লগইন রেজিস্ট্রেশন

***হাদীস অনুসরণের বিষয়ে ইমামদের মতামত ও তাদের হাদীস বিরোধী বক্তব্য প্রত্যাখ্যান***

লিখেছেন: ' manwithamission' @ রবিবার, এপ্রিল ১১, ২০১০ (১২:২৮ পূর্বাহ্ণ)

১. ইমাম আবু হানীফা রহিমাহুল্লাহঃ
প্রথমে ইমাম আবু হানীফা রহিমাহুল্লাহ সম্পর্কে আলোচনা করা যাক। তার সাথী-সঙ্গীরা তার বহু কথা বর্ণনা করেছেন। সেগুলোর মূল সূর একটা। সেটা হচ্ছে, হাদীস আকড়ে ধরা ওয়াজিব এবং ইমামদের যে সকল রায় হাদীস বিরোধী তা প্রত্যাখ্যান করা জরুরী। তিনি বলেছেনঃ

# সহীহ হাদীসই আমার মাযহাব।১
# আমরা কোথা থেকে মাসআলা গ্রহণ করেছি, তা জানার আগ পর্যন্ত আমাদের বক্তব্য গ্রহণ করা কারোর জন্যে জায়েয নয়।২
> আরেক বর্ণনায় ইমাম আবু হানীফা এই বক্তব্য এসেছে, যে ব্যক্তি আমার দলীল-প্রমাণ জানে না, তার জন্য আমার বক্তব্য দিয়ে ফতোয়া দেওয়া হারাম।
> অন্য এক বর্ণনায় তার আরো একটি কথা যোগ করে বলা হয়েছে, আমরা মানুষ। আজ যে কথা বলি কাল সে কথা প্রত্যাখ্যান করি।
> আরেক বর্ণনায় এসেছে, ‘হে ইয়াকুব (আবু ইউসুফ), তোমার জন্যে আফসোস! আমার কাছ থেকে যা শোন সব কিছু লিখ না। কেননা, আজ আমি কোন বিষয়ে একটা মত পোষণ করি আগামীকাল তা ত্যাগ করি আর আগামীকাল যে মত পোষণ করি পরশু তা ত্যাগ করি।
# আমার কোন কথা বা বক্তব্য যদি কোরআন ও হাদীসের বিপরীত হয়, তাহলে আমার বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করো।৩
ফুটনোটঃ ১. ইবনে আবেদীন ‘আল-হাশিয়া কিতাবের ১ম খন্ডের ৬৩ পৃষ্ঠা এবং তার ‘রাসমুল মুফতী’ কিতাবের ১ম খন্ডের ৪র্থ পৃষ্ঠায় একথা উল্লেখ করেছেন।
২. ইবনু আবাদিল বার, ১৪৫ পৃঃ
ইবনুল কাইয়েম, ২য় খন্ড, ৩০৯ পৃঃ
ইবনু আবেদীন, ষষ্ঠ খন্ড, ২৯৩ পৃঃ
আর-শা’রানী, ১ম খন্ড, ৫৫ পৃঃ
৩. আল ইকায-আল ফোলানী, ৫০পৃঃ

২. মালেক বিন আনাস রহিমাহুল্লাহঃ
# ইমাম মালেক বিন আনাস রহিমাহুল্লাহ বলেছেনঃ আমি মানুষ, ভুল-শুদ্ধ দুটোই করি। আমার রায় দেখ। যা কোরআন ও সুন্নাহর মোতাবেক তা গ্রহণ কর এবং যা তারা বিপরীত তা প্রত্যাখ্যান কর।১
# রাসূলুল্লাহ ﷺ এর পর এমন কোন ব্যক্তি নেই যার কথা ও কাজ সমালোচনার উর্দ্ধে। একমাত্র রাসূল ﷺ ই সমালোচনার উর্দ্ধে।২
# ইবনু ওহাব বলেছেন, আমি ইমাম মালেকের ওযুর মধ্যে দুই পায়ের আঙ্গুল খেলাল করার বিষয়ে এক প্রশ্ন করতে শুনেছি। তিনি উত্তরে বলেন, লোকদের জন্যে এটা প্রয়োজন নেই। ইবনু ওহাব বলেন, আমি মানুষ কমে গেলে তাকে নিরিবিলি পেয়ে জিজ্ঞাসা করি, তাতো আমাদের জন্যে সুন্নাহ। ইমাম মালেক বলেন, সেটা কি? আমি বললাম, আমরা লাইসু বিন সাদ, ইবনু লোহইআ, আমর বিন হারেস, ইয়াযিদ বিন আমর আল-মাআফেরী, আবু আবদুর রহমান আল হাবালী এবং আল মোস্তাওরাদ বিন শাদ্দাদ আল কোরাশী-এই সুত্র পরম্পরা থেকে জানতে পেরেছি যে, শাদ্দাদ আল কোরাশী বলেন, আমি রাসূল ﷺ কে কনিষ্ঠ আঙ্গুল দিয়ে দুই পায়ের আঙ্গুল খেলাল করতে দেখেছি। ইমাম মালেক বলেন, এটাতো সুন্দর (হাসান) হাদীস। আমি এখন ছাড়া আর কখনও এই হাদীসটি শুনিনি। তারপর যখনই তাকে এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হয়েছে, তখনই তাকে পায়ের আঙ্গুল খেলাল করার আদেশ দিতে আমি শুনেছি।৩
ফুটনোটঃ ১. আল-জামে ইবনু আবদিল, ২য় খন্ড, ৩২ পৃঃ। উসুলুল আহকাম-ইবনে হাযম, ষষ্ঠ খন্ড, ১৪৯ পৃঃ। আল-ফোলানীঃ ৭২ পৃঃ।
২. ইবনু আবদিল হাদী, ১ম খন্ড ২২৭ পৃঃ। আল-জামে ইবনু আবাদিল বার, ২য় খন্ড, ৯১ পৃঃ।
৩. মোকাদ্দামা আল জারাহ ওয়াত তাদীল ইবনু আবি হাতেম, ৩১-৩২ পৃঃ।

৩. ইমাম শাফেঈ রহিমাহুল্লাহঃ
এ বিষয়ে ইমাম শাফেঈ থেকে অনেক সুন্দর কথা বর্ণিত আছে এবং তার অনুসারীরা তা সর্বাধিক আমল করেছে।
তিনি বলেছেনঃ
# তোমাদের কারো কাছ থেকে যেন রাসূল ﷺ এর সুন্নাহ ছুটে না যায়; আমি যতো কিছুই বলে থাকি তা যদি রাসূল ﷺ এর হাদীসের পরিপন্থী হয়, তাহলে রাসূলুল্লাহ’র ﷺ কথাই আমার কথা।১
# একথারা উপর মুসলামানদের ইজমা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে যে, যখনই কারোর সামনে রাসূলুল্লাহ’র ﷺ এর কোন কথা প্রকাশ পায়, তখনই তার জন্যে কোন লোকের কথার ভিত্তিতে রাসূলুল্লাহ ﷺ এর হাদীস ত্যাগ করা জায়েয নয়।২
# তোমরা যদি আমার কিতাবে রাসূলুল্লাহ ﷺ এর সুন্নাহ বিরোধী কোন কিছু পাও, তাহলে আমার ঐ কথা ত্যাগ কর। অন্য এক বর্ণনায় এসেছে, তাহলে রাসূলুল্লাহ ﷺ এর ঐ হাদীসকে অনুসরণ কর এবং অন্য কারো কথার প্রতি নজর দিয়ো না।৩
# সহীহ ও বিশুদ্ধ হাদীসই আমার মাযহাব।৪
# আপনারা হাদীষ ও রিজাল শাস্ত্রে আমার চাইতে বেশী জ্ঞাত। সহীহ হাদীসের সন্ধান পেলে আমাকে জানাবেন। বর্ণনাকারী কুফা, বসরা ও সিরিয়ার যেই হোক না কেন, হাদীস সহীহ হলে আমি তার কাছে যাব।৫
# আমি যা বলেছি তার বিপরীত যদি রাসূলুল্লাহ ﷺ এর কোন হাদীস কারো নিকট বিদ্যমান থাকে, তাহলে আমি আমার জীবিত ও মৃত উভয় অবস্থাতেই ঐ হাদীসের দিকে ফিরে আসবো।৬
# তোমরা যদি আমাকে কোন কথা বলতে দেখ এবং রাসূলুল্লাহ ﷺ এর থেকে এর বিপরীত রিওয়াত পাও, তাহলে জেনে রাখ আমার জ্ঞান-বুদ্ধি লোপ পেয়েছে।৭
# আমি যা বলেছি তার বিপরীত রাসূলুল্লাহ ﷺ এর থেকে কোন সহীহ হাদীস বর্ণনা থাকলে নবীর হাদীসই উত্তম, তখন তোমরা আমার তাকলীদ(অন্ধ অনুকরণ) করবে না।৮
# রাসূলুল্লাহ ﷺ এর হাদীসই আমার কথা-যদিও সেই হাদীস আমার কাছ থেকে শুনতে পাওনি।৯
ফুটনোটঃ ১. ইলামুল মোকেঈন, ২য় খন্ড, ৩৬৩-৩৬৪ পৃঃ।
২. ইবনুল কাইয়েম, ২য় খন্ড, ৩৬১ পৃঃ এবং আলফোলানী ৬৮ পৃঃ
৩.আলা-হারাওয়ারী জাম্মুল কালাম, ৩য় খন্ড পৃষ্ঠা ১ ও ৪৬। আল ইহহিজাজ বিশ-শাফেঈ-খাতীব, ৮ম খন্ড, ২ পৃঃ।
৪. আশশারানী ১ম খন্ড, ৫৭ পৃঃ। আল ফোলানীঃ ১০৭ পৃঃ।
৫. আদাবুল শাফেঈ-ইবনু আবি হাতেম, ৯৪-৯৪ পৃঃ।
৬. আল হারওয়ারী ৪৭ পৃঃ। আলা ফোলানী ১০৪ পৃঃ।
৭. আদাব-ইবনু আবি হাতেম, ৯৩ পৃঃ। হিলইয়া-আবু নাঈম, ৯ম খন্ড, ১০৬ পৃঃ
৮. ইবনু আবি হাতেম, আবু নাঈম ও ইবনু আসাকির।
৯. ইবনু আবি হাতেম পৃঃ৯৩-৯৪।

৪. ইমাম আহমদ বিন হাম্বল রহিমাহুল্লাহঃ
ইমামদের মধ্যে ইমাম আহমদ বিন হাম্বল সর্বাধিক হাদীস সংরক্ষণকারী ও হাদীসের উপর আমলকারী। তিনি শাখা-প্রশাখা মাসআলা ও রায়ের (ইজতিহাদের) উপর ভিত্তি করে কোন গ্রন্থ রচনা করাকে অপছন্দ করতেন।১
# তোমরা আমার ইমাম মালেক, শাফেঈ আওযাঈ এবং সুফিয়ান ছাওরীর তাকলীদ(অন্ধ আনুগত্য) করবে না। বরং তারা যে উৎস থেকে গ্রহণ করেছেন তুমিও সেই উৎস থেকে গ্রহণ কর।২
অন্য একটি বর্ণায় এসেছে, তুমি তোমার দ্বীনের বিষয়ে তাদের কারো অন্ধ আনুগত্য করো না। রাসূলুল্লাহ ﷺ এর ও সাহাবায়ে কেরাম থেকে যা বর্ণিত হয়েছে তা গ্রহণ কর। তারপর তাবেঈদের কাছ থেকে গ্রহণ কর এবং এ বিষয়ে ব্যক্তির স্বাধীনতা রয়েছে। তিনি একবার বলেছেনঃ ‘অনুসরণ বলতে বুঝায় রাসূলুল্লাহ ﷺ এর ও সাহাবায়ে কেরাম থেকে যা বর্ণিত হয়েছে তার অনুসরণ করা।’ তারপর তাবেঈদের কাছ থেকে বর্ণিত বিষয় মানা-না মানার ব্যাপারে ব্যাক্তির স্বাধীনতা রয়েছে।৩

# আওযাঈ, ইমাম মালেক ও ইমাম আবু হানীফার রায় তাদের নিজস্ব রায় বা ইজতিহাদ। আমার কাছে এসবই সমান। তবে দলীল হল আছার অর্থাৎ সাহাবী ও তাবেঈগণের কথা।৪
# যে ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ ﷺ এর হাদীসকে প্রত্যাখ্যান করে, সে ধ্বংসের মুখে দাড়িয়ে আছে।৫
ফুটনোটঃ ১. আল মানাকেল-ইবনুল জাওযী, ১৯২ পৃঃ।
২. আল ফোলানী, ১১৩ পৃঃ। ইবনুল কাইয়েম ইলাম, ২য় খন্ডঃ ৩০২ পৃঃ
৩. মাসায়েলে ইমাম আহমদ, ২৭৬-২৭৭ পৃঃ।
৪. ইবনু আবদিল বার-আল-জামে, ২য় খন্ডঃ ১৪৯ পৃঃ।
৫. ইবনুল জাওয়ী, ১৮২ পৃঃ।

হাদীস অনুসরণের ব্যাপারে এবং অন্ধ আনুগত্য থেকে দূরে থাকার জন্যে এই হচ্ছে ইমামগণের মন্তব্য ও বক্তব্য। তাদের বক্তব্যগুলো এত স্পষ্ট ও পরিস্কার যে, এর জন্যে কোন প্রকার ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণের দরকার কিংবা বিতর্কের অবকাশ নেই। এর ভিত্তিতে বলা যায় যে, হাদীস অনুসরণের কারণে নিজ ইমামের মাযহাবের রায়ের বিপরীত হলেও কেউ মাযহাব বিচ্যুত হয় না। বরং সে নিজ মাযহাবেরই অনুসারী থাকে।

তবে যে ব্যক্তি শুধু ইমামদের কথার দোহাই দিয়ে হাদীসের বিরোধিতা করে, সে ব্যক্তি কিছুতেই অটুট রজ্জু আকড়ে ধরে নেই। বরং এই অনমনীয় মনোভাবের কারণে সে ইমামাদের নাফরমানীই করে এবং তাদের কথার বিরোধিতা করে।

Source: The Prophet’s Prayer Described

Processing your request, Please wait....
  • Print this article!
  • Digg
  • Sphinn
  • del.icio.us
  • Facebook
  • Mixx
  • Google Bookmarks
  • LinkaGoGo
  • MSN Reporter
  • Twitter
৩০১ বার পঠিত
1 Star2 Stars3 Stars4 Stars5 Stars (ভোট, গড়: ৩.০০)

১৬ টি মন্তব্য

  1. Source: The Prophet’s Prayer Described

    Source টা বোঝা গেলো না , এটা কি বই এর নাম ? URL ?

    মনপবন

    @হাফিজ ভাই, আমার খুব দুঃখ লাগে। আপনাকে বললে তো আপনি বলেন ব্যক্তি আক্রমণ কিন্তু কি করি বলেন? আপনি একটি পোস্ট দিলেন –
    “বেহেশতি জেওর ও “রসুলুল্লাহর নামাজ” বই দুটোর তুলনামুলক আলোচনা”। দশটি প্রশ্ন করলেন যার সমাধান “রসুলুল্লাহর নামাজ” বইয়ে নাই। কিন্তু আপনি একটু কষ্ট করে “রসুলুল্লাহর নামাজ” বইটা পড়ে দেখলেননা? ভাই সত্যি আমার কান্না আসছে। আপনি দু”টো বইয়ের আলোচনা করলেন একটি বই না পড়েই? এই পোস্টটি মূলত “রসুলুল্লাহর নামাজ” বইটির প্রারম্ভ থেকে নেয়া।
    আপনারা আমদের অনেক নাম দেন – লা-মযহাবি, ওয়াহাবি, আহলে হাদিস। আমাদের ব্যাপারে অনেক মিথ্যা অভিযোগও বাজারে চালু আছে – যে আমরা নাকি কোন আলিম মানিনা। আমরা যে আসলে সব আলিম মানি যতক্ষণ পর্যন্ত তারা রসুলের(সাঃ) হাদিস এবং সাহাবিদের বুঝ অনুযায়ী সমাধান দেয় – আমাদের এ দাবি কি আপনারা শুনতে পাচ্ছেননা?

    হাফিজ

    @মনপবন,
    ভাই উনি যে সোর্স এর নাম দিয়েছেন কোনো লেখকের নাম দ্যান নি । আমিতো জিজ্ঞেস করতেই পারি ?


    দশটি প্রশ্ন করলেন যার সমাধান “রসুলুল্লাহর নামাজ” বইয়ে নাই। কিন্তু আপনি একটু কষ্ট করে “রসুলুল্লাহর নামাজ” বইটা পড়ে দেখলেননা?

    বাংলা ভাষায় “রসুলুল্লাহর নামাজ” বই এর তিনটি অনুবাদ বেরিয়েছে ? তিনটিই আমার কাছে আছে । আমি যে দশটি প্রশ্ন করেছি সেগুলোর সমাধান সেখানে পাইনি । কেউ যদি সেটা পেয়ে থাকে দেখিয়ে দিলেই হয় , তখন না হয় মেনে নিব ।

    manwithamission

    @হাফিজ, আসসালামু আলাইকুম ভাই,
    Source: The Prophet’s Prayer Described
    আপনার কাছে যে তিনটি বইয়ের অনুবাদ আছে সেই বইটাই! এ.এন.সিরাজুল ইসলাম কর্তৃক অনুদিত বাংলা বই থেকেই সরাসরি এটি তুলে দিয়েছি কিন্তু দেওয়ার সময় উৎসটি লিখে দিয়েছি ইংরেজীতে কারণ এর পেছনে একটা উদ্দেশ্য ছিল। আমি দেখতে চেয়েছিলাম কয়জন এই উৎসটা ধরতে পারে। আমি আশা করেছিলাম এরকম প্রশ্ন আসবে কিন্ত একটু সমস্যা হয়ে গেল আপনি তো বইটি সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ ধারণা রাখেন কাজেই লেখাটি পড়ার সাথে সাথেই হয়তো ধরতে পারার কথা ছিল। যাই হোক, পড়ার জন্যে ধন্যবাদ।

    হাফিজ

    @manwithamission, আমি তো ধরে নিয়েছিলাম কষ্ট করে আপনি কোনো ইংরেজী সাইটের অনুবাদ করেছেন যেখানে নাসিরুদ্দিন আলবানী (রহ:) এর বইটির ইংরেজী ভার্সন আছে ।

    মনপবন

    @হাফিজ ভাই, নাস্তিকেরা ক্বুরানের ভুল ধরে পুরো ক্বুরান না পড়েই। আপনি দশটি প্রশ্ন এনেছেন যার উত্তর ঐ বইয়ে নেই অথচ এই প্রশ্নগুলো আপনি নিজে খুঁজে বের করেননি! আপনার কাছে তিনটি অনুবাদই আছে – অথচ আপনি বইটি পড়েননি। সাবাশ!

    হাফিজ

    @মনপবন, তাহলে দেখলেন না পড়ে ১০টি প্রশ্ন করেছি যেগুলোর একটিরও উত্তর সেই বইতে কেউ খুজে পেল না , আর পড়ে দিলে কি হতো বলেন ?

  2. আলহামদুলিল্লাহ্! সবসময়ের মতই সুন্দর ও resolute! (F) (F) (F)

    manwithamission

    @মুসলিম৫৫, আসসালামু আলাইকুম ভাই, শুকরান।

  3. আলহামদুলিল্লাহ, উপরের লেখা পড়লে বোঝা যায় , চার ইমাম কত গুরুত্ব দিতেন হাদিস এর ব্যাপারে ।

  4. আজ পর্যন্ত কোন মাজহাব অনুসরণকারীকে এ বিষয়গুলো অস্বীকার করতে শুনিনি। বরং তাঁরাও এগুলো প্রচার করে থাকেন। তারপরও যে কেন মতবিরোধ হয়!!!

  5. কাজেই বুঝা গেল, চার ঈমাম সহিহ হাদিসের ওপরই আমল করতেন, সেই অনুযায়ীই ফতোয়া দিয়েছেন।

    manwithamission

    @সাদাত, জ্বী ভাই, তারা চেষ্টা করেছেন আর এ জন্যেই বলে গেছেন তাদের ফতোয়ার বিরুদ্ধে যদি কুরআন ও সহীহ হাদীসে সেই ফতোয়ার জবাব পাওয়া যায় তাহলে সেটাই তাদের মাযহাব। কারণ, মানুষ মাত্রই ভুল করবে আর সেটাই স্বাভাবিক। নিখুত অনুসরণের ব্যক্তি রাসূল ﷺ , অন্ধ অনুকরণ যদি করতে হয় শুধু তাকেই করা যাবে, অন্য কাউকে নয়। কিন্তু ভুল পাওয়া সত্যেও কেউ যদি বলে না আমরা অন্য কিছু মানতে নারাজ তাহলে তারা প্রকারন্তরে ইমামদের কথার অমান্য করবে। লেখাটি ভাল করে পড়ুন দেখুন তারা এটাই বুঝাতে চেয়েছেন।

    সাদাত

    @manwithamission,

    এক.
    কোন মানসুখ আমলের পক্ষে কুরআনে সহিহ আয়াত থাকার পরও তা আমলযোগ্য থাকে না।
    -এটা কি বুঝেন?
    তাহলে,
    কোন মানসুখ আমলের পক্ষে সহিহ হাদিস থাকলেও তা আমলযোগ্য থাকে না।
    -এটা বুঝেন না কেন?

    দুই.
    একেবারে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেন তো,
    হানাফি মাযহাবের কোন সিদ্ধান্ত ভুল, কেন ভুল? সঠিক সিদ্ধান্ত কোনটি? এবং তা সঠিক কেন?

    তামীম

    @সাদাত,
    এই প্রশ্নের উত্তর তারা দিতে পারবে না, সেটা তো ভাল করেই জানেন। বেকার এই প্রশ্ন করে তাদের ভ্যাবাচ্যাকা খাওয়াচ্ছেন কেন? আপনাকে মাইনাচ এই দুইটা প্রশ্নের জন্য।

    বাগেরহাট

    @সাদাত,
    আসসালামুআলাইকুম,
    আমি আপনার ২নং প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করছি হানাফি মাযহাবের সর্বাধিক প্রসিদ্ধ এবং জনপ্রিয় প্রামান্য ফিকাহ গ্রন্থ
    আল-হিদায়া থেকে, যাকে ইসলামী আইন শাশ্ত্রের একখানি নির্ভরযোগ্য ” মৌলিক গ্রন্থ” বলা হয় ।
    আপাতত মাত্র সিয়াম বিষয়ক কয়েকটি মত উল্লেখ করছি, পড়ে দেখুন মৌলিক এর সংজ্ঞা অনুযায়ী কতটা মানতে পারেন?
    # সিয়াম স্মরণ থাকা অবস্থায় যদি গলার ভিতরে মাছি প্রবেশ করে তাহলে সিয়াম ভংগ হবে না।
    # যদি দাঁতের ফাকে আটকে থাকা গোশত ভক্ষন করে তবে কম হলে রোজা ভংগ হবে না কিন্তু বেশী পরিমানে হলে ভংগ হবে।
    ## যে ব্যক্তি কংকর কিংবা লোহা গিলে ফেলে তার রোজা ভংগ হয়ে যাবে ।
    # যে ব্যক্তি স্ত্রীর লজ্জাস্থান ছাড়া অন্যভাবে সংগম করে এবং বীর্যপাত ঘটে, তার উপর কাযা ওয়াজিব হবে ।
    ### মৃতদেহের সাথে কিংবা জন্তুর সাথে সংগম করলে বীর্যস্খলন ঘটুক কিংবা না ঘটুক, তার উপর কাফফারা ওয়াজিব হবে না ।
    আল-হিদায়া , ইঃ ফাঃ ১ম খঃ , ২৪৬-২৪৯ পৃঃ ।
    আপনার জানার ইচ্ছার উপর নির্ভর করছে আরো লিখব কীনা। অসংখ্য নিজের ছিদ্র সাথে নিয়ে আমারা শুধু অপরের ছিদ্র অন্বেষন করছি!!