লগইন রেজিস্ট্রেশন

হাজার মাসের চেয়েও উত্তম রজনী কোনটি?

লিখেছেন: ' abufaisal' @ রবিবার, ডিসেম্বর ২০, ২০০৯ (৮:২৯ পূর্বাহ্ণ)

পবিত্র লাইলাতুল ক্বাদ্‌র এবং লাইলাতুল বরাত নিয়ে অনেক মুসলমান ভাই বোনদের মধ্যে কনফিউশান আছে। অনেকেই জানেননা পবিত্র কুরআন এবং হাদীস লাইলাতুল বরাতকে সাপোর্ট করছে নাকি লাইলাতুল ক্বাদ্‌রকে।
মহাগ্রন্থ আল্‌ কুরআনের ৯৭ নং সূরার নাম হচ্ছে – সূরা আল্‌ ক্বাদ্‌র। পাঁচটি আয়াত সম্বলিত এই সূরাটির বাংলা অনুবাদ নিম্নরুপ :- (১) নিশ্চয়ই আমি একে (পবিত্র কুরআনকে) নাযিল করেছি ক্বদরের রাতে। (২)আপনি কি জানেন, ক্বদরের রাত কি? (৩) ক্বদরের রাত হাজার মাস অপেক্ষাও উত্তম। (৪) এই রাত্রিতে প্রত্যেক কাজের জন্যে ফেরেশতাগণ ও রূহ অবতীর্ণ হয় তাদের পালনকর্তার নির্দেশক্রমে। (৫) এটা নিরাপত্তা যা ফজরের উদয় পর্যন্ত অব্যাহত থাকে।

পবিত্র হাদীস শরীফে মাহে রমজানের শেষ ১০ দিনের যেকোন বোজোড় যথা ২১, ২৩, ২৫, ২৭ বা ২৯ তম রজনীতে লাইলাতুল ক্বাদ্‌র তালাশ করার কথা বলা হয়েছে। সাহাবায়ে কেরামদের (রাঃ) কেউ কেউ খাছ করে ২৭ তম রজনীকে লাইলাতুল ক্বদ্‌র বলেছেন। সুতরাং আমরা রমজানের শেষ দশ দিনের বিজোড় রাত সমূহ তালাশ করলে লাইলাতুল ক্বাদ্‌র পেতে পারি। আমার আজকের আলোচ্য বিষয় সেটি নয়।

বাংলাদেশে তথা পাক-ভারত উপ মহাদেশের মুসলমানদের চরম দুর্ভাগ্য হচ্ছে – এ অঞ্চলের অধিকাংশ মুসলমান আল্লাহ ও রাসূল সা: এর নির্দেশের চেয়ে বিভিন্ন রসম রেওয়াজ ও পীর-বুজর্গের বাণীকেই অগ্রাধীকার দিয়ে থাকেন বেশী। অনেক উদাহরণের দিকে না গিয়ে শুধু মাত্র লাইলাতুল বরাত এবং লাইলাতুল ক্বাদ্‌রের পর্যালোচনা করলেই বিষয়টি আমাদের নিকট স্পষ্ট হবে আশা করি।

মহাগ্রন্থ আল্‌ কুরআন ও হাদীস শরীফের কোথাও ‘লাইলাতুল বরাত’ নামে কোন রজনীর উল্লেখ নাই। অথছ আমাদের দেশে আবিস্কৃত! লাইলাতুল বরাতে ইবাদাতের নামে নানা পদের উপাদেয় খাওয়া দাওয়া, হালুয়া রুটি বিলানো, ফাতেয়া দেয়া ইত্যাদি করা হয় এই অন্ধ বিশ্বাসে যে, এ রাতে যে ভাবে খাওয়া দাওয়া চলবে, বছরের সব দিনগুলি নাকি সে ভাবেই চলবে। মসজিদে মসজিদে ওয়াজ মাহফিল, মিলাদ, জামায়াতের সাথে লাইলাতুল বরাতের নামাজ, মাজারে মাজারে ইবাদাতের নামে যেয়ারত। মসজিদ মাজারে নানা রকমের লাইটিং ডেকোরেশন ইত্যাদি ইত্যাদিতে এক মহা আয়োজন।(ইসলামী জ্ঞানের মূল উৎস পবিত্র কুরআন এবং হাদীসে ‘লাইলাতুল বরাত’ নামে কোন কিছু থাকলে আওয়াজ দিন। আমি আমার বক্তব্য ফিরিয়ে নেব)

এর বিপরীতে ‘পবিত্র লাইলাতুল কদর’ এর অবস্থা দেখুন, যে লাইলাতুল ক্বদরের উপর মহাগ্রন্থ আল কুরআনে একটি সূরা নাযেল হয়েছে, হাদীস শরীফে স্পষ্ট ভাবে বলা হয়েছে। সেই লাইলাতুল ক্বদর পালন করা হয় খুবই ঢিলে-ঢালা ভাবে। গুটি কয় আল্লাহর বান্দা ইবাদাতে থাকলেও লাইলাতুল বরাত নামের প্রোগ্রামে যারা মসজিদ মাতিয়ে রাখতেন তারা ঈদের কেনা কাটায় মার্কেটে ভির করেন অধিক হারে। কি জানি রমজানে ঈদের মার্কেটিং করার জন্য ক্বদরের বিকল্প হিসাবে রমজানের পূর্বেই বরাত বানানো হয়েছে কি না।

সূরাটির তৃতীয় আয়াতে বলা হয়েছে – “লাইলাতুল ক্বাদরি খাইরুম্‌মিন আলফে শাহার” অর্থাৎ ক্বদর বা ভাগ্য রজনী হাজার মাসেরে চেয়েও উত্তম। এখানে হাজার মাস মানে গুনে ৮৩ বছর ৪মাস নয়, মর্যাদার অধিক্য বুঝানোর জন্য হাজার মাসের চেয়েও উত্তম বলা হয়েছে।

লাইলাতুল ক্বদরের মর্যাদা এত বেশী কেন, তা ‍সূরার প্রথম আয়াতেই বলা হয়েছে – “ইন্না আনযাল্‌না হু ফী লাইলাতিল ক্বাদর” – ‘আমি এ (কুরআন) নাযিল করেছি ক্বদরের রাতে।’ সূরা দুখানে একে মুবারক রাত বলা হয়েছে। বলা হয়েছে : “ইন্না আনযালনা-হু ফী লাইলাতিল মুবারাকা” ‘অবশ্যি আমি একে একটি বরকতপূর্ণ রাতে নাযিল করেছি।’

উপরোক্ত আলোচনা থেকে আমরা বুঝতে পারলাম যে, মানব জাতির ইহ ও পরকালীন মুক্তির সনদ মহাগ্রন্থ আল্‌ কুরআন নাযিলের কারণে কদরের রাতটিকে সম্মানিত এবং বরকতময় করা হয়েছে। পবিত্র কুরআনের সাথে যথাযত সম্পর্ক গড়তে পারলে মহান আল্লাহ সুবহানা ওয়া তায়ালা মানব জাতির জীবনও বরকতময় করে দেবেন এবং ইহ ও পরকালীন জীবনে সম্মানিত করবেন।

এই মুবারক রাতে ইবাদতের ফযীলত অনেক বেশী। ওলামায়ে কেরামদের কেউ কেউ এই এক রাতের ইবাদাতকে ১০০০ মাসের ইবাদাতের সমান মর্যাদা সম্পন্ন বলে থাকেন। হ্যঁ, আল্লাহ রাব্বুল আলামীন তাঁর বান্দার আন্তরীকতার বিচারে এর চেয়েও বেশী ছওয়াব দান করতে পারেন। এখানে অতি সুক্ষ এবং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি কথা না বললে নয়। তা হলো – প্রতিটি নফল ইবাদাতের ছওয়াব কিন্তু বোনাস সমতুল্য। এই বোনাসের ভাগীদার একমাত্র তারাই হবেন, যারা নিয়মিত ফরজ বা বাধ্যতামূলক ইবাদাত সমূহ পালন করে থাকেন। সারা বছর ফরজ-ওয়াজিব, হালাল-হারামের কোন ধার না ধেরে একরাতের ইবাদাতে যার কেল্লা ফতেহ করতে চান, দয়া করে বিষয়টি আরেকবার ভাবুন। বোনাস সেই সব কর্মচারীদের জন্যই ঘোষনা করা হয় যারা প্রতিষ্ঠানের নিয়মিত কর্মচারী। অনিয়মিত মজুর দের জন্যও বোনাস হয় না।

Processing your request, Please wait....
  • Print this article!
  • Digg
  • Sphinn
  • del.icio.us
  • Facebook
  • Mixx
  • Google Bookmarks
  • LinkaGoGo
  • MSN Reporter
  • Twitter
৩২৯ বার পঠিত
1 Star2 Stars3 Stars4 Stars5 Stars ( ভোট, গড়:০.০০)

৯ টি মন্তব্য

  1. আমাদের দেশে “শবে বরাত বা লাইলাতুল বরাত” নিয়ে যা হয় তা সত্যিই দুঃখজনক, তবে যেহেতু সহীহ হাদীসে আছে……

    “এই শা’বান মাসে বান্দার আমল আল্লাহর দরবারে পেশ করা হয়; এজন্য এই মাসে বেশি বেশি নফল সিয়াম পালন করা উচিত। (নাসাঈ, আস-সুনান ৪/২০১; আহমদ, আল-মুসনাদ ৫/২০১)

    “শা’বান মাসের মধ্যম রজনী বা ১৫ই শা’বানের রাতে মহান আল্লাহ তাঁর বন্দাদেরকে মাজর্না করেন বলে সহীহ হাদীসে বর্ণিত হয়েছে।”

    তাই যারা শবে বরাত বা লাইলাতুল বরাত -এর অস্তিত্বকে একেবারে অস্বীকার করেন, তারাও স্পষ্ট ভ্রান্তিতে আছেন।

    abufaisal

    @mahmud,ধন্যবাদ ভাই মাহমুদ। পুরা সা’বান মাস, মধ্য-শা’বান সহ সব মাস এবং দিন-রাতের ইবাদাত মহান আল্লাহ অবশ্যই কবুল করবেন এবং ছওয়াব দান করবেন। আমার কথা হলো- লাইলাতুল কদর এর চেয়ে গুরুত্ব দিয়ে ঐ রাতে ইবাদাত এবং লাইলাতুল বরাত নাম দেয়ার ইখতিয়ার আমাদেরকে দেয়া হয়েছে? ব্যাপারটি কি এমন হয়ে গেল না যে, মহান আল্লহ ও তাঁর রাসূল (সঃ) লাইলাতুল বরাত নাম করণ করতে ভুলে গিয়েছিলেন (নাউজু বিল্লাহ) তা আমরা সংশোধন করে দিলাম?

    mahmud

    @abufaisal, ভাই আপনি বলেছেন—
    “লাইলাতুল কদর এর চেয়ে গুরুত্ব দিয়ে ঐ রাতে ইবাদাত এবং লাইলাতুল বরাত নাম দেয়ার ইখতিয়ার আমাদেরকে দেয়া হয়েছে? “
    ইসলামিক স্কলাররা কখোনোই লাইলাতুল বরাতকে লাইলাতুল কদর এর চেয়ে বেশী গুরুত্ব দেননি, দিয়েছে আমার মত কিছু বে-এলেম
    সাধারন মানুষ। এদের অধিকাংশই বছরের কিছু নির্দিষ্ট দিনে ইবাদাত করে থাকে।

    abufaisal

    @mahmud,আসল আসলামিক স্কলাররা অবশ্যই ঐসব কাজ করেন না। নকল স্কলাররাই মানুষকে বোকা বানাচ্ছেন। লাইলাতুল বরায়াত! এ কি কান্ড চলে একজন বাংলাদেশী হিসাবে তা আমাদের মোটেই অজানা নয়।

    আচ্ছা বলুনতো – লাইলাতুল ক্বদরের অনুকরণে ” লাইলাতুল বরায়াত” কোথা থেকে আবিস্কার করা হয়েছে? যদি হাদীস ও কুরআন শরীফে ‘লাইলাতুল বরায়াত’ নামে কিছু না থাকে? আমার প্রশ্ন নাম নিয়ে ইবাদাত নিয়ে নয়। ধন্যবাদ।

    mamun

    @mahmud, আমিও বিভ্রান্তিতে ছিলাম। সমস্যা হলো এই হাদীসটা আমিও পড়েছি। পরে জানতে পারলাম হাদীসটার সনদ সহীহ নয়। সূক্ষ্ম ভাবে বিচার করে দেখলাম নাসাঈ এবং আহমদে যে হাদীসটি বর্ণিত হয়েছে তার রাবী একজন মিথ্যা হাদীস বয়নকারী। তবে আমরা বেশী বেশী নফল নামাজ সব সময়ই পড়তে পারি।
    আমি শ’বে বারাত নিয়ে কম তর্ক করি নাই। যাচাই বাচাই করে দেখলাম একটা যয়ীফ হাদীসের পিছনে আমরা ছুটছি সহীহ হাদীস রেখে।
    হাদীস টা কেন যয়ীফ তাহা আমার “শবে’বরাত কি আসলেই ভিত্তিহীন বানোয়াট” শিরোণামে লেখা আছে।

    আসলে ভুলটা আমাদের মতো সাধরণ মানের মানুষ কেন করি জানেন? হাদীস পড়া এবং তার বিচার বিশ্লেষন করার আশ পাশ দিয়েও হাটি না। হুজুরগুলাতো আরো বড় পাজী, নিজেরা সঠিক আমল করেই না এবং আমাদেরও সঠিক পথের সন্ধান দেয় না। নিজে যেটা মনেপ্রাণে বিশ্বাস করে, সেটা ভুল হলেও স্বীকার করতে চায় না বরং ঐ ভুলটাকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য উঠেপড়ে লাগে।
    কাজেই আমরা মাঝখানে বসে বিভ্রান্তির মধ্যে ঘুরপাক খাই।

    আল্লাহ আমাদের সঠিক পথে চলার তৌফিক দান করুন আমীন…….

  2. লাইলাতুল বরাতের ব্যপারে যারা সমর্থন করে তাদের এই ব্যপারে শক্ত দলিল আছে বলে শুনেছিলাম। ওদের দলিল গুলো একবার যাচাই করা দরকার।

    mahmud

    @দ্য মুসলিম, ভাই আসলে লাইলাতুল বরাতের ব্যপারে কোন শক্ত দলিল নেই, যা আছে তার অধিকাংশই দূর্বল সনদে বর্ণিত। তবে ইলমে ফিকাহ -এর নীতি অনুসারে, ফযিলাত বিষয়ক যইফ ( দূর্বল) হাদীস (জাল নয়) আমলযোগ্য বলেই জানি। তবে তা অনানুষ্ঠানিক ভাবে, ব্যাক্তিগত ভাবে, বাড়াবাড়ি পর্যায়ে নয় কোন মতেই।
    আমাদের দেশে “শবে বরাত বা লাইলাতুল বরাত” নিয়ে যা হয় তা সত্যিই দুঃখজনক।

    mamun

    @mahmud, আল্লাহর ফযিলত লাভের জন্য যে সকল সহীহ হাদীস আছে তাহাই পালন করতে পারি না; আর দুর্বল, যয়ীফ হাদীসের আমল করে আবার কোন বিপদে পড়ব তাহা আল্লাহ পাকই ভাল জানেন। আমার জানামতে শরীয়তের মধ্যে নতুন কিছু আবিষ্কার করা সম্পূর্ণ হারাম। এমনকি ফযীলতের জন্যও নতুন কিছু আবিষ্কার করা যাবে না।

    দ্য মুসলিম

    @mamun,

    শরীয়তের মধ্যে নতুন কিছু আবিষ্কার করা সম্পূর্ণ হারাম। এমনকি ফযীলতের জন্যও নতুন কিছু আবিষ্কার করা যাবে না।</blockquote

    একমত। (F)