লগইন রেজিস্ট্রেশন

আর কিছুই আল্লাহর মত নয়

লিখেছেন: ' মুসলিম৫৫' @ মঙ্গলবার, নভেম্বর ৩, ২০০৯ (১০:২৮ পূর্বাহ্ণ)

بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ
السلام عليكم ورحمة الله و بركاته

যারা Karen Armstrong-এর History of God বইটি পড়েছেন বা অন্তত দেখেছেন, তারা হয়তো দেখেছেন যে, ঐ বইয়ের প্রচ্ছদে এক বিখ্যাত চিত্রশিল্পীর আঁকা একটা চিত্র রয়েছে, যাতে দেখা যাচ্ছে যে, শূন্যে ভাসমান বিশাল দাড়ীওয়ালা এক পক্ককেশ বৃদ্ধ এক তরুণের দিকে হাত বড়িয়ে আছেন, আর মনে হচ্ছে যে তরুণটি তাকে ছুঁয়ে দেখতে চেষ্টা করছে। বলা বাহুল্য এই ছবির ঐ বৃদ্ধকে, চিত্রকর ঈশ্বর বলে বোঝাতে চেয়েছেন, আর, তরুণটি হচ্ছে মানবসন্তান। গ্রেকো-রোমান “দর্শন” দ্বারা প্রভাবিত এবং নানা বিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাওয়া খৃষ্টধর্মের ঈশ্বরের ধারণা “নরত্ব আরোপ” বা anthropomorphism-এর সীমা ছাড়িয়ে বেশীদূর যেতে পারেনি। এছাড়া ঈশ্বরের সাথে যীশুর বাপ-ছেলে সম্পর্ক হয়তো এ ব্যাপারে সহায়ক হয়ে থাকবে। ঈশ্বরকে কল্পনা করার চেষ্টা করতে গিয়ে মানুষ যখনই নিজের আবেগ, ভয়, আশা, নিরাশা ইত্যাদি সহ তার অত্যন্ত সীমিত মেধার উপর নির্ভর করেছে, তখনই সে তার পরিচিত জগত থেকে কোন একটা বা একাধিক চেহারার মিশ্রনকে ইশ্বরের চেহারা বলে জ্ঞান করেছে। গ্রেকো-রোমান, মিশরীয় বা অন্যান্য পুরাতন সভ্যতা থেকে নিয়ে এপর্যন্ত ব্যাপারটা তাই থেকেছে।

এ ব্যাপারে ইসলাম প্রায় সকল ধর্মের চেয়ে আলাদা। গত লেখাটায় যেমন বলেছি, “আর কিছুই আল্লাহর মত নয়” – এটা হচ্ছে আল্লাহ্ সংক্রান্ত ইসলামী ধারণার এক অবিচ্ছদ্য মূলনীতি। আবু বক্বর (রা.)-এর একটা বিখ্যাত বাণী রয়েছে এই প্রসঙ্গে, যার সারমর্ম হচ্ছে এরকম যে, “তোমার মনে আল্লাহ্ সম্বন্ধে যে ধারণাই আসবে, আল্লাহ্ তার সবকয়টির চেয়ে আলাদা”। সোজা বাংলায় বলতে গেলে যে কোন মানুষ আল্লাহ্ সম্বন্ধে ভাবতে গিয়ে, আল্লাহকে যা কিছুর মত ভাববে – আল্লাহ্ তার কোনটির মতই নন। এছাড়া ইসলামী ধর্মতত্ত্ব পড়াতে গিয়ে স্কলাররা বলেন যে, Deification of humans অথবা Humanization of the Deity এ দু’টোই হচ্ছে শিরকের মত অমার্জনীয় পাপের দু’টো প্রধান উৎস। উদাহরণস্বরূপ শ্রদ্ধা করতে করতে রবীন্দ্রনাথকে কিছু মানুষ এমন পর্যায়ে নিয়ে গিয়েছেন যেটাকে অনায়াসে Deification of humans বলা যায় – আর তারাও তাই তাকে “গুরুদেব” বলে ডাকতে পারেন নিঃসঙ্কোচে।

যাহোক, আল্লাহর পরিচয় জানার ব্যাপারে ইসলামী ধর্মতত্ত্বের আরেকটি মূলনীতি হচ্ছে, আল্লাহ্ সংক্রান্ত আক্বীদাহ্ [বা সাধারণভাবে সকল আক্বীদাই] কেবল অহী বা প্রত্যদেশ থেকে গ্রহণ করতে হবে – তাতে নিজস্ব “মনের মাধুরী” মেশানো যাবেনা।

আগামীতে ইনশা’আল্লাহ্ আল্লাহ্ সংক্রান্ত মুসিলম বিশ্বাস কি কি তা নিয়ে আলোচনা করার আশা রাখি।

ফি আমানিল্লাহ্!

Processing your request, Please wait....
  • Print this article!
  • Digg
  • Sphinn
  • del.icio.us
  • Facebook
  • Mixx
  • Google Bookmarks
  • LinkaGoGo
  • MSN Reporter
  • Twitter
৮৮ বার পঠিত
1 Star2 Stars3 Stars4 Stars5 Stars ( ভোট, গড়:০.০০)