লগইন রেজিস্ট্রেশন

কোন বিষয়ে আল-কুরআনে বলা থাকলে হাদিস, সুন্নাহ বা অন্য কোন ব্যাখ্যার প্রয়োজন আছে কি?

লিখেছেন: ' সাদাত' @ রবিবার, মার্চ ২১, ২০১০ (৫:৪৫ অপরাহ্ণ)

[পোস্টের পেছনের কথা-
আমার এই পোস্টের কমেন্টে ফুয়াদ ভাই বললেন:
পয়েন্ট ১
যেহেতু ব্যাবিচারের শাস্তির ব্যাপারে আল কুরান নিজেই বলে ফেলেছে, সেখানে আর কোন ব্যাক্ষার অবকাশ নেই।

মন্তব্যকারিদের প্রতি অনুরোধ:
১.বিষয়বস্তু বুঝে তারপর মন্তব্য করুন।
২.কাউকে আক্রমণ করে কোন মন্তব্য করবেন না, মতভিন্নতাকে কোনভাবেই মতবিরোধে নিয়ে যাবেন না। ]

কোন বিষয়ে আল-কুরআনে বলা থাকলে হাদিস, সুন্নাহ বা অন্য কোন ব্যাখ্যার প্রয়োজন আছে কি?

এক.
আল-কুরআনে বলা হয়েছে:

আর নামায কায়েম কর, যাকাত দান কর এবং নামাযে অবনত হও তাদের সাথে, যারা অবনত হয়। [2:43]

তোমরা নামায প্রতিষ্ঠা কর এবং যাকাত দাও। তোমরা নিজের জন্যে পূর্বে যে সৎকর্ম প্রেরণ করবে, তা আল্লাহর কাছে পাবে। তোমরা যা কিছু কর, নিশ্চয় আল্লাহ তা প্রত্যক্ষ করেন। [2:110]

নামায কায়েম কর, যাকাত প্রদান কর এবং রসূলের আনুগত্য কর যাতে তোমরা অনুগ্রহ প্রাপ্ত হও। [24:56]

ওপরের আয়াতগুলোতে আল্লাহপাক যাকাত দেবার নির্দেশ দিয়েছেন। আল্লাহপাক বলেন নাই যে নিসাবের মালিক হলে যাকাত দাও।
যাকাত প্রদানের জন্য আল-কুরআন তো ‘নিসাবের মালিক’ এবং ‘নিসাবের মালিক নয়’ এরকম কোন ভেদাভেদ করল না।
আল্লাহপাক আল-কুরআনে বলে ফেলেছেন যাকাত দিতে, নিসাবের কোন শর্ত দেন নাই। কাজেই আমরা যে সুন্নাহ হতে এই আদেশকে নিসাবের মালিকের জন্য নির্দিষ্ট করছি, এই ব্যাখ্যা গ্রহণযোগ্য হবে কি?

সহায়ক তথ্য:
আল-কুরআনের যেসব আয়াতে ‘যাকাত’ সম্পর্কে কিছু বলা হয়েছে:
[2:43],[2:83],[2:110],[2:177],[2:277],[4:77],[4:162],[5:12],[5:55],[7:156],[9:5],[9:11],[9:18],[9:60],[9:71],[9:103],[9:104],[19:31],[19:55],[21:73],[22:41],[22:78],[23:4],[24:37],[24:56],[27:3],[31:4],[33:33],[41:7],[58:13],[73:20],[98:5]

দুই.

আল-কুরআনে বলা হয়েছে:
যে পুরুষ চুরি করে এবং যে নারী চুরি করে তাদের হাত কেটে দাও তাদের কৃতকর্মের সাজা হিসেবে। আল্লাহর পক্ষ থেকে হুশিয়ারী। আল্লাহ পরাক্রান্ত, জ্ঞানময়।[৫:৩৮]

সুন্নাহ আনুযায়ী এক দিনারের এক চতুর্থাংশের কম মূল্যমানের কোন কিছু চুরি করলে কিন্তু হাত কাটা যাবে না।
আল-কুরআনে পরিষ্কারভাবে বলা হয়ে গেছে, চুরি করলে হাত কাটা যাবে। এক্ষেত্রে সুন্নাহ হতে চুরির পরিমাণকে নির্দিষ্ট করলে সেই ব্যাখ্যা গ্রহণযোগ্য হবে কি?

পরিশেষ:
১. যদি উত্তর না হয়ে থাকে, আমার আর বলার কিছু নাই। যার যার মত তার তার কাছে।
২. যদি উত্তর হ্যাঁ হয়ে থাকে, তাহলে রজমের ক্ষেত্রে আল-কুরআন বলে ফেললে সেখানে আর সুন্নাহ হতে ব্যাখ্যার অবকাশ না থাকার কারণ কি?

Processing your request, Please wait....
  • Print this article!
  • Digg
  • Sphinn
  • del.icio.us
  • Facebook
  • Mixx
  • Google Bookmarks
  • LinkaGoGo
  • MSN Reporter
  • Twitter
২৫৫ বার পঠিত
1 Star2 Stars3 Stars4 Stars5 Stars (ভোট, গড়: ৫.০০)

১১ টি মন্তব্য

  1. @সাদাত ভাই,

    তাহলে আপনার এই পোস্টের মাধ্যমে আমরা জানতে পারলাম “কোরআন শরীফে কোন বিষয়ে উল্লেখ থাকলেও সেটার বিস্তারিত হুকুম আহকাম উল্লেখ নাও থাকতে পারে, যেটার ব্যাখ্যা হাদিস শরীফে আছে” ।

    আপনার বক্তব্য সঠিক এবং এর সাথে সহমত ।
    ২. যদি উত্তর হ্যাঁ হয়ে তাহলে রজমের ক্ষেত্রে আল-কুরআন বলে ফেললে সেখানে আর সুন্নাহ হতে ব্যাখ্যার অবকাশ না থাকার কারণ কি?

    রজমের ক্ষেত্রে আল-কুরাআন এবং হাদিসের মধ্যে যে বক্তব্যা আছে সেটা সাংঘর্ষিক নয় ।

    আর একটি কথা । যেকোনো বিষয়ে যখন আপনি কোনো পোস্ট দিবেন , হতেই পারে এর সাথে সবাই সমান মত পোষন করবে না । এতে হতাশ হবার কিছু নয় ।

    সাদাত

    @হাফিজ,

    হতাশ নই,তবে ফুয়াদ ভাইকে আমি মুহাব্বাত করি। তাই… আরকি..

    ফুয়াদ

    @সাদাত,

    ধন্যবাদ।

    হাফিজ

    @সাদাত, যেকোন বিষয়ে মতভেদ থাকতেই পারে, কিন্ত সেটা বিরোধের পর্যায়ে যাবে না , পারস্পরিক হিংসা বিদ্বেষে রূপ নেবে না এটা সকলেরই কাম্য । কিছু বিষয়ে মতভেদ আছে , আবার এটাও ঠিক আমাদের মধ্যে অনেক মিলও আছে । এখানে আমরা সবাই বিশ্বাস করি তৌহিদ, রেসালত , কবর , মিজান , হাশর , কিয়ামত ইত্যাদি । সেটাও দেখতে হবে ।

    কোনো বিষয়ে অসন্তুষ্টি আসলে সাথে সাথে এটাই খেয়াল করা উচিত আরো অনেক বিষয়ে আমাদের মধ্যে রয়েছে অসংখ্য মিল ।

    ধন্যবাদ

  2. আসালামুয়ালাইকুম,

    কষ্টের জন্য ধন্যবাদ। পৃথিবীর এবং দুনিয়া সৃষ্টির বিষয়ে আল কুরানের মতামত ছয়দিনে। কিন্তু মুসলিম শরীফের একটি হাদিসে আছে যা অনুষারে ৭( অথবা ১৭) দিনে{হাদিস ১০০% মুঘস্ত না থাকলে আমি বলি না}। এই হাদিস্টি উল্লেখ পূর্বক অগ্রায্য করা হয়েছে। তাফসীরে মারেফাতুল আল কুরান মুফতী শাফীয়ী, এবং ইবনে কাসীর ।

    আমি আপনার মত বুঝতে পেরেছি। আশা ঐ হাদিস গুলি নিয়ে আমার সংদ্ধেহ হবার কোন কারন নেই। কিন্তু শীয়া দের বক্তব্য এর সাথে বিশেষ রকমের মিল থাকায় রজমের হাদিস যা সূরা নুরের পর্বর্তীতে বলা হয়েছে, তাতে সংদ্ধেহ লাগে।

    আপনি যে যাকাতের যে পয়েন্ট দিয়েছেন, ঐ পয়েন্ট অনুষারে সবাইকেই জাকাত দিতে হবে বলে একদল লোক বলে। উদাহারন হিসাবে হযরত আবু বকর রঃ টেনে আনে, যিনি তার নিজের সকল সম্পত্তি দিয়ে দিয়েছেলেন।
    একটি ঘটনা বলা হয় এরকম, কারো কাছে ৪০ দিরহাম থাকলে তার যাকাত কত? উত্তর দিয়েছিল ৪০ দিরহাম। তখন প্রশ্ন করা হল, এ ধরনের যাকাত দিবা সিস্টেম কে শেখাল? উত্তর হযরত আবু বকর রঃ।

    কোন রূপ মনে কষ্ট নিয়েন না। আমি আলোচনার জন্য লেখেছি।

    হাফিজ

    @ফুয়াদ,

    পৃথিবীর এবং দুনিয়া সৃষ্টির বিষয়ে আল কুরানের মতামত ছয়দিনে।

    আমি যতদুর জানি , ছয় দিন নয় ছয়টি পর্যায়ে ।


    এই হাদিস্টি উল্লেখ পূর্বক অগ্রায্য করা হয়েছে। তাফসীরে মারেফাতুল আল কুরান মুফতী শাফীয়ী, এবং ইবনে কাসীর ।

    মুফাস্সিরকেরাম গন , মুজতাহিদ গন বিনা কারনে কোনো হাদিস অগ্রাহ্য করেননি , তারা বিভিন্ন Perspective এ পর্যালোচনা করে হাদিস যাচাই বাছাই করেছেন , যেটা সমন্ধে বিস্তারিত আগে জানতে হবে । আপনি যে বইতে পড়েছেন সেখানে হয়ত কারনগুলো লেখা নেই ।

    সাদাত

    @ফুয়াদ,
    ওয়া আলাইকুমুস সালাম।

    মানসুখ আর শিয়াদের কুরআন বিকৃতির অভিযোগ সম্পূর্ণ আলাদা বিষয়।
    আন নূর অবতরণের পরে রজম প্রয়োগের উদাহরণ আছে।
    আপনার এই পয়েন্টগুলো নিয়ে ইনশাআল্লাহ আলাদা আলাদা পোস্ট দেব।

    মুসলিম শরিফ আমি তন্ন তন্ন করে খুঁজব ইনশাআল্লাহ।

    ফুয়াদ

    @সাদাত,

    আমি যে আয়াত এর ব্যক্ষায় দেখেছিলাম ঐ আয়াত পেলেই তাফসিরুল মারিফাতুল কুরানে পেয়ে যাব ইনশি-আল্লাহ। তখন আমিঈ দিব ইনশা-আল্লাহ।

    আমি ফিকাহ এর চেয়ে আকিদাকে বেশী গুরুত্ব দেই, আকিদার ভিত্তিতেই চিন্তা করি। ফিকাহ এর ব্যাপারে আমাদের মতামতের ভিন্নতা থাকবেই। আপনার কষ্টের জন্য ধন্যবাদ। আল্লহ পাক আপনার ভাল করুন আমিন।

    মালেক_০০১

    @ফুয়াদ,

    আপনি যে যাকাতের যে পয়েন্ট দিয়েছেন, ঐ পয়েন্ট অনুষারে সবাইকেই জাকাত দিতে হবে বলে একদল লোক বলে। উদাহারন হিসাবে হযরত আবু বকর রঃ টেনে আনে, যিনি তার নিজের সকল সম্পত্তি দিয়ে দিয়েছেলেন।
    একটি ঘটনা বলা হয় এরকম, কারো কাছে ৪০ দিরহাম থাকলে তার যাকাত কত? উত্তর দিয়েছিল ৪০ দিরহাম। তখন প্রশ্ন করা হল, এ ধরনের যাকাত দিবা সিস্টেম কে শেখাল? উত্তর হযরত আবু বকর রঃ।
    কোন রূপ মনে কষ্ট নিয়েন না। আমি আলোচনার জন্য লেখেছি।

    ঐ লোকদেরকে প্রশ্ন করা দরকার, নিজের সকল সম্পত্তি দান করে দেওয়া আর যাকাত দেওয়া এক হল কিভাবে?

    হাফিজ

    @মালেক_০০১,
    ঐ লোকদেরকে প্রশ্ন করা দরকার, নিজের সকল সম্পত্তি দান করে দেওয়া আর যাকাত দেওয়া এক হল কিভাবে? (Y) (Y)

    ফুয়াদ

    @মালেক_০০১,

    ধন্যবাদ, তারা মনে করে প্রয়োজনের অতিরিক্ত সব ই দান করে দিতে হবে। এটাই যাকাত। কোন সম্পত্তি রাখা যাবে না। এই কাহীনি আব্বাসীয় খলিফার কাছে ঘটছে। পাগলের মত হযরত শিবলী রঃ বা তার বন্দুকে এই প্রশ্ন করলে সে এই উত্তর দেয়। তারপর খলিফা নাকি তাকে কতল করার নির্দেশ দিলে, আরেকজন বলে উঠেন আগে আমাকে কতল কর। আমি জানি দুনিয়ার এক মূহুর্ত আখিরাতের হাজার বছরের চেয়েও উত্তম (এই কথাটি আমার খুব ভাল লাগে) তবুও, আরেক জনের উপকার করতে আমি দিতে রাজি আছি। এই কথা শুনার পর খলিফা ভয় পেয়ে গেলেন, তাদেরকে চলে যেতে বললেন। যুনায়েদ বাগদাদী ওই খানে ছিলেন কি না আমার মনে নেই।