শ্রেণীশত্রু
লিখেছেন: ' আবু আনাস' @ মঙ্গলবার, ফেব্রুয়ারি ২, ২০১০ (১০:৩৬ অপরাহ্ণ)
স্বাধীনতার পরে ভারতের নকশালবাদীদের দ্বারা উদ্বুদ্ধ হয়ে বাংলাদেশে মাওবাদী-সাম্যবাদী আন্দোলনের একটা জোয়ার বয়ে গিয়েছিল। বিপ্লবের নামে চরমপন্থার সেই অনাচারের বর্ণনা বামপন্থীদের ইতিহাস/গল্প/উপন্যাসেই বেশ পাওয়া যায়। এদের চিন্তাধারার মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ ছিল শ্রেনীশত্রু নিধনের ব্যাপারটি। আর শ্রেণীশত্রু নিধনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে নৃশংস ছিল “শ্রেনীশত্রু”-এর সংজ্ঞা দেয়ার ব্যাপারটি। মোটামুটি অবস্থাপন্ন কৃষকদের জোতদার তথা শ্রেনীশত্রু নাম দিয়ে খুন ও তারপর সম্পত্তি লুট করা এরা বৈপ্লবিক কর্তব্য মনে করত। এই আদর্শের পাশবিক অনৈতিকতা দেখে যদি কেউ তার বিরোধিতা করত তবেও সেও একজন শ্রেনীশত্রু হয়ে যেত। এমনকি এক ডজন খুন করা কোন কমরেডেরও যদি কোনভাবে পাষাণ হৃদয় গলে কখনো মনে হয় এই নির্বিচার হত্যা আর নয় তবে তাকে দেশ ছেড়ে পালাতে হত, নয়তো দল ত্যাগ করার কারণে এক রাতের মাঝে সে নতুন শ্রেনীশত্রু বনে যেত এবং তাঁর নাম “টু বি এলিমিনেটেড” লিস্টের শীর্ষে উঠে যেত। কাদামাটিতে শুয়ে একসাথে দেশ বদলে দেবার স্বপ্ন দেখা দুই বন্ধুর একজনকে অপরজনের জীবন নিতে বাধ্য করা হত। নইলে তারও যে নাম উঠে যাবে মৃত্যু পরোয়ানার তালিকায়! কি কুৎসিত অন্ধকার জীবন – There is no way out !
আজ প্রথম-আলোর লিড নিউজে লাল কালিতে লেখা – জঙ্গির হামলায় জঙ্গি নিহত। থানা-পুলিশের তদন্ত করা লাগেনি, এরা এক রাতেই রায় দিয়ে দিল – সাবাশ প্রথম-আলো! এই না হলে বদলে দেয়া?
ইসলামের শত্রুরা ঠান্ডা মাথায় একটা ফান্ড তৈরি করল, শয়তানের বুদ্ধিতে পরিকল্পনা করল – মুসলিম দিয়ে ইসলাম শেষ করে দিবে। কিছু আলিম ভাড়া করা হল, কিছু আল্লাহভীরু লোকের ব্রেনওয়াশ করা হল – দেশ অনাচারে ভরে যাচ্ছে তোমরা আল্লাহর পথে জিহাদ কর, দেশে ইসলাম কায়িম কর। শয়তান মদদ দিল – যাও আল্লাহর রাস্তায় শহিদ হয়ে যাও, তৈরি হল “জাগ্রত মুসলিম বাংলাদেশ” অন্য মসুলিম দের জাগাতে নয়, মেরে শেষ করে দিতে। মগজে অজ্ঞতা, হাতে বিদেশি মানুষ-শয়তানের দেয়া অস্ত্র আর কানে জীন-শয়তানের মন্ত্র নিয়ে নব্য খারেজিরা বের হল বাংলার মাটিতে। রমনার বটমূল আর সিনেমা হলে বোমা মেরে এরা সব ফাসিকদের ফেরেশতা বানিয়ে ফেলবে। আর কালিমা কি জিনিস সেটা না বোঝা মানুষ বোমার ভয়ে ঘরের দরজা বন্ধ করে তাহাজ্জুদ পড়বে – ইসলাম কি গাছে ধরে?
এর মধ্যে কিছু মানুষকে আল্লাহ হিদায়াত দিলেন, তাঁরা সালিহ আল-উসাইমিনের বই পড়লেন “শাসক সংশোধনের মূলনীতি”; ড. খন্দকার জাহাঙ্গীরের বই পড়লেন “ইসলামের নামে জঙ্গীবাদ”; আলিমদের কাছে “খুরুজ” তথা বিদ্রোহের শর্ত ও ব্যাখ্যা শুনলেন – ভুল বুঝে সঠিক পথে আসতে চাইলেন। নিজেদের দ্বীনি ভাইদের বুঝাতে চাইলেন – এ পথ ভুলের। এতে ইসলাম আসবেনা, চলে যাবে। দেশের সব দাড়িওয়ালা তরুণকে “বাংলা ভাই” নামে গালি দেয়া হবে, জঙ্গী বলে সবার সামনে অপমান করা হবে, মেয়েরা পর্দা করলে তা টেনে খুলে পরীক্ষা করা হবে। শ্রেনীশত্রু খতমের নেশায় মত্ত জিহাদিরা নিজেদের ভাইদের ভুল বুঝল শয়তানের ধোঁকায়। শ্রেনীশত্রু নতুন নাম পেল – কাফির।
হে আল্লাহ, তুমি এদের হিদায়াত দাও এবং আমাদের এই ফিতনা থেকে রক্ষা কর।
হে আল্লাহ, তুমি ইমাম রাশিদুল ভাইকে শহিদের মর্যাদা দান কর।
হে আল্লাহ তুমি তাকে মাফ কর, তাঁর উপর রহম কর, তাকে পুর্ণ নিরাপত্তায় রাখ, তাকে ক্ষমা কর, মর্যাদার সাথে তাঁর আতিথেয়তা কর, তাঁর কবর প্রশস্ত করে দাও, তুমি তাকে পানি, শিশির ও তুশার দিয়ে ধৌত করে দাও, এমনভাবে ধৌত করে দাও যেভাবে সাদা কাপড় থেকে ময়লা ধুয়ে ফেলা হয়। তাকে দুনিয়ার ঘরের বদলে উত্তম ঘর দাও, দুনিয়ার পরিবারের বদলে উত্তম পরিবার দাও, দুনিয়ার জোড়ার বদলে উত্তম জোড়া দাও। তাকে তুমি জান্নাতে প্রবেশ করাও এবং কবর ও জাহান্নামের আযাব থেকে রক্ষা কর।
[আবু দাউদ ৩/৩১৫, হাকিম]
Processing your request, Please wait....












আজ প্রথম-আলোর লিড নিউজে লাল কালিতে লেখা – জঙ্গির হামলায় জঙ্গি নিহত। থানা-পুলিশের তদন্ত করা লাগেনি, এরা এক রাতেই রায় দিয়ে দিল – সাবাশ প্রথম-আলো! এই না হলে বদলে দেয়া?
কিছুটা ডানপন্হীর আড়ালে সেরা বামপন্হী পত্রিকা!!!!!!!!!
@দ্য মুসলিম, ভাই এরা ডানপন্থী বা বামপন্থী কি না জানিনা – তবে “কাফিরপন্থী” বা “কুফরপন্থী” – সোজা বাংলায় মুসলিম বিদ্বেষী। প্রতি কপি প্রথম আলো কেনার সময় আমাদের মনে রাখা উচিত – আমরা কার হাতে আমাদের পয়সা তুলে দিচ্ছি!
@মুসলিম৫৫,
আফ্রিকার কোন এক দেশে ব্যভিচারিনী এর নারীকে ইসলামের বিধান অনুযায়ী শাস্তি দেয়ার পর তাদের কমেন্ট দেখে প্রথমআলোর উদ্দেশ্য ও বৈশিষ্ট সম্বন্ধে আমার বদ্ধমুল ধারনা হয়।
@মুসলিম৫৫, আমি পরীক্ষা করার জন্য মাঝে মাঝে ৩/৪ টি দৈনিক একসাথে কিনি । মিডিয়া যে কিভাবে মিথ্যা কথা বলে তা না দেখলে বিশ্বাস করা কঠিন ।
এমন অনেক সংবাদ প্রথম আলোতে ছাপা হয় “২০ জন জংগী হাতে নাতে ধরা” পরে অন্য পত্রিকায় দেখবেন বের হয়েছে “জংগী সন্দেহে ২০ জন আটককৃত বেকসুর খালাস, আসলে তারা ছিল নিরপরাধ” । কিন্তু আশ্চর্য পরে যে তারা খালাস পেয়েছে নিরপরাধ প্রমান হবার কারনে , সেটা কিন্তু প্রথম আলো কোনো সময় ছাপেনি ।
প্রথম আলোর “মতিউর রহমান” সারা জীবন কমিউনিজম করেছে , এখন ইসলাম বিদ্বেষী আচরন স্বাভাবিক ।
ভালো লিখেছেন ভাই, ধন্যবাদ।
আমিন। আমিন। আমিন।
আজ প্রথম-আলোর লিড নিউজে লাল কালিতে লেখা – জঙ্গির হামলায় জঙ্গি নিহত। থানা-পুলিশের তদন্ত করা লাগেনি, এরা এক রাতেই রায় দিয়ে দিল – সাবাশ প্রথম-আলো! এই না হলে বদলে দেয়া?
সহমত ।
আমিন
Ooআল্লাহ আপনাকে উত্তম প্রতিদান দিন।oy
ইসলামের নামে জন্গিবাদ বই টা সবার পড়া উচিত।
আলহামদুলিল্লাহ্ খুব সুন্দর insight!
মাশা’আল্লাহ্!!
বারাকাল্লাহু ফিক!!!