লগইন রেজিস্ট্রেশন

যামানার মুজাদ্দিদ ও ইমাম

লিখেছেন: ' তুষার (ﭡﺸر)' @ মঙ্গলবার, ডিসেম্বর ১, ২০০৯ (৬:৫৫ পূর্বাহ্ণ)

মহান আল্লাহ পাক মানব ও জ্বিন জাতির হিদায়েতের জন্য যমীনে হাদী পাঠান। এ প্রসঙ্গে কুরআন শরীফে ইরশাদ হয়েছে, “প্রত্যেক ক্বওমের জন্যই হাদী বা হিদায়েতকারী রয়েছে” (সূরা রা’দঃ ৭) তাই পৃথিবীতে একলক্ষ চব্বিশ হাজার মতান্তরে দুইলক্ষ চব্বিশ হাজার নবী-রসূল আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস সালাম হাদী হিসেবে আগমন করেছেন। সর্বশেষে আগমন করেছেন, আখেরী রসূল হাবীবুল্লাহ হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। তাঁর পর পৃথিবীতে আর কোন নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম আগমন করবেন না। তাই ছহীহ্ দ্বীন তথা শরীয়তের আক্বীদা ও আমল মানুষের নিকট পৌঁছে দেয়ার দায়িত্ব আল্লাহ পাক ন্যস্ত করেছেন হক্কানী আলিম তথা আউলিয়ায়ে কিরামগণের উপর। এ প্রসঙ্গে হাদীস শরীফে ইরশাদ হয়েছে, “আলিমগণ নবীগণের ওয়ারিছ বা উত্তরাধিকারী” (তিরমিযী, আবূ দাউদ, ইবনে মাযাহ্, আহমদ, মিশকাত)
যেহেতু হাদী হিসেবে নবীগণের ওয়ারিছদের আগমনের দরজা কেয়ামত পর্যন্ত খোলা রয়েছে, তাই হাদীস শরীফে ইরশাদ হয়েছে, “নিশ্চয়ই আল্লাহ পাক উম্মতে মুহম্মদীর জন্যে প্রত্যেক হিজরী শতকের শুরুতে একজন ব্যক্তিকে প্রেরণ করবেন, যিনি তাদের দ্বীন তথা শরীয়তের আক্বীদা ও আমলের তাজদীদ বা সংস্কার করবেন ।” (আবূ দাউদ, মিশকাত, দাইলামী) আর দ্বীন তথা শরীয়তের আক্বীদা ও আমলের তাজদীদ বা সংস্কার যিনি করেন তাঁকে মুজাদ্দিদ বলে।
মুজাদ্দিদের কাজ হলঃ
(১) ওলামায়ে হক্বদেরকে হক্ব পথে কায়েম থাকার জন্য সাহায্য করা এবং ওলামায়ে ‘ছূ’দের তথা দুনিয়াদার আলেমদের গোমরাহী হতে ফিরিয়ে কুরআন শরীফ, হাদীস শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস অনুযায়ী আমল করতে সাহায্য করা,
(২) বিদয়াত দূরীভূত করে সুন্নাহ্ প্রতিষ্ঠা করা,
(৩) মাসয়ালা-মাসায়েলের ক্ষেত্রে মানুষ হারাম কাজে লিপ্ত হলে তা হতে হালাল পথ প্রদর্শন করা,
(৪) খিলাফত প্রতিষ্ঠা ও পরিচালনার কোশেশ করা। ইত্যাদি

সুতরাং বলার অপেক্ষাই রাখেনা যে, মুজাদ্দিদগণের এ দুনিয়াতে আগমনের কারণ বা উদ্দেশ্য হল- সমাজে প্রচলিত যাবতীয় বদ ও কুফরী আক্বীদা, বিদয়াত-বেশরা ও শরীয়ত বিরোধী কুসংস্কারমুলক আমল সমুহের মুলউৎপাটন করা ও ছহীহ্ আক্বীদা ও সুন্নতের আমল সমুহে সকলকে অভ্যস্ত করে তোলা। একটি বিষয় উল্লেখ্য যে, প্রথম হিজরী শতক হচ্ছে হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহ তায়ালা আনহুমগণের যামানা। অতএব মুজাদ্দিদ্গণের আগমন শুরু হয়েছে দ্বিতীয় হিজরী শতক থেকে। মুজাদ্দিদগণের এ দুনিয়াতে আগমনের ধারাবাহিকতায় এ পর্যন্ত ১৩ জন মুজাদ্দিদ গত হয়েছেন। তাঁদের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি তুলে ধরা হলোঃ

১) হযরত ইমাম আবূ হানীফা রহমতুল্লাহি আলাইহিঃ তিনি দ্বিতীয় হিজরী শতকের মুজাদ্দিদ এবং সর্বশ্রেষ্ঠ মাযহাব হানাফী মাযহাবের ইমাম ও প্রতিষ্ঠাতা। তিনি একজন তাবেই। তাঁর প্রকৃত নাম নু’মান বিন সাবিত। তিনি প্রথমে হযরত ইমাম সাইয়্যিদ বাকির রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর হাতে বাইয়াত গ্রহণ করেন এবং উনার বিছাল শরীফের পর তাঁর পুত্র হযরত ইমাম সাইয়্যিদ জাফর সাদিক্ব রহমতুল্লাহি আলাইহি-র কাছে বাইয়াত হন। তিনি শায়খ বা মুর্শিদ ক্বিবলা হাতে বাইয়াত হওয়া সম্পর্কে বলেনঃ “(আমার জীবনে) যদি দু’টি বছর না আসতো, তবে নু’মান ধ্বংস হয়ে যেত।“ (সাইফুল মুক্বাল্লিদীন, ফতওয়ায়ে ছিদ্দীক্বিয়া) অর্থাৎ তিনি যদি তাঁর শায়খদ্বয় (রহমতুল্লাহি আলাইহিম)-এর নিকট বাইয়াত না হতেন, তবে তিনি ধ্বংস বা বিভ্রান্ত হয়ে যেতেন। তিনি ৮০ হিজরীতে বিলাদত শরীফ লাভ করেন এবং বিছাল শরীফ লাভ করেন ১৫০ হিজরীতে। হযরত আবূ হানীফা রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর ৪৮টিরও বেশী লক্বব মুবারক (উপাধী) ছিল, তার মধ্যে সবচেয়ে প্রণিধানযোগ্য লক্বব হচ্ছে ইমামে আ’যম, ইমামুল মুকাস্‌সিরীন ফিল হাদীস, ইমামুল কবীর ফিল ফিক্বাহ, ইমামুল হুমাম, ইমামুল আইম্মা, ইত্যাদি।

২) হযরত ইমাম আহমদ বিন হাম্বল রহমতুল্লাহি আলাইহিঃ তিনি তৃতীয় হিজরী শতকের মুজাদ্দিদ এবং হাম্বলী মাযহাবের ইমাম ও প্রতিষ্ঠাতা। তিনি শাফিয়ী মাযহাবের ইমাম ও প্রতিষ্ঠাতা হযরত ইমাম শাফিয়ী রহমতুল্লাহি আলাইহি-র কাছে বাইয়াত হয়ে তাঁর কাছ থেকে ইলমে ফিক্বাহ ও ইলমে তাছাউফ শিক্ষা করেন। এছাড়া হযরত আবূ হামযাহ্‌ রহমতুল্লাহি আলাইহি-র কাছ থেকেও তিনি ইলমে তাছাউফের নিসবত হাছিল করেন। তাঁর উল্লেখযোগ্য তাজদীদসমূহের দু’টি নিম্নরূপ- ১) “লাইলাতুল রগাইব” অর্থাৎ রজব মাসের পহেলা জুমুয়ার রাত্র, যে রাত্রে সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, তাঁর আব্বার পিঠ মুবারক থেকে আম্মার রেহেম শরীফে তাশরীফ এনেছেন, সে রাত্রের মর্যাদা ও ফযীলত শবে বরাত ও শবে ক্বদর থেকেও বেশী। ২) সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সুন্নতের উপর আমল করা ফরজ। তাঁর পবিত্র জীবন মুবারকের ব্যাপ্তীকাল ১৬৪ হিজরী থেকে ২৪১ হিজরী।

৩) হযরত ইমাম আবুল মানসুর মাতুরিদী রহমতুল্লাহি আলাইহিঃ তিনি চতুর্থ হিজরী শতকের মুজাদ্দিদ এবং তিনি হানাফী মাযহাবের মুকাল্লিদ ও মুজতাহিদ ছিলেন। তিনি আহ্‌লে সুন্নত ওয়াল জামায়াতের প্রতিটি বিষয়ের শুদ্ধ আক্বীদা নিরুপণ করেন তাই তাঁকে আক্বাঈদ শাস্ত্রের ইমাম বলা হয়। তাঁর পবিত্র জীবন মুবারকের ব্যাপ্তীকাল ২৭০ (মতান্তরে ২৭১) হিজরী থেকে ৩৩৩ হিজরী।

৪) হযরত ইমাম মুহম্মদ আবূ হামিদ গাজ্জালী রহমতুল্লাহি আলাইহিঃ তিনি পঞ্চম হিজরী শতকের মুজাদ্দিদ ছিলেন। তিনি শাফিয়ী মাযহাবের অনুসারী ছিলেন। তিনি হযরত আবূ আলী ফারমুদী রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর হাতে বাইয়াত হন। তিনি তাঁর যামানার সকল মুসলমানকে গ্রীক দর্শন হতে ফিরিয়ে ইসলামের দিকে নিয়ে আসেন, তাই তিনি “হুজ্জাতুল ইসলাম”(অর্থাৎ ইসলামের দলীল ) লক্বব মুবারকে ভুষিত হন। তাঁর আর একটি উল্লেখযোগ্য তাজদীদ হচ্ছে- চার মাযহাবের যে কোন এক মাযহাব অনুসরণ করা ফরজ। তিনি ইলমে তাছাউফের উপর অনেক গুরুত্বপূর্ণ কিতাব রচনা করেন তার মধ্যে দু’টি কিতাব হলো- ইহ্‌ইয়াউ উলূমিদ্দীন ও ক্বিমিয়ায়ে সায়াদাত। তিনি ৪৫০ হিজরীতে বিলাদত শরীফ লাভ করেন এবং ৫০৫ হিজরীতে বিছাল শরীফ লাভ করেন।

৫) হযরত ইমাম সাইয়্যিদ আব্দুল ক্বাদির জিলানী রহমতুল্লাহি আলাইহিঃ তিনি ষষ্ঠ হিজরী শতকের মুজাদ্দিদ ছিলেন। তিনি ছিলেন হাম্বলী মাযহাবের অনুসারী এবং ক্বাদরিয়া ত্বরীকার ইমাম ও প্রতিষ্ঠাতা। তিনি হচ্ছেন সাইয়্যিদ অর্থাৎ সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর বংশধর। তিনি ইলমে ফিক্বাহ্‌ হাছিলের পর ইলমে তাছাউফ হাছিল করার জন্য হযরত আবূ সাঈদ মুবারক মখদূমী রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর মুরীদ হন এবং ইরাকের জঙ্গলে ২৫ বছর যাবত সাধনা করে পূর্ণতায় পৌছেন। তিনি তাঁর যামানার সকল মুসলমানকে যাবতীয় বদ ও কুফরী আক্বীদা, বিদয়াত-বেশরা ও শরীয়ত বিরোধী কুসংস্কারমুলক আমল হতে ফিরিয়ে ইসলামের দিকে অর্থাৎ আল্লাহ পাকের মারিফাত-মুহব্বতের দিকে আনার জন্য একটি ত্বরীকা বা পথ দেখান যা ক্বাদরিয়া ত্বরীকা নামে সুপরিচিত, আর তাই তিনি আল্লাহ্‌ পাকের তরফ হতে “মুহিউদ্দীন”(ইসলাম জিন্দাকারী) লক্বব মুবারক প্রাপ্ত হন। তাঁর ৫১টিরও বেশী লক্বব মুবারকের মধ্যে মাহবুবে সুবহানী, কুতুবে রব্বানী, গাউছুল আ’যম, পীরানে পীর, দস্তগীর ইত্যাদি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। তিনি তাঁর রচিত গুনিয়াত্ত্বলিবিন কিতাবে ৭২টি বাতিল ফিরক্বার আক্বীদা বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করেন, যা তাঁর একটি অনবদ্য তাজদীদ। তিনি ৪৭১ হিজরীতে ইরানের জিলানে বিলাদত শরীফ লাভ করেন এবং ৫৫৯ হিজরীতে ইরাকের বাগদাদে বিছাল শরীফ লাভ করেন। বাগদাদ শরীফেই তাঁর মাযার শরীফ অবস্থিত।

৬) হযরত ইমাম সাইয়্যিদ মুঈনুদ্দীন চিশতী আজমেরী রহমতুল্লাহি আলাইহিঃ তিনি সপ্তম হিজরী শতকের মুজাদ্দিদ ছিলেন। তিনি ছিলেন হানাফী মাযহাবের অনুসারী এবং চিশতীয়া ত্বরীকার ইমাম ও প্রতিষ্ঠাতা। তিনিও সাইয়্যিদ ছিলেন। তাঁর পীর সাহেব ক্বিবলার নাম হচ্ছে হযরত খাজা উছমান হারূনী রহমতুল্লাহি আলাইহি। তিনি তাঁর শায়খের ২০ বছর যাবত খেদমতের আঞ্জাম দেন এবং তাঁর কাছ থেকে কামালত হাছিল করেন। তাঁর উসীলায় পাক-ভারত উপমহাদেশে প্রায় ১ কোটিরও বেশী লোক তাঁর হাতে বাইয়াত হয়ে ইসলাম গ্রহন করেন, তাই সত্যই তিনি “মুঈনুদ্দীন” অর্থাৎ ইসলামের সাহায্যকারী। তিনি আল্লাহ পাকের বান্দদেরকে ও রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের উম্মতদেরকে উনাদের মারিফাত-মুহব্বত হাছিলের জন্য যে ত্বরীকা দিয়ে যান তা চিশতীয়া ত্বরীকা নামে সুপ্রসিদ্ধ। তিনি সুন্নতের এত বেশী অনুসরণ-অনুকরন করতেন, যার ফলশ্রুতিতে বিছাল শরীফের সময় তাঁর কপাল মুবারকে সোনালী অক্ষরে লিখিত হয় “হা-যা হাবীবুল্লাহ মা-তা ফী হুব্বিল্লাহ” অর্থাৎ ইনি আল্লাহ পাকের হাবীব (বন্ধু), আল্লাহ পাকের মুহব্বতে বিছাল শরীফ লাভ করেছেন। তিনি ৫৩৬ হিজরীতে বিলাদত শরীফ লাভ করেন এবং ৬৩৩ হিজরীতে ভারতের আজমীর শরীফে বিছাল শরীফ লাভ করেন, সেখানেই তাঁর মাযার শরীফ রয়েছে। তাঁর ৮২টিরও বেশী লক্বব মুবারক রয়েছে, তারমধ্যে হাবীবুল্লাহ, সুলতানুল হিন্দ, কুতুবুল মাশায়েখুল বাররে ওয়াল বাহ্‌র, গরীবে নেওয়াজ, খাজায়ে খাজেগাঁ ইত্যাদি বিশেষভাবে প্রণিধাণযোগ্য।

৭) হযরত ইমাম নিযামুদ্দীন আউলিয়া রহমতুল্লাহি আলাইহিঃ তিনি অষ্টম হিজরী শতকের মুজাদ্দিদ ছিলেন। তাঁর প্রকৃত নাম মুহম্মদ বিন আহমদ বিন আলী বুখারী। তিনি হযরত খাজা বাবা ফরীদুদ্দীন মাসুদ গঞ্জে শকর রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর হাতে বাইয়াত হন এবং তাঁর কাছে ইলমে ফিক্বাহ ও ইলমে তাছাউফ শিক্ষা করেন। তিনি ছিলেন হানাফী মাযহাব এবং চিশতীয়া ত্বরীকার অনুসারী। তিনি সামার মাহ্‌ফিল (বাদ্যযন্ত্র, মহিলা, রাগ-রাগিনী তথা অনৈসলামী সূর ব্যতীত ও আরো শর্ত সাপেক্ষে আল্লাহ পাকের দিকে আহ্বান সম্বলিত শব্দ দ্বারা রচিত এবং আল্লাহ্‌ওয়ালা ব্যক্তি দ্বারা ক্বাসিদা পাঠকে সামা বলে) খুব পছন্দ করতেন। তাঁর লক্বব মুবারকের মধ্যে কয়েকটি হচ্ছে- মাহবুবে ইলাহী, সুলতানুল মাশায়িখ, নিযামুদ্দীন আউলিয়া ইত্যাদি। তিনি ৬৬০ হিজরীতে বাদায়্যূনে বিলাদত শরীফ লাভ করেন এবং ৭৪৫ হিজরীতে দিল্লীতে বিছাল শরীফ লাভ করেন, সেখানেই তাঁর মাযার শরীফ রয়েছে।

৮) হযরত ইমাম খাজা বাহাউদ্দিন নকশবন্দ বুখারী রহমতুল্লাহি আলাইহিঃ তিনি নবম হিজরী শতকের মুজাদ্দিদ ছিলেন। তিনি ছিলেন হানাফী মাযহাবের অনুসারী এবং নকশবন্দীয়া ত্বরীকার ইমাম ও প্রতিষ্ঠাতা। তিনি হযরত সাইয়্যিদ আমীর কূলাল রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর মুরীদ ছিলেন। তিনি মুসলমানদেরকে আল্লাহ পাক ও তাঁর হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মারিফাত-মুহব্বত হাছিলের জন্য যে ত্বরীকা দিয়ে যান তা নকশবন্দীয়া ত্বরীকা নামে সুপরিচিত। তিনি ৭২৮ হিজরীতে বিলাদত শরীফ লাভ করেন এবং তাঁর বিছাল শরীফ হয় ৮০৮ হিজরীতে (মতান্তরে ৭৯১ হিজরীতে)।

৯) হযরত ইমাম জালালুদ্দীন সূয়ূতী রহমতুল্লাহি আলাইহিঃ তিনি দশম হিজরী শতকের মুজাদ্দিদ ছিলেন। আফ্রীকার সুয়ূত অঞ্চলে তিনি তাঁর তাজদীদের কাজ করেন। তিনি ছিলেন শাফিয়ী মাযহাবের অনুসারী। মুজাদ্দিদগণের মধ্যে তিনিই সবচেয়ে বেশী কিতাব রচনা করেন, “তাফসীরে জালালাইন” তাঁর রচিত কিতাবগুলোর মধ্যে একটি। তাঁর পবিত্র জীবন মুবারকের ব্যাপ্তীকাল ৮৪৯ হিজরী থেকে ৯১১ হিজরী পর্যন্ত।

১০) হযরত ইমাম শায়খ আহমদ ফারুক্বী সিরহিন্দী রহমতুল্লাহি আলাইহিঃ তিনি একাদশ হিজরী শতকের মুজাদ্দিদ ছিলেন। যেহেতু তিনি দ্বিতীয় হিজরী সহস্রাব্দে আভির্ভূত হন, তাই হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁকে “মুজাদ্দিদে আলফে ছানী” (দ্বিতীয় সহস্রাব্দের মুজাদ্দিদ) লক্বব প্রদান করেন। তিনি ছিলেন হানাফী মাযহাবের অনুসারী এবং নকশবন্দীয়া-ই-মুজাদ্দিদীয়া ত্বরীকার ইমাম ও প্রতিষ্ঠাতা। তিনি হযরত খাজা বাক্বীবিল্লাহ রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর নিকট বাইয়াত হয়ে ইলমে তাছাউফের তাক্বমিলে পৌছে খিলাফত প্রাপ্ত হন। তাঁর সম্পর্কে হাদীস শরীফে এসেছেঃ “হিজরী একাদশ শতকের প্রারম্ভে আল্লাহ পাক এমন এক ব্যক্তিকে প্রেরণ করবেন যিনি একটি বৃহৎ নূর, তাঁর নাম হবে আমার নামের অনুরূপ, দুই অত্যাচারী বাদশাহ্‌র মধ্যবর্তী সময়ে তিনি আবির্ভূত হবেন এবং তাঁর শাফায়াতে অসংখ্য লোক বেহেশতে প্রবেশ করবে।“ (জামউল জাওয়াম) সত্যিই তিনি ৯৭১ হিজরীতে ভারতের সিরহিন্দে বিলাদত শরীফ লাভ করেন এবং বাদশাহ আকবর কতৃক উদ্ভাবিত “দ্বীন-ই-ইলাহী” নামক কুফুরী মতবাদের মুলউৎপাটন করে ছহীহ্‌ দ্বীন তথা “দ্বীন ইসলাম”কে জিন্দা করেন। তিনিও পূর্ববর্তী সকল আউলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিমগণের মতো সুন্নতের সূক্ষাতিসূক্ষ অনুসরণ-অনুকরণ করতেন, যার ফলশ্রুতিতে আল্লাহ পাক তাঁকে গায়ের এখতিয়ার সুন্নতও (স্বীয় ইচ্ছা-ক্ষমতার বাইরে যে সুন্নত) পালন করিয়েছেন। যেমন তিনি ৬৩ বছর (যা হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর দুনিয়াবী হায়াত মুবারক) বয়স মুবারকে ১০৩৪ হিজরীতে সিরহিন্দে বিছাল শরীফ লাভ করেন। তিনি ইসলামের দ্বিতীয় খলীফা হযরত উমর ফারুক্ব রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু-এর বংশধর ছিলেন এবং তরীক্বার নিসবতের দিক দিয়ে আফদ্বালুন নাছ বা’দাল আম্বিয়া হযরত আবু বকর ছিদ্দীক্ব রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু-এর সাথে সম্পর্কযুক্ত। তাঁর ২৪টিরও বেশী লক্বব মুবারকের মধ্যে প্রণিধাণযোগ্য লক্বব মুবারক হচ্ছে- ইমামে রব্বানী, আফদ্বালুল আউলিয়া, ক্বাইয়্যুমে আউয়াল, নূরূন আযীম, সিরাজুল উম্মত, মুসলিহাম বাইনাল ফিআতাইন ইত্যাদি।

১১) হযরত ইমাম শাহ ওয়ালীউল্লাহ মুহাদ্দিছ দেহলভী রহমতুল্লাহি আলাইহিঃ তিনি দ্বাদশ হিজরী শতকের মুজাদ্দিদ ছিলেন। তিনি হানাফী মাযহাবের অনুসারী ছিলেন এবং চার ত্বরীকায় বাইয়াত করাতেন। তিনি হযরত আব্দুর রহীম মুহাদ্দিছ দেহলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর হাতে বাইয়াত হন। তিনি ১১১৪ হিজরীতে বিলাদত শরীফ লাভ করেন এবং ১১৭৬ হিজরীতে আল্লাহ্‌ পাকের সান্নিধ্যে চলে যান। তাঁর উল্লেখযোগ্য লক্বব মুবারকের মধ্যে কয়েকটি লক্বব হলো ইমামুল হিন্দ, আরিফুর রব্বানী, হুজ্জাতুল ইসলাম ইত্যাদি।

১২) হযরত ইমাম সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি: তিনি ত্রয়োদশ হিজরী শতকের মুজাদ্দিদ ছিলেন। তিনি ছিলেন হানাফী মাযহাবের অনুসারী এবং চার ত্বরীকার নিসবত প্রাপ্ত ও মুহম্মদীয়া ত্বরীকার ইমাম। তিনিই এখন পর্যন্ত একমাত্র মুজাদ্দিদ যিনি “জিহাদ ফি সাবিলিল্লাহ”-এর জন্য বালাকোটে শহীদ হন এবং যাঁর স্বহস্তে লিখিত কোন কিতাব নেই। বালাকোটে শহীদ হওয়ার পূর্বে তিনি হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বিভিন্ন সুন্নত জিন্দা করেন। তিনি ১২০১ হিজরীতে ভারতের উত্তর প্রদেশের রায় বেরেলী শহরের বিখ্যাত সম্ভ্রান্ত সাইয়্যিদ পরিবারে বিলাদত শরীফ লাভ করেন এবং ১২৪৬ হিজরীতে বালাকোট প্রান্তরে শহীদ হন। তাঁর পীর সাহেব ক্বিবলা ছিলেন হযরত আব্দুল আযীয মুহাদ্দিছ দেহলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি। তাঁর উল্লেখযোগ্য লক্বব মুবারক হচ্ছে ছাহিবু ইলমে লাদুন্নী, মুজাহিদে আ’যম, আমিরুল মু’মিনীন, শহীদে বালাকোট ইত্যাদি।

১৩) হযরত ইমাম আবূ বকর ছিদ্দিক্বী ফুরফুরাবী রহমতুল্লাহি আলাইহিঃ তিনি গত শতাব্দীর অর্থাৎ চতুর্দশ হিজরী শতকের মুজাদ্দিদ ছিলেন। তিনি ছিলেন হানাফী মাযহাবের অনুসারী এবং চার ত্বরীকার নিসবত প্রাপ্ত। তিনি হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর বহু সুন্নতকে মুসলমানের মাঝে জিন্দা করে গেছেন। তিনি ১২৩৬ হিজরীতে বিলাদত শরীফ লাভ করেন এবং ১৩৫৮ হিজরীতে বিছাল শরীফ লাভ করেন। তিনি হযরত শাহ ফতেহ আলী বর্ধমানী রহমতুল্লাহি আলাইহি হতে খিলাফত প্রাপ্ত ছিলেন। তাঁর ৪১টির বেশী লক্বব মুবারকের মধ্যে উল্লেখযোগ্য লক্বব মুবারকগুলো হলো রঈসূল মুহাদ্দিসীন, তাজুল মুফাস্‌সিরীন, ইমামুল মুসলিমীন, ক্বাইয়্যুমুয্‌ যামান, মুজাদ্দিদে মিল্লাত ইত্যাদি।

যিনি বর্তমান পঞ্চদশ হিজরী শতাব্দীর মুজাদ্দিদ তিনি হচ্ছেন খলীফাতুল্লাহ, খলীফাতু রসূলিল্লাহ, ইমামুশ শরীয়ত ওয়াত তরীক্বত, ইমামুল আইম্মাহ, মুহ্‌ইস সুন্নাহ, কুতুবুল আলম, মুজাদ্দিদে আ’যম, হুজ্জাতুল ইসলাম, ছাহিবু সুলত্বানিন নাছীর, আওলাদে রসূল, মাওলানা হযরত ইমাম সাইয়্যিদ মুহম্মদ দিল্লুর রহমান আল হাসানী ওয়াল হুসাইনী ওয়াল কুরাঈশী (মুদ্দা জিল্লুহুল আলী) রাজারবাগ শরীফ, ঢাকা। তিনি তাঁর সম্মানিত মাতা-পিতা উভয় দিক হতে সাইয়্যিদ অর্থাৎ সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খতমুন্‌ নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর বংশধর। তিনি সারাবিশ্বে সমাদৃত, প্রশংসিত, গ্রহণযোগ্য ও হক্ব সিলসিলা ফুরফুরা সিলসিলার পীর সাহেব ক্বিবলা হযরত মাওলানা শাহ ছূফী আবুল খায়ের মুহম্মদ ওয়াজীহুল্লাহ নানুপূরী (যাত্রাবাড়ির হযরত পীর ছাহেব ক্বিবলা) রহমতুল্লাহি আলাইহি হাতে বাইয়াত হয়ে মাত্র দেড় বছরে চার তরীক্বায় পূর্ণতাপ্রাপ্ত হন এবং স্বীয় মুর্শিদ ক্বিবলার চূড়ান্ত সন্তুষ্টি হাছিল করে খিলাফত প্রাপ্ত হন। তিনি বহুল প্রচারিত, হক্বের অতন্দ্র প্রহরী, বাতিলের আতংক, আহ্‌লে সুন্নত ওয়াল জামায়াতের আক্বীদায় বিশ্বাসী ও হানাফী মাযহাবের অনুসরণে প্রকাশিত একমাত্র দলীল ভিত্তিক মূখপত্র “মাসিক আল বাইয়্যিনাত” এবং পৃথিবীর প্রায় সমস্ত দেশ ও সমস্ত শহর থেকে পঠিত “দৈনিক আল ইহসান”–এর প্রতিষ্ঠাতা ও পৃষ্ঠপোষক। তিনি তাঁর পৃষ্ঠপোষকতায় প্রকাশিত “মাসিক আল বাইয়্যিনাত” এবং “দৈনিক আল ইহসান”–এর মাধ্যমে বিশ্বের মুসলমানদেরকে ছহীহ্‌ আক্বীদা ও সুন্নতের আমলে অভ্যস্ত করার লক্ষ্যে তাঁর তাজদীদী কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। তাঁর অনবদ্য তাজদীদগুলো সংক্ষিপ্তভাবে নিম্নরূপঃ
১) সকল প্রকার তন্ত্র-মন্ত্র ও মতবাদ (যেমন গণতন্ত্র/লিংকনবাদ, মার্ক্সবাদ, ল্যালিনবাদ, নাস্তিক্যবাদ, সমাজতন্ত্র, রাজতন্ত্র ইত্যাদি)-এর মূলৎপাটন করে ইসলামী খিলাফত কায়েম করা।
২) ভোট, নির্বাচন, হরতাল, অবরোধ, লংমার্চ, ছবি সংক্রান্ত সকল ফিতনা (ছবি তোলা, আঁকা, রাখা, টেলিভিশনে ইসলামী, অনৈসলামী প্রোগ্রাম করা ইত্যাদি), সকল প্রকার গান-বাজনা, বাদ্যযন্ত্র, মুর্তি ইত্যাদি হারাম থেকে মুসলমানদেরকে ফিরিয়ে রাখা।
৩) মুসলমানদেরকে সকল প্রকার বিজাতীয়-বিধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান (যেমন পহেলা বৈশাখ, থার্টি ফাস্ট নাইট, হিজরী নববর্ষ, ভ্যালেন্সটাইন ডে, ফার্স্ট এপ্রিল, মে ডে, ফাদার্স ডে, মাদার্স ডে, ফ্রেন্ডস ডে ইত্যাদি) থেকে ফিরিয়ে ইসলামী পর্বগুলো (যেমন আশুরা, আখেরী চাহার শোম্বাহ, ঈদে মীলাদুন্নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ফাতিহা ইয়াজদাহম, পহেলা রজবের রাত্রি, লাইলাতুল রগায়িব, লাইলাতুল মিরাজ, লাইলাতুম মুবারাকা/লাইলাতুল নিসফে মিন শাবান অর্থাৎ শবে বরাত, লাইলাতুল ক্বদর/শবে ক্বদর, লাইলাতুল ঈদাইন/দুই ঈদের রাত্রি ইত্যাদি) পালনে অভ্যস্ত করে তোলা।
৪) উম্মতে মুহম্মদীকে সকল বিদায়াত-বেশরা কাজ থেকে ফিরিয়ে সুন্নতের আমলে অভ্যস্ত করা।
৫) ইহুদী-নাছারা তথা সকল বিধর্মী এবং উলামায়ে ‘ছূ’দের তথা দুনিয়াদার আলেমদের সমস্ত ঈমান বিধ্বংসী নীল নকশাকে মুসলমানদের কাছে ফাঁস করে দেয়া। ইত্যাদি

মুজাদ্দিদগণ প্রত্যেকে তাঁদের স্ব স্ব যামানার ইমাম ও মুজতাহিদ হন। আর যামানার ইমাম প্রসঙ্গে সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, “যে ব্যক্তি তার যামানার ইমামকে চিনলো না সে জাহিলিয়াতের মৃত্যূর ন্যায় মৃত্যূবরণ করলো।” (মুসলিম শরীফ, আক্বঈদে নাসায়ী) আর যামানার ইমাম তথা ওলীআল্লাহগণের বিরোধিতা প্রসঙ্গে হাদীসে কুদসী শরীফে ইরশাদ হয়েছে, “যে ব্যক্তি কোন ওলীআল্লাহর সঙ্গে বিদ্বেষ পোষণ করে স্বয়ং আমি (আল্লাহ পাক) তার সঙ্গে জিহাদ ঘোষণা করি।” (বুখারী শরীফ) এছাড়া ওলীআল্লাহগণ সম্পর্কে আল্লাহ পাক কুরআন শরীফে ইরশাদ করেন, “সাবধান! নিশ্চয়ই যারা আল্লাহ পাকের ওলী তাদের কোন ভয় নেই এবং চিন্তা-পেরেশানীও নেই।” (সূরা ইউনূছঃ ৬২)

সুতরাং আমরা যেন সকলে যামানার ইমামকে চিনতে পারি এবং তাঁর হাতে বাইয়াত হয়ে সমাজে প্রচলিত যাবতীয় বদ ও কুফরী আক্বীদা, বিদয়াত-বেশরা ও শরীয়ত বিরোধী কুসংস্কারমুলক আমল সমুহ হতে তওবা করে, ছহীহ্ আক্বীদা ও সুন্নতের আমল সমুহে অভ্যস্ত হওয়ার মাধ্যমে আল্লাহ পাক ও তাঁর হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর হাক্বীক্বী মুহব্বত-মারিফাত হাছিল করতে পারি এবং নাযাত লাভ করতে পারি, আল্লাহ পাক আমাদের সেই তৌফিক দান করেন। (আমীন)
বিস্তারিত তথ্যের জন্য যোগাযোগ করুন- মুহম্মদিয়া জামিয়া শরীফ, ৫নং আউটার সার্কুলার রোড, রাজারবাগ শরীফ, ঢাকা-১২১৭।

Processing your request, Please wait....
  • Print this article!
  • Digg
  • Sphinn
  • del.icio.us
  • Facebook
  • Mixx
  • Google Bookmarks
  • LinkaGoGo
  • MSN Reporter
  • Twitter
২,৫৫৫ বার পঠিত
1 Star2 Stars3 Stars4 Stars5 Stars ( ভোট, গড়:০.০০)

৫৮ টি মন্তব্য

  1. টাইটেলতো বিশাল লম্বা, কিন্তু আসল নাম দেখি দিল্লুর রহমান। এ আবার কেমন নামরে বাবা !! ‘দিল্লুর’ মানে কী ?

    তুষার খান

    @মুসলিম >>> লক্বব ব্যবহার করা হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সুন্নত। নিচের লিংকগুলো পড়ুন

    লক্বব ব্যবহার করা সুন্নত

    হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর লক্বব মুবারক

    “দিল্লুর” শব্দের অর্থ “শান্তি প্রাপ্ত, উত্তম চরিত্রের অধিকারী”

  2. দারুন একখান পোষ্ট। অনেক কিছু শিখতে পারলাম। কিন্তু শেষ দিকটায় এসে ভালো লাগলোনা। আমি যতদুর জানি রাজারবাগ পীর হলো একজন “ভন্ড”। আল্লাহ পাক আপনাকে হেদায়াত দান করুক। আপনার জন্য দোয়া রইলো। আল্লাহ হাফেজ।

    তুষার খান

    @দ্য মুসলিম >>> আপনার মত অনেকেই তথা উলামায়ে ছূ’রা পূর্ববর্তী ১৩ জন মুজাদ্দিদেরও বিরোধীতা করেছে। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, প্রথম মুজাদ্দিদ ইমামে আযম আবু হানীফা রহ্‌মতুল্লাহি আলাইহি সম্পর্কে মিথ্যা অভিযোগ করা হয়েছিল যে, তিনি ইসলামকে খন্ড-বিখন্ড করে দিয়েছেন। ইসলামে তাঁর অপেক্ষা সমাধিক মনহুছ (কুলক্ষণ বিশিষ্ট) কেউ পয়দা হয়নি।
    মু’তাজিলা মাহমুদ গাজ্জালী বলেছে, হযরত ইমাম আবু হানীফা রহ্‌মতুল্লাহি আলাইহি শরীয়তকে উল্টিয়ে তার বাহিরকে ভিতর ও ভিতরকে বাহির করে দিয়েছেন, শরীয়তের পথ বিক্ষিপ্ত করে দিয়েছেন এবং শরীয়তের কমরবন্দ কেটে দিয়েছেন।
    উল্লেখ্য যে, হযরত ইমাম আবু হানীফা রহ্‌মতুল্লাহি আলাইহিকে মরজিয়া বলেও অভিহিত করা হত। (শরহে মাওয়াকিফ)
    আল্লামা হাফিয ইবনে আব্দুল বার তাঁর “মোখতাদার জামায়েল ইলম” কিতাবে লিখেছেন, “লোকেরা হযরত ইমাম আবু হানীফা রহ্‌মতুল্লাহি আলাইহি-এর প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করত, তাঁর মধ্যে যা কিছু নেই, তাঁর উপর সে কথা আরোপ করত এবং তাঁর পক্ষে যা সঙ্গত নয়, এরূপ বিষয়ের মিথ্যা দোষারোপ বা তোহমত তাঁর প্রতি করা হত।”
    এই ধারাবাহিকতায় উলামায়ে ছূ’রা বিরোধীতা করেছে ইমাম আহমদ বিন হাম্বল রহ্‌মতুল্লাহি আলাইহি-এর। মুতাজিলা ফিরক্বাহ লোকেরা ইমাম আহমদ বিন হাম্বল রহ্‌মতুল্লাহি আলাইহিকে তাদের মনগড়া মতবাদ “কুরআন শরীফ আল্লাহ পাকের সৃষ্ট বস্তু বা মাখলুক” না মানার কারণে হাত-পা ভেঙ্গে ফেলে।
    একই ভাবে উলামায়ে ছূ’রা হযরত ইমাম গাজ্জালী রহ্‌মতুল্লাহি আলাইহি-এর বিরোধীতা করেছে। এমনকি তাঁর লিখিত মহামূল্যবান কিতাবগুলো পর্যন্ত পুড়িয়ে দিয়েছে।
    উলামায়ে ছূ’রা বিরোধীতা করেছে গাউছুল আ’যম, মাহবুবে সুবহানী, কুতুববে রব্বানী, হযরত বড়পীর ছাহেব আব্দুল ক্বাদির জিলানী রহ্‌মতুল্লাহি আলাইহি-এর।
    বিরোধীতা করেছে সুলতানুল হিন্দ, গরীবে নেওয়াজ, খাজা মুঈনুদ্দীন চিশ্‌তী রহ্‌মতুল্লাহি আলাইহি-এর।
    উলামায়ে ছূ’রা বিরোধীতা করেছে মুজাদ্দিদে আলফে ছানী রহ্‌মতুল্লাহি আলাইহি-এর। সে যামানার উলামায়ে ছূ আবূল ফযল, ফৈজী, মোল্লা মুবারক নাগরী এবং অনুসারীরা তাদের ধর্ম ব্যবসা ভিত্তিক অস্তিত্বকে টিকিয়ে রাখার জন্য মুজাদ্দিদে আলফে ছানী রহ্‌মতুল্লাহি আলাইহি-এর প্রতি বাদশা ও জনগণকে ক্ষেপিয়ে তোলার উদ্দেশ্যে তাঁর অনেক বক্তব্যকে কাটছাঁট করে এবং অপব্যাখ্যা করে বাদশা ও জনগণের সামনে উপস্থাপন করে। পরবর্তীতে মুজাদ্দিদে আলফে ছানী রহ্‌মতুল্লাহি আলাইহিকে বাদশা জাহাঙ্গীর কয়েদ করার হুকুম জারি করে গোয়ালিয়র দুর্গে প্রেরণ করে।
    হযরত ইমাম শাহ ওয়ালীউল্লাহ মুহাদ্দিছ দেহলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর সময় বৃটিশ শাসকরা এ উপমহাদেশ শোষণ করেছিল এবং উলামায়ে ছূ’দের মাধ্যমে মুসলামদের বিভ্রান্ত করতে থাকে। এমতবস্থায় হযরত ইমাম শাহ ওয়ালীউল্লাহ মুহাদ্দিছ দেহলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি মুসলমানদের বিভ্রান্ত হওয়া থেকে মুক্ত রাখার জন্য কুরআন শরীফ-এর ফার্সী (সে সময় এই উপমহাদেশের ভাষা ছিল ফার্সী) অনুবাদ শুরু করেন। আর তাই উক্ত উলামায়ে ছূ’রদল তাঁর হাত ভেঙ্গে ফেলে।
    হযরত ইমাম সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর সময় মানুষকে ইসলামের দিকে আনার চেষ্টা করেছেন কিন্তু উলামায়ে ছু’দের স্বার্থে ব্যাঘাত ঘটায় তারা মুসলামান হয়েও মুনাফিকী করে শিখদের সাথে নিয়ে গোপন ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়। পরবর্তীতে তিনি বালাকোর্টের ময়দানে জিহাদ করতে গিয়ে মুনাফিকদের ষড়যন্ত্রে শহীদ হন।
    এই ধারাবাহিকতায় গত শতকের মুজাদ্দিদ হযরত ইমাম আবূ বকর ছিদ্দিক্বী ফুরফুরাবী রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর বিরোধীতা করা হয়েছে।
    বস্তুত হক্ব-নাহক্বের এই দ্বন্দ্ব অর্থাৎ না-হক্ব কর্তৃক হক্বের বিরোধীতা ও মিথ্যাচারিতা নতুন কোন বিষয় নয়, বরং হক্ব-নাহক্বের এ দ্বন্দ্ব প্রথম নবী ও রসূল হযরত আদম আলাইহিস সালাম-এর সময় থেকেই চলে আসছে। দাজ্জালে কায্‌যাবদের অগ্রণী মালউন, গোমরাহ ও চির জাহান্নামী ইবলিসই এ বিরোধীতার প্রবর্তক।
    আমরা দেখতে পাই হযরত আদম আলাইহিস সালাম থেকে শুরু করে আখিরী রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামসহ প্রায় এক লক্ষ চব্বিশ হাজার মতান্তরে দুই লক্ষ চব্বিশ হাজার নবী ও রসূল আলাইহিমুস সালামগণের প্রত্যেকেরই বিরোধীতা করেছে এ ইবলিস শয়তানের অনুসারী ও গোলাম দাজ্জালে কায্‌যাবরা। শুধু তাই নয় তারা প্রায় সত্তর হাজার নবী আলাইহিমুস সালামকে শহীদ করেছে।

    আখিরী রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর বিরোধীরা তাঁকে যাদুকর, জ্বিনে ধরা,পাগল, ধর্মত্যাগী ইত্যাদি বলে সম্বোধন করত।

    ঠিক একই ভাবে বিরোধীতার এ ধারাবাহিকতা বজায় ছিল নবী আলাইহিমুস সালামগণের পরে দুনিয়ার সর্বশ্রেষ্ঠ ও সর্বোত্তম মানুষ হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়াল আনহুমগণের প্রতিও। বাতিল, গোমরাহ্‌, দাজ্জালে কায্‌যাব, খারিজী ও রাফিজীরা তাঁদেরকে আখ্যায়িত করেছে ক্ষমতালোভী, ক্ষমতার অপব্যবহারকারী, দ্বীন ইসলামের ধ্বংস সাধনকারী, মুরতাদ, কাফির ইত্যাদি কুখ্যাতিতে। শুধু যে মিথ্যা রটনা,অপবাদ আর অশালীন ভাষায় কুখ্যাতি করেছে তাই নয়। তারা শহীদ করেছে, ইসলামের দ্বিতীয় খলীফা আমীরুল মু’মিনীন হযরত ওমর ইবনুল খাত্তার রদ্বিয়াল্লাহু তায়াল আনহু, আমীরুল মু’মিনীন হযরত উছমান রদ্বিয়াল্লাহু তায়াল আনহু, আমীরুল মু’মিনীন হযরত আলী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু, আমীরুল মু’মিনীন বেহেস্তের যুবকদের সাইয়্যিদ নবীজি (ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কলিজার টুকরা হযরত ফাতিমা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা-এর নয়নের মণি হযরত ইমাম হাসান রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু এবং ইমামুল মুসলিমীন হযরত ইমাম হুসাইন রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুকে।
    আর এজন্যই পবিত্র হাদীছ শরীফ-এ যেরূপ যামানার মুজাদ্দিদের কথা উল্লেখ করা হয়েছে, এর পাশাপাশি ক্বিয়ামতের পূর্বে আবির্ভূত “কানা দাজ্জাল”-এর পূর্বসূরী কিছু “দাজ্জালে কাযযাব”-এর আগমণের কথাও পবিত্র হাদীছ শরীফ-এ উল্লেখ করা হয়েছে। যেমন এ প্রসঙ্গে হাদীছ শরীফ-এ ইরশাদ হয়েছে, “হযরত আবূ হুরাইরা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু হতে বর্ণিত, আল্লাহ পাক-এর হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, আখিরী যামানায় কিছু সংখ্যক মিথ্যাবাদী দাজ্জাল বের হবে, তারা তোমাদের নিকট এমনসব (মিথ্যা-মনগড়া) কথা উপস্থাপন করবে, যা তোমরা কখনো শুনোনি এবং তোমাদের বাপ-দাদারাও শুনেনি, সাবধান! তোমরা তাদের কাছ থেকে দূরে থাকবে, তবে তারা তোমাদেরকে গোমরাহ্‌ করতে পারবে না এবং ফিৎনায় ফেলতে পারবে না।” (মুসলিম শরীফ)

    এ হাদীছ শরীফ-এ বর্ণিত “দাজ্জালে কাযযাব” তারাই, যারা মিথ্যা, মনগড়া, বিভ্রান্তিকর ও দলীলবিহীন বক্তব্য প্রদান করে সমাজে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে। তাদের কাজই হচ্ছে কুরআন-সুন্নাহ্‌ বিরোধী ও কুফরীমূলক বক্তব্য প্রচার করে জনসাধারণের ঈমান বিনষ্ট করা ও মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে হক্কানী উলামায়ে কিরাম তথা আউলিয়ায়ে কিরাম রহ্‌মতুল্লাহি আলাইহিমগণের বিরোধীতা ও কুৎসা রটনা করা।

    দ্য মুসলিম

    @তুষার খান,কে জানে ভাই। আপনার জন্য দোয়া রইলো। আল্লাহ হাফেজ।

    তুষার (ﭡﺸر)

    @দ্য মুসলিম >>> আপনার মন্তব্য বুঝতে পারিনি। বুঝিয়ে বললে ভালো হত। (F)

    দ্য মুসলিম

    @তুষার (ﭡﺸر) , আপনার সাথে একমত হতে পারিনি। মানে আপনার “পীর সাহেব ক্বীবলা” কে মুজাদ্দিদ হিসেবে গ্রহণ করতে পারলাম না। আমি যতদুর জানি উনি শুধু উনার মুরিদের মাঝে জনপ্রীয় (?)। আম জনতা উনাকে বর্জন করে থাকে। আম জনতা বলতে আমার আশেপাশের মানুষদের কে বুঝাতে চেয়েছি যাদের সাথে জন্মের পর থেকে আমি পরিচিত।

    তবে এতটুকু বিশ্বাস করি যদি আপনার পীর সাহেব ক্বীবলা “ভন্ড” হন (যদিও তাতে আমার কোন সন্দেহ নাই) তাহলে আপনার দুনিয়া ও আখিরাত উভয়টাই শেষ। আর যদি “ভন্ড” না হন তাহলে আমার কোন ক্ষতি হবে না। তবে রিস্ক ফ্রী থাকার জন্য আপনার “পীর সাহেবের” সঙ্গ ত্যাগ করা দরকার। পারলে ট্রাই কইরেন। আপনার জন্য দোয়া রইলো। আল্লাহ হাফেজ। (F)

    তুষার (ﭡﺸر)

    @দ্য মুসলিম >>> আপনার একমত বা দ্বিমত হওয়ার সঙ্গে রাজারবাগ শরীফের পীর ছাহেব-এর মুজাদ্দিদ হওয়ার কোন সম্পর্ক থাকতে পারে না। বিগত ১৩ জন মুজাদ্দিদ (রহ্‌মতুল্লাহি আল্লাইহিম)গণকেও তাঁদের যামানার উলামায়ে ছূ’রা মুজাদ্দিদ হিসেবে মেনে নেয়নি তাতে তাঁদের মুজাদিদ্দ-এর মাক্বামের কোন হের-ফের হয়নি। কারণ তাঁরা আল্লাহ পাক কর্তৃক প্রেরিত নায়েবে-নবী।

    আপনার দলীল বিহীন মন্তব্যের কোন ভিত্তি নেই। যদি দলীল থাকে তবে পেশ করুন। কারণ আল্লাহ পাক কুরআন শরীফে ইরশাদ করেন,
    “যদি সত্যবাদী হয়ে থাকো, তবে দলীল পেশ করো।” (সূরা বাক্বারা ১১১)

    Areef

    @তুষার, আপনিতো দেখছি দলিল ছাড়া কোন কথা বলেন না। আমাকে শুধু একটা দলিল দেন। রাজারবাগের পীর সাহেব যে মুজাদ্দিদ এর দলিল দেন। যদি দলিল দিতে পারেন তবে আমি আরও অনেককে নিয়ে আপনার পীর সাহেবের কাছে মুরিদ হবো প্রতিজ্ঞা করলাম।

    “যদি সত্যবাদী হয়ে থাকো, তবে দলীল পেশ করো।” (সূরা বাক্বারা ১১১)

    আল্লাহপাক আমাদের সবাইকে সঠিক পথে রাখুন।

    তুষার (ﭡﺸر)

    @Areef >>> “মুজাদ্দিদ” (مُجَدِيْدُ) শব্দটি কর্তৃবাচক যার ক্রিয়ামূল হচ্ছে “তাজদীদ” (تَجْدِيْدُ), আর তাজদীদ শব্দের অর্থ হচ্ছে দ্বীনের পুণঃপ্রচলন বা সংস্কার করা। যিনি উক্ত কার্যটি সম্পাদন করেন অর্থাৎ তাজদীদ করেন তাঁকে মুজাদ্দিদ বা দ্বীন সংস্কারক বলে।
    আখিরী নবী, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুসালীন, খতামুন্‌ নবিয়্যীন, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর পর মানব জাতিকে মহান আল্লাহ্‌ পাক-এর রুবুবিয়াতের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়ার জন্য আল্লাহ্‌ পাক ওয়ারাসাতুল আম্বিয়া বা হাক্কানী আলিম বা আউলিয়ায়ে কিরাম রহ্‌মতুল্লাহি আলাইহিমগণকে প্রেরণ করেন। তাঁদের মধ্যে যিনি স্ব স্ব যামানা বা শতাব্দির খাছ বা মূল হন, তাঁকে বলা হয় মুজাদ্দিদ।
    দ্বীন ইসলামের মধ্যে যে সকল কুসংস্কার প্রবেশ করে, যামানার মুজাদ্দিদ তা দূরীভূত করে হাক্বীক্বী ইসলামী আদর্শ্য ক্বায়িম করেন, লুপ্তপ্রায় সুন্নতকে যিন্দা করেন, মানুষের ঈমান, আমল ও আক্বীদা নবায়ন করেন।
    সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর প্রত্যেক হিজরী শতকের শুরুতে মুজাদ্দিদ আগমনের ভবিষ্যতবাণী যেরূপ অনিবার্য ও অকাট্যরূপে সত্য, ঠিক তারই ধারাবাহিকতায় ১৪০০ হিজরী শতকের শেষে ১৫০০ হিজরী শতকের শুরুতে একজন মুজাদ্দিদ-এর উপস্থিতও অনিবার্য, আগমণও সত্য।
    উল্লেখ্য যে, কুরআন শরীফ ও হাদীছ শরীফ-এ “মুজাদ্দিদুয্‌ যামান”-এর আমভাবে পরিচয় দেয়া হয়েছে অর্থাৎ প্রত্যেক শতকে “মুজাদ্দিদুয্‌ যামান” থাকবেন তা দলীলে ক্বেত্বয়ী বা অকাট্ট দলীল দ্বারা ছাবিত। কিন্তু তিনি কে? তাঁর পরিচয় কি? তা দলীলে যন্নী দ্বারা ছাবিত।
    তবে সেই দলীলে যন্নী আহ্‌লে ইলম রহ্‌মতুল্লাহি আলাইহিমগণের নিকট এমন সুস্পষ্ট ব্যাপকতা লাভ করে যে, তা মুতাওয়াতির-এর পর্যায় পৌঁছে যায়। ফলে, তা ইয়াক্বীনী-এর ফায়দা দান করে। কারণ “মুজাদ্দিদুয্‌ যামান”-এর তাজদীদ বা সংস্কারমূলক কাজের দ্বারা তাঁর যাহিরী (বাহ্যিক) পরিচয় ফুটে উঠে। আর বাতিনী (আভ্যন্তরীণ) দিক সেই যামানার ইমাম-মুজতাহিদ, হক্কানী আলিম, গাউছ, কুতুব, আব্দাল, মু’মিন মুত্তাক্বী ব্যক্তিবর্গের নিকট ফুটে উঠে। তাঁরা তাঁর “মুজাদ্দিদুয্‌ যামান” হওয়ার ব্যাপারে সুনিশ্চিত হন। কারণ কাশ্‌ফ, মুরাকাবা-মুশাহাদা ইত্যাদির মাধ্যমে তাঁর পরিচয় পান। তাঁদেরকে “মুজাদ্দিদুয্‌ যামান” সম্পর্কে সুসংবাদ দেয়া হয়।
    তাছাড়া আফদ্বালুল আউলিয়া, ইমামুল মুজতাহিদীন, গাউছে সাক্বালাইন, ইমামে রব্বানী, ক্বাইয়্যুমে আউয়াল, হযরত মুজাদ্দিদে আলফে ছানী রহ্‌মতুল্লাহি আলাইহি বলেন, “মুজাদ্দিদুয্‌ যামানা হচ্ছেন সেই যামানার সবচেয়ে সম্মানিত এবং মর্যাদাবান ব্যক্তিত্ব। যাঁর ওসীলায় সেই যুগের সকল কুতুব, আব্দাল, আওতাদ, নুজাবা, নুকাবাসহ সকল উম্মত ফয়েজ ও নূর লাভ করে থাকেন।” (মাকতুবাত শরীফ)
    সঙ্গতকারণে সকলের নিকট তিনি পরিচিতি লাভ করেন। সবার নিকটেই তিনি স্মরণীয়-বরণীয় হন। তবে বেদ্বীন-বিজাতীয়, ফাসিক-ফুজ্জার এবং উলামায়ে ‘ছূ’ বা ধর্মব্যবসায়ী দুনিয়াদার আলিমগণ (যারা দ্বীনের বিনিময়ে দুনিয়া হাছিল করে) সেই হুকুমের আওতাভূক্ত নয়। কারণ তারা “মুজাদ্দিদুয্‌ যামানা”-এর প্রতি বিশেষভাবে শত্রুতা পোষণ করে থাকে।
    মূলতঃ তাদের বিরোধীতা, মিথ্যাচার, অপপ্রচার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির মুজাদ্দিদ হওয়ার ব্যাপারে বাহ্যিক (যাহিরী) দলীল বলা যেতে পারে। যেমনিভাবে আখিরী রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর মি’রাজ শরীফ যে স্বশরীরে হয়েছে তার আক্বলী দলীল হিসেবে পেশ করা হয় কুরাঈশদের আস্বীকার বা বিরোধীতা।
    কাজেই আল্লাহ্‌ পাক-এর হাবীব, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর বিরোধীতা যে শ্রেণীর লোক করতো তাদের উত্তরসূরীরাই তাঁর নায়িব তথা “মুজাদ্দিদুয্‌ যামানা”-এর বিরোধীতায় লিপ্ত হয় এবং মুজাদ্দিদ-এর তাজদীদের কাজে বিরোধীতা করে।
    মুজাদ্দিদ-এর কাজ তাজদীদ বা সংস্কারকরণ। কাজেই তাজদীদ দ্বারাই মুজাদ্দিদ চেনা যাবে। তিনি দ্বীনি-দুনিয়াবী সকল বিষয়ে সঠিক সমাধান দান করবেন। ইলমে ফিক্বাহ ও ইলমে তাচসাউফসহ সকল বিষয়ে হবেন পূর্ণতার অধিকারী। তিনি ইলমে লাদুন্নীপ্রাপ্ত। আক্বীদা ও আমলে তিনি হবেন আহ্‌লে সুন্নত ওয়াল জামায়াত-এর অনুসারী। সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর পরিপূর্ণ ইতায়াত (অনুসরণ-অনুকরণ) করবেন। মাথার তালু হতে পায়ের তলা, হায়াত থেকে মউত পর্যন্ত সুন্নতের পূর্ণ পায়রবী করবেন। মূলতঃ তিনি হবেন মুত্তাক্বীগণের ইমাম।
    অতএব, আহ্‌লে সুন্নত ওয়াল জামায়াত-এর বহির্ভূত আক্বীদা-আমলের আধিকারী এবং বাতিল আক্বীদাভূক্ত তথা সুন্নত বর্জনকারী, ফাসিক ব্যক্তি কখনও মুজাদ্দিদ হতে পারে না। তাছাড়া শুধু জাহিরী ইলম ফিক্বাহ অর্জনকারী এবং তার প্রচার-প্রসারকারীকে মুজাদ্দিদ বলা যাবে না। কেননা ইলমে ফিক্বাহ ও ইলমে তাসাউফ উভয় ইলমই শিক্ষা করা ফরজ। যেখানে ইলমে তাসাউফ ছাড়া আলিমই হয় না, সেখানে মুজাদ্দিদ হয় কিভাবে? কাজেই এরূপ ব্যক্তিকে মুজাদ্দিদ বলা এবং তার ইতায়াত করা কোনটাই জায়িয নেই বরং কাট্টা কুফরীর অন্তর্ভূক্ত।
    একজন মুজাদ্দিদের যত ছিফত বা গুণাবলী থাকা আবশ্যক তা সমস্তই রাজারবাগ শরীফ-এর হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী-এর মাঝে সম্মকভাবে বিদ্যমান। সারাবিশ্বে অবস্থানরত মুরীদ-মুতাকিদ, ছূফী-দরবেশগণ তার বহিঃপ্রকাশ। আখিরী রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “আখিরী যামানায় হাতের তালুতে জ্বলন্ত অঙ্গার রাখা যেমন কষ্টকর তার চেয়েও বেশী কষ্টকর হবে ঈমান রাখা।” সেই কঠিন যুগেও তাঁর মুরিদ-মুতাকিদগণ সুন্নতের পূর্ণ পাবন্দ। তাহাজ্জুদ গুজার। আহ্‌লে সুন্নত ওয়াল জামায়াত-এর আক্বীদা-আমলে ইস্তিকামাত। মূলতঃ মুজাদ্দিদ আ’যম-এর অনুসরণকারী আলিমা-উলামা, ছূফী-দরবেশ তথা খলীফাগণের দ্বারা যে সকল দ্বীনি-দুনিয়াবী খিদমত হবে সেটাও মুজাদ্দিদে যামান-এরই তাজদীদ বা সংস্কারে অন্তর্ভূক্ত। মাসিক আল বাইয়্যিনাত এবং দৈনিক আল ইহসান পত্রিকাদ্বয় বিদায়াত, বেশরা, কুফরী, শিরকীর মর্মমূলে আঘাত হানছে, ফলে প্রতিটি সংখ্যাই বাতিলের জন্য আতঙ্ক সৃষ্টি করছে। উলামায়ে ‘ছূ’ এবং তাদের মদদদাতা ইহুদী-খৃষ্টানরা পর্যন্ত আজ শঙ্কিত। দ্বীনি, দুনিয়াবী যত সমস্যাই সৃষ্টি হউক না কেন তার সঠিক সমাধানদাতা রাজারবাগ শরীফ-এর হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী এবং তাঁর ইলম ও বিলায়েতের দাপটে বাতিলপন্থীগণ তটস্থ। তিনি হাদীছ শরীফ, তাফসীর, ফিক্বাহ, ফতওয়া, আক্বাইদ, মানতেক-বালাগাত, ভূগোল, ইতিহাস, অর্থনীতি, সমাজনীতি ইত্যাদি যে কোন বিষয়ে আলোচনা করলে মনে হয় যেন তা দেখে দেখে বলছেন। আল্লাহ্‌ পাক যে বলেছেন, “প্রত্যেক জ্ঞানীর উপর মহাজ্ঞানী আছেন।” এই আয়াত শরীফ-এর পরিপূর্ণ মিছদাক্ব হচ্ছেন রাজারবাগ শরীফ-এর হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী।
    ফারায়েজ বা মীরাসের মাসয়ালা সাধারণতঃ অঙ্ক কষে করা হয়। আর তিনি অঙ্ক কষার কোন প্রয়োজন বোধ করেন না। জাওয়াব শুনলে রীতিমত মনে হয় যেন আগেই তার জাওয়াব প্রস্তুত করে রেখেছিলেন। কাট্টা নাস্তিক, মুরতাদ, হুমায়ূন আহ্‌মদ যখন তার “শ্রাবণ মেঘের দিন” নামক তথাকথিত এক উপন্যাসে লিখলো, “আমাদের আল্লাহর অঙ্ক জ্ঞান তেমন সুবিধার ছিল না। অঙ্কে তিনি সামান্য কাঁচা। সম্পত্তি ভাগের যে আইন কুরআন শরীফ-এ আছে, সেখানে ভুল আছে। যে ভুল হযরত আলী পরে ঠিক করেছিলেন, যাকে আউল বলে।” (নাঊযুবিল্লাহ) তখন তার এই কুফরীমূলক বক্তব্যের যথোপযুক্ত জাওয়াব কে দিবে? উম্মাহ তখন বাংলাদেশের নামী-দামী মাদ্রাসাগুলোর প্রধান, তথাকথিত দেশবরেণ্য আলিমা-উলামাগণের স্মরণাপন্ন হয়েছিল। তারা এ ব্যাপারে মুজাদ্দিদুয্‌ যামান-এর নিকট যাওয়ার পরামর্শ দেন। ফলে উম্মাহ তাঁর নিকট যান। আর তিনি তার সঠিক জাওয়াব দান করেন। ফলে হুমায়ূন আহমদ ওরফে হনুমান আহমকসহ সকল নাস্তিক লা-জাওয়াব হয়ে যায়। এরূপ একটা, দু’টা নয় বরং হাজার হাজার সুওয়াল এসেছে। দেশ-বিদেশের নামী-দামী মুফতী, মুহাদ্দিছ, শায়খুল হাদীছ, শায়খুত্‌ তাফসীর, মুফাস্‌সিরে কুরআন, খতীব ছাহেবানরা তার সঠিক জাওয়াব দিতে পারেননি। পরিশেষে মুজাদ্দিদুয্‌ যামান-এর কাছে পাঠাতে বাধ্য হয়েছে। আর তিনি তার সঠিক সমাধান দিয়ে মুসলিম উম্মাহকে হিহায়েতের উপর ইস্তিক্বামত থাকার সুযোগ করে দিয়েছেন, দিচ্ছেন। আর এটাই স্বাভাবিক। কারণ মুজাদ্দিদুয্‌ যামান তাঁর কাজ অন্যের দ্বারা কিভাবে সম্পাদিত হতে পারে? অতীত ইতিহাসে এরূপ অনেক নজির রয়েছে। ইমামে আ’যম হযরত ইমাম আবূ হানিফা রহ্‌মতুল্লাহি আলাইহি ছিলেন সেই যুগের মুজাদ্দিদ এবং ইমাম। অপরাপর ইমাম ছাহেবগণের হাত ঘুরে তাঁর নিকট অনেক ফতওয়া আসতো, আর তিনি তার সঠিক সমাধান দিতেন।
    উল্লেখ্য যে, মুজাদ্দিদুয্‌ যামান-এর স্বপ্ন নিছক কোন স্বপ্ন নয়। মুজাদ্দিদুয্‌ যামান-এর স্বপ্নের গুরুত্ব ও তাৎপর্য অপরিসীম। যেখানে হাদীছ শরীফ-এ মু’মিন ব্যক্তির সত্য স্বপ্নকে নুবুওওয়াতের ছিচল্লিশ ভাগের এক ভাগ বলা হয়েছে। সেখানে “মুজাদ্দিদুয্‌ যামান” ব্যক্তিত্বের স্বপ্নের গুরুত্ব-তাৎপর্যের গভীরতা যে আরো কত ব্যাপক হতে পারে তা সহজেই অনুমেয়।
    হাদীছ শরীফ-এ ইরশাদ হয়েছে, হযরত আতা ইবনে ইয়াছার রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বলেন, নিশ্চয়ই আখিরী রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, “আমার পরে নুবুওওয়াতের কোন ধারা বাকি থাকবে না। তবে মুবাশ্‌শিরাত বা সুসংবাদের ধারা অব্যাহত থাকবে। তাঁরা (হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম) আরজ করলেন, ইয়া রসূলাল্লাহু ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মুবাশ্‌শিরাত কি? তিনি বললেন, সু-স্বপ্ন। যা কোন আল্লাহ্‌ওয়ালা ব্যক্তি দেখে অথবা কোন আল্লাহ্‌ওয়ালা ব্যক্তি সম্পর্কে অপর কাউকে দেখানো হয়। আর এই প্রকার সু-স্বপ্ন নুবুওওয়াতের ছিচল্লিশ ভাগের এক ভাগ।” (মুয়াত্তায়ে ইমাম মালিক, তানবীরুল হাওয়ালিক, মাছওয়া, মুন্তাকা, ফাতহুল মালিক, কাবাস, শরহুয্‌ যুরকানী, আওযাজুল মাসালিক)
    সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর মুজাদ্দিদ সম্পর্কিত ভবিষ্যতবাণী অনুযায়ীই বর্তমান যামানার মুজাদ্দিদ হচ্ছেন আওলাদুর রসূল, রাজারবাগ শরীফ-এর মুর্শিদ ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী। যিনি প্রতি পদক্ষেপে ও প্রতিটি ক্ষেত্রে তাজদীদ করে যাচ্ছেন।
    মূলতঃ মুজাদ্দিদগণ এমন সব বিষয়েরই তাজদীদ করেন, যা না করলে মানুষের ঈমান নষ্ট হয়ে যাবে। যেমন এ সম্পর্কে উল্লেখ করা যেতে পারে, বর্তমানে অনেক নামধারী উলামায়ে ‘ছূ’ বলে থাকে যে, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সব ধরণের টুপি পরিধান করেছেন, অথচ তা চরম মিথ্যা কথা। আর সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর শানে এরূপ মিথ্যা বলা সম্পূর্ণরূপে কুফরী ও জাহান্নামী হওয়ার কারণ। কেননা বর্তমানে যে সমস্ত কিস্তি, পাঁচকল্লি, নেট বা জালি ইত্যাদি বিভিন্ন ধরণের টুপি রয়েছে, তা কখনো সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ব্যবহার করেননি বা তাঁর যামানায় তা ছিলই না।
    কাজেই কোন ব্যক্তি যদি বলে যে, আল্লাহ্‌ পাক-এর হাবীব, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কিস্তি, পাঁচকল্লি, নেট ইত্যাদি টুপি ব্যবহার করেছেন, তাহলে তা তাঁর উপর মিথ্যারোপ করা হবে। অথচ সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, “যে ব্যক্তি আমার নামে মিথ্যারোপ করে, সে যেন তার স্থা জাহান্নামে নির্ধারণ করে নেয়।” (বুখারী শরীফ, ফয়যুল ক্বাদীর, আহ্‌মদ, আবূ দাউদ, নাসাঈ, মুসলিম, তিরমিযী, ইবনে মাযাহ্‌, দাইলামী, মিশকাত)
    উল্লেখ্য, টুপি পরিধান করা সুন্নত, যা ফরয/ওয়াজিব নয়। কিন্তু কোন লোক যদি এ আক্বীদা পোষণ করে বা একথা বলে যে, আল্লাহ্‌ পাক-এর রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সব ধরণের টুপি পরিধান করেছেন, তবে সে সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর প্রতি মিথ্যারোপ করার কারণে কাফির ও চির জাহান্নামী হবে।
    অতএব, বর্তমানে টুপি সম্পর্কিত সঠিক আক্বীদা প্রকাশ না করলে অনেকেই উলামায়ে ‘ছূ’দের উল্লিখিত মনগড়া বক্তব্যের কারণে কুফরীমূলক আক্বীদা পোষণ করে জাহান্নামী হতো। তাই মানুষের ঈমান, আক্বীদা ও আমল হিফাযতের লক্ষ্যে বর্তমান হিজরী পঞ্চদশ শতাব্দীর মুজাদ্দিদ রাজারবাগ শরীফ-এর হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী “চার টুকরা বিশিষ্ট, গোল, সাদা, সুতি কাপড়ের টুপি যা খাছ সুন্নতী টুপি”-এর ফতওয়া দিয়েছেন।
    হাদীছ শরীফ-এ উল্লেখ করা হয়েছে, আল্লাহ্‌ পাক হযরত জিব্রাঈল আলাইহিস্‌ সালাম-এর মাধ্যমে সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বেহেশতী একটি টুপি মুবারক হাদিয়া দিয়েছিলেন। যা তিনি অধিক পরিমাণে ব্যবহার করতেন এবং পরবর্তীতে খুলাফায়ে রশিদীন রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম, বিশেষ করে হযরত আলী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু থেকে শুরু করে চীশতিয়া খান্দানের অধিকাংশ আউলিয়ায়ে কিরাম রহ্‌মতুল্লাহি আলাইহিমগণ তা ব্যবহার করতেন। এমনকি কাউকে খিলাফত দিলে সেই চার টুকরা বিশিষ্ট, গোল, সাদা, সুতি কাপড়ের টুপি পরিধান করিয়ে খিলাফত দিতেন। (আনীসুল আরওয়াহ, দলীলুল আরিফীন, ফাওয়ায়িদুল ফুয়াদ, রাহাতুল মুহিব্বীন, রাহাতুল কুলুব)
    অনুরূপ উলামায়ে ‘ছু’দের বিভিন্ন প্রকার অপপ্রচার ও কুমন্ত্রনার কারণে সাধারণ মানুষ অনেক সুন্নতী আমল থেকে মাহ্‌রূম হচ্ছে, অনেক সুন্নতকে সুন্নত হিসেবে জানা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এবং সে কারণে সেগুলো পালন থেকেও বিরত থাকছে। উলামায়ে ‘ছূ’রা বহু হারাম-নাজায়িয কাজকে হালাল ও জায়িয বলে অভিহিত করছে, যা কুফরী ও মানুষের ঈমান ঘাটতির কারণ। এ কারণেই বর্তমান যামানার ইমাম ও মুজতাহিদ, ইমামুশ্‌ শরীয়ত ওয়াত্‌ তরীক্বত, ইমামুল আইম্মা, মুহ্‌ইস সুন্নাহ্‌, কুতুবুল আলম, মুজাদ্দিদুয যামান, আওলদুর রসূল, সাইয়্যিদুনা রাজারবাগ শরীফ-এর হযরত পীর ছাহেব ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী ইসলামের নামে গণতন্ত্র, মৌলবাদ দাবী করা, লংমার্চ করা, ব্লাসফেমী আইন চাওয়া, হরতাল করা, কুশপুত্তলিকা দাহ করা, ছবি তোলা, নারী নেতৃত্ব মানা ও মহিলাদের সাথে জোট বেধে নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করা ও ভোট দেয়া ইত্যাদি হারাম, রোযা অবস্থায় ইঞ্জেকশন নেয়া রোযা ভঙ্গের কারণ, লাল রুমাল তথা পোশাক পুরুষের জন্য ব্যবহার করা হারাম, মহিলাদের জামায়াতের জন্য মসজিদ ও ঈদগাহে যাওয়া আমভাবে মাকরূহ তাহরীমী এবং খাছভাবে কুফরী, তাহাজ্জুদ নামায জামায়াতে পড়া মাকরূহ তাহ্‌রীমী, মীলাদ-ক্বিয়াম সুন্নতে উম্মত-মুস্তাহান, কুরআন শরীফ খতম করে উজরত গ্রহণ করা জায়িয, নিয়ত করে মাজার শরীফ যিয়ারত ও কদমবুছী করা জায়িয ও সুন্নত, ফরয নামাযের পর হাত তুলে মুনাজাত করা সুন্নত, আযানের মধ্যে অঙ্গুলী চুম্বন করা ও আযানের পরে হাত তুলে মুনাজাত করা সুন্নত, হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নূরের তৈরী আর আল্লাহ পাক নূর বা আলো নন, পাগড়ী পরিধান করা দায়িমী সুন্নত ইত্যাদি অসংখ্য ফতওয়া প্রদান করে দ্বীন ইসলামের ব্যাপক তাজ্‌দীদ ও মানুষের ঈমান, আক্বীদা ও আমল হিফাযতের কোশেশ করে যাচ্ছেন।

    Malcolm X

    @Areef ,
    আরিফ সাহবে, উনি শরীয়তের কোনো দলীল পেশ করতে পারবে না । এমন দলীল দিবে যেটা কোনো দলীল হিসেবে গ্রহনযোগ্য হবে না , খালি চোখে দেখা যায় না :)

    রাজারবাগ পীর সাহেবের কিছুদিন আগে মেয়ের বিয়েতে ৭৫ লাখ টাকার বাজেট ছিল । তাহলে বোঝেন কেমন মোজাদ্দেদ । ওনার নামে কেস বহুত ।
    সেগুলো ইনশাল্লাহ পর্যায়ক্রমে প্রকাশ করব ।

    ওনি মোজাদ্দেদ হলে , এমন ওনেক মোজাদ্দেদ শান্তিনগর বাজারে কিনতে পাওয়া যায় ।

    Areef

    @Malcolm X,
    ভাই আপনি হয়তো ঠিকই বলেছেন। তবে তুযার সাহেব কি দলীল দেন আমি সেই আপেক্ষায় আছি।

    আল্লাহপাক আমাদের সবাইকে সঠিক পথে রাখুন।

  3. তুষার খান,

    আমার কিছু প্রশ্ন আছে , নীচে দিলাম :

    ১)

    আপনার পীর সাহেবের পীর সাহেব কে ? আমি যতদুর জানি উনার পীর সাহেব ছিলেন “হযরত ওয়াজিউল্লাহ(রহ:)” ? এটা কি সত্য ? আর রাজারবাগের পীর সাহেব এর সাথে ওনার পীর সাহেব হযরত ওয়াজিউল্লাহ(রহ:) এর নাকি সম্পর্ক খারাপ ছিল এটা কি সত্য ?

    ২)

    আপনার পীর সাহেব মুহম্মদি ডায়াগনিস এর নামে নাকি সুদে লোন নিয়েছে ? এটা কতটুকু সত্য ?

    ৩)

    আপনি বললেন আপনার পীর সাহেব সাইয়েদ ? এখন আমার প্রশ্ন হলো ওনার আব্বা তো সাইয়েদ ছিলেন না , তাহলে উনি সাইয়েদ হয় কিভাবে ?

    তুষার (ﭡﺸر)

    @Malcolm X >>> ধারণা করে কোন কথা বলা ঠিক নয়, কোন বিষয়ে মন্তব্য করতে হলে প্রথমে সে বিষয়ে নিশ্চিতভাবে জানতে হবে এবং দলীল-প্রমাণসহ তা পেশ করতে হবে। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ্‌ পাক কুরআন শরীফ-এ ইরশাদ করেন, “নিশ্চয় অনেক ধারণাই গুণাহ্‌র কারণ।” (সূরা হুজুরাত ১২)
    আবার আল্লাহ্‌ পাক-এর হাবীব, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, “মিথ্যাবাদী হওয়ার জন্য এতটুকুই যথেষ্ট যে, সে যা শুনে তাই বলে বেড়ায় (যাচাই-বাছাই বা তাহক্বীক করে না)।” (মিশকাত শরীফ)
    আল্লাহ্‌ পাক কুরআন শরীফ-এ মিথ্যাবাদীদের সম্পর্কে ইরশাদ করেন, “মিথ্যাবাদীদের উপর আল্লাহ্‌ পাক-এর লা’নত।” (সূরা আল ইমরান ৬১)
    সুতরাং আল্লাহ্‌ পাক-এর লা’নত হতে বাঁচতে হলে অবশ্যই যাচাই-বাছাই বা তাহক্বীক করে বক্তব্য পেশ করতে হবে।

    আপনার প্রতিটি বক্তব্যের জাওয়াব নিচে দেয়া হলো-

    (১) আপনি আমার লেখাটি যদি পড়তেন তবে এই প্রশ্ন করতেন না। আপনি আমার লেখাটি পড়েননি বলেই উক্ত প্রশ্নটি (আপনার পীর সাহেবের পীর সাহেব কে ?) করেছেন। কেননা আমার লেখাটিতে স্পষ্টভাবেই তা উল্লেখ করা আছে।
    ১নং প্রশ্নের শেষাংশে আপনি বলেছেন, “রাজারবাগের পীর সাহেব এর সাথে ওনার পীর সাহেব হযরত ওয়াজিউল্লাহ(রহ:) এর নাকি সম্পর্ক খারাপ ছিল এটা কি সত্য ?” এর জবাবে বলতে হয়-আপনার উক্ত বক্তব্য শুধু মিথ্যাই নয় বরং উদ্দেশ্য প্রণোদিত। মূলতঃ যাত্রাবাড়ীর হযরত পীর ছাহেব ক্বিবলা রহ্‌মতুল্লাহি আলাইহি-এর যত খলীফা ও মুরীদ রয়েছেন, তাঁদের মধ্যে তাঁর (যাত্রাবাড়ীর পীর ছাহেব-এর) সাথে সবচেয়ে বেশী গভীর সুসম্পর্ক ছিল রাজারবাগ শরীফের হযরত পীর ছাহেব ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী-এর সাথেই। আর বর্তমানেও তাঁর সাথে রয়েছে পরিপূর্ণ রূহানী সম্পর্ক। যা কেবল তাছাউফে পূর্ণতাপ্রাপ্ত লোকদের পক্ষেই বুঝা ও অনুধাবন করা সম্ভব।
    স্মর্তব্য যে, যাত্রাবাড়ীর হযরত পীর ছাহেব ক্বিবলা রহ্‌মতুল্লাহি আলাইহি-এর সাথে রাজারবাগ শরীফের হযরত পীর ছাহেব ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী-এর কতখানী গভীর সুসম্পর্ক ছিল তার কিছু বাস্তব প্রমাণ নিচে তুলে ধরা হলঃ
    রাজারবাগ শরীফের হযরত পীর ছাহেব ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী মূলতঃ মাদারজাদ ওলী। তাই শুরু থেকেই তাঁর অসংখ্য কারামত প্রকাশিত হয়েছে। শিশু অবস্থা থেকেই তিনি আল্লাহ পাক-এর ঘোষিত ছাদিক্বীন। মূলতঃ শরীয়তের একটি উসূল হলো-
    “যিনি নবী তিনি শিশু অবস্থায়ও নবী, যিনি ওলী আল্লাহ তিনি শিশু অবস্থা থেকেই ওলী আল্লাহ।” (শরহে আকাঈদুন্‌ নাসাফী)
    ইমামুল আইম্মা, কুতুবুল আলম, মুজাদ্দিদে আ’যম, আল্লাহ পাক-এর লক্ষ্যস্থল রাজারবাগ শরীফের হযরত পীর ছাহেব ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলীও ওলীয়ে মাদারজাদ হিসেবেই জমিনে তাশরীফ এনেছেন। শিশু অবস্থা থেকেই অসংখ্য আউলিয়ায়ে কিরাম রহ্‌মতুল্লাহি আলাইহিমগণের সাথে তাঁর রূহানী তায়াল্লুক বা সাক্ষাৎ হতো।
    একদা আফদ্বালুল আউলিয়া, ক্বাইয়্যুমে আউয়াল, ইমামুল আইম্মা, হযরত মুজাদ্দিদে আলফে ছানী রহ্‌মতুল্লাহি আলাইহি রাজারবাগ শরীফের হযরত পীর ছাহেব ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী-এর সাথে রূহানীভাবে বিশেষ সাক্ষাতে জিজ্ঞাসা করেন, “আপনি কি মুজাদ্দিদ হবেন?”
    ওলীয়ে মাদারজাদ রাজারবাগ শরীফের হযরত পীর ছাহেব ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী বিনয়ের সাথে জবাব দেন, “আমার ইল্‌ম-কালাম কিছুই নেই। আমি কি করে মুজাদ্দিদ হবো!” তখন আফদ্বালুল আউলিয়া, ক্বাইয়্যুমে আউয়াল, হযরত মুজাদ্দিদে আলফে ছানী রহ্‌মতুল্লাহি আলাইহি বলেন, “আপনাকে আল্লাহ্‌ পাক-এর তরফ থেকে সমস্ত কিছু দান করা হবে।”

    অতঃপর বাইয়াত হওয়া ফরয আদায়ের লক্ষ্যে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে তৎকালীন ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসার মুফাস্‌সিরে কুরআন, তাজুল মুফাস্‌সিররীন, রঈসুল মুহাদ্দিছীন, কুতুবুল আলম, মুফতিউল আ’যম হযরত মাওলানা শাহ ছূফী আবুল খায়ের মুহম্মদ ওয়াজীহুল্লাহ নানুপূরী (যাত্রাবাড়ির হযরত পীর ছাহেব ক্বিবলা) রহ্‌মতুল্লাহি আলাইহি হাতে বাইয়াত হয়ে মাত্র দেড় বছরে চার তরীক্বায় পূর্ণতাপ্রাপ্ত হন এবং স্বীয় মুর্শিদ ক্বিবলার চূড়ান্ত সন্তুষ্টি হাছিল করে খিলাফত প্রাপ্ত হন। এরপরেও তিনি দীর্ঘদিন পীর ছাহেব ক্বিবলার দরবার শরীফ-এ যাতায়াত করেন।
    ব্যক্তিগত যোগ্যতা, আল্লাহ পাক প্রদত্ত চূড়ান্ত পর্যায়ের আদব-কায়দা,খাছ ইলমে লাদুন্নী, রসূলে পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম –এর সুন্নতের হুবহু অনুসরণ ও দায়েমী তায়াল্লুক তথা অতুলনীয় ইলম, আমল ও ইখলাছে সন্তুষ্ট হয়ে স্বীয় মুর্শিদ ক্বিবলা রহ্‌মতুল্লাহি আলাইহি তাঁর সম্মানে তাঁকে নামধরে না ডেকে “শাহ ছাহেব” বলে সম্বোধন করতেন।
    এমনকি কুতুবুল আলম যাত্রাবাড়ীর হযরত পীর ছাহেব ক্বিবলা রহ্‌মতুল্লাহি আলাইহি সন্তুষ্ট হয়ে একথাও বলেছিলেন যে, “আল্লাহ পাক যদি আমাকে জিজ্ঞাস করেন, আপনি আমার জন্য উল্লেখযোগ্য কি করেছেন? আমি বলবো, হে আল্লাহ পাক! যামানার মুজাদ্দিদ ও লক্ষ্যস্থল আপনার খাছ ওলী রাজারবাগ শরীফের হযরত পীর ছাহেব ক্বিবলাকে যমীনে রেখে এসেছি।”
    জীবনের শেষ দিকে তিনি প্রায়ই রাজারবাগ শরীফের হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী-এর প্রশংসা করতেন। একদা তিনি প্রসংশা করতে গিয়ে বলেছেন, “আমার শাহ ছাহেব হচ্ছেন রসূলে নোমা, তিনি যে কোন সময় যে কোন লোককে আল্লাহ পাক-এর রসূল হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সাথে দীদার ঘটিয়ে দিতে পারেন।”
    তিনি প্রায়ই স্বীয় মুরীদ-মু’তাকিদদের লক্ষ্য করে বলতেন, “সাবধান! তোমরা কেউ কখনো আমার শাহ ছাহেব-এর সাথে বেয়াদবী করবেনা। যে ব্যক্তি তাঁর সাথে বেয়াদবী করবে সে অবশ্যই হালাক হয়ে যাবে।”
    এ সম্পর্কে বিশেষভাবে উল্লেখ্য যে, কুতুবুল আলম যাত্রাবাড়ীর হযরত পীর ছাহেব ক্বিবলা রহ্‌মতুল্লাহি-এর হায়াতে তইয়্যিবাতে তাঁর দরবার শরীফে একাধিকবার আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াতের বিশুদ্ধ আক্বীদা থেকে বিপথগামী ওহাবী মতবাদ গ্রহণকারী বাপ-দাদার আদর্শ বাদ দিয়ে শিয়া, রাফিজী ও বিধর্মীদের মত গ্রহণকারী, হক্ব সিলসিলার কলঙ্ক, কাবিল ও কিনানের ক্বায়িম-মক্বামসহ কয়েকজন নামধারী ওহাবী ব্যক্তি যাত্রাবাড়ী দরবার শরীফ-এ গিয়ে রাজারবাগ শরীফ-এর হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী-এর বিরুদ্ধে কতগুলো ডাহা মিথ্যা কথা বলে খিলাফত কেটে দেয়ার জন্য অনুরোধ করেছিল। কিন্তু কুতুবুল আলম যাত্রাবাড়ীর হযরত পীর ছাহেব ক্বিবলা রহ্‌মতুল্লাহি আলাইহি বলেছেন, “খিলাফত কেটে দেয়া কস্মিনকালেও সম্ভব নয়। কারণ খিলাফত তো আমি দেইনি বরং তাঁকে (রাজারবাগ শরীফের হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলীকে) স্বয়ং আল্লাহ্‌ পাক ও তাঁর হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামই খিলাফত দিয়েছেন এবং খিলাফত দিতে আমাকে নির্দেশ করেছেন।”
    অনুরূপ অসংখ্য অগণিত প্রসংশা তিনি নিজ যবান মুবারকে করেছেন, সেসবের অসংখ্য প্রত্যক্ষদর্শী আজও বিদ্যমান রয়েছেন। যে কারণে যাত্রাবাড়ীর অনেক মুরীদ বর্তমানে রাজারবাগ শরীফের হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী-এর হাত মুবারকে পুনরায় বাইয়াত গ্রহণ করেছেন ও করছেন।
    হাদীছে কুদসীতে আল্লাহ পাক বলেন, “নিশ্চয়ই আমার ওলীগণ আমার কুদরতের মধ্যে অবস্থান করেন। তাঁদের হাক্বীকী ফযীলত আমি ও আমার খাছ ওলীগণ ব্যতীত কেউই উপলব্ধি করতে পারেন।” (রাহতুল মুহিব্বীন, মসনবীয়ে রূমী, আনীসুল্‌ আরওয়াহ্‌)
    সুতরাং যিনি যামানার মুজাদ্দিদ, আল্লাহ পাক –এর লক্ষ্যস্থল তথা সমসাময়িক সকল ওলী আল্লাহগণের মধ্যে সর্বাধিক মর্যাদা-মর্তবা ও উচ্চ মাক্বামের অধিকারী, তাঁর হাক্বীকী মর্যাদা কেবলমাত্র আল্লাহ পাক ও আল্লাহ পাক যাঁদেরকে উপলব্ধি করার তওফীক দেন, তাঁরাই বুঝতে বা উপলব্ধি করতে পারেন।
    অতএব, প্রমাণিত হলো যে, পীর সাহেবের সাথে সম্পর্ক প্রসঙ্গে যে তথ্য পরিবেশন করেছেন তা সম্পূর্ণরূপে ডাহা মিথ্যা।

    (২) সুদ প্রসঙ্গে আপনার প্রশ্নের জবাবে বলতে হয় যে, পৃথিবীর যমীনে কোন মা এমন কোন সন্তান প্রসব করেনি, যে সন্তান প্রমাণ করতে পারবে যে, মুজাদ্দিদে আ’যম রাজারবাগ শরীফের হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী সুদ ভিত্তিক বা অন্য কোন প্রক্রিয়ায় লোন নিয়েছেন। তাঁর নামে কোন প্রতিষ্ঠান থেকে কোন লোন নেই।

    (৩) মুজাদ্দিদে আ’যমের বুযূর্গ পিতা-মাতা উভয়েই আল্লাহ পাক-এর খাছ ওলী। পিতা ওলীয়ে মাদারজাদ, আফদ্বালুল ইবাদ, ফখরুল আউলিয়া, লিসানুল হক্ব, মুসতাজাবুদ্ দাওয়াত, ছাহিবে কাশফ ওয়া কারামত, ছাহিবে ইসমে আ’যম, গরীবে নেওয়াজ, কুতুবুযযামান, আওলাদুর রসূল, হযরতুল আল্লামা সাইয়্যিদ মুহম্মদ মুখলিছুর রহমান আল হাসানী ওয়াল হুসাইনী ওয়াল কুরাঈশী রহমতুল্লাহি আলাইহি ছিলেন আল্লাহ পাক-এর লক্ষ্যস’ল খাছ ওলী, যিনি ১৯০৮ সালে বর্তমান নারায়ণগঞ্জ জেলার আড়াইহাজার থানাধীন প্রভাকরদী গ্রামের সাইয়্যিদ পরিবারে জম্ম গ্রহণ করেন। তিনি নায়িবে মুজাদ্দিদ, কুতুবুল আলম, আলহাজ্জ, হযরতুল আল্লামা আবু নছর মুহম্মদ আব্দুল হাই ছিদ্দীক্বী ফুরফুরাবী রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর বিশিষ্ট খলীফা।
    হযরতুল আল্লামা সাইয়্যিদ মুহম্মদ মুখলিছুর রহমান রহমতুল্লাহি আলাইহি বংশ পরস্পরা সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিয়্যীন, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সাথে সম্পৃক্ত। পিতা-মাতার দিক থেকে তিনি যথাক্রমে হযরত ইমাম হাসান রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু এবং ইমাম হুসাইন রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু-এর সাথে যুক্ত। এ কারণে তিনি হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সাথে সম্পর্কযুক্ত। রক্ত মুবারকের ধারাবাহিকতায় সঙ্গতকারণেই তিনি আল হাসানী ওয়াল হুসাইনী ওয়াল কুরাঈশী। অর্থাৎ তিনি আওলাদুর রসূল।

    পথভ্রষ্ট ও গোমরাহীতে নিমজ্জিত মানুষকে হিদায়েত দানের লক্ষ্যে সুলতানুল হিন্দ, গরীবে নেওয়াজ,হাবীবুল্লাহ, হযরত খাজা মুঈনুদ্দীন হাসান চিশতী রহমতুল্লাহি আলাইহি বিভিন্ন দেশ হিজরত ও সফর শেষে আল্লাহ পাক এবং রসূলে পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সদয় নির্দেশে ৬০০ হিজরীর মাঝামাঝি সময়ে আজমীর শরীফে তাশরীফ আনেন। তাঁরই অন্তরঙ্গ সঙ্গী ঐ যামানায় আল্লাহ পাক-এর খাছ লক্ষ্যস্থল মাদারজাদ ওলী, আওলাদুর রসূল, হযরত সাইয়্যিদ মুহম্মদ আবূ বকর মুজাদ্দিদী রহমতুল্লাহি আলাইহিও আজমীর শরীফ তাশরীফ আনেন। হিদায়েত দানের কাজে নিমগ্ন হয়ে তিনি আজমীর শরীফ থেকে যান এবং সেখানেই ইন্তিকাল করেন। তাঁর অধস্তন দুই সন্তান হযরত সাইয়্যিদ মুহম্মদ আলাউদ্দিন রহমতুল্লাহি আলাইহি এবং হযরত সাইয়্যিদ মুহম্মদ সালাহুদ্দীণ রহ্‌মতুল্লাহি আলাইহি ১১০০ হিজরীর শেষার্ধে হিদায়েতের আলো নিয়ে আজমীর শরীফ থেকে চট্টগ্রাম এবং অতঃপর সোনারগাঁও আসেন। সাইয়্যিদ মুহম্মদ সালাহুদ্দীন রহ্‌মতুল্লাহি আলাইহি হেদায়াতের কাজে সেখানেই ব্যাপৃত থাকেন এবং সেখানেই ইন্তিকাল করেন। হযরত সাইয়্যিদ মুহম্মদ আলাউদ্দিন রহমতুল্লাহি আলাইহি সোনারগাঁও-এ অল্প কিছুদিন অবস্থানের পর বর্তমান নারায়ণগঞ্জ জেলার আড়াইহাজার থানাধীন প্রভাকরদী গ্রামে হিদায়েতের কেন্দ্র গড়ে তোলেন। তাঁর পুত্র হযরত সাইয়্যিদ মুহম্মদ মালা উদ্দীন রহমতুল্লাহি আলাইহি। তাঁর পুত্র সাইয়্যিদ মুহম্মদ ইলাহী বখশ্ রহমতুল্লাহি আলাইহি। তাঁর পুত্র সাইয়্যিদ মুহম্মদ ওয়ালী বখশ্ রহমতুল্লাহি আলাইহি। তাঁর পুত্র আলোচ্য সাইয়্যিদ মুহম্মদ মুখলিছুর রহমতুল্লাহি আলাইহি। এবং তাঁরই পুত্র মুজাদ্দিদে আ’যম মুদ্দা জিল্লুহুল আলী।
    যদি এর সত্যতা পরীক্ষা ও প্রমাণ করতে চান তাহলে প্রভাকরদী “সাইয়্যিদ বাড়ী” গিয়ে ওলী আল্লাহ গণের নামফলক দেখে আসুন।

    দ্য মুসলিম

    @তুষার (ﭡﺸر),মুল লিখার চাইতে টাইটেলই বেশী। যাই হোক একটা লিংক দিলাম। যতদুর জানি ওদের ফতোয়া সর্বস্তরের মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য। দেইখেন তো যুক্তি খন্ডাতে পারেন কিনা? তাহলে আমরা কিছু শিখতে পারতাম।

    আল্লাহকে পেতে মাধ্যম গ্রহণ

  4. তুষার খান,

    আহমদ ছফার একটি লেখায় পড়েছিলাম উনি বলেছিলেন “নিজের ঢোল নিজেই পিটাতে হয়, কেননা অপরকে দিলে ফাটিয়ে ফেলে” আপনাদের পীর সাহেবের একই অবস্হা, নিজেই নিজের “মোজাদ্দেদ” দাবী করছে এবং মার্কেটিং করে বেরাচ্ছে ।

    তুষার (ﭡﺸر)

    @হাফিজ>>> একবার গাউসূল আ’যম, মুহিউদ্দীন, সাইয়্যিদুল আউলিয়া, হযরত বড় পীর ছাহেব আব্দুল ক্বাদির জিলানী রহমতুল্লাহি আলাইহিকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল আপনি কি গাউসূল আ’যম? তিনি জবাব দিলেন- হ্যাঁ, জিজ্ঞাসা করা হলো আপনি কি মুজাদ্দিদুয্‌ যামান? তিনি জবাব দিলেন- হ্যাঁ, জিজ্ঞাসা করা হলো, আপনি কি ইমামুল আইম্মা? জবাব দিলেন-হ্যাঁ, জিজ্ঞাসাকারীর জিজ্ঞাসা শেষ হয়ে গেল। গাউসূল আ’যম, মুহিউদ্দীন, সাইয়্যিদুল আউলিয়া, হযরত বড় পীর ছাহেব আব্দুল ক্বাদির জিলানী রহমতুল্লাহি আলাইহি বললেন, হে ব্যাক্তি! তোমার কি আর কিছু জানার নেই? জিজ্ঞাসাকারী বললো- না। তখন তিনি বললেন, দেখ তুমি যা বললে আমি তারও উপরে, তারও উপরে, অরাউল অরা, অরাউল অরা, অরাউল অরা, আমার মাক্বাম।
    আপনার কথা মতো গাউসূল আ’যম, মুহিউদ্দীন, সাইয়্যিদুল আউলিয়া, হযরত বড় পীর ছাহেব আব্দুল ক্বাদির জিলানী রহমতুল্লাহি আলাইহি নিজের ঢোল নিজেই পেটালেন।

    দ্য মুসলিম

    @তুষার (ﭡﺸر),
    “কিসের লগে কি, পান্তা ভাতে ঘী”

    এটা একটা পৃরানো প্রবাদ। আপনার সাহস দেখে অবাক হলাম।
    আব্দুল ক্বাদির জিলানী রহমতুল্লাহি আলাইহি এর সাথে আপনি মুদদা জিল্লুর এর তুলনা করলেন!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!

    তুষার (ﭡﺸر)

    @দ্য মুসলিম >>> আপনার কত বড় সাহস যে, আপনি জামানার মুজাদ্দিদ সম্পর্কে আজেবাজে মন্তব্য করেন। এখনো সময় আছে সাবধান হয়ে যান। যদি কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস ভিত্তিক কোন দলীল দেখাতে পারেন তাহলে মন্তব্য করতে আসবেন। যামানার ইমাম তথা ওলীআল্লাহগণের বিরোধিতা প্রসঙ্গে হাদীসে কুদসী শরীফে ইরশাদ হয়েছে, “যে ব্যক্তি কোন ওলীআল্লাহর সঙ্গে বিদ্বেষ পোষণ করে স্বয়ং আমি (আল্লাহ পাক) তার সঙ্গে জিহাদ ঘোষণা করি।” (বুখারী শরীফ)

    বাংলা মৌলভী

    @তুষার (ﭡﺸر), এসব গপগুজবের কোন ভিত্তি আছে কি? ولا تنابزوا بالألقاب লক্বব বাজি নিষেধ, যেমনটি তাছ্ছিল্যার্থে নিষেধ তার চাইতে বেশী নিষেধ সে সব শব্দে যেখানে শিরকপরিপূর্ণ কথা বার্তা। “গাউসুল আযাম” এর শব্দার্থ সর্বশ্রেষ্ঠ সাহায্যকারী আর এটা কেবল আল্লাহর শা`ন, অন্যকারো ক্ষেত্রে ব্যাবহার করা পরিস্কার শিরক।

    তুষার (ﭡﺸر)

    @বাংলা মৌলভী >>> নিজের নিক দিয়েছেন বাংলা মৌলভী অথচ লক্বব ব্যবহার করা যে সুন্নত এটা জানেন না। নিচের লিংকগুলো ভালো করে পড়ুন।
    লক্বব ব্যবহার করা সুন্নত

    হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর লক্বব মুবারক

    লক্বব ব্যবহার করাকে “লক্বব বাজি” বলা মানে হল সুন্নতকে এহানত করা। আর যে সুন্নতকে এহানত করে বা অস্বীকার করে সে অবশ্যই কাফির।
    যে সুন্নতকে অস্বীকার করবে তার সম্পর্কে হাদীস শরীফে এসেছে, “যদি তোমরা তোমাদের নবী পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সুন্নত তরক বা অস্বীকার করো তাহলে অবশ্যই তোমরা কাফির হয়ে যাবে।” (আবূ দাউদ শরীফ)

    হাদীস শরীফে আরো ইরশাদ হয়েছে, “যদি তোমরা তোমাদের নবী পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সুন্নত তরক (অস্বীকার) করো তাহলে তোমরা গুমরাহ হয়ে যাবে।” (আবূ দাউদ শরীফ)
    আর আক্বাইদের কিতাবে বর্ণিত রয়েছে, “সুন্নতকে ইহানত করা কুফরী।”

    আশাদ্দুদ দরজার জাহিল হলেই ” “গাউসুল আযাম” এর শব্দার্থ সর্বশ্রেষ্ঠ সাহায্যকারী আর এটা কেবল আল্লাহর শা`ন, অন্যকারো ক্ষেত্রে ব্যাবহার করা পরিস্কার শিরক।” এরূপ জিহালতপূর্ণ ও দলীলবিহীন বক্তব্য পেশ করা সম্ভব।

    আপনার জিহালতপূর্ণ ও দলীলবিহীন মন্তব্য অনুযায়ী পৃথিবীর সমস্ত “মাওলানা” লক্বব ব্যবহারী আলেমরাই শিরককারী। কারণ আল্লাহ পাক স্বয়ং নিজে কুরআন শরীফে নিজেকেই “মাওলানা” বলে উল্লেখ করেছেন। যেমন ইরশাদ হয়েছে,
    “أَنْتَ مَوْلانَا فَانْصُرْنَا عَلَى الْقَوْمِ الْكَافِرِينَ ”
    অর্থঃ (হে আল্লাহ পাক!) আপনি মাওলানা। সুতরাং কাফিরদের উপর আমাদেরকে সাহায্য করুন। (সূরা বাক্বারা ২৮৬)

    “গাউছুল আ’যম” শব্দটির মতো আরো শত-সহস্র শব্দ কুরআন শরীফ, হাদীস শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াসে রয়েছে যার সরাসরি শাব্দিক অর্থ গ্রহন করলে কুফরী হয়।
    যেমন, (مَكَر) শব্দের অর্থ ধোকা। আল্লাহ পাক কুরআন শরীফে ইরশাদ করেন,
    مَكَرُوْا وَمَكَرَ اَللهُ وَاَللهُ خَيْرُ الْمَاكِرِيْنَ٭
    অর্থঃ- “তারা (কাফিররা) ধোকাবাজী করলো, আল্লাহ পাক প্রজ্ঞা অবলম্বন করলেন, আল্লাহ পাক সর্বত্তোম প্রজ্ঞা অবলম্বনকারী।” (সূরা আলে ইমরান ৫৪)
    এখানে আল্লাহ পাকের শানে (مَكَر) শব্দের শাব্দিক অর্থ গ্রহন করলে আল্লাহ পাককে সর্বত্তোম ধোকাবাজ বলতে হয় অথচ এটি সুস্পষ্ট কুফরী। বরং এখানে আল্লাহ পাকের শানে (مَكَر) শব্দের অর্থ গ্রহন করতে হবে সর্বত্তোম প্রজ্ঞা অবলম্বনকারী।
    ঠিক একইভাবে যদি আল্লাহ পাকের গুণ লক্বব বা উপাধী হিসেবে ব্যবহার করলে আল্লাহ দাবী করা হয় তবে এটাও স্বীকার করতে হবে যে, তৃতীয় খলীফা হযরত উছমান যিন্‌ নূরাইন রদ্বিয়াল্লাহ তায়ালা আনহু আল্লাহ দাবী করেছেন। কারণ মহান আল্লাহ পাক কুরআন শরীফে ইরশাদ করেন,
    وَاَللهُ الْغَنِيُّ وَاَنْتُمُ الْفُقَرَآءُ٭
    অর্থঃ- “মহান আল্লাহ পাক ধনী আর তোমারা ফকির।” (সূরা মুহম্মদ ৩৮)
    এ আয়াত শরীফে আল্লাহ পাক নিজেকে (الْغَنِيُّ) গণী হিসেবে উল্লেখ করেছেন, অর্থাৎ আল্লাহ পাকের একটি নাম মুবারক হচ্ছে ‘গণী’। অথচ স্বয়ং আখেরী রসূল, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হযরত উছমান যিন্‌ নূরাইন রদ্বিয়াল্লাহ তায়ালা আনহুকে ‘গণী’ লক্বব বা উপাধী প্রদান করেন।
    এখন প্রশ্ন হলো- তবে কি হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হযরত উছমান যিন্‌ নূরাইন রদ্বিয়াল্লাহ তায়ালা আনহুকে আল্লাহ বানিয়েছেন? (নাঊযূবিল্লাহ) আর হযরত উছমান যিন্‌ নূরাইন রদ্বিয়াল্লাহ তায়ালা আনহু ‘গণী’ লক্বব বা উপাধী ধারন করার কারণে আল্লাহ দাবী করেছেন? (নাঊযূবিল্লাহ)
    আল্লাহ পাক নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম, আউলিয়া কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম ও ফেরেশতা আলাইহিমুস সালামদের দ্বারা জগত পরিচালনা করে থাকেন। এটা আল্লাহ পাকের অক্ষমতা নয় বরং সম্মান ও মর্যাদার কারণ। যেমন আল্লাহ পাক সবকিছুই জানেন তারপরও ফেরেশতা আলাইহিমুস সালামগণ বান্দার আমল সম্পর্কে আল্লাহ পাককে অবহিত করে থাকেন। এর অর্থ এই নয় যে, আল্লাহ পাক জানেন না তাই ফেরেশতা আলাইহিমুস সালামগণ অবহিত করে । আল্লাহ পাক যে আউলিয়া কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম ও ফেরেশতা আলাইহিমুস সালামদের দ্বারা জগত পরিচালনা করে থাকেন, তার প্রমাণ কুরআন শরীফ ও হাদীস শরীফেই রয়েছে। যেমন আল্লাহ পাক কুরআন শরীফে ইরশাদ করেন,
    “(জগতের) কার্য নির্বাহকারী।” (সূরা নাযিয়াত ৫)
    উক্ত আয়াত শরীফের ব্যাখ্যায় বিশ্ববিখ্যাত তাফসীর গ্রন্থ “তাফসীরে খাযীন” ও “তাফসীরে বাগবী” শরীফে উল্লেখ আছে,
    “(কার্য নির্বাহকারী) হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বলেন, তাঁরা হলেন ফেরেশতা আলাইহিমুস সালামগণ। …… হযরত আব্দুর রহমান ইবনে সাবিত রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বলেন, চারজন ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম জগতের কার্য নির্বাহ করে থাকেন। হযরত জিব্রাঈল, হযরত মীকাঈল, হযরত মালাকুল মউত আযরাঈল ও হযরত ইস্রাফীল আলাইহিমুস সালাম। হযরত জিব্রাঈল আলাইহিস্‌ সালাম ওহী, বাতাস ও সৈন্য পরিচালনার দায়িত্বে নিয়োজিত। হযরত মীকাঈল আলাইহিস্‌ সালাম বৃষ্টি, ফসল ও রিযিকের দায়িত্বে নিয়োজিত। হযরত মালাকুল মউত আযরাঈল আলাইহিস্‌ সালাম রূহ কবয করার দায়িত্বে নিয়োজিত। হযরত ইস্রাফীল আলাইহিস্‌ সালাম শিঙ্গায় ‘ফু’ দেয়ার দায়িত্বে নিয়োজিত।
    কোন কোন তাফসীরে উক্ত আয়াত শরীফের ব্যাখ্যায় বিশেষ বিশেষ আউলিয়া কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিমগণের হাতে বিশেষ বিশেষ কাজের দায়িত্ব ন্যস্ত করার কথাও উল্লেখ আছে। এ প্রসঙ্গে হাদীস শরীফে উল্লেখ আছে যে, “হযরত ইমাম আহমদ বিন হাম্বল রহমতুল্লাহি আলাইহি তাঁর ‘মসনদে আহমদ’ শরীফে উল্লেখ করেন, হযরত আলী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু যখন ইরাকে অবস্থান করছিলেন তখন তাঁর সম্মুখে শামবাসীদের সম্পর্কে আলোচনা হচ্ছিল। লোকজন বললো, হে আমীরুল মু’মিনীন রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু! শামবাসীদের উপর বদদোয়া করুন। হযরত আলী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বললেন, না। কারণ আমি হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন, ‘আব্দালগণ শামদেশেই থাকেন, তাঁরা সংখ্যায় ৪০জন। যখন তাঁদের মধ্যে একজন ইন্তেকাল করেন তখন আরেকজন দিয়ে সে স্থান পূর্ণ করা হয়। তাঁদের মাধ্যমে শামবাসী বৃষ্টি পেয়ে থাকে, শত্রুর উপর বিজয়ী হওয়ার জন্য সাহায্য পেয়ে থাকে এবং তাঁদের মাধ্যমে তারা আযাব-গজব থেকে বেঁচে থাকে।”
    এ প্রসঙ্গে হাদীস শরীফে আরো উল্লেখ আছে যে, “হযরত ইমাম তিবরানী রহমতুল্লাহি আলাইহি তাঁর ‘কবীর’ কিতাবে উল্লেখ করেন, হযরত উবাদা ইবনে ছামেত রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু হতে বর্ণিত, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, আমার উম্মতের মধ্যে ৩০জন আব্দাল সর্বদাই থাকবেন। তাঁদের মাধ্যমে জমিন কায়িম থাকবে, তাঁদের মাধ্যমে মানুষ বৃষ্টি পাবে এবং তাঁদের মাধ্যমে মানুষ সাহায্যপ্রাপ্ত হবে।”
    এ প্রসঙ্গে হাদীস শরীফে আরো বর্ণিত আছে যে, “হযরত ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বর্ণনা করেন, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, পৃথিবীতে এরূপ ৪০জন ব্যাক্তি (ওলী) সর্বদাই থাকবেন। যাঁদের মাধ্যমে আল্লাহ পাক জমিনকে হেফাযত করবেন।” (হিলাইয়াতুল আউলিয়া)
    অন্যত্র আল্লাহ পাকের হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “তাঁদের মাধ্যমেই মানুষ বেঁচে থাকবে, মারা যাবে, বৃষ্টি পাবে, ফসল পাবে এবং বালা-মুছীবত দূর হবে।” (হিলাইয়াতুল আউলিয়া)
    এ প্রসঙ্গে হাদীস শরীফে আরো ইরশাদ হয়েছে যে, হযরত মুয়ায বিন জাবাল রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু হতে বর্ণিত, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “আব্দালদের মধ্য এমন ৩জন রয়েছেন যাঁদের মাধ্যমে দুনিয়া কায়িম থাকবে।” (হিলাইয়াতুল আউলিয়া)
    হযরত ক্বাতাদাহ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু হতে বর্ণিত তিনি বলেন, “এরূপ ৪০জন লোক থেকে জমিন কখনো খালি থাকবেনা, তাঁদের মাধ্যমে মানুষ বৃষ্টি পাবে, সাহায্যপ্রাপ্ত হবে এবং রিযিকপ্রাপ্ত হবে।” (হিলাইয়াতুল আউলিয়া)
    এ প্রসঙ্গে আরো উল্লেখ আছে, “সমস্ত শহরেই ৭জন এরূপ ওলী থাকেন যাঁদের মাধ্যমে মানুষ বৃষ্টি লাভ করে, শত্রুর বিরুদ্বে সাহায্যপ্রাপ্ত হয় এবং তাঁদের মাধ্যমেই আল্লাহ পাক জগতের কার্যসমূহ সম্পাদন করেন।” (হিলাইয়াতুল আউলিয়া)
    স্মর্তব্য যে, জগতখ্যাত আলিমে দ্বীন, সুলতানুল আরিফীন, মুজাদ্দিদুয্‌ জামান, ইমামুল মুহাদ্দিছীন, তাজুল মুফাস্‌সিরীন, হযরত ইমাম জালালুদ্দীন সূয়ূতী রহমতুল্লাহি আলাইহি তাঁর বিশ্বখ্যাত ও সর্বজনমান্য কিতাব “আল হাবী লিল ফতওয়া”তে উল্লিখিত হাদীস শরীফসমূহ উল্লেখ করতঃ এটাই প্রমাণ করেছেন যে, জগতে অসংখ্য গাউছ, কুতুব, আব্দাল, আওতাদ, নক্বীব, নুজাবা, আখইয়ার তথা আউলিয়া কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম আছেন, এবং ক্বিয়ামত পর্যন্ত থাকবেন, তাঁদের মাধ্যমেই আল্লাহ পাক জগত পরিচালনা করে থাকেন। কেননা উল্লিখিত হাদীস শরীফসমূহে এ বিষয়ে স্পষ্ট উল্লেখ আছে যে,
    (১) بِهِمْ يُغَاثُ النَّا سُ – তাঁদের মাধ্যমে মানুষ সাহায্যপ্রাপ্ত হবে।
    (২) تُنْصَرُوْنَ عَلَي الْعَدُوِّ – শত্রুর উপর বিজয়ী হওয়ার জন্য সাহায্যপ্রাপ্ত হবে।
    (৩) يُدْ فَعُ الْبَلاَءُ وَالْعَذَابُ – তাঁদের উসীলায় বালা-মুছীবিত, আযাব-গজব দূর হবে।
    (৪) يُحْيِيْ وَيُمِيْتُ – বেঁচে থাকবে ও মৃত্যু হবে।
    (৫) يُنْبِتُ وَيُرْزَقُوْنَ – ফসল ও রিযিক পাবে।
    (৬) يُحْفَظُ الْاَرْضُ – জমিন হিফাযত থাকবে।
    (৭) تَقُوْمُ الْاَرْضُ – জমিন কায়িম থাকবে।
    (৮) قَوَّمُ الدُّنْيَا – দুনিয়া কায়িম থাকবে।
    (৯) يُقِيْمُ اَمْرَ الدُّنْيَا – জগতের কার্যাবলী সম্পাদিত হবে।
    যাদ্বারা প্রমাণিত হয় যে, মহান আল্লাহ পাক হযরত আউলিয়া কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিমগণের হাতে জগত পরিচালনার দায়িত্ব ন্যস্ত করেছেন। অর্থাৎ মহান আল্লাহ পাক ওলীগণের মাধ্যমে জগত পরিচালনা করে থাকেন। ওলীগণ মহান আল্লাহ পাকের খলীফা বা প্রতিনিধি হিসেবেই জগতের কার্যসমূহ সম্পাদন করে থাকেন। অতএব, যাঁদের মাধ্যমে জগতের মানুষ সাহায্যপ্রাপ্ত হয় তাঁরাই “গাউছ”, আর গাউছদের মধ্যে যিনি তাঁর যামানায় প্রধান থাকেন তিনিই “গাউছুল আ’যম”। সুতরাং এ অর্থে এবং উপরোক্ত আয়াত শরীফ ও শদীস শরীফসমূহের দৃষ্টিতে “গাউছুল আ’যম” উপাধী মাখলুকের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।
    অতএব, উপরোক্ত বিস্তারিত ও দলীল ভিত্তিক আলোচনা দ্বারা অকাট্যভাবেই প্রমাণিত হলো যে, কোন মাখলুক সবচেয়ে বড় সাহায্যকারী বা উদ্ধারকারী হতে পারে না- এই বক্তব্যটি সম্পূর্ণই কুরআন শরীফ ও সুন্নাহ শরীফের খিলাফ। সাথে সাথে কুরআন শরীফের আয়াত শরীফ ও অসংখ্য ছহীহ হাদীস শরীফ অস্বীকার করার নামান্তর। যা কাট্টা কুফরীর পর্যায়ভুক্ত।
    এছাড়াও “গাউছুল আ’যম” লক্বব বা উপাধীটি শুধু হযরত আব্দুল ক্বাদির জিলানী রহমতুল্লাহি আলাইহি-এরই নয়। অন্যান্য আরো বড় বড় ওলী আল্লাহরাও এই লক্বব ব্যবহার করতে পারেন। কেননা হযরত আব্দুল ক্বাদির জিলানী রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর মর্যাদা এই লক্বব পর্যন্তই সীমাবদ্ধ নয়। যেমন একবার গাউসূল আ’যম, মুহিউদ্দীন, সাইয়্যিদুল আউলিয়া, হযরত বড় পীর ছাহেব আব্দুল ক্বাদির জিলানী রহমতুল্লাহি আলাইহিকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল আপনি কি গাউসূল আ’যম? তিনি জবাব দিলেন- হ্যাঁ, জিজ্ঞাসা করা হলো আপনি কি মুজাদ্দিদুয্‌ যামান? তিনি জবাব দিলেন- হ্যাঁ, জিজ্ঞাসা করা হলো, আপনি কি ইমামুল আইম্মা? জবাব দিলেন-হ্যাঁ, জিজ্ঞাসাকারীর জিজ্ঞাসা শেষ হয়ে গেল। গাউসূল আ’যম, মুহিউদ্দীন, সাইয়্যিদুল আউলিয়া, হযরত বড় পীর ছাহেব আব্দুল ক্বাদির জিলানী রহমতুল্লাহি আলাইহি বললেন, হে ব্যাক্তি! তোমার কি আর কিছু জানার নেই? জিজ্ঞাসাকারী বললো- না। তখন তিনি বললেন, দেখ তুমি যা বললে আমি তারও উপরে, তারও উপরে, অরাউল অরা, অরাউল অরা, অরাউল অরা, আমার মাক্বাম।
    সুতরাং, যারা তাঁকে “গাউছুল আ’যম” পর্যন্তই সীমাবদ্ধ করবে তারা তাঁর সাথে চরম বেয়াদবি করবে। আরেকটি বিষয় হচ্ছে প্রত্যেক ওলী আল্লাহর লক্ববগুলো তাঁর যামানার জন্যই খাছ।

    আল্লাহ আপনাকে হেদায়েত দান করুন। আমিন। (F)

    দ্য মুসলিম

    @তুষার (ﭡﺸر) ,লক্বব ব্যবহার সুন্নাহ। এর দলিল এর জন্য আপনি বার বার লিংক দিচ্ছেন কেন???? আপনি নিজে পড়ে এখানে পেষ্ট করলে ভালো হত। তাহলে সবাই কিছু শিখতে পারতাম। অনুগ্রহ করে লিংক দিবেন না। কারন আপনি এতটা নির্ভরযোগ্য লোক নন যে আপনার কথার উপর ভরসা করে কষ্ট করে ডাউনলোড করে করতে হবে। তাছাড়া সবার নেট স্পীড ও সমান নয়, তাছাড়া পি.ডি.এফ পড়ার জন্য আলাদা সফটঅয়্যার প্রয়োজন।

    তাছাড়া আপনি পোষ্ট আকারেও দিতে পারেন।

    হাফিজ

    @তুষার (ﭡﺸر),

    আপনার কথা মতো গাউসূল আ’যম, মুহিউদ্দীন, সাইয়্যিদুল আউলিয়া, হযরত বড় পীর ছাহেব আব্দুল ক্বাদির জিলানী রহমতুল্লাহি আলাইহি নিজের ঢোল নিজেই পেটালেন।

    না বড় পীর ছাহেব আব্দুল ক্বাদির জিলানী রহমতুল্লাহি নিজের ঢোল পিটান নাই , উনি ছিলেন খুব বড় মাপের আল্লাহ ওয়ালা । উনি দুনিয়াকে বিসর্জন দিয়েছিলেন ।

    আচ্ছা আমার একটা প্রশ্ন একই সময় অনেকে যদি নিজেকে “মোজাদ্দেদ” দাবী করে তাহলে আমরা কিভাবে চিনব কোনজন আসল ?

  5. @তুষার খান,

    আমাকে কে যেন বলেছিল “দেওয়ানবাগী” বর্তমান জামানার মোজাদ্দেদ । কেউ বলল “সাইদাবাদী” বর্তমান জামানার মোজাদ্দেদ । এখন আমাকে বললেন আমরা মোজাদ্দেদ চিনবো কিভাবে ?

    আপনার পীর সাহেবের এডুকেশনাল ব্যাকগ্রাউন্ড কি ? উনি এলেম কার থেকে শিক্ষা করেছেন ?

    সাউন্ড অফ ইসলাম

    @হাফিজ, ভাইয়া, কি যে বলেন না, যাদের নামের আগে আগাছা বেশী দেখবেন তারাই জামানার মোজাদ্দেদ।

    দ্য মুসলিম

    @সাউন্ড অফ ইসলাম, আপনার এই কথা শুধুমাত্র বর্তমান সময়ের জন্য প্রযোজ্য। তাই না?

    হাফিজ

    @দ্য মুসলিম, হ্যা আমিও মনে করি এটা বর্তমান সময়ের জন্য প্রযোজ্য । আর আমার মনে হয় লকব তেমন গুরুত্বপূর্ন বিষয় না , কেউ ইচ্ছে করলে লাগাতেও পারে আবার নাও পারে । কিন্তু আমাদের দেখতে হবে শরীয়তের আরো গুরুত্বপূর্ন বিষয়গুলোতে কোনো কনফ্লিক্ট আছে কিনা ।

    তাদের হজ্বের ফতোয়া কোনোমতেই গ্রহনযোগ্য নয় । এছাড়া তাদের “আল ইহসান” , “আল বাইয়্যিনাতে” প্রচুর বিদ্বেষ ছড়ানো থাকে । শুধু অপরেরে সমালোচনা আর সমালোচনা । তাদের পত্রিকা পড়লে মনে হয় ইসলাম ধর্ম প্রচারের চেয়ে অন্যান্য আলেমদের গালাগালি করাই তাদের মুল লক্ষ্য ।

    তুষার (ﭡﺸر)

    @হাফিজ >>> আপনি লিখেছেন “ আমার মনে হয় লকব তেমন গুরুত্বপূর্ন বিষয় না” অথচ লক্বব ব্যবহার করা সুন্নত। আর আপনার উক্ত মন্তব্য দ্বারা সুন্নতকেই অস্বীকার করা হয়েছে।
    সুন্নতকে অস্বীকার করা সম্পর্কে হাদীস শরীফে এসেছে, “যদি তোমরা তোমাদের নবী পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সুন্নত তরক বা অস্বীকার করো তাহলে অবশ্যই তোমরা কাফির হয়ে যাবে।” (আবূ দাউদ শরীফ)
    হাদীস শরীফে আরো ইরশাদ হয়েছে, “যদি তোমরা তোমাদের নবী পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সুন্নত তরক (অস্বীকার) করো তাহলে তোমরা গুমরাহ হয়ে যাবে।” (আবূ দাউদ শরীফ)
    আর আক্বাইদের কিতাবে বর্ণিত রয়েছে, “সুন্নতকে ইহানত করা কুফরী।”
    আপনার পরবর্তী মন্তব্য “কেউ ইচ্ছে করলে লাগাতেও পারে আবার নাও পারে ।” এই বক্তব্যটি ঠিক আছে। কেউ লক্বব ব্যবহার করা সুন্নত, এই ব্যাপারটি মানে তবে ব্যক্তিগতভাবে যদি লক্বব না লাগায় তাহলে কোন সমস্যা নেই। কিন্তু যদি বলা হয় এটি কোন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নয় তখনই সে সুন্নতকে অস্বীকার করলো।
    “কিন্তু আমাদের দেখতে হবে শরীয়তের আরো গুরুত্বপূর্ন বিষয়গুলোতে কোনো কনফ্লিক্ট আছে কিনা ।” আপনার এই বক্তব্যটিও সঠিক হয়েছে।
    আপনি বলেছেন “তাদের হজ্বের ফতোয়া কোনোমতেই গ্রহনযোগ্য নয়।” এর দ্বারা আপনি কি বুঝাতে চেয়েছেন কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াসের আলোকে ব্যাখ্যা করুন।
    আপনি আরো লিখেছেন “তাদের “আল ইহসান” , “আল বাইয়্যিনাতে” প্রচুর বিদ্বেষ ছড়ানো থাকে । শুধু অপরেরে সমালোচনা আর সমালোচনা। তাদের পত্রিকা পড়লে মনে হয় ইসলাম ধর্ম প্রচারের চেয়ে অন্যান্য আলেমদের গালাগালি করাই তাদের মুল লক্ষ্য।”
    পূর্বে আপনার মতো এরূপ আরো অনেকে “আল ইহসান” ও ”আল বাইয়্যিনাত” সম্পর্কে মিথ্যা তোহমত দিয়ে বলেছে- (১) আল বাইয়্যিনাতে গালি-গালাজ লিখা হয়, (২) উলামায়ে কিরাম বা নায়িবে নবীগণকে গালি-গালাজ করা হয়। (নাঊযুবিল্লাহ)
    তাদের সে মিথ্যা তোহমতের যে জবাব দেয়া হয়েছিল তা এই লিংকে তুলে ধরা হলো, যা পড়লে আপনি বুঝতে পারবেন, আল বাইয়্যিনাতে গালি-গালাজ লিখা হয় না কুরআন-সুন্নাহ্‌সম্মত হক্ব সমালোচনা করা হয়। আরো বুঝতে পারবেন প্রকৃত নায়িবে নবী বা হক্কানী আলিম কারা।

    Areef

    @তুষার (ﭡﺸر),
    দেখলাম আপনি লগইন করলেন। ভাবলাম আমার প্রশ্নের জবাব দিবেন। প্রশ্নটা আন্য এক জায়গায় করেছি। আবারো করছি,
    আপনার পীর যে মুজাদ্দিদ তার দলীল দেন।

    এবার দ্বিতীয় প্রসংগ।
    উপরে আপনি বলেছেন লকব ব্যবহার করা সুন্নত। আমার প্রশ্ন:
    ১। আপনার পীরের সব মুরীদই কি লকব ব্যবহার করে?
    ২। কে কোন লকব ব্যবহার করবে এটা কিভাবে ঠিক করেন?
    ৩। আমিও এই সুন্নত পালন করতে চাই। তো তুষার ভাই, আমি কোন লকব পছন্দ করবো? আমার কিন্তু পছন্দ ‘মুজাদ্দিদে আযম’। আপনার কি কোন আপত্তি আছে?

    আপাতত এটুকুই।

    আল্লাহপাক আমাদের সবাইকে সঠিক পথে রাখুন।

  6. দেশের মূলধারা ‘আলেমরা বিশ্বাস করেন যে, আল-ইহসান ও বায়্যিনাত এবং কারিতাস(খৃষ্টান মিশনারীদের স্বার্থ সংরক্ষণকারী NGO) এক এবং অভিন্ন লক্ষ্যে কাজ করে থাকে:প্রকৃত ইসলাম থেকে মানুষকে দূরে রাখা। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক চরম ইসলামবিদ্বেষী think tank, RAND Corporation-এর একটা নথি থেকে একাংশ তুলে দিলাম – যা পড়লে যে কেউ বুঝতে পারবেন, মুদ্দা দ্বিল্লুর-রা কার হয়ে কাজ করছেন:

    There is no question that contemporary Islam is in a volatile state, engaged in an internal and external struggle over its values, its identity, and its place in the world. Rival versions are contending for spiritual and political dominance. This conflict has serious costs and economic, social, political, and security implications for the rest of the world. Consequently, the West is making an increased effort to come to terms with, to understand, and to influence the outcome of this struggle.

    Clearly, the United States, the modern industrialized world, and indeed the international community as a whole would prefer an Islamic world that is compatible with the rest of the system: democratic, economically viable, politically stable, socially progressive, and follows the rules and norms of international conduct. They also want to prevent a “clash of civilizations” in all of its possible variants—from increased domestic unrest caused by conflicts between Muslim minorities and “native” populations in the West to increased militancy across the Muslim world and its consequences, instability and terrorism. It therefore seems judicious to encourage the elements within the Islamic mix

    that are most compatible with global peace and the international community and that are friendly to democracy and modernity. However, correctly identifying these elements and finding the most suitable way to cooperate with them is not always easy.

    Islam’s current crisis has two main components: a failure to thrive and a loss of connection to the global mainstream. The Islamic world has been marked by a long period of backwardness and comparative powerlessness; many different solutions, such as nationalism, pan-Arabism, Arab socialism, and Islamic revolution, have been attempted without success, and this has led to frustration and anger. At the same time, the Islamic world has fallen out of step with contemporary global culture, an uncomfortable situation for both sides. Muslims disagree on what to do about this, and they disagree on what their society ultimately should look like. We can distinguish four essential positions:

    x Civil Democratic Islam: Partners, Resources, and Strategies

    • Fundamentalists reject democratic values and contemporary Western culture. They want an authoritarian, puritanical state that will implement their extreme view of Islamic law and morality. They are willing to use innovation and modern technology to achieve that goal.

    • Traditionalists want a conservative society. They are suspicious of modernity, innovation, and change.

    • Modernists want the Islamic world to become part of global modernity. They want to modernize and reform Islam to bring it into line with the age.

    • Secularists want the Islamic world to accept a division of church and state in the manner of Western industrial democracies, with religion relegated to the private sphere. These groups hold distinctly different positions on essential issues that have become contentious in the Islamic world today, including political and individual freedom, education, the status of women, criminal justice, the legitimacy of

    reform and change, and attitudes toward the West.

    The fundamentalists are hostile to the West and to the United States in particular and are intent, to varying degrees, on damaging and destroying democratic modernity. Supporting them is not an option, except for transitory tactical considerations. The traditionalists generally hold more moderate views, but there are significant differences between different groups of traditionalists. Some are close to the fundamentalists. None wholeheartedly embraces modern democracy and the culture and values of modernity and, at best, can only make

    an uneasy peace with them. The modernists and secularists are closest to the West in terms of values and policies. However, they are generally in a weaker position than the other groups, lacking powerful backing, financial resources, an effective infrastructure, and a public platform. The secularists, besides sometimes being unacceptable as allies on the basis of their broader ideological affiliation, also have

    trouble addressing the traditional sector of an Islamic audience.

    Traditional orthodox Islam contains democratic elements that can be used to counter the repressive, authoritarian Islam of the fundamentalists, but it is not suited to be the primary vehicle of democratic Islam. That role falls to the Islamic modernists, whose effectiveness, however, has been limited by a number of constraints, which this report will explore.

    To encourage positive change in the Islamic world toward greater democracy, modernity, and compatibility with the contemporary international world order, the United States and the West need to consider very carefully which elements, trends, and forces within Islam they intend to strengthen; what the goals and values of their various potential allies and protégés really are; and what the broader consequences of advancing their respective agendas are likely to be. A mixed approach composed of the following elements is likely to be the most effective:

    Summary xi

    • Support the modernists first:

    — Publish and distribute their works at subsidized cost.

    — Encourage them to write for mass audiences and for youth.

    — Introduce their views into the curriculum of Islamic education.

    — Give them a public platform.

    — Make their opinions and judgments on fundamental questions of religious interpretation available to a mass audience in competition with

    those of the fundamentalists and traditionalists, who have Web sites, publishing houses, schools, institutes, and many other vehicles for disseminating their views.

    — Position secularism and modernism as a “counterculture” option for disaffected Islamic youth.

    — Facilitate and encourage an awareness of their pre- and non-Islamic history and culture, in the media and the curricula of relevant countries.

    — Assist in the development of independent civic organizations, to promote civic culture and provide a space for ordinary citizens to educate themselves about the political process and to articulate their views.

    • Support the traditionalists against the fundamentalists:

    — Publicize traditionalist criticism of fundamentalist violence and extremism; encourage disagreements between traditionalists and fundamentalists.

    — Discourage alliances between traditionalists and fundamentalists.

    — Encourage cooperation between modernists and the traditionalists who are closer to the modernist end of the spectrum.

    — Where appropriate, educate the traditionalists to equip them better for debates against fundamentalists. Fundamentalists are often rhetorically superior, while traditionalists practice a politically inarticulate “folk Islam.” In such places as Central Asia, they may need to be educated and trained in orthodox Islam to be able to stand their ground.

    — Increase the presence and profile of modernists in traditionalist institutions.

    xii Civil Democratic Islam: Partners, Resources, and Strategies

    — Discriminate between different sectors of traditionalism. Encourage those with a greater affinity to modernism, such as the Hanafi law

    school, versus others. Encourage them to issue religious opinions and popularize these to weaken the authority of backward Wahhabi inspired religious rulings. This relates to funding: Wahhabi money goes to the support of the conservative Hanbali school. It also relates to

    knowledge: More-backward parts of the Muslim world are not aware of advances in the application and interpretation of Islamic law.

    — Encourage the popularity and acceptance of Sufism.

    • Confront and oppose the fundamentalists:

    — Challenge their interpretation of Islam and expose inaccuracies.

    — Reveal their linkages to illegal groups and activities.

    — Publicize the consequences of their violent acts.

    — Demonstrate their inability to rule, to achieve positive development of their countries and communities.

    — Address these messages especially to young people, to pious traditionalist populations, to Muslim minorities in the West, and to women.

    — Avoid showing respect or admiration for the violent feats of fundamentalist extremists and terrorists. Cast them as disturbed and cowardly, not as evil heroes.

    — Encourage journalists to investigate issues of corruption, hypocrisy, and immorality in fundamentalist and terrorist circles.

    — Encourage divisions among fundamentalists.

    • Selectively support secularists:

    — Encourage recognition of fundamentalism as a shared enemy, discourage secularist alliance with anti-U.S. forces on such grounds as

    nationalism and leftist ideology.

    — Support the idea that religion and the state can be separate in Islam too and that this does not endanger the faith but, in fact, may strengthen it. Whichever approach or mix of approaches is chosen, we recommend that it be done with careful deliberation, in knowledge of the symbolic weight of certain issues; the meaning likely to be assigned to the alignment of U.S. policymakers with particular positions on these issues; the consequences of these alignments for other Islamic actors, including the risk of endangering or discrediting the very groups and people we are seeking to help; and the opportunity costs and possible unintended consequences of affiliations and postures that may seem appropriate in the short term.

    বাংলা মৌলভী

    @mariner, এরা নব্য যমানার ফজল, এদের গোপন আতাত খৃস্টান মিশনারীর সাথে যেমনটি ছিল ভারতের তদানিন্তন বেরলী-কাদিয়ানী এবং আহমদীদের। এদের মুখোশ উম্মোচন করুন। ধন্যবাদ

    দ্য মুসলিম

    @বাংলা মৌলভী,
    100% একমত। (Y)

  7. যিনি বর্তমান পঞ্চদশ হিজরী শতাব্দীর মুজাদ্দিদ তিনি হচ্ছেন খলীফাতুল্লাহ, খলীফাতু রসূলিল্লাহ, ইমামুশ শরীয়ত ওয়াত তরীক্বত, ইমামুল আইম্মাহ, মুহ্‌ইস সুন্নাহ, কুতুবুল আলম, মুজাদ্দিদে আ’যম, হুজ্জাতুল ইসলাম, ছাহিবু সুলত্বানিন নাছীর, আওলাদে রসূল, মাওলানা হযরত ইমাম সাইয়্যিদ মুহম্মদ দিল্লুর রহমান আল হাসানী ওয়াল হুসাইনী ওয়াল কুরাঈশী (মুদ্দা জিল্লুহুল আলী) রাজারবাগ শরীফ, ঢাকা।

    ভাইজান, নামটা তো দেখছি, মুদ্দা জিল্লুহুল আলী। তার আগে এই সব কি লাগাইছেন?

    অফটপিক : পাগলের প্রলাপ শুনে আমি হাসিতে হাসিতে শেষ।

    দ্য মুসলিম

    @সাউন্ড অফ ইসলাম, ওগুলো লক্বব। চিন্তা করতাছি আমিও লাগামু।

    সাউন্ড অফ ইসলাম

    @দ্য মুসলিম, ভাই, আসলে বুঝিনি, এই সব ..গ..ল যে কইত্তে আমদামি হয়।

    দ্য মুসলিম

    @সাউন্ড অফ ইসলাম, রাজারবাগ থেকে আমদানীকৃত। একদম পিওর পিস।

    ফাহাদ

    @সাউন্ড অফ ইসলাম, আরে ভাই (মুদ্দা জিল্লুহুল আলী) ওইল সম্মান আর মাওলানা হযরত ইমাম সাইয়্যিদ মুহম্মদ দিল্লুর রহমান আল হাসানী ওয়াল হুসাইনী ওয়াল কুরাঈশী রাজারবাগ শরীফ, তবে রাজারবাগ শরীফটা মনে হয় ওনার নাম না অইডা কোন পাক জায়গার নাম মনে হচ্ছে যেমন পাকিস্তান ।হাহাহা……………… :)

    তুষার (ﭡﺸر)

    @সাউন্ড অফ ইসলাম, লক্বব ব্যবহার করা সুন্নত । আর যে সুন্নতকে এহানত করে বা অস্বীকার করে সে অবশ্যই কাফির।
    যে সুন্নতকে অস্বীকার করবে তার সম্পর্কে হাদীস শরীফে এসেছে, “যদি তোমরা তোমাদের নবী পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সুন্নত তরক বা অস্বীকার করো তাহলে অবশ্যই তোমরা কাফির হয়ে যাবে।” (আবূ দাউদ শরীফ)
    হাদীস শরীফে আরো ইরশাদ হয়েছে, “যদি তোমরা তোমাদের নবী পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সুন্নত তরক (অস্বীকার) করো তাহলে তোমরা গুমরাহ হয়ে যাবে।” (আবূ দাউদ শরীফ)
    আর আক্বাইদের কিতাবে বর্ণিত রয়েছে, “সুন্নতকে ইহানত করা কুফরী।”

    Malcolm X

    @তুষার জনাব, এখানে সুন্নতকে কেউ অস্বিকার করতেছে না। আপনার পীর সাহেবের লক্বব ব্যবহার করা নিয়ে সবাই হাসাহাসি করতেছে । কেননা উনার এসব লকব ব্যবহার করার কোনো যোগ্যতা নাই । উনি সিম্পল বি এ পাশ করা ব্যক্তি । ওনার পীর সাহবে হযরত ওয়াজিহুল্লাহ (রহ:) মারা যাবার আগে কি কি বলে গেছে সেটা এখন যাত্রাবাড়ীতে গেলে সবাই জানতে পারবে ।

    আপনি এত বড় বড় লেকচার দ্যান যে উনি প্রধান খলীফা ওনার পীর সাহেবের , অথচ রাজারবাগের পীর সাহেব ওনার পীর সাহব হযরত ওয়াজীহুল্লাহ (রহ:) মারা যাবার পর উনার জানাজায় যায় নাই । কেমন প্রধান খলীফা যে পীর সাহেবের জানাজায় যায় নাই । কেমন প্রধান খলীফা যে পীর সাহেবের বাসার সামনে মাহফীল করে কিন্তু তার সাথে দেখা করে না । এতই মহব্বত যে পীর সাহেবের সাথে শেষ ১০ বছর দেখা করেন নাই ?

    তুষার (ﭡﺸر)

    @Malcolm X >>> সাধারণত যিনি মুজাদ্দিদ হন, তিনি কোন অবস্থাতেই ইচ্ছাকৃতভাবে সুন্নতের খিলাফ কোন কাজ করেন না। মাথার তালু থেকে পায়ের তলা, হায়াত থেকে মউত পর্যন্ত অর্থাৎ তিনি সমস্ত কাজই করেন সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খতামুন্‌ নবিয়্যীন, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সুন্নত অনুযায়ী।
    স্মর্তব্য যে, ওলীআল্লাহ্‌ রহ্‌মতুল্লাহি আলাইহিমগণের শানে কিতাবে উল্লেখ করা হয়েছে, “একেক ফুলের একেক রঙ ও ঘ্রাণ।”
    অর্থাৎ হযরত আউলিয়ায়ে কিরাম রহ্‌মতুল্লাহি আলাইহিমগণ প্রত্যেকেই ভিন্ন ভিন্ন বৈশিষ্ট্যে বৈশিষ্ট্যবান। এক্ষেত্রে বর্তমান যামানার ইমাম ও মুজাদ্দিদ, রাজারবাগ শরীফ-এর হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী-এর অসংখ্য বৈশিষ্ট্যের মধ্যে একটি বিশেষ ও শ্রেষ্ঠতম বৈশিষ্ট্য হলো, তিনি প্রতি ক্ষেত্রে সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খতামুন্‌ নবিয়্যীন, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সুন্নত-এর অনুসরণ করেন। এক কথায় এতটুকু বলা চলে যে, রাজারবাগ শরীফ-এর হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী-এর এককভাবে ও একইসাথে যতগুলো সুন্নতের আমল দেখা যায়, তা অন্য কারো আমল বা জীবনীর মধ্যে পাওয়া যায় না। কাজেই কি করে লক্বব ব্যবহারের মতো একটি সুন্নতকে তিনি তরক করতে পারেন? মূলতঃ তিনি কোন অবস্থাতেই সুন্নতের খিলাফ কোন কাজ করেন না। শুধু তাই নয়, তাঁর বরকতময় ছোহ্‌বতের তাছীরে, ছোহ্‌বত অর্জনকারীগণও সুন্নত অনুযায়ী আমল করেন।
    প্রকৃতপক্ষে ওলীআল্লাহ্‌ রহ্‌মতুল্লাহি আলাইহিমগণ তাঁদের লক্বব মুবারক প্রকাশ করেন মহান আল্লাহ্‌ পাক-এর পক্ষ থেকে ইল্‌হাম-ইলকার মাধ্যমে নির্দেশ প্রাপ্ত হয়ে। আর যাঁরা মুজাদ্দিদ শ্রেণীর ওলীআল্লাহ্‌, তাঁদের প্রতিটি কথা, কাজ ইত্যাদি যে ইল্‌হাম-ইলকার দ্বারা সম্পাদিত হয়, তা বলা অপেক্ষাই রাখে না।
    মূলতঃ আম্বিয়া আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস সালামগণ যেরূপ ওহীর দ্বারা নিয়ন্ত্রিত তদ্রুপ ওলীআল্লাহ্‌ রহ্‌মতুল্লাহি আলাইহিমগণ ইল্‌হাম-ইলকার দ্বারা নিয়ন্ত্রিত।
    আম্বিয়া আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস সালামগণ-এর শানে আল্লাহ্‌ পাক কালামে পাকে ইরশাদ করেন, “হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ওহী ব্যতীত নিজের থেকে কোন কথা বলেন না বা কোন কাজ করেন না।” (সূরা নজম ৩-৪)
    এ আয়াত শরীফ-এর তাফসীরে যাঁরা নায়িবে নবী, ওয়ারাছাতুল আম্বিয়া তথা ওলীআল্লাহ্‌ রহ্‌মতুল্লাহি আলাইহিম, উনাদের শানে আল্লাহ্‌ পাক হাদীছে কুদসীতে ইরশাদ করেন, “বান্দা অতিরিক্ত আমল (সুন্নতে যায়েদা, মুস্তাহাব) করতে করতে আমার এতটুকু নৈকট্য লাভ করে যে, আমি তাকে মুহব্বত করি। আমি যখন তাকে মুহব্বত করি তখন আমি তার কান হই, সে আমার কানে শুনে। আমি তার চোখ হই, সে আমার চোখে দেখে। আমি তার জবান হই, সে আমার জবানে কথা বলে। আমি তার হাত হই, সে আমার হাতে ধরে। আমি তার পা হই, সে আমার পায়ে চলে। কাজেই তখন সে আমার কাছে যা প্রার্থণা করে তা আমি তাকে দান করি।” (বুখারী শরীফ)
    অর্থাৎ যিনি হক্কানী-রব্বানী ওলীআল্লাহ্‌ তিনি যা কিছু করেন না কেন, তা মহান আল্লাহ্‌ পাক-এর নির্দেশ মুতাবিক বা তাঁর মত ও পথ অনুযায়ীই করে থাকেন।
    সুতরাং হক্কানী ওলী আল্লাহ্‌গণ যে লক্বব ব্যবহার ও প্রকাশ করেন তাও মহান আল্লাহ্‌ পাক ও তাঁর রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খতামুন্‌ নবিয়্যীন, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর নির্দেশেই করে থাকেন।
    অতএব, যে বা যারা বলে থাকে তাঁর এই লক্ববগুলো ব্যবহারের যোগ্যতা নেই, তাদের উচিত হবে তারা যেন আল্লাহ্‌ পাক ও তাঁর হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে প্রশ্ন করে জেনে নেয় তাঁরা কেন তাঁকে এই লক্বব মুবারকগুলো দান করছেন।
    উনি সিম্পল বিএ পাশ। এই মন্তব্যটি ডাহা একটি মিথ্যা। হাদীছ শরীফ-এ মিথ্যাবাদী সাবস্ত্য হওয়ার ব্যাপারে বলা হয়েছে, “মিথ্যাবাদী হওয়ার জন্য এতটুকুই যথেষ্ট যে, সে যা শুনে তাই বলে বেড়ায় (যাচাই-বাছাই বা তাহক্বীক্ব করে না)।” (মিশকাত শরীফ)
    আর মিথ্যাবাদীদের ব্যাপারে আল্লাহ্‌ পাক কুরআন শরীফ-এ ইরশাদ করেন, “মিথ্যাবাদীদের উপর আল্লাহ্‌ পাক-এর লা’নত।” (সূরা আল ইমরান ৬১)
    বস্তুত তিনি কোন নিয়মতান্ত্রিক বা প্রাতিষ্ঠানিকভাবে লেখাপড়া করেননি। বরং তিনি হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণ যেরূপ আখিরী রসূল, হাবীবুল্লাহ্‌ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর নিকট ইল্‌মে ফিক্বাহ্‌ ও ইল্‌মে তাছাউফ অর্জন করেছেন। তদ্রুপ তিনিও যাত্রাবাড়ীর হযরত পীর ছাহেব ক্বিবলা রহ্‌মতুল্লাহি আলাইহি-এর নিকট ইল্‌মে ফিক্বাহ্‌ ও ইল্‌মে তাছাউফ অর্জন করেছেন। যিনি একজন প্রখ্যাত ও প্রসিদ্ধ তাফসীর, হাদীছ ও ফিক্বাহ বিশারদ ছিলেন। ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসার একজন স্বনামধন্য ও প্রতিথযশা উস্তাদ ও আলিমে দ্বীন ছিলেন।
    রাজারবাগ শরীফ-এর মুর্শিদ ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী যাত্রাবাড়ীর মুর্শিদ ক্বিবলা রহ্‌মতুল্লাহি আলাইহি-এর জানাযায় যাননি। আপনার উক্ত বক্তব্যটি সঠিক কিন্তু এর ব্যাখ্যা নিতান্ত বিদ্বেষপূর্ণ। কেননা যাত্রাবাড়ীর মুর্শিদ ক্বিবলা রহ্‌মতুল্লাহি আলাইহিও তাঁর মুর্শিদ ক্বিবলা রহ্‌মতুল্লাহি আলাইহি-এর জানাযায় যাননি। এর দ্বারা রাজারবাগ শরীফ-এর মুর্শিদ ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী তাঁর মুর্শিদ ক্বিবলা (যাত্রাবাড়ীর মুর্শিদ ক্বিবলা) রহ্‌মতুল্লাহি আলাইহি-এর একখানা সুন্নত আদায় করেছেন। যাদের রূহানিয়ত নেই তাদের দ্বারা এর মর্ম বুঝা অসম্ভব। তাদের দ্বারা সম্ভব এর অপব্যাখ্যা করা।
    এরপর আপনি লিখেছেন, তিনি ১০বছর তার পীর ছাহেবে সাথে দেখা করেননি। মূলতঃ এর কারণ আমার লিখাটিতে স্পষ্টভাবেই উল্লেখ আছে আপনার এই বিষয় জ্ঞানের যথেষ্ট ঘাটতি থাকার কারণে তা বুঝতে পারেননি। আমার লেখাটিতে স্পষ্টভাবে বলা আছে যে, “তিনি সারাবিশ্বে সমাদৃত, প্রশংসিত, গ্রহণযোগ্য ও হক্ব সিলসিলা ফুরফুরা সিলসিলার পীর সাহেব ক্বিবলা হযরত মাওলানা শাহ ছূফী আবুল খায়ের মুহম্মদ ওয়াজীহুল্লাহ নানুপূরী (যাত্রাবাড়ির হযরত পীর ছাহেব ক্বিবলা) রহমতুল্লাহি আলাইহি হাতে বাইয়াত হয়ে মাত্র দেড় বছরে চার তরীক্বায় পূর্ণতাপ্রাপ্ত হন এবং স্বীয় মুর্শিদ ক্বিবলার চূড়ান্ত সন্তুষ্টি হাছিল করে খিলাফত প্রাপ্ত হন।”
    পীর সাহেব বা মুর্শিদ ক্বিবলা কাছ থেকে খিলাফত প্রাপ্ত হলে মুরীদ নিজেই যে বাইয়াত করাতে পারেন এবং তারঁ মুরীদেরকে যে তালীম-তালক্বীন, দর্স-তাদরিস দিতে হয় অর্থাৎ তাদের সময় দিতে হয় এটা আপনাদের মতো ইলমে তাসাউফের জ্ঞানহীন ব্যক্তিদের না জানারই কথা। মূলতঃ রাজারবাগের পীর সাহেব-এর সাথে তাঁর পীর সাহেব-এর সরাসরি দেখা-সাক্ষাত না হলেও রূহানী যোগাযোগ ঠিকই ছিল।
    এখন আপনার কথা প্রসঙ্গ থেকেই আপনাকেই একটি প্রশ্ন করতে চাই। তাহলো ষষ্ঠ হিজরী শতকের মুজাদ্দিদ হযরত ইমাম সাইয়্যিদ আব্দুল ক্বাদির জিলানী রহমতুল্লাহি আলাইহি, তিনি বালক বয়সে ইলম অর্জনের জন্য তাঁর মায়ের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে ইরাকের বাগদাদে চলে আসেন এবং তিনি ৯০ বছর দুনিয়াবী হায়াতে ছিলেন। কিন্তু বাগদাদে আসার পর কোন দিন তাঁর মায়ের সাথে দেখা-সাক্ষাত করেননি, এমনকি তাঁর মায়ের জানাযায়ও শরীক হননি অর্থাৎ তাঁর মায়ের সাথে তাঁর সম্পর্ক খারাপ ছিল। (নাঊযুবিল্লাহ) এর কি জবাব দিবেন?

    Malcolm X

    @তুষার (ﭡﺸر)

    উনি সিম্পল বিএ পাশ। এই মন্তব্যটি ডাহা একটি মিথ্যা।

    আমি তো জানতাম উনি বি এ পাশ , আপনি বলছেন সেটা মিথ্যা । উনি কি বি এ পাশ-ও করেন নাই ?

    Malcolm X

    @@তুষার (ﭡﺸر) ,

    রাজারবাগ শরীফ-এর মুর্শিদ ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী যাত্রাবাড়ীর মুর্শিদ ক্বিবলা রহ্‌মতুল্লাহি আলাইহি-এর জানাযায় যাননি। আপনার উক্ত বক্তব্যটি সঠিক কিন্তু এর ব্যাখ্যা নিতান্ত বিদ্বেষপূর্ণ। কেননা যাত্রাবাড়ীর মুর্শিদ ক্বিবলা রহ্‌মতুল্লাহি আলাইহিও তাঁর মুর্শিদ ক্বিবলা রহ্‌মতুল্লাহি আলাইহি-এর জানাযায় যাননি। এর দ্বারা রাজারবাগ শরীফ-এর মুর্শিদ ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী তাঁর মুর্শিদ ক্বিবলা (যাত্রাবাড়ীর মুর্শিদ ক্বিবলা) রহ্‌মতুল্লাহি আলাইহি-এর একখানা সুন্নত আদায় করেছেন। যাদের রূহানিয়ত নেই তাদের দ্বারা এর মর্ম বুঝা অসম্ভব। তাদের দ্বারা সম্ভব এর অপব্যাখ্যা করা।

    তুষার খান, এটা আপনার পীর সাহেবের অনেকগুলো মিথ্যার মধ্যে আরও একটি মিথ্যা । আসল ঘটনা আমার থেকে শুনুন ।

    ওয়াজীউল্লাহ (রহ:) এর পীর সাহেব নহুজুর (রহ:) মারা যান পশ্চিমবংগে আর তখন যাত্রাবারীর হুজুর ছিলেন বাংলাদেশে । এক দেশ থেকে আর এক দেশে তখন স্বল্প সময়ের মধ্যে যাওয়া সম্ভব ছিল না । সেই জন্য উনি জানাজায় যেতে পারেন নাই। আর যাত্রাবারীর হুজুর ওয়াজীউল্লাহ (রহ:) যখন মারা যান তখন রাজারবাগের পীর ছিলেন রাজারবাগে , মাত্র ৩০ মিনিটের রাস্তা । দুইবার যাত্রাবারীর থেকে খবর পাঠানোর পরো আপনার পীর সাহেব যান নাই । কেনো যায় নাই সেটা শুনুন । উনি মনে করেছিলেন যদি জানাজায় যান , আর সেখানকার কেউ যদি দিল্লুর রহমানকে জানাজার ইমামতি করতে না দ্যান , তাহলে সবাই বলবে উনি প্রধান খলীফা না । এই সংশয় উনার মধ্যে ছিল । তাই সে জানাজায় যায় নাই । কিন্তু মুরীদদের কাছে সেটা জায়েজ করার জন্য আপনার পীর এই গল্প ফাদে। পীরের সুন্নত এর প্রতি উনার যদি এতই দরদ থাকে তাহলে আপনার পীর দিল্লুর রহমানকে বলুন উনার পীরের মতো ২টা বিয়ে করুক । সেই সুন্নত তো পালন করে না , যেটা তার দলীলের জন্য সুবিধা সেটাই বলে বেরায় ।

    আমার প্রতি গোস্বা না করে , নিজের পীরকে চেনার চেষ্টা করুন । আপনাদের রাজারবাগের সিনিয়ের মুরীদের সাথে আলোচনা করুন , তারা এগুলো সবই জানে ।

    Malcolm X

    @তুষার খান ,

    এখন আপনার কথা প্রসঙ্গ থেকেই আপনাকেই একটি প্রশ্ন করতে চাই। তাহলো ষষ্ঠ হিজরী শতকের মুজাদ্দিদ হযরত ইমাম সাইয়্যিদ আব্দুল ক্বাদির জিলানী রহমতুল্লাহি আলাইহি, তিনি বালক বয়সে ইলম অর্জনের জন্য তাঁর মায়ের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে ইরাকের বাগদাদে চলে আসেন এবং তিনি ৯০ বছর দুনিয়াবী হায়াতে ছিলেন। কিন্তু বাগদাদে আসার পর কোন দিন তাঁর মায়ের সাথে দেখা-সাক্ষাত করেননি, এমনকি তাঁর মায়ের জানাযায়ও শরীক হননি অর্থাৎ তাঁর মায়ের সাথে তাঁর সম্পর্ক খারাপ ছিল। (নাঊযুবিল্লাহ) এর কি জবাব দিবেন?

    পীরের বাসার সামনে পারমিশন ছাড়া ওয়াজ করে তার সাথে দেখা না করে যে মুরীদ ব্যায়াদপের মতো চলে আসে , সেই মূরীদের সাথে পীর সাহেবের রুহানী সম্পর্ক আছে আপনি বলতে চান ? যেটায় শরীয়তের দলীল নেই , সেটা রুহানী ভাবে চালিয়ে দেয়া তো আপনাদের স্বভাব ? তাই না ?

    Malcolm X

    @তুষার (ﭡﺸر),

    তুষার খান, আমি ওলী আল্লাহ অস্বীকার করছি না , আমার তাদের প্রতি সম্পূর্ন বিশ্বাস আছে । সুতরাং আমাকে বিস্তারিত বোঝানোর দরকার নেই একজন ওলী আল্লাহ ( রহ:) কি কি করেন । আমার প্রশ্ন হলে একজন সুদী মহাজন কিভাবে ওলী আল্লাহ হতে পারেন । আপনার পীর সাহেব সুদে লোন নিয়ে মুহাম্মদীয়া মেডিকেল সার্ভিসেস করেছে । এইরকম একজন সুদী মহাজনকে আপনি কিভাবে আল্লাহর ওলী বলেন সেটা আমাকে খোলাসা করেন ।

    আর আপনি বলছেন সম্পুর্ন সুন্নত অনুসরন করেন আপনার মামদুহ পীর সাহেব কিবলা , মাথার তালু থেকে পায়ের তালু পর্যন্ত । এখন যে হেলিকপ্টারে চড়ে ওয়াজ করতে যায়, গাড়ীর মধ্যে টন কে টন এ সি নিয়ে ওয়াজ করতে যায়, হোটেলে মেয়েলোকের মধ্যে বোরকা পড়ে লুকিয়ে থাকে সে কিভাবে আল্লাহর ওলী হয় তা তো বুঝলাম না । আর আপনি খেপতেছেন কেনো , আমি যদি ভুল বলে থাকি তাহলে সেটা দলীল দিয়ে খন্ডান ।

    আর আপনাদের খালাম্মা হুজুর নাকি আম্মা হুজুর তার নাকি ১০০ ভরি গহনা , এক জন আল্লাহর ওলীর বউ এর কিভাবে ১০০ ভরি গহনা থাকে সেটা আমাদের বুঝান ।

    আমার প্রশ্নের উত্তর দেবার আগে আপনি আগে যাচাই বাছাই করে নিবেন । আগেই ক্ষেপে যাবেন না । আপনাদের মুরীদ “আবু আশরাফ” , “মুসা” , “রুহুল হাসান” , “সাইফুল্লাহ” , “সালাউদ্দিন” , “সোহেল” সবগুলির সাথে আমার পরিচয় ছিল এবং আছে । সবার থেকে আমি এই সব ইনফরমেশন নিয়েছি । সুতরাং আগে যাচাই করেন ।

    দ্য মুসলিম

    @Malcolm X,ধন্যবাদ। অনেক কিছু জানতে পারলাম। (F)

    তুষার (ﭡﺸر)

    হাফিজুর রহমান ওরফে Malcolm X, আপনাকে ইতিপূর্বে যত দলীল দেয়া হয়েছে তার প্রায় সবগুলোই কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াসের আলোকে প্রদান করা হয়েছে। কিন্তু এখন বিনা দলীলে ৪ টি বক্তব্য পেশ করা হচ্ছে।
    ১. বিনা দলীলে আল্লাহ পাক এক।
    ২. বিনা দলীলে হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর হাবীব ও রসূল।
    ৩. বিনা দলীলে রাজারবাগ শরীফের মুর্শিদ ক্বিবলা বর্তমান যামানার মুজাদ্দিদ ও ইমাম।
    ৪. বিনা দলীল হাফিজুর রহমান ওরফে Malcolm X হচ্ছে উবাই বিন সুলুল অর্থাৎ বর্তমান যামানার মুনাফিক সর্দার।
    আল্লাহ পাক হাফিজুর রহমান ওরফে Malcolm X–এর কপালে হেদায়ত না থাকলে জমিন থেকে নিশ্চিন্ন করে দিন। আমিন।

    মর্দে মুমিন

    @সাউন্ড অফ ইসলাম, যিনি বর্তমান পঞ্চদশ হিজরী শতাব্দীর মুজাদ্দিদ তিনি হচ্ছেন খলীফাতুল্লাহ, খলীফাতু রসূলিল্লাহ, ইমামুশ শরীয়ত ওয়াত তরীক্বত, ইমামুল আইম্মাহ, মুহ্‌ইস সুন্নাহ, কুতুবুল আলম, মুজাদ্দিদে আ’যম, হুজ্জাতুল ইসলাম, ছাহিবু সুলত্বানিন নাছীর, আওলাদে রসূল, মাওলানা হযরত ইমাম সাইয়্যিদ মুহম্মদ দিল্লুর রহমান আল হাসানী ওয়াল হুসাইনী ওয়াল কুরাঈশী (মুদ্দা জিল্লুহুল আলী) রাজারবাগ শরীফ, ঢাকা।

    বাহ!!!!!!!!!!!!! এত…………………………ল……………….ম্বা কুনিয়া????????????????????? এটি তো সময় ও অর্থের অপচয়!!!!!


    কোরান সুন্নাহ সর্ব যুগে – ইজমা কিয়াস যুগে যুগে।

    তুষার (ﭡﺸر)

    @মর্দে মুমিন >>> নিজেই শ্লোগান আউড়ান “কোরান সুন্নাহ সর্ব যুগে – ইজমা কিয়াস যুগে যুগে।” অথচ লক্বব ব্যবহার সুন্নত,সেই সুন্নতকে বলছেন “এটি তো সময় ও অর্থের অপচয়“। আশা করি আপনার এই দ্বিমুখী আচরণের জবাব দিবেন।

  8. জনাব তুষার খাঁন, এই ব্লগে শান্তি বজায় রাখুন। কর্তৃপক্ষ চাচ্ছেন এখানে শুধু সালাত সিয়াম হজ্ব জাকাত নিয়ে আলোচনা হোক, তাই আপনার আমার এর বাহিরে যাবার অধিকার নাই। যার বাড়িতে যাবেন তার শর্তে আপনাকে অবস্থান করতে হবে।

    আর এই সাইটও আপনাকে কোন অবস্থায় অধিকার দেয় না আপনার হুজুরের গুন কির্তন প্রচারের। এবং এটা সম্পূর্ণ অবৈধ। অতএব বিরত থাকুন।

    @ কর্তৃপক্ষ, এই সাইট কাউকে কোন ইজমকে প্রমোট করার মঞ্চ দেয় নাই, তুষার খাঁন একের পর এক উনার বিশেষ মতকে প্রচার করে আসছেন তাই উনাকে ব্যান করা হোক।

    কোরান সুন্নাহ সর্ব যুগে – ইজমা কিয়াস যুগে যুগে।

    Malcolm X

    @মর্দে মুমিন,

    এই ব্লগে শান্তি বজায় রাখুন। কর্তৃপক্ষ চাচ্ছেন এখানে শুধু সালাত সিয়াম হজ্ব জাকাত নিয়ে আলোচনা হোক,
    কর্তৃপক্ষ কোথায় বলেছেন এটার রেফারেন্স দেয়া যাবে ? আমিতো জানতাম এখনো ব্যান পলিছি তৈরী হয় নাই ?

    মর্দে মুমিন

    @Malcolm X, জনাব আপনাকে তো নতুন দেখছি, না আপনি পুরানো ব্লগার শুধু নতুন নিকে এসেছেন? যাই হোক এত রেফারেন্স দেবার ক্ষমতা নাই। তবে যদি প্রথম থেকে এখন পর্যন্ত সব পোষ্ট ও কমেন্ট গুলো ধারাবাহিক ভাবে পড়ে আসেন তো এমনিতে জবাব পেয়ে যাবেন। আচ্ছা ভাই আপনি কি ন্যাশন অব ইসলামের প্রতিনীধি?

    কোরান সুন্নাহ সর্ব যুগে – ইজমা কিয়াস যুগে যুগে।

    হাফিজ

    @মর্দে মুমিন , সেটাতো ছিল আমার কমেন্ট আপনি কর্তৃপক্ষ বলে চালিয়ে দিচ্ছেন কেন ? এত অস্হির হলেন কবের থেকে ?

    মর্দে মুমিন

    @হাফিজ, জনাব ক্ষমা করবেন। আমি তো আপনাকে কর্তৃপক্ষ মনে করি। আর এটি যদি আমার ভুল হয় তো তা সংশোধণ করা দায়িত্ব আপনার।

    আমি অস্থির নই। আমি বারবার আপনার কাছ থেকে জানতে চেয়েছি আপনাদের এই সাইটের মুল অবজেক্ট কি? কারণ প্রতিটি মানুষই তার সময় ব্যয় করবে যদি তার বিবেচানায় তা সঠিক ফল বহে আনে। কেউই শিমূল তলায় পানি দিতে চায় না। আশা করি আপনি আমার বক্তব্য বুঝতে পেরছেন? ধন্যবাদ।


    কোরান সুন্নাহ সর্ব যুগে – ইজমা কিয়াস যুগে যুগে।

    হাফিজ

    @মর্দে মুমিন,

    @হাফিজ, জনাব ক্ষমা করবেন। আমি তো আপনাকে কর্তৃপক্ষ মনে করি। আর এটি যদি আমার ভুল হয় তো তা সংশোধণ করা দায়িত্ব আপনার।

    হ্যা এটা আপনার ভুল ধারনা । ভুল দুই জায়গায় ১) আমাদের একটা টিম আছে সেই টিমের আমি একজন সদস্য । সুতরাং এখানে আমার একক সিদ্ধান্ত নয় ২) আমি যখন হাফিজ নামে কথা বলি তখন আমি কর্তৃপক্ষের কোনো সিদ্ধান্ত বা কর্তৃপক্ষকে রিপ্রেজেন্ট করি না । আমার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত বলি ।

    আর আমাদের শুধু আগ্রহ মতভেদ পূর্ন বিষয় নিয়ে। “নামাজ” , “রোজা” , “হজ্ব” , “যাকাত” ইসলামের ৫ স্তম্ভ নিয়ে কোনো লেখা দেখি না অথচ যে বিষয়গুলো আমলের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় নয় সেগুলো বারবার আলোচনায় চলে আসে ।

    আমার কমেন্ট ছিল উপরেরটি । আমি বলেছি ইসলামের ৫ স্তম্ভ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ন এবং এগুলো নিয়ে আলোচনা হয় না , এগুলোও আলোচনায় আসা উচিত । এর অর্থ এই নয় যে অন্য বিষয় আলোচনায় আনা যাবে না । আমার নিজেরও অন্য বিষয়ে পোস্ট আছে ।
    এখানেও আপনি বুঝতে ভুল করেছেন ।

    হাফিজ

    @মর্দে মুমিন,

    আমি অস্থির নই। আমি বারবার আপনার কাছ থেকে জানতে চেয়েছি আপনাদের এই সাইটের মুল অবজেক্ট কি? কারণ প্রতিটি মানুষই তার সময় ব্যয় করবে যদি তার বিবেচানায় তা সঠিক ফল বহে আনে। কেউই শিমূল তলায় পানি দিতে চায় না। আশা করি আপনি আমার বক্তব্য বুঝতে পেরছেন? ধন্যবাদ।

    হ্যা বুঝতে পেরিছি । আপনার সাথে যখন আমার আলোচনা হয়েছে তখন সবসময় আমাদের দুটো জায়গায় মিল ছিল তা হলো আমরা একটি ইসলামিক ব্লগ সাইট করার প্রয়োজন অনুভব করেছি । কেননা আমারব্লগ এবং সামুতে ইসলামিক আর্টিকেল ছাপালেই গালাগালি শুনতে হয় । তাই একটা আলাদা ইসলামিক সাইট দরকার যেখানে ইসলামিক বিষয়ে আলোচনা করা যেতে পারে ।

    কিন্ত এটার ব্যান পলিছি কি হবে ? এটাতে কি ধরনের আর্টিকেল থাকবে ? এটার নীতি নিধারনে আমার আপনার মধ্যে সবসময় সমঝোতা থাকতে হবে কিনা , আপনার পরামর্শই সবসময় বাস্তবায়ন করতে হবে কিনা এই ধরনের কোনো আলোচনা আমার আপনার সাথে হয়নি । আমি অনেকের সাথেই পরামর্শ করেছি তার মধ্যে আপনি ছিলেন একজন । আর এটার নীতি নীর্ধারনে করছেন কর্তৃপক্ষের কয়েকজন , যাদের মধ্যে আমার ইনফ্লুয়েন্স আছে ।
    আমার সিদ্ধান্তের সেখানে গ্রহনযোগ্যতা থাকতে পারে , কিন্ত এককভাবে আমি সেখানে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারি না ।

    হাফিজ

    @মর্দে মুমিন, আপনার যে সব বিষয় কনফিউশন আছে এখানে জিজ্ঞেস করতে পারেন বা মেইল করতে পারেন । আমি চাইনা আপনার মুল্যবান সময় অযথা একটা ধারনার উপর বেস করে নষ্ট হোক ।

  9. [...] আমাকে সে সবের উত্তর না দিয়ে আমাকে “হাফিজুর রহমান ওরফে ম্যালকলম এক্স” বলে গালাগালি করেছে এবং মোনাফেক [...]