লগইন রেজিস্ট্রেশন

বিচারদিবসে প্রথম যে বিষয়টির হিসাব নেয়া হবে

লিখেছেন: ' আবু আনাস' @ রবিবার, ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০১০ (১১:৩২ অপরাহ্ণ)

আস-সালামু আলাইকুম, সকল প্রশংসা আল্লাহ’র জন্য, শান্তি অবতীর্ণ হোক মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর প্রতি। পরম করুণাময়-দয়াশীল আল্লাহ’র নামে শুরু করছি -

বিচারদিবসে প্রথম যে বিষয়টির হিসাব নেয়া হবে তা হল, নামাজ। যদি এটি শুদ্ধভাবে কবুল হয় তবে তার সকল আমল শুদ্ধ বলে ধরা হবে। আর যদি এটা বরবাদ হয়ে যায় তখন সকল আমলই বরবাদ হয়ে যাবে। হাদীসে এসেছে :

আনাস ইবনে হাকীম আদ-দবী যিনি যিয়াদ অথবা ইবনে যিয়াদের ভয়ে মদীনাতে এসেছিলেন ও আবু হুরাইরা রা. এর সাথে সাক্ষাত করলেন, তিনি বলেন, হে যুবক! আমি কি তোমাকে একটি হাদীস শুনাবো? আমি বললাম, অবশ্যই শুনাবেন। আল্লাহ আপনার প্রতি রহম করুন! তিনি বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন :

إن أول ما يحاسب الناس به يوم القيامة من أعمالهم الصلاة قال يقول ربنا جل وعز لملائكته وهو أعلم انظروا في صلاة عبدي أتمها أم نقصها فإن كانت تامة كتبت له تامة وإن كان انتقص منها شيئا قال انظروا هل لعبدي من تطوع فإن كان له تطوع قال أتموا لعبدي فريضته من تطوعه ثم تؤخذ الأعمال على ذاكم . رواه أحمد وأبو داود.

মানুষের আমলের মধ্যে প্রথম যে বিষয়টির হিসাব নেয়া হবে তাহল, নামাজ। আমাদের প্রতিপালক আল্লাহ তাআলা নিজে ভালমত জানা সত্বেও তার ফেরেশতাদের বলবেন: আমার এ বান্দার নামাজের প্রতি তাকাও। সে নামাজ পূর্ণ করেছে না ত্রুটি করেছে? যদি সে তা পূর্ণ করে থাকে তার ব্যাপারে পূর্ণতা লেখে দাও। আর যদি সে ত্রুটি করে থাকে তাহলে তার নফল নামাজের প্রতি খেয়াল করো। তার নফল থেকে ফরজের অপূর্ণতা পূর্ণ করে দাও। এরপর তার সকল আমলই এভাবে মুল্যায়ন করা হবে। (বর্ণনায়: আহমাদ, আবু দাউদ। আলবানী রহ. হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন।)

প্রথম যে বিষয়ে ফয়সালা হবে হাদীসে এসেছে

عن عبد الله بن مسعود رضي الله عن قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: أول ما يقضى بين الناس يوم القيامة ، في الدماء. رواه البخاري ومسلم.

আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: কেয়ামতের দিন প্রথম যে বিষয়ে মানুষের মধ্যে ফয়সালা করা হবে তা হবে রক্তপাতের বিচার। (বুখারী ও মুসলিম)

বিশেষ জ্ঞাতব্য : একটি হাদীসে বলা হল, প্রথম ফয়সালা হবে নামাজ সম্পর্কে। এ হাদীসে বলা হল, প্রথম ফয়সালা হবে রক্তপাত ও হত্যার। এ দু হাদীসের মধ্যে কোন বৈপরিত্য নেই।

    প্রথম হাদীসে আল্লাহ তাআলার হক বা অধিকার সম্পর্কে বলা হয়েছে। অর্থাৎ আল্লাহ তাআলার হক বা অধিকার বিষয়ে প্রথম হিসাব হবে নামাজের। আর মানুষের অধিকার ক্ষুন্নের বিষয়ে প্রথম বিচার হবে রক্তপাত ঘটানো ও হত্যাকান্ডের।

মানুষের অধিকার হরনের প্রতিকার

পৃথিবীতে বসে এক জন মানুষ অন্যজনের প্রতি যে জুলুম, অত্যাচার, নিপীড়ন করেছে, অধিকার ক্ষুন্ন করেছে, সম্পদ ও সম্মানের উপর যে আঘাত করেছে তার বিচার হবে কেয়ামতের দিন। এ বিচারের ধরণ সম্পর্কে হাদীসে এসেছে -

عن أبي هريرة رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: من كانت له مظلمة لأحد من عرضه أو شيء فليتحلله منه اليوم ، قبل أن لا يكون دينار ولا درهم ، إن كان له عمل صالح أخذ منه بقدر مظلمته ، وإن لم تكن له حسنات أخذ من سيئات صاحبه فحمل عليه. رواه البخاري.

আবু হুরাইরা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: যে ব্যক্তি তার ভাইয়ের প্রতি কোন অন্যায় করেছে, অথবা তার সম্মানহানী করেছে কিংবা অন্যকোনভাবে তার ক্ষতি করেছে সে যেন যেদিন কোন টাকা-পয়সা কাজে আসবে না সে দিন আসার পূর্বে আজই (দুনিয়াতে থাকাবস্থায়) তার প্রতিকার করে নেয়। কেয়ামতের বিচারে অন্যায়কারীর কোন নেক আমল থাকলে তা থেকে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তির পাওনা আদায় করা হবে। আর যদি অন্যায়কারীর নেক আমল না থাকে তাহলে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তির পাপগুলো তার উপর চাপিয়ে দেয়া হবে। (বুখারী)

হাদীসে আরো এসেছে -

عن أبي هريرة رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: أتدرون ما المفلس ؟ قالوا : المفلس فينا من لا درهم له ولا متاع . فقال : إن المفلس من أمتي ، يأتي يوم القيامة بصلاة وصيام وزكاة ، ويأتي قد شتم هذا ، وقذف هذا ، وأكل مال هذا ، وسفك دم هذا ، وضرب هذا . فيعطى هذا من حسناته وهذا من حسناته . فإن فنيت حسناته ، قبل أن يقضى ما عليه ، أخذ من خطاياهم فطرحت عليه . ثم طرح في النار. رواه مسلم.

আবু হুরাইরা রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: তোমরা কি জান দরিদ্র অসহায় ব্যক্তি কে? সাহাবায়ে কেরাম বললেন, আমাদের মধ্যে দরিদ্র অসহায় ব্যক্তিতো সে যার কোন টাকা পয়সা বা সম্পদ নেই। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: আমার উম্মতের মধ্যে সত্যিকার দরিদ্র অসহায় হলো সেই ব্যক্তি যে কেয়ামতের দিন সালাত, সিয়াম ও যাকাতসহ অনেক ভাল কাজ নিয়ে উপস্থিত হবে, অথচ দুনিয়াতে বসে সে কাউকে গালি দিয়েছিল, কারো প্রতি অপবাদ দিয়েছিল, করো সম্পদ আত্নসাত করেছিল, কারো রক্তপাত ঘটিয়েছিল, কাউকে মারধোর করেছিল ফলে তার নেক আমলগুলো থেকে নিয়ে তার দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের পাওনা আদায় করা হবে। এভাবে যখন তার নেক আমলগুলো শেষ হয়ে যাবে ক্ষতিগ্রস্তদের দেয়ার জন্য আর কিছু থাকবে না তখন তাদের পাপগুলো তাকে দেয়া হবে ফলে জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হবে। (মুসলিম)

এ হাদীস দুটো থেকে আমরা যা শিখতে পারলাম:

এক. গুনাহ, পাপ বা অপরাধ দু প্রকার। প্রথম প্রকার হল যা দ্বারা আল্লাহ তাআলার অধিকার বা হক ক্ষুন্ন হয়, যেমন শিরক করা, নামাজ পরিত্যাগ করা, হজ আদায় না করা ইত্যাদি। আর দ্বিতীয় প্রকার হল যা দ্বারা মানবাধিকার বা হুকুকুল ইবাদ ক্ষুন্ন হয়। যেমন করো সম্পদ দখল করা, গালি দেয়া, মারধোর করা ইত্যাদি। প্রথম প্রকারের পাপগুলো ক্ষমা করা আল্লাহর দায়িত্বে থাকে। আল্লাহ তাআলা ইচ্ছা করলে এগুলো ক্ষমা করে দিতে পারেন। আর দ্বিতীয় প্রকার পাপগুলো আল্লাহ তাআলা ক্ষমা করবেন না যতক্ষণ না ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি ক্ষমা না করে।

দুই. দুনিয়াতে বসে মৃত্যুর পূর্বেই ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের ক্ষতিপূরণ আদায় করতে হবে। বা তার কাছ থেকে দাবী ছাড়িয়ে নিতে হবে।

তিন. যার মাধ্যমে ব্যক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তার নেক আমল বা সৎকর্ম থেকে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের পাওনা পরিশোধ করা হবে। এমনি পাওনা পরিশোধ করতে করতে যদি নেক আমলগুলো শেষ হয়ে যায় তাহলে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তির পাপগুলো তার উপর চাপিয়ে দিয়ে তার পাওনা পরিশোধ করা হবে।

চার. আলোচিত ব্যক্তি আসলে ধনীই ছিল। তার অনেক নেক আমল ছিল। কিন্তু এগুলো এমনভাবে আর এমন সময়ে নি:শেষ হয়ে গেল যে, তা অর্জন করার আর কোন পথই থাকলো না। এ জন্য রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এ ব্যক্তিকে সত্যিকার অসহায় বলেছেন। কারণ দুনিয়াতে কেহ নি:স্ব হয়ে গেলে সে আবার পরিশ্রম করে সম্পদ অর্জন করতে পারে। কিন্তু বিচার দিবসে কেহ নি:স্ব হয়ে গেলে তার সামনে আর সম্পদ অর্জনের সুযোগ থাকে না।

পাঁচ. রাসূলুল্লা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর এ হাদীস আমাদেরকে মানুষের অধিকার রক্ষার ব্যাপারে যত্নবান হতে নির্দেশ দেয়। মানুষের সম্মান, সম্পদ, শরীর সবকিছু আমাদের জন্য হারাম করা হয়েছে। এগুলোর কোনটি ক্ষতিগ্রস্ত করলে মানবাধিকার লংঘিত হয়।

সূত্রঃ আহওয়ালুল কিয়ামাহ,
ICDBD

Processing your request, Please wait....
  • Print this article!
  • Digg
  • Sphinn
  • del.icio.us
  • Facebook
  • Mixx
  • Google Bookmarks
  • LinkaGoGo
  • MSN Reporter
  • Twitter
১১২ বার পঠিত
1 Star2 Stars3 Stars4 Stars5 Stars (ভোট, গড়: ৫.০০)

১ টি মন্তব্য

  1. জাজাকাল্লাহু খায়রান। খুবই চমৎকারভাবে তুলে ধরার জন্যে ধন্যবাদ। (*)