আলিমদের আদব
লিখেছেন: ' আবু আনাস' @ বৃহস্পতিবার, ফেব্রুয়ারি ৪, ২০১০ (৯:৩২ অপরাহ্ণ)
আস-সালামু আলাইকুম, সকল প্রশংসা আল্লাহ’র জন্য, শান্তি অবতীর্ণ হোক মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর প্রতি। পরম করুণাময়-দয়াশীল আল্লাহ’র নামে শুরু করছি -
নিচের অংশটুকু শায়খ নাসিরুদ্দিন আল আলবানির “হাযিহি দাওয়াতুন্না” অর্থাৎ “ইহা আমাদের আহবান” শীর্ষক একটি বক্তৃতার প্রথম অংশ থেকে অনুবাদ করলাম। এটা পড়লে বুঝতে কষ্ট হবেনা যে প্রকৃত আলিমদের কাছ থেকে শুধু ইসলামই নয় ভদ্রতাও শিখার আছে।
ইব্রাহিমঃ বিসমিল্লাহ, সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর এবং শান্তি অবতীর্ণ হোক মুহাম্মাদ (সাঃ) এর উপর। অতঃপর, আল্লাহ সুবহানাহু আমাদের ঈমান দিয়ে সৌভাগ্যবান করেছেন এবং সমগ্র মুসলিম উম্মাহকে সৌভাগ্যমন্ডিত করেছেন আলিমদের মাধ্যমে যাদের আল্লাহ জ্ঞান দ্বারা সম্মানিত করেছেন যেন তাঁরা মানুষকে আল্লাহর ইবাদাতের পথে ডাকতে পারেন। নিঃসন্দেহে তাঁরা নাবীদের উত্তরাধিকারী। আজকের এ জমায়েতের কারণ প্রথমত আল্লাহকে খুশি করা এবং দ্বিতীয়ত জ্ঞান অর্জন করা যা কিনা আল্লাহর সন্তুষ্টির পথে আমাদের নিয়ে যাবে। আজকের এই আনন্দঘন অনুষ্ঠানে আমাদের সাথে আছেন আমাদের শায়খ, আলিম এবং মহান শিক্ষক শায়খ মুহাম্মাদ নাসিরুদ্দিন আল-আলবানি। আমরা তাকে স্বাগতম জানাই। নিঃসন্দেহে আমরা সবাই তাঁর জ্ঞান এবং প্রজ্ঞা থেকে শিখতে চাই, তাই আমরা তাঁর জ্ঞানগর্ভ কথা মন দিয়ে শুনব, স্বাগতম হে মহান শায়খ…
শায়খঃ
আহলান বাইকুম, নিশ্চয় সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁর প্রশংসা করি, তাঁর সাহায্য চাই, এবং তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করি। আমরা আমাদের নিজেদের এবং নিজেদের কর্মের মন্দ থেকে আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে পথ দেখান তাকে বিপথগামী করার কেউ নেই এবং যিনি তাকে বিপথগামী করেন তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে আল্লাহ ছাড়া প্রকৃত কোন ইলাহ নেই, তিনি একক এবং অদ্বিতীয়। আমি আরো সাক্ষ্য দিচ্ছি যে মুহাম্মাদ আল্লাহর বান্দা ও রসুল। অতঃপর, নিশ্চয় শ্রেষ্ঠ বাণী হলো আল্লাহর কিতাব এবং শ্রেষ্ঠ পথনির্দেশনা মুহাম্মাদ (সাঃ) এর পথনির্দেশনা। সর্বনিকৃষ্ট বিষয় হল যা ধর্মে আবিষ্কার করা হয় এবং প্রত্যেক বিষয় যা ধর্মে আবিষ্কার করা হয় তা বিদআত এবং প্রত্যেক বিদআত হলো পথভ্রষ্টতা এবং প্রত্যেক পথভ্রষ্টতার পরিণাম জাহান্নাম।
আমি উস্তাদ ইব্রাহিমকে তাঁর কথা ও প্রশংসার জন্য ধন্যবাদ দিচ্ছি। কিন্তু এ ব্যাপারে ইসলামের প্রথম খলিফা আবু বাকার সিদ্দিক (রাঃ) এর উদাহরণ অনুসরণ করা ছাড়া আমার কিছু করার নেই। যখন তাঁর কোন প্রশংসা করা হত, প্রশংসাকারী যেই হোক না কেন, তিনি বিশ্বাস করতেন যে তা অতিরঞ্জিত; অথচ তিনি ছিলেন তা পাওয়ার যোগ্য। কিন্তু…(আলবানি মৃদুভাবে কাঁদছেন)… কিন্তু তিনি বলতেন -
“হে আল্লাহ, তাঁরা আমার ব্যাপারে যা বলে তার জন্য আমাকে দায়ী করোনা, এবং আমার সম্বন্ধে তাঁরা যা ভাবে আমাকে তার চেয়ে উত্তম করে দাও। তাঁরা আমার সম্বন্ধে যা জানেনা সেই ব্যাপারে আমাকে তুমি ক্ষমা করে দাও।”
এটাই যদি সেই মহান আস-সিদ্দিকের উক্তি হয় তবে আমাদের কি বলার থাকতে পারে? আমিও তাই তাঁর (রাঃ) এর মত বলতে পারি –
“হে আল্লাহ, তাঁরা আমার ব্যাপারে যা বলে তার জন্য আমাকে দায়ী করোনা, এবং আমার সম্বন্ধে তাঁরা যা ভাবে আমাকে তার চেয়ে উত্তম করে দাও। এবং তাঁরা আমার সম্বন্ধে যা জানেনা সেই ব্যাপারে আমাকে তুমি ক্ষমা করে দাও।”
আমি এর সাথে শুধু এতটুকুই যোগ করতে পারি যে ভাই ইব্রাহিম যে ব্যক্তির কথা বর্ণনা করলেন সেটা আমি নই। আমিতো শুধুই একজন জ্ঞানান্বেষী ছাত্র, অন্য কিছুই নয়। প্রত্যেক ছাত্রের উপর এটা কর্তব্য যে রসুলুল্লাহ (সাঃ) এর সেই হাদিসটি মেনে চলা –
“আমার কাছ থেকে একটি আয়াত পেলেও তা অন্যদের কাছে পৌছে দাও। বনু ইসরাইলের থেকে তোমরা গল্প বর্ণনা করতে পার, তাতে কোন ক্ষতি নেই। এবং যে ইচ্ছাকৃতভাবে আমার নামে মিথ্যা বলে সে যেন জাহান্নামে তাঁর স্থান খুঁজে নেয়।”
এই হাদিস, ক্বুরান এবং রসুলুল্লাহ (সাঃ) এর অন্যান্য হাদিসের আদেশ পালন করতে আমরা মানুষ যা জানেনা তা তাদের জানিয়ে দিতে চেষ্টা করি। কিন্তু তার মানে এই না যে আমরা সেরকম কিছু হয়ে গেছি যেমনটি আমাদের কিছু ভাই ভেবে থাকেন। এটা এমন এক সত্য যা আমি আমার অন্তরের অন্তস্থলে অনুভব করে থাকি। এ ধরণের কোন কথা যখন আমি শুনি তখন আমার সেই প্রবাদটির কথা মনে পড়ে – “ছোট্ট পাখি এই ভূমিতে আজ হয়েছে ঈগল”। অনেকে জানেনা এই প্রবাদের অর্থ কি। মানুষ অজ্ঞতা বশত ছোট্ট পাখিকে ঈগল মনে করে। আজ ইসলামের অনেক দাঈ’র ক্ষেত্রেই এই কথা প্রযোজ্য, সে সত্য এবং সঠিকের উপর ডাকুক অথবা ভুল এবং মিথ্যার দিকে। কিন্তু আল্লাহ জানেন বর্তমান মুসলিম উম্মাহ’র খুব খুব কম সংখ্যক কিছু মানুষ আছেন যাদের ক্ষেত্রে বলা যেতে পারে যে তাঁরা আলিম।
Processing your request, Please wait....











