নবীজির কিছু অনন্য বৈশিষ্ট – ১
লিখেছেন: ' মুনিস মোর্শেদ' @ বৃহস্পতিবার, মার্চ ১৮, ২০১০ (৯:৫৫ পূর্বাহ্ণ)
রসুলুল্লাহ (সাল্লাললাহু আলাইহে ওয়া সাল্লাম ) এর কিছু অনন্য বৈশিষ্ট মোবারক দেয়া হোলো :
১) সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও রসুল (সা:)
মুসলমানদের সর্বজন স্বীকৃত আকীদা বা বিশ্বাস হলো, সর্বশেষ নবী ইমামুল মুরসালীন, সাইয়্যিদুল আম্বিয়া হযরত মুহম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সকল আম্বিয়া-ই-কিরাম থেকে শ্রেষ্ঠ। এ প্রসঙ্গে শায়েখ নাজমুদ্দীন উমর বিন মুহম্মদ নাসাফী রহমতুল্লাহি আলাইহি আহলুস সুন্নাত ওয়াল জামাআতের আকীদা সম্পর্কে তার রচিত কিতাব “মতনুল আকাইদিন নাসাফিয়্যাহ”-তে উল্লেখ করেন,
وافضل الانبياء محمد عليه السلام-
আম্বিয়া কিরামের মধ্যে হযরত মুহম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওসাল্লাম সর্বশ্রেষ্ঠ।
মূলত: রসুল হিসাবে সকলেই মর্যাদার অধিকারি। তবে আল্লাহপাক একজন রসুলের উপর আরেকজনের শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছেন। এ সম্পর্কে কোরআন শরীফে বলা হয়েছে,
تلك الرسل فضلنا بعضهم على بعض منهم من كلم الله ورفع بعضهم درجات-
[২-বাকারা-২৩৫]
তাঁরা সকলেই রসুল, তবে আমি কাউকে কারো উপর শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছি।
তাঁদের থেকে কারো সাথে আমি কথা বলেছি আবার কারো ‘রাফায়ে দরাজাত’ বা মর্যাদাকে আমি সুউচ্চ করেছি।
মুফাস্সিরুন-ই-কিরাম বলেন এ আয়াতে করিমায় ইমামুল আম্বিয়া ওয়াল মুরসালীন হুজুর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওসাল্লামকে সর্বচ্চ মর্যাদার অধিকারী হিসাবে সাব্যস্ত করা হয়েছে। যেমন : স্বয়ং আল্লাহপাক পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফে হুজুর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওসাল্লাম এর ফাযায়েল, ফজীলত, মর্যাদা-মর্তবা প্রসঙ্গে বলেন,
ورفعنا لك ذكرك
“আমি আপনার যিকিরকে সুউচ্চ করেছি। অর্থাৎ আপনাকে অতুলনিয় মর্যাদা দান করেছি।”
[সুরা-আলাম নাশরাহ-৪]
আবার কোরআন শরীফে সকল নবী-রাসুলদের উম্মতদের চাইতে রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উম্মতদের উত্তম বা সর্বশ্রেষ্ঠ উম্মত বলা হয়েছে। যেমন, আল্লাহপাক বলেন,
كنتم خير امة
তোমরা হলে সর্বোত্তম উম্মত : [৩-আল ইমরান-১১০]
সুতরাং উম্মত যদি সর্বশ্রেষ্ঠ হয় তবে সে উম্মতের যিনি রাসুল, তাঁর কি মর্যাদা-মর্তবা হবে?
এ প্রসঙ্গে আল্লামা সা’দুদ্দীন তাফতাযানী ‘শরহুল আকাঈদ’
ولا شك ان خيرية الامة بحسب كما لهم فى الدين وذالك تابع لكمال نبيهم الذى يتبعونه-
এতে কোন সন্দেহ নেই যে, উম্মতের শ্রেষ্ঠত্ব দ্বীনের মধ্যে তাঁদের কামেল হওয়ার দৃষ্টিকোণ থেকে হয়ে থাকে। আর দ্বীনের মধ্যে কামেল হওয়া তাঁদের নবীর কামালত বা পূর্ণতার উপর নির্ভরশীল, তাঁরা যাঁর অনুসরণ করে।
যেহেতু, আল্লাহর রসুল সকল আম্বিয়া আলাইহিমুস সালাম-অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ তাই তাঁর উম্মত সকল নবীর উম্মত হতে শ্রেষ্ঠ।
এ ছাড়াও কোরআন শরীফে আরো অনেক আয়াত শরীফ রয়েছে যাতে আল্লাহর রসুলের শ্রেষ্ঠত্ব সুস্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে। আর সুক্ষভাবে চিন্তা করলে দেখা যাবে সমগ্র কোরআন শরীফেই আল্লাহর হাবীবের শ্রেষ্ঠত্ব বর্ণিত হয়েছে। কেননা কোরআন শরীফ নাযিলই হয়েছে রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহিস সালামের প্রতি।
(২) আল্লাহর রসূল ওহীর দ্বারা নিয়ন্ত্রিত :
যেমন আল্লাহ তা’আলা বলেন,
وما ينطق عن الهوى ان هو الا وحي يوحي-
তিনি ওহী ব্যাতিত নিজের থেকে কোন কথা বলেন না।
(৩) তাঁর মুবারক শরীরে মশা-মাছি বসতোনা :
হাদীস শরীফে উল্লেখ আছে :
وان الذباب كان لا يقع على جسده ولا ثيابه وان البعوض لا يمتص دمه-
নিশ্চয়ই হুজুর পাক সাল্লাল্লহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর শরীর ও কাপড় মুবারকের উপর মাছি বসতোনা এবং নিশ্চয়ই মশাও রক্ত মুবারক চোষার জন্য তাঁর শরীর মুবারকে বসতোনা।
(শিফা, খাসায়েসুল কুবরা, শরহে শামায়েলে তিরমিযী)
(৪) তাঁর শরীরের সব কিছু পবিত্র ছিল :
তাঁর ইস্তিঞ্জা মুবারক, রক্ত মুবারক, লালা ও থুতু মুবারক ও ঘাম মুবারকসহ সকল কিছু পবিত্র থেকে পবিত্রতম, সুগন্ধময় ও শিফার কারন ছিল। বরং তা যারা পান করেছিল ও ব্যবহার করেছিল তাঁদের জন্য হাদীস শরীফে জান্নাতের সুসংবাদ দেয়া হয়েছে। তাঁরা জাহান্নামী হলেও তাদের জন্য জান্নাত ওয়াজিব হয়ে যেত।
(তিবরানী, আবূ নঈম, ইবনে হাব্বান, দারু কুতনী, বাজ্জার, আবূ ইয়ালা, ইবনে খাইসামা, বায়হাকী, হাকেম, খাসায়েসুল কুবরা, শেফা, দুররুল মুখতার প্রভৃতি)
—-চলবে —–
Processing your request, Please wait....












আপনাকে ধন্যবাদ । আমাদের এই ব্লগে তো রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লাম) কে নিয়ে আরো বেশী বেশী লেখা আসা উচিত ।
@হাফিজ,
ভাই মনে হয় খুব ব্যস্ত থাকেন। উনাকে অনেকদিন পর পর দেখা যায়। আশা করি উনি নিয়মিত হবেন, ইনশাআল্লাহ।