লগইন রেজিস্ট্রেশন

পৃথিবীর প্রথম সংবিধান মদিনা সনদ ।

লিখেছেন: ' জাহিদ' @ বুধবার, ডিসেম্বর ৯, ২০০৯ (১২:০৩ পূর্বাহ্ণ)

আমাদের প্রিয় নবী হযরত মোহাম্মদ (সাঃ) প্রবর্তিত মদিনা সনদ সর্বকালের মানুষের জন্য অনুকরনীয় ও অনুস্বরনীয় দৃষ্টান্ত । সর্ব প্রথম মদিনায় সুশাসন ও শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষে তিনি এ সনদ প্রবর্তন করেছিলেন ।

মদিনায় তখন মুসলমান ছাড়াও অন্যান্য সম্প্রদায়ের লোক বাস করত । ঐ সব সম্প্রদায়ের লোকদের মধ্যে সর্বদাই কলহ বিবাদ লেগে থাকত । তারা একে অন্যের বিরুদ্ধে অস্ত্র ধারন করত । নবী করিম (সাঃ) উপলদ্ধি করতে পেরেছিলেন যে, মদিনার এসব কলহ প্রিয় লোকদের ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ করতে না পারলে তার মহান উদ্দেশ্য ব্যার্থ হয়ে যাবে ।

নবী করিম (সাঃ) ৬২২ খ্রিষ্টাব্দে মক্কা হতে মদিনায় হিযরত করেন । মদিনায় ইসলামের নিরাপত্তা বিধান, , ইসলামি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা, সুশাসন কায়েম ,মদিনা বাসীদের মধ্যে শান্তি স্হাপন প্রভৃতি বাস্তবায়নের লক্ষে তিনি একটি সনদ প্রনয়ন করেন । এ সনদের মৃল মন্ত্র ছিল ` নিজে বাঁচ এবং অন্যকে বাঁচতে দাও ` মদিনা সনদের শর্তগুলি নিম্নরুপ ।

১. সনদে স্বাক্ষরকারী মুসলমান, নাসারা এবং পৌত্তলিক সম্প্রদায় সবাই সমান অধিকার ভোগ করবে ।

২. নবগঠিত প্রজাতন্ত্রের সভাপতি হবেন হযরত মোহাম্মদ (সঃ) এবং পদাধিকার বলে তিনি মদিনার সর্বোচ্চ বিচারপতি নিযুক্ত
হবেন ।

৩. মুসলমান এবং অন্য সবাই স্বাধীন ভাবে যে যার ধর্ম পালন করতে পারবে। কেউ কারো ধর্মীয় ব্যাপারে হস্তক্ষেপ করতে পারবে না ।

৪. ইহুদিদের মিত্ররাও স্বাধীনাতা ও নিরাপত্তা ভোগ করবে ।

৫. হযরত মোহাম্মদ (সাঃ) পৃর্ব সম্মতি ছাড়া মদিনা বাসী কারো বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষনা করতে পারবেনা । তবে ব্যাক্তিগত শত্রুতার প্রতিশোধ গ্রহন করতে পারবে ।

৬. সনদে স্বাক্ষর কারী কোন সম্প্রদায়ের মধ্যে বিরোধ দেখা দিলে তা আল্লাহর বিধান অনুযায়ী মিমাংশা করা হবে ।

৭. বহিঃশত্রু কতৃক মদিনা আক্রান্ত হলে সনদে স্বাক্ষরকারী সকল সম্প্রদায়ই বাধা প্রদান করবে ।

৮. বহিঃশত্রুর আক্রমন প্রতিহত করনের সব যুদ্ধ ব্যায় স্ব-স্ব সম্প্রদায় নিজেরাই বহন করবে ।

৯. সকল অপরাধীকে উপযুক্ত শাশ্তি ভোগ করতে হবে । এবং যারা মুসলমান তারা সকল প্রকার পাপী ও অপরাধীকে ঘৃনা করবে ।

১০. মদিনা শহরকে পবিত্র শহর বলে ঘোষনা করা হল ।

১১. মদিনায় রক্তপাত, হত্যা, অন্যায়, অনাচার নিষিদ্ধ করা হল ।

১২. সনদে স্বাক্ষরকারী সম্প্রদায়ের কোন ব্যাক্তি অপরাধ করলে তা তার ব্যাক্তিগত অপরাধ বলেই গন্য করা হবে । এর জন্য অপরাধীর সম্প্রদায়কে কোন অবস্হাতেই দোষী স্বাব্যাস্ত করা চলবে না ।

১৩. কোন সম্প্রদায়ই কুরাইশদের কিংবা বাইরের কোন শত্রুর সাথে কোন প্রকার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হতে পারবে না ।

১৪. এ সনদের কোন শর্তাবলি কেউ ভঙ্গ করলে তার উপর আল্লাহর অভিসম্পাত কামনা করা হয়েছে ।

১৫. শোনিত (রক্ত ) পন পৃর্বের ন্যায় বহাল থাকবে ।

১৬. মদিনার অভ্যন্তরে ও বাইরে অবস্হানকারী সব শ্রেনীর লোকের অধিকার সমান থাকবে ।

আজ থেকে চৌদ্দশত বছর আগে ইসলামের প্রাথমিক যুগে এই মদিনা সনদের গুরুত্ব ও তাৎপর্য ছিল অপরিসিম । তৎ কালিন বিশ্বে এমন সুদুর প্রসারী চিন্তা চেতনা কোন রাষ্ট্র নায়কের মধ্যে দেখা যায়নি । তাই মদিনা সনদকে পৃথিবীর প্রথম লিখিত সংবিধান বলা হয় । এই মদিনা সনদে সরকারের প্রকৃতি, নাগরিকের মৌলিক অধিকার , রাষ্ট্রের প্রতি নাগরিকের দায়িত্ব ও কর্তুব্যবোধ ইত্যাদি বিশেষ ভাবে সংরক্ষিত হয়েছে ।

এই মদিনা সনদের ধারা বাহিকতায়ই আজকের পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ তাদের ধর্ম, সামাজিক কাঠামো, ভুখণ্ডে বসবাসকারী জন সাধারনের মন মানষিকতা, এবং রাষ্ট্রের ভৌগলিক অবস্হানের উপর ভিত্তি করে স্ব- স্ব সংবিধান রচনা করেছে । তাই মদিনা সনদকে আমরা সংবিধানের সুতিকাগারও বলতে পারি ।

আজ থেকে চৌদ্দশত বছর আগে মদিনা সনদে সেদিন যে মানবতার বীজ প্রোথিত হয়েছিল তা আজ মহীরুহ রুপে সারা পৃথিবীতে ব্যাপ্ত ।

Processing your request, Please wait....
  • Print this article!
  • Digg
  • Sphinn
  • del.icio.us
  • Facebook
  • Mixx
  • Google Bookmarks
  • LinkaGoGo
  • MSN Reporter
  • Twitter
৩,৪৬৭ বার পঠিত
1 Star2 Stars3 Stars4 Stars5 Stars (ভোট, গড়: ৫.০০)

৯ টি মন্তব্য

  1. আজ থেকে চৌদ্দশত বছর আগে মদিনা সনদে সেদিন যে মানবতার বীজ প্রোথিত হয়েছিল তা আজ মহীরুহ রুপে সারা পৃথিবীতে ব্যাপ্ত ।

    একমত। (F)

    জাহিদ

    @দ্য মুসলিম,

    সব থেকে দুঃখ জনক ব্যাপার হচ্ছে আমরা মুসলমানরা এই সত্যতা ভুলে গেছি ।

    ধন্যবাদ ।

  2. হ্যাঁ ঠিক বলেছেন। আমাদের মন অন্ধ হয়ে গেছে, তাই তো সত্য দেখতে পাইনা। যত সব চরম পন্থীরা ধর্মের ঠিকাদারী নিয়েছে। আর এর জন্য গত ১৩৬০ বছরে ও খেলাফত কায়েম হলো না। আপনার এই পোষ্টে বেশী কমেন্ট পাবেন বলে মনে হয়না। তবুও অপরাধীকে অভিশাপ না দিয়ে এ ভাবে অন্ধকারে একটি পোষ্ট মানে একটি মোমবাতি জ্বেলে যাবেন।

  3. আলহামদুল্লিলাহ। জাজাক আল্লাহ।

  4. আসসালামু আলাইকুম জাহিদ ভাই, জাজাকল্লাহ।

  5. এ সনদের মৃল মন্ত্র ছিল ` নিজে বাঁচ এবং অন্যকে বাঁচতে দাও `

    তবে আজ আমরা নিজেদের সাথর্ নিয়েই ব্যাস্ত। মদিনার সনদে এমনটা বলা ছিল না। আমাদের সবার উচিত মদিনার সনদের মুল মন্ত্র কে সন্মান করে জীবনটা পরিচালনা করা। আমি বিশ্বাস করি মদিনার সনদ যেমনিভাবে মদিনায় শান্তির বানী নিয়ে এসেছিল। আজ যদি আমরা মদিনার সনদের ন্যায় আমাদের সমাজ কে পরিচালনা করতে পারি তবে আমরা আমাদের সমাজে মদিনার ছায়া দেখতে পাবো।

    অসংখ ধন্যবাদ জাহিদ ভাইকে সুন্দর লেখাটি উপহার দেবার জন্য ।

  6. জাযাকাল্লাহু তায়ালা খাইর। জানতে পেরে খুব খুশি হলাম।