিখ্যাত হাদীসবিদে পরিণত হন যাঁর একজন হচ্ছেন আহমাদ ইবন হাম্বল এবং অপরজন হচ্ছেন আবদুল হাসান আহমাদ ইবন ইউসুফ আল সুলায়মী।”
দুটি হাদীস ছাড়া আহমাদ তাঁর মুসনাদে এই গোটা কাজটিকে অন্তর্ভূক্ত করেছেন। অপরদিকে আল সুলায়মী এই সংগ্রহকে একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ কাজ হিসেবেই হস্তান্তর করা জারী রেখেছিলেন। নবম শতাব্দী পর্যন্ত এভাবেই তা পর্যায়ক্রমে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে হস্তান্তরিত হয়ে আসছিল, যখন বার্লিন পান্ডুলিপি লিখিত হয়েছিল – যা কিনা ঐ কাজের চারটি পান্ডুলিপির একটি যা এখনও বর্তমান। যেহেতু আহমাদের মুসনাদের হাদীসগুলো হাদীসের বর্ণনাকারী সাহাবী-বিন্যাস অনুযায়ী লিপিবদ্ধ রয়েছে, সেহেতু এই সংগ্রহের ভিতরে হাম্মামের কাছ থেকে পাওয়া আবু হুরায়রা (রা.) কর্তৃক বর্ণিত হাদীসগুলো খুব সহজেই খুঁজে পাওয়া যায়। অন্যান্য পুস্তকাদি যেখানে ফিকহের বিষয়বস্তু ভিত্তিক হাদীস বিন্যাস রয়েছে, সেখানেও সহীফার অনেকাংশই স্থান পেয়েছে। সহীহ আল-বুখারী এবং সহীহ আল মুসলিম পর্যবেক্ষণ করলে নিম্নলিখিত তথ্যগুলো পাওয়া যায়। হাম্মামের সহীফার ১৩৭টি হাদীসের ভিতর ২৯টি এমন হাদীস রয়েছে যেগুলো বুখারী ও মুসলিম দুটিতেই লিপিবদ্ধ রয়েছে। অন্য ২২টি হাদীস রয়েছে যেগুলো কেবল সহীহ আল-বুখারীতে লিপিবদ্ধ রয়েছে। অপর ৪৮টি হাদীস রয়েছে যেগুলো কেবল সহীহ আল-মুসলিমে লিপিবদ্ধ রয়েছে।
এবাবেই সহীফার ১৩৭টি হাদীসের ৯৯টি হয় সহীহ বুখারী অথবা সহীহ মুসলিমের ভিতর পাওয়া যাবে। উপরন্তু হামিদুল্লাহ যেমন বলেন, “ইমাম মুসলিমের ব্যাপারে বলতে গেলে বলতে হয় যে তিনি এই হাদীসগুলিকে (সহীফার হাদীস) সাধারণভাবে এভাবে বর্ণনা করেন: হাম্মাম ইবন মুনাব্বিহর উদ্ধৃতিতে মামার আমাদের কাছে হাদীসগুলো এভাবে বর্ণনা করেছেন: “এই হাদীসগুলো আল্লাহর রাসূলের (সা.) কাছ থেকে আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আবু হুরায়রা (রা.) – এবং তিনি বেশ কিছু হাদীস বর্ণনা করেছেন যার একটি হচ্ছে এটা – আল্লাহর রাসূল (সাঃ) বলেন …..।” [Page#180~186"The Authority and Importance of Sunnah" by Jamal al-Din M Zarabozo]
আরো বিস্তারিত জানতে চাইলে পড়ুন, হাদীস গবেষণার উপর বর্তমান সময়ের শ্রেষ্ঠ বইয়ের একটি:
Studies in Early Hadith Literature – Muhammad Mustafa Al-Azami
Processing your request, Please wait....












অসাধারন , আপনার এই পরিশ্রমের জন্য আপনাকে ধন্যবাদ । আল্লাহ আপনাকে উত্তম প্রতিদান দিক ।
যাযাকাল্লাহ ।