লগইন রেজিস্ট্রেশন

নারী দিবসে একজন ভিনদেশী নারীকে শ্রদ্ধা……

লিখেছেন: ' নাজনীন' @ মঙ্গলবার, মার্চ ৯, ২০১০ (৪:৪৯ অপরাহ্ণ)

আমাদের দেশে নারীদের অধিকার নিয়ে কথা বলতে আসলে প্রথমেই যার নামটির কথা মনে পড়ে তিনি হলেন মহিয়সী বেগম রোকেয়া। যিনি বুঝেছিলেন নারীদের চিরাচরিত গৃহস্থালীর কাজের বাইরেও আরো কিছু করার আছে, তিনি বুঝেছিলেন মুসলিম নারীদের অতিরিক্ত পর্দার নামে যেটা করা হচ্ছিল ঐসময়কার সমাজে সেটা আসলে এক ধরণের অবরোধ, তাই তিনি লিখেছিলেন অবরোধবাসিনীদের দুঃখ-দুর্দশার গল্প। তিনি আন্দোলন শুরু করেছিলেন মুসলিম নারীদের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার জন্য।

ঐ কাছাকাছি সময়ে আরো অনেক মুসলিম দেশেই নারী আন্দোলন শুরু হয়েছিল, অন্যান্য অমুসলিম দেশগুলোতেও নারীদের ব্যাপারে মনোযোগ দেয়া শুরু হচ্ছিল। ধীরে ধীরে সারা বিশ্বে নারীদের অধিকারের ব্যাপারে রাষ্ট্রপক্ষগুলো সচেতন হচ্ছিল, অনেক দেশে প্রথমবারের মত নারীদের ভোটাধিকার দেয়া শুরু হয়েছিল। কি শিক্ষা, কি কর্মস্থল সব জায়গায় নারীদের সুযোগ-সুবিধাগুলো নিয়ে বিভিন্ন নীতিমালা প্রণয়ন, বিভিন্ন উদ্যোগ নেয়া শুরু হয়, যার একটা হলো এই নারীদিবস। নারীদেবসের ইতিবৃত্ত নিয়ে গতকাল ব্লগে নানারকমের পোস্ট এসেছে, তাই আজ আর নতুন করে সেটা নিয়ে কথা বলতে যাচ্ছে না, সে ব্যাপারে আর কিছু বলারও বাকী নেই।

আমি বরং একটু অন্যদিকে নজর দেই। আজ প্রায় ১০০ বছর বা তারও অধিককাল পরে সমাজে নারীদের অবস্থা কতটুকু পরিবর্তন হয়েছে? এখানে আমি মূলত মুসলিম নারীদের ব্যাপারে কথা বলবো। আর এ প্রসঙ্গে পুনরায় উচ্চারণ করতে চাই মুসলিম নারীনেত্রী ডঃ শরীফা আল খতীবের সেই প্রশ্নটি, “কেন এখানে কোন নারী বক্তা নেই”?

এ প্রশ্নটি যিনি করেছেন, তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিম কমিউনিটিতে নারীদের অধিকার নিয়ে কথা বলার একজন পাইওনিয়ার। একজন মুসলিম নারীনেত্রী। যিনি যুক্তরাষ্ট্রের মুসলিম কমিউনিটিতে পরিবারে, গৃহ অভ্যন্তরে নারীদের প্রতি যে নির্যাতন করা হয় তার প্রতিবাদে প্রথম সোচ্চার হোন, কমিউনিটির সদস্যদের সামনে তুলে ধরেন নারীদের এসব সমস্যার কথা। এ নিয়ে নানারকম সেমিনার, সিম্পোজিয়াম, ওয়ার্কশপের আয়োজন করতে থাকেন, যাতে করে মুসলিম পরিবারগুলোর মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি করা যায়, তারা যেন তাদের নারীদের ব্যাপারে আরো যত্নবান হয়, নারীরা যেন তাদের সঠিক মর্যাদা পান।

এ প্রশ্নটি তিনি করেছিলেন ১৯৯৩ সালে বসনিয়ার গণহত্যার বিরুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে মুসলিম কমিউনিটি কর্তৃক যে র‌্যালীর আয়োজন করা হয় সেখানে। র‌্যালী উপলক্ষে সেখানে কিছু বক্তৃতার আয়োজন করা হয়, যার মাঝে সব বক্তাই ছিলেন মুসলিম পুরুষ। আর কোন নারী বা পুরুষের মাথায় ঐসময়ে ঐ প্রশ্ন আসেনি। উনার প্রশ্ন শুনে অনুষ্ঠানের আয়োজক তড়িঘড়ি করে শেষ মুহূর্তে কিছু পরিবর্তন আনেন, একজন মুসলিম নারীকে বক্তা হিসেবে সংযুক্ত করেন, যিনি ছিলেন ডঃ শরীফা আল খতীব।

শরীফা দুঃখের সাথে বলতেন অনেক মুসলিম নারী কমিউনিটি ছেড়ে চলে যাচ্ছে কারণ তাদের অভিযোগ, “তোমরা পুরুষেরা আমাদের কথা শোনো না, আমরা কেন তোমাদের কথা শুনবো?” কিন্তু শরীফা ছিলেন মধ্যপন্থী নারীবাদী। তিনি মহান আল্লাহ্‌তাআলার প্রতি অবাধ্য হতেন না, তিনি অজ্ঞ মুসলিম পুরুষদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতেন। আমাদের বেগম রোকেয়াও সেরকম ছিলেন, তিনিও আল্লাহ্‌তাআলার অবাধ্য হতেন না, কিন্তু প্রতিবাদ করতেন সমাজের প্রচলিত ভুল ব্যবস্থাগুলোর ব্যাপারে।

শরীফা মুসলিম নারীদের মসজিদে স্থান পাবার ব্যাপারেও আন্দোলন করেছেন। আজ অনেক দেশেই অনেক মসজিদেই নারীদের নামাজ পড়ার ব্যবস্থা নেই। অথচ ইসলামের প্রথম যুগে নারীদের অবস্থা এমন ছিল না। তারা জামাতে নামায আদায় করেছিলেন। তিনি বিভিন্ন রকমের সংগঠনের সাথে যুক্ত ছিলেন, বিভিন্ন রকমের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছিলেন, এর মধ্যে নর্থ আমেরিকান কাউন্সিল ফর মুসলিম উইমেনের প্রেসিডেন্ট ছিলেন, কোরআনের পিকথাল অনুবাদের একজন সম্পাদক ছিলেন, ইত্যাদি ইত্যাদি……।

এ মহিয়সী নারী ২০০৪ সালের ২০ অক্টোবর ইন্তেকাল করেছেন। তার ব্যাপারে আরো জানতে…

এ সুযোগে ঐ একই ওয়েবসাইটে পাওয়া নারীর ক্ষমতায়নের কিছু টিপ্‌সও পাঠকদের সাথে শেয়ার করিঃ

১। নারীর ঐতিহ্যবাহী পরিচয়ের স্বীকৃতিঃ

মা, স্ত্রী, কন্যা হিসেবে নারীর যে আদি পরিচয়, গৃহে থাকার পরিচয় তাকে স্বীকৃতি দেয়া। খুব কম মুসলিম পরিবারই নারীদের এ পরিচয়গুলোর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানায়। আমরা একজন নেতাকে বা বক্তাকে প্রশংসিত করি, কৃতজ্ঞতা জানাই, অথচ তাদের এসব কাজের পেছনে যে মা বা স্ত্রী বা কন্যার অবদানটুকু আছে সেটা স্বীকার করি না। এক্ষেত্রে মা হয়তো তার ছেলেটিকে কোরআন শিক্ষা দিয়েছিল ছোটবেলায়, একজন স্ত্রী হয়তো বিভিন্ন সময়ে জ্ঞান, চিন্তা ও বিভিন্ন রকমের গঠনমূলক আলোচনা ও পরামর্শের দ্বারা নেতাকে সাহায্য করেছিল, কন্যা হয়তো বিভিন্ন প্রজেক্টের ফান্ড সংগ্রহে সাহায্য করেছিল। তাই যেকোন প্রোগ্রামে নারীদের এসব আদিপরিচয়গুলোকে স্পষ্ট স্বীকৃতি দিতে হবে।

২। পারিবারিক নির্যাতনের বিরুদ্ধে সচেতন হওয়াঃ

পরিবারেই নারীরা সবচেয়ে বেশী অবহেলিত হয়, নির্যাতনের স্বীকার হয়। আমাদের রাসূল(সাঃ) এ ব্যাপারে অনেক সোচ্চার ছিলেন, আমাদেরও তাই হতে হবে।

৩।নারীর সেবামূলক কাজের স্পষ্ট স্বীকৃতি এবং কৃতজ্ঞতাস্বীকারঃ

অনেক সময়েই দেখা যায় কোন একটা সভাতে পুরুষেরা বক্তৃতা করছে, আবার শ্রোতারাও হয়তো পুরুষেরা বা নারীরাও। কিন্তু এর মাঝে কিছু নারী ব্যস্ত থাকে আপ্যায়নে, তাদের বক্তা হয়ে ওঠা হয় না, চিন্তা-ভাবনা শেয়ার করার সুযোগ থাকে না। আবার অনেক নারী সপ্তাহান্তে বিভিন্ন স্কুলে বা ঘরোয়াভাবে শিশুদের ধৈর্যের সাথে ইসলামী শিক্ষা দিয়ে থাকেন, যেগুলো একটু কঠিনই। অথচ তাদের এ অবদানগুলোকে উচ্চারিতকন্ঠে স্বীকৃতি দেয়া হয় না। বিভিন্ন সংগঠনের লিফলেট বা নিউজলেটারে এসব পর্দার আড়ালের নারীদের নাম কৃতজ্ঞতার সাথে উল্লেখ করা উচিত।

৪। নারীদের ব্যাপারে শিক্ষাঅর্জন (ইসলামী দৃষ্টিভঙ্গীসহ)ঃ

এক্ষেত্রে ইসলামের প্রথম যুগের বিভিন্ন মহীয়সী নারীদের যেমনঃ মরিয়ম(রাঃ), ফাতিমা(রাঃ), আয়েশা(রাঃ), খাদিজা(রাঃ) ব্যাপারে জ্ঞান অর্জন করতে হবে। আরো জানতে হবে অন্যান্য মহিয়সী নারীদের ব্যাপারেও যারা যুগে যুগে ইসলামের পথে তাদের সময়, শ্রম, জ্ঞান, সম্পদ অকাতরে খরচ করেছেন, অথচ ইতিহাসে তেমন গুরুত্ব পাননি।

৫। ইসলামের বিভিন্ন মহিয়সী নারীদের নামে নারীশিক্ষার জন্য বৃত্তির ব্যবস্থা করাঃ

এক্ষেত্রে আয়েশা(রাঃ) নামই প্রথমে আসে। তিনি তার জ্ঞান এবং প্রজ্ঞা দিয়ে অসংখ্য মানুষকে শিক্ষা দিয়ে গেছেন। তাই বর্তমান যুগে নারীদের শিক্ষা(ইসলামী শিক্ষাসহ) অর্জনের ক্ষেত্রে মহীয়সী নারীদের নামে বিভিন্ন বৃত্তির ব্যবস্থা করা উচিত। এতে করে এখনকার মুসলিম নারীরা উজ্জীবিত হবে, আত্মবিশ্বাসী হবে।

৬। জুমআর খুতবাতে নারীদের অবদানের কথাগুলোও নিয়মিত প্রচার করাঃ

আমাদের ইমাম এবং খতীব সাহেবেরা বিভিন্ন মহিয়সী নারীদের কথা খুতবাগুলো গুরুত্ব দিয়ে প্রচার করবেন, ঘরে অবস্থিত মা-বোনদের ইসলামের ব্যাপারে আরো বেশী আগ্রহী করে তুলবেন, ইসলামে নারীদের অবস্থান সম্পর্কে আরো বেশী বেশী করে বলবেন।

৭। বিভিন্ন মসজিদে, ইসলামিক সেন্টারে, সংগঠনে নারীর অংশগ্রহণ এবং নেতৃত্ব নিশ্চিত করাঃ

এটা শুধু মসজিদে নারীদের ইস্যু নিয়ে কথা বলার জন্য “নারী কমিটি” নয়, বিভিন্ন শূরা কমিটিতেও নারীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা। রাসূল(সাঃ)-এর যুগে নারীরা বিভিন্ন মাসআলা জানতে সরাসরি নবীজীকে বা পরবর্তীতে বিভিন্ন খলীফাবৃন্দকে বা ইসলামী নেতাদের সরাসরি জিজ্ঞ্যেস করতেন, বিভিন্ন ধর্মীয় আলোচনায় সরাসরি অংশগ্রহণ করতেন। এক্ষেত্রে তাদের কন্ঠস্বর যথেষ্ট বলিষ্ঠ ছিল, নীচুস্বর ছিল না।

৮। কথায়-কাজে-কর্মে দ্বৈতনীতি পরিহার করাঃ

পুরুষেরা কোন অনৈসলামিক, অনৈতিক কাজ করলে……পুরুষেরাতো অমন একটু-আধটু করবেই, এদিকে নারীরা তা করলে তাদেরকে চরিত্রহীন বলা — এ জাতীয় ডাবল স্ট্যান্ডার্ড অবশ্যই সকলকে ত্যাগ করতে হবে।

৯। মুসলিম নারীদের নিয়ে বিতর্ক ক্লাব গড়ে তোলাঃ

মুসলিম নারীদের বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে বিভিন্ন বিতর্ক প্রতিযোগিতা বা নির্ধারিত বক্তৃতা বা উপস্থিত বক্তৃতা — এ ধরণের অনুষ্ঠান বেশী বেশী করে আয়োজন করা এবং তাতে নারীদের অংশগ্রহণকে উৎসাহিত করা। এতে করে বিভিন্ন আলোচনায় নারীরা ইসলামের নারীইস্যুগুলোতে আরো স্বচ্ছ ধারণা লাভ করবে। এক্ষেত্রে পুরুষেরাও অংশগ্রহণ করতে পারে, যাতে করে তারাও স্বচ্ছ ধারণা পায়।

১০। জ্ঞান বিতরণঃ

“জ্ঞানই শক্তি” — মুসলিম নারীদের মাঝে এ ধারণা আরো বেশী বেশী করে ছড়িয়ে দিতে আরো বেশী বেশী করে সেমিনার, সিম্পোজিয়াম, ওয়ার্কশপের আয়োজন করা, এ আধুনিক বিশ্বে বিভিন্ন রকমের ইন্টারনেট সুবিধা গ্রহণ করেও সেটা করা যেতে পারে, যেমনঃ ই-মেইল, ব্লগ, ফোরাম, ফেইসবুকসহ নানা সামাজিক নেটওয়ার্কের সাহায্যে।

বিভিন্ন ভাষায় তথ্যগুলো অনুবাদ করে সারা বিশ্বে বিভিন্ন কমিউনিটিতে জ্ঞান ছড়িয়ে দেয়া।

আমি যদিও এখানে মুসলিম নারী এবং ইসলামের কথাই মূলত হাইলাইট করেছি, তবে এটা সমাজের যেকোন অংশের নারীদের জন্যও একইভাবে প্রযোজ্য হতে পারে।

Processing your request, Please wait....
  • Print this article!
  • Digg
  • Sphinn
  • del.icio.us
  • Facebook
  • Mixx
  • Google Bookmarks
  • LinkaGoGo
  • MSN Reporter
  • Twitter
১৭৫ বার পঠিত
1 Star2 Stars3 Stars4 Stars5 Stars (ভোট, গড়: ৩.০০)

২৪ টি মন্তব্য

  1. সংশোধনী,

    ১। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার জন্য।
    ২। সেই প্রশ্নটি, “কেন এখানে .।.।
    ৩। পরিবারে, গৃহ অভ্যন্তরে .।
    ৪। তিনি বিভিন্ন রকমের সংগঠনের সাথে যুক্ত ছিলেন, বিভিন্ন রকমের গুরুত্বপূর্ণ .।.।
    ৫। পাওয়া নারীর ক্ষমতায়নের কিছু টিপ্‌সও পাঠকদের সাথে শেয়ার করিঃ .।.।

    কেন জানি পোস্টে এগুলো ঠিকভাবে আসেনি।

  2. ধন্যবাদ পোষ্টী শেয়ারের জন্য। নারীদের ইসলামী জ্ঞান থেকে দূরে রাখার ফলাফল হল ভাল নয়। তারা আল্লাহ পাক ও তার রাসূল সঃ সম্পর্কে কথাবার্তা না বলে, সারা দিন শারুখ খান, আমির খান, কাজল ইত্যাদি নিয়ে পরে থাকে। হিন্দি বস্তা পছা ছিরিয়াল তাদের প্রিয়। কারন একটি-ই, অলস মস্তিষ্ক শয়তানের আড্ডাখানা। আসলে আমরা বেকুব সমাজ নারীদের এই দিকে জোর করে ঠেলে দিতেছে। এটি খুব-ই খারাপ লক্ষন। এর ফলাফল দ্রুত প্রকাশ হওয়া শুরু হয়েছে, সমাজের অবক্ষয় হিসাবে। মূলত, নারীদের উপর-ই সমজের মূল ভিত্তি, তাই আমার ধারনা, নারীদের কাছে ইসলাম থাকলে, কোন মানব সৃষ্ট মতবাদ সহজে ইসলামকে তুলে নিতে পারবে না। কিন্তু পুরুষরা আজকে এই মতবাদ কালকে এই মতবাদ পোরশু আরেক মতবাদ নিয়ে ব্যাস্ত, তাই কখন-ই পুরুষ সমাজের মূল ভিত্তি নয়। এই সমাজকে বাচাতে হলে, নারী ইসলামী শিক্ষার বিকল্প নেই। তাই মনে হয়, নারীকে আখিরাতে তার সন্তান এবং স্বামীর ব্যাপারে প্রশ্ন করা হবে, আমি যতদূর জানি, নারীকে তার স্বামী এবং সন্তানের অবিভাবক বলা হয়েছে।

    এই ব্লগের অন্যান্য সদস্যদের কি মতামত? আমি জানতে চাই। অন্যন্য সবাই রা আমার পয়েন্টে আলোচনা করবেন আশা করি।

    নাজনীন

    @ফুয়াদ,নারীকে সন্তানের অভিভাবক বলা হয়েছে, আর স্বামী-স্ত্রীকে পরস্পরের পরিচ্ছদস্বরূপ বলা হয়েছে। সূরা নিসাতে স্বামীকে স্ত্রীর অভিভাবক হিসেবে বলা আছে। সূরা তওবাতে যেটা আছে সেটা হলো ঈমানদার নারী-পুরুষ পরস্পরের বন্ধু (ও’লী)। আমি এভাবে জানি, যদি ভুল বলে থাকি কেউ একজন ধরিয়ে দিবেন প্লীজ। পরিবারের(স্ত্রী-সন্তানের) ব্যাপারে স্বামীকে এবং স্বামীর গৃহের ব্যাপারে স্ত্রীকে জিজ্ঞ্যেস করা হবে। তবে পরস্পরের প্রতি বিশ্বাস, দায়িত্ববোধ সেসব ব্যাপারে তো বটেই……

    ফুয়াদ

    @নাজনীন,

    আমি বোধ হয়, ভুলে গিয়েছি। কিন্তু মুসলিম কিংবা বুখারি শরীফে মনে হয়, বেশ কিছু দিন আগে দেখেছিলাম অবিভাবকের বিষয়টি। কিন্তু হাদিস মুঘস্থ, একেবারে বই থেকে কপি পেস্ট না হলে বলতে হয় না। তাই নিজের ভাষায়, নিজের কথা বা বুঝ হিসাবে বলে ছিলাম। হাদিসটি ভুলে গিয়েছি, বই ও কাছে নেই, তাই দিতে পারলাম না। আমি বোধ হয়, অর্থগত দিকেও হাদিসটি ভুলে গেছি। তাই, আমার উপরের মন্তব্যের ঐ অংশের কোন গুরুত্ব নেই।

  3. তবে নারী দিবস পুরুষ দিবস নামে আমি কিছু বিশ্বাস করি না। এগুলো আমাদের না। আমাদের যা করতে হবে তা হল, নারীদের প্রকৃত সম্মান, নিরাপত্তা, এবং অধিকার দিতে হবে। তা না হলে, আমাদের কপালে দুঃখ আছে (আল্লাহ পাক আমাদের ক্ষমা করুন)। নারী-পুরুষ প্রতিদন্ডি হলে আমাদের খবর আছে (আল্লাহ পাকই ভাল জানেন) ।

    দ্য মুসলিম

    @ফুয়াদ,

    তবে নারী দিবস পুরুষ দিবস নামে আমি কিছু বিশ্বাস করি না। এগুলো আমাদের না।
    সহমত। মুসলিম নারী-পুরুষ শুধু দুটি দিন উদযাপন করবেন। ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহা। এছাড়া অন্য কোন দিন উদযাপন বৈধ নয়। ধন্যবাদ।

    ফুয়াদ

    @দ্য মুসলিম,

    আপনি আমার উপরের কমেন্টের পয়েন্টে আলোচনা রাখেন, অথবা, পোষ্ট সংশ্লিষ্ট কোন পয়েন্টে আলোচনা করুন। আপনারা না বুঝলে, আমাদের মধ্যম পন্থিরা এত কষ্ট করে লেখা লেখি করে কি লাভ? আপনি সদালাপে সারোয়ার ভাইয়ের ঐ লেখাটি পড়ুন, তার পর এই পোষ্ট টি পড়ুন, তাহলেই, নারী শিক্ষার গুরুত্ব বুঝতে পারবেন। ইনশি-আল্লাহ।

    আর জ্ঞান চর্চার বিষয়, তাই নারী কে জ্ঞান চর্চা করারও সুযোগ দিতে হবে।

    দ্য মুসলিম

    @ফুয়াদ,

    এ বিষয়ে এর আগে আলোচনা করেছিলাম। নারী শিক্ষার বিরোধীতা আমি কখনো ঘূর্ণাক্ষরেও করিনি। আজও করছিনা। ভবিষ্যতেও করবোনা, ইনশাআল্লাহ। সমস্যা হলো এ জন্য পরিবেশ তৈরী করতে হবে। বর্তমান বাংলাদেশের যে সামাজিক বা রাষ্ট্রীয় পরিবেশ সেখানে একজন নারী তার মৌলিক ধর্মীয় আইন মেনে কতটুকু নির্বঘ্নে এ কাজ সম্পাদন করতে পারবে?
    যারা মধ্যপন্হি, তাদের প্রতি আহবান এই যে, আপনারা প্রথমে ক্ষেত্র তৈরী করুন। তারপর আমাদের মা-বোনদেরকে শিক্ষিত করার উদ্যেগ নিন। আখিরাতে তাদের যে ব্যপারে জিজ্ঞাসা করা হবে, পার্থিব সুবিধা ও ভোগ বিলাস অর্জনের উদ্দেশ্য সফল করতে গেলে যদি মুমিন নারীদের মুল উদ্দেশ্য ব্যহত হয়, সেক্ষেত্রে একজন মুসলমান হিসেবে কিভাবে তাতে নির্বঘ্নে সাপোর্ট দিতে পারি?

    নাজনীন

    @দ্য মুসলিম, আগে সব পরিবেশ তৈরী হবে, তারপর নারীরা ঘর থেকে বের হবে, এটা একেবারেই অবাস্তব চিন্তা। কারণ, সব নারীরা ঘরে বসে থাকলে কেউ তাদের বাইরে যাবার কথা মাথাতেই আনবে না, সেটা গত একশ বছর আগেই দেখা গেছে। আপনি বেগম রোকেয়ার নারীশিক্ষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপট ও সমসাময়িক ঘটনাগুলো পড়েন, উনার লেখাগুলো পড়েন, তাহলে উনার অভিজ্ঞতাগুলো জানতে পারবেন। আমি আরেক পোস্টেও বলেছি চাহিদা ছাড়া জোগান হয় না, এটা বাস্তব পদ্ধতি না। বুঝবেন আশা করি। যখন ধার্মিক নারীরা চাহিদা তৈরী করবে আমরা এমন পরিবেশ চাই, এই এই অসুবিধা হচ্ছে আমাদের……এভাবে দাবী করতে করতেই এক সময়ে সমাজের পরিবর্তনগুলো আসবে, আর এ সংস্কার কাজে নারীদেরও হাত লাগাতে হবে। শুধু পুরুষরা সব করে দিবে, তারপর নারীরা এসে শুধু সুফল ভোগ করবে, এটা একেবারে বাজে চিন্তা। এটা নারীকে পর মুখাপেক্ষীই করে রাখে।

    দ্য মুসলিম

    @নাজনীন,

    যখন ধার্মিক নারীরা চাহিদা তৈরী করবে আমরা এমন পরিবেশ চাই, এই এই অসুবিধা হচ্ছে আমাদের……এভাবে দাবী করতে করতেই এক সময়ে সমাজের পরিবর্তনগুলো আসবে, আর এ সংস্কার কাজে নারীদেরও হাত লাগাতে হবে।

    উপরের অংশটুকুতে একমত প্রকাশ করলাম। কিন্তু সেক্ষেত্রে আপনাদের প্রথম পদক্ষেপ হওয়া উচিত নারীদেরকে ধার্মিক করা। শিক্ষার প্রসঙ্গ যখনই উঠবে, তখন সবার প্রথমে ধর্মীয় শিক্ষার কথা প্রকাশ করা উচিত। আগে ধার্মিক হোক, তাকওয়া সৃষ্টি হোক, তারপরই নাহলে বাকি বিষয় গুলো গুরুত্ব পাবে।
    নারীদেরকে ধার্মিক ক্ষেত্রে আশা করি উপযুক্ত পদক্ষেপ নেবেন।
    (আপনি মুসলিম নারীদের জন্যে অনেক গুলো পয়েন্ট উল্লেখ করেছেন। আমি এখানে নারীদেরকে মুমিন হওয়ার কথা বলছি, মুসলিম নয়। বর্তমান সময়ে মুসলিম ও মুমিনের মধ্যে অনেক ফারাক রয়েছে।)

    নাজনীন

    @দ্য মুসলিম, “আপনারা” মানে কারা? আপনার আশেপাশে কি কোন মু’মিন নারী নেই, সবাই মুসলিম/গোনাহ্‌গার? তাদের কি শিক্ষার প্রয়োজন নেই? নাকি কিছু গোনাহ্‌গার/মুসলিম নারীরা সব সিস্টেম ঠিক করবে, তারপর মু’মিন নারীরা আরামসে এসে লেখাপড়া করে সবাইকে ধন্য করবে?

    “সেক্ষেত্রে আপনাদের প্রথম পদক্ষেপ হওয়া উচিত নারীদেরকে ধার্মিক করা।“ আর পুরুষদের ক্ষেত্রে আপনারা কি করেন? আগে সবাই ধার্মিক করেন, তাক্‌ওয়া অর্জন করেন, তারপর দুনিয়াবী কাজে নামেন? তাই কি? এমনি কি হচ্ছে আজকের সমাজে? জ্ঞান অর্জন আর তাক্‌ওয়া অর্জন দুটোই সমসাময়িক ব্যাপার, একটা আগে, একটা পরে এভাবে নয়। আর কে কতটা তাক্‌ওয়া অর্জন করলো, তার মাপকাঠি কি? কিভাবে সেটা পরিমাপ করা যাবে? মানুষের কি সাধ্য আছে সেটা পরিমাপ করার?

    আর ইসলামের ১৪শত বছর পার হয়ে গেল, কিয়ামতের আর বেশী বাকি নেই। কবে নাগাদ সব নারীরা ধার্মিক এবং তাক্‌ওয়াসমৃদ্ধ হবে বলে আপনাদের ধারণা? এজাতীয় কোন পরিকল্পনা আপনাদের আছে কি? এরপর কবে আপনারা নারীদের শিক্ষার ব্যাপারে অনুমতি দিবেন? কোন ডেডলাইন?

    নাজনীন

    @দ্য মুসলিম, বর্তমান সময়ে মুমিন এবং মুসলিমদের মধ্যে কেন ফারাক তৈরী হলো? এটা কি শুধু নারীদের ক্ষেত্রেই হয়েছে, পুরুষদের ক্ষেত্রে হয়নি? আপনারা আলেমরা তো ইসলামের শুরু থেকেই যুগ যুগ ধরে আছেন, তবুও কেন এমন হলো? ভেবেছেন কিছু এ ব্যাপারে?

    দ্য মুসলিম

    @নাজনীন,

    “মুমিন এবং মুসলিমদের মধ্যে ফারাক”- কথাটি আমি নারী-পুরুষ উভয়ের ক্ষেত্রে বলেছি। নারী-পুরুষ আলাদা করে চিন্তা করিনি।
    আর কেন এমন হলো, সেটা অন্য আলোচনা। বর্তমান পোষ্টের সাথে সামন্জস্যশীল নয়।

    নাজনীন

    @ফুয়াদ, দিবসের ব্যাপারটা আসলে ইসলামসম্মত না, যেকোন দিনই এ পোস্ট দেয়া যেত। তবে এদিন যেহেতু সারাদেশব্যাপী নারীদের নিয়ে নানা কথা আলোচিত হচ্ছে, তাই আসলে কাছাকাছি সময়ে দিলাম, যাতে একসাথে নজরে পড়ে।

    ফুয়াদ

    @নাজনীন,

    এই বিষয়টি আমি বুঝতে পেরেছি। এটা ঠিক-ই বলেছেন, সবার চোখে পরবে। আমি-ও জানতাম, কিন্তু দিবস বিশ্বাস করি বলেছি, সাধারনের জন্য যাতে যারা এই ব্যাপারটি না জানে, তারা যাতে জেনে যায়। এতে করে (আমি সহ) মানুষের জ্ঞান-ও হবে, আবার সতর্ক ও হবে। এ জন্য-ই এই কথা বলেছি। আসলে মানুষের সকল বিষয়ে ক্লিয়ার হওয়া দরকার, এতে করে কেউ সহজে তাকে বিপদগামী করতে পারবে না।

    যাইহোক, বাস্তব দৃষ্টিকোন থেকে আপনার পোষ্ট সময়-উপোযোগি। আমার দৃষ্টিতে, জাস্ট একটি ইনফরমেশন কম ছিল, যা আমি কমান্ট করে ঠিক করে দিয়েছি।

  4. কিছু যদি মনে না করেন, তবে বলি,
    আপনার লেখাতে আপনার নিজস্ব ভাবনাগুলোই প্রতিফলিত হয়েছে, অথচ অনেক সময় আমাদের নিজস্ব ভাবনা ইসলামের সাথে নাও মিলতে পারে, সেজন্য আপনার বক্তব্যের সপক্ষে কুরআন-হাদিসের রেফারেন্স থাকলে ভালো হত।

    আমার ক্ষুদ্র দৃষ্টিতে অনেকগুলো ভুলই ধরা পড়েছে, যেগুলো নিয়ে কথা বাড়াবো না।

    শুধু খুব সাধারণ একটা বিষয় তুলে ধরি।

    “জ্ঞানই শক্তি”- এই কথাটা কতটুকু ইসলামসম্মত?

    নাজনীন

    @সাদাত, কুরআনে বিভিন্ন আয়াতে জ্ঞানীদের উদ্দেশ্য করে কথা বলা হয়েছে। সূরা লোকমানে তো লোকমানকে একজন জ্ঞানী ব্যক্তি হিসেবেই বলা আছে। রাসূল(সাঃ) এর যুগে এবং পরবর্তী সময়ে মানুষেরা সরাসরি বিভিন্ন সাহাবী এবং আলেমদের কাছে কোরআন-হাদীস শিক্ষা নিতেন। ঐ সময়ে অনেকে কাব্যচর্চাও করতেন। জ্ঞানী এবং শহীদদের মর্যাদাকে তুলনা করে হাদীশও আছে। আপনি যদি ইমাম গাজ্জালীর বইও পড়েন সেখানেও দেখবেন কোনটা শিক্ষাটা ফরজে আইন, কোনটা ফরজে কিফায়া এসব বলা আছে। আপনি ব্লগার দ্য মুসলিমের বিগত কয়েকটা পোস্ট পড়ে নিবেন, উনি গাজ্জালীর বই থেকেই লিখেছেন, তাহলে বুঝবেন জ্ঞান অর্জন করা কতটা গুরত্বপূর্ণ।
    আচ্ছা, আপনার কি কোন সন্দেহ আছে যে জ্ঞান অকার্যকর?? তাহলে আপনি কেন শিক্ষিত হলেন, যদি সন্দেহ থাকে যে ইসলাম সেটা সমর্থন করে না।
    আমার পোস্টের কোন কথা কি ইসলামবিরোধী হয়েছে? তাহলে ভাল হয়, যে কথা ইসলামবিরোধী মনে হচ্ছে, সেগুলো কোরআন-হাদীসের সাহায্যে ব্যাখ্যা করে বলুন যে সেগুলো ভুল। আমি শুধরে নিব। সবসময় যে শুধু কোরআন-হাদীস থেকে কিছু কোটেশান তুলে দিতে হবে, সেগুলো থেকে জ্ঞান অর্জন করে নিজের মতো করে বলা যাবে না, এমন কি কোন কথা আছে? বিভিন্ন আলেমরা যে বিভিন্ন ব্যাখ্যামূলক বই লিখেন, সেখানে কি নিজেদের বুঝমতো কথা লিখেন না? আর আমি এখানে কিন্তু রেফারেন্স দিয়ে দিয়েছি, তার মানে কথাগুলো সব আমার নিজের না, তবে সমর্থন করি।

    সাদাত

    @নাজনীন,

    জ্ঞানের বিপক্ষে যাবার কোন প্রশ্নই আসে না।
    জ্ঞান অন্বেষণ করার প্রয়োজনীয়তা আমার প্রসঙ্গ নয়।

    “জ্ঞানই শক্তি” এই কথাটার সমর্থনে কুরআন বা হাদিস থেকে কিছু পেশ করুন।

    নাজনীন

    @সাদাত,

    কোরআনের আয়াত:

    “Are those who know equal to those who know not?”’ (39:9)

    “It is only those who have knowledge among His slaves that fear Allah.” (35:28)

    “And say: `My Rubb! Increase me in knowledge.” (20:114)

    “Allah will exalt in degree those of you who believe, and those who have been granted knowledge.” (58:11)

    হাদীস:

    Abu Hurairah (May Allah be pleased with him) reported: The Messenger of Allah (PBUH) said, “Allah makes the way to Jannah easy for him who treads the path in search of knowledge.”
    [Muslim].

    Mu`awiyah (May Allah be pleased with him) reported: The Messenger of Allah said, “When Allah wishes good for someone, He bestows upon him the understanding of Deen.”
    [Al-Bukhari and Muslim].

    Abu Umamah (May Allah be pleased with him) reported: The Messenger of Allah (PBUH) said, “The superiority of the learned over the devout worshipper is like my superiority over the most inferior amongst you (in good deeds).” He went on to say, “Allah, His angels, the dwellers of the heaven and the earth, and even the ant in its hole and the fish (in water) supplicate in favour of those who teach people knowledge.”
    [At-Tirmidhi].

    ভাল থাকুন। আল্লাহ্‌ আমাদের জ্ঞান অর্জন এবং বোঝার ক্ষমতা দিক। আমীন।

    সাদাত

    @নাজনীন,

    আমাকে তো আবার আগের কমেন্টই করতে হয়। আপনি যদি আমার পয়েন্ট না ধরতে পারেন, তাহলে এখানেই সমাপ্তি।

    নাজনীন

    @সাদাত,আমার এ পোস্ট ধর্মের কোন বিষয়ে বা আইনের সরাসরি ব্যাখ্যা নয়, ধর্মীয় কোন ঘটনারও নয়। “জ্ঞানই শক্তি” এটা একটা প্রবাদ বাক্য, এটা যেমন আমি জানি, তেমন আপনিও জানেন। আমার পোস্টে আমি কিন্তু এটাকে কোরআনের আয়াত বা হাদীস বলে দাবী করিনি। আমার এই পোস্টের মূল উদ্দেশ্য ছিল মুসলিম সমাজে নারীদের অবস্থার উত্তরণ কিভাবে করানো যায়, সেটা নিয়ে। আশা করি বুঝতে পেরেছেন। আপনি যখন কোন কবিতা পড়েন, বা গল্প-প্রবন্ধ পড়েন সবখানে নিশ্চয়ই কোরআনের আয়াত বা হাদীস খুঁজেন না। তারপরও আপনার যদি পোস্টের কোণ বক্তব্যে দ্বিমত থাকে সে ব্যাপারে বলবেন, আমি যে টিপ্‌সগুলোর কথা বলেছি, সেগুলো সমাজে চালু হলে কি ইসলামের ক্ষতি হবে বা ইসলামের বিধিমোতাবেক হবে না, গোনাহের কোন ব্যাপার আছে কিনা এতে?

    দ্য মুসলিম

    @নাজনীন,

    “জ্ঞানই শক্তি” এটা একটা প্রবাদ বাক্য
    ঠিক বলেছেন, এটা একটা প্রবাদ বাক্য। যেমন আরেকটি প্রবাদ বাক্য হলোঃ জনগনই সকল ক্ষমতার উৎস।
    আপাত দৃষ্টিতে বাক্য গুলোকে নিরিহ মনে হলেও এগুলো নির্ভেজাল ছোট শিরকও বটে। অন্য কোন সাইটে একথা লিখলে হয়তোবা কেউ কিছু বলতো না। কিন্তু এখানে এধরণের বাক্য কেউ ব্যবহার করবে, এটা আশা করিনা।

    এপ্রসঙ্গে আরেকটি কথা বলি। গত কয়েকদিন আগে একটি টিভি চ্যানেলে একজন আলিম ছোটখাট কিছু শিরক নিয়ে আলোচনা করেছিলেন। যেমনঃ আমরা সাধারণত বলি, বৃষ্টিতে ভিজোনা-জ্বর আসবে বা ঠান্ডা খেয়োনা- গলা ব্যাথা করবে। একথা গুলো প্রবাদ বাক্যের চাইতেও প্রচলিত। কিন্তু এর কারনে এসব কথা বলা বৈধ হয়ে যাবেনা। এসকল ছোট-খাট ব্যপার এক সময় অনেক বড় হয়ে দাঁড়ায়। আশা করি বুঝতে পারছেন, এধরণের বাক্য ব্যবহারে সমস্যা কোথায়।

    আমার এই পোস্টের মূল উদ্দেশ্য ছিল মুসলিম সমাজে নারীদের অবস্থার উত্তরণ কিভাবে করানো যায়, সেটা নিয়ে। আশা করি বুঝতে পেরেছেন। আপনি যখন কোন কবিতা পড়েন, বা গল্প-প্রবন্ধ পড়েন সবখানে নিশ্চয়ই কোরআনের আয়াত বা হাদীস খুঁজেন না।
    এত বড় একটা রিভ্যুলেশনের কথা আলোচনা করলেন, অথচ সেখানে কোরান-হাদীসের উদৃতি দিলেন না, এটা কিন্তু মানা যায় না। গল্প-প্রবন্ধ এক জিনিষ আর এটা অন্য। গল্প-কবিতা কেউ পড়ুক আর না পড়ুক কিছু আশে যায় না। কিন্তু এখানে যা আলোচনা করলেন, এটা একটা জাতীয় ব্যপার। তাছাড়া এখানে আমরা মুলত সবকিছুই ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে আলোচনা বা ব্যাখ্যা করে থাকি। আমু, সামু হলে হয়তো সমস্যা ছিলোনা।

    নাজনীন

    @দ্য মুসলিম, আপনাকে ধন্যবাদ। আপনি যেটা বললেন, কথাটা ঠিক। আমরা অনেক সময়ে ভুল করি, বা সবসময়ে সচেতন থাকি না। আপনি কিন্তু প্রথম মন্তব্যে এ ব্যাপারে কিছু বলেননি। :) হয়তো আপনার মাথায়ও তখন সেটা আসেনি। এজন্য সাদাতকে ধন্যবাদ দেয়া যেতে পারে এ ব্যাপারে দৃষ্টি আকর্ষণ করার জন্য।

    আসলে আমার একটা চিন্তা-ভাবনা যেটা যে এখানে যারা ব্লগিং করতে আসে তারা সবাই শিক্ষিত, দুনিয়াবী তো বটেই, ইসলামী বেসিক শিক্ষাও প্রায় সবার আছে। আর পিসইনইসলামের ব্লগারদের ক্ষেত্রে এ কথাতো আরো বেশী সত্যি। তাই আসলে ইসলামের মূল কথাগুলো বারবার হাইলাইট করি না, বরং যা ইসলামে আছে, কিন্তু আমাদের সমাজে প্রচলিত নেই, সেগুলোকেই মূলত হাইলাইট করতে চাই।

    তবুও চেষ্টা করবো পরবর্তীতে কোরআন এবং হাদীসের উদ্ধৃতি দিয়েই পোস্ট দিতে।

    দ্য মুসলিম

    @নাজনীন,

    আপনি বুঝতে পেরেছেন সেজন্য ধন্যবাদ। সাদাত ভাইকেও ধন্যবাদ।

    তবুও চেষ্টা করবো পরবর্তীতে কোরআন এবং হাদীসের উদ্ধৃতি দিয়েই পোস্ট দিতে।
    ইনশাআল্লাহ। আল্লাহ তায়ালা আমাদের সকলের এই ক্ষুদ্র প্রচেষ্টাকে কবুল করুন। আমিন।