লগইন রেজিস্ট্রেশন

মুসলিম জীবনে অগ্রাধিকার প্রসঙ্গে

লিখেছেন: ' মুসলিম৫৫' @ বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ২৯, ২০০৯ (১১:০১ পূর্বাহ্ণ)

بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ

প্রিয় ভাই-বোনেরা,

السلام عليكم ورحمة الله و بركاته

[কি অদ্ভূত ব্যাপার! ইসলাম ভিত্তিক ব্লগের সদস্যরাও একে অপরকে সালাম দেন না!! আমি তো জানতাম কেবল তসিলমা নাসরীন, জাফর ইকবাল গং-দেরই সালাম দিতে লজ্জা লাগে। সালাম একটি দোয়াও বটে। নিজের খালি ঘরে ঢুকতেও সালাম দেয়াটা সুন্নাহ্।]

অগ্রাধিকার প্রসঙ্গে যাবার আগে চলুন “জ্ঞান অর্জন ফরজ” পর্বটা সেরে নেয়া যাক। এই বহুল প্রচলিত কথাটা আসলে, কোন জ্ঞান বোঝায় সেটা জানাটা প্রতিটি মুসলিমের জন্য অত্যন্ত জরুরী।

নবী পয়গাম্বরেরা যুগে যুগে মানুষের মাঝে কি বাণী প্রচার করতে এসেছিলেন? তাঁদের বাণী মূলত তিনটি বিষয়কে কেন্দ্র করে আবর্তিত হতো: তৌহিদ, আখেরাত ও রিসালাত। বিশ্বাসীদের সকল কর্মকান্ড, অপরিমেয় ও সীমাহীন সময়ের পরকালের প্রাপ্তির আশা অথবা শাস্তির ভয় দ্বারা motivated । ইসলামী বিশ্বাস মতে বিশ্বাসী,অবিশ্বাসী, দীন-মজুর, কোটিপতি, ডক্টরেট বা নিরক্ষর সকলকেই পরকালের যাত্রার শুরুতেই অতি অবশ্যই এবং অনিবার্যভাবে তিনটি প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হবে:

১)আপনার রব বা প্রতিপালক কে?
২)আপনার দ্বীন কি বা কোনটি?
৩)রাসূল (সা.)-কে দেখিয়ে জিজ্ঞেস করা হবে,”ইনি কে?”

আপাত দৃষ্টিতে আপনার মনে হবে যে,একটা ছোট্ট ছেলে, যার জন্য প্যান্ট পরাটা এখনো বধ্যতামূলক নয়, সেও তো এসব প্রশ্নের উত্তর অনায়াসে বলে দিতে পারবে। কিন্তু আসলে ব্যাপরটা অত সোজা নয়।

ধরুন আপনার ক্লাসের বা অফিসের একটি ছেলের নাম হামিদ। আমি যদি একদিন আপনার ক্লাসে গিয়ে বসি এবং আপনি যদি অনির্দিষ্ট দৃষ্টিতে তাকিয়ে বলেন, “হামিদ তুমি মেহমানকে এক গ্লাস পানি এনে দাও”; আমি সবার দিকে তাকিয়ে বোঝার চেষ্টা করবো আপনি ঠিক কাকে কথাটা বললেন। কেন? কারণ, আমি হামিদকে চিনি না। একইভাবে এই দুনিয়ার জীবনে আমি যদি আল্লাহর পরিচয় সম্বন্ধে জ্ঞান লাভ করে না থাকি, তবে আমি বলতে পারবো না আমার প্রতিপালক কে । আবার আমার দ্বীনে ঘোষিত ফরজ, ওয়াজিব, হালাল -হারাম, করণীয়-বর্জনীয় ইত্যাদি যে সব বিষয়ে জ্ঞান অর্জন, আমার ইসলাম সম্মত জীবন যাপনের জন্য জানাটা অত্যাবশ্যকীয় ছিল, সে সব না জেনে থাকলে আমি আমার দ্বীন কি সেটা বলতে পারবো না। একইভাবে রাসূল (সা.) যেভাবে ইসলাম প্রয়োগ করে দেখিয়ে গিয়েছেন – সেই প্রায়গিক রূপ বা সুন্নাহ্ সম্বন্ধে জ্ঞান না থাকলে, তাঁকে দেখেও চিনতে পারবো না আমরা। এখানে ফেল করলেই “আপনার জীবনের [এবং মরণেরও] ষোল আনাই মিছে” – আর কিছুতেই কিছু হবার নয়। এখানে বিফল লোকেরাই বোধকরি বলবে যে, “ধিক্ আমাকে! আমি যদি শ্রেফ মাটি হয়ে যেতাম!!” (কুর’আন, ৭৮:৪০)

এই তিনটি প্রশ্নের উত্তর দিতে যতটুকু জ্ঞান অর্জন করা প্রয়োজন ততটুকু জ্ঞান নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সকলের জন্য ফরজ বা অবশ্যকরনীয়।

আর তাই ঈমানেরও পূর্বের করণীয় হচ্ছে জ্ঞান অর্জন। কারণ আপনি যদি আল্লাহর পরিচয়ই না জানেন, তবে কোন আল্লাহর উপর ঈমান আনবেন? রাসূল(সা.)-এঁর আল্লাহ নাকি আবু জাহলের আল্লাহ্? দুজনেই কিন্তু আল্লাহকে আল্লাহই ডাকতেন – অথচ একজন নবী, অপরজন মুশরিক। তাহলে নিশ্চয়ই আল্লাহ সম্বন্ধে তাদের concept ভিন্ন ছিল!

সবচেয়ে অগ্রাধিকার পাবার বিষয়টা তাহলে জানা গেল – আল্লাহ, তাঁর দেয়া দ্বীন বা জীবন ব্যবস্থা এবং তাঁর রাসূলের পরিচয় জানতে হবে। এ সম্বন্ধে জ্ঞান লাভ করাটাই তাহলে সবচেয়ে বেশী অগ্রাধিকার পাবার দাবীদার।

ফি আমানিল্লাহ্!

Processing your request, Please wait....
  • Print this article!
  • Digg
  • Sphinn
  • del.icio.us
  • Facebook
  • Mixx
  • Google Bookmarks
  • LinkaGoGo
  • MSN Reporter
  • Twitter
১০৫ বার পঠিত
1 Star2 Stars3 Stars4 Stars5 Stars (ভোট, গড়: ৫.০০)

৭ টি মন্তব্য

  1. মাফ করুন ভুল হয়ে গেছে। ওয়ালিকুম আসসালাম, ব্রাদানে ইসলাম।
    আরও মাফ চাই এই জন্য যে হয়তো আমি আপনার এই নিবন্ধের মুল বুঝতে পারি নাই। আমার মুল কথা বলার আগে আপনি শুধু একটি কথা উল্লেখ করছি, যতটুকু আমি ধারনা করি,এই যে ইসলামি সাইট এটা কোন মুফতি এ জামান বা শাইখ এ আযমের জন্য নয়। এখানে আমরা যারা মুসলিম মা বাবার ঘরে জন্ম নিয়েও পাক্কা মুসলমান হতে পারি নাই তারা ইসলামকে ভালভাবে জানা বা বুঝার এই সাইট তৈরি করা হয়েছে। তাই আমরা যারা কম জানি তাদের ভুলকে সহনশীল ভাবে গ্রহণ করুন। আমি চাই আপনারা ইসলামি জ্ঞানের অধিকারী তারা এই ২১ শতকের বাস্তবতা মধ্য নজর রেখে ইসলামকে আমাদের মধ্যে তুলে ধরবেন।
    জ্ঞান অর্জন সম্পর্কে যদি কোরান বলে শুধু ঐ তিনটি পয়েন্ট তাহলে আমার কাছে এটা বেশ কনফিউজ লাগে। এই দুনিয়া ক্ষণস্থায়ী হলেও এর একটা বাস্তবতা আছে। হ্যাঁ আল্লাহকে জানা আর রাসুল সাঃ জানা এটা আমাদের ঈমানী শর্ত কিন্তু একমাত্র লক্ষ্য ঐ তিনটি তা আমার বুঝে আসেনা। জ্ঞান তো জ্ঞান। আল্লাহর ৯৯ নাম থেকে প্রাপ্ত যত গুণবাচক জ্ঞান পাই তাও মানুষের অর্জন অবশ্য কর্তব্য। তাই তো আমরা যতবার আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি ততবার বলি-হে আল্লাহ আপনি আমাদেরকে দুনিয়াও আখেরাতের কল্যাণ দান করুন। আর তো জানে কোরান করিম কত জায়গায় বলেছে – রিজেক অন্নেষণ কর, দুনিয়াবী কাজের সফলতার প্রজ্ঞার সাথে চেষ্টা কর। রসুল সাঃ ও বলেছেন -জ্ঞান অর্জনের জন্য চিন যাও। একটা গাছের পাতা নিয়েও গবেষণা কর। এতে প্রমাণিত হয় আপনার উল্লেখিত ঐ তিন পয়েন্টের সাথে দুনিয়াতে বেঁচে থাকার জন্য যত উপকরণ প্রয়োজন তাদের জন্যও জ্ঞান অর্জন অতিব প্রয়োজন। আজকে চিন্তা করুন মুসলমানরা কেন পিছিয়ে আছে? মুসলমান সমাজের মধ্যে এত ফকির কেন? আশা করি ভুল বললে সংশোধণ করে দিবেন। এই যুগে হিরা গুহায় গিয়ে ধ্যাণ করে ঐ তিনটি জ্ঞান হাসিল কত জনেইবা করতে পারবে? এখন এই দুনিয়ায় আপন আপন কর্মের মাধ্যমে দুনিয়া ও আখেরাতের জ্ঞান অর্জনের পথ নির্দেশ করতে হবে বলে আমি মনে করি। মা আসসালামা।

    admin

    এখানে আমরা যারা মুসলিম মা বাবার ঘরে জন্ম নিয়েও পাক্কা মুসলমান হতে পারি নাই তারা ইসলামকে ভালভাবে জানা বা বুঝার এই সাইট তৈরি করা হয়েছে।
    সহমত ।

  2. السلام عليكم ورحمة الله و بركاته

    আপনার এই মন্তব্যের উত্তর এখনই দিচ্ছিনা, কারণ এর উত্তর গোটা একটা বা কয়েকটা পোস্টও হতে পারে। শুধু এটুকু বলছি যে, “রসুল সাঃ ও বলেছেন -জ্ঞান অর্জনের জন্য চিন যাও” – একথাটা ঠিক নয়, কারণ হাদীসটি জাল। ইনশা’আল্লাহ্, আল্লাহ্ যদি বাঁচিয়ে রাখেন, তবে আপনার প্রশ্নের উত্তর আমার লেখায় evolve করবে! এই তিনটি প্রশ্নের উত্তর জানা সকলের জন্য ফরজ – কারো exemption নেই। বাকী সব জ্ঞান optional – কেউ জানবে, অথবা নাও জানতে পারে। এই তিনটির উত্তর না জানলে মানব জনম বৃথা – আর আসলে মুসলিমদের দুনিয়ার “যিল্লতীর” মূল কারণও হচ্ছে এই তিনিট প্রশ্নের উত্তর না জানা!

    আল্লাহ্ হাফিজ!

    মর্দে মুমিন

    জ্ঞান অর্জনের জন্য চিন যাও, জাল হলেও এটার মধ্যে একটা বক্তব্য আছে যা কোরানের সাথে সাংঘাত পূর্ণ মোটেও নয়। মা আস সালাম।

    admin

    জ্ঞান অর্জনের জন্য চিন যাও, জাল হলেও এটার মধ্যে একটা বক্তব্য আছে যা কোরানের সাথে সাংঘাত পূর্ণ মোটেও নয়। মা আস সালাম।

    সহমত । এটা আরবের এক প্রসিদ্ধ প্রবাদ , ( যতদুর জানি ) এবং এটার অন্তর্নিহিত বক্তব্য অস্বীকার করার উপায় নেই ।

  3. সুন্দর পোস্ট । গুড জবস ।

  4. আল্লাহ, তাঁর দেয়া দ্বীন বা জীবন ব্যবস্থা এবং তাঁর রাসূলের পরিচয় জানতে হবে।

    সহমত।
    এই তিনের দ্বারাই ইসলামকে পুরোপুরি জানা যাবে।

    রাসূল(সা.)-এঁর আল্লাহ নাকি আবু জাহলের আল্লাহ্? দুজনেই কিন্তু আল্লাহকে আল্লাহই ডাকতেন – অথচ একজন নবী, অপরজন মুশরিক। তাহলে নিশ্চয়ই আল্লাহ সম্বন্ধে তাদের concept ভিন্ন ছিল!

    ভাল জিনিস তুলে ধরেছেন। এখানে ভাল চিন্তার খোরাক রয়েছে।