লগইন রেজিস্ট্রেশন

এ বছর হজ্জ নষ্টের উদ্দেশ্যে সৌদী ওহাবী সরকার কর্তৃক চাঁদের তারিখ হের-ফের-এর প্রমাণ

লিখেছেন: ' তুষার (ﭡﺸر)' @ মঙ্গলবার, নভেম্বর ২৪, ২০০৯ (১২:৩৫ অপরাহ্ণ)

“সৌদী ওহাবী সরকার কর্তৃক চাঁদের তারিখ হের-ফের করার প্রমাণ”-বিষয়টি তুলে ধরার পূর্বে নিচের বিষয়গুলো আলোচনা করা একান্ত জরুরী বিধায় তা তুলে ধরলামঃ
New Moon আসলে নতুন চাঁদ নয়ঃ ইংরেজিতে অমাবস্যাকে New Moon বলে। New Moon এর অভিধানিক অর্থ অমাবস্যা হলেও সাধারণ মানুষ এর অর্থ মনে করে থাকে নতুন চাঁদ। বিভিন্ন অনুবাদ গ্রন্থেও New Moon এর অর্থ নতুন চাঁদ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তাই New Moon শব্দটির পরিবর্তন হওয়া একান্ত প্রয়োজন। অনেক মহাকাশ বিজ্ঞানী কখনো কখনো New Moon এর পরিবর্তে No Moon, Black Moon ইত্যাদি শব্দ ব্যবহার করার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু প্রকৃতভাবে এ শব্দগুলোও সঠিক অর্থ বহন করেনা। যেমনঃ “No Moon”-এর অর্থ “চাঁদ নেই”, প্রকৃতপক্ষে অমাবস্যায় চাঁদের উপস্থিতিতো অবশ্যই থাকে কিন্তু তা দৃশ্যমান হয়না। আবার “Black Moon” এর অর্থ “কালো চাঁদ”, কিন্তু তাও সঠিক নয় কেননা পৃথিবীর দিকে চাঁদের যে অংশটুকু থাকে তা অন্ধকারাচ্ছন্ন থাকে বলে দৃশ্যমান হয়না। কিন্তু সূর্যের দিকের অংশটুকু আলোকিতই থাকে।
Zero Moon মানে অমাবস্যাঃ বস্তুত অমাবস্যাকে New Moon এর পরিবর্তে Zero Moon হিসেবে আখ্যায়িত করা উচিৎ। কেননা অমাবস্যার সময় চাঁদ, পৃথিবী এবং সূর্যের মাঝে অবস্থান করে এবং সে সময় চাঁদ দৃশ্যমান হয়না।
অমাবস্যা সংঘটনের চিত্র
সে সময় চাঁদের বয়স ধরা হয় শূন্য ঘন্টা, শূন্য মিনিট। মহাকাশ বিজ্ঞানীদের মতে, অমাবস্যার পর চাঁদ নিদিষ্ট বয়সে (সাধারণত তা ১৮-২১ ঘন্টা) পৌঁছালে এবং চাঁদের বয়সের পাশাপাশি আরো কিছু শর্ত পূরণ হলে চাঁদ পৃথিবী থেকে দেখা যায়। এ যাবৎ কালে মুসলিম গবেষকরা চাঁদ দেখার যে শর্তদি আবিষ্কার করেছেন সেগুলো হলঃ (১) চাঁদের বয়স, (২) চাঁদ ও সূর্যের কৌণিক দুরত্ব, (৩) দিগন্ত রেখার উন্নতি কোণ, (৪) সূর্যের লাল আভা বিকিরণের বিস্তৃতি এবং স্থায়ীত্ব, (৫) চাঁদের তীর্যক পথ ও খাড়া পথে গমন, (৬) চাঁদের আলোকিত অংশ বা চাঁদের পুরুত্ব, (৭) পৃথিবী থেকে চাঁদের দূরত্ব, (৮) সূর্য থেকে পৃথিবীর দূরত্ব।
মহাকাশ বিজ্ঞানীরা অমাবস্যার সময় চাঁদের বয়স শূন্য ধরেই তাদের সকল গণনার কাজ করেন। ফলে অমাবস্যার পর যখন চাঁদ দৃশ্যমান হয় তখন উল্লেখ করা হয় এভাবে যে ২০ ঘন্টা, ২২ ঘন্টা বা ৩৬ ঘন্টার চাঁদ দৃশ্যমান হয়েছে। সুতরাং গণনার সময় চাঁদের বয়স যেহেতু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং চাঁদের উপস্থিতি যেহেতু সবসময়ই থাকে। তাই No Moon অথবা Black Moon না বলে Zero Moon বলাই যুক্তিসঙ্গত।
অমাবস্যার চাঁদ বুঝাতে New Moon শব্দটি বিভ্রান্তিমূলকঃ ইংরেজীতে অমাবস্যার চাঁদকে New Moon বলার পেছনে কারণ হচ্ছে অমাবস্যার পর থেকেই চাঁদ আবার ধীরে ধীরে পৃথিবীর চারপাশ প্রদক্ষিণ করে বিভিন্ন দশায় পৌঁছে এবং শেষে আবার পৃথিবীর আড়ালে চলে যায়। সে সময় পৃথিবীর চারপাশে চাঁদের একবার প্রদক্ষিণ শেষ হয়। এছাড়া ইহুদীরা অমাবস্যার চাঁদকে New Moon বা নতুন চাঁদ হিসেবে ধরে তাদের ক্যালেন্ডার রচনা করে থাকে। ফলে অমাবস্যার চাঁদ তাদের কাছে মাসের নতুন চাঁদ তথা New Moon। মুসমানদের কাছে গণনার দিক থেকে এই অমাবস্যার চাঁদের কোন গুরুত্ব নেই।
বাঁকা চাঁদের শরয়ী ব্যাখাঃ কুরআন শরীফ-এ আল্লাহ্‌ পাক ইরশাদ করেন, “(হে আমার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম!) আপনাকে বাঁকা চাঁদ সম্পর্কে প্রশ্ন করে, আপনি বলুন এটি মানুষের (আরবী মাস এবং ইবাদতের) সময় এবং হজ্জের সময় নির্ধারণ করার মাধ্যম। ” (সূরা বাক্বরা ১৮৯)
আবার হাদীছ শরীফে ইরশাদ হয়েছে, “হযরত আবূ হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বর্ণনা করেন, আল্লাহ পাক-এর হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, তোমরা চাঁদ দেখে রোজা শুরু কর এবং চাঁদ দেখে ঈদ কর। আর যদি ২৯শে শা’বান চাঁদ দেখা না যায় তবে শা’বান মাস ত্রিশ দিনে পূর্ণ কর।” (বুখারী শরীফ, মুসলিম শরীফ)
কুরআন শরীফ ও হাদীছ শরীফ যে চাঁদের বর্ণনা করা হয়েছে তা বাঁকা চাঁদ বা হিলাল যা অমাবস্যার পরে পৃথিবীতে দৃশ্যমান হয়। এই বাঁকা চাঁদ বা হিলালকে বলা হয় Crescent Moon যা শরীয়তের নতুন চাঁদ। আর অমাবস্যার চাঁদ হচ্ছে Zero Moon যার বয়স শূন্য ঘন্টা, শূন্য মিনিট এবং তা কখনোই দৃশ্যমান হয় না।
যারা মনে করে অমাবস্যায় নতুন চাঁদের জন্ম হয় ফলে জন্মের পরেই চাঁদ দৃশ্যমান হবে এমন ধারণা সঠিক নয়। অমাবস্যায় নতুন চাঁদের জন্ম হয় সত্য তবে তা দেখতে পাবার জন্য কমপক্ষে ১৮-২১ ঘন্টা অপেক্ষা করতে হয়। অনেকে বিষয়টিকে এভাবে অপব্যাখ্যা করে যে, এই নতুন যাত্রার চাঁদই হচ্ছে শরীয়তের নতুন চাঁদ। তাদের কাছে চাঁদ দেখতে পাওয়ার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ নয় বরং নতুন মঞ্জিলে চলাটাই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু এরকম ব্যাখ্যা শরীয়তসম্মত নয় কারণ কুরআন শরীফ ও হাদীছ শরীফ-এ বাঁকা চাঁদ বা হিলাল বা Crescent Moon-এর কথা বলা হয়েছে।
সুতরাং, অমাবস্যার চাঁদ বুঝাতে New Moon শব্দটি বিভ্রান্তিমূলক বলে তা পরিত্যাজ্য। New Moon শব্দের পরিবর্তে Zero Moon শব্দটির ব্যাপক প্রচার জরুরী। ইহুদী-মুশরিকদের কাছে অমাবস্যার চাঁদের গুরুত্ব রয়েছে, কিন্তু মুসলমানদের কাছে নয়। মুসলমানদের কাছে New Moon হচ্ছে অমাবস্যার চাঁদ। আর অমাবস্যার পরপরই চাঁদ দৃশ্যমান হয়না। অমাবস্যা অনুযায়ী আরবী মাস গণনা করা কখনোই শরীয়ত সমর্থিত নয়।
আরবী মাস ও ইহুদীদেরত মাস গণনার তুলনামূলক চিত্র
উপরের চিত্রে দেখানো হয়েছে যে, ইহুদীরা চাঁদ দেখে মাস গণনার ক্ষেত্রে যে New Moon থেকে মাস গণনা করা হয় সেটা আসলে আরবী মাস গণনার ক্ষেত্রে Zero Moon বা অমাবস্যা। অর্থাৎ ইহুদীরা অমাবস্যা থেকে মাস গণনা শুরু করে।

এবার মূল বিষয়ে নিয়ে আলোচনা করা যাক।
সৌদি আরবের চাঁদ দেখা নিয়ে ষড়যন্ত্রঃ সৌদী ওহাবী সরকার চাঁদের নতুন তারিখ ঘোষণার ক্ষেত্রে বর্তমানে উম্মুল কুরার ক্যালেন্ডারে যে পদ্ধতি ব্যবহার করা হয় তাতে বলা হয়েছে যদি কোন আরবী মাসের ২৯তম দিনের সন্ধ্যায় নিচের ২টি অবস্থা পূর্ণ হয় তবে সন্ধ্যার পর থেকে হবে নতুন মাসের ১ম তারিখ গণনা করা হবে।
ক) যদি জিওসেন্ট্রিক অমাবস্যা সূর্যাস্তের পূর্বে ঘটে।
খ) যদি চাঁদ, সূর্য অস্ত যাবার পরে অস্ত যায়।
এখানে যে বিষয়টি লক্ষণীয় যে, উভয় শর্ত পূর্ণ হলেও সেক্ষেত্রে চাঁদটি Zero Moon বা অমাবস্যা হতে পারে। কারণ অমাবস্যা সংঘটিত হওয়ার পর থেকে চন্দ্র অস্ত যাওয়ার মধ্যবর্তী সময় যদি ১৮ ঘন্টার কম হলে চাঁদটি Zero Moon হবে ফলে চাঁদটি দৃশ্যমান হবেনা। নিচের চিত্রে তা দেখানো হলঃ
উম্মুল কুরার ত্রুটি
এই বছর (১৪৩০ হিজরী) হজ্জ নষ্টের প্রমাণঃ এ বছর সৌদি ওহাবী সরকার যিলহজ্জ মাসের তারিখ হের-ফের করার কারণে হজ্জ নষ্ট হবে। নিচে প্রমাণ গুলো তুলে ধরা হলঃ
(১) সৌদি ওহাবী সরকার যেদিন (১৮ নভেম্বর ২০০৯) যিলহজ্জ মাসের এক তারিখ ঘোষণা করে, সেদিন তাদের পত্রিকাগুলোতে তারিখের গড়মিল লক্ষ্য করা গেছে। যেমনঃ অন্যান্য পত্রিকাগুলি (যেমনঃ Saudi Gazette ) যিলহজ্জ মাসের এক তারিখ দেখালেও ASHARQ AL-AWSAT পত্রিকাটি ৩০শে যিলক্বদ দেখায়। এমনকি সোদি প্রেস এজেন্সী (SPA) এর website এ ইংরেজী এবং আরবী ভার্সনে গড়মিল লক্ষ্য করা গেছে।
SG
চিত্রঃ Saudi Gazette

aaa
চিত্রঃ ASHARQ AL-AWSAT

SPA ENGLISH
চিত্রঃ Saudi Press Agency (english version)

spa (arabic)
চিত্রঃ Saudi press Agency (arabic version)

(২) যেহেতু সৌদি আরব যেদিন (১৮ নভেম্বর ২০০৯) যিলহজ্জ মাসের এক তারিখ ঘোষণা করে ঠিক সেদিন ইসরাঈলের পত্রিকাগুলোতে কিসলভ মাসের এক তারিখ (Kislev ) দেখায়। ইহুদীরা যেহেতু চাঁদ দেখে তাদের মাস গণনা করে (তাদের অমাবস্যার দিন এক তারিখ) সুতরাং সৌদি ওহাবী সরকার চাঁদ না দেখেই অমাবস্যার দিন এক তারিখ ঘোষণা করেছে বলে সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত হল।
JS
চিত্রঃ jerusalem Post পত্রিকা

an
চিত্রঃ Arabnews পত্রিকা

(৩) এছাড়া বাংলাদেশের দৈনিক যুগান্তর পত্রিকায় ১৯শে নভেম্বর সৌদি ওহাবী সরকার কর্তৃক চাঁদের তারিখ হের-ফের করার খবর উল্লেখ করেছে।
দৈনিক যুগান্তর পত্রিকা
(৪) ১৭ই নভেম্বর ২০০৯ ঈসায়ী, মঙ্গলবার সৌদি আরব চাঁদ দেখার মিথ্যার দাবি করে ১৮ই নভেম্বর, বুধবার থেকে পবিত্র যিলহজ্জ মাস গণনা শুরু করেছে। অথচ মহাকাশ বিজ্ঞানের গণনা অনুযায়ী এবং সউদী আরবের উম্মুল কুরার তথ্য অনুযায়ী প্রমাণিত হয়, ১৭ই নভেম্বর, মঙ্গলবার চাঁদ দেখার কোন সম্ভাবনাই ছিল না। যেখানে সূর্যাস্তের সময় দিগন্তরেখার উপর চাঁদ ৮ থেকে ১০ ডিগ্রি উপরে থাকলে এবং পাশাপাশি চাঁদ দেখার অন্যান্য মান অনুকূলে থাকলে চাঁদ দৃশ্যমান হয় সেখানে ১৭ই নভেম্বর, মঙ্গলবার সউদী আরবে চাঁদ মাত্র ৩ ডিগ্রির কিছু বেশি উচ্চতায় ছিল। যে উচ্চতায় খালি চোখে তো নয়ই বরং বাইনোকুলার এবং টেলিস্কোপ দিয়েও চাঁদ দেখার সম্ভাবনা ছিল না। সুতরাং মিথ্যা সাক্ষীর সাক্ষ্য নিয়ে আরবী মাস শুরু করলে তা শরীয়তে গ্রহণযোগ্য হবে না। সউদী আরবে পবিত্র যিলহজ্জ মাস চাঁদ না দেখে একদিন পূর্বে শুরু হওয়াতে অকুফে আরাফা অনুষ্ঠিত হবে ৯ই যিলহজ্জের পরিবর্তে ৮ই যিলহজ্জ। ফলে হজ্জের একটি ফরয আমল আদায় না হবার কারণে পবিত্র হজ্জ বাতিল হবে। সূত্রঃ দৈনিক আল-ইহসান
উপরোক্ত দলীল ভিত্তিক আলোচনার মাধ্যমে প্রমাণিত হলো যে বিগত বছরগুলোর ধারাবাহিকতায় এ বছর আরবী মাসের তারিখ চাঁদ না দেখে ইহুদীদের ক্যালেন্ডার অনুসরণে যিলহজ্জ মাসের শুরু করে কোটি কোটি হাজীর হজ্জ বরবাদ করছে। এদের বিরুদ্ধে সারা বিশ্বব্যাপী মুসলমানদের তীব্র প্রতিবাদ জানানো উচিৎ।

Processing your request, Please wait....
  • Print this article!
  • Digg
  • Sphinn
  • del.icio.us
  • Facebook
  • Mixx
  • Google Bookmarks
  • LinkaGoGo
  • MSN Reporter
  • Twitter
৭৪০ বার পঠিত
1 Star2 Stars3 Stars4 Stars5 Stars ( ভোট, গড়:০.০০)

৪৬ টি মন্তব্য

  1. পত্রিকার কোন তথ্যই একশত ভাগ সত্য না তার আরো একটি প্রমান পেলাম। (Y)
    এবং দেওয়ানবাগী যে ভন্ড এবং মুসলিম বিশ্বে কাফের মুশরেকদের এজেন্ডা তারো প্রমান পেলাম। (N)
    পত্রিকার নিউজের উপর রোজা-হজ্ব এগুলা নির্ভর করে না, শরীয়ত এগুলোর যে পন্থা বাতলে দিয়েছে সৌদি ধর্মমন্ত্রনালয় সেভাবেই হজ্বের তারিখ ঘোষণা করে, তাতে কোন বড় আলেমরই দ্বিমত নেই। কেবল এই দেওনা-রাজার-অমুক-সমুক বাগীরা ছাড়া। আর এদের কথার কোন ভিত্তি নেই ।
    কোরান-সুন্নাহের আলোকে কিছু থাকলে বলতে পারেন- পেপারের অনেক এজেন্ডা স্রেফ মিথ্য কাহীনিকে সত্য বলে প্রচার করে। শত-সহস্র প্রামান আছে। এজাতীয় বিষয় নিয়ে উদ্বীগ্ন হওয়ার কিছু নেই- চাদেঁ মাসলার সাথে পেপার নিউজের শরয়ী কোন যোগসাজস নেই । পেপার ওয়ালারা কম্পিউটারের সূত্রমত অটোমেশন ডেট বসিয়ে পেপার ছাপায়, সুতরাং এটা নিযা বিভ্রান্তিকর নিউজ রটানোর কিছু নেই।

    মর্দে মুমিন

    @বাংলা মৌলভী,পত্রিকার কোন তথ্যই একশত ভাগ সত্য না তার আরো একটি প্রমান পেলাম। তাই নাকি? আমি তো তা জানতাম না!

    তুষার খান

    @বাংলা মৌলভী>>> পাগলের প্রলাপ বন্ধ করে ভাল করে ব্লগটি পড়ূন। আর মন্তব্য করার সময় যদি দলীল দেখাতে না পারেন তাহ্লে মন্তব্য করতে আসবেন না। আপনার মত মন্তব্যকারীর মন্তব্যের কোন মূল্যই আমার কাছে নাই।

    Malcolm X

    @বাংলা মৌলভী,

    এবং দেওয়ানবাগী যে ভন্ড এবং মুসলিম বিশ্বে কাফের মুশরেকদের এজেন্ডা তারো প্রমান পেলাম।

    ভাই উনি তো রাজারবাগের পীরের মুরিদ আপনি আবার দেওয়ানবাগ আনলেন কোথার থেকে ?

  2. [...] এবং কনফিউসড করার প্রয়াশ পাচ্ছে। দেখুন: চাঁদের নাম নিয়ে এবং আভিধানিক ও [...]

  3. ভাই জান তুষার খান
    বাদ যান:(

    তুষার খান

    @মর্দে মুমিন >> আপনি ও কি বাংলা মৌলভী শ্রেণীর লোক ? যদি হয়ে থাকেন তাহ্লে একই মন্তব্য আপনার ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য

    মর্দে মুমিন

    @তুষার খান, না ভাই জান আমার এত হিম্মত নেই, আমাকে মৌলভী বলে দাবি করার। এখনও গুরু খাওয়া মুসলমান হয়ে আছি, প্রকৃত মুসলমান হতে পারিনাই।তবে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

    তবে কথা হচ্ছে ১. আপনি যদি দরবেশী ইসলামী হয়ে থাকেন তাহলে তো আপনি রাগ করতে পারেন না, শুধু প্রেম বিলাবেন। তাই বলছিলাম যাক বাদ দেন।

    আর শেষ কথা ৪২ লাখ হাজীদের হজ্ব বিফলে যাবেনা কারন হাজীদের মনের নিয়ত আল্লাহ পাক অবগত তাই তাদের হজ্ব মকবুল হবে। তাই এই বিষয় নিয়ে আমু সামু রামুতে আপনার কষ্ট করে পোষ্টাইতে হবে না ধন্যবাদ।

    তুষার খান

    @মর্দে মুমিন >>> আপনি আমার কথাটাই বুঝেন নি। আমি বলেছি আপনি কি ব্লগার বাংলা মৌলভী যে মন মানসিকতার লোক আপনিও সেই একই মানসিকতার লোক কি না?
    প্রত্যেক মুসলমানকেই সত্য জিনিসটা তুলে ধরা উচিৎ। আপনি যে বলে দিলেন, “আর শেষ কথা ৪২ লাখ হাজীদের হজ্ব বিফলে যাবেনা কারন হাজীদের মনের নিয়ত আল্লাহ পাক অবগত তাই তাদের হজ্ব মকবুল হবে। তাই এই বিষয় নিয়ে আমু সামু রামুতে আপনার কষ্ট করে পোষ্টাইতে হবে না ধন্যবাদ।” তা হলে আপনাকে একটা প্রশ্ন করি আশা করি যুক্তিযুক্ত জবাব দিবেন।

    প্রশ্নঃ আপনি নিশ্চিত ভাবে জানেন বা জানানো হল যে, আজকে শুক্রবার নয় (শনিবার হতে পারে বা বৃহস্পতি বারও হতে পারে)। এখন আপনার মসজিদের ইমাম সাহেব যদি ঘোষণা দেয় যে আজকে (শনিবার বা বৃহস্পতি বার) জুময়ার নামায পড়ানো হবে। তাহলে কি আপনি বিনা প্রতিবাদ আল্লাহ্‌র উপর ভরসা করে তার সাথে নামায পড়বেন না প্রতিবাদ জানাবেন?

  4. (২) যেহেতু সৌদি আরব যেদিন (১৮ নভেম্বর ২০০৯) যিলহজ্জ মাসের এক তারিখ ঘোষণা করে ঠিক সেদিন ইসরাঈলের পত্রিকাগুলোতে কিসলভ মাসের এক তারিখ (Kislev ) দেখায়। ইহুদীরা যেহেতু চাঁদ দেখে তাদের মাস গণনা করে (তাদের অমাবস্যার দিন এক তারিখ) সুতরাং সৌদি ওহাবী সরকার চাঁদ না দেখেই অমাবস্যার দিন এক তারিখ ঘোষণা করেছে বলে সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত হল।

    এরা কারা যাদের কাছে ওয়াহবীদের হিসাবের চাইতে ইহুদীদের হিসাব বেশীগ্রহণযোগ্য?!! “ওয়াহাবী ” বিদ্বেষপূর্ণ গালি ব্যবাহার করে অথচ ওয়াহাবী ছাড়াও পৃথীবির অন্য মুসলিম সম্প্রদায়গুলোও হজ্বের মাসলার ক্ষেত্রে সৌদি আরবের হিসাবকেই মেনে নেয়। ভারত -পাকিস্তান- বাংলাদেশের চাদেঁ হিসাবও ভিন্ন তখাপে এখানকার লোকেরা সৌদি গিয়ে হজ্ব করবে তাই আলেমগন হাজ্বীদের জন্য সৌদির চাদের হিসাবকেই ফরজ বলেন।
    দেওন-বাগী তাহলে বৃহত্তর মুসলিম সমাজের বিপরীতে ইসরায়েলের ইহুদীদের চাদেঁর হিসাবে বিশ্বস্ত-?!!! কাদের এজেন্ডা তারা? !

    তুষার খান

    @বাংলা মৌলভী >>> এখানে দুটি পত্রিকার (দৈনিক যুগান্তর পত্রিকা এবং দৈনিক আল-ইহসান) রেফারেন্স দেওয়া হয়েছে যেখানে বলা হয়েছে যে, সৌদি আরব যেদিন যিলহজ্জ মাসের এক তারিখ ঘোষণা করেছে সেদিন সৌদি আরবে চাঁদ দেখা যায়নি। কাজেই সৌদি আরবের চাঁদ দেখা কমিটির উম্মুল কুরায় যে দুটি শর্ত সাপেক্ষে চাঁদ দেখা যাবার কথা বলা হয়েছে, সে শর্ত দুটি অনুযায়ী সে দিন সৌদি আরবে আকাশে অমাবস্যা ছিল। কারণ আমি ব্লগে লিখেছি……

    ****সৌদি আরবের চাঁদ দেখা নিয়ে ষড়যন্ত্রঃসৌদী ওহাবী সরকার চাঁদের নতুন তারিখ ঘোষণার ক্ষেত্রে বর্তমানে উম্মুল কুরার ক্যালেন্ডারে যে পদ্ধতি ব্যবহার করা হয় তাতে বলা হয়েছে যদি কোন আরবী মাসের ২৯তম দিনের সন্ধ্যায় নিচের ২টি অবস্থা পূর্ণ হয় তবে সন্ধ্যার পর থেকে হবে নতুন মাসের ১ম তারিখ গণনা করা হবে।
    ক) যদি জিওসেন্ট্রিক অমাবস্যা সূর্যাস্তের পূর্বে ঘটে।
    খ) যদি চাঁদ, সূর্য অস্ত যাবার পরে অস্ত যায়।
    এখানে যে বিষয়টি লক্ষণীয় যে, উভয় শর্ত পূর্ণ হলেও সেক্ষেত্রে চাঁদটি Zero Moon বা অমাবস্যা হতে পারে। কারণ অমাবস্যা সংঘটিত হওয়ার পর থেকে চন্দ্র অস্ত যাওয়ার মধ্যবর্তী সময় যদি ১৮ ঘন্টার কম হলে চাঁদটি Zero Moon হবে ফলে চাঁদটি দৃশ্যমান হবেনা।****

    এখানে থেকে বুঝা যায় যে, যেদিন সৌদি আরব চাঁদ দেখেছে বলে দাবি করেছে সে দিন Zero Moon বা অমাবস্যা ছিল। আর Zero Moon বা অমাবস্যা থেকে মাস গণনা করে ইহুদীরা।যার প্রমাণ ইহুদী ক্যালেন্ডারের সাথে সৌদি হিজরী ক্যালেন্ডারের মিল।

    আশা করি আপনার শুভ বোধ উদয় হবে।

    বাংলা মৌলভী

    @তুষার খান, আমার বোধ এ বিষয়ে সঠিকই ছিল এবং আছে, আমি আপনার নির্বুদ্ধিতায় বিস্মিত। :(

    তুষার খান

    @বাংলা মৌলভী >>> যে লোক জেগে থেকে ঘুমের ভান করে তাকে কখনই জাগানো যায় না।

    তুষার খান

    @বাংলা মৌলভী >>> পত্রিকার প্রতি যেহেতু আপনার এত এলার্জি তাহলে নিম্নোক্ত ব্যাপারটির শরয়ী ব্যাখ্যা দিন।

    সৌদি ওহাবী সরকার ১৪২৮ হিজরীর জিলহজ্জ মাস ঘোষণা করে ১০ই ডিসেম্বর ২০০৮ তারিখে এবং ১৪২৯ হিজরীর মুহররম মাস ঘোষণা করে ১০ই জানুয়ারী ২০০৯ তারিখে। এবার তাহলে ব্যাখা করুন সৌদি ওহাবী সরকার আরবী মাস ৩১ দিন হয় এটা কোথায় পেল।

  5. Brother তুষার খান ,

    Thanks for the informative article on the Moon. It was not clear to me if you are in support of the Zero Moon to be New Moon or the New Moon as defined in Islam which is to be considered from the New Crescent.

    I for one, is in support of the New Crescent, in recent times I am even in more support to see this New Cresecent via Sattealite at earliest.

    JazzakAllah.

    বাংলা মৌলভী

    @shane2k,অনুগ্রহ করে বাংলা লিখুন।

    তুষার খান

    @shane2k >>> আপনাকে জিনিসগুলো পরিস্কার করে দিচ্ছি।

    ইহুদীরা যেহেতু অমাবস্যা থেকে মাস গণনা শুরু করে তাই তারা অমাবস্যাকে New Moon বলে। অথচ মুসলমানদের হিজরী সন গণনায় New Moon আসবে না কারণ কুরআন শরীফ ও হাদীছ শরীফ-এ বাঁকা চাঁদের কথা বলা হয়েছে অর্থাৎ চাঁদ দৃশ্যমানের কথা বলা হয়েছে। কিন্তু New Moon বা অমাবস্যায় যেহেতু চাঁদ দেখা যায় না তাই মুসলমানরা এটাকে হিসাবে ধরে না।

    আবার ইহুদীরা যেটাকে New Moon বলে মাস শুরু করে, মহাকাশ বিজ্ঞানীরা সেই New Moon বা অমাবস্যায় চাঁদের বয়স শূন্য ধরে যাবতীয় হিসাব নিকাশ করে থাকেন। তাই মুসলমানদের নিকট ইহুদীদের বলা New Moon টা আসলে Zero Moon.

    কুরআন শরীফ ও হাদীছ শরীফ-এ বাঁকা চাঁদ বা হিলাল যাকে ইংরেজীতে Crescent Moon বলা হয় যা মুসলমানদের জন্য নতুন চাঁদ বা ইংরেজীতে বললে New Moon (ইহুদীদের New Moon বা অমাবস্যা নয়)।

    আর ইহুদীরা তাদের হিসেবে New Moon এর পরের চিত্রে যেটাকে New Crescent বলেছে সেটাই মুসমানদের নিকট বাঁকা চাঁদ বা হিলাল যাকে ইংরেজীতে Crescent Moon । যদিও ইহুদীরা New Crescent এর আগের ধাপ অর্থাৎ New Moon থেকে মাস গণনা করে।

    আশা করি বিষয়গুলো পরিস্কার হয়েছে।

  6. হজ্ব নষ্ট হয়নি হয়েছে তোমার বিশ্বাস। এবার বুঝ তোমার সাইন্স তোমাকে জ্ঞানী বানিয়েছে না বেকুব বানিয়েছে।!!

    তুষার খান

    @বাংলা মৌলভী >>> ব্যবহার ঠিক করুন। এখানে কে ছোট বা বড় তা প্রকাশ করার জন্য ব্লগ লেখা হয়নি।

  7. তুষার খান হচ্ছে রাজারবাগ পীরের মুরিদ। কোটি কোটি টাকার মালিক হওয়া সত্বেও রাজারবাগ পীর এখনো হজ্ব করে নাই যদিও তার বাবা এবং অনেক মুরিদ হজ্ব করেছে। পীর কিন্তু তার বাবার নামের পূর্বে এখনো ‘আলহাজ্ব’ শব্দ ব্যবহার করে। পীর যেহেতু হজ্ব করবে না এইজন্য নতুন ফতোয়া নিয়ে এসে মুসলিম উম্মাহকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে আর নিজের আবস্থান পোক্ত করছে।
    আল্লাহপাকের রহমত ছাড়া নেক কাজ করা যায় না। রাজারবাগ পীরের উপর আল্লাহপাকের রহমত নাই দেখেই হজ্বের মত অতি গুরুত্বপূর্ন ফরজ কাজ সে করতে পারছে না। তদুপরি অপরকেও না করার জন্য চেষ্টা চালাচ্ছে।
    আল্লাহপাক আমাদেরকে এই ধরনের সকল বিভ্রান্তি থেকে হেফাজত করুন।

    তুষার খান

    @Bekkal >>> আপনার প্রশ্নের জবাব দেওয়ার আগে আপনাকে একটা প্রশ্ন করি।

    প্রশ্নঃ ধরে নিন, (১)আপনার কাছে হজ্জ ফরয হওয়ার মত আর্থিক সামর্থ্য রয়েছে কিন্তু টাকা গুলো হালাল উপায়ে অর্জিত নয়।
    অথবা (২) আপনার হজ্জ ফরয হওয়ার মত আর্থিক সামর্থ্য রয়েছে এবং টাকা গুলো হালাল উপায়ে অর্জিত কিন্তু আপনি গুরুতর অসুস্থ
    অথবা (৩) আপনার টাকা হালাল এবং আপনি সুস্থ কিন্তু আপনাকে বলা হলো হজ্জ যাওয়ার পূর্বে এবং হজ্জের সময় হারাম কাজ করতে হবে।

    উপরের কোন ক্ষেত্রে আপনার উপর হজ্জ ফরয থাকবে এবং কেন? অবশ্যই কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াসের রেফারেন্স দিতে হবে।

    বাংলা মৌলভী

    @Bekkal, আমীন। (F) (Y)

    তুষার খান

    @বাংলা মৌলভী, বিজ্ঞ আলিম সাহেব আপনাকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, পত্রিকার প্রতি যেহেতু আপনার এত এলার্জি তাহলে নিম্নোক্ত ব্যাপারটির শরয়ী ব্যাখ্যা দিন।

    সৌদি ওহাবী সরকার ১৪২৮ হিজরীর জিলহজ্জ মাস ঘোষণা করে ১০ই ডিসেম্বর ২০০৮ তারিখে এবং ১৪২৯ হিজরীর মুহররম মাস ঘোষণা করে ১০ই জানুয়ারী ২০০৯ তারিখে। এবার তাহলে ব্যাখা করুন সৌদি ওহাবী সরকার আরবী মাস ৩১ দিন হয় এটা কোথায় পেল।

    আশা করি আবু জাহিল না হলে এর ব্যাখ্যা প্রদান করবেন।

  8. ভাইজান, আপনার পীর সাহেব কি হজ্ব করেছেন । আমাকে অনেকে বলল আপনার পীর হজ্জ করেন নাই দেখে এখন ফতোয়া দিয়ে বেরান যে মুসলমানদের হজ্ব হয় না । এই শোনা কথা কতটুকু সত্য সেটা জানতে চাই আপনার কাছ থেকে ?

    তুষার খান

    @Malcolm X >>> জ্বি না, উনি হজ্জ করেন নি। তিনি যেটা বলেছেন সেটা হলো, বর্তমানে হজ্জের যে সামগ্রিক পারিপার্শ্বিক অবস্থা তাতে হজ্জ ফরয থাকছে না এবং হজ্জের প্রত্যেকটি আহকাম যেহেতু তারিখ সংশ্লিষ্ট তাই সৌদি ওহাবী সরকার কর্তৃক চাঁদের তারিখ হের-ফের করার কারণে হজ্জ হচ্ছে না। নিচে কেন হজ্জ থাকছে না তা তুলে ধরলাম।

    হজ্জের আদেশ দান প্রসঙ্গে আল্লাহ পাক ইরশাদ করেন, “আল্লাহ পাক-এর জন্যেই তোমরা হজ্জ ও উমরাহ আদায় কর বা পূর্ণ কর।” (সূরা বাক্বারা-১৯৬) অর্থাৎ আল্লাহ পাক বান্দাকে কেবলমাত্র আল্লাহ পাক-এর সন’ষ্টি লাভের উদ্দেশ্য ব্যতীত অন্য কোন উদ্দেশ্য যেমন- ‘আনন্দ ভ্রমণ, ভিক্ষাবৃত্তি, ব্যবসা-বাণিজ্য, সুনাম-সুখ্যাতি, রিয়া বা লৌকিকতা’- এক কথায় গাইরুল্লাহ্‌র উদ্দেশ্যে হজ্জ ও উমরাহ করতে নিষেধ করেছেন।
    আল্লাহ পাক ইরশাদ করেন, “আল্লাহ পাক-এর জন্যেই মানুষের প্রতি হজ্জ করা ফরয- যার পথের সামর্থ্য ও নিরাপত্তা রয়েছে।” (সূরা আলে ইমরান-৯৭) অর্থাৎ যার পথের সামর্থ্য ও নিরাপত্তা নেই তার প্রতি হজ্জ ফরয নয়। এ প্রসঙ্গে হাদীছ শরীফ-এ ইরশাদ হয়েছে, “হযরত আবু উমামা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বর্ণনা করেন, আল্লাহ পাক-এর হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ ফরমান, কোন ব্যক্তির হজ্জ ফরয হওয়ার ক্ষেত্রে নিষেধকারী বিষয় হচ্ছে, প্রকাশ্য বাধা অথবা অত্যাচারী শাসক অথবা গুরুতর অসুখ।” (মাছাবীহুস্‌ সুন্নাহ, দারিমী, মিশকাত, মিরকাত) অর্থাৎ কোন ব্যক্তির হজ্জে যেতে বাহ্যিক বাঁধা থাকলে অথবা অত্যাচারী শাসকের কারণে মাল-জান, ঈমান ও আমলের নিরাপত্তা না থাকলে অথবা কঠিন অসুস্থতা থাকলে তার উপর হজ্জ ফরয থাকবে না।
    আয়াত শরীফ-এ উল্লিখিত পথের নিরাপত্তা বলতে মাল-জান এবং ঈমানের নিরাপত্তার কথা বলা হয়েছে। কারণ, মাল-জানের চেয়ে ঈমানের গুরুত্ব অনেক বেশি। কাজেই ঈমান ও আমল নষ্ট হওয়ার অর্থাৎ কোন কুফরী ও হারাম কাজ সংঘটিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে এটা জানা সত্ত্বেও কেউ যদি হজ্জে রওয়ানা করে এবং তাদের দ্বারা কুফরী ও হারাম কাজ সংঘটিত হয় তাহলে এজন্য তাদের কুফরী ও কবীরা গুনাহ হবে। অনুরূপ মহিলাদের সাথে স্বামী কিংবা কোন সচ্চরিত্রবান মাহরাম পুরুষ সঙ্গে না নিয়ে তারা যদি হজ্জে রওয়ানা করে এবং পথে কোন অশালীন কাজ সংঘটিত হয়। এজন্য তারাই কঠিন গুনাহে গুনাহগার হবে।
    হজ্জ ফরয হওয়ার জন্য সকল কবীরা ও কুফরী গুনাহ থেকে বেঁচে থাকা শর্ত করা হয়েছে। এ মর্মে আল্লাহ পাকও উনার কালাম পাকে ইরশাদ করে জানিয়ে দিয়েছেন। মহান আল্লাহ পাক ইরশাদ করেন, “যে ব্যক্তির প্রতি হজ্জ ফরয সে যেন হজ্জ পালনের ক্ষেত্রে নির্জন অবস্থান ও তার সংশ্লিষ্ট কোন কাজ না করে এবং কোন প্রকার ফাসিকী বা নাফরমানিমূলক কাজ না করে এবং ঝগড়া-বিবাদ না করে। আর তোমরা যে নেক কাজ কর তা আল্লাহ পাক জানেন। তোমরা পাথেয় সংগ্রহ কর। নিশ্চয়ই উত্তম পাথেয় হচ্ছে তাক্বওয়া।” (সূরা বাক্বারা-১৯৭)
    ছবি তোলা এবং পর্দা লঙ্ঘন করা আল্লাহ পাক ও উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর প্রকাশ্য নাফরমানি। কেননা ছবি হারাম ঘোষণা করেছেন স্বয়ং আল্লাহ পাক-এর হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। আর পর্দা ফরয করেছেন স্বয়ং আল্লাহ পাক রব্বুল আলামীন। যেমন পর্দা সম্পর্কে আল্লাহ পাক ইরশাদ করেন, “হে মহিলারা তোমরা নিজ ঘরে অবস্থান করো, বেপর্দা হয়ে রাস্তায় ঘুরে বেড়িওনা।” (সূরা আহযাব ৩৩) আর ছবি সম্পর্কে নূরে মুজাস্‌সাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, “নিশ্চয়ই মানুষের মধ্যে আল্লাহ পাক ঐ ব্যক্তিকে কঠিন শাস্তি দিবেন, যে ব্যক্তি প্রাণীর ছবি তোলে বা আঁকে।” (বুখারী শরীফ, ২য় খন্ড)
    হজ্জ করা যেমন আল্লাহ পাক ও উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর আদেশ তদ্রুপ বেপর্দা এবং ছবি তোলা থেকে বিরত থাকাও আল্লাহ পাক ও উনার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর আদেশ।
    একটা আদেশ অমান্য করে আরেকটা মান্য করা সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ। এ মর্মে আল্লাহ পাক ইরশাদ করেন, “তোমরা কিতাবের কিছু হুকুম মানবে আর কিছু হুকুম মানবে না (তা তো হতে পারে না)। যে ব্যক্তি এরূপ করবে তার পরিণাম হচ্ছে, সে পার্থিব জীবনে লাঞ্ছিত হবে এবং পরকালে কঠিন আযাবে নিক্ষিপ্ত হবে। আর আল্লাহ পাক তোমাদের আমল সম্পর্কে বেখবর নন।” (সূরা বাক্বারা-৮৫)
    ছবি ও পর্দার আদেশ লঙ্ঘন করে যারা হজ্জ করবে তাদের সে হজ্জ কস্মিনকালেও আদায় হবে না। এটাই কুরআন শরীফ ও সুন্নাহ শরীফ-এর ফতওয়া।
    এখন কেউ বলতে পারে, ‘ছবি ও বেপর্দার কারণে তাহলে কি হজ্জ করা বন্ধ থাকবে?’ এর জাওয়াব হলো, ‘হ্যাঁ, হজ্জ ফরয হলে তো অবশ্যই আদায় করতে হবে। সেজন্য যে দেশে হজ্জের জন্য ছবি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে সে দেশের সরকারকে বলতে হবে, সরকার যেন ছবি ব্যতীত হজ্জে যাওয়ার ব্যবস্থা করে এবং বিশেষ করে সউদী সরকারকে বলতে হবে, তারা যেন ছবি ব্যতীত এবং মহিলাদের পর্দার সাথে হজ্জ সম্পাদন করার সুষ্ঠু ব্যবস্থা করে দেয়। আর মক্কা শরীফ ও মদীনা শরীফ-এ স্থাপিত সিসি ক্যামেরা সরিয়ে ফেলে। কারণ, এসব হজ্জে মাবরূর হওয়ার ক্ষেত্রে অন্তরায়। আর হজ্জে মাবরুর না হলে প্রকৃতপক্ষে হজ্জই আদায় হবে না।
    যদি দেশের সরকার এবং সউদী সরকার ছবির ব্যবস্থা তুলে না নেয় এবং পর্দার সাথে হজ্জ সম্পাদন করার সুষ্ঠু ব্যবস্থা না করে তাহলে তারা হাদীছ শরীফ-এ বর্ণিত সুলতানে জায়ের বা অত্যাচারী শাসক হিসেবে গণ্য হবে। আর তাদের আমলটা হবে হাদীছ শরীফ অনুযায়ী হাজতে জাহেরা বা হজ্জের নিষেধকারী প্রকাশ্য বাধা যা বিদ্যমান থাকলে ফরয হজ্জ ফরয থাকে না অর্থাৎ ফরয হজ্জ সাকিত বা রহিত হয়ে যায়।
    কেউ যদি সত্যিই আল্লাহ পাক-এর সন’ষ্টির জন্যেই হজ্জ করতে চায় তাহলে তাকে শরীয়তের শর্ত মুতাবিক হজ্জ করতে হবে। আর যদি কেউ গাইরুল্লাহ্‌র উদ্দেশ্যে বা আলহাজ্জ ও হাজী খিতাব লাভের উদ্দেশ্যে হজ্জ করতে চায় তবে তার মাসয়ালা আলাদা। কাজেই, এখনই মুসলমানদেরকে সজাগ ও সোচ্চার হওয়া উচিত। আল্লাহ পাক প্রত্যেককে শরীয়তের ফতওয়া মুতাবিক আমল করার তাওফিক দান করুন। (আমীন)

    Malcolm X

    @তুষার খান, ভাই ধন্যবাদ আপনি যুক্তিপূর্ন আলোচনা করেছেন । আমার কিছু প্রশ্ন আছে :

    অনুরূপ মহিলাদের সাথে স্বামী কিংবা কোন সচ্চরিত্রবান মাহরাম পুরুষ সঙ্গে না নিয়ে তারা যদি হজ্জে রওয়ানা করে এবং পথে কোন অশালীন কাজ সংঘটিত হয়। এজন্য তারাই কঠিন গুনাহে গুনাহগার হবে।

    এটা কি শুধু হজ্জের সাথে সম্পর্কিত নাকি মহিলাদের যেকোন সফরের সাথেই সম্পর্কিত ?

    ছবি ও পর্দার আদেশ লঙ্ঘন করে যারা হজ্জ করবে তাদের সে হজ্জ কস্মিনকালেও আদায় হবে না। এটাই কুরআন শরীফ ও সুন্নাহ শরীফ-এর ফতওয়া।

    এটাও কি শুধু হজ্জের সাথে সম্পর্কিত নাকি যেকোন কাজ করতে গেলেই ছবি তোলা যাবে না ? আর আপনি যে বলেছেন এটা ফতওয়া । এটা কার ফতোয়া ? রেফারেন্স দেয়া যাবে ?

    তুষার খান

    @Malcolm X >>> (১) যেহেতু হজ্জ-এর ক্ষেত্রেও সফর করতে হয় তাই এ আদেশ হজ্জ সহ সকল সফরের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হবে।

    (২) ছবি তোলা সবসময় হারাম। নিচের বিষয়টি মনোযোগ দিয়ে পড়ুন।

    ছবি তোলা, আঁকা উভয়টিই হারাম। হজ্জের জন্যই হোক বা অন্য কোন প্রয়োজনে যেমন- ব্যবসা, চাকুরী ও নানা প্রকার লাইসেন্স, পারমিট, পাসপোর্ট ইত্যাদির জন্যই হোক না কেন, সর্বাবস্থায় শরীয়তে ছবি তোলা ও আঁকা হারাম। বর্তমানে পৃথিবীর কোথাও ইসলামী খিলাফত কায়িম নেই, যার কারণে ইসলামী হুকুমতও সম্পূর্নভাবে জারীও নেই। ইসলামী হুকুমত জারী না থাকায় পৃথিবীর প্রতিটি দেশেই প্রবেশ করতে হলে ছবিসহ পাসপোর্ট দেখিয়ে অনুমতি গ্রহণ করতে হয়। হজ্জের জন্যও ছবিসহ পাসপোর্টের নিয়ম করা হয়েছে। ছবিসহ পাসপোর্টের এ নিয়ম করাটা শরীয়তের খিলাফ হয়েছে।
    শরীয়তের উসূল হচ্ছে কুরআন শরীফ, হাদীস শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াসের দৃষ্টিতে যে সকল কাজ ফরজ ওয়াজিবের অন্তর্ভূক্ত, তা পালন করার পূর্বশর্ত হিসেবে যদি কোন ব্যক্তিকে অনিচ্ছা সত্ত্বেও শরীয়তের খিলাফ কাজ করতে বাধ্য করা হয়, তখন সে শরীয়তের দৃষ্টিতে মা’জুর বা অপারগ বলে গণ্য হয়। এ সম্পর্কে ফিক্বাহের কিতাবে উল্লেখ করা হয়েছে, “জরুরত হারামকে মুবাহ্‌ করে দেয়।” মূলতঃ ছবি তোলা ও আঁকা সর্বাবস্থায়ই হারাম কিন্তু মা’জুর হওয়ার কারণে হজ্জ ছাড়া অন্যান্য জরুরতে ছবি ব্যবহার করাকে মুবাহ্‌ করা হয়েছে। তবে বর্তমানে হজ্জ করা এই মা’জুরতার মধ্যে পড়ে না। নিচে তার আলোচনা করা হলো-
    স্বয়ং আল্লাহ পাক রব্বুল আলামীন তাঁর কালাম পাকে এবং স্বয়ং আল্লাহ পাক-এর হাবীব, রহমতুল্লিল আলামীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর হাদীসে পাকে হজ্জের বিধি-বিধান সবিস্তারে বর্ণনা করেছেন। সেই সমষ্টিগত বর্ণনা থেকে আখিরী উম্মতগণের প্রতি জীবনে একবার হজ্জ করা ফরজ সাব্যস্ত হয়েছে এবং এক্ষেত্রে শর্ত করা হয়েছে পথের সামর্থ্য ও নিরাপত্তার।
    পথের সামর্থ্য বলতে “সাংসারিক প্রয়োজনীয় ব্যয়ের পর হজ্জে যাওয়া ও আসা পর্যন্ত পরিবারবর্গের ভরণ-পোষণের অতিরিক্ত সম্বল ও পাথেয় থাকা এবং যানবাহনের সুষ্ঠু ব্যবস্থা থাকা।” আর পথের নিরাপত্তা বলতে “সুস্থ থাকা এবং জান-মাল, ঈমান ও আমলের নিরাপত্তা থাকা।” এ প্রসঙ্গে আল্লাহ পাক ইরশাদ করেন, “আল্লাহ পাক-এর জন্যই মানুষের প্রতি হজ্জ করা ফরজ যার পথের সামর্থ্য ও নিরাপত্তা রয়েছে।” (সূরা আলা ইমরান ৯৭)
    আল্লাহ পাক আরো বলেন, “যে ব্যক্তির প্রতি হজ্জ ফরজ সে যেন হজ্জ পালন করতে গিয়ে নির্জনবাস ও তার সংশ্লিষ্ট কোন কাজ না করে এবং কোন প্রকার ফাসিকী বা নাফরমানীমূলক কাজ না করা এবং ঝগড়া-বিবাদ না করে।” (সূরা বাক্বারা ১৯৭)
    আয়াত শরীফে স্পষ্টরূপে বলা হয়েছে যে, হজ্জ করতে গিয়ে যদি ঈমান ও আমলের নিরাপত্তা না থাকে তথা হজ্জ করতে গিয়ে যদি কাউকে হারাম ও কুফরী কাজ করতে হয় তাহলে তার উপর হজ্জ ফরজ থাকে না। যেমন- ছবি তোলা, পর্দা লঙ্ঘন করা উভয়টি শক্ত হারাম ও কবীরা গুনাহ এবং চরম ফাসিকী ও নাফরমানীমূলক কাজ। সুতরাং হজ্জের অজুহাতে এই হারাম ও নাফরমানীমূলক কাজ করা কখনই শরীয়ত সিদ্ধ নয়। বরং সর্বক্ষেত্রে এ হারাম কাজে বাধা প্রদান করা প্রত্যেক মু’মিন-মুসলমানের ঈমানী দায়িত্ব।
    এ প্রসঙ্গে হাদীস শরীফে ইরশাদ হয়েছে, “আল্লাহ পাক-এর হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি কোন অন্যায় কাজ সংঘটিত হতে দেখে সে যেন তা হাত দ্বারা বাধা দেয়। যদি সে তা হাত দ্বারা বাধা দিতে না পারে তাহলে সে যেন জবান দ্বারা বাধা দেয়। যদি জবানের দ্বারা বাধা দিতে না পারে তাহলে যেন অন্তরে তা ঘৃণা করে দূরে সরে থাকে। আর এটাই সবচেয়ে দূর্বল ঈমানের পরিচয়। এরপর ঈমানের আর সরিষা পরিমাণ অবশিষ্ট নেই।” (মুসলিম শরীফ)
    অর্থাৎ ক্ষমতা থাকলে প্রথমতঃ শক্তি বা বল প্রয়োগ করে ছবি ও বেপর্দা বন্ধ করতে হবে। দ্বিতীয়তঃ সেই ক্ষমতা যদি না থাকে তাহলে জবানে বা মুখে বলতে হবে বা জানিয়ে দিতে হবে যে, ছবি তোলা ও বেপর্দা হওয়া হারাম। হজ্জসহ সর্বক্ষেত্রে ছবি তোলা ও বেপর্দা হওয়া হারাম ও কবীরা গুনাহ। জায়িয মনে করা কুফরী। কাজেই মক্কা শরীফ, মদীনা শরীফ ও হজ্জের সাথে সংশ্লিষ্ট সকল স্থান থেকে সিসিটিভি ও ক্যামেরা সরিয়ে নেয়া হোক। তৃতীয়তঃ যদি জবানে বলার ক্ষমতা না থাকে তাহলে ছবি তোলা ও বেপর্দা হওয়াকে অন্তর থেকে হারাম ও গুনাহর কাজ স্বীকার করে তা থেকে দূরে সরে থাকতে হবে। আর এটা হচ্ছে একেবারে দূর্বল ঈমানদারের পরিচয়। এরপরে ঈমানের আর কোন স্তর নেই। অর্থাৎ যারা হাতেও বাধা দিবে না, জবানেও প্রতিবাদ করবে না এবং সে হারাম কাজকে অন্তরে খারাপ জেনে বিরত বা দূরেও সরে থাকবে না বরং সেটাকে সমর্থন করবে এবং তাতে জড়িত হবে হাদীস শরীফ মুতাবিক তাদের ঈমান নেই। তাহলে ছবি তুলে ও বেপর্দা হয়ে হজ্জ করা কি করে জায়িয হতে পারে?
    অতএব, কেউ যদি সত্যই শরীয়তের নির্দেশ অনুযায়ী হজ্জ করতে চায় তাহলে তাকে আল্লাহ পাক ও তাঁর রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর ঘোষণাকৃত ছবি তোলা ও বেপর্দাসহ সর্বপ্রকার হারাম কাজ থেকে বিরত থাকতে হবে। যদি হজ্জ করতে গিয়ে ছবি তোলা, বেপর্দা হওয়া অথবা অন্য কোন শরীয়ত বিরোধী হারাম কাজে জড়িত হতে হয় তাহলে হজ্জ ফরজ থাকে না। যেমন কোন মহিলা যদি সারা পৃথিবীর মালিকও হয়, আর যদি কোন মাহ্‌রাম পুরুষ না থাকে তাহলে তার উপর হজ্জ ফরজ থাকে না। কারণ মাহ্‌রাম পুরুষ ব্যতীত হজ্জে গেলে তার দ্বারা হারাম কাজ হওয়ার আশঙ্কা বিদ্যমান।

    কেউ কেউ কিতাবের উদ্বৃতি দিয়ে বলে, “জরুরত বা মা’জুরতার কারণে হারামটা মুবাহ হয়ে যায়।” তাই হজ্জের জন্য ছবি তুললে কোন গুনাহ হবে না। কারণ তা জরুরতবশতঃ তোলা হয়। হজ্জের ক্ষেত্রে তাদের এই বক্তব্য আদৌ গ্রহণযোগ্য নয়। কারণ হজ্জের জন্য ছবি তোলাটা কখনই মা’জুরের পর্যায়ে পড়ে না। কেননা হজ্জ করার জন্য সরকার বা অন্য কারো পক্ষ থেকে বাধ্য করা হয়নি এবং ঈমান ও আমলের নিরাপত্তা না থাকায় যেখানে হজ্জই ফরজ থাকে না সেখানে কি করে সে মা’জুর হলো? এখন কোন মহিলা যদি বলে, আমার সম্পদ রয়েছে কিন্তু মাহ্‌রাম নেই এক্ষেত্রে আমি মা’জুর, সুতরাং মাহ্‌রাম ছাড়াই হজ্জ করবো। তার কথা কি শরীয়তে গ্রহণযোগ্য হবে? কস্মিনকালেও না। কারণ মাহ্‌রাম ছাড়া তার উপর হজ্জ ফরজ নয়। আর যদি হজ্জ ফরজ না হয় তাহলে সে মা’জুর হলো কি করে? বরং কোন সরকারের পক্ষ থেকে হজ্জের ক্ষেত্রে ছবি তোলাকে আবশ্যক করাটা হজ্জের ফরজ সাকিত বা রহিত হওয়ার ক্ষেত্রে অন্যতম একটি কারণ বা বাধা। যেমন- এ প্রসঙ্গে হাদীস শরীফে ইরশাদ হয়েছে, “হযরত আবূ উমামা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বর্ণনা করেন, আল্লাহ পাক-এর হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, কোন ব্যক্তির হজ্জ ফরজ হওয়ার ক্ষেত্রে নিষেধকারী বিষয় হচ্ছে- প্রকাশ্য বাধা অথবা অত্যাচারী শাসক অথবা গুরুতর অসুখ।” (মাছানীহুস সুন্নাহ, দারিমী, মিশকাত, মিরকাত)
    অর্থাৎ কোন ব্যক্তি হজ্জ করার সামর্থ না থাকলে অথবা অত্যাচারী শাসকের কারণে জান-মাল, ঈমান ও আমলের নিরাপত্তা না থাকলে অথবা কঠিন অসুস্থতা থাকলে তার উপর হজ্জ ফরজ হবে না। অর্থাৎ হজ্জের ফরজ সাকিত হয়ে যাবে।

    Malcolm X

    @তুষার খান,


    (১) যেহেতু হজ্জ-এর ক্ষেত্রেও সফর করতে হয় তাই এ আদেশ হজ্জ সহ সকল সফরের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হবে।


    ভালো বলেছেন , হ্যা এটাই ইসলামের নিয়ম । এখন আমার প্রশ্ন , কোনো পীর সাহেব যদি ওয়াজ করার জন্য বিভিন্ন জেলাতে যায়, তার সাথে যদি মহিলারা যেতে চায় , সেই সব মহিলাদের মাহরম ছাড়া পীর সাহেবের সাথে যাওয়া জায়েজ হবে কিনা ?

    ধন্যবাদ আপনার উত্তর দেবার জন্য ।

    তুষার খান

    @Malcolm X >>> জ্বি না, মহিলাদের জন্য মাহ্‌রাম ছাড়া ছফর করা জায়িয নেই। তবে মাহ্‌রামসহ ছফরকারিণী পরহেযগার মহিলার তত্ত্বাবধানে আরো একাধিক মহিলা ছফরসঙ্গী হিসেবে থাকলে খাছ পর্দার শর্তে তাদের ছফর জায়িয। তত্ত্বাবধায়ক মহিলার মাহ্‌রামই সকলের মাহ্‌রামের স্থলাভিষিক্ত হিসেবে ধার্য হবে। তাই এমন ছফর শরীয়ত মতে জায়িয।
    এখন প্রশ্ন হতে পারে মাহ্‌রামের এ বিষয়টি হজ্জের ক্ষেত্রে কেন প্রযোজ্য হবে না? এ উত্তরে বলতে হয়
    “ইমাম কুদূরী রহ্‌মতুল্লাহি আলাইহি বলেন, (মহিলাদের ব্যাপারে গ্রহণযোগ্য বিধান হলো, তার সাথে তার কোন মাহ্‌রাম যেমনঃ পিতা, ভাই, ছেলে ইত্যাদি অথবা তার স্বামী হজ্জ করবে। মহিলার জন্য তার মাহ্‌রাম ছাড়া হজ্জ করা জায়িয হবে না। যখন তার বাড়ী এবং মক্কা শরীফের মধ্যে তিনদিনের (৪৮ মাইল) বা তার বেশী সময়ের দুরত্ব হয়)………. আমাদের হানাফীগণের দলীল হলো, আখিরী রসূল হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন,
    لاَ تَحُجُّنَ اِمْرَأَةٌ اِلاَّ وَمَعَهَا مَحْرَمٌ
    অর্থাৎ- কোন স্ত্রী লোক যেন মাহ্‌রাম ছাড়া হজ্জ করতে না যায়। কেননা এতে ফিতনা-ফাসাদের আশংকা রয়েছে।…………..(মহিলা যদি মাহ্‌রাম পেয়ে যায়, তবে স্বামীর পক্ষ থেকে তাকে বাধা দেয়ার অধিকার থাকবে না।)……..আমাদের হানাফীগণের দলীল হলো, স্বামীর অধিকার ফরয সমূহ পালনের ক্ষেত্রে প্রকাশ পাবে না। আর হজ্জ ফরয সমূহের অন্তর্ভূক্ত। তবে নফল হজ্জের ক্ষেত্রে স্বামীর বাধা প্রদানের অধিকার রয়েছে। মাহ্‌রাম যদি ফাসিক হয়। সেক্ষেত্রে ফক্বীহগণ বলেছেন, মহিলার উপর হজ্জ ফরয হবেনা। কেননা সফর সঙ্গী হওয়ার উদ্দেশ্য এমন ফাসিক মাহ্‌রামের দ্বারা হাছিল হবে না।……….শিশু, বালক এবং পাগল মাহ্‌রাম গ্রহণযোগ্য নয়। কেননা, তার পক্ষ থেকে হিফাযত হাছিল হবে না। যে বালিকা প্রাপ্ত বয়স্কার সীমায় উপনীত হয়েছে, সে প্রাপ্ত বয়স্কার সমতূল্য। কাজেই মাহ্‌রাম ছাড়া তাকে নিয়ে ছফর করা জায়িয নেই।” (আল হিদায়া মায়াদ দিরায়া ১ম খন্ড ২৩৩ পৃষ্ঠা, ফতহুল ক্বদীর, কিফায়া, শরহুল ইনায়া)

    Malcolm X

    @তুষার খান ,
    আপনার পীর সাহেব নাকি অনেক বেগানা মহিলা নিয়ে সফর করে এবং যে হোটেল এ থাকে সেই হোটেল দুই ভাগ করে একভাগে মেয়েরা থাকে এবং অন্য অংশে ছেলেরা থাকে ? আর যে অংশে মেয়েরা থাকে সেই অংশে পীর সাহেব থাকে ? এটা কতটুকু সত্য ?

    আর আপনারা হজ্বের ক্ষেত্রে ফতোয়া দ্যান মাহরম ছাড়া মহিলাদের হজ্বে বা যেকোনো সফরে যাওয়া জায়েজ নেই, কিন্তু আপনার পীর সাহেব ঠিকই বেগানা মহিলাদের তাদের মাহরম ছাড়া সফরে নিয়ে যায় ? এটা কতটুকু শরীয়ত সম্মত জানাবেন কি ?

    খুশী হব শরীয়ত সম্মত উপায় উত্তর দিলে, আর কোনো ফতোয়া দিলে সেটার দলীল দিবেন ।

    Malcolm X

    @তুষার খান ,

    আপনি কি জানেন বছর তিন/চার পূর্বে রাজারবাগের পীর সাহেব কক্সবাজারে বেগানা মহিলার নিয়ে হোটেলে অবস্সহানের সময় হঠাৎ পুলিশ তাকে ধরার জন্য হোটেলে রেট দ্যায় । সেই সময় পীর সাহেব নিজে বাচার জন্য বোরকা পড়ে বেগানা মহিলাদের মধ্যে আত্নগোপন করেন । পরে পুলিশ তাকে খুজে না পেয়ে চলে যায় ।

    এই সম্বন্ধে আপনি যদি বিস্তারিত জানতে চান তাহলে সেই সফরে সেই সময়ে যারা উপস্হিত ছিল তাদের থেকেও জানতে পারবেন এবং বললেও আমিও আপনাকে তাদের নাম সহ বলে দিতে পারবো ।

    আমি চাচ্ছি আপনি এগুলোর তদন্ত করুন এবং আসল সত্যটা জানুন । আপনাদের কোনো দোষ নেই যেহেতু আপনারা আল্লাহকে পাওয়ার জন্য গিয়েছেন ।

    Malcolm X

    @তুষার খান,

    হ্যা ছবি তোলা হারাম সেটা বুঝলাম।
    কেননা হজ্জ করার জন্য সরকার বা অন্য কারো পক্ষ থেকে বাধ্য করা হয়নি এবং ঈমান ও আমলের নিরাপত্তা না থাকায় যেখানে হজ্জই ফরজ থাকে না সেখানে কি করে সে মা’জুর হলো?

    ঠিক আছে বুঝলাম হজ্জ্ব “মাজুর” এর মধ্যে পড়বে না । তাহলে কেউ যদি ইসলামের জন্য কাজ করতে চায় যেমন পত্রিকা বের করা , সেই ক্ষেত্রে তাকে রেজিস্ট্রেশন নিতে হলে ছবি জমা দিতে হয় । এইক্ষেত্রে তার ছবির মাধ্যমে পত্রিকা বের করা জায়েজ কিনা ?

    তুষার খান

    @Malcolm X >>> না, ছবির মাধ্যমে পত্রিকা বের করা জায়িজ হবে না। তবে যদি এমন হয় যে কেউ পত্রিকার রেজিষ্ট্রশনের জন্য পূর্বে ছবি জমা দিয়ে দেয় এবং পরে বুঝতে পারে যে ছবি জমা দেয়া জায়িজ নেই। তবে তার তওবা করলে পত্রিকাটি বের করা জায়িজ হবে। এমন ব্যক্তি যদি তার পত্রিকা অন্য কারো জিম্মায় দিয়ে দেয় তাহলে সেটা জায়িজ হবে। এটা হিলা হিসেবে সাব্যস্ত হবে।
    আর যদি কোন প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে পত্রিকার রেজিষ্ট্রেশন করতে চায়, তাহলে ছবির প্রয়োজন হয়না।
    উল্লেখ্য যে, দৈনিক আল ইহসান (রেজিস্টার্ড নং-ডিএ ৩০২৮) ও মাসিক আল বাইয়্যিনাত (রেজিস্টার্ড নং-ডিএ ৯৩০) পত্রিকাদ্বয় রেজিষ্ট্রেশনের জন্য ছবির প্রয়োজন হয়নি কারণ তখন ছবি জমা দেয়ার বিধান ছিলনা। আপনার কোনরূপ সন্দেহ থাকলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করতে পারেন।

    Malcolm X

    @তুষার খান,


    না, ছবির মাধ্যমে পত্রিকা বের করা জায়িজ হবে না। তবে যদি এমন হয় যে কেউ পত্রিকার রেজিষ্ট্রশনের জন্য পূর্বে ছবি জমা দিয়ে দেয় এবং পরে বুঝতে পারে যে ছবি জমা দেয়া জায়িজ নেই। তবে তার তওবা করলে পত্রিকাটি বের করা জায়িজ হবে

    আপনার এই লজিক অনুযায়ী বলা যায়, কেউ ছবি তোলার পর তওবা করে পরবর্তিতে সেই ছবি দিয়ে পাসপোর্ট করে হজ্ব করলে সেটাও জায়েজ হবে । কেননা তওবা করলে যদি পত্রিকা বের করা যায় ছবি দিয়ে তাহলে তওবা করে সেই ছবি দিয়ে হজ্বও করা যাবে নিশ্চই । তাই নয় কি ?

    Malcolm X

    @তুষার খান,

    আপনাদের মুহম্মদিয়া মেডিকাল সার্ভিসেস লিমিটেড এর চেয়ারম্যান এ কে এম আবু আশরাফ , এম, ডি ড: আবু মুহম্মদ সালেহ ( মেহেদী ) , আর ডাইরেক্সোটর মোহাম্সোমদ রেজাউল করীম (বুলবুল ) ও ডাইরেক্টর আনিসুর রহমান ( সোহেল ) যারা পীর সাহবেরে নির্দেশে ছবি জমা দিয়ে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে সুদের মাধ্যমে লোন নিয়েছে । এবং এই মুহাম্মদিয়া মেডিকাল সার্ভিসেস লিমিটেড এ রাজারবাগ পীর সাহেব ৫৪% শেয়ার আছে । যার জন্য সমস্ত মেনেজিং ক্ষমতা পীর সাহেবের । এইজন্য “আল আরাফা” ব্যাংক “পীর সাহেবের” নামে মামলা করেছে । ( মামলা নং – ১২৫/২০০৫ ইংরেজী , ৪র্থ অর্থ ঋন আদালত ঢাকা ) ।

    Malcolm X

    @তুষার খান,

    যেকোন পত্রিকার ডিকলারেশন এর জন্য প্রকাশক এবং সম্পাদকের ছবি দেয়া বাধ্যতামুলক ।

    আল বাইয়্যিনাত পত্রিকার প্রকাশক হিসেবে “নুরুল কবির চৌধুরী” এবং সম্পাদক হিসেবে “সিরাজুল ইসলাম” আর আল ইহসান পত্রিকার প্রকাশক হিসেবে “নুরুল কবির চৌধুরী” এবং সম্পাদক হিসেবে “এ কে এম আবু আশরাফ” এর ছবি দিয়ে ডিকলারেশন পায় । এবং কে সম্পাদক এবং কে প্রকাশক হবে সেটা সম্পুর্ন পীর সাহেব নির্ধারন করেন এবং সেই সবসময় এগুলোর পৃষ্ঠপোষক ।

    এখন আপনি বলছেন ছবি দিয়ে হজ্ব করলে হজ্ব হবে না তাহলে ছবি দিয়ে কিভাবে আপনার পীর সাহবে এই পত্রিকাগুলো পৃষ্ঠপোশকতা করে ?

    Malcolm X

    @তুষার খান,


    যদি হজ্জ করতে গিয়ে ছবি তোলা, বেপর্দা হওয়া অথবা অন্য কোন শরীয়ত বিরোধী হারাম কাজে জড়িত হতে হয় তাহলে হজ্জ ফরজ থাকে না

    ফতোয়া আসবে ইসলামিক স্কলারদের থেকে । আপনি যেটা বলছেন সেটা মাসআলার মধ্যে পড়ে । আমি জানতে চাচ্ছি উপরে যে লাইনটা বললেন এটা কার ফতোয়া । সেই সব বই এর রেফারেন্স জানতে চাচ্ছি ।

    তুষার খান

    @Malcolm X >>> এটা বর্তমান পঞ্চদশ হিজরী শতকের মুজাদ্দিদ হযরত ইমাম সাইয়্যিদ মুহম্মদ দিল্লুর রহমান (মুদ্দা জিল্লুহুল আলী) ছাহেবের ফতওয়া। যিনি বর্তমান যামানার সকল স্বলারদেরও ইমাম। আর আপনি সমূহ ফিক্বাহর কিতাবগুলো (বায়রুর রায়িক, ফতওয়ায়ে আলমগীরী ইত্যাদি) দেখুন।

    Malcolm X

    @তুষার খান,

    বর্তমান পঞ্চদশ হিজরী শতকের মুজাদ্দিদ হযরত ইমাম সাইয়্যিদ মুহম্মদ দিল্লুর রহমান (মুদ্দা জিল্লুহুল আলী) ছাহেবের ফতওয়া।

    দেওয়ানবাগী, সায়দাবাদী , রাজারবাগী সবাই দাবী করে তারা জামানার মোজাদ্দেদ , আমাদের মতো আমজনতা কিভাবে বুঝবে কার দাবী ঠিক ?

    কোনো গাইডলাইন দিতে পারবেন ?

  9. তুষার খানের প্রশ্ন বা পোস্টের সাথে উনার পীরের হজ্বের কি সম্পর্ক? আমার মাথায় ঢোকেনা।

    ভাইয়েরা তুষার খানের প্রশ্নের উত্তর থাকলে দিন নইলে বলুন জানি না। খামাকা পীর সাহেবকে নিয়ে টানাটানি কেনো? পীর সাহেব বা তার মুরীদরা ভুল করলে তার জবাব আল্লাহ্‌র কাছে তারাই দিবেন।

    Malcolm X

    @ফারুক সাহেব , যেহেতু এটা মাসআলার ব্যাপার তাই আমি জানতে চাচ্ছি এটার সোর্স কোথায় , আর উনি সম্ভবত এগুলো ওনার পীর সাহেব থেকে নিয়ে ফতোয়া দিচ্ছেন । আর আমি যেহেতু ওনার পীর সাহেব সম্বন্ধে কিছুটা জানি তাই ওনার সাথে সম্পুর্ন ভদ্রতার সাথে আলোচনা করতে চাচ্ছি ।

    কেননা ওনার পীর সাহেব সম্বন্ধে যদি আমার ভুল ধারনা থাকে সেটা ওনার থেকে সংশোধন করে নিতে চাই ।

  10. (সূরা বাক্বারা ১৯৭)
    “হজ্জ্বে কয়েকটি মাস আছে সুবিদিত। এসব মাসে যে লোক হজ্জ্বের পরিপূর্ণ নিয়ত করবে, তার পক্ষে স্ত্রীও সাথে নিরাভরণ হওয়া জায়েজ নয়। না অশোভন কোন কাজ করা, না ঝাগড়া-বিবাদ করা হজ্জ্বের সেই সময় জায়েজ নয়। আর তোমরা যাকিছু সৎকাজ কর, আল্লাহ তো জানেন। আর তোমরা পাথেয় সাথে নিয়ে নাও। নিঃসন্দেহে সর্বোত্তম পাথেয় হচ্ছে আল্লাহর ভয়। আর আমাকে ভয় করতে থাক, হে বুদ্ধিমানগন! তোমাদের উপর তোমাদের পালনকর্তার অনুগ্রহ অন্বেষণ করায় কোন পাপ নেই।”

    আপনি যে বারে বারে বলছেন -“যে ব্যক্তির প্রতি হজ্জ ফরজ সে যেন হজ্জ পালন করতে গিয়ে নির্জনবাস ও তার সংশ্লিষ্ট কোন কাজ না করে” এগুলো কই পাইছেন?

    “আয়াত শরীফে স্পষ্টরূপে বলা হয়েছে যে, হজ্জ করতে গিয়ে যদি ঈমান ও আমলের নিরাপত্তা না থাকে তথা হজ্জ করতে গিয়ে যদি কাউকে হারাম ও কুফরী কাজ করতে হয় তাহলে তার উপর হজ্জ ফরজ থাকে না।” এটাও কই পাইছেন?

    তুষার খান

    فَمَن فَرَضَ فِيهِنَّ الْحَجَّ فَلاَ رَفَثَ وَلاَ فُسُوقَ وَلاَ جِدَالَ فِي الْحَجِّ
    এর বাংলা অর্থ হল- “যে ব্যক্তির প্রতি হজ্জ ফরজ সে যেন হজ্জ পালন করতে গিয়ে নির্জনবাস ও তার সংশ্লিষ্ট কোন কাজ না করে এবং কোন প্রকার ফাসিকী বা নাফরমানীমূলক কাজ না করা এবং ঝগড়া-বিবাদ না করে।” (সূরা বাক্বারা ১৯৭)

    উপরোক্ত আয়াত শরীফ থেকে এ কথা বুঝা যায় যে, হজ্জ করতে গিয়ে যদি ঈমান ও আমলের নিরাপত্তা না থাকে তথা হজ্জ করতে গিয়ে যদি কাউকে হারাম ও কুফরী কাজ করতে হয় তাহলে তার উপর হজ্জ ফরজ থাকে না।

    ফারুক

    @তুষার খান, Edip-Layth Pilgrimage in Four Months
    2:197 The Pilgrimage is in the four known months. So, whosoever decides to perform the Pilgrimage in them, then there shall be no sexual approach, nor vileness, nor quarreling in the Pilgrimage. Any good that you do, God is aware of it; and bring provisions for yourselves, though the best provision is awareness; and be conscientious of Me O you who possesses intelligence.56

    The Monotheist Group 2:197 The Pilgrimage months are made known. So whosoever decides to perform the Pilgrimage therein, then there shall be no sexual approach, nor vileness, nor baseless argument in the Pilgrimage. And any good that you do, God is aware of it; and bring provisions for yourselves, though the best provision is righteousness; and be aware of Me O people of understanding.

    Muhammad Asad 2:197 The pilgrimage shall take place in the months appointed for it.180 And whoever undertakes the pilgrimage in those [months] shall, while on pilgrimage, abstain from lewd speech, from all wicked conduct, and from quarrelling; and whatever good you may do, God is aware of it. And make provision for yourselves – but, verily, the best of all provisions is God-consciousness: remain, then, conscious of Me, O you who are endowed with insight!

    Rashad Khalifa The Four Months of Hajj (Dhul-Hijjah, Muharram, Safar, & Rabi I)
    2:197 Hajj shall be observed in the specified months36. Whoever sets out to observe Hajj shall refrain from sexual intercourse, misconduct, and arguments throughout Hajj. Whatever good you do, GOD is fully aware thereof. As you prepare your provisions for the journey, the best provision is righteousness. You shall observe Me, O you who possess intelligence.

    Shabbir Ahmed 2:197 The Convention shall take place in the months appointed for it and made well known to all. Whoever participates in the Convention shall refrain from sexual intimacy, slipping out of discipline and argumentation throughout Hajj. And whatever you accomplish for the good of mankind, God will acknowledge it. So make ample provision, yet the best provision is your good conduct. Be mindful of Me, O Men and women of understanding! 156

    Transliteration 2:197 Alhajju ashhurun maAAloomatunfaman farada feehinna alhajja fala rafathawala fusooqa wala jidala fee alhajjiwama tafAAaloo min khayrin yaAAlamhu Allahuwatazawwadoo fa-inna khayra alzzadi alttaqwawaittaqooni ya olee al-albabi

    A 2:197 الحج اشهر معلومت فمن فرض فيهن الحج فلا رفث ولا فسوق ولا جدال فى الحج وما تفعلوا من خير يعلمه الله وتزودوا فان خير الزاد التقوى واتقون ياولى الالبب

    আপনি যে অনুবাদ করলেন , তা তো কোথাও পেলাম না।

    উপরোক্ত আয়াত শরীফ থেকে এ কথা বুঝা যায় যে, হজ্জ করতে গিয়ে যদি ঈমান ও আমলের নিরাপত্তা না থাকে তথা হজ্জ করতে গিয়ে যদি কাউকে হারাম ও কুফরী কাজ করতে হয় তাহলে তার উপর হজ্জ ফরজ থাকে না।

    আপনার ইচ্ছা অনুযায়ী ব্যাখ্যা দেন নাকি কোরানের আয়াতের?

    তুষার খান

    @ফারুক >>> এখানে ঊল্লেখ্য যে সূরা বাক্বারার ১৯৭ নম্বর আয়াত শরীফ খানা সম্পূর্ণ ব্যবহার করা হয়নি বরং আয়াত শরীফের একটি অংশ এখানে উল্লেখ করা হয়েছে। উক্ত আয়াতাংশের অর্থ নিম্নরূপঃ
    “যে লোক হজ্জ্বের পরিপূর্ণ নিয়ত করবে (অর্থাৎ যার উপর হজ্জ ফরয হবে), তার পক্ষে স্ত্রীও সাথে নিরাভরণ হওয়া জায়েজ নয় (অর্থাৎ সে যেন নির্জনবাস ও তার সংশ্লিষ্ট কোন কাজ না করে)। না অশোভন কোন কাজ করা (অর্থাৎ কোন প্রকার ফাসিকী বা নাফরমানীমূলক কাজ না করে), না ঝাগড়া-বিবাদ করা (অর্থাৎ ঝগড়া-বিবাদ না করে) হজ্জ্বের সেই সময় জায়েজ নয়।”

    উপরে উল্লেখিত আয়াত শরীফে যে কাজগুলো (নির্জনবাস ও তার সংশ্লিষ্ট কোন কাজ,কোন প্রকার ফাসিকী বা নাফরমানীমূলক কাজ, ঝাগড়া-বিবাদ ইত্যাদি) আল্লাহ পাক-এর তরফ থেকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে (অর্থাৎ হারাম করা হয়েছে)। উক্ত নিষিদ্ধ কাজগুলো যদি হজ্জ করতে গিয়ে করতে বাধ্য হয় বা বাধ্য করা হয় বা করে তাহলে ঈমান ও আমলের নিরাপত্তা থাকেনা। তাই যেখানে ঈমান ও আমলের নিরাপত্তা নেই সেখানে কি করে হজ্জ থাকতে পারে?

    প্রসঙ্গে হাদীস শরীফে ইরশাদ হয়েছে, “আল্লাহ পাক-এর হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি কোন অন্যায় কাজ সংঘটিত হতে দেখে সে যেন তা হাত দ্বারা বাধা দেয়। যদি সে তা হাত দ্বারা বাধা দিতে না পারে তাহলে সে যেন জবান দ্বারা বাধা দেয়। যদি জবানের দ্বারা বাধা দিতে না পারে তাহলে যেন অন্তরে তা ঘৃণা করে দূরে সরে থাকে। আর এটাই সবচেয়ে দূর্বল ঈমানের পরিচয়। এরপর ঈমানের আর সরিষা পরিমাণ অবশিষ্ট নেই।” (মুসলিম শরীফ)
    অর্থাৎ ক্ষমতা থাকলে প্রথমতঃ শক্তি বা বল প্রয়োগ করে উপরোক্ত হারাম কাজগুলো জবরদস্তি করানো বন্ধ করতে হবে। দ্বিতীয়তঃ সেই ক্ষমতা যদি না থাকে তাহলে জবানে বা মুখে বলতে হবে বা জানিয়ে দিতে হবে যে, উপরোক্ত হারাম কাজগুলো করাতে পারবে না। তৃতীয়তঃ যদি জবানে বলার ক্ষমতা না থাকে তাহলে উপরোক্ত হারাম কাজগুলো থেকে দূরে সরে থাকতে হবে। আর এটা হচ্ছে একেবারে দূর্বল ঈমানদারের পরিচয়। এরপরে ঈমানের আর কোন স্তর নেই। অর্থাৎ যারা হাতেও বাধা দিবে না, জবানেও প্রতিবাদ করবে না এবং সে হারাম কাজকে অন্তরে খারাপ জেনে বিরত বা দূরেও সরে থাকবে না বরং তাতে জড়িত হবে হাদীস শরীফ মুতাবিক তাদের ঈমান নেই। তাহলে উপরোক্ত হারাম কাজগুলো করে হজ্জ করা কি করে ফরয থাকতে পারে?

    আশা করি, এবার আপনার বুঝতে সমস্যা হচ্ছে না যে, আমার এবং আপনার লেখা আয়াত শরীফ একই অর্থ বহন করে।