লগইন রেজিস্ট্রেশন

কবিরা গুনাহ-১ (শিরক বা আল্লাহর সাথে অংশী সাব্যস্ত করা।)

লিখেছেন: ' দ্য মুসলিম' @ রবিবার, নভেম্বর ২২, ২০০৯ (৭:০১ পূর্বাহ্ণ)

আসসালামু আলাইকুম ওয়ারাহমাতুল্লাহ,

কয়েকদিন আগে মহান আল্লাহ তায়ালার রহমতে কবিরা গুনাহ এর লিষ্ট প্রকাশ করেছিলাম পোষ্ট আকারে। এখন থেকে একটি করে বিস্তারিত প্রকাশ করার চেষ্টা করবো ইনশাল্লাহ। দোয়া করবেন আল্লাহ তায়ালা যেন কাজটি শেষ করার তৌফিক দেন।

কবিরা গুনাহ-১(শিরক বা আল্লাহর সাথে অংশী সাব্যস্ত করা।

কবিরা গুনাহগুলোর মধ্যে সবচেয়ে জঘন্যতম হচ্ছে আল্লাহ তায়ালার সাথে শিরক করা। শিরক দুই প্রকারঃ ১) আকীদা বা বিশ্বাসগত শিরক ২) রিয়া

১) আক্বীদা বা বিশ্বাসগত শিরকঃ
অর্থাৎ আল্লাহ তায়ালা ছাড়া তাঁরই সৃষ্ট অপর কিছুকে আল্লাহর সমতুল্য মনে করা।
পবিত্র কোরআন এর দলিলঃ

  • “নিশ্চয়ই আল্লাহ তাঁর সিথে (অপর) কাউকে অংশী সাব্যস্ত করার অপরাধ ক্ষমা করবেন না। এছাড়া অন্য যে কোন গুনাহ যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করেন।” (সুরা আননিসা-৪৮)
  • “নিশ্চয়ই শিরক হচ্ছে চরম জুলুম।” (সুরা লুকমান-১৩)
  • “যে লোক আল্লাহর সাথে অপর কাউকে অংশীদার স্হীর করবে, আল্লাহ তার জন্য বেহেশত নিষিদ্ধ ঘোষনা করেছেন এবং তার বাসস্হান নরকানল।” (সুরা মায়েদা-৭৫)

পবিত্র হাদিস এর দলিলঃ

  • “একদা রাসুলুল্লাহ (সাঃ) তিন বার বললেনঃ আমি কি তোমাদেরকে বৃহৎ গুনাহ সম্পর্কে অবহিত করবো না?, সাহাবায়ে কেরাম (রাঃ) বললেনঃ হ্যা, ইয়া রাসুলুল্লাহ! তিনি এরশাদ করলেনঃ আল্লাহ তায়ালার সাথে অংশীদার সাব্যস্ত করা, পিতা মাতাকে কষ্ট দেয়া (অবাধ্যচারী হওয়া)। অনন্তর তিনি ঠেস দেয়া অবস্হা থেকে সোজা হয়ে বসে (পুনরায়) বললেনঃ মিথ্যা বলা এবং মিথ্যা সাক্ষ দেয়া থেকে সতর্ক থেকো। একথা তিনি এতবার বলতে থাকেন যে, হাদীসটির বারী বলেনঃ আমরা মনে মনে বলতে লাগলাম, তিনি যদি নিরব হতেন তবে ভাল হতো।” (বোখারী ও মুসলিম)
  • “তোমরা সর্বনাশা ধ্বংসাত্মক সাতটি কবীরা গুনাহ থেকে বেঁচে থাক।” অনন্তর রাসুল (সাঃ) শিরককে হিসেবে উল্লেখ করে এই কথা ও বললেনঃ যে লোক স্বীয় ধর্ম পরিত্যাগ করে অন্য ধর্ম গ্রহন করে, তাকে হত্যা করা।” (আহমদ ও বোখারী)

১) রিয়া বা লোক দেখানো ইবাদতঃ
অর্থাৎ লোক দেখানোর জন্য নেক আমল করা।
পবিত্র কোরআন এর দলিলঃ

  • “সুতরাং যে লোক তার প্রভুর সাক্ষাত কামনা করে, সে যেন সৎকাজ করে এবং স্বীয় প্রতিপালকের উপাসনায় অন্য কাউকে অংশীদার সাব্যস্ত না করে।” (সুরা কাহফ্ -১১০)
  • “আমি তাদের কৃতকর্মসমুহের প্রতি মনোযোগ দেব এবং সেগুলোকে বিক্ষিপ্ত ধূলিকণায় পরিণত করবো” (আল ফুরকান-২৩)

পবিত্র হাদীস এর দলিলঃ

  • “ছোট শিরক থেকে তোমরা সাবধান থাক। সাহাবায়ে কেরাম (রাঃ) বললেনঃ ছোট শিরক কি? তিনি বললেনঃ রিয়া-লোক দেখানোর উদ্দেশে নেক আমল করা। যেদিন আল্লাহ পাক স্বীয় বান্দাদের প্রতিদান দেবেন, সেদিন তিনি তাদেরকে বলবেনঃ পার্থিব জীবনে যাদের দেখিয়ে তোমরা নেক আমল করতে, তাদের কাছে গমন করা। দেখ তাদের কাছে কোন প্রতিদান পাও কিনা।” (আহমদ, বায়হাকী ও তাবারানী)
  • “মহান আল্লাহ পাক বলেছেনঃ যে লোক এমন কোন কাজ করে, যাতে আমার সাথে আর আউকে শরীক করে, তার সে কাজ তার জন্য, যাকে সে শরীক করেছে। সে কাজের সাথে আমি সম্পৃক্ত নই।” (মুসলিম, ইবনে মাযা)
  • যে লোক (অপরকে) শুনায়, আল্লাহ পাকও তার বেলায় মানুষকে শুনাবেন, আর যে লোক দেখায় (অপরকে দেখানোর জন্য সৎকাজ করে), আল্লাহ পাকও তার সঙ্গে লোক দেখানো আচরন করবেন।” (বোখারী ও মুসলিম)
  • “এমন অনেক রোযাদার আছে, যার রোযায় ক্ষুধা তৃষ্ঞা ছাড়া অন্য কিছু অর্জিত হয় না। আ এমন অনেক রাত জেগে নামায আদায়কারী আছে, যাদের অনিদ্রা বা রাত জাগা ছাড়া কোন ফলই অর্জিত হয় না।” (ইবনে মাযা, আহমদ, তাবারানী ও বায়হাকী)

মাআ’স সালাম। আল্লাহ হাফেজ।

Processing your request, Please wait....
  • Print this article!
  • Digg
  • Sphinn
  • del.icio.us
  • Facebook
  • Mixx
  • Google Bookmarks
  • LinkaGoGo
  • MSN Reporter
  • Twitter
১৯৪ বার পঠিত
1 Star2 Stars3 Stars4 Stars5 Stars ( ভোট, গড়:০.০০)