লগইন রেজিস্ট্রেশন

প্রশ্ন: নং (২) মরিয়ম ফুলের পাপড়ি ভিজিয়ে চিকিৎসা বিষয়ে।

লিখেছেন: ' সাপোর্ট টিম [ পিস ইন ইসলাম ]' @ রবিবার, মার্চ ৬, ২০১১ (১:১৩ অপরাহ্ণ)

প্রশ্নঃ মরিয়ম ফুলের পাপড়ি ভিজিয়ে রেখে সেই ফুলের পানি পান করলে পসব বেদনা উঠে, সহজে নরমাল ডেলিভারী হয়, এ ধরনের কথা প্রচলিত আছে। এসব কথার কোন ভিত্তি আছে কি?
প্রশ্নকারীঃ সাদাত ।
উত্তরঃ উক্ত কথাটি কুরআন ও হাদীস দ্বারা প্রমাণিত নয়। কারণ ইহা একটি শারিরীক চিকিৎসার বিষয়, যা ওহীর উপর নির্ভর করেনা। বরং পরীক্ষা ও অভিজ্ঞতার মাধ্যমে জানা সম্ভব। আর রাসুলে করীম (সাঃ) কে যেহেতু প্রেরণ করার মুল উদ্দেশ্য মানুষকে জান্নাতী পথের সন্ধান দেয়া, যা জ্ঞান ও চিন্তার মাধ্যমে অবগত হওয়া সহজ ছিলনা। তাই শরীয়তের মুল লক্ষ্যকে সামনে রেখে প্রয়োজনীয় কিছু চিকিৎসার পদ্ধতি বর্ণনা করার সাথে সাথে জায়েজ পদ্ধতিতে সর্বপ্রকার রোগের চিকিৎসা গ্রহন করার উপর ও উৎসাহ প্রদান করা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে হাদীস শরীফে বর্ণিত আছে রাসুল (সাঃ) ইরশাদ করেন, প্রত্যেক রোগের ঔষধ রয়েছে। যখন তা ব্যবহার করা হয়, আল্লাহ তায়ালার ইচ্ছায় রোগ থেকে প্ররিত্রান লাভ করা যায়। (মুসলিম শরীফ হাদীস নং ২২০৪)
অপর বর্ণনায় হযরত জাবের (রাঃ) বলেন, আমি রাসুল (সাঃ) এর নিকট বসা ছিলাম এমন সময় একদল গ্রাম্য লোক এসে জিজ্ঞাসা করল, ইয়া রাসুলালস্নাহ ! আমরা কি চিকিৎসা গ্রহন করতে পারি? উত্তরে তিনি বললেনঃ অবশ্যই হে আলস্নাহর বান্দাগণ তোমরা চিকিৎসা গ্রহন কর। (আবু দাউদ শরীফ হাদীস নং ৩৮৫৫)
অতএব যদি কোন বিজ্ঞ ডাক্তার স্বীয় অভিজ্ঞতার আলোকে জায়েয পদ্বতিতে কোন রোগের চিকিৎসা সর্ম্পকে পরামর্শ দিয়ে থাকেন, তাহলে তা গ্রহন করাই শ্রেয়। (যাদুল মাআদঃ১/১০,২৪)
সুতরাং মনে রাখতে হবে আলোচ্য পদ্বতিটি কুরআন ও হাদীস দ্বারা প্রমাণিত না হলেও তার অনুরূপ একটি পদ্বতি হাকীমুল উম্মত আশরাফ আলী থানভী (রহঃ) থেকে বর্ণিত হয়েছে। তিনি গর্ভপাত আসন্ন মহিলাদের বিভিন্ন বিষয়ে পরামর্শ দিতে গিয়ে বলেনঃ সাড়ে দশ মাশা (প্রায় ১০গ্রাম) পরিমান গোলাপ ফুলের পাঁপড়ি ১২৫ গ্রাম পরিমান পানিতে ভিজিয়ে রেখে, ছাকার প্রয়োজন না হয় এমন ভাবে পিশে তার সাথে মিসরি বা মিষ্টি জাতীয় কিছু মিশিয়ে সকালে শ্বাস বন্দ করে পান করালে গর্ভবতী মহিলার দুই তিন গুন শক্তি বৃদ্বি পায়, ফলে সহজে ডেলিভারি হয়। (বেহেস্তি যেওর খন্ডঃ৯, পৃষ্ঠাঃ৫৪,)
আশা করা যায়, উক্ত পদ্বতি অবলম্বন করলে আল্লাহ তায়ালা গর্ভপাত সহজ করবেন ইনশাআল্লাহ। কারণ তিনি প্রত্যেক জিনিসকে বিভিন্ন গুন দিয়ে সৃষ্টি করেছেন। যা বর্ণনা করার অপেক্ষা রাখেনা।
অতএব অনুরূপ যে কোন গাছ, পাতা, ফুল ইত্যাদি অভিজ্ঞ ব্যক্তির পরামর্শে ব্যবহার করা যেতে পারে।
উত্তর দাতা
মাওঃ মোঃ আসাদুজ্জামান
ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার বাংলাদেশ,
বসুন্ধরা, ঢাকা।
হাদীস বিভাগ, ২য় বর্ষ।

Processing your request, Please wait....
  • Print this article!
  • Digg
  • Sphinn
  • del.icio.us
  • Facebook
  • Mixx
  • Google Bookmarks
  • LinkaGoGo
  • MSN Reporter
  • Twitter
৬,৯৮৩ বার পঠিত
1 Star2 Stars3 Stars4 Stars5 Stars (ভোট, গড়: ৩.৬৭)

Comments are closed.