লগইন রেজিস্ট্রেশন

Response to: বেহেশতি জেওর ও “রসুলুল্লাহর নামাজ” বই দুটোর তুলনামুলক আলোচনা

লিখেছেন: ' মুসলিম৫৫' @ শনিবার, এপ্রিল ১০, ২০১০ (১:০৫ পূর্বাহ্ণ)

ইন্নাল হামদালিল্লাহ! ওয়াস সালাতু ওয়াস সালামু ‘আলা রাসূলিল্লাহ্!!

বেহেশতি জেওর ও “রসুলুল্লাহর নামাজ” বই দুটোর তুলনামুলক আলোচনা – হাফিজের এই পোস্টের উপর মন্তব্যের দায়-দায়িত্ব অলিখিতভাবে, খানিকটা হলেও, আমার উপর বর্তায়। কিন্তু এরকম একটা পোস্টের মন্তব্য ২/১ লাইনে দেয়া যায় না – তাই গোটা একটা পোস্ট আকারে দিতে হলো। সকল পঠকের সুবিধার জন্য হাফিজের গোটা পোস্টটাই ভেঙ্গে ভেঙ্গে (ইটালিকে) তুলে দেয় হলো – আর তার বক্তব্যের মাঝে মাঝে আমার অভিমত “মন্তব্য:” লিখে তারপর বোল্ড ফন্টে দেয়া হলো।

হাফিজ: বেহেশতি জেওর ( আশরাফ আলী থানভী রহ:) ও “রসুলুল্লাহর নামাজ” (নাসিরুদ্দিন আলবানী ) কিতাব দুটির মধ্যে একটি পর্যালোচনা
কারো প্রতি আক্রমন না করে আমি শুধু বই দুটোর মধ্যে তুলনামূলক পর্যালোচনা করব :
ফিকাহ সংক্রান্ত বই :
দুটো বইকেই আমরা ফিকাহ বা মাসআলার বই বলতে পারি । “রসুলুল্লাহর নামাজ” বইটি শধুমাত্র নামাজের মাসআলা সংকলন করা হয়েছে । তবে বেহেশতি জেওরে “নামাজ” , “রোজা” , “যাকাত” , অজু” ইত্যাদি বিভিন্ন বিষয় সংকলন করা হয়েছে । “রসুলুল্লাহর নামাজ” বইতে অজু সংক্রান্ত কোনো বিষয় নেই । অর্্থ্যাৎ এই বইটি পড়লে আপনি জানতেই পারবেন না নামাজ পড়ার জন্য অজু করতে হবে কি হবে না ?

মন্তব্য: ফিকাহ সংক্রান্ত একটি বইতে ফিকাহ শাস্ত্রের সকল মাসআলা থাকতে হবে এমন শর্ত নয়। ‘রাসূলুল্লাহর নামায’ বইটি মূলত ফিকাহ শাস্ত্রের ‘কিতাবুস সালাত’ এর ‘সিফাতুস সালাত’ অধ্যায়ের অন্তর্ভুক্ত হবে। তবে একথা ঠিক যে ফিকাহ শাস্ত্রের অন্যান্য মাসআলা জানার জন্য একজন মুসলিমকে অন্য বই/উতসের শরণাপন্ন হতে হবে।

হাফিজ:লেখকদ্বয়ের গুনাবলী
বেহেশতি জেওর এর লেখক মাওলানা আশরাফ আলী থানভী (রহ:) একাধারে এলমে হাদিস , এলমে তফসীর , আরবী সাহিত্য , অলংকার শাস্ত্র , দর্শন , আখলাক শাস্ত্রে , উসুলে ফিকাহ , উদ্ভিদ ও প্রানি বিজ্ঞান , ইতিহাস , মানতেক ইত্যাদি বিষয়ে দক্ষতা অর্জন করেন ।
“পক্ষান্তের “রসুলুল্লাহর নামাজ” বই এর লেখক শুধুমাত্র মুহাদ্দিস ।”

মন্তব্য:“শুধুমাত্র” শব্দটি ব্যবহার না করলেও চলত, একজন ব্যক্তি মোটামুটি ভাবে ভাষা, সাহিত্য, তাফসীর, হাদীস, ফিকহ, উসূল প্রভৃতি সকল শাখায় যথেষ্ট জ্ঞান ছাড়াই কোন একটি শাখায় বিশেষজ্ঞ হতে পারেন না।

হাফিজ:“মুহাদ্দিস বলা হয় , যাদের হাদিস বিষয়ক পড়াশুনা থাকে ।”

মন্তব্য: হাদীস বিষয়ে “পড়াশুনা” থাকলেই “মুহাদ্দিস” হওয়া যায় না, যেমন ফিকাহ নিয়ে পড়াশুনা থাকলেই “ফকীহ” হওয়া যায় না কিংবা “এলমে তাফসীর” নিয়ে পড়াশুনা করলেই “মুফাসসির” হওয়া যায় না। বরং মুহাদ্দিস বলতে হাদীসশাস্ত্রে বিশেষজ্ঞকে বোঝায় – এভাবে বললে পাঠকদের কাছে লেখকের (হাফিজের) এই দাবী অধিকতর বিশ্বাসযোগ্য হত যে: “কারো প্রতি আক্রমন না করে আমি শুধু বই দুটোর মধ্যে তুলনামূলক পর্যালোচনা করব…”

হাফিজ:কিন্তু এর অর্থ এই নয় যে তার ফেকাহর মাসআলার জটিল বিষয়গুলো বোঝার ক্ষমতা থাকবে

মন্তব্য: এর অর্থ এও নয় যে একজন মুহাদ্দিস ফেকাহর জটিল মাসআলা বুঝবেন না, বরং অনেকেই একই সাথে উভয় শাস্ত্রেই পারদর্শী হয়ে থাকেন, যেমন ইমাম আহমদ(র.)।

হাফিজ:সুতরাং এটা চিন্তার বিষয় একজন মুহাদ্দিসের “নামাজ” সংক্রান্ত মাসআলা নিয়ে বই লেখার যোগ্যতা কতটুকু ?

মন্তব্য: প্রথমত: রাসূলুল্লাহর নামায বইটি ‍নামাজ সংক্রান্ত সকল মাসআলার সংকলন নয় বরং তা সহীহ হাদীসের আলোকে মূলত: মূল সালাতের পদ্ধতির বিবরণ আর এধরনের বই রচনার জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত ব্যক্তি হচ্ছেন একজন মুহাদ্দিস। এক্ষেত্রে একজন ফকীহ একজন মুহাদ্দিসের ওপর প্রাধান্য পেতে পারেন এমন সব ক্ষেত্রে যেখানে সহীহ হাদীস থেকে সরাসরি দিকনির্দেশনা পাওয়া যায় না। এছাড়া নাসিরুদ্দিন আল আলবানীর(রহ.) অন্যান্য বই পাঠে ফিকহ শাস্ত্রে তার জ্ঞানের গভীরতার প্রমাণও পাওয়া যায়।

হাফিজ:শিক্ষা ব্যবস্হা :
আশরাফ আলি থানভী (রহ:) বিভিন্ন ওস্তাদের কাছে লেখা পড়া করা ছাড়াও বিস্ববিখ্যাত দ্বীনি প্রতিষ্ঠান “দেওবন্দ” থেকে ১৯ বছর বয়সের মধ্যে ২২ টি বিষয়ে পড়াশুনা শেষ করেন ।

মন্তব্য:এর অর্থ এই নয় যে তাঁর(রহ.) কোন ভুল থাকতে পারে না। আর এমন ধারণা করাও ঠিক নয় যে “দেওবন্দ” এ যা পড়ানো হয় সবই বিশুদ্ধ।

হাফিজ: পক্ষান্তের নাসিরুদ্দিন আলবানী কোনো দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে ইলম অর্জন করেননি , বরং তার পিতা যিনি ছিলেন কাঠমিস্ত্রি তার থেকে শিক্ষা করেন । এবং তার পিতা কোথার থেকে শিক্ষা করেন সে বিষয়ে কিছু জানা নেই । ( দ্রষ্টব্য : “রসুলুল্লাহর নামাজ” (নাসিরুদ্দিন আলবানী ) বই এর ভূমিকা )

মন্তব্য:“কাঠমিন্ত্রী” আলেম হতে পারেন না এমন কোন কথা নেই। এছাড়া নাসিরুদ্দীন আল আলবানী(র.) শুধু্ই তাঁর পিতার নিকট জ্ঞানার্জন করেছেন? যাহোক তিনি যেভাবেই জ্ঞানার্জন করে থাকুন না কেন তিনি যে পরিশেষে একজন “বিখ্যাত মুহাদ্দিস” হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করেছেন সেটাই বড় কথা। আর বিশ্বের সর্বত্র তিনি একজন মুহাদ্দিস হিসেবে(হাদীস বিশেষজ্ঞ, “যার হাদীসের পড়াশুনা থাকে” এমন নয়) স্বীকৃতি পেয়েছেন, কোন কোন মাসআলায় তাঁর সাথে অন্যদের দ্বিমত থাকলেও(এটা স্বাভাবিক যে সকল মাসআলায় সকলে একমত হবেন না)। অতএব তাঁর বাবা কাঠমিন্ত্রী ছিলেন এ জাতীয় কথা বলে একজন মুহাদ্দিস হিসেবে তাঁর অবস্থানকে খাটো করতে চেষ্টা করলে কেবল নিজের মর্যাদাই কমবে, তাঁর মর্যাদার কোন ঘাটতি হবে না। আর এধরনের বক্তব্যের পেছনে দুটি সম্ভাব্য কারণ হতে পারে:
১. ইসলামী জ্ঞানের জগতে বিচরণ না থাকা।
২. অন্তরে সুপ্ত কোন মাযহাবভিত্তিক বিদ্বেষ অথবা কোন ব্যক্তির প্রতি অতিরিক্ত শ্রদ্ধা যার ফলে তার বিরোধিতাকারী যে কাউকে শত্রু বলে গণ্য করার মনোভাব তৈরী হয় (অবশ্য আলোচনার শুরুতে লেখক স্বীকার করেছেন যে “কারো প্রতি আক্রমন না করে আমি শুধু বই দুটোর মধ্যে তুলনামূলক পর্যালোচনা করব…”)
এ প্রসংগে মনে পড়ল যে বাংলাদেশের সবচেয়ে বিখ্যাত অর্থোপেডিক সার্জনদের একজন সম্পর্কে বলতে শুনেছি যে তিনি নাকি চা-বাগানের “কুলি”র (শ্রমিক) সন্তান!

হাফিজ: রেফারেন্স :
অনেকে বলে থাকেন বেহেশতি জেওর ( আশরাফ আলী থানভী রহ:) বই -এ হাদিসের রেফারেন্স দেয়া নেই পক্ষান্তরে “রসুলুল্লাহর নামাজ” (নাসিরুদ্দিন আলবানী ) বই এ সব রেফারেন্স দেয়া আছে।
এখানে একটি বিষয় প্রনিধানযোগ্য , বেহেশতি জেওর লেখা হয়েছিল শুধুমাত্র মহিলাদের মাসআলা মাসাএল বা আমলের নিয়ম কানুন জানাবার জন্য । রেফারেন্স দেবার জন্য নয় । কেননা তাতে সাধারন মুসলমানদের বুঝতে কষ্ট হতো । কিন্তু যারা রেফারেন্স পেতে আগ্রহী তাদের জন্য হযরত আশরাফ আলি থানভী (রহ:) ওনার ভাগিনা হযরত জাফর আহমদ ওসমানি (রহ:) কে সমস্ত মাসআলার হাদিসের রেফারেন্স একটি বই আকারে বের করতে বলেন । এর পরিপ্রেক্ষিতে “ইলাউস সুনান” নামে ৬ খন্ডে বিশাল কিতাব রচনা করা হয় , যেটাতে হানাফী মাজহাবের আমলের সমস্ত হাদিসের রেফারেন্স দেয়া আছে । ( ইসলামিক ফাউন্ডেশন থেকে ৬ খন্ড অনুবাদ বের হয়েছে )

মন্তব্য: নবী মুহাম্মাদ(সা.) এর অনুসরণ করতে উৎসুক উম্মাতের জন্য কোন বইটি বেশী উপযোগী: সহীহ হাদীসের আলোকে একজন “মুহাদ্দিস” এর লেখা সমস্ত “রেফারেন্স” দেয়া একটি বই না রেফারেন্স বিহীন একটি বই যা “হানাফী মাযহাবের” আলোকে লেখা, ফলে তাতে সহীহ হাদীসের পরিবর্তে “হানাফী মাযহাবের” রেফরেন্সের ভুলত্রুটিগুলোও সন্নিবেশিত আছে, উপরন্তু সেই রেফারেন্স জানতে অপর এক বইয়ের শরণাপন্ন হতে হবে যার নাম “হানাফী মাযহাবের” অনুসারীদের কাছ থেকে জানতে হয় – এই সিদ্ধান্ত পাঠকদের বিবেকের কাছেই রইল।

হাফিজ:ভুল-ভ্রান্তি
আজ পর্যন্ত বেহেশতি জেওর এ মাসআলার ভুল আছে এ নিয়ে আলাদা কোনো বই বের হয়নি ( আমার জানা মতে , আপনারা কেউ জেনে থাকলে জানাবেন ) পক্ষান্তরে নাসিরুদ্দিন আলবানীর বই এবং তার হাদিস যাচাই বাছাই এর ভুল ভ্রান্তি নিয়ে আরব বিশ্বে এ পর্যন্ত ৩০টিরও অধিক বই বের হচ্ছে । যতই দিন যাচ্ছে ততই এসব বিষয় নিয়ে আরো তথ্য মুসলমানগন জানতে পারবে ।

মন্তব্য: এর চেয়েও অধিক সংখ্যক রচনা হয়েছে আল-কুরআনের কথিত “ভুল” সম্পর্কে – অতএব কোন বইয়ের বিরুদ্ধে কত বেশী বই রচিত হল তা কোন মাপকাঠি নয়! আরেকটি বিষয় লক্ষণীয় যে মুহাদ্দিস হিসেবে নাসিরুদ্দীন আলবানী(র.) বিখ্যাত হওয়ায় এবং তার বইগুলো (২২০টিরও বোশী) আরবী ভাষায় রচিত হওয়ায় তা গোটা মুসলিম বিশ্বের জ্ঞান চর্চার কেন্দ্রগুলোতে সমাদৃত এবং এজন্য এগুলো নিয়ে গবেষণা বেশী হবে সেটাই স্বাভাবিক। অপরপক্ষে আশরাফ আলী থানভী(রহ.) পাক-ভারত উপমহাদেশে সুপরিচিত হলেও বিশ্বব্যাপী তার কাজগুলো কতটা পরিচিত কিংবা “গুরুত্বপূর্ণ” হিসেবে বিবেচিত তা ভেবে দেখার বিষয়। সেক্ষেত্রে তার রচনার ভুল সংশোধন জাতীয় লেখা কম থাকা বা না থাকাই স্বাভাবিক। আর উপমহাদেশের কেউ যদি তা করতে যান তবে তাকে কি ধরনের রোষের শিকার হতে হবে, তা নিশ্চয়ই পাঠকগণ আঁচ করতে পারেন!

হাফিজ: যে প্রশ্ন-এর উত্তর “রসুলুল্লাহর নামাজ” (নাসিরুদ্দিন আলবানী ) বই এ নেই :
অনেকে এই বইটিকে বিশুদ্ধ নামাজের একমাত্র বই বলে থাকেন । কিন্তু সমগ্র বই তালাশ করে আমি অনেকগুলো মাসআলার সমাধান পাই নি । ভক্তদের অনুরোধ এই বই এর আলোকে আমাকে নিচের প্রশ্নগুলোর সমাধান দিন:
১) জানাজার নামাজ কখন পড়তে হয় , কেউ মারা গেলে , নাকি কেউ জন্মগ্রহন করলে ?
২) জুমআর নামাজ কখন পড়তে হয় ? সকালে নাকি রাত্রে ?
৩) ফজর , জোহর , মাগরিব , এশা , বিতের কখন পড়তে হয় ?
৪) মাগরিব নামাজের আগে আমি এশা নামাজ পড়লে নামাজ শুদ্ধ হবে কিনা ?
৫) অজু ছাড়া নামাজ হয় কিনা ?
৬) নামাজের মধ্যে অজু চলে গেলে বাকি নামাজ অজু ছাড়া পড়লে হবে কিনা ?
৭) ইমামের পিছনে নামাজ পড়ার সময় যদি ৩টি সিজদা মিস হয় তাহলে নামাজ হবে কিনা ?
৮) মহিলাদের শরীর নাপাক থাকলে নামাজ পড়তে পারবে কিনা ?
৯) মুসাফির অবস্হায় কিভাবে নামাজ পড়তে হবে ?
১০) সুরাহ ফাতিহা বাংলায় পড়লে হবে কিনা ?

মন্তব্য: এধরনের বক্তব্য একজন লেখকের নিজের মর্যাদার পক্ষেই ক্ষতিকর! আলবানীর(রহ.) বইতে সব মাসআলার জবাব আছে একথা আলবানী(রহ.) দাবী করেছেন? নাকি বেহেশতী জেওরে সকল মাসআলার জবাব আছে? তবে আমাদের জন্য এতটুকু গরুত্বপূর্ণ যে আলবানীর(র.) বইতে যতটুকু আছে ততটুকু অন্তত: বিশুদ্ধতার অনেক কাছাকাছি, কেননা তিনি ছিলেন “শুধুমাত্র” মুহাদ্দিস!

হাফিজ: এই বই এর আলোচনা আসলে প্রথমেই বলা হয় , সমস্ত সহীহ হাদিস থেকে রেফারেন্স দিয়ে বিশুদ্ধ নামাজের বই বাংলা ভাষায় মাত্র একটি ।
যারা এটা বিশ্বাস করেন তাদের কাছে আমার দুটি আর্জি
১) উপরের ১০টি প্রশ্নের উত্তর সেই বই এর থেকে আমাকে জোগাড় করে দিন
২) আর যদি এর উত্তর আপনারা না পান , তাহলে এই বিষয়গুলো আপনারা সমাধান করেন কিভাবে ? যারা মাজহাব মানে তাদের ফেকাহর বই এর থেকে ?

মন্তব্য: তারা বোঝাতেন চান যে নামাযের পদ্ধতির বিবরণ সম্পর্কে সবচেয়ে বিশুদ্ধ বই, তারা এটা বোঝাতে চান না যে সকল মাসআলার জবাব এই বইতে আছে! তাই কেন শুধু তর্কের খাতিরে জোর পূর্বক আপনার ভাইয়ের বক্তব্যের এমন অর্থ করবেন যা তিনি বলতে চান নি?

হাফিজ:” আর যদি এর উত্তর আপনারা না পান , তাহলে এই বিষয়গুলো আপনারা সমাধান করেন কিভাবে ? যারা মাজহাব মানে তাদের ফেকাহর বই এর থেকে ? ”

মন্তব্য: এই প্রশ্নের উত্তর দিয়ে এ বিষয়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ কথা বলে উপসংহার দেয়ার ইচ্ছা রাখি। যে কোন একজন সাধারণ মানুষের যখন দ্বীন সংক্রান্ত কোন জ্ঞানের প্রয়োজন হয়, তখন তার কর্তব্য: “যারা জানে তাদেরকে প্রশ্ন করা”(সূরা আন নাহল, আয়াত: ৪৩, সূরা আল আম্বিয়া, আয়াত: ৭ ), কোন মাযহাবের অন্ধ অনুসরণ করতে সে বাধ্য নয়। আর যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতির বর্তমান যুগে মানুষ দেশী-বিদেশী আলেমগণের কাছ থেকে তাদের জীবনের সর্বক্ষেত্রে প্রযোজ্য দ্বীনী দিকনির্দেশনা জেনে নিতে পারছে এবং এক্ষেত্রে তারা বেহেশতী জেওর জাতীয় নির্দিষ্ট মাযহাবের বইয়ের মুখাপেক্ষিতা থেকে মুক্ত আল হামদু লিল্লাহ। যারা “পাকভারত উপমহাদেশেই প্রকৃত ইসলামের জ্ঞান আছে” কিংবা “হানাফী মাযহাবের অন্ধ অনুসারীরাই পাক্কা মুসলমান”, “সৌদি আলেমরা তো ওহাবী” – এই জাতীয় কুপমন্ডুকতাপূর্ণ ধারণার গোড়ামী থেকে মুক্ত হতে পেরেছেন তারা জানেন যে মুসলিম বিশ্বব্যাপী আলেমগণ কোন একটি মাযহাবের অন্ধ অনুসরণ না করে কুরআন-সুন্নাহর আলোকে সঠিক সিদ্ধান্ত দেয়ার ব্যাপারে মনোযোগী, আর এক্ষেত্রে তারা কোন সিদ্ধান্ত তিনি যেই মাযহাব অবলম্বনে তার প্রাথমিক জ্ঞানার্জন করেছেন তার বিপরীত হলেও তাকে গ্রহণ করতে কুন্ঠাবোধ করেন না, আর এটাই ঈমানের দাবী। বরং কুরআন-সুন্নাহর সিদ্ধান্ত স্পষ্ট হওয়ার পর কেউ এর বিপরীতে নিজের কিংবা মাযহাবের এমনকি স্বয়ং কোন সাহাবীর মতামতকে আঁকড়ে থাকতে চাইলেও তার জন্য রয়েছে কুরআন ও সুন্নাহর সতর্কবাণী। উদাহরণস্বরূপ সৌদি আরবের আলেমগণ হাম্বলী মাযহাব অবলম্বনে প্রাথমিক অধ্যয়ন করে থাকেন, কিন্তু হাম্বলী মাযহাবের যেকোন কিতাব অধ্যয়নের সময় আলেমগণ প্রতিটি মাসআলায় ছাত্রদেরকে কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে সঠিক মত শিক্ষা দেন, কখনই বলেন না যে হাম্বলী মাযহাবই তোমাদের জন্য শিরোধার্য। ফলে যে সমস্ত দেশে এরকম কুরআন সুন্নাহ ভিত্তিক জ্ঞানচর্চা রয়েছে, কোন মাসআলা জানার জন্য সেসমস্ত দেশের আলেমগণের শরণাপন্ন হওয়া একজন সাধারণ মুসলিমের দ্বীনের জন্য অনেকটা নিরাপদ। এর বিপরীতের পাক-ভারত উপমহাদেশে বিরাজ করছে এক কট্টর মাযহাবভিত্তিক গোড়ামি যার ফলে একজন প্রশ্নকারী জানতে পারে “মাযহাবের মত” কোনটি, কুরআন-হাদীস কি বলে তা নয়! বরং কিছু ক্ষেত্রে অবস্থা আরো শোচনীয়, আর তা হল এই যে হানাফী মাযহাবের মত বলে এমন অনেক কিছু চালু আছে যেগুলোকে স্বয়ং হানাফী মাযহাবের মুহাক্কিকগণ বর্জন করেছেন!
পরিশেষে বলা যায় যে সত্য যার কাছ থেকেই আসুক তা আমাদেরকে গ্রহণ করতে হবে, যদি সত্য আশরাফ আলী থানভীর(রহ.) কিতাবে থাকে তবে সেটাই শিরোধার্য, যদি সত্য আলবানীর(রহ.) কিতাবে থাকে তবে সেটাই শিরোধার্য, এমনকি যদি সত্য ইবলীসের অনুসারীর কাছ থেকেও পাওয়া যায়, তবে সেটাও শিরোধার্য – এ কথা বলা যাবে না যে, সে তো ইবলীসের অনুসারী! যেমনটি হাদীসে বর্ণিত আছে যে এক শয়তান জ্বিন আবু হুরায়রাকে(রা.) শিক্ষা দিয়েছিল যে শয়নকালে আয়াতুল কুরসী পাঠে রাত্রিব্যাপী শয়তানের কাছ থেকে সুরক্ষা পাওয়া যায়, আর নবী(সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তা শুনে বলেছিলেন যে সে সত্যই বলেছে, যেখানে আজকের পাক ভারত উপমহাদেশের কোন ব্যক্তি বলবে যে “ঐ জ্বিন তো ‘‌দেওবন্দে’ পড়েনি!”
আল্লাহ পাক আমাদের সবাইকে তার নবীর(সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) প্রকৃত অনুসারী হওয়ার তাওফীক দান করুন।

Processing your request, Please wait....
  • Print this article!
  • Digg
  • Sphinn
  • del.icio.us
  • Facebook
  • Mixx
  • Google Bookmarks
  • LinkaGoGo
  • MSN Reporter
  • Twitter
৮৯৮ বার পঠিত
1 Star2 Stars3 Stars4 Stars5 Stars (ভোট, গড়: ৫.০০)

১৭ টি মন্তব্য

  1. যারা চোখ খুলে রেখেও দেখেনা তাদের কে দেখানোর সাধ্য/দায়িত্ব কোনটিই আমাদের নয়। আল্লাহর ইচ্ছায় আমি উনার প্রশ্নগুলোর জবাব দিতে পারতাম কিন্তু দেইনি কারণ তাতে লাভ নেই। যিনি গুগল সার্চকে কোন মানুষের ভুল ধরার অথরিটি মানেন সেসব মানুষদের সাথে তর্ক করা স্রেফ সময় নষ্ট। যেখানে “পর্ন” লিখে সার্চ দিলে ২২৪,০০০,০০০ টি হিট পাওয়া যায় সেখান থেকে তিনি আলবানির মত স্কলারের ভুল খুঁজেন। যা লিঙ্ক দিলেন তা পুরোটা পড়েও দেখলেননা আসলে কি যুক্তি দিয়ে ভুল ধরা হয়েছে। আলিমদের সম্মান কি এই? আমরা একবারও কি ব্যাক্তি আশরাফ আলি থানভির অমর্যাদা করে কিছু বলেছি?
    যারা এখানে লেখেন ও পড়েন (আমি নিজে সহ) তাদের বলছি, কিছু লেখার আগে আল্লাহকে ভয় করেন, আল্লাহর কাছে জবাব দিতে হবে এটা মনে রাখবেন। আপনি খুব যুক্তি দিলেন, তর্ক জিতে গেলেন, আল্লাহর কাছে আটকিয়ে গেলে কোন লাভ হবেনা।

    হাফিজ

    @মনপবন, মুসলিম৫৫ ভাই এর লেখার স্টাইল পছন্দ হয়েছে , কেননা উনি যথাসাধ্য চেষ্টা করেছেন যুক্তি দিয়ে বুঝাতে । কিন্তু আপনি যে কোনো কথার শুরুতেই এইকথাগুলো বলে থাকেন যেটা অনেকেরই অপছন্দ হবে “আপনার সাথে তর্ক করে লাভ নেই,যারা চোখ খুলে রেখেও দেখেনা তাদের কে দেখানোর সাধ্য/দায়িত্ব কোনটিই আমাদের নয় ” ইত্যাদি ।

    আপনার মধ্যে যক্তি তর্কের চেয়ে ব্যক্তি আক্রমনের প্রবনতা বেশী । এইজন্য কোনো সময় আপনার কোনো কমেন্টের জবাব না দিলে ভাববেন এটার প্রয়োজন বোধ করিনি । ঠিক এর বিপরীত কারনে হয়ত মুসলিম৫৫ ভাই এর সাথে আলোচনা চালিয়ে যেতে আগ্রহী ।

  2. মন্তব্য: ফিকাহ সংক্রান্ত একটি বইতে ফিকাহ শাস্ত্রের সকল মাসআলা থাকতে হবে এমন শর্ত নয়। ‘রাসূলুল্লাহর নামায’ বইটি মূলত ফিকাহ শাস্ত্রের ‘কিতাবুস সালাত’ এর ‘সিফাতুস সালাত’ অধ্যায়ের অন্তর্ভুক্ত হবে। তবে একথা ঠিক যে ফিকাহ শাস্ত্রের অন্যান্য মাসআলা জানার জন্য একজন মুসলিমকে অন্য বই/উতসের শরণাপন্ন হতে হবে।

    আপনার এই মতের সাথে সহমত ।

  3. মন্তব্য: হাদীস বিষয়ে “পড়াশুনা” থাকলেই “মুহাদ্দিস” হওয়া যায় না, যেমন ফিকাহ নিয়ে পড়াশুনা থাকলেই “ফকীহ” হওয়া যায় না কিংবা “এলমে তাফসীর” নিয়ে পড়াশুনা করলেই “মুফাসসির” হওয়া যায় না। বরং মুহাদ্দিস বলতে হাদীসশাস্ত্রে বিশেষজ্ঞকে বোঝায় – এভাবে বললে পাঠকদের কাছে লেখকের (হাফিজের) এই দাবী অধিকতর বিশ্বাসযোগ্য হত যে: “কারো প্রতি আক্রমন না করে আমি শুধু বই দুটোর মধ্যে তুলনামূলক পর্যালোচনা করব…”
    ন্তব্য: এর অর্থ এও নয় যে একজন মুহাদ্দিস ফেকাহর জটিল মাসআলা বুঝবেন না, বরং অনেকেই একই সাথে উভয় শাস্ত্রেই পারদর্শী হয়ে থাকেন, যেমন ইমাম আহমদ(র.)।

    আপনার প্রথম অংশের সাথে একমত “হাদিস বিষয়ে বিশেষজ্ঞ হলে তাকে মুহাদ্দিস বলা হয়” । তবে আপনার দ্বিতীয় অংশের ব্যাপারে কথা আছে

    “একজন মুহাদ্দিস ফেকাহর জটিল মাসআলা বুঝবেন না, বরং অনেকেই একই সাথে উভয় শাস্ত্রেই পারদর্শী হয়ে থাকেন” উভয় বিষয়ে কেউ পারদর্শী
    হলে তাকে “মুহাদ্দিস” এবং “মুজতাহিদ” বলা হয় । কিন্তু আমি নাসিরুদ্দিন আল বানীর জীবনি পড়ে কোথাও পাইনি যে তিনি “মুজতাহিদ” ছিলেন । আর মুহাদ্দিস হলেই একজন মাসআলার বের করার ক্ষমতা রাখেন এটা ভুল ধারনা । মাসআলা বের করতে হলে অবশ্যই একজনের মুজতাহিদ জ্ঞান সম্পন্ন হতে হবে ।

    আর আপনি যদি বলেন নাসিরুদ্দিন আলবানি মুজতাহিদ ছিলেন তাহলে সেটা ভিন্ন কথা , কিন্তু এটার দলীল আমি পাই নি ।

    মুসলিম৫৫

    @হাফিজ, আপনি মুজতাহিদ এবং ফক্বীহ-এর সংজ্ঞা একাকার করে ফেলেছেন। সকল মুজতাহিদই ফক্বীহ্ কিন্তু সকল ফক্বীহই মুজতাহিদ নন। নাসিরুদ্দীন আল আলবানী(র.) একজন ফকীহ এবং মুজতাহিদ। ফিকহের বেশ কিছু মাসআলায় তাঁর নিজস্ব ইজতিহাদী গবেষণা আছে, আপনার মন্তব্য নির্দেশ করছে যে আপনি তাঁর জীবনী, গবেষণা ও কর্ম সম্পর্কে সম্পূর্ণ অজ্ঞ, সেক্ষেত্রে তাঁর ব্যাপারে এরকম মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকলে ভাল করতেন। আপনি বলেছেন যে:

    আর আপনি যদি বলেন নাসিরুদ্দিন আলবানি মুজতাহিদ ছিলেন তাহলে সেটা ভিন্ন কথা , কিন্তু এটার দলীল আমি পাই নি ।

    আপনি তাঁর সম্পর্কে কতটুকু লেখাপড়া করেছেন যে তাঁর ইজতিহাদের “দলীল” পাবেন? যাহোক তিনি একাধারে একজন মুহাদ্দিস, ফকীহ এবং মুজতাহিদ ছিলেন। আপনার প্রতি আমার উপদেশ: ভবিষ্যতে কোন ইসলামী ব্যক্তিত্ব সম্পর্কে মন্তব্য করার আগে ভাল করে তাঁর সম্পর্কে জ্ঞানার্জন করে নেবেন, নতুবা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের(সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) উপদেশ মেনে চলুন:
    “যে বিষয়ে তোমার জ্ঞান নেই তার পিছে পড়ো না…” [আল ইসরা: ৩৬]

    “যে আল্লাহ ও আখিরাতে বিশ্বাস করে, সে যেন হয় ভাল কথা বলে নতুবা চুপ থাকে।”[বুখারী, মুসলিম]

    হাফিজ

    @মুসলিম৫৫,

    আপনি তাঁর সম্পর্কে কতটুকু লেখাপড়া করেছেন যে তাঁর ইজতিহাদের “দলীল” পাবেন? যাহোক তিনি একাধারে একজন মুহাদ্দিস, ফকীহ এবং মুজতাহিদ ছিলেন। আপনার প্রতি আমার উপদেশ: ভবিষ্যতে কোন ইসলামী ব্যক্তিত্ব সম্পর্কে মন্তব্য করার আগে ভাল করে তাঁর সম্পর্কে জ্ঞানার্জন করে নেবেন, নতুবা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের(সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) উপদেশ মেনে চলুন:
    ‍“যে বিষয়ে তোমার জ্ঞান নেই তার পিছে পড়ো না…” [আল ইসরা: ৩৬]

    আপনার উপদেশ খুবই গুরুত্বপূর্ন । এই উপদেশের আলোকে নাসিরুদ্দিন আলবানী বিষয়ক আরো পড়াশুনা করে কিছু পোস্ট দিব খুব শীঘ্রই ।

    ধন্যবাদ ।

  4. রাসূলুল্লাহর নামায বইটি ‍নামাজ সংক্রান্ত সকল মাসআলার সংকলন নয় বরং তা সহীহ হাদীসের আলোকে মূলত: মূল সালাতের পদ্ধতির বিবরণ আর এধরনের বই রচনার জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত ব্যক্তি হচ্ছেন একজন মুহাদ্দিস। এক্ষেত্রে একজন ফকীহ একজন মুহাদ্দিসের ওপর প্রাধান্য পেতে পারেন এমন সব ক্ষেত্রে যেখানে সহীহ হাদীস থেকে সরাসরি দিকনির্দেশনা পাওয়া যায় না।

    একজন মুহাদ্দিস কোনো সময়ই উপযুক্ত নয় “মাসআলা বের করার জন্য” । এই একটি বিষয় কেউ যদি ভালোভাবে বুঝতে পারে তাহলে সে বুঝতে পারবে কেনো নাসিরুদ্দিন আলবানীর অনেক কাজ নিয়ে আজ অসংখ্য ভুল বের হচ্ছে । এবং এই এক কারনে বলা যায় তার জনপ্রিয়তার পিছনে অনেকের আছে এই না বোঝাটা ।

    একজন মুহাদ্দিস যদি “সবচেয়ে উপযুক্ত” ব্যক্তি হতেন মাসআলা বের করার জন্য তাহলে সিহাহ সিত্তার ছয়জন মুহাদ্দিস হতেন “মাজহাবের ইমাম” কিন্তু তা হয়নি । এইজন্য তাদের মধ্যে ৬ জন ( কেউ কেউ বলেন ইমাম বুখারী মুজতাহিদ ছিলেন তাই তিনি আলাদাভাবে মাজহাবে অনুসরন করতেন না , এবং এটা শুধুমাত্র তার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য ) মাজহাবের অনুসরন করতেন ।

    আমি স্বতন্ত্র একটি পোস্ট দিবো একজন মুজতাহিদের কি কি বিষয় জানা দরকার । সেখানে বিস্তারিত আলোচনা করা যাবে ।

    মুসলিম৫৫

    @হাফিজ, বরং ৪ মাযহাবের ইমামগণের মধ্যে ৩ জনই মুহাদ্দিস ছিলেন: ইমাম মালিক (রহ.), ইমাম শা’ফিঈ(রহ.) এবং ইমাম আহমাদ(রহ.)। সুতরাং মুহাদ্দিসগণই “ফক্বীহ্” হবার অধিক যোগ্যতা রাখেন!

  5. কাঠমিন্ত্রী” আলেম হতে পারেন না এমন কোন কথা নেই।

    জ্বী সহমত। কাঠমিস্ত্রি কেনো যেকেউ আলেম হতে পারবেন । কিন্তু কোনো ওস্তাদের কাছ থেকে উনি এলেম অর্জন করেছেন সেটা বিবেচ্য । বেশীরভাগ ক্ষেত্রে দেখা যায় শুধু নিজে নিজে বই পড়ে ইসলামের অনেক জটিল বিষয় বোঝা যায় না । এর জন্য পর্যালোচনা অনেক গুরুত্বপূর্ন একটি বিষয় ।

    যারা নির্দিষ্ট কোনো সিস্টেমের মাধ্যেমে পড়াশুনা করেনি তাদের ক্ষেত্রে এই ধরনের সমস্যা বেশী দেখা যায় । নাসিরুদ্দিন আলবানীর কি কি সমস্যা হয়েছিল সেট লিংকগুলো ভালোভাবে পড়লে আমরা বুঝতে পারি ।

    শুধুমাত্র “ইজতিহাদি ভুল” নয় ।

    অনেক জঈফ হাদিসকে সহীহ আবার অনেক সহীহ হাদসকে জঈফ উনি বলেছেন যেটা অনেকেই এখন আর গ্রহন করছেন না । আবার একই রাবীকে উনি এক জায়গায় গ্রহনযোগ্য বলেছনে আবার বিনা কারনেই উনি সেই রাবীর হাদিস অন্য জায়গায় গ্রহন করেননি । এটা স্পষ্টতই স্ববিরোধীতা । ইজতিহাদি ভুল নয় ।

    মুসলিম৫৫

    @হাফিজ,

    যারা নির্দিষ্ট কোনো সিস্টেমের মাধ্যেমে পড়াশুনা করেনি তাদের ক্ষেত্রে এই ধরনের সমস্যা বেশী দেখা যায় ।

    আপনার এই মন্তব্য থেকে বোঝা যাচ্ছে যে নাসিরুদ্দিন আলবানী পদ্ধতিগতভাবে দ্বীন শিক্ষা করেন নি বলে আপনার ধারণা। আপনার এই ভুল ধারণা দূর করার জন্য দেখুন।

    http://www.peaceinislam.com/mariner/5557/

    দ্য মুসলিম

    @মুসলিম৫৫,

    অনেক জঈফ হাদিসকে সহীহ আবার অনেক সহীহ হাদসকে জঈফ উনি বলেছেন যেটা অনেকেই এখন আর গ্রহন করছেন না । আবার একই রাবীকে উনি এক জায়গায় গ্রহনযোগ্য বলেছনে আবার বিনা কারনেই উনি সেই রাবীর হাদিস অন্য জায়গায় গ্রহন করেননি । এটা স্পষ্টতই স্ববিরোধীতা । ইজতিহাদি ভুল নয় ।

    হাফিজ ভাইয়ের এই মন্তব্যের উত্তরে আপনার মতামত জানতে চাই। উনার জঈফ হাদিসকে সহীহ আবার সহীহ হাদীসকে জইফ বলার বিষয়টি কয়েকদিন আগে আমিও লিংক থেকে পড়েছি। এমনকি বোখারী ও মুসলিম এর হাদীসকে তিনি জঈফ বলেছেন।

    মুসলিম৫৫

    @দ্য মুসলিম, আপনার এই কথার একটা বিকল্প জবাব দিচ্ছি – আমার কাছে ইমাম বুখারী(রহ.), ইমাম মুসলিম (রহ.) এবং নাসিরুদ্দিন আলবানী (রহ.) সবাই fallible human being – কেবল রাসূল(সা.) হচ্ছেন infallible। তবে পরে কখনো আপনার জন্য পোস্ট আকারে একটা হদীসের উদাহরণ দেবো ইনশা’আল্লাহ – যেটা খুব widely quoted হাদীস এবং আমি জানতাম হাদীসটি একেবারে বিশুদ্ধ – হাফিজ ইবন্যুল কায়্যিমের মত লোকও যেটাকে “সহীহ্” মনে করতেন। কিন্তু আলবানী যখন যুক্তি দিয়ে বুঝিয়ে দেন, তখন মনে হয় – আরে তাই তো! এত শত বছর ধরে হাদীসটার এই এত সাধারণ দু’টো দুবর্লতা কি করে এত মানুষের চোখ এড়িয়ে গেছে?

    দ্য মুসলিম

    @মুসলিম৫৫,

    ইনশাআল্লাহ।
    কারো বিরুদ্ধে আমার জাতিগত বা ব্যক্তিগত কোন শত্রুতা নেই। যুক্তিদিয়ে বোঝাতে পারলে গ্রহণ করতে আমার কোন আপত্তি নেই। ধন্যবাদ।

  6. আর একটি ব্যাপার , আপনি যুক্তিভিত্তিক আলোচনা করেছেন বলে কিছু মত শেয়ার করলাম । কিছু কিছু ব্যক্তি আক্রমন না থাকলে ভালো হতো । যুক্তি ও দলীল ভিত্তিক আলোচনা করলে সামনে আরো আলোচনা করতেও পারি । তবে যদি দেখি আপনি ক্রোধ সংবরন করতে পারছেন না বা ব্যক্তি আক্রমন বেশী বেশী করছেন তাহলে হয়ত কিছু না বলে আপনার কমেন্টের জবাব নাও দিতে পারি । ( যেটা অনেকের ক্ষেত্রে করে থাকি )

    ধন্যবাদ

  7. পরিশেষে বলা যায় যে সত্য যার কাছ থেকেই আসুক তা আমাদেরকে গ্রহণ করতে হবে, যদি সত্য আশরাফ আলী থানভীর(রহ.) কিতাবে থাকে তবে সেটাই শিরোধার্য, যদি সত্য আলবানীর(রহ.) কিতাবে থাকে তবে সেটাই শিরোধার্য, এমনকি যদি সত্য ইবলীসের অনুসারীর কাছ থেকেও পাওয়া যায়, তবে সেটাও শিরোধার্য – এ কথা বলা যাবে না যে, সে তো ইবলীসের অনুসারী!

    সহমত। একথা সবার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।

  8. আসসালামু আলাইকুম
    আমি জ্ঞানহীন মানুষ আশরাফ আলী থানভী (রহঃ) এর মত বড় আলেম এর সমালোচনা করার ইজাজা আমার নাই। আমি খালি জানার জন্য হাফিজ ভাই এর নিকট একটা ছোট প্রশ্ন করব। কারন আমার কখনও বেহেশতি জেওর পড়ার সুযোগ হয় নাই, কিছুদিন আগে উইকিপিডিয়ায় আশরাফ আলী থানভী (রহঃ) এর জীবনী পড়ার সময় নিচের লাইন গুলো দৃষ্টিগোচর হয়।
    মূলঃ http://en.wikipedia.org/wiki/Ashraf_Ali_Thanwi#Criticism

    Thanvi has highly supported social stratification among Muslims. The scholar Shabbir Ahmad Hakeem quotes from another book by Ashraf Ali Thanwi called “Masawat-e Bahar-e Shariat”, in which Thanvi argues that Muslims should not allow Ajlaf Muslims, Julahas (weavers) and Nais (barbers), to enter Ashraf Muslims’ homes. In his Bahishti Zewar Thanvi claimed that the son of a Sayyed father and a non-Sayyed mother is socially inferior to the child of a Sayyed couple. In his “Imdad ul-Fatawa”, Thanvi announced that Sayyeds, Shaikhs, Mughals and Pathans are at higher level (sharif) communities, and that the oil-presser (Muslim Teli) and weaver (Muslim Julaha) communities are low level (razil aqwam). He claimed that ‘nau-Muslims’ (new Muslims), non-Arab converts to Islam, cannot be considered the kafaa, for purposes of marriage, of ‘established Muslims’ (khandani musalman). Accordingly, he argued, Pathans, being non-Arabs and, therefore, ‘nau-Muslims’, are not the kafaa of Sayyeds and Shaikhs, who claim Arab descent, and, so, cannot inter-marry with them. Even today the admission form of the Deoband madrasa has a column that asks for applicants to mention their caste. Interestingly, Thanvi says that ‘low’ communities claiming Arab origin as Ansaris, Rayeens and Idrisis should produce historical evidence in support of their claims, but at the same time he says that there is no need to produce similar evidence for ‘upper’ castes in favour of their claims of being of Arab origin. He argued that Muslims of Arab origin (Sayyeds and Shaikhs) are superior to non-Arab or Ajami Muslims, and so while a man who claims Arab origin can marry an Ajami woman, the reverse is not possible. Likewise, they argued, a Pathan Muslim man can marry a Julaha (Ansari) Mansuri (Dhunia,) Rayin (Kunjra) or Quraishi (Qasai) woman, but an Ansari, Rayin, Mansuri and Quraishi man cannot marry a Pathan woman since they considered these communities to be inferior to Pathans. [3]

    আমাকে এই ব্যাপার গুলো কি আসলেই বেহেশতি জেওরে বলা হয়েছে নাকি জানালে খুশি হব।

    ইনশাল্লাহ আমরা আলেমদের নিয়ে কথা অলার সময় খুব শর্তক থাকব
    http://www.youtube.com/watch?v=ftp2qRg2xz4

    হাফিজ

    @ফরগিভনেস_সিকার, আপনি যে বই এর নাম দিলেন সেটাতো “Masawat-e Bahar-e Shariat” । বেহেশতী জেওর নয় ।

    আর আহমদ রেজা খান বেরেলভী ও তার দল দেওবন্দের আলেমদের ওপর খুবই ক্ষেপা ছিল , তারা অনেক কথাই বলেছে যেটার পরে ভিত্তি পাওয়া যায় নি ।

    আর আপনি যে লিংক দিলেন সেটা খুবই এফেকটিভ । যারা পূর্ববর্তি আলেমদের কথায় কথায় ভুল ধরে তাদের সবার পড়া উচিত ।