মাহফুজ স্যার
লিখেছেন: ' আবু আনাস' @ সোমবার, জানুয়ারি ১৮, ২০১০ (১২:৪৮ অপরাহ্ণ)
আস-সালামু আলাইকুম, সকল প্রশংসা আল্লাহ’র জন্য, শান্তি অবতীর্ণ হোক মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর প্রতি। পরম করুণাময়-দয়াশীল আল্লাহ’র নামে শুরু করছি -
অনেকক্ষণ ফার্মগেটে দাঁড়িয়ে আছি,খুব চেষ্টা করছি বিরক্ত না হবার জন্য কিন্ত পারা যাচ্ছেনা। রাস্তার দিকে চেয়ে আছি তো আছিই, মোহাম্মদপুর যাবার কোন বাসের দেখা নেই। বাসায় বাবা না খেয়ে অপেক্ষা করছেন আমার জন্য, ভাঁড়ারের চাবি আমার কাছে, বাসায় যাব তবেই ভাত রান্না হবে। এদিকে ফোনের পরে ফোন, তাড়াতাড়ি আয়।
হঠাৎ দেখি এক পাগড়িপরা লম্বা দাড়ির ভদ্রলোক মটরসাইকেল ধীর করে বাস কন্ডাক্টরদের মত হাঁকছেন – মোহাম্মদপুর, মোহাম্মদপুর। কত আর লাগবে – ৩ টাকার জায়গায় ১০ টাকা। তড়িৎ সিদ্ধান্ত নিয়ে বললাম জী আমি যাব। উনি এগিয়ে বসে পিছনে জায়গা করে দিলেন। পরিচয় হল – উনার নাম মাহফুজ, ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে ক্লাস নিয়ে বাড়ি ফিরছেন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট গ্র্যাজুয়েট। এছাড়াও আল হেরা নামের একটি ভোকেশনাল কলেজের শিক্ষক। আমিও আমার পরিচয় দিলাম। পরিচিত হবার পরেই ইতস্তত একটা ভাব চলে আসল, এমন একজন মানুষকে টাকাটা দেই কিভাবে… শেষে দ্বিধা ঝেড়ে জিজ্ঞেস করেই ফেললাম, আচ্ছা স্যার, আপনি এভাবে আমাকে ডেকে নিলেন কেন?
উনি যা বললেন তার সারমর্ম হল -
“আল্লাহ বলেছেন তোমরা জমিনবাসীদের উপর দয়া কর তাহলে আমি (আল্লাহ ) তোমাদের উপর দয়া করব। আমার তো ভাই অনেক সামর্থ্য নাই যে আমি মানুষের অনেক সেবা করব, তবে যতটুকু সম্ভব তাই করার চেষ্টা করি। যেমন আমি ফাঁকা মটরসাইকেলে করে বাসায় যাচ্ছি, এখন একটা মানুষ যদি আমার সাথে যায় তবে আমার তো ক্ষতি হবেনা কিন্তু যে যাবে তার তো একটা উপকার হবে। এজন্য আমি দূরে কোথাও যাওয়ার সময় প্রথম স্টপেজে থেমে যেখানে যাব সে জায়গার নাম ধরে ডাক দেই, কেউ যদি যেতে চায় তাহলে আলহামদুলিল্লাহ, তাকে সাথে নিয়ে যাই, অনেক সময় মানুষ সন্দেহ করে যেতে চায় না, তখন একাই চলে যাই। এখন এই যে আপনাকে আমি নিয়ে আসলাম এতে আমি কিন্ত আপনার চেয়ে আমার নিজের বেশি লাভ হয়েছে। আপনি তো নিজে চলে আসতে পারতেন, বাসে বা অন্যভাবে, কিন্তু আমার পিছনে আনার মাধ্যমে আল্লাহ আমাকে সম্মানিত করলেন, আমাকে কিছু নেকি অর্জনের সুযোগ দিলেন। এটা আমার প্রতি আল্লাহর মেহেরবানি। এভাবেই ছোট ছোট সেবা করার মাধ্যমে যদি আল্লাহ বড় কিছু করিয়ে নেন এই আশায় আছি। ইখলাস সহ যদি শুধু আল্লাহকে খুশি করার জন্য কোন ভাল করে থাকি তবে আল্লাহ আমার ভাল করবেন – এই দুনিয়ায়, পরকালেও।”
কথা প্রসঙ্গে আরো বললেন “মুখে ইসলামের দাওয়াত দেয়ার পাশাপাশি আমি চেষ্টা করি নিজের জীবনে ইসলাম পালন করার। এমন অনেকে আছে যারা মুখে বললে শুনেনা কিন্তু আমার কথা,কাজ, জীবনযাপন থেকে দেখে শিখে ইসলাম কিভাবে মানা উচিত”
নিজের মনেই অনেক ছোট হয়ে গেছি আমি ততক্ষণে, শ্রদ্ধায় মাথা নুয়ে গেছে। জানলাম এরকম কিছু মানুষ এখনো বেঁচে আছে বলেই ঢাকা এখনো হাইতি হয়ে যায়নি।
Processing your request, Please wait....












মাহফুজ স্যার জিন্দাবাদ। মাহফুজ স্যার সত্যিকার ইসলামের পথে হাঁটছেন। আমরা সবাই এমন করে হাঁটতে পারতাম? ধন্যবাদ।
@মুনিম, মাহফুজ স্যার জিন্দাবাদ বলাটা কেমন হয় ?ধন্যবাদ বা জাযাকুমুল্লাহ বলা যায় আর এটাই উত্তম।
@বাংলা মৌলভী, জিন্দাবা বলতে আমি বুঝি, আল্লাহ তাকে দির্ঘজীবি করুন। আমার ধারনা ঠিক না ভুল দয়া করে জানাবেন কি?
@বাংলা মৌলভী, আপনারে খুঁজতেছি এইটি পড়েন।
এখানে আসার পর যত লিখা পড়েছি, এই লিখাটি সবচেয়ে ভালো লেগেছে আমার, মাহফুজ স্যার জিন্দাবাদ। নতুন কিছু শিখলাম। আগামীতেও এমন শিক্ষনীয় বিষয় সবার কাছে আশা করি। বিষেশ করে আব্দুল্লাহ ভাইকে ধন্যবাদ।
আল্লাহ পাক আমাদেরকে মাহফুজ স্যারের মতো ইখলাস ও ইহসানের সহিত আমল করার তৌফিক দিন। আমিন।
মাশাল্লাহ।