লগইন রেজিস্ট্রেশন

***বিদআতীদের প্রতি সাহাবাদের আচরণ***

লিখেছেন: ' manwithamission' @ বৃহস্পতিবার, মার্চ ১৮, ২০১০ (১২:৩৪ অপরাহ্ণ)

ﺑﺴﻢ اﷲ اﻟﺮ ﺣﻤﻦ اﻟﺮ ﺣﻴﻢ
সাহাবাদের একটি বৈশিষ্ট্য ছিল তারা রাসূল ﷺ এর সুন্নাহর প্রতি খুবই আনুগত্য প্রকাশ করতেন এবং রাসূল ﷺ এর সুন্নাহ অনুযায়ী কাজ করতেন। রাসূল ﷺ সুন্নাহ’র বিন্দুমাত্র ব্যতিক্রম চোখে পড়লে তারা তা পরিত্যাগ করতেন এবং যারা সুন্নাহ’র বিন্দুমাত্র পরিবর্তন সাধন করতে চাইত তাদের সতর্ক করে দিতেন। দারেমী এবং আবু নাঈমে সহীহ ইসনাদে বর্ণিত বিদআতীদের প্রতি সাহাবারা কিরুপ আচরণ করতেন তার একটি চমৎকার শিক্ষাপ্রদ ঘটনা রয়েছে। সাহাবীদের বর্ণিত ঘটনাটি নিম্নরুপঃ

ফজরের নামাজের পূর্বে আমরা আব্দুল্লাহ ইবনে মাসুদের বাড়ির সামনে অপেক্ষা করতাম তার সাথে মসজিদে যাওয়ার জন্যে। আবু মুসা আশআরী আমাদের নিকট আসলেন এবং আমাদের জিজ্ঞেস করলেন:

আবু আব্দুর রহমান (আব্দুল্লাহ ইবনে মাসুদ) কি চলে গেছেন?

আমরা উত্তর দিলাম: না।

আবু মুসা আশআরী আমাদের সাথে আব্দুল্লাহ ইবনে মাসুদের জন্যে অপেক্ষা করতে লাগলেন। যখন ইবনে মাসুদ ঘর থেকে বেড়িয়ে এলেন, আমরা উঠে দাড়ালাম এবং আবু মুসা তাকে বললেন:
আমি সাম্প্রতিক সময়ে মসজিদে এমন কিছু দেখেছি যা কোনভাবেই আমার মন সায় দিচ্ছে না।

ইবনে মাসুদ জিজ্ঞেস করলেনঃ সেটা কি ছিল ?
আবু মুসা বললেনঃ “আপনি জীবিত থাকলে আপনিও এটি দেখতে পাবেন। মসজিদে দেখলাম একদল লোক কয়েকটি ভাগে ভাগ হয়ে বৃত্তাকারে বসে নামাজের জন্যে অপেক্ষা করছে। প্রত্যেক বৃত্তাকারের জন্যে একটি করে দলনেতা রয়েছে। আর এই বৃত্তাকারের সকলেরই নিকট ছোট ছোট পাথরের নুড়ি রয়েছে”।

বৃত্তাকারের দলনেতা তাদের বলছে:
একশ বার আল্লাহু আকবর বল, তারপর তারা একশবার আল্লাহু আকবর বলবে; তারপর দলনেতাটি পুনরায় তাদের বলবে, একশবার লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ বল, তারা একশবার লা ইলাহা পড়বে; তারপর দলনেতাটি বলবে, একশ বার সুবহানাল্লাহ বল আর তারা একশবার সুবহানাল্লাহ পড়বে।

তারপর ইবনে মাসুদ বললেনঃ আপনি তাদের কি বলেছেন?
তিনি(আবু মুসা) বললেনঃ আমি তাদের কিছু বলেনি। আমি আপনার মতামতের জন্যে অপেক্ষা করতে চেয়েছিলাম।

আব্দুল্লাহ ইবনে মাসুদ বললেনঃ আপনি কি তাদের গুনাহ সমুহ গোনার জন্যে আদেশ দেন নি এবং তাদের নিশ্চিত করতেন যে তারা তাদের পুরস্কার সমূহ ঠিকই পাবে।

এরপর আব্দুল্লাহ ইবনে মাসুদ আমাদের সামনে এগিয়ে চললেন আর আমরাও তার সাথে সাথে চললাম। তিনি যখন সেই বৃত্তাকারে বসা দলগুলোর একটি বৃত্তের কাছে গেলেন তখন জিজ্ঞেস করলেনঃ তোমরা এটি কি করছ?

তারা বললোঃ ওহে আবু আব্দুর রহমান, এগুলো হচ্ছে নুড়ি পাথর আর আমরা এগুলো দিয়ে কতবার আল্লাহু আকবর, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ এবং সুবহানাল্লাহ পড়লাম তার গণনা করছি।

তিনি(ইবনে মাসুদ) বললেনঃ
তোমাদের পাপসমূহ গণনা কর এবং আমি তোমাদের নিশ্চয়তা দিচ্ছি যে, তোমরা তোমাদের পুরস্কারের কোন অংশ থেকেই বঞ্চিত হবে না। তোমাদের উপর লানত, মুহাম্মদের লোকেরা, কত দ্রুতই না তোমরা ধ্বংসের দিকে ধাবিত হচ্ছো। আল্লাহর রাসূলের সাহাবীরা এখন পর্যন্ত বর্তমান, রাসূল ﷺ এর কাপড়গুলো এখনো জীর্ণ হয়ে যায় নি, তার আহারের পাত্র এখনো ভেঙ্গে যায়নি। যার হাতে আমার প্রাণ তার শপথ করে বলছি, তোমরা এমন এক ধর্ম অনুসরণ করছ যেটা হয় রাসূল এর ধর্মের চেয়ে উত্তম আর না হয় তোমরা বিচ্যুত হয়ে যাওয়ার দড়জা উন্মোচন করছ।

তারা বললোঃ ওহে আবু আব্দুর রহমান, আল্লাহর শপথ, এই কাজটি আমরা সওয়াবের আশা ব্যতীত অন্য কোন নিয়তে করিনি।

তিনি(ইবনে মাসুদ) বললেনঃ তাই কি হয়েছে? কত লোকই তো সওয়াবের আশায় ভাল কাজ করতে চায় কিন্তু তারা কি কখনো করতে পারে? আল্লাহর রাসূল আমাদের ঐ ধরণের লোকদের কথা বলেছেন যারা কোরআন পড়বে ঠিকই কিন্তু কোরআন তাদের কন্ঠনালী অতিক্রম করবে না। আল্লাহর শপথ, আমি প্রায়ই নিশ্চিত তোমরাই হচ্ছ সেই ধরণের লোক।

তারপর তিনি তাদের নিকট থেকে সরে গেলেন।

আমর ইবনে সালামাহ বলেনঃ বৃত্তাকারে বসা ঐ লোকগুলোর অধিকাংশকে আন-নহরের যুদ্ধে খারেজীদের পক্ষ হয়ে আমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে দেখেছি।

- আদ-দারেমী এবং আবু নাঈমে সহীহ ইসনাদে ঘটনাটি বর্ণিত হয়েছে।

সুবহানাল্লাহ, আল্লাহু আকবর এবং লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ পড়া নিঃসন্দেহে সওয়াবের কাজ কিন্তু এই পড়াটাকে ভিন্ন একটা নিয়মে আবদ্ধ করে প্রতিষ্ঠিত করলে যেভাবে রাসূল ﷺ শিক্ষা দেননি, তখন তা বিদআত হয়ে যাবে।

রাসূল ﷺ বলেছেনঃ পর পর আগত কিছু এমন কালেমা রয়েছে প্রত্যেক ফরজ নামাজের পর যার উচ্চারণকারী অথবা আমলকারী ব্যর্থ হবে না। ৩৩ বার ‘সুবহানাল্লাহ’, ৩৩ বার ‘আলহামদু লিল্লাহ’ ও ৩৪ বার ‘আল্লাহ আকবর’। (মুসলিম, তিরমিযী, নাসায়ী)

রাসূল ﷺ আলী (রা) এবং ফাতেমা (রা) কে রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে এই কালেমাগুলো ৩৩ বার ‘সুবহানাল্লাহ’, ৩৩ বার ‘আলহামদু লিল্লাহ’ ও ৩৪ বার ‘আল্লাহ আকবর’ পড়তে বলেছিলেন যা আলী (রা) সব সময়ই আমল করতেন। (বুখারী)

এখন কেউ যদি অন্য সময়ও এই কালেমাগুলো পড়তে চায় সে পড়তে পারে কোন সমস্যা নেই। কিন্তু সেটাকে যদি একটি নিয়মে আবদ্ধ করে প্রতিষ্ঠিত করা হয় যেমনঃ প্রতিদিন ফরজ নামাজের আগে গোল হয়ে বসে ১০০ বার পড়া বা সপ্তাহে সকলে একত্রিত হয়ে এভাবে সমস্বরে পড়া।
***যে কেউ সবসময় এই কালেমাগুলো পড়তে চায় সে পড়তে পারবে কোন সমস্যা নেই। কিন্তু উপরে উল্লিখিত ধরণের কোন নিয়মের আওতায় আনা যাবে না।

“তোমরা নিজেদেরকে নবউদ্ভাবিত বিষয় (ইবাদত) সমূহ থেকে দূরে রেখ, কেননা প্রত্যেক নবউদ্ভাবিত (দ্বীনি) বিষয়ই বিদআত, আর প্রত্যেক বিদআত হচ্ছে ভ্রান্তি বা ভুল পথ”। (তিরমিযী)

ইমাম মালিক ইবনে আনাস রহিমাহুল্লাহ বলেন,

“যে ব্যাক্তি ইসলামের মধ্যে কোন একটি বিদআতের প্রচলন করবে এবং সে বিদআতটিকে খায়ির(ভালো) বলে মনে করবে তাহলে সে আল্লাহর রাসূল ﷺ এর নিন্দা করল, বিষয়টি এমন দাড়াল যে রাসূল ﷺ তার দায়িত্ব সম্পূর্ণ করেন নি” (যার মানে হলো, তিনি ﷺ ঠিকমতো আমাদের কাছে ইসলাম পৌছে দেননি)

এখানে লক্ষ্য করুন, মালিক ইবনে আনাস মাত্র একটি বিদআতের কথা বলেছিলেন অনেকগুলো বিদআতের কথা বলেন নি। সুতরাং, বুঝা গেল বিষয়টি অনেক গুরুতর। মালিক ইবনে আনাসের এই কথা শুনে মানুষজন তাকে জিজ্ঞাসা করেছিল, “ওহে ইমাম, আপনার এই কথার প্রমাণ কি?

ইমাম মালিক ইবনে আনাস রহিমাহুল্লাহ বললেন,

আপনার ইচ্ছা হলে পড়ে দেখুন,
“আজ আমি তোমাদের দ্বীনকে পরিপূর্ণ করে দিলাম এবং তোমাদের প্রতি আমার নিয়ামত সম্পূর্ণ করলাম আর ইসলামকে তোমাদের জীবন বিধান হিসেবে মনোনীত করলাম” (সূরা মায়িদাঃ৩)
ইমাম মালিক ইবনে আনাস রহিমাহুল্লাহ বলেন,
এমনকিছু যা ঐদিন দ্বীন ইসলামে ছিল না সুতরাং তা আজকেও দ্বীন ইসলামের অন্তর্ভূক্ত নয়।

আল্লাহর রাসূল ﷺ বলেছেন,
“আমি তোমাদের যা কিছু করতে বলেছি সেই সব ব্যতীত আর কোন কিছুই তোমাদের জান্নাতের নিকটবর্তী করবে না, এবং যে সকল বিষয়ে সতর্ক করেছি সেগুলো ব্যতীত কোন কিছুই তোমাদের জাহান্নামের নিকটবর্তী করবে না”। (মুসনাদে আস শাফেয়ীই এবং অন্যান্য)

বর্তমান সময়ে অনেককেই দেখা যায় ইসলামের মনগড়া ব্যাখ্যা দিতে, বিভিন্ন রকম পন্থার কথা বলতে যা “ঐদিন দ্বীন ইসলামে ছিল না সুতরাং তা আজকেও দ্বীন ইসলামের অন্তর্ভূক্ত নয়।”

মৌখিক, শারীরীক ও আর্থিক সর্বপ্রকার ইবাদত একমাত্র আল্লাহর জন্য। রাসূল ﷺ এর উপর আল্লাহর শান্তি, রহমত ও বরকত নাযিল হোক। আমাদের উপর এবং আল্লাহর নিষ্ঠাবান বান্দাহদের উপর শান্তি বর্যিত হোক। আমীন।

Processing your request, Please wait....
  • Print this article!
  • Digg
  • Sphinn
  • del.icio.us
  • Facebook
  • Mixx
  • Google Bookmarks
  • LinkaGoGo
  • MSN Reporter
  • Twitter
১৩৭ বার পঠিত
1 Star2 Stars3 Stars4 Stars5 Stars (ভোট, গড়: ৫.০০)

১৫ টি মন্তব্য

  1. মৌখিক, শারীরীক ও আর্থিক সর্বপ্রকার ইবাদত একমাত্র আল্লাহর জন্য। রাসূল ﷺ এর উপর আল্লাহর শান্তি, রহমত ও বরকত নাযিল হোক। আমাদের উপর এবং আল্লাহর নিষ্ঠাবান বান্দাহদের উপর শান্তি বর্যিত হোক। আমীন।

    আমিন ।

    দ্য মুসলিম

    @হাফিজ,

    আমিন।

    হাসান আল বান্না

    @দ্য মুসলিম

    আমিন ।

  2. এরজন্য নিজের থেকে কোনো কিছু প্রচলন না করে , আলেমদের থেকে শোনা উচিত কোনটা বিদআত আর কোনটি নয় । এ বিষয়ে সবারই সতর্ক থাকা উচিত ।

    আপনার পোস্টের জন্য ধন্যবাদ ।

    দ্য মুসলিম

    @হাফিজ,

    যদি এমন কোন আমল থাকে, যেটা বিদআত হবার সম্ভাবনা আছে। সওয়াবের আশায় সেটা না করে, বিদআত হবার সম্ভাবণার কারণে সেটা পরিত্যাগ করাই উচিত। কি বলেন ভাই?

    হাফিজ

    @দ্য মুসলিম, অবশ্যই , কোনো বিষয়ে সন্দেহ হলে আগে সেটা নিশ্চিত হতে হবে “সহিহ” নাকি “বিদআত” । একমাত্র আলেমদের থেকে জেনে তারপরই সেটাতে অগ্রসর হওয়া উচিত । নিশ্চিত হবার আগে সেটা করাই উচিত নয় ।

  3. আলহামদুলিল্লাহ। আজ নতুন কিছু শিখতে পারলাম। ধন্যবাদ, ভাই।

    manwithamission

    @দ্য মুসলিম, আসসালামু আলাইকুম ভাই,

    জাদিকাল্লাহু ইলমান (আল্লাহ তাআলা আপনার ইলম বাড়িয়ে দিন)

  4. আসসালামু আলাইকুম, আল্লাহ তাআলা সর্বপ্রথম নাযিল করেছেন ইকরা শব্দটি যার অর্থ পড়। তিনি সর্বপ্রথম আমাদেরকে নামাজের কথা, যাকাতের কথা, হজ্জের কথা কিংবা রোজার কথা বলেননি বলেছেন পড়ার কথা অর্থাত্‍ পড়ে আমাদের জানতে হবে। মসজিদে অনেকেই নামাজ পড়েন, জিকির করেন অথচ খুবই কম মুসলিম আছেন পড়ে আগে জেনে নেন তিনি যা করছেন তা আল্লাহর রাসূলের শেখানো নিয়মে হচ্ছে কিনা। বড়ই আফসোস অধিকাংশ মানুষ শুধু নিজের প্রবৃত্তি বা নিজের কাছে যা ভাল লাগে তারই অনুসরণ করেন। আল্লাহ তাআলা আমাদের হিফাজত করুন। আমীন

    হাফিজ

    @manwithamission এবং মনপবন, এখানে আমার একটি প্রশ্ন আছে ?

    রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লাম) এর সময় তো মাদ্রাসা ছিল না , মাইক ছিল না , ব্লগ ছিল না । এখন এগুলো ব্যবহার করা কি বিদআত হবে ।

    টেপ রেকর্ডারে কোরআন তেলাওয়াত শোনা কি বিদআত ?

    manwithamission

    @হাফিজ, ভাই হাফিজ,
    জ্ঞানের উৎস দুইটি।
    এক. আল্লাহর নাযিলকৃত উৎস কোরআন এবং সুন্নাহ।
    দুই. ব্যবহারিক জ্ঞান যা আমরা আল্লাহ প্রদত্ত মস্তিস্ক খাটিয়ে কাজে লাগাই।

    মাদ্রাসা তো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আরবী শব্দ, আর রাসূল ﷺ এর সময় মসজিদে নববীতে ইলমের শিক্ষা দেওয়া হতো এবং এই শিক্ষাদানের পদ্ধতী এখনও পর্যন্ত বর্তমান। সেই সূত্রে, মসজিদে নবীবকে ইসলামের প্রথম বিশ্বাবিদ্যালয় বলা যায়। মাদ্রাসায় ইলমের শিক্ষা প্রদান করা হয়, ইলম যদি নাই থাকে তাহলে তো আমরা কিছুই বুঝব না।

    মাইক, ব্লগ তথা যাবতীয় যন্ত্রপাতি মানুষ আল্লাহ প্রদত্ত মস্তিস্ক খাটিয়ে আবিস্কার করেছে। যা বিদআত নয়, বিদআত হচ্ছে শুধুমাত্র সেইগুলো যেগুলো দ্বীন ইসলামে কোন কিছু নতুন প্রবেশ করানো। অর্থাৎ কোরআন ও সুন্নাহ’র বাইরে থেকে নতুন কোন পন্থা, নিয়ম এনে ইসলামে প্রবেশ করানো। রাসূল ﷺ ব্যবহারিক জীবনে যেভাবে যা ব্যবহার করেছেন সেই গুলো ব্যবহার না করা করলে সমস্যা নেই, কিন্তু তিনি কোন নিয়মে তা ব্যবহার করেছেন সেটাই হচ্ছে ইসলাম। যেমনঃ ফরজ সালাতের আগে মিসওয়াক করা সুন্নাহ এখন কেউ যদি মিসওয়াক না পায় ব্রাশ দিয়ে করে কোন সমস্যা নেই, কারণ মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে পরিস্কার, দূর্ঘন্ধহীন মুখে আল্লাহর ইবাদত করা। এখন কেউ যদি বলে ফরজ নামাজের পর মিসওয়াক করতে হবে, তাহলে সেটি হবে বিদআত অর্থাৎ এটা রাসূল ﷺ এর শিক্ষা নয়।

    আমরা যে কম্পিউটার ব্যবহার করছি এইটা আমাদের ব্যবহার্য জিনিস কিন্তু এই ব্যবহার্য জিনিসকে শরীয়াহ দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করতে হয়, সেটাই ইসলাম। আমরা যদি ইসলামের প্রচার, প্রসারের কাজে, আল্লাহকে সন্তুষ্ট করার প্রত্যয়ে জিনিসগুলো ব্যবহার করি তাহলে সেটা হবে ইবাদত। আর যদি কেউ ইসলাম বিরোধী কার্যকলাপ করে তখন তা হবে পাপকর্ম।

    মাইক ব্যবহার করে আযান দেওয়া বিদআত নয়। কারণ, আযানের শর্ত হচ্ছে মানুষকে ফরজ নামাজের পূর্বে মসজিদের দিকে আহবান করা, যত মানুষ আযান শুনবে ততই উত্তম। কিন্তু কেউ যদি বলে নামাযের পরে আযান দিব, তখন তা মুখ দিয়ে দিক আর মাইক দিয়ে দিক তা বিদআত।
    বিদআত।

    বিদআত পরিচিতির মূলনীতি – এই বইটি ডাউনলোড করে পড়ে নিবেন, ইনশাল্লাহ বিদআত সম্পর্কে একটা পরিস্কার ধারণা হয়ে যাবে।

    হাফিজ

    @manwithamission, ভাই আপনার উত্তর এর জন্য জাজাকাল্লাহ , তবে তার আগে আমার বিষয়টা পরিস্কার করি । আপনি যে হাদিস শরীফ উল্লেখ করেছেন

    “তোমরা নিজেদেরকে নবউদ্ভাবিত বিষয় (ইবাদত) সমূহ থেকে দূরে রেখ, কেননা প্রত্যেক নবউদ্ভাবিত (দ্বীনি) বিষয়ই বিদআত, আর প্রত্যেক বিদআত হচ্ছে ভ্রান্তি বা ভুল পথ”। (তিরমিযী)

    এটা আমি সম্পূর্নরূপে বিশ্বাস করি । শুধুমাত্র বিদআতে ডেফিনিশন নিয়ে আমার প্রশ্ন । আপনার উত্তর আমার মনে রইল এবং পরবর্তিতে এটা নিয়ে ইনশাল্লাহ আরো আলোচনা করা যাবে । (বর্তমানে কিছুটা ব্যস্ততার জন্য আলোচনা দীর্ঘায়িত করলাম না )

  5. আলহামদুলিল্লাহ, আমাদের কত সাহস – যে যেখানে রসুল স্বয়ং বলে গেছেন প্রত্যেক বিদয়াত পথভ্রষ্টতা সেখানে আমরা কিছু বিদআত- কে হাসানা বা উত্তম বানিয়ে নিয়েছি। অনেকেই সত্য বুঝে কিন্তু নিজ জেদ ও দলীয় সংকীর্ণতার জন্য সত্য মানতে পারেনা। আল্লাহ আমাদের ক্ষমা করুন ও সত্যটা বুঝে মানার তৌফিক দিন।

    manwithamission

    @মনপবন, আমীন।