৫শ টাকা বেতনের কর্মচারী (উৎসর্গঃ নিরবে পরে থাকা গ্রাম অঞ্চলের সকল ইমাম আর মুয়াজ্জিন বৃন্দ)
লিখেছেন: ' রাতদিন' @ রবিবার, ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০১০ (৭:৪৭ অপরাহ্ণ)
হ্যা লিখ,
আমি একজন ৫শ টাকা বেতনের কর্মচারী,
লিখ, আমি ভোর সকলে উঠি
শীতের ঠান্ডা পানিতেও আমি ভিজি,
হ্যা লিখ, আমি এশারের পর ঘুমিয়ে যাই,
একটি ভাংগা ছাতি নিয়ে আমি ঘুরি,
সকাল, অথবা বিকেল, উচ্চ সরে কথা বলি,
হ্যা, আমার নিজের কোন বাড়ি নেই।
ধর্ম ঘররের কিনারে ছোট্ট একটি ঘরে আমি থাকি,
কিংবা কিছু টাকা পাই, মানুষের স্ব-ইচ্ছায়।
তোমার কি খারাপ লাগল?
লেখ
আমি ৫শ টাকা বেতনে কাজ করি,
তা দিয়েই আমার জীবনে বাচা,
আমার ছেলে-মেয়ের পড়াশুনা,
কিংবা আমার মায়ের দেখাশুনা,
হ্যা, আমার সল্প আয় দিয়েই আমি চেষ্টা করি।
তুমি কি রাগ করলে?
লেখ,
তোমরা আমাকে কাঠ মোল্লা বলে ডাক,
রাস্তা-ঘাটে, আমাকে সমালোচনা কর,
হ্যা, যখন তখন আমার সাথে তামাশা কর,
আর অভিযোগ কর, ইচ্ছা মত,
কিন্তু আমার-ও অধিকার আছে,
আমার ছেলে-মেয়েরো আছে, ভাল জীবনের অধিকার,
কিংবা, আমার মায়ের আছে, ভাল চিকিত্সার অধিকার,
হ্যা, আমি সামান্য আয়েই চেষ্টা করি,
তোমার কি ঘৃণা লাগল?
লেখ,
হ্যা লেখ, ভাল করে লিখ,
আমি তোমার মত ঘোষখোর নই,
না-হ, আমি তোমার মত এত চালাক-ও নই,
কিংবা, আমি নই দুর্নিতিবাজ তোমার মত,
আমি ছিড়ে খাইনা গরিবের অধিকার,
আমি ছিন্তাই করি না, টোকাইয়ের মুখের খাবার,
কিংবা, আসহায়ের দু’য়ার আবদার,
হ্যা, আমি দু’য়া করি, তোমার কিংবা বাত্সার,
অথবা রাস্তার ফকিরের, যারা দিন আনে দিন খায়, আর বস্তিতে ঘুমায়।
হ্যা, লেখ
আমি-ও মানুষ,
আমার-ও ভুল ত্রুটি আছে,
শীতে আমি ও কাপি, গরমে আমি-ও ঘামি,
আমি-ও অসুস্থ হই, দুনিয়ার আঘাতে আমি জর্জরিত হই,
জনাব, আমার-ও দুঃখ আছে, কষ্টের কান্না আমাকে-ও কাদায়।
তোমার কি হাসি পেল?
হ্যা লেখ,
বড় করে লেখ,
আমি-ই হ্যা আমরা-ই,
তোমাকে গোসল করাই, যখন তুমি নিজে তা পারনা,
পরিবহন করাই গন্তব্যের দিকে, যখন তুমি তা করনা,
হ্যা লিখ, তোমাকে সামনে রেখেই, আমি দু-হাত তুলি,
এই বিশ্বের স্রষ্টার কাছে, প্রার্থনা করি তোমার মুক্তির জন্য,
শেষবারের মত, তোমার ছেলেকে সান্তনা দেই, তার বাচার জন্য,
কিংবা আমার কুরান আবৃতি-ই হয়, তোমার মেয়ের শেষ সান্তনা।
-ফুয়াদ
[{কবিতাটি আমি কবি মাহমুদ দারবিসের নিচের কবিতা অনুষারে লিখিছি}
হ্যাঁ, লেখো
আমি একজন আরব
আমার কার্ড নম্বর পঞ্চাস হাজার
আমার আটটি সন্তান
নবমটি পরবর্তি গ্রীষ্মে জন্মাবে,
তুমি কি রাগ করলে ?
লেখো
আমি এক আরব
সাথী শ্রমিকের সাথে আমি পাথর ভাঙি
অমানুষিক পরিশ্রমে আমি পাথুরে পাহাড় ভেঙ্গে
নুড়ি করি-
এক টুকরো রুটির জন্যে
আমার আট সন্তানের একখানি বইয়ের জন্যে
কিন্তু আমি দয়া-দক্ষিণা চাইনা
আর তোমার কর্তৃত্বের কাছে মাথা নোয়াইনা
তুমি কি রাগ করলে ?
লেখো, হ্যাঁ লিখে নাও
আমি একজন আরব
আমি উপাধিহীন একটি নাম
উন্মত্ত পৃথিবীতে এখনও স্থির
স্থান ও কালের সীমানা ছাড়িয়ে
আমার শিকড় খুব গভীরে প্রোথিত
আমি কৃষকের সন্তান।
নলখাগড়া ও খড়ের তৈরী কুঁড়েঘরে
আমি বাস করি,
চুল আমার মিশকালো
চোখঃ বাদামী
আমার আরবী শিরোভূষণ
কেড়ে নিয়েছে অনুপ্রবেশকারীর হাত,
আমি পছন্দ করি ভোজ্য তেল ও সুগন্ধি লতাগুল্ম
লেখো
এবং সবার উপরে
দয়া করে লিখে রাখো -
আমি কাউকে ঘৃণা করিনা
আমি কেড়ে নিইনি কারো সমুহ সম্পদ,
কিন্তু আমি যখন অনাহারী
নির্দ্বিধায় ছিঁড়ে খাই
আমার সর্বস্ব লুন্ঠনকারীর মাংশ
আতএব, সাবধান
আমার ক্ষুধাকে সাবধান
আমার ক্রোধকে সাবধান।
যারা শুধু ধ্বংস করে
মানুষ খুন করার নেশায় পাগল হয়ে যায়
সেই বর্বরদের বিরুদ্ধেই কেবল আমরা অস্ত্র ধরি।
পৃথিবীটাই বদলে গেছে,
প্রবল ভূমিকম্পে উপত্যকার পুষ্প ঝরে যাক
তীক্ষ ছুরি সংক্ষিপ্ত করুক পাখির কলগীতি
বারুদের গুঁড়োয় পুড়ে যাক শিশুদের ভ্রুপল্লব-
মানুষের খুলির ওপর, ধ্বংসের ওপর
সর্বনাশা হায়েনার ছোবলে ছেঁড়াখোড়া জঞ্জালের ওপর
স্ফুলিঙ্গের জন্ম হোক
ভয় নেই, প্রতিটি গৃহেই তলোয়ারের টোকা পড়বে।
এসো, তীব্র ঘৃণা এবং ক্রোধের নতুন ঘাম পান কর
এই যুদ্ধ তোমার রক্তে আনুক নতুন জোয়ার
মুখ থেকে তোমার নেকাব খুলে পড়ুক
আজ তোমার মুখ জ্বলন্ত ফুলের মতো
তোমার বোবা অধর বিজয়ের লাল গোলাপের মত।
যদিও তোমার টাটকা জখম থেকে ধোঁয়া উঠছে
আর তার স্বাদ নোনতা
তবু প্যালেস্টাইন, প্যালেস্টাইন আমার, তোমার জয় হোক।
তুমি নিজেই আজ জানাজার কাফন হয়ে যাও
হয়ে যাও রক্তাক্ত ক্রোধ
হয়ে যাও বিভৎস রোষ
তোমার শিরায় শিরায় রক্তের বদলে বয়ে যাক নীল গরল
ক্ষমাহীন ঘৃণা
আর তীব্র জ্বালা।
কবিতার বাকি অংশ পড়ে নিন নিচে ক্লিক করে।
(মাহমুদ দারবিস প্যালেস্টাইনের জাতীয় কবি ।কবিতাটি অনুবাদ করেছেন রফিক আজাদ লিংকঃ http://roudrochaya.amarblog.com/posts/34042/ )]
Processing your request, Please wait....












“তোমার শিরায় শিরায় রক্তের বদলে বয়ে যাক নীল গরল
ক্ষমাহীন ঘৃণা
আর তীব্র জ্বালা” – এটা রসুলের (সাঃ) শিক্ষা নয়। বোধ করি এজন্যই রফিক আজাদেরা এটার অনুবাদ করেছেন। সে তুলনায় আপনার লেখাটা অনেক ভালো হয়েছে মাশাল্লাহ
আপনার কবিতা খুব ভাল হয়েছে। আগে জানলে আমি আবার একই কবিতা পোস্ট করতামনা। আর পি আই আই কবিতার ভূমিও নয়। ধন্যবাদ।