লগইন রেজিস্ট্রেশন

কিছু প্রচলিত ও বিভ্রান্তিকর প্রশ্নের উত্তর-১

লিখেছেন: ' দ্য মুসলিম' @ সোমবার, মার্চ ৮, ২০১০ (১০:৩২ অপরাহ্ণ)

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারকাতুহু।

সুত্রঃ আশরাফুল জাওয়াব।
মুলঃ আশরাফ আলী থানভী (রঃ)

১. লোকেরা গাফুরুর রাহীম-এর অর্থ বুঝতে ভুল করেছে।


আল্লাহ গাফুরুর রাহীম, তওবা ইস্তিগফার করে নেব আর গুনাহ মাফ হয়ে যাবে। কিন্তু পার্থিব লাভ অর্থাৎ গৃহ নির্মান বিনা ঘুষে সম্ভব নয়। ঘুষ ছাড়া তাৎক্ষনিক উপকার অসম্ভব আর ক্ষতি দৃশ্যত অপূরণীয়। সুতরাং যে ক্ষতি পূরণ করা সম্ভব তা স্বীকার করে ঘুষ নেয়া বাঞ্ছনীয়। অতঃপর আল্লাহর নিকট থেকে ক্ষমা করিয়ে নেব।

বন্ধুগণ! উপরোক্ত সংলাপ থেকে সহজেই অনুমেয় যে, নফস অকল্যাণকে কিভাবে কাল্যানের ভঙ্গিতে, মঙ্গলের আকৃতিতে রঞ্জিত করে পেশ করে। কিন্তু শয়তানের এ সর্বনাশা শিক্ষার দৃষ্টান্ত সে প্রসিদ্ধ ঘটনায় প্রণিধানযোগ্য– এক ব্যক্তি তার তোতা পাখিকে “এতে কি সন্দেহ” ফার্সি গদ শিখিয়েছিল। এখন প্রত্যেক প্রশ্নের জবাবে সে একই বুলি আওড়ায়। বস্তুত বাক্যটিও এমনি প্রকৃতির যে, অধিকাংশ প্রশ্নের জবাব হতে পারে। সুতরাং বেচার জন্য সে ব্যক্তি পাখিটি বাজারে নিয়ে দাবি করল- আমার তোতা ফার্সি কথা বলে। এ ব্যক্তি পরীক্ষামুলক কয়েকটি প্রশ্ন করে, জবাবে সে (এতে কি সন্দেহ) বুলিই আওড়িয়ে যায়। বলা বাহুল্য, প্রশ্নগুলি ছিল এমন ধরণের যার জবাবে উক্ত বাক্যের প্রয়োগ শুদ্ধ ছিলো। প্রশ্নকারী খুশী হয়ে ক্রয় করে পাখিটি বাড়ি নিয়ে যায়। এখন এদিক সেদিকের যত কথাই সে জিজ্ঞেস করে পাখির জবাব একই ‘দরী চে শক’। কথাটা ঐ ক্ষেত্রে খাটুক আর নাই খাটুক সে একই কথা বলতে থাকে। সে লোক এক পর্যায়ে বিরক্ত হয়ে বলল, দুঃখ- তোকে খরিদ করাটাই আমার বোকামি হয়েছে। এর জবাবেও তোতার একই কথা- ‘ দরী চে শক ‘।

আমাদের নফস ও তদ্রূপ একটি বুলি মুখস্হ করে সর্বত্র চালিয়ে দিচ্ছে- “আল্লাহ গাফুরুর রাহীম”। আল্লাহর হক কিংবা বান্দার হক গুনাহ যে জাতেরই হোক কথা তার একই। দ্বিতীয়ত, এ আহমকদের এ-ও জানা নেই যে, আল্লাহ গাফুরুর রাহীম হলেই পাপের সাজা না হওয়া কি করে অনিবার্য হয়? গাফুরুর রাহীম হওয়ার জন্য তাই যদি জরুরী হয়, তবে আল্লাহ পাক আখিরাতে যেরূপ গাফুর ও রাহীম, দুনিয়াতে তো তিনি তাই। কেননা আল্লাহর সিফাত বা গুণ চিরন্তন। সুতরাং গাফুর ও রাহীম হওয়ার অর্থ যদি এই হয় যে, যা মনে চায় তাই কর- ক্ষতির কোন আশংকা নেই, তাহলে বিষ খেলে তার ক্রিয়া না হওয়া উচিত। অথচ তা অনিবার্যরূপে হয়ে থাকে। তা সত্বেয় আল্লাহ গাফুর ও রাহীম আর গুনাহের সাজাও হবে। কারণ গাফুরুর রাহীম হওয়ার জন্য পাপের সাজা না হওয়া অনিবার্য নয়।
আল্লাহ রাহীম তথা দয়ালু এ অর্থেও যে তিনি জানিয়ে দিয়েছেনঃ “বেহুশ অবস্হায় নামাযের নিকট যাবে না এবং যিনার ধারে-কাছেও ঘেঁষবে না, এসব বড় অশ্লীল কাজ। ” এটা তার পক্ষ থেকে বিরাট অনুগ্রহ যে, তিনি স্বয়ং কল্যাণধর্মী বিধান রচনা করে সবার সামনে ঘোষনা করে দিয়েছেন যে, কল্যান ও সন্তুষ্টির পথ এটাই। নতুবা আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টির রাস্তা জেনে নেয়ার দায়িত্ব মুলত ছিল আমাদের উপর। অধিকন্তু মহান আল্লাহ কর্তৃক তার সন্তুষ্টির পথনির্দেশের সাথে জননিরাপত্তামূলক বিষয়ও শিখিয়েছেন। এছাড়া রহীম শব্দের আরো বহু অর্থ রয়েছে যা আমি পরে উল্লেখ করবো। সাজা-শাস্তির পর মাফ করে দেয়াও ক্ষমার অর্থবোধক।

প্রশ্ন হতে পারে- সাজার পর ক্ষমা এ দুয়ের সমাবেশ কেমন যেন অযৌক্তিক কথা এবং এদের মধ্যে পারস্পরিক বৈপরিত্যও বিদ্যমান। উত্তরে বলব– বন্ধুগণ! আপনারা আল্লাহর শ্রেষ্ঠত্ব আর গুনাহর রহস্য কোনটাই যথার্থ মূল্যায়ন করতে পারেননি। তাই শুনুন, গুনাহ বা পাপ বলা হয়ে প্রভুর অবাধ্যতাকে। অতঃপর প্রভুর শ্রেষ্ঠত্ব ও বড়ত্ব অনুসারে অপরাধের মাত্রা নির্ণিত হয়। যেমন জেলা প্রশাসকের হুকুম অমান্য করা অপরাধ ঠিকই কিন্তু বড়লাটের অবাধ্যতা তদপেক্ষা বড় অপরাধ। সম্রাটের হুকুম অমান্য তার চাইতেও মারাত্মক অপরাধ। অনুরূপ বড় ভাইয়ের হুকুম অমান্য করা অন্যায় কিন্তু পিতার অবাধ্যতা আরো বড় অন্যায়। মোট কথা, মালিক বা প্রভুর শ্রেষ্ঠত্ব অনুপাতে অপরাধের মাত্রা ধার্য হয়। আমার কথার একাংশ তো এই। দ্বিতীয় অংশ হলো- আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ তাঁর সমকক্ষ কেউ নেই এটা সর্বজনস্বীকৃত কথা। কারণ অন্যদের বড়ত্ব সীমিত আকারের অথচ আযমতে ইলাহী তথা আল্লাহ তায়ালার শ্রেষ্ঠত্ব অসীম, অকল্পনীয়। তৃতীয়ত, অপরাধ অনুপাতে সাজা হবে এটা সর্বজনস্বীকৃত। তাহলে এখন বুঝুন, আল্লাহ অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ কেউ নেই। তাই তাঁর অবাধ্যতার চেয়ে বড় অবাধ্যতা আর কিছুই হতে পারে না। অতএব, তাঁর অবাধ্যতার সাজার অধিক সাজা অন্য কারো অবাধ্যতায় না হওয়াই যথার্থ। গায়রুল্লাহর বড়ত্ব যেহেতু সীমিত পর্যায়ের, কাজেই তার অবাধ্যতার সাজাও সীমিত হওয়া বাঞ্ছনীয়। পক্ষান্তরে আল্লাহ তায়ালা সীমাহীন শ্রেষ্ঠত্বের মালিক- অতএব, তাঁর অবাধ্যতার শাস্তি অসীম হওয়াই যুক্তিযুক্ত। সুতরাং এ যুক্তির দাবি হলো, নাফরমানী যেহেতু মহান আল্লাহর তাই কারো দ্বারা সগীরা বা ছোট গুনাহ সংঘটিত হলে তার সাজা ক্ষমাহীন চির জাহান্নাম হওয়াই ছিল যুক্তিযুক্ত। অথচ কাফির-মুশরিক ব্যতীত অন্য কারো জন্য চির জাহান্নাম নির্ধারিত নয়। সুতরাং গুনাহর সাজা দশ হাজার কিংবা দশ লাখ বছর ভোগ করার পরও যদি মুক্তি পাওয়া যায়, তবে তা আল্লাহর পক্ষ থেকে মাগফিরাত তথা ক্ষমা হিসেবে গন্য হবে কি-না? অবশ্যই অবশ্যই এটা তাঁর ক্ষমা ও দয়া।

মামলা-মোকাদ্দামার ঘটনা প্রবাহে আমরা প্রত্যহ লক্ষ করি- দশ বছর কারাযোগ্য অপরাধীকে দুবছর দন্ডভোগের পর মুক্তি দেয়া হলে তা বিচারকের বিরাট দান ও অনুগ্রহ বলে গন্য করা হয়। যদি তাই হয়, তবে আল্লাহ সীমাহীন, চিরন্তন আযাবের পরিবর্তে সাজার সময়সীমা সীমিত করে দশ হাজার বা দশ লাখ বছর পরও যদি মুক্তি দান করেন, এমতাবস্হায় অবশ্যই এটা তাঁর মাগফিরাতেরই পর্যায়ভুক্ত। বিষয়ট এতক্ষণে হয়তো আপনাদের নিকট পরিষ্কার হয়ে থাকবে যে, গাফুর তথা ক্ষমাশীল হওয়ার জন্য শাস্তিদানে বিরত থাকা অনিবার্য নয়। বরং নির্দিষ্ট মেয়াদকাল পর্যন্ত সাজা ভোগের পর মুক্তি দেয়াও ক্ষমাশীল হওয়ার অর্থ প্রকাশ করে। এর অপর অর্থ এ-ও হতে পারে যে, পাপাচারের সাথে সাথেই পার্থিব জীবন-সীমায় প্রকাশমান তাৎক্ষণিক দন্ড দান না করা। একে তাঁর রহমত বা দয়াও বলা হয়। রাহীমের দ্বিতীয় অর্থ শুনুন। এটা সবার জানা কথা যে, ক্ষমাপ্রাপ্ত ব্যক্তির পক্ষে কারামুক্তিই বড় কথা, তাকে পুরস্কার দেয়ার কোন নিয়ম নেই, এর হকদারও তাকে কেউ মনে করে না। তাহলে জাহান্নামের কারাগার থেকে নিষ্কৃতি দিয়ে সুখে-দুঃখে যথা ইচ্ছা ঘুরে বেড়াক, বান্দাকে স্বাধীনভাবে ছেড়ে দেয়া মহান আল্লাহ তায়ালার হক ছিল। কিন্তু তিনি রাহীম-দয়াবান তাঁর অনুগ্রহের চিরন্তন আকর্ষনে বান্দাকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দিয়ে জান্নাতে ঠাঁই দিয়েছেন, যাতে এমন সব সুখের আয়োজন যা কখনো কেউ চোখে দেখেনি, কানে শোনেনি, এমনকি অন্তরে কল্পনা করাও সম্ভব নয়।

অতঃপর অপরাধ ক্ষমা করে বান্দাকে তিনি নৈকট্য দান করেন। কারো সাথে সাপ্তাহে, কারো সাথে মাসিক আবার কারো সাথে বছরান্তে সাক্ষাতের ব্যবস্হা নির্ধারিত থাকবে। সকাল-সন্ধা দৈনিক দুবার সাক্ষাত লাভে ধন্য ব্যক্তিই হবে আল্লাহ তায়ালার সর্বাধিক প্রিয় বান্দ। অধিকন্তু আগন্তুকের প্রতি সালামের নির্দেশ ঘোষিত না হয়ে হাদীসের মর্ম অনুযায়ী বরং সকল মানুষকে জান্নাতের বাগানে একত্র করে স্বয়ং নূরে ইলাহী বিকশিত হবে এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে কালামে রাব্বানী উচ্চারিত হবে (তোমাদের উপর শান্তি বর্ষিত হোক।) সুতরাং সাধ্য থাকে তো কেউ অপরাধীর সাথে এ ধরণের অনুগ্রহ ভরা আচরণের নযীর উপস্হান করুক। অতএব আপনাদের লক্ষ করার মত ব্যপার হলো- আল্লাহ কি পরিমাণ অনুগ্রহ প্রদর্শনের জন্য বান্দাদের প্রতি স্বয়ং সালাম পাঠাবেন, অতঃপর তাদেরকে নিজের প্রতি আহবানের পরিবর্তে নিজেই আগমন করে নূরের তাজাল্লীন বিকশিত করবেন। একবাক্যে সবার কন্ঠে তখন উচ্চারিত হবেঃ শাহানশাহ-রাজাধিরাজ এখন আমাদের মেহমান।
তাই রহমতের অর্থ আপনাদের পরিষ্কার হওয়া স্বাভাবিক। এ ব্যাখ্যা দ্বারা আপনাদের উপলব্দি হলো অনুগ্রহের জন্যে জরুরী নয় যে, অপরাধের সাজাই না হোক। এ জাতীয় মানসিকতা নফসের প্রবঞ্চনা ভিন্ন কিছুই নয়। একেই বলা হয়– অর্থাৎ সত্য ভাষনের অসৎ উদ্দেশ্য। তাই আমি বলি- মানব প্রবৃত্তি বা নফস কল্যাণের আবরণে অকল্যাণ ডেকে আনে।

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়াবারকাতুহু।

Processing your request, Please wait....
  • Print this article!
  • Digg
  • Sphinn
  • del.icio.us
  • Facebook
  • Mixx
  • Google Bookmarks
  • LinkaGoGo
  • MSN Reporter
  • Twitter
৯৭ বার পঠিত
1 Star2 Stars3 Stars4 Stars5 Stars ( ভোট, গড়:০.০০)

২ টি মন্তব্য

  1. (Y) (Y) (Y)

    দ্য মুসলিম

    @হাফিজ,ধন্যবাদ।