লগইন রেজিস্ট্রেশন

***আল্লাহ সম্পর্কিত জ্ঞান – প্রথম পর্ব***

লিখেছেন: ' manwithamission' @ বুধবার, ফেব্রুয়ারি ১০, ২০১০ (১২:১৪ পূর্বাহ্ণ)

ﺑﺴﻢ اﷲ اﻟﺮ ﲪﻦ اﻟﺮ ﺣﻴﻢ

সকল প্রশংসা আল্লাহ তাআলার জন্য। আল্লাহ তাআলার শান্তি ও রহমত মুহাম্মদ ﷺ এর উপর, তার পরিবার, সাহাবী এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা তাদের অনুসারী তাদের উপর অর্পিত হোক।

পৃথিবীত আগত সকল নবী-রাসূলদের দাওয়াত ছিল একটাই আর তা হলো মানুষকে এক আল্লাহর দাসত্ব মেনে নেওয়ার জন্যে আহবান করা অর্থাৎ একত্ববাদের দিকে আহবান করা।
ইসলাম শব্দের উৎপত্তি যে শব্দটি থেকে আস-ছিলম তার অর্থ হচ্ছে আত্মসমর্পণ করা অর্থাৎ আল্লাহর নিকট সামগ্রিক আত্মসমর্পণ করার নামই হচ্ছে ইসলাম।
“মুসলামানগণ! তোমরা বল: “আমরা ঈমান এনেছি আল্লাহর প্রতি, আমাদের জন্য যে জীবন ব্যবস্থা নাযিল হয়েছে তার প্রতি এবং যা ইবরাহীম, ইসমাঈল, ইসহাক, ইয়াকুব ও ইয়াকুবের বংশধরদের প্রতি নাযিল হয়েছে আর যা মূসা, ঈসা ও অন্যান্য সকল নবীকে তাদের রবের তরফ হতে দেওয়া হয়েছে, তার প্রতি। আমরা তাদের মধ্যে কোন পার্থক্য করি না। আমরা একমাত্র আল্লাহরই নিকট আত্মসমর্পণ করেছি” (সূরা বাকারাঃ ১৩৬)

আল্লাহর নিকট সামগ্রিকভাবে আত্মসমর্পণ করার পরই শান্তি আনয়ন হবে আর যে কারণে ইসলাম শব্দটির আরও একটি মূল শব্দ রয়েছে তা হলো আস-সালাম যার অর্থ শান্তি। আমাদের শুধুমাত্র শান্তি অর্থটাই সামগ্রিকভাবে শেখান হয়, আত্মসমর্পণ অর্থটি ঠিক সেভাবে শেখানো হয় না। আর যে কারণে শান্তি পাগল মানুষ আল্লাহর নিকট আত্মসমর্পণ ব্যাতীতই শান্তির পিছনে দৌড়ায়। ছোটবেলা থেকে একটা বাচ্চাকে শেখানো হয়, “তোমার যদি টাকা থাকে, অমুক, অমুক জিনিস থাকে তাহলে তুমি সুখী হবে, শান্তিতে থাকবে, মানুষ তোমাকে সম্মান করবে”। আর এজন্যই একটা কথা প্রচলিত আছে আমাদের দেশে, “আমার সন্তান যেন থাকে দুধে-ভাতে” অর্থাৎ পার্থিব প্রয়োজন মিটে যাওয়া মানেই দুধে-ভাতে থাকা।

সামগ্রিকভাবে আল্লাহর নিকট আত্মসমর্পণ বলতে কি বুঝায় এই বিষয়ে অধিকাংশ মানুষ অজ্ঞ থেকে যায়। আমাদের দেশে প্রধানত দুইটি গুণাবলীতে মানুষ আল্লাহকে চেনে তাও পুরোপুরিভাবে চেনে না। গুণাবলী দুইটি হলো, এক. দোয়া কবুলের মালিক দুই. গুণাহ মাফের মালিক। এই দুইটি গুণাবলী সম্পর্কে অধিকাংশ মানুষ আংশিক পরিচিত।

মানুষের আকংখা অপরিসীম, একটি আশা পূরণ হলে অন্যটি, সেটি পূরণ হলে আরেকটি আর এভাবে চলতেই থাকে।
রাসূল ﷺ বলেছেন,
“দুনিয়ার কোন কিছুই আদম সন্তানের পেটকে পরিপূর্ণ করতে পারবে না যতক্ষণ পর্যন্ত না এটি কবরের মাটি দ্বারা পূর্ণ হবে”। (সহীহ আল বুখারী)
মনের আকাংখা পূরণ করার জন্যে মানুষ পাগল, বৈধ হোক আর অবৈধ হোক আল্লাহ যেন তার মনের আশা পূরণ করে দেন। আর যে কারণেই মাজার ব্যবসাটা আমাদের দেশে জমজমাট। বিভিন্ন মাজারে মানুষ দৌড়ায় তাদের আশা পূরণের জন্যে, মাজারে অকাতরে টাকা দান করে, বিভিন্ন উপঢৌকন পাঠায়, মাজারের নামে মান্নত করে, কতক মানুষ আবার মাজারে যেয়ে সিজদা পর্যন্ত করে ফেলে। অথচ আল্লাহ তাআলা এমনটি করতে বলেননি। মরা মানুষের পেছনে টাকা দান করলে কার লাভ হয়? মরা মানুষকে উপঢৌকন দিলে কার লাভ হয়? তারচেয়ে এই টাকা, উপঢৌকন গুলো গরীব মানুষকে দান করলে, প্রতিবেশীকে দিলে তিনটি লাভ অর্জিত হয়। এক. আল্লাহর আদেশ পালন করা হয়, দুই. মানুষের সাথে পারস্পরিক সম্পর্ক বৃদ্ধি পায়, তিন. সমাজে শান্তি আনয়ন হয়।

“দয়া প্রদর্শন কর, তোমার প্রতি দয়া প্রদর্শন করা হবে।”(ইমাম আহমদ কর্তৃক বর্ণিত, ২/১৬৫)
রাসূল ﷺ বলেছেন: “যে ব্যক্তি তার ভাইয়ের প্রয়োজন পূরণ করে দিবে, আল্লাহ তাআলা তার প্রয়োজন পূরণ করে দিবেন”। (বুখারী ও মুসলিম)

তিনি ﷺ বলেন: “যে ব্যক্তি, এই পৃথিবীতে একজন বিশ্বাসীর দুশ্চিন্তা দূর করে দিবে, মহান আল্লাহ তাকে পুনরুত্থান দিবসের দূশ্চিন্তা থেকে নিরাপদে রাখবেন। যে ব্যক্তি, কারো কাজকে সহজ করে দিবে(যে কঠিন কাজে নিয়োজিত), মহান আল্লাহ তার দুনিয়া ও পরকালের কাজকে সহজ করে দিবেন। যে ব্যক্তি, একজন মুসলিমের দোষ গোপন রাখবে মহান আল্লাহ দুনিয়া ও পরকালে তার দোষ গোপন রাখবেন। মহান আল্লাহ ততক্ষণ পর্যন্ত একজনকে সাহায্য করতে থাকেন যতক্ষণ পর্যন্ত সে তার ভাইকে সাহায্য করতে থাকে।” (মুসলিম )

এরপর মাজারের নামে মান্নত করা হয় এবং মাজারে যেয়ে সিজদা দেওয়া হয় যার উভয়টাই শিরক। কোন রহমত নেই, কোন বরকত নেই এতে বরং এরকমটি করলে আল্লাহ অসন্তুষ্ট হন। শিরকের গুণাহ সবচেয়ে বড় গুণাহ, বান্দাহ শিরক করা অবস্থায় যদি ভালভাবে তওবা ব্যতীত মারা যায় তাহলে সে জাহান্নাম পাবে সে ব্যাপাড়ে নিশ্চিত থাকতে পারে। মান্নত ও সিজদা উভয়টাই করতে হবে আল্লাহর জন্য।
“তুমি (একান্ত বিনয়ের সাথে) বলো, আমার নামাজ, আমার (আনুষ্ঠানিক) কাজকর্ম, আমার জীবন, আমার মৃত্যু-সব কিছুই সৃষ্ঠিকুলের মালিক আল্লাহ তাআলার জন্যে”। (সূরা আনআমঃ ১৬২)
মাজারে যেয়ে মৃত্য ব্যক্তির নিকট দোয়া চাওয়াটাও শিরক।
“তুমি আল্লাহ ছাড়া কারোর কাছে দোয়া করবে না, যারা না তোমার কোন উপকার করতে পারে আর না পারে ক্ষতি করতে। যদি তুমি তা কর তাহলে তুমি যালেমদের মধ্যে গণ্য হবে”।(সূরা ইউনুসঃ১০৬)
আর এই জালেম হচ্ছে তারাই যারা শিরক করে।
“আল্লাহ তাআলার সাথে শিরক করো না; (অবশ্যই) শিরক হচ্ছে সবচাইতে বড় যুলুম”।(সূরা লোকমানঃ১৩)

মসজিদে যেয়ে ইমামকে বলা হয়, অমুক বিষয়ের জন্যে, অমুকের সুস্থতার জন্যে, অমুকের ভাল রেজাল্টের জন্যে একটু দোয়া করে দিবেন। এখানে যদি দোয়া কবুলের জন্যে ইমাম এবং অন্যান্যদের দোয়া করাকে মাধ্যম বানানো হয় তাহলে কাজটি খ্রিস্টানদের অনুকরণ করা হয়ে যাবে। খ্রিস্টান ধর্মে যাজকদের নিকট যেয়ে তারা কনফেস করেন আর যাজক তাদের গুণাহ ক্ষমা করে দেন! এই মাধ্যম বানানোর কাজটাও শিরক! কারণ, বান্দাহ এবং আল্লাহর মধ্যে কোন মাধ্যম নেই।
“হে নবী! আমার বান্দাহ যদি তোমার নিকট আমার সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে তবে তাদের বলে দাও যে, আমি তাদের অতি সন্নিকটে। যে আমাকে ডাকে, আমি তার ডাক শুনি এবং তার উত্তর দিয়ে থাকি। কাজেই আমার আহবানে সাড়া দেওয়া এবং আমার প্রতি ঈমান আনা তাদের কর্তব্য। এইসব কথা তুমি তাদরে শুনিয়ে দাও, হয়তো তারা প্রকৃত সত্য পথের সন্ধান পাবে”। (সূরা বাকারাঃ ১৮৬)

আল্লাহ তাআলা নিজেই বলে দিয়েছেন, আল্লাহকে ডাকলে তিনি সাড়া দিবেন তবে আমাদেরকেও আল্লাহর ডাকে সাড়া দিতে হবে অর্থাৎ চূড়ান্তভাবে আল্লাহর আনুগত্য করতে হবে। আর এ জন্যেই আল্লাহ তাআলা বলেছেন - কাজেই আমার আহবানে সাড়া দেওয়া এবং আমার প্রতি ঈমান আনা তাদের কর্তব্য

এরপর দোয়া কবুলের জন্যে রয়েছে বিভিন্ন দরবার শরীফ, পীর-ফকিরের নিকট যাওয়া এই বিশ্বাসে যে এই দরবার শরীফ, পীর-ফকির তার সমস্যা মিটিয়ে দিবেন! স্পষ্ট শিরক! পত্রিকাতে বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়, “১০০% গ্যারান্টি সহ মুশকিল আশান”, “অমুক বাবার চ্যালেঞ্জ” এই রকম আরো কথাবার্তা লেখা থাকে।
“মানুষদের মাঝে কিছু সংখ্যক এমনও রয়েছে, যে আল্লাহর বদলে অন্য কিছুকে তাঁর সমকক্ষ মনে করে, তারা তাদের তেমনি ভালবাসে যেমনটি শুধু আল্লাহ তাআলাকেই ভালোবাসা উচিত; আর যারা (সত্যিকার অর্থে) আল্লাহ তাআলার উপর ঈমান আনে তারা তো তাঁকেই সর্বাধিক পরিমাণে ভালোবাসবে; যারা (আল্লাহর আনুগত্য না করে) বাড়াবাড়ি করছে তারা যদি আযাব স্বচক্ষে দেখতে পেতো (তাহলে এরা বুঝতে পারতো) আসমান যমীনের সমুদয় শক্তি একমাত্র আল্লাহ তাআলার জন্যেই, শাস্তি দেওয়ার ব্যাপাড়ে তিনি অত্যন্ত কঠোর”। (সূরা বাকারাঃ ১৬৫)

চলবে…..

Processing your request, Please wait....
  • Print this article!
  • Digg
  • Sphinn
  • del.icio.us
  • Facebook
  • Mixx
  • Google Bookmarks
  • LinkaGoGo
  • MSN Reporter
  • Twitter
৬৯২ বার পঠিত
1 Star2 Stars3 Stars4 Stars5 Stars ( ভোট, গড়:০.০০)

৪ টি মন্তব্য

  1. আলহামদুলিল্লাহ, খুব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়

  2. খুব সুন্দর লেখা । তবে একটি বিষয়ে আমি লেখকের দৃষ্টি আকর্ষন করছি ।

    মসজিদে যেয়ে ইমামকে বলা হয়, অমুক বিষয়ের জন্যে, অমুকের সুস্থতার জন্যে, অমুকের ভাল রেজাল্টের জন্যে একটু দোয়া করে দিবেন। এখানে যদি দোয়া কবুলের জন্যে ইমাম এবং অন্যান্যদের দোয়া করাকে মাধ্যম বানানো হয় তাহলে কাজটি খ্রিস্টানদের অনুকরণ করা হয়ে যাবে।

    আমার যতদুর মনে পড়ে রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লাম কোনো এক সাহাবীকে বলেছিলেন “তোমার দোয়ার মাঝে আমাদের শামিল কোরো” । এছাড়া হযরত ওমর (রা:) কে বলেছিলেন ওয়াস করনী (রহ:) এর সাথে দেখা হলে দোয়া চাইতে । আমার মনে হয় কারো কাছে দোয়া চাওয়াতে কোনো সমস্যা নেই । কিন্তু বিশ্বাস করতে হবে সমস্তকিছু কবুল করার মালিক আল্লাহ সুবহানাহু তাআলা ।

    manwithamission

    @হাফিজ, আসসালামু আলাইকুম ভাই,

    ভাই, কারো নিকট দোয়া চাওয়াতে কোন সমস্যা নেই কিন্তু বিষয়টাকে যদি দোয়া কবুলের মাধ্যম বানিয়ে ফেলা হয় তাহলেই সমস্যা। এজন্যই আমি মাধ্যম কথাটি উল্লেখ করেছি। মসজিদে প্রায়ই দেখবেন এলাকার লোকজন দোয়া চান, বিষয়টা এখন এমন পর্যায়ে দাড়িয়েছে যে মানুষজন মসজিদে দোয়া চাওয়াটাকে একটা মাধ্যম বানিয়ে ফেলেছে। খ্রিস্টানরা নিজেরা নিজেদের পাপ মোচনের জন্য প্রার্থনা করতে পারে না, তাই তারা যাজকের কাছে যায়, কনফেস করে এরপর যাজক বলেন ঈশ্বর তোমাকে ক্ষমা করে দিয়েছেন। এই যে বিষয়টা, এটা কিন্তু ঈসা (আ) এর শিক্ষা নয়, তারা এটা আবিস্কার করেছে। আর আল্লাহর নিকট দোয়া চাওয়ার জন্য, গুনাহ মাফের জন্য কোন মাধ্যমের প্রয়োজন নেই। দোয়া কবুলের, গুনাহ মাফের একচ্ছত্র মালিক আল্লাহ তাআলা, এর জন্য কোন ওকিল বা মাধ্যমের প্রয়োজন নেই। আমি এই কথাটিই বুঝাতে চেয়েছি।

    বারাক আল্লাহ ফিক।

    হাফিজ

    @manwithamission, ধন্যবাদ ।