লগইন রেজিস্ট্রেশন

ইসলামের স্বাতন্ত্র্য

লিখেছেন: ' মুসলিম৫৫' @ মঙ্গলবার, নভেম্বর ২৪, ২০০৯ (১০:৪৬ পূর্বাহ্ণ)

بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ

আস সালামু আলাইকুম!

আমরা অনেক সময় আমাদের দ্বীন নিয়ে গর্ব করি – নিজেদেরকে পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ আদর্শভিত্তিক জাতি বলে পরিচয় দিতে পছন্দ করি । একই কথা ভৌগলিক সীমারেখা ভিত্তিক ন্যাশন-স্টেটের বেলায়ও প্রযোজ্য। আমরা স্বভাবতই আমাদের দেশকে ভালোবাসি এবং একধরনের গর্ব বোধও করি। ভালোবাসতে যদিও কোন বিশেষ কারণের বা যুক্তির ধার ধারতে হয় না, কিন্তু গর্ব বোধ করতে হলে কিছু কারণ থাকতে হয় বইকি!

আমি যখন কাউকে গর্ব মিশ্রিত স্বরে বলবো: “ইসলাম পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ ও পরিপূর্ণ দ্বীন (বা ধর্ম)” – তখন কেউ আমাকে জিজ্ঞেস করতেই পারে যে, কেন বা কিভাবে? প্রিয় ভাই-বোনেরা, আপনারা ভেবে দেখেছেন যে, হঠাৎ কেউ যদি আপনাকেই প্রশ্নটা জিজ্ঞেস করে বসে, তবে আপনি কি জবাব দেবেন? বিস্তারিত আলোচনার সুযোগ থাকলে আপনি হয়তো অনেক কিছু বলে বোঝানোর চেষ্টা করতে পারেন। কিন্তু তার অবকাশ না থাকলে তৎক্ষণাৎ কি বলবেন? আমরা খুব সহজ তিনটি দিক বলতে পারি:

১)আর সকল ধর্মেই কোন না কোন রূপে সৃষ্ট বস্তুর পূজা, অর্চনা, আরাধনা বা ইবাদত করা হয়। কিন্তু ইসলাম কেবলই এক আল্লাহ্ তথা সৃষ্টিকর্তার ইবাদত করতে নির্দেশ দেয়। এখানে কোন ছাড় পাবার উপায় নেই – আল্লাহ্ কুর’আনে বলেছেন যে, তিনি “শিরক” মাফ করবেন না, তবে এর চেয়ে ছোট [তাঁর কাছে করা] যে কোন পাপ/অপরাধ তিনি ক্ষমা করে দিতে পারেন [অবশ্য বান্দার হক্ব নষ্ট করা যে কোন পাপের account , ঐ মজলুম বান্দার সাথেই settle করতে হবে]। ইবাদতের কোন কাজে কাউকে অংশীদার ভাবার/করার কোন অবকাশ ইসলামে নেই।

২)আর সকল ধর্মাবলম্বীরা তাদের মর্জিমত আইন বা অনুশাসন পরিবর্তন করে থাকে – সামাজিক, মানসিক বা পারিপর্শ্বিক পরিবর্তনের সাথে তাল মিলিয়ে। যেমন ধরুন, এখন থেকে ২০০ বছর আগেও খৃষ্টানরা সুদকে, আমরা যেমন হারাম মনে করি, তেমনি হারাম মনে করতো – কিন্তু এখন আর করে না। অথবা মাত্র ৫০ বছর আগেও পশ্চিমা খৃষ্টান জগতে সমকামিতা লজ্জার বিষয় ছিল, অথচ আজ তা গর্বের বিষয়। কিন্তু ইসলামে, ধর্মের আইন বা অনুশাসন অপরিবর্তিত থাকে – ১৪০০ বৎসর আগে যা নিষিদ্ধ ছিল, শেষ মুসলিমটি বেঁচে থাকা পর্যন্ত তা নিষিদ্ধই থাকবে – নও মুসলিম বা সাময়িক বিচ্যুত ও বিপথগামী মুসলিমকে সেই অলঙ্ঘনীয় আইনে ও অনুশাসনে ফিরে আসতে হয়। আমার বাবা জানতেন না যে, ইসলামে সুদ হারাম, তাই তিনি সুদভিত্তিক ব্যাঙ্ক ঋণ নিতেন – কিন্তু আমি জেনেছি যে সুদ হারাম, তাই আমি আমার পরিবারসহ আবার শুদ্ধ মূল ধারায় ফিরে এসেছি। এজন্যই খৃষ্টানের ছেলে জন্মগতভাবেই খৃষ্টান হয়ে থাকে, ইংলিশম্যানের ছেলে জন্মগতভাবেই ইংলিশ হয়ে থাকে – কিন্তু মুসলিমের ছেলে অটোম্যাটিক মুসলিম হয়ে যায় না। তাকে সজ্ঞানে ইসলাম গ্রহণ করে মুসলিম হতে হয়। তা না হলে, তার একটা মুসলিম নাম থাকে বটে, কিন্তু আল্লাহর কাছে তার মুসলিম স্ট্যাটাস থাকে না।

৩) অন্য সকল ধর্মের অনুসারীদের উৎসবগুলো হচ্ছে বাঁধনহারা আনন্দ, অবারিত ইন্দ্রিয়সুখে নিমজ্জিত হবার আয়োজন – শরীরী ভোগ-সুখে গা ভাসিয়ে দেবার সুবর্ণ সুযোগ। যারা ইংল্যান্ড বা আমেরিকায় ক্রিসমাস বা নব-বর্ষ দেখেছেন , যারা মিয়ানমার বা থাইল্যান্ডে ওয়াটার ফেস্টিভ্যাল দেখেছেন, অথবা যারা ভারতে দীপাবলী বা হোলী দেখেছেন, তারা নিশ্চয়ই বুঝতে পারছেন আমি কি বলতে চাচ্ছি – মদ, জুয়া আর ব্যভিচারের বন্যা বয়ে যায়, আর তার সাথে সীমাহীন অপচয় তো রয়েছেই। আর ইসলামের উৎসব – যা বাৎসরিক মাত্র দু’টি [আর সাপ্তাহিক পর্যায়ে একটি, অর্থাৎ, জুম্মা] সেগুলো কেমন হবার কথা? প্রথমত সেগুলো হচ্ছে ভাব গম্ভীর ইবাদত বা উপাসনার দিন – বাঁধভাঙ্গা উচ্ছৃঙ্খলতার মৌসুম মোটেই নয়। আমরা এমনি দিনে ৫ ওয়াক্ত সালাত আদায় করি, কিন্তু ঈদের দিনে আমরা আরো একটা অতিরিক্ত সালাত আদায় করি আরো বড় সামাজিক জামাতে – যেখানে আমরা প্রার্থনা করি যে, আল্লাহ্ যেন আমাদের সংশ্লিষ্ট ইবাদতগুলি [যেমন, সিয়াম, তারাবী, ইতিক্বাফ, কুরবানী ইত্যাদি] কবুল করেন। আমরা দান খয়রাত করি, জাকাত-ফিতরা আদায় করি, কুরবানী করি – আল্লাহ্ আমাদের যে রিজিক দিয়েছেন, তা আত্মীয়স্বজনের সাথে শেয়ার করি। আমাদের মাঝে আরো প্রশান্তি ও শান্তির ছায়া নেমে আসার কথা। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে, প্রতিবেশী হিন্দুদের অনুকরণে বা পশ্চিমা প্রভুদের অনুকরণে আমরা সেই স্বাতন্ত্র্য ও সেসব ঐতিহ্য ক্রমেই হারিয়ে ফেলছি – এমনকি ঈদের সুন্নাহ্ শুভেচ্ছা বা সম্ভাষণটাও আমরা ভুলে গিয়েছি। আজ দেখা যায়, ডাস্টবিনে কুকুরের সাথে খাবার ভাগা-ভাগি করা মানুষের পাশ দিয়ে হেঁটে গিয়ে আমরা দেড় লক্ষ টাকার লেহেঙ্গা বা গারারা কেনার নির্লজ্জ প্রতেযোগিতায় মেতে উঠি, যাতে ঈদের দিন আমাদের বধূ-মাতা-কন্যারা পর-পুরুষের দেহ মনে পুলক সৃষ্টি করে নির্লজ্জ অহঙ্কারে রাস্তায় হেঁটে বেড়াতে পারে। পুরু লোহা-নির্মিত রুদ্ধ সিংহদ্বারের ভিতরে আবদ্ধ একান্ত নিজস্ব প্রকোষ্ঠে বসে ভুরিভোজন উত্তর ঢেকুর তুলতে তুলতে আমরা ভাবি, টেলিভিশনের কোন চ্যানেলের অশ্লীলতার কোন বিশেষ আয়োজনটা আজ, ঈদের দিনে, উপভোগ করবো! বাজারে কেনাকাটা আর অপচয়ের প্রতিযেগিতার ধুম আর ভোগ-সুখের আয়োজন দেখে, যে কারো পশ্চিমের ক্রিসমাস অথবা পুরাতন বাংলা উপন্যাসে দুর্গা-পূজার আয়োজনের কথা মনে পড়ে যাবে – সহজেই বোঝা যাবে যে, আমরা এসব উচ্ছলতা ও উচ্ছৃঙ্খলতা অন্যদের কাছ থেকে গ্রহণ করেছি। কে বলবে যে, দীর্ঘ একমাস সময় আমরা সংযম আর কৃচ্ছতার ট্রেনিং নিয়েছি – অথবা- আল্লাহর উদ্দেশ্যে sacrifice করতে আমরা যে প্রস্তুত, তারই symbolic মহড়া দিতে কুরবানী করতে যাচ্ছি!! আল্লাহ্, তুমি তোমার অন্ধ বান্দাদের দয়া করে অন্ধকার থেকে আলোতে বের করে নিয়ে আসো – ভোগ-সুখে গা ভাসিয়ে দেবার জন্য যে মুসলিমরা পৃথিবীতে আসেনি, একথাটা তাদের আবার মনে করিয়ে দাও!!

যাহোক, মূলত স্বাতন্ত্র্যের এই তৃতীয় পয়েন্টটা আলোচনা করতেই, ঈদের প্রাক্কালে আমার এই আয়োজন। আজকের সুন্নাহ্ শুভেচ্ছা হচ্ছে:

”তাকব্বালাল্লাহু মিননা ওয়া মিনকুম” – আল্লাহ্ যেন আমাদের ভালো কাজগুলো [ যাবতীয় ইবাদত, সাদাক্বা, কুরবানী ইত্যাদি] এবং তোমাদের ভালো কাজগুলো কবুল করেন।

বা

“TAKABBALALLAHU MINNA WA MINKUM.”
[may Allah accept all our good deeds and all your good deeds]

আমীন!!

Processing your request, Please wait....
  • Print this article!
  • Digg
  • Sphinn
  • del.icio.us
  • Facebook
  • Mixx
  • Google Bookmarks
  • LinkaGoGo
  • MSN Reporter
  • Twitter
১৫৭ বার পঠিত
1 Star2 Stars3 Stars4 Stars5 Stars ( ভোট, গড়:০.০০)

৮ টি মন্তব্য

  1. ভালো বলেছেন ভাই, আমি একজন প্রবাসি এটালিতে থাকি, মাঝে মধ্যেই আমার সাথে অমুসলিম ভাইদের এ নিয়ে কথা হয়,
    তাদেরকে অনেক ভাবে বোঝাতে চেষ্টা করি, যাই হোক, আপনার বিষয়টার সাথে আল-কুরান এর বেশ মিল খুঁজে পেলাম,
    যেমনঃ আল্লাহর সাথে শরিক করা, সুদ, অপচয়, মদ, জুয়া ইত্যাদি, তাই আল-কুরান থেকে সরাসরি কয়েকটা আয়াতের উদ্রিতি দিলাম,

    তোমরা তাদেরকে মন্দ বলো না, যাদের তারা আরাধনা করে আল্লাহকে ছেড়ে। তাহলে তারা ধৃষ্টতা করে অজ্ঞতাবশতঃ আল্লাহকে মন্দ বলবে। এমনিভাবে আমি প্রত্যেক সম্প্রদায়ের দৃষ্টিতে তাদের কাজ কর্ম সুশোভিত করে দিয়েছি। অতঃপর স্বীয় পালনকর্তার কাছে তাদেরকে প্রত্যাবর্তন করতে হবে। তখন তিনি তাদেরকে বলে দেবেন যা কিছু তারা করত।

    ৬) সূরা আল আন-আম, আয়াত নং ১০৮

    নিশ্চয় অপব্যয়কারীরা শয়তানের ভাই। শয়তান স্বীয় পালনকর্তার প্রতি অতিশয় অকৃতজ্ঞ।

    ১৭) সূরা বনী ইসরাঈল, আয়াত নং ২৭

    হে মুমিনগণ, এই যে মদ, জুয়া, প্রতিমা এবং ভাগ্য-নির্ধারক শরসমূহ এসব শয়তানের অপবিত্র কার্য বৈ তো নয়। অতএব, এগুলো থেকে বেঁচে থাক-যাতে তোমরা কল্যাণপ্রাপ্ত হও।

    শয়তান তো চায়, মদ ও জুয়ার মাধ্যমে তোমাদের পরস্পরের মাঝে শুত্রুতা ও বিদ্বেষ সঞ্চারিত করে দিতে এবং আল্লাহর স্মরণ ও নামায থেকে তোমাদেরকে বিরত রাখতে। অতএব, তোমরা এখন ও কি নিবৃত্ত হবে?

    আল-কুরআন, সূরা আল মায়েদাহ, সুরা নং ৫,আয়াত নং ৯০ ও ৯১,

    যারা সুদ খায়, তারা কিয়ামতে দন্ডায়মান হবে, যেভাবে দন্ডায়মান হয় ঐ ব্যক্তি, যাকে শয়তান আসর করে মোহাবিষ্ট করে দেয়। তাদের এ অবস্থার কারণ এই যে, তারা বলেছেঃ ক্রয়-বিক্রয় ও তো সুদ নেয়ারই মত! অথচ আল্লা’হ তা’আলা ক্রয়-বিক্রয় বৈধ করেছেন এবং সুদ হারাম করেছেন। অতঃপর যার কাছে তার পালনকর্তার পক্ষ থেকে উপদেশ এসেছে এবং সে বিরত হয়েছে, পূর্বে যা হয়ে গেছে, তা তার। তার ব্যাপার আল্লাহর উপর নির্ভরশীল। আর যারা পুনরায় সুদ নেয়, তারাই দোযখে যাবে। তারা সেখানে চিরকাল অবস্থান করবে।

    আল্লাহ তা’আলা সুদকে নিশ্চিহ্ন করেন এবং দান খয়রাতকে বর্ধিত করেন। আল্লাহ পছন্দ করেন না কোন অবিশ্বাসী পাপীকে।

    ২) সূরা আল বাক্বারাহ, আয়াত নং ২৭৫ থেকে ২৭৬

  2. আসলে একথা সত্যি যে আমরা মাঝে মাঝে আমাদের ধর্মীয় ঐতিহ্য ভুলে যাই।

    আমরা ভুলে যাই আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) একসময় এই ইসলাম ধর্মের জন্যই রক্তাক্ত হয়েছিলেন। তিনি সহ্য করেছিলেন প্রচন্ড নির্যাতন, জুলুম। তারপরও কখনও কাউকে কষ্ট দেননি তিনি। কখনও বদদোয়া দেননি। সর্বদা আল্লাহ তায়ালা এর দরবারে হাত তুলে দোয়া করতেন হেদায়াতের জন্য। আমরা অনেকেই জানি সাহাবাদের আত্ম ত্যাগের কাহিনী। মক্কার কাফের মুশরিকরা যখন তাদের কে ঈমান আনার কারনে জলন্ত কয়লায় শুইয়ে দিয়েছিলো, তখন তারা কেবল বার বার রসুল (সাঃ) এর দিকে তাকিয়ে দেখছিলেন। রাসুল (সাঃ) তাদের কে ধৈর্য ধারণ করতে বলতেন। এছাড়া আরও লক্ষ লক্ষ শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছে এই ইসলাম।

    আজ যখন আমাদের সামনে প্লেটে সাজিয়ে পেশ করা হয় পরিপূর্ণ ইসলাম ধর্মকে, যখন আমাদের বলা হয় নামাজ পড়ার জন্য, যখন আমাদের বলা হয় যাকাত দেয়ার জন্য, যখন আমাদেরকে ইসলাম এর রীতি নীতি সম্পর্কে বলা হয় তখন আমরা বিভিন্ন অজুহাতে মুখ ফিরিয়ে নেই। “৪০ বছর বয়স থেকে পড়া শুরু করবো”, “ইসলাম পুরোপুরি মানা সহজ নয়”,”ইসলাম মানলে মুসলিম জাতি কখনো উন্নতি করতে পারবে না”, “নামাজ পড়তে কষ্ট লাগে” এই ধরনের ডায়লগ শোনা যায়।

    আজ কিছু মুসলমানকে সেই ইয়াহুদি নাসারাদের সাথে হাত মিলাতে দেখা যায় মানবতার নামে, সেই ইয়াহুদি নাসারা যারা একসময় আমাদের প্রীয় নবীকে (সাঃ) রক্তাক্ত করেছিলো। এমনকি গালি দিতেও কুন্ঠাবোধ করে না আমাদের রাসুল (সাঃ) কে। আর আমরা নাম ধারী মুসলমানরা গনতন্ত্রের নামে তাদের কে অবকাশ দিয়ে যাচ্ছি। এমনকি প্রতিবাদ পর্যন্ত করছি না।

    আজ আবার নতুন করে মনে পড়ে গেল আমাদের ইতিহাস। আর মনে করিয়ে দেয়ার জন্য ধন্যবাদ। (Y)

    আল্লাহ পাকের কাছে দোয়া করি এই “পিস ইন ইসলাম” এর মাধ্যমে তিনি যেন বাঙ্গালীদের সামনে খুলে দেন তাদের ইতিহাস। আমরা যেন ফিরিয়ে আনতে পারি আমাদের হারানো ঐতিহ্য। নাস্তিকরা যেন আমাদের সামনে বুক ফুলিয়ে হাটতে না পারে। ধর্ম নিরপেক্ষতার কথা বলে মুসলমান নাম ধারী কাফির, মুশরিক, পৌত্তলিকরা যেন আমাদের ধর্মের কোন ক্ষতি করতে না পারে। যে মুর্তি অপসারনের জন্য যুগে যুগে নবী রাসুলরা দাওয়াত দিয়ে গেছেন সেই মুর্তি আজ আমাদের সোনার বাংলাদেশের রাস্তার মোড়ে মোড়ে দেখা যায়, আর যেন কোন মুর্তি মাথা তুলতে না পারে।

    আল্লাহ পাকের কাছে দোয়া করি আমারা যেন সত্যিকারের মুসলমান হতে পারি। সেই মুসলমানদের মতো, যারা একসময় অর্ধ পৃথিবী শাষন করেছে। আল্লাহ পাকের কাছে দোয়া করি আমারা যেন সত্যিকারের উম্মত হতে পারি যেমনটি আমাদের প্রীয় নবী হযরত মুহাম্মদ মোস্তফা (সাঃ) চেয়েছিলেন। আমাদের সামনে যেন কোন ফিতনা মাথা তুলে না দাঁড়াতে পারে।

    হে আল্লাহ আপনি আমাদের এই প্রচেষ্টাকে কবুল করে নিন। আমাদেরকে সকল ফিতনা দূর করে আমাদের পূর্বের গৌরব ফিরিয়ে আনার তৌফিক দিন।

    আমিন।

    muslim55

    @দ্য মুসলিম, আমীন!

    ”তাকব্বালাল্লাহু মিননা ওয়া মিনকুম” – আল্লাহ্ যেন আমাদের ভালো কাজগুলো [ যাবতীয় ইবাদত, সাদাক্বা, কুরবানী ইত্যাদি] এবং তোমাদের ভালো কাজগুলো কবুল করেন।

    আমীন!!

    হাফিজ

    @দ্য মুসলিম,

    আল্লাহ পাকের কাছে দোয়া করি এই “পিস ইন ইসলাম” এর মাধ্যমে তিনি যেন বাঙ্গালীদের সামনে খুলে দেন তাদের ইতিহাস। আমরা যেন ফিরিয়ে আনতে পারি আমাদের হারানো ঐতিহ্য। নাস্তিকরা যেন আমাদের সামনে বুক ফুলিয়ে হাটতে না পারে। ধর্ম নিরপেক্ষতার কথা বলে মুসলমান নাম ধারী কাফির, মুশরিক, পৌত্তলিকরা যেন আমাদের ধর্মের কোন ক্ষতি করতে না পারে।

    মনের কথা বলেছেন । আল্লাহ আমাদের এই প্রচেষ্টা গ্রহন করুক , আমিন ।

  3. আজ দেখা যায়, ডাস্টবিনে কুকুরের সাথে খাবার ভাগা-ভাগি করা মানুষের পাশ দিয়ে হেঁটে গিয়ে আমরা দেড় লক্ষ টাকার লেহেঙ্গা বা গারারা কেনার নির্লজ্জ প্রতেযোগিতায় মেতে উঠি, যাতে ঈদের দিন আমাদের বধূ-মাতা-কন্যারা পর-পুরুষের দেহ মনে পুলক সৃষ্টি করে নির্লজ্জ অহঙ্কারে রাস্তায় হেঁটে বেড়াতে পারে।
    (Y) (Y)

    আমার বাবা জানতেন না যে, ইসলামে সুদ হারাম, তাই তিনি সুদভিত্তিক ব্যাঙ্ক ঋণ নিতেন – কিন্তু আমি জেনেছি যে সুদ হারাম, তাই আমি আমার পরিবারসহ আবার শুদ্ধ মূল ধারায় ফিরে এসেছি।

    আল্লাহ আপনাকে এর বিনিময়ে উত্তম পারিতোষিক দান করুন ।


    পুরু লোহা-নির্মিত রুদ্ধ সিংহদ্বারের ভিতরে আবদ্ধ একান্ত নিজস্ব প্রকোষ্ঠে বসে ভুরিভোজন উত্তর ঢেকুর তুলতে তুলতে আমরা ভাবি, টেলিভিশনের কোন চ্যানেলের অশ্লীলতার কোন বিশেষ আয়োজনটা আজ, ঈদের দিনে, উপভোগ করবো!

    খাটি বাস্তব কথা বলেছেন । এই টিভিটা আমাদের সমাজকে শেষ করে দিল। রাস্তা কারো সাথে দেখা হলে ঠিকমত কথা বলার সময় নেই, কেননা এখন নতুন সিরিয়াল দেখার সময় হয়ে গেছে ।


    কে বলবে যে, দীর্ঘ একমাস সময় আমরা সংযম আর কৃচ্ছতার ট্রেনিং নিয়েছি – অথবা- আল্লাহর উদ্দেশ্যে sacrifice করতে আমরা যে প্রস্তুত, তারই symbolic মহড়া দিতে কুরবানী করতে যাচ্ছি!! আল্লাহ্, তুমি তোমার অন্ধ বান্দাদের দয়া করে অন্ধকার থেকে আলোতে বের করে নিয়ে আসো – ভোগ-সুখে গা ভাসিয়ে দেবার জন্য যে মুসলিমরা পৃথিবীতে আসেনি, একথাটা তাদের আবার মনে করিয়ে দাও!!

    (Y) (Y)

  4. @muslim55,

    আপনি সমাজ এবং পারিপার্শিক অবস্হা নিয়ে অনেক চিন্তা করেন , বোঝাই যায় ।

    muslim55

    @হাফিজ,চিন্তা আমরা অনেকেই করি, তবে সেই চিন্তা আল্লাহর সন্তুষ্টির সাথে aligned না হলে তা অথর্হীন। মাদার তেরেসা, কার্ল মার্ক্স, ড:ইউনুস বা তসলিমা নাসরীন – এরা সবাই নিজের মত করে, নিজ নিজ ধ্যান-ধারণার বশবর্তী হয়ে সমাজ এবং পারিপার্শিক অবস্থা নিয়ে অনেক চিন্তা-ভাবনা ও কাজ করেছেন। কিন্তু ইসলামের দৃষ্টিকোন থেকে সেসব চিন্তা meaningless বা মেধা ও জীবন-সম্পদের বাজে-খরচ। আল্লাহ্ আমাদের সবাইকে তার পছস্দনীয় চিন্তা-ভাবনা করার তৌফিক্ব দিন – আমীন!

    হাফিজ

    @muslim55, জি ঠিকই বলেছেন ।