লগইন রেজিস্ট্রেশন

‘ the muslim’এর “একটা প্রশ্ন ছিলো, পারলে কেউ হেল্প কইরেন… …” এর উত্তরে

লিখেছেন: ' মুসলিম৫৫' @ বৃহস্পতিবার, নভেম্বর ১৯, ২০০৯ (১২:২৩ পূর্বাহ্ণ)

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম
ভাই “দি মুসলিম”, আস সালামু ‘আলাইকা!
[অন্য সকলকেও আস সালামু 'আলাইকুম!]

আমি ইচ্ছা করেই আপনার ঐ পোস্টে এযাবত “ইন” করি নাই, কারণ আপনার প্রশ্ন দু’টোর “পরিপূর্ণ” উত্তর দিতে গেলে অনেক কথা এসে যাবে – “দলিল” নিয়ে আসতে হবে অনেক। তবু আমি শুধু উত্তরটা সংক্ষেপে বলছি – আল্লাহ্ বাঁচিয়ে রাখলে পরে কখনো বিস্তারিত আলোচনা করবো ইনশা’আল্লাহ্। সংক্ষেপে বলতে গিয়েও যতটুকু হলো, সেটাকে একটা পোস্ট আকারে দেওয়াটাই সমীচিন মনে হলো:

১) সংশ্লিষ্ট হাদীসটি হচ্ছে:
“My Ummah will split up into seventy-three sects, all of them will be in the Fire except one sect.” They asked: “Which one, O Messenger of Allah? He replied: “Al-Jama`ah (the true followers of the Prophet).” [Albaani:Saheeh Sunan at-Tirmidhi]

আরেকটা বণর্নায় এসেছে:
“The Prophet (peace and blessings of Allaah be upon him) also described them in the following terms: “My ummah will split into seventy-three sects, all of whom will be in Hell except one group.” They said: Who are they, O Messenger of Allaah? He said: “(Those who follow) that which I and my companions follow.” [This is mentioned in the hadeeth of ‘Abd-Allaah ibn ‘Amr which was recorded and classed as hasan by al-Tirmidhi (2641). It was also classed as hasan by al-‘Iraaqi in Ahkaam al-Qur’aan (3/432), al-‘Iraaqi in Takhreej al-Ihya’ (3/284) and al-Albaani in Saheeh al-Tirmidhi.]

এই দল হচ্ছে “রাসূল(সা.) ও তাঁর সাহাবীরা (রা.) যে পথের উপর ছিলেন, সেই পথের উপর যারা থাকবে তারা”। আল্লাহর রাসূল(সা.) “আল জামা’আহ” শব্দটা উচ্চারণ করেছিলেন! আমাদের বুঝতে হবে যে, তাঁর জীবদ্দশায় সকল মুসলিমই সেই জামাতের অন্তর্ভূক্ত ছিলেন – এমনকি মদীনার প্রসিদ্ধ মুনাফিকরাও বাহ্যত সেই জামাতের অন্তর্ভূক্তই ছিল, তারা আলাদা কোন “দল” গঠন করে নি! আজ সেই “আল জামা’আহ”র physical existence যেমন নেই, তেমনি অত্যন্ত দুঃখজনক হলেও সত্যি যে, শুধু “মুসলিম” বলতেও এখন আর কিছু বোঝায় না!! ক্বাদীয়ানী, দ্রুয, আলাভী, ইসমাইলী শিয়া, সেভেনার শিয়া, মূলধারা টুয়েলভার শিয়া, যায়েদী শিয়া, ১৯ নম্বরের তত্ত্ব অনুসারী submittersগণ, খারেজী (যেমন ওমানের রাষ্ট্রক্ষমতায় থাকা ইবাদাইটস ফিরক্বা), সূফীদের হাজারো ফিরক্বা সহ আমাদের এই দেশের আটরশী, দেওয়ানবাগী, আযানগাছী, কুর’আনিউন সবাই বলবে যে তারা মুসলিম – যদিও এদের অনেকেই স্পষ্টতই ইসলামের গন্ডির বাইরে। অগণিত ফিরক্বার ভিতর, “রাসূল(সা.) ও তাঁর সাহাবীরা (রা.) যে পথের উপর ছিলেন”, সেটার অনুসারী বোঝাতে, পরবর্তীতে রাসূলের (সা.) মৃত্যুর পরে, স্কলাররা “আহলুস সুন্নাহ ওয়া আল-জামা’আহ” কথাটা ব্যবহার করতে শুরু করেন – যদিও এখন অনেক ভ্রান্ত দলও দাবী করে যে, তারাও “আহলুস সুন্নাহ ওয়া আল-জামা’আহ”র অন্তর্ভূক্ত! ইসলামের পরিভাষায় “রাসূল(সা.) ও তাঁর সাহাবীরা (রা.) যে পথের উপর ছিলেন”, সেটার অনুসারী বোঝাতে আরো কিছু অভিব্যক্তি ব্যবহার করা হয় যেমন “ফিরক্বাতুন নাজিয়া” বা “নাজাত প্রাপ্ত দল” এবং “তায়িফা মানসুরা” বা “বিজয়ী দল”। স্কলাররা মনে করেন, পৃথিবীর যে কোন প্রান্তে থাকা যে কোন মানুষই এই দলের অন্তর্ভূক্ত হতে পারে – যদি সে to the best of his knowledge কেবল রাসূলকে (সা.) তার নেতা বা অনুসরণীয় মনে করে। বিক্ষিপ্তভাবে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকলেও এরা হবে পানির বিন্দুর মত – অনেক গুলো ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা পানির বিন্দুকে, একখানে নিয়ে আসলে তারা মিলেমিশে একটা বড় পানির বিন্দুতে পরিণত হয়, আলাদা আলাদা বিন্দু আর থাকে না! আমরা নিশ্চয়ই সবাই অবশ্যই সেই দলের অন্তর্ভূক্ত হতে চাইবো? আর সে জন্যই আমরা প্রতিনিয়ত নিজেদের আমলকে পরখ করে দেখবো যে, আমরা মনগড়া [অন্য মানুষের উদ্ভাবিত] কোন ইবাদত করছি কিনা – দ্বীনের [মূলত ইবাদতের] সব কিছুকে সব সময় রাসূল(সা.)-এঁর জীবনের উদাহরণের সাথে মিলিয়ে দেখবো – তিনিই হচ্ছেন আমাদের একমাত্র আদর্শ বা paradigm।
২)”বাইয়াত” শব্দটা এসেছে “বাই” বা বেচাকেনা থেকে। আপনি আমার পুরানো মটর সাইকেলটা আমার কাছ থেকে কিনতে চান। কথাবার্তা হলো, দামদর ঠিক হলো, বিক্রেতা ও ক্রেতা যখন একমত হলাম, তখন আমরা হাত মিলালাম – এটাও বাইয়াত, তবে এটা minor bayat । আর পৃথিবীতে যদি ইসলামী খিলাফত থাকতো বা রাসূলের (সা.) বলা “আল-জামা’আহ” থাকতো, তবে সেই জামাতের বা খিলাফতের আমীরের কাছে বাইয়াত [বা আনুগত্য] হতো major bayat, যা প্রতিটি মুসলিমের জন্য অবশ্যকরণীয় হতো । “বাইয়াত বিহীন মৃত্যু হচ্ছে জাহিলিয়াতের মৃত্যু” বলতে এই বাইয়াত বোঝানো হয় – যে কোন কারো কাছের বাইয়াত নয়।

ফি আমানিল্লাহ!

Processing your request, Please wait....
  • Print this article!
  • Digg
  • Sphinn
  • del.icio.us
  • Facebook
  • Mixx
  • Google Bookmarks
  • LinkaGoGo
  • MSN Reporter
  • Twitter
৩৪৫ বার পঠিত
1 Star2 Stars3 Stars4 Stars5 Stars ( ভোট, গড়:০.০০)

১৫ টি মন্তব্য

  1. @মুসলিম৫৫ , আপনাকে ধন্যবাদ, লেখাটা ভালো হয়েছে এবং এবিষয়ে অনেকে প্রশ্ন করে । এখানে আমি কিছু পয়েন্ট শেয়ার করছি । এই পয়েন্টগুলো মনে করতে হবে আপনার পোস্টের সহায়ক বা Additional , Alternate বা Contradictory নয় ।

    ১) এটা আসলে আকীদা সাথে সম্পর্ক , আমলের সাথে না , তাই পৃথিবীর যে প্রান্তেই থাকুক না কেনো এবং যে দলের সাথেই থাকুক না কেনো সে যদি রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লাম ) এবং সাহাবীদের (রা:) এর আকীদা অনুযায়ী মেনে চলবে তারাই নাজাত পাবে । [ যেটা আপনি লেখায় উল্লেখ করেছেন , আমি আবার রিপিট করলাম ]

    ২) শুধুমাত্র আহলে সুন্নত ওয়াল জামাআত বা সুন্নি দাবী করলেই হবে না , বিশ্বাসের সাথে মিলতে হবে । কেউ যদি দাবী নাও করে কিন্তু বিশ্বাসে পুরাপুরি সুন্নি হয় তাহলে সে “আহলে সুন্নত ওয়াল জামাআত” এর অন্তর্ভুক্ত হবে ।

    ৩) আর একটা জিনিস এটা কিন্তু বলা হয়েছে “মুসলমান”দের মধ্যে ৭৩ দল হবে । তার মানে কেউ মুসলমান দাবী করার পরও যদি তার এমন কোনো কুফরী আকিদা থাকে যেটার কারনে সে মুসলমান থেকে খারীজ হয়ে যায়, তাহলে সে কিন্তু এই হাদিসের গন্ডীর মধ্যে পরবে না । সে ৭৩ দলেরও বাহিরে ।

    ৪) আর কেউ যদি আহলে সুন্নত ওয়াল জামাআতের বাহিরে আকিদা পোষন করে , তাহলে তার আকীদার মধ্যে যদি কুফরী , শেরেকী না থাকে তাহলে সে পাপ ভোগ করার পর একদিন না একদিন জান্নাতে যাবে । হাদিস শরীফে যেটা বলা হয়েছে বাকী ৭২ দল জাহান্নামী , তারা চির জাহান্নামী নয় ।

    [সূত্র ১) মাকতুবাত শরীফ মোজাদ্দেদে আল ফেসানী (রহ:) ও ২) ইখলাস পাবলিকেশনস এর প্রকাশানা তুরস্ক থেকে ]

  2. সুন্দর পোস্ট (Y) (F) আশা করি আল্লাহ আমাদের এই ব্লগের উসীলায় আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াত তথা নবী সল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লামের এবং তার সহযোগী সাহাবা কেরামদের আদর্শ জানার ও মানার তৌফিক দান করবেন। এই ব্লগটি যাতে তাদের কার্যক্রম প্রসারে সহোযগী একটি জরিয়া হয় সেই কামনায় সকলেই দোয়া করবেন। এবং বাতিল ফিরাকাগুলোর ভ্রান্ত আক্বীদা থেকে বাংলাদেশের শিক্ষিত সমাজ যাতে দুরে থাকে, তাদের ত্রুটিগুলো সম্পর্কে জ্ঞাত হতে পারে সেই দোয়া সবার কাছে কাম্য।
    আরেকটা কথা

    আর পৃথিবীতে যদি ইসলামী খিলাফত থাকতো বা রাসূলের (সা.) বলা “আল-জামা’আহ” থাকতো, তবে সেই জামাতের বা খিলাফতের আমীরের কাছে বাইয়াত [বা আনুগত্য] হতো major bayat, যা প্রতিটি মুসলিমের জন্য অবশ্যকরণীয় হতো ।

    বস্তুত আল্লাহর ওয়াদা রয়েছে এবং রসূল সল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লামের ভবিষ্যত্দ বানীও রয়েছে যে, কেয়ামত পর্যন্ত আল্লাহ এমন একটি দল এবং এমন কিছু মানুষকে বাকী রাখবেন যারা কখনো তাদের নিজ গন্ডীতে এবং -ঈসা আ: ও মাহদী যূগে পুরোবিশ্বময়- খেলাফত ব্যাবস্থা পুনপ্রতিষ্ঠা করবেন।
    হতে পারে আমাদের দেশে তাদের সংখ্যা নগন্য- এমনকি সমগ্র বিশ্বেই তাদের সংখ্যা নগন্য এবং নির্দিষ্ট করে বলা যাচ্ছে না যে এরাই কেবল ঐদল তখন আমাদের অবশ্যই ভেবে দেখতে হবে কোন দলের বিশ্বাস-কর্মপন্থা সাহাবা কেরামের আদর্শের সাথে বেশী উপযোগী? কাদের বিশ্বাম لا يصلح آخر هذه الأمة إلا ما صلح بها أولها এই জাতির সংশোধন কেবল তার প্রথমযূগের মানুষের সংশোধনের পন্থায়ই সম্ভব। যদি কোন দল- ব্যক্তি কিংবা সমাজ এই দর্শন ও কর্মপন্থা নিয়ে এগিয়ে আসে এবং বিশুদ্ধ কোরান-হাদীস ও ইতিহাসের মাধ্যমে সাহাবাদের দর্শন ও কর্মপন্থার সাথে তাদের কর্মপন্থার মিল খুজে পাওয়া যায় তবে অবশ্যই তাদেরকে সাধ্যনুযায়ী সহোযগীতা করা ঈমানী দায়ত্ব।

    the muslim

    ভাই, বাংলা মৌলভী। প্রসঙ্গটা এই পোষ্টের সাথে অসামন্জস্য পূর্ণ তার পরও আপনাকে বলছি, আরবী টাইপিং শেখার ক্ষেত্রে আপনি কি হেল্প করতে পারবেন। যেমনঃ সফটঅয়্যার, ফন্ট, লে-আউট… … …ইত্যাদি।

    বাংলা মৌলভী

    ইনশা আল্লাহ। তবে আপনি যদি আরবী বলতে কিংবা বুঝতে পারেন তাতে সুবিধা হয়।

    the muslim

    আলহামদুলিল্লাহ, আমি মাদ্রাসার ছাত্র ছিলাম। যদিও ২০০৩ সালের পর থেকে ইংরেজী লাইন এ চলে এসেছিলাম কিন্তু মাঝে মাঝে আরবী প্র্যাকটিস করতাম। তাই এখনও আরবী পড়া, লিখা বা মোটামুটি বুঝতে পারি। শুধু বলতে পারি না। তবে টাইপ শেখার জন্য যতটুকু জ্ঞান দরকার ততটুকু আছে আশা করি।

  3. সালাম।
    প্রথমতঃ আমি আপনাকে জানাতে চাই আমি কোন ইসলামি স্কলার নই। আমি সাধারণ দুনিয়া প্রেমী মানুষ। তবে ইসলাম সম্পর্কে জানার ইচ্ছা প্রবল। তাই নেট বই পত্র পড়ে যে গুলো ভালো মনে হয় সে গুলো অন্যকে শরীক করি। তবে কেউ কিছু ইসলাম সম্পর্কে বলে যাবেন আর আমার বিবেক বুদ্ধি যতক্ষণ সহমত পোষণ না করবে ততক্ষণ আমি প্রশ্ন করে যাব কিংবা ঐ পোষ্ট যে ভাবে আমার চোখে ধরা পড়বে আমি সে ভাবে উপস্থাপন করব। আমি জানি আপনাদের সময় বড় মূল্যবান। তাই অযথা সময় নষ্ট করতে আপনি রাজি নন। তারপরও এই নাদান বিরক্ত করতে থাকবে যতক্ষণ না আপনার বুঝের সাথে আমার বুঝ যায়।

    ক্বাদীয়ানী, দ্রুয, আলাভী, ইসমাইলী শিয়া, সেভেনার শিয়া, মূলধারা টুয়েলভার শিয়া, যায়েদী শিয়া, ১৯ নম্বরের তত্ত্ব অনুসারী submittersগণ, খারেজী (যেমন ওমানের রাষ্ট্রক্ষমতায় থাকা ইবাদাইটস ফিরক্বা), সূফীদের হাজারো ফিরক্বা সহ আমাদের এই দেশের আটরশী, দেওয়ানবাগী, আযানগাছী, কুর’আনিউন ।

    তবে আপনাকে আমি এই নিশ্চয়তা দিতে পারি যে আপনার উল্লেখিত কোন দলের অন্তর ভুক্ত নই এবং আল্লাহর কাছে ফানা চাই এই ফিতনা থেকে যেন আমাকে মুক্ত রাখেন।

    “রাসূল(সা.) ও তাঁর সাহাবীরা (রা.) যে পথের উপর ছিলেন, সেই পথের উপর যারা থাকবে তারা”

    আপনার উপরোক্ত মন্তব্য যত সহজ সরল সমীকরণ বলে গেলেন তা কিন্তু প্রতিটি দলই তাদের পথকে উক্ত পথ বলে দাবি করে থাকেন। ঐ বাক্যদ্বারা কংক্রিট কিছু বুঝা যায় না। যদি যেত তাহলে মুসলামনদের মধ্যে এত ফেরকা সৃষ্টি হতোনা। কারণ কোন কলেমায় বিশ্বাসী নিশ্চয় স্বজ্ঞানে বিভ্রান্তিতে পড়ে নিজের পরকাল ক্ষতিগ্রস্থ হোক তা চাইতে পারেনা।

    আমার অবজেকশন ঐ বাক্যের উপর নয়। আমার অবজেকশন ঐ বাক্যকে যারা ভিন্ন ভাবে ব্যাখ্যা করেছেন বা এখনও করে যাচ্ছেন তাদের ব্যাখ্যার উপরে।

    আপনি কি আপনার দৃষ্টিতে ঐ বাক্যের ডেফিনেশনটা দিবেন? কারণ ডেফিনেশন ছাড়া আপনার ঐ বাক্যের অন্তরালের কথা আমি বুঝতে অক্ষম।
    আর এক বিষয় জানতে চাই আপনার বাইয়াত শব্দ নিয়ে এখানেও আমার খটকা আছে। কারণ বে ইয়া আঈন তা মিলে যে শব্দ টি গঠণ হয়েছে তা বাইয়াত বলে জানি যা আনুগত্যতা প্রকাশ করে। আর বে ইয়া আঈন মিলে যে শব্দটি গঠণ হয়েছে তা বেয়ুন বা বেহ্ যাকে আমি বিক্রয় বলে জানি তাই এই বিষয়ে আর একটু আলোকপাত করবেন কি?

    আল্লাহ আপনাকে ইহকাল ও পরকালের কল্যাণ দান করুন।

    বাংলা মৌলভী

    بايعنا رسول الله শব্দটি অনেকবার এসেছে। يبايعونك কোরানেও বর্নিত । মুমিনভাইকে বলছি।

    হাফিজ

    “রাসূল(সা.) ও তাঁর সাহাবীরা (রা.) যে পথের উপর ছিলেন, সেই পথের উপর যারা থাকবে তারা”

    আপনার উপরোক্ত মন্তব্য যত সহজ সরল সমীকরণ বলে গেলেন তা কিন্তু প্রতিটি দলই তাদের পথকে উক্ত পথ বলে দাবি করে থাকেন। ঐ বাক্যদ্বারা কংক্রিট কিছু বুঝা যায় না। যদি যেত তাহলে মুসলামনদের মধ্যে এত ফেরকা সৃষ্টি হতোনা। কারণ কোন কলেমায় বিশ্বাসী নিশ্চয় স্বজ্ঞানে বিভ্রান্তিতে পড়ে নিজের পরকাল ক্ষতিগ্রস্থ হোক তা চাইতে পারেনা।

    মর্দে মুমিন, যদিও আপনি মুসলিম৫৫ কে জিজ্ঞেস করেছেন উনি ওনার মতো ব্যাখ্যা দিবেন, আমি যেটা বুঝি সেটা বলছি । আপনি যদি শুধু ওনার মত জানতে চান তাহলে এই পরবর্তি লেখা ইগনোর করতে পারেন ।

    আমরা বলছি “আহলে সুন্নত ওয়াল জামাআত” বা “সুন্নি” যারা তারাই হকপন্হি । এখন কেউ বলতে পারে সবাই তো নিজেকে হকপন্হি বলে আমরা কোনটা ফলো করবো । আমার কথা হলো সবাই তো তাদের মতো বলবেই আমরা হকপন্হি , সেটা কাদিয়ানী , বাহাই যেই হোক না কেনো । তেমন আমরাও বলব “আহলে সুন্নত ওয়াল জামাআত” বা “সুন্নি” হলো একমাত্র নাজাতপ্রাপ্ত দল বা সঠিক পথপ্রাপ্ত দল।

    এখন বলতে পারেন কারা “আহলে সুন্নত ওয়াল জামাআত” বা “সুন্নি” ? বা ঠিক কতটুকু বিশ্বাস সহীহ হলে আমরা একজনকে “আহলে সুন্নত ওয়াল জামাআত” বা “সুন্নি” এর অন্তর্ভুক্ত বলতে পারি । গুড কোয়েশন । যখন বিভিন্ন বিশ্বাস বা আকীদাহ কে সংরক্ষন বা সংকলন করার প্রয়োজন দেখা দিল তখন হাদীস বা মাজহাবের মতোই “আকিদাহ” সংকলন করা হয়েছে । এবং সেটা আমরা পাই বিভিন্ন গ্রন্হে তার মধ্যে একটা হলো ইমাম তাহাভী (রহ.) রচিত “আল আক্বীদাহ্ আল তাহাভীয়া” যেটা এই ব্লগে পোস্ট হিসেবে দেয়া হয়ে গেছে । ইমাম গাজ্জালী (রহ:) রচিত “আল মুনকিজু মিনাদ দালাল” কিতাবেও “আহলে সুন্নত ওয়াল জামাআত” এর আকিদার সারাংশ দেয়া হয়েছে । আমরা সেই কিতাবগুলোর ( আরো অনেক কিতাবেও আছে ) সাথে মিলিয়ে বুঝতে পারি কারা “আহলে সুন্নত ওয়াল জামাআত” বা সুন্নি অন্তর্ভুক্ত ।

    আর একটা জিনিস বিভিন্ন ছোট খাটো বিষয়ে মতভেদ হলেই সে যে “আহলে সুন্নত ওয়াল জামাআত” থেকে বের হয়ে যাবে সেটা ঠিক না । মেজর কিছু আকিদার সাথে মতপার্থক্যের কারনে একজন “আহলে সুন্নত ওয়াল জামাআত” থেকে বের হয়ে যায় ।

    এইজন্য বলা যায় বিভিন্নজন বিভিন্ন ইসলামি সংগঠন, গবেষনা কর্ম, তাবলীগ জামাত , বিদেশী বিভিন্ন সংগঠন ইত্যাদির সাথে জড়িত থাকলেও সে যদি “আহলে সুন্নত ওয়াল জামাআত” এই সকল বেসিক আকিদার সাথে সমমত পোষন করে তাহলে সেও “আহলে সুন্নত ওয়াল জামাআত” এর অন্তর্ভুক্ত হবে ।

    shane2k

    @হাফিজ,

    I agree with you but would also like to add my opinion. I am afraid to say I am part of a certain group.

    As a concious muslim one is supposed to follow Quran, Sunnah, Ijmah and Kias [relevant scholars]. As long a muslim is abiding by it I think that person is sound.

    Question comes is the Ijmah and Kias process valid or not ? This is will be always argueable since only through means of time, maturity and knowledge we understand more and better. So things that are being resolved via Ijmah and Kias, if there is arguement that should not be a major concern. For people that violate Quran and Sunnah, things that are clear and precise in Quran and Sunnah, those are concern.

    হাফিজ

    @shane2k,
    প্রথম কথা হলো , বাংলায় অল্প অল্প করে পোস্ট দ্যান :)

    I agree with you but would also like to add my opinion. I am afraid to say I am part of a certain group.

    আমিও তো কোনো গ্রুপের না , কি আবার প্যাচ দিলেন ?

    Question comes is the Ijmah and Kias process valid or not ? This is will be always argueable since only through means of time, maturity and knowledge we understand more and better. So things that are being resolved via Ijmah and Kias, if there is arguement that should not be a major concern.

    ইজমা , কিয়াসে মতভেদ থাকতেই পারে । এখন কথা হলো আমাদের কি করতে হবে ? তার আগে দেখি সাহাবীরা এই পরিস্হিতিতে কি করেছেন ? সাহাবীদের মধ্যে দুই ধরনের সমাধান আমরা দেখতে পাই । ১) কেউ কেউ ছিলেন মুজতাহিদ , যারা কোরান হাদিস নিয়ে গবেষনা করতেন এবং মাসআলা বের করতেন , ২) আবার কেউ কেউ ছিলেন আলেম [ প্রচুর পড়াশুনা করতেন কিন্তু ফতোয়া দিতেন না ] , ৩) আর কেউ কেউ ছিলেন বেদুইন আর মহিলা সাহাবীরা যারা শুধু অনুসরন করতেন । ২য় এবং ৩য় শ্রেনীতে যারা পরেন ওনারা মুজতাহিদ সাহাবাদের অনুসরন করতেন ( এগুলো রসুলের (সা:) বিদায় নেবার পরের অবস্হা ) । নীচের একটি ঘটনা দেখুন :

    ঘটনা ১: মদীনাবাসী হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা:) কে একটি মাসআলা জিজ্ঞেস করলেন । উনি উত্তর দিলে মদীনাবাসীগন বললেন আমরা আপনার মাসআলা নয় , হযরত যায়েদ ইবনে সাবিতের মাসআলা অনুসরন করব, তাকে প্রত্যাখ্যান করব না ” ।

    ঘটনা ২: হযরত ওমর (রা:) যখন হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা:) কে কুফায় প্রেরন করেন তখন কুফাবাসীকে চিঠিতে লেখেন :
    “আমি তোমাদেরকে আম্মার ইবনে ইয়াসীর (রা:) কে শাসকরূপে এবং হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা:) কে শিক্ষক রূপে প্রেরন করলাম । তারা উভয়েই রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লাম ) এর সম্মানিত বদরী সাহাবী । তোমরা তাদের অনুসরন করবে এবং তাদের কথা শুনবে ও মেনে চলবে ।

    এখানে আমি গবেষনার বিপক্ষে না । গবেষনা বা ইজতিহাদ চলবে কিয়ামত পর্যন্ত । কিন্তু যাদের গবেষনা করার যোগ্যতা নেই তারা অনুসরন করবে প্রকৃত আলেমদের বা বলতে পারেন ইসলামিক স্কলারদের ।

  4. বাইয়াত সম্বন্ধে যারা আরো বিস্তারিত জানতে চান:

    To whom should ba’yah (allegiance) be given?
    Can you please clarify whether it is compulsory for every Muslim to take BAIT on some one’s Hand as people did with The Prophet PBU and Khula Rashedeen.

    Praise be to Allaah.

    Bay’ah can only be given to the leader of the Muslims, and bay’ah is given by the decision makers – i.e., the scholars and people of virtue and status. Once they give their allegiance to him, his position of leadership is confirmed, and the common folk do not have to give allegiance to him themselves, rather they have to obey him so long as that does not entail disobedience towards Allaah.

    Al-Maaziri said: With regard to bay’ah being given to the leader of the Muslims, it is sufficient for the decision makers to give him their bay’ah. It is not essential for each individual Muslim to come to him and put his hand in his, rather it is sufficient to commit oneself to obeying him and submitting to him by not going against him or rebel against him.

    Quoted from Fath al-Baari.

    Al-Nawawi (may Allaah have mercy on him) said in Sharh Saheeh Muslim:

    With regard to bay’ah (oath of allegiance): the scholars are agreed that in order for it to be valid it is not essential for all the people or all the decision makers to give their bay’ah. Rather, if bay’ah is given by those scholars and people of virtue and status who are present, that is sufficient. It is not obligatory for each person to come to the leader and put his hand in his and give his oath of allegiance to him. Rather what is required of each individual is to submit to him and not go against him or rebel against him.

    What is narrated in the ahaadeeth narrated in the books of Sunnah about bay’ah refers to giving allegiance to the Muslim leader, such as when the Prophet (peace and blessings of Allaah be upon him) said: “Whoever dies and did not make an oath of allegiance (to the Muslim leader) has died a death of jaahiliyyah.” (Narrated by Muslim, 1851).

    And he (peace and blessings of Allaah be upon him) said: “Whoever gives his oath of allegiance to a leader and gives him his hand and his heart, let him obey him as much as he can. If another one comes and disputes with him (for leadership), kill the second one.” (Narrated by Muslim, 1844)

    And he (peace and blessings of Allaah be upon him) said: “If allegiance is given to two khaleefahs, then kill the second of them.” (Narrated by Muslim, 1853).

    All of that undoubtedly has to do with giving allegiance to the Muslim leader.

    Shaykh Saalih al-Fawzaan (may Allaah preserve him) said, answering a question about giving allegiance to the various groups: Bay’ah only has to do with the leader of the Muslims; these various bay’ahs are innovated and they are among the causes of division. The Muslims who are living in one country or one kingdom should have one allegiance to one leader; it is not permissible to have several kinds of bay’ah. al-Muntaqa min Fataawa al-Shaykh Saalih al-Fawzaan, 1/367

    With regard to how the allegiance should be given to the leader, in the case of men it is done in word and in deed, namely with a handshake. In the case of women, it is done by word only. This is proven in the ahaadeeth which speak of how allegiance was given to the Messenger of Allaah (peace and blessings of Allaah be upon him).

    For example, ‘Aa’ishah (may Allaah be pleased with her) said: “No, by Allaah, the hand of the Messenger of Allaah (peace and blessings of Allaah be upon him) never touched the hand of any (non-mahram) woman. Rather he would accept their allegiance (bay’ah) in words only.”

    (Narrated by al-Bukhaari, 5288; Muslim, 1866)

    Al-Nawawi (may Allaah have mercy on him) said in his Sharh (commentary): “This indicates that for women, allegiance is given in words only, without taking the hand of the leader, and for men it is done in words and by taking his hand.

    And Allaah knows best.
    Islam Q&A

  5. বাইয়াত নিয়ে এখনও কনফিউশন রয়েছে তাই কয়েকটি পয়েন্ট উল্লেখ করলাম।

    ১) আমার আশরাফ আলী থানভী (রঃ) এর কয়েকটি বই পড়া ছিলো। সেখানে এই “বাইয়াত” শব্দটি অনেকবার ব্যবহার করা হয়েছিল। প্রক্ষাপট ছিলো এমন “সে আমার নিকট বাইয়াত হওয়ার জন্য অনুমতি চেয়ে চিঠি দিয়েছিলো”, “আমি হাজী এমদাদুল্লাহ মক্কী (রঃ) এর হাতে বাইয়াত হয়েছিলাম”- এ ধরণের অনেক বাক্যে “বাইয়াত” শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছিলো। আশরাফ আলী থানভী (রঃ) এর মতো বুযুর্গ “বাইয়াত” শব্দটিকে ভুল স্হানে ব্যবহার করার কথা নয়।

    ২) “মাসিক মদীনা” পত্রিকায় ও শব্দটি এই ধরণের প্রেক্ষাপটে ব্যবহার করা হয়েছিলো।,

    ৩) মাওলানা তফাজ্জল হোসাইন এর তাফসীরুল কোরান মাহফীলে এই শব্দটি একই প্রেক্ষাপটে মানে- “পীরের মুরিদ হওয়ার ক্ষেত্রে” ব্যবহার করা হয়েছিলো।

    উপরোক্ত পয়েন্ট গুলোর দিকে লক্ষ রেখে কেউ “বাইয়াত” এর ব্যাখ্যা বিস্তারিত বললে ভালো হয়।

    হাফিজ

    রসুলুললাহ ( সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লাম ) এর সময় সাহাবীরা হাতে রেখে বাইয়াত হতেন এবং এখন হক শায়খের হাতেও অনেকে হাত রেখে বাইয়াত হন ।

    muslim55

    উপরে একটা প্রশ্ন-উত্তর পোস্ট করেছি, পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ইসলামী প্রোশ্নোত্তরের ডাটাবেস Islam Q&A থেকে। আরেকটু লাগিয়ে দিচ্ছি নীচে আপনাদের অবগতির জন্য একই সূত্র থেকে:

    Bay’ah or allegiance, as defined by Ibn Khuldoon in his Muqaddimah, means: a pledge to obey; it is as if the one who swears allegiance is promising his ruler that he will accept his authority with regard to his own affairs and the affairs of the Muslims, and he will not dispute with him with regard to any of that, and he will obey him in any duties that he assigns to him, whether at times of ease or at times of hardship. When they swore allegiance to a ruler and made this pledge, they would put their hands in his as confirmation of the pledge. That is akin to what the seller and purchaser do, so bay’ah or allegiance was accompanied by a handshake. End quote.

    এই উত্তরের বাকীটুকু দেখতে চাইলে নীচের লিংকে দেখুন:

    http://www.islam-qa.com/en/ref/82681/allegiance

  6. فقول الله سبحانه وتعالى:إِنَّ الَّذِينَ يُبَايِعُونَكَ إِنَّمَا يُبَايِعُونَ اللَّهَ يَدُ اللَّهِ فَوْقَ أَيْدِيهِمْ [الفتح:10].নিশ্চয় যারা তোমার হাতে ‘বাইয়াত’ গ্রহন করে -শপথ- করে বস্তুত তারা আল্লাহর সাথে বইয়াত করলো, এবং তাদের হাতের উপর আল্লাহর হাত। সূরা ফাতহ ১০।
    ইবনুল কাসীর আয়াতের ব্যাখায় অনেক হাদীস এনেছেন যাতে এ আয়াতের শানে নুযুল পরিস্কার হয় যে, সাহাবা কেরাম কয়েকবারই নবী সল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম এর হাতে হাত রেখে বিভিন্ন বিষয়ের শপথ গ্রহন করেছিলেন যেমন ঈমানের পর কখনো তারা কুফুরী করবেন না ইত্যাদি ইত্যাদি। অনুরুপ মহিলারা পর্দার আড়ালে বসে রসূল স: এর সাথে বাইয়াত করেছেন। বিস্তারিত জানতে ইবনে কাসীরের উক্ত আয়াতের ব্যাখা দেখুন।