লগইন রেজিস্ট্রেশন

কোন ইমামের ব্যক্তিগত ফতোয়ার করনে ইসলামকে খাটো করে দেখবেন না।

লিখেছেন: ' শাহরিয়ার' @ সোমবার, ডিসেম্বর ২৮, ২০০৯ (১:০১ পূর্বাহ্ণ)

আজ আমরা ইসলামের অপব্যাখ্যা করে পবিত্র ইসলামকে কলুষিত করছি। অমুসলিম ভাইরা ভাবছে, এই নাকি ইসলাম? তারা হাসছে, ধিক্কার দিচ্ছে আর রাসূল (সঃ) কে জঘন্য ভাষায় গালি গালাজ করছে, কুরআনকে অবমাননা করছে। আপনাদের সামনে একটি বিষয়ে তুলে ধরছি যাহা ইসলামে জঘন্য হারাম কাজ। অথচ আমরা না জেনে না বুঝে ইসলামকে কত ছোট করি!

[su]এক মজলিসে প্রদত্ত তিন তালাকপ্রাপ্তা স্ত্রীকে হালালার নামে গোপন যিনাঃ[/su]
“হালালা’ আল্লাহ তা’আলার নাফরমানিমূলক অপকর্ম- যাকে শরীয়ত সিদ্ধ বলে বিশ্বাস করা একটি শয়তানি উত্তেজনা এবং লাঞ্ছনামূলক আচরণ। স্বয়ং আল্লাহর রাসূল (সঃ) হালালাকারী ব্যক্তিকে “ভাড়াটিয়া পাঁঠা” বলে আখ্যায়িত করেছেন এবং হালালা বিবাহকে আল্লাহর কিতাব এবং রাসূলের হাদীসের সাথে উপহাস ও বিদ্রুপ বলে মন্তব্য করেছেন। ইবনু মাজাহ শরীফে একটি হাদীস বর্ণিত আছে, রসূলুল্লাহ (সঃ) এরশাদ করেন- “আমি কি তোমাদের ভাড়াটিয়া পাঁঠা সম্বন্ধে অবহিত করব না? সাহাবগণ আরজ করলেন, জি হাঁ আল্লাহর রাসূল। রাসূল (সঃ) বললেন, যারা শুধু তিন তালাক দাতা স্বামীর জন্য তার তিন তালাক প্রদত্ত স্ত্রীকে হালালা করে দেওয়ার উদ্দেশ্যে ক্ষণিকের জন্য বিবাহ করে।”
আব্দুল্লাহ বিন উমার (রাঃ)-কে হালালাকারী ব্যক্তিগণ সম্বন্ধে জিজ্ঞেসা করা হলে তিনি বলেন, “উভয়ই জিনাকার”। ওমর ফারুক (রাঃ) বলতেন, “হালালাকারী এবং যার জন্য হালালা করা হয় এমন ব্যক্তিদ্বয়কে আমার সামনে উপস্থিত করা হলে আমি তাদের উভয়কে রজম তথা প্রস্তর খন্ড ছুড়ে মেরে খতম করে দিব। (বিস্তারিত দেখুন ইগাসাতুল লাহফান)
তাই গভীর দুঃখ বেদনা নিয়ে- মুহাদ্দিস গুরু প্রখ্যাত ইমাম জনাব ইবনে কুতায়বা (রহঃ) স্বীয় কিতাবুল মায়ারিফ গ্রন্থে যা সন্নিবেশিত করেছেন- তার শেষ ছত্রটি এই আবূ হানিফার ফতওয়ার ভিত্তিতে কতনা সতী সাধ্বীর হারাম গুপ্তাঙ্গ হালাল করা হয়েছে তার ইয়ত্তা নেই। (দেখুন আল মায়ারিফ মিসর মুদ্রিত ও হাকিকাতুল ফিকাহ ১৭০ পৃঃ, বিস্তারিত দেখুন তালাকের নিয়ম বিধান- শায়খ আবূ নুমান আঃ মান্নান)

[su]সহীহ দলীল ছাড়া ফতওয়া গ্রহণ করা হারাম তার প্রমাণঃ[/su]

মহান আল্লাহপাক তাঁর পবিত্র কোরআনে বলেন, “আপনার পূর্বেও আমি প্রত্যাদেশসহ মানবকেই তাদের প্রতি প্রেরণ করেছিলাম। অতএব জ্ঞানীদেরকে জিজ্ঞেসা কর, যদি তোমাদের জানা না থাকে; প্রেরণ করেছিলাম তাদেরকে নির্দেশাবলী ও অবতীর্ণ গ্রন্থসহ এবং আপনার কাছে আমি স্মরণিকা অবতীর্ণ করেছি, যাতে আপনি লোকদের সামনে ঐসব বিষয় বিবৃত করেন, যেগুলো তাদের প্রতি নাযিল করা হয়েছে, যাতে তারা চিন্তা-ভাবনা করে।” (সূরা নাহাল ৪৩-৪৪)

ইয়াহুদি ও নাসারগণ তাদের আলেম ও দরবেশগণকে আল্লাহ বানিয়ে নিয়েছে- (সূরা আত-তওবাহ ৩১ আঃ)।
অর্থাৎ তাদের আলেম ও দরবেশগণ যাই বলে তা-ই তারা অন্ধভাবে গ্রহণ করে। তারা জানতে চায়না যে উল্লেখিত বিষয়ে আল্লাহর কি হুকুম এবং তার রাসূলের কি হুকুম।
ইমাম ইবনে হযম (রহঃ) লিখেছেন, তাকলীদ অর্থাৎ অন্ধ অনুসরণ হারাম- (নজবুল কাফিয়াহ গ্রন্থে দেখুন)। ইমাম মালিক (রহঃ) বলেছেন, রসূলুল্লাহ (সঃ) ব্যতীত অন্য সকলের কথা সম্বন্ধে জিজ্ঞেসাবাদ করা যাবে। বিনা বিচারে দলিলে কারো উক্তি গ্রহণীয় হবে না- (হুজ্জাতুল্লাহ)। ইমাম আবূ ইউসুফ, যোফার ও আকিয়াহ বিন যয়দ হতে বর্ণিত- তারা বলতেন যে, কোন লোকের জন্য আমাদে কথা দ্বারা ফতোয়া দেয়া হালাল নয়, যতক্ষণ পর্যন্ত আমরা কোথা হতে বলেছি তা তারা অবগত না হবে। (ইকদুল ফরিদ গ্রন্থের ৫৬ পৃঃ)

এখানে একটু আলোচনা না করলে পাঠকগণ হয়তো ভাবতে পারেন আমি ইমাম আবূ হানীফা (রহঃ) এর ফতওয়াকে ছোট করে দেখছি। আসুন দেখি ইমাম আবু হানীফা (রহঃ) সকল মাসায়ালা সঠিক ছিল কি-না।

০১) যে কোন ভাষায় নামাযের সূরা (কেরআত) পড়লে ইমাম আবু হানিফার মতে উত্তম যদিও সে ব্যক্তি আরবী ভাষা জানে। কিন্তু ইমাম আবূ ইউসুফ ও ইমাম মুহাম্মাদের মতে তা নাজায়েয।
(হিদায়ার ১৪০১ হিঃ আশরাফী হিন্দ ছাপার ১ম খন্ডের ১০২ পৃঃ)

০২) আল্লাহ তা’আলা কুরআনে যে সকল মেয়েদেরকে বিবাহ করা হারাম করেছেন সে সকল মেয়েদেরকে কেউ বিবাহ করলে ও যৌন ুধা মিটালে ইমাম আবূ হানিফার মতে কোন হদ (শাস্তির) প্রয়োজন নাই। কিন্তু ইমাম আবূ ইউসুফ ও ইমাম মুহাম্মদের মতে হদ দিতে হবে।
(হিদায়ার ১৪০১ হিঃ আশরাফী হিন্দ ছাপার ১ম খন্ডের ৫১৬ পৃঃ)

০৩) রোগ মুক্তির জন্য হারাম জানোয়ারের প্রস্রাব পান করা ইমাম আবূ হানিফার মতে হারাম কিন্তু ইমাম আবূ ইউসুফ ও ইমাম মুহাম্মাদের মতে হালাল।
(হিদায়ার ১৪০১ হিঃ আশরাফী হিন্দ ছাপার ১ম খন্ডের ৪২ পৃঃ)

০৪) কুয়ার ভিতর ইঁদুর পড়ে মরে গেলে ঐ কুয়ার পানি দ্বারা অযু করে নামায পড়লে ইমাম আবু হানিফার মতে নামা হবে কিন্তু শাগরেদদ্বয়ের মতে নামায হবে না।
(হিদায়ার ১৪০১ হিঃ আশরাফী হিন্দ ছাপার ১ম খন্ডের ৪৩ পৃঃ)

০৫) কোন ব্যক্তি যদি কো স্ত্রীর মল দ্বারে যৌন ুধা মিটায় তবে ইমাম আবূ হানিফার মতে কোন কাফফারার (শাস্তির) প্রয়োজন নেই। কিন্তু ইমাম মুহাম্মাদের মতে কাফফারা দিতে হবে।
(হিদায়ার ১৪০১ হিঃ আশরাফী হিন্দ ছাপার ১ম খন্ডের ৫১৬ পৃঃ)

০৬) ইমাম আবূ হানিফার মতে ছায়া দ্বিগুণ হওয়ার পর হতে আসরের নামাযের সময় আরম্ভ হয় কিন্তু ইমাম আবূ ইউসুফ ও ইমাম মুহাম্মাদের মতে ছায়া একগুণ হওয়ার পর হতেই আসরের সময় আরম্ভ হয়।
(হিদায়ার ১২৯৯ হিঃ৯মোস্তফায়ী ছাপার ১ম খন্ডের ৬৪ পৃঃ)

০৭) ফারসি ভাষায় তাকবীর বলে নামায পড়া ইমাম আবূ হানিফা ও আবূ ইউসূফের মতে জায়েয, কিন্ত ইমাম মুহাম্মাদের মতে নাজায়েয।
(হিদায়ার ১৪০১ হিঃ আশরাফী হিন্দ ছাপার ১ম খন্ডের ১০১ পৃঃ)

০৮) খেজুর ভিজানো পানি যাতে ফেনা ধরে গেছে এরূপ পানিতে অযু করা ইমাম আবূ হানিফার মতে জায়েজ কিন্তু ইউসুফের মতে হালাল নয়।
(হিদায়ার ১২৯৯ হিঃ মোস্তফায়ী ছাপার ১ম খন্ডের ৩০ পৃঃ)

০৯) ইমাম আবূ হানিফার মতে নামাযে সিজদার সময় নাক অথবা কপাল যে কোন একটি মাটিতে ঠেকালেই নামায হবে। কিন্তু মুহাম্মাদের মতে জায়েয হবে না। নাক কপাল দুটোকেই ঠেকাতে হবে।
(হিদায়ার ১২৯৯ হিঃ মোস্তফায়ী ছাপার ১ম খন্ডের ৯০ পৃঃ)

পাঠকগণ এমন ৬১ টি মতবিরোধ হিদায়া কেতাবে রয়েছে যাহা সব সময়ের অভাবে টাইপ করতে পারলাম না। এই মতবিরোধ থেকে বোঝা যায় ইমাম আবু হানিফা ভুলের উর্দ্ধে ছিলেন না। ওনাদের সময় সহীহ হাদীস সংকলন করা ছিল না তাই বেশীর ভাগ সমস্যাই ইজমা-কেয়াস আর যুক্তি দ্বারা সমাধান করতেন। অবশেষে এ সংকটময় অবস্থায় চার ইমাম সাহেবই নিজ নিজ অনুসারীদেরকে বলে যান, “আমি যে ফয়সালা দিয়েছি ভবিষ্যতে যদি সহীহ হাদীস সংকলিত হয় এবং আমার ফয়সালা সহীহ হাদীসের পরিপন্থী হয়, তা হলে আমার ফয়সালা পরিত্যাগ করে সহীহ হাদীসের অনুসরণ করবে।”

এর পরেও যদি কেউ অন্ধ গোঁড়া স্বভাবের হয় তাহলে আবু হানিফার নিম্ন ফতোয়াগুলিও অবশ্যই মানবেন। কারণ এগুলো বিখ্যাত হিদায়া ও অন্যান্য ফতোয়ার বই হতে সংকলিত। এখানে ভুল হবার কোন আশংকা নাই। যদি এই ফতোয়াগুলো অস্বীকার করেন তাহলে হিদায়াকেই অস্বীকার করতে হবে অথচ হিদায়া সম্পর্কে এমন কথা বলা আছেঃ “নিশ্চয় হিদায়া কিতাবখানা নির্ভুল পবিত্র কুরআনের মত। নিশ্চয় এটা তার পূর্ববর্তী রচিত শরিয়তের সকল গ্রন্থরাজিকে রহিত (বাতিল) করে ফেলেছে।” (হিদায়া মোকাদ্দমা-আখেরাইন ৩য় পৃঃ, হিদায়া ৩য় খন্ড ২য় ভলিউম ৪পৃঃ আরবী, মাদ্রাসার ফাজেল কাসের পাঠ্য হিদায়া ভুমিকা পৃঃ ৬, আরাফাত পাবলিবেশন্স)
আসুন তাহলে এর পবিত্রতা যাচাই করিঃ

রাসূল (সাঃ)-এর হাদীস অনুযায়ী স্বামী ও স্ত্রী সঙ্গম করার উদ্দেশ্যে উভয়ের লিঙ্গ একত্র করে সামান্য অং প্রবেশ করলেও উভয়ের উপর গোসল ফরজ হয়, তাতে বীর্যপাত হোক বা না হোক। (সহীহ তিরমিযী) সহী হাদীসের বিপরীতমুখি যে সকল জঘন্যতম ফতওয়া এখনও মাযহাবীগণ চালু রেখেছেন তার কিছুটা নিচে তুলে ধরলামঃ

**** নিশ্চিত হিদায়া কিতাবখানা পবিত্র কুরআনের মত। নিশ্চয় এটা তার পূর্ববর্তী রচিত শরীয়তের সকল গ্রন্থরাজিকে রহিত (বাতিল) করে ফেলেছে। (হিদায়া মোকাদ্দমা-আখেরাইন ৩য় পৃঃ, হিদায়া ৩য় খন্ড ২য় ভলিউম পৃঃ ৪ আরবী, মাদ্রাসার ফাজেল কাসের পাঠ্য হিদায়া ভ’মিকা পৃঃ ৬, আরাফাত পাবলিকেশনন্স)

০১) ইমাম আবূ হানিফার তরীকা অনুযায়ী চতুষ্পদ জন্তু, মৃতদেহ অথবা নাবালিকা মেয়ের সঙ্গে সঙ্গম করার উদ্দেশ্যে উভয়ের লিঙ্গ একত্র হয়ে কিছু অংশ প্রবেশ করলেও অযু নষ্ট হবে না। শুধু পুং লিঙ্গ ধৌত করতে হবে। (দুররে মুখতার অযুর অধ্যায়)

০২) যদি কোন লোক মৃত স্ত্রী লোকের অথবা চতুষ্পদ জন্তুর স্ত্রী অংগে বা অন্য কোন দ্বারে রোযার অবস্থায় বালৎকার করে তাহলে তার রোযা নষ্ট হবে না। (শারহে বিকায়া, লক্ষৌভি-এরইউসুফী ছাপার ১ম জেলদের ২৩৮পৃঃ)

০৩) আল্লাহ তা’আলা কুরআনে যে সকল মেয়েদেরকে বিবাহ করা হারাম করেছেন। যথা- মাতা, ভগ্নি, নিজের কন্যা, খালা, ফুফু ইত্যাদি স্ত্রী লোককে যদি কোন ব্যক্তি বিবাহ করে ও তার সংগে যৌন সঙ্গম করে তাহলে ইমাম আবু হানিফার মতে তার উপর কোন হদ (শাস্তি) নেই। (হিদায়া ১৪০১ হিঃ আশরাফী হিন্দ ছাপা ৫১৬ পৃঃ, আলমগিরী মিসরী ছাপা ২য় খন্ড ১৬৫ পৃঃ, বাবুল ওয়াতী ৪৯৫ পৃঃ)

০৪) বাদশাহ যদি কারো সাথে জোর পূর্বক জিনা করে তাহলে আবূ হানিফার মতে সেই ব্যক্তির উপর কোন শাস্তির প্রয়োজন নাই। কিন্তু বাদশাহ ব্যতীত অন্য কোন ব্যক্তি যদি জোর পূর্বক কারো সাথে জিনা করে তবে আবূ হানিফার মতে সেই ব্যক্তির উপর হদ জারী করতে হবে। (হিদায়া ১৪০১ হিঃ আশরাফী হিন্দ চাপা ১ম খন্ড ৫১৯ পৃঃ)

০৫) কোন ব্যক্তি যদি কারো সাথে জিনা (যৌন সঙ্গম) করতে থাকে এবঙ জিনার অবস্থায় যদি অন্য কেহ দেখে ফেলে আর জিনাকারী ব্যক্তি যদি মিথ্যা করে বলে এই মেয়েটি আমার স্ত্রী তাহলে উভয় জিনাকারীর উপরই হদের (শাস্তির) প্রয়োজন নেই। (হিদায়া ১৪০১ হিঃ আশরাফী হিন্দ চাপা ১ম খন্ড ৫১৯ পৃঃ)

০৬) রমযান মাসে রোযার অবস্থায় যদি কেউ মল দ্বারে সঙ্গম করে তবে ইমাম আবূ হানিফার মতে কাফ্ফারা ওয়াজিব হবে না। (হিদায়া ১৪০১ হিঃ আশরাফী হিন্দ চাপা ১ম খন্ড ২১৯ পৃঃ)

০৭) কেউ যদি ‘বিসমিল্লাহ’ বলে কুকুর যবেহ করে তার মাংস বাজারে বিক্রয় করে তবে অবশ্যই তা জায়েয হবে। (শারহে বেকায়া ১ম খন্ড)

০৮) গম, যব, মধু, জোয়ার হতে যে মদ প্রস্তুত করা হয় তা ইমাম আবূ হানিফা’র মতে পান করা হালাল এবং এই সকল মদ পানকারী লোকের নেশা হলেও হদ (শাস্তি) দেয়া হবে না। (হিদায়ার মোস্তফায়ী ছাপা ২য় খন্ড ৪৮১ পৃঃ)

০৯) আঙ্গুলি ও স্ত্রীলোকের স্তন মল-মূত্র দ্বারা নাপাক হয়ে গেলে, তিনবার জিবদিয়ে চেটে দিলেই পাক হয়ে যাবে। (দুররে মোখতারের ৩৬ পৃষ্ঠায় বাবুল আনজাসে দেখুন)

১০) যদি কেউ তার পিতার কৃতদাসীর সাথে সহবাস (যৌন মিলন) করে তবে কোন শাস্তি নাই। (হিদায়া ১৪০১ হিঃ আশরাফী হিন্দ চাপা ১ম খন্ড ৫১৫ পৃঃ)

১১) কোন স্ত্রীর স্বামী মারা গেলে এবং মারা যাওয়ার দুই বৎসর পর সেই স্ত্রীর সন্তান হলে, তবে সেই সন্তান তার মৃত স্বামীরই হবে। (হিদায়া ১৪০১ হিঃ আশরাফী হিন্দ চাপা ১ম খন্ড ৩৩১ পৃঃ)

১২) স্বামী প্রবাসে রয়েছে, সুদীর্ঘকাল অতীত হয়েছে বহু বছর ধরে স্বামী ফিরেনি এই দিকে স্ত্রীর পুত্র সন্তান জন্ম হয়েছে তাহলেও এই ছেলে হারামী বা জারজ হবে না সেই স্বামীরই ঔরসজাত হবে। (বেহেস্তি জেওর ৪র্থ খন্ড ৪৪পৃঃ)

১৩) আবূ বকর বিন ইসকান বলেন, যদি কোন ব্যক্তি কারো মাল চুরি ডাকাতি করে নিয়ে এসে চিবিয়ে চিবিয়ে খায় তাহলে ইমাম আবূ হানিফার মতে হালাল হবে। (কাজি খাঁ ৪র্থ খন্ড ৩৪৩ পৃঃ)

১৪) পিতার পে পুত্রের দাসীর সঙ্গে যৌন মিলন করা সর্বাবস্থায় হালাল। আরো যুক্তি দর্শান হয়েছে দাসী হচ্ছে পূত্রের সম্পদ আর পুত্রের সম্পদে পিতা পূত্র উভয় ব্যক্তিরই হক আছে। ফলে একই নারী দ্বারা উভয় নরের যৌন ুধা মিটানো হালাল। (নুরুল আনওয়ার ৩০৪পৃঃ)

১৫) কুরআন ও সহীহ হাদীসের স্পষ্ট বিরোধী মাসআলাহ- চার মাযহাব চার ফরয। হানাফী, শাফেঈ, মালেকী ও হাম্বলী এই চার মাযহাব। (বেহেস্তি জেওর স্ত্রী শিা ১০৪ পৃঃ দ্রঃ, আলহাজ্জ মৌলভী আব্দুর রহীম। কুরআন মঞ্জিল লইব্রেরী-বরিশাল)

১৬) যদি কোন ব্যক্তি পয়সরা বিনিময়ে কোন নারীর সাথে জিনা করে তবে আবূ হানিফার বিধান মতে কোনই হদ (শাস্তি) নেই। (অর্থাঃ সারা পৃথিবীতে যত বেশ্যাখানা রয়েছে সবই বৈধ।) (জাখীরাতুল উকবাও শারহে বিকায়ার হাশিয়া চাল্পিতে আছে। (বিস্তারিত দেখুন ‘আসায়ে মুহাম্মাদী’)

১৭) কুরআন ও সহীহ হাদীসকে পদাঘাত করে হানাফী মাযহাবের বিখ্যাত ফতওয়ার কিতাবে চুরি, ডাকাতি, মাস্তানি, লুট, খুন বা হত্যা করাকে বৈধ করা হয়েছে। (দেখুন হিদায়া ২য় খন্ড ৫২৭ পৃঃ, ৫৩৭ পৃঃ, ৫৪০-৫৪২ পৃঃ, ৫৪৬ পৃঃ, ৫৫৭ পৃঃ, ৫৫৮ পৃঃ, হিদায়া ৩য় খন্ড ৩৫৬ পৃঃ, ৩৬৪-৩৬৫পৃঃ। হিদায়া ৪র্থ খন্ড ৫৪৭ পৃঃ, ৫৫০ পৃঃ)

১৮) পবিত্রতম সূরায়ে হৃদের ৮৪-৮৫ অর বিশিষ্ট ৪৪ নম্বর আয়াত পবিত্রতম সূরা মূলকের প্রায় ৪০ অর বিশিষ্ট পবিত্র শেষ আয়াতে কারীমাটি তাবীজরূরে ধারণ করলে শীঘ্র বীর্যপাত হবে না। (বেহেস্তি জেওর ৯ম খন্ডের ১৫৪পৃঃ)

এই হচ্ছে আমাদের ফেকাহর কিতাব! নিশ্চয়ই উহা পূর্ববর্তী সকল কিতাবকে রোহিত করেছে।

আল্লাহ আমাদের সঠিক পথ অনুসরণ করার তৌফিক দান করুন। আমীন….

Processing your request, Please wait....
  • Print this article!
  • Digg
  • Sphinn
  • del.icio.us
  • Facebook
  • Mixx
  • Google Bookmarks
  • LinkaGoGo
  • MSN Reporter
  • Twitter
১,০৩০ বার পঠিত
1 Star2 Stars3 Stars4 Stars5 Stars (ভোট, গড়: ১.০০)

৩ টি মন্তব্য

  1. @শাহরিয়ার,

    এই মতবিরোধ থেকে বোঝা যায় ইমাম আবু হানিফা ভুলের উর্দ্ধে ছিলেন না।

    জ্বী মানুষের ভুল হতেই পারে , কিন্তু আপনি যে দিকে ইংগিত করছেন ব্যাপারটা সেরকম নয় । ইমাম আবু হানিফা , ইমাম আবু ইউসুফ , ইমাম মুহম্মদ তারা সবাই ছিলেন মুজতাহিদ । সুতরাং আপনি যেভাবে বলছেন ইমাম আবু হানিফা ভুল করেছেন , সেটা কিন্তু স্কলাররা সেভাবে বলে না । ইসলামিক স্কলাররা যেটা বলেন সেটা হলো একজন মুজতাহিদ এর মাসআলা বের করার যোগ্যতা থাকলে তারা মাসআলা দিতে পারেন , সঠিক হলে ২টি সওয়াব পাবেন আর ভুল করলে ১ টি সহয়াব পাবেন ( যেটা বোখারী শরীফের একটি হাদিস থেকে আমরা জানতি পারি ) । এবং তাদের মাসআলার মধ্যে কোনটি সঠিক কোনটি ভুল সেটা একমাত্র আল্লাহ সুবহানাহু তাআলা বলতে পারেন , কেননা মুজতাহিদ ইমামরা সকলেই দলীলের ভিত্তিতে ফতোয়া দিয়েছেন ।

    সুতরাং যে ৬১ টি রেফারেন্স আপনি দিয়েছেন সেটা পরবর্তি মুজতাহিদ গন বের করেছেন এবং তারাই একমাত্র পারেন এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে । আর অনেকে যে বলেন যারা মাজহাব মানে তারা অন্ধ অনুসরন করে এটা সবসময়ের জন্য ঠিক না । তার দলীল এই ৬১টি রেফারেন্স । পরবর্তিকালে অন্যান্য মুজতাহিদ ইমামগন ঠিকই আরো আলোচনা , পর্যালোচনার ভিত্তিতে এগুলোর মাসআলা নির্দ্ধারন করেছেন যেটা একমাত্র মুজতাহিদের যোগ্যতার কারনেই সম্ভব হয়েছে । আমার আপনার সাধ্যের বাহিরে ।

    আর যারা মাজহাব মানে, তারা অন্ধ অনুসরন নয় , তারা যোগ্যতা সম্পন্ন ইমামদের অনুসরন করে । নিজের মুর্খতা সম্বন্ধে তারা জানে । আল্লাহ তাআলা কোরান শরীফে উল্লেখ করেছেন , “তোমরা যারা জান না , তারা যারা জানে তাদের অনুসরন কর” । ( আয়াতের রেফারেন্স খেয়াল নেই, যদি সন্দেহ থাকে তাহলে বলবেন পরে দিয়ে দেব ) ।

    আমাদের মাসআলা বের করার যোগ্যতা নেই দেখে আমরা মাজহাব অনুসরন করি । শুধু তাই নয়, যারা এখন লা মাজহাবি বলে দাবী করে আমি এমন একজন পাই নি যাদের মাসআলা বের করার ক্ষমতা আছে । মাসআলা বের করার জন্য কি কি যোগ্যতা প্রয়োজন সেটা নিয়ে আলোচনা করার ইচ্ছা পরবর্তিতে রইল ।

  2. [...] কোন ইমামের ব্যক্তিগত ফতোয়ার করনে ইসলামকে খাটো করে দেখবেন না। 07 সেপ্টে                                          লিখেছেন- শাহরিয়ার [...]

  3. [...] Posted সেপ্টেম্বর 7, 2011 by শেখ ফরিদ আলম in ইসলাম সম্পর্কে ভুল ধারণা. Leave a Comment লিখেছেন- শাহরিয়ার [...]