লগইন রেজিস্ট্রেশন

রজম – একটি চিন্তা

লিখেছেন: ' আবু আনাস' @ বৃহস্পতিবার, মার্চ ১৮, ২০১০ (১:০৪ অপরাহ্ণ)

আস-সালামু আলাইকুম, সকল প্রশংসা আল্লাহ’র জন্য, শান্তি অবতীর্ণ হোক মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর প্রতি। পরম করুণাময়-দয়াশীল আল্লাহ’র নামে শুরু করছি -

বর্তমান যুগে অনেককে বলতে শুনেছি যে ইসলামিক আইন এ যুগে অচল, তা অমানবিক। এখন এই ব্লগেও পেলাম কাউকে যারা মনে করেন রজম অমানবিক। আমি আগেও দেখেছি রজম কিছু মানুষের গায়ে আগুন ধরিয়ে দেয় কারণ এটার প্রয়োগের জন্য ইসলামের মোটামুটি সর্বোচ্চ পর্যায় প্রয়োজন হয়। একটা সমাজ যখন এমনভাবে বদলে যায় যে ব্যভিচার করে একটা পুরুষ/নারী এসে সেই দোষ স্বীকার করে এমন একটা “অমানবিক” শাস্তি মাথা পেতে নেয় তখন কাফিরদের গা রাগে জ্বলতে থাকে। ইমাম মুহাম্মদ ইবন আব্দুল ওয়াহাহাবের সময় যখন রজম কার্যকর করা হল তারপরেই তার উপর চরম রাজনৈতিক ও সামরিক আক্রমণ এসেছিল। এমনকি “সচলায়তনে” রজমের বিপক্ষে লেখা পড়ে আমি সেই কুফর মানসিকতার চমৎকার উদাহরণ পেয়েছি।
অথচ একটু ভেবে দেখলে দেখা যায় যে রজমের উদ্দেশ্য মানুষের কল্যাণ। মানুষের সামাজিক কাঠামোর একক – পরিবার ব্যবস্থা যাতে ভেঙ্গে না পড়ে তার জন্যই রজম এসেছে। একজন বিবাহিত মানুষ যখন বুঝবে যে বিবাহের বাইরে কোন সম্পর্ক করা এবং মানুষ হত্যা করা সমান অপরাধ তবে সে অন্য কিছু না হোক সেই ভয়েই “পরকীয়া প্রেম” এ জড়াবে না। রজমকে তুচ্ছজ্ঞান করতে করতে আজ আমাদের এমন দশা হয়েছে যে সদ্য কিশোরকে বলতে শোনা যায় –
“প্রেম করলে পরকীয়া
সেট কিনলে নোকিয়া”
আজ সে দ্বিতীয় লাইনটির উপর আমল করছে, কিছুদিন পর প্রথমটিকে ধরবে।

আর একজন বিশ্বাসী যে পরকালে সত্যি বিশ্বাস করে সে যদি মূহুর্তের পদস্খলনে ব্যভিচার করেও ফেলে তবে সে আত্মঘৃণায় এতখানি কুকঁড়ে যায়, আল্লাহর শাস্তির ভয় তাঁর মধ্যে এত তীব্রভাবে কাজ করে যে সে এই পাপের প্রায়শ্চিত্ত করতে পাথর নিক্ষেপের নিজের মৃত্যু শ্রেয় মনে করে। তাই তো রজমে মৃত্যুদন্ড দেবার সময় সেই মহিলা সাহাবির রক্ত যখন উমার (রাঃ) এর মুখে লেগেছিল এবং তিনি কটুবাক্য উচ্চারণ করেছিলেন তখন রসুলুল্লাহ (সাঃ) নিষেধ করেছিলেন এবং বলেছিলেন যে সেই সাহাবি যে পরিমাণ অনুতপ্ত হয়েছে তা ৭০ জন মদিনাবাসীর জন্য যথেষ্ট ছিল। একারণেই রজমের অধিকাংশ হাদিসে পাপী ব্যক্তি নিজে এসে পাপ স্বীকার করে শাস্তি চেয়ে নিয়েছে এমনকি রসুলুল্লাহ (সাঃ) শাস্তি দিতে অনিচ্ছা পোষণ করা সত্বেও। রজমের শাস্তি দেবার জন্য কাউকে ধরে আনতে হয়নি।

ঈমানের দাবী এটাই যে আল্লাহর আইন – তা ক্বুরানে সরাসরি বর্ণিত হোক বা রসুলুল্লাহ (সাঃ) এর সহিহ হাদিস থেকে আসুক না কেন – মেনে নেয়া এবং এই বিশ্বাসে মেনে নেওয়া যে আল্লাহ আমাদের জন্য যে আইন দিয়েছেন তা সর্বোৎকৃষ্ট। আমরা বর্তমান বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে আল্লাহর আইন পালন করতে পারি আর না পারি, এই বিশ্বাস টুকুর জোরে সবচেয়ে নিচু স্তর হওয়া সত্বেও বিচার দিবসে আল্লাহর কাছে অন্তত ঈমানের দাবীটুকু করতে পারবো।

Processing your request, Please wait....
  • Print this article!
  • Digg
  • Sphinn
  • del.icio.us
  • Facebook
  • Mixx
  • Google Bookmarks
  • LinkaGoGo
  • MSN Reporter
  • Twitter
১৬৬ বার পঠিত
1 Star2 Stars3 Stars4 Stars5 Stars (ভোট, গড়: ৫.০০)

১০ টি মন্তব্য

  1. একজন বিবাহিত মানুষ যখন বুঝবে যে বিবাহের বাইরে কোন সম্পর্ক করা এবং মানুষ হত্যা করা সমান অপরাধ তবে সে অন্য কিছু না হোক সেই ভয়েই “পরকীয়া প্রেম” এ জড়াবে না। রজমকে তুচ্ছজ্ঞান করতে করতে আজ আমাদের এমন দশা হয়েছে যে সদ্য কিশোরকে বলতে শোনা যায় –
    “প্রেম করলে পরকীয়া
    সেট কিনলে নোকিয়া”
    আজ সে দ্বিতীয় লাইনটির উপর আমল করছে, কিছুদিন পর প্রথমটিকে ধরবে।

    সহমত । আজ সমাজের প্রতিটি পরতে পরতে শুধু বেহায়াপনা । ইসলাম ধর্মে বিবাহকে সহজ করা হয়েছে আর “পরকীয়া” , ব্যবিচার তথা সমস্ত নির্লজ্জ কাজকে কঠিন অপরাধ হিসেবে দেখা হয়েছে । আর আজ দেখুন !! আমরা বিবাহকে জটিল জটিল করতে করতে এমন অবস্হায় নিয়ে এসেছি , একটি বিবাহ করতে ৩/৪ মাস এর প্রস্তুতি , গায়ে হলুদ ( সারা রাত গান বাজনা ) , ফিরুনি , বৌভাত , বিয়ে , ১০ লাখ টাকার দেন মোহর …শুধু জটিল আর জটিল । আর পরকীয়াকে সহজ করতে করতে এখন সংসার ভাংগার অবস্হা । সম্পূর্ন বিপরীত ।

  2. এখানে আরো একটি বিষয় পরিস্কার হওয়া উচিত , একমাত্র খেলাফত থাকলেই এই শাস্তি প্রয়োগ করা যাবে । যে দেশে ইসলামি খেলাফত নেই সেখানে এটার প্রয়োগ করা যাবে না ।

  3. এই পোস্টের একটা কমেন্ট এখানে দিয়ে দিলাম।

    রজম অমানবিক কিনা?
    এক.
    রাসূলুল্লাহ(সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যে রজম প্রয়োগ করেছেন সেটা ঐতিহাসিকভাবে প্রমাণিত।
    হযরত মায়াজ(রা.) এবং গামেদ গোত্রীয় নারী সাহাবী(রা.) এর ওপর রজম প্রয়োগের ঘটনা হাদিস এবং ইতিহাসের গ্রন্থে এত অধিক পরিমাণে এবং ভিন্ন ভিন্ন চেইনে এসেছে যে ইচ্ছা করলেই সেটাকে অস্বীকার করা যায় না।
    কাজেই রজমের বিধানকে অমানবিক বলার আগে একটু চিন্তা করা দরকার।

    দুই.
    অতঃপর আমি তাকে ও তাঁর পরিবার পরিজনকে বাঁচিয়ে দিলাম, কিন্তু তার স্ত্রী। সে তাদের মধ্যেই রয়ে গেল, যারা রয়ে গিয়েছিল। আমি তাদের উপর প্রস্তর বৃষ্টি বর্ষণ করলাম।[৭:৮৩]

    অবশেষে যখন আমার হুকুম এসে পৌঁছাল, তখন আমি উক্ত জনপদকে উপরকে নীচে করে দিলাম এবং তার উপর স্তরে স্তরে কাঁকর পাথর বর্ষণ করলাম।[১১:২২]

    অতঃপর আমি জনপদটিকে উল্টে দিলাম এবং তাদের উপর কঙ্করের প্রস্থর বর্ষণ করলাম।[১৫:৭৪]

    তোমরা কি এ বিষয়ে নিশ্চিন্ত রয়েছ যে, তিনি তোমাদেরকে স্থলভাগে কোথাও ভূগর্ভস্থ করবেন না। অথবা তোমাদের উপর প্রস্তর বর্ষণকারী ঘুর্ণিঝড় প্রেরণ করবেন না, তখন তোমরা নিজেদের জন্যে কোন কর্মবিধায়ক পাবে না।[১৭:৬৮]

    আমি তাদের প্রতি প্রেরণ করেছিলাম প্রস্তর বর্ষণকারী প্রচন্ড ঘূর্ণিবায়ু; কিন্তু লূত পরিবারের উপর নয়। আমি তাদেরকে রাতের শেষপ্রহরে উদ্ধার করেছিলাম।[৫৪:৩৪]

    রজম অমানবিক হলে, এই আয়াতগুলোতে আল্লাহপাক যে শাস্তিগুলো দিয়েছেন, সেগুলোকেও কি অমানবিক বলা যাবে কি না?

  4. ঈমানের দাবী এটাই যে আল্লাহর আইন – তা ক্বুরানে সরাসরি বর্ণিত হোক বা রসুলুল্লাহ (সাঃ) এর সহিহ হাদিস থেকে আসুক না কেন – মেনে নেয়া এবং এই বিশ্বাসে মেনে নেওয়া যে আল্লাহ আমাদের জন্য যে আইন দিয়েছেন তা সর্বোৎকৃষ্ট। আমরা বর্তমান বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে আল্লাহর আইন পালন করতে পারি আর না পারি, এই বিশ্বাস টুকুর জোরে সবচেয়ে নিচু স্তর হওয়া সত্বেও বিচার দিবসে আল্লাহর কাছে অন্তত ঈমানের দাবীটুকু করতে পারবো।

    সহমত।

    কয়েকদিন আগের একটি খবর শুনলাম যে, মসজিদে দাঁড়িওয়ালা ও টুপিওয়ালার সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে। তাই বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নিরাপত্তারক্ষী বাহিনীকে সর্বদা সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছেন।

    হাফিজ

    @দ্য মুসলিম,

    কয়েকদিন আগের একটি খবর শুনলাম যে, মসজিদে দাঁড়িওয়ালা ও টুপিওয়ালার সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে। তাই বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নিরাপত্তারক্ষী বাহিনীকে সর্বদা সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছেন।

    আর কয়েকদিন পর হয়ত বলবে, বাংলাদেশে মুসলমানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে তাই র‌্যাব, পুলিশকে সতর্ক করে দেয়া হোক ।

    দ্য মুসলিম

    @হাফিজ,

    বাংলাদেশের ইতিহাসে, বর্তমান সময়ের মতো দুর্দিন, বাংলাদেশের মুসলমানদের জীবনে আর কখনো আসেনি। যে কোন ধর্মপ্রাণ মুসলমান তা বুঝতে পারবে।

    হাফিজ

    @দ্য মুসলিম, সেদিন প্রথম আলোর মতো ইসলাম বিদ্বেষি পত্রিকা খবর দিল , র‌্যাব নাকি নিরীহ নাগরিককে জংগি হিসেবে চালিয়ে দিয়েছে ।

    আল্লাহ -ই ভালো জানেন , কোনটা সত্য ।

    দ্য মুসলিম

    @হাফিজ,
    র‌্যাব নাকি নিরীহ নাগরিককে জংগি হিসেবে চালিয়ে দিয়েছে ।
    ঠিক শুনেছেন, আমি সরাসরি একজনের সাথে কথা বলেছিলাম। তারা রাজনৈতিক কারণে নিরীহ মানুষকে হত্যা করছে।

    সম্প্রতি কয়েকদিন আগে আরেকটি ঘটনা শুনলামঃ
    ইডেন কলেজে যারা নতুন বর্ষে ভর্তি হচ্ছে, তাদের নাকি জোর করে, বিভিন্ন ভাবে ব্ল্যাকমেইল করে, বড় বড় নেতাদের বাড়ীতে জোর করে পাঠানো হচ্ছে মনোরন্জনের জন্য। তাদেরকে এ ব্যপারে বাধ্য করছে সেখানকার ছাত্রী নেত্রীরা। যদি কোন ছাত্রী এসব করতে রাজী না হয় তখন তাদেরকে বিভিন্ন হুমকি দেয়া হয়, ফলে তারা এসবে বাধ্য হচ্ছে।

    গত মাসে, ইডেন কলেজে নামাজ পড়ার সময় মেয়েদের উপর হামলা চালানো হয়। তারা সকলে পর্দা করতো এই অপরাধে তাদের উপর বিভিন্ন নির্যাতন করে প্রায় সারারাত প্রিন্সিপাল এর রূমে আটকে রাখা হয়। পরের দিন পুলিশের হাতে, জঙ্গী বলে তুলে দেয়া হয়। পুলিশকে এ ব্যপারে প্রশ্ন করা হলে তারা বলেছিলোঃ তাদের রূমে ইসলামের ধর্মীয় বই পাওয়া গিয়েছিলো।

  5. আপনার এই অসাধারন লাইন কয়টি খেয়াল করিনি , দি মুসলিম ভাই উল্লেখ করাতে চোখে পড়ল ।

    ঈমানের দাবী এটাই যে আল্লাহর আইন – তা ক্বুরানে সরাসরি বর্ণিত হোক বা রসুলুল্লাহ (সাঃ) এর সহিহ হাদিস থেকে আসুক না কেন – মেনে নেয়া এবং এই বিশ্বাসে মেনে নেওয়া যে আল্লাহ আমাদের জন্য যে আইন দিয়েছেন তা সর্বোৎকৃষ্ট। আমরা বর্তমান বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে আল্লাহর আইন পালন করতে পারি আর না পারি, এই বিশ্বাস টুকুর জোরে সবচেয়ে নিচু স্তর হওয়া সত্বেও বিচার দিবসে আল্লাহর কাছে অন্তত ঈমানের দাবীটুকু করতে পারবো।

    আলহামদুলিল্লাহ খুবই সুন্দর কথা ।

  6. আসসালামু আলাকুম ভাই,
    চমৎকারভাবে বিষয়টি তুলে ধরেছেন। জাজাকাল্লাহু খায়রা।

    ইসলাম একটি পরিপূর্ণ জীবন বিধান কাজেই রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদেরকে যেটা যেভাবে বলে গেছেন, তিনি যেটা যেভাবে পালন করেছেন আমাদেরকেও সেভাবে তা করতে হবে। বিন্দুমাত্র পরিবর্তন বা সংশোধন করার উপায় নেই। আমাদেরকে হতে হবে সাহাবীদের মতো, যখনই শুনবো এইটা আল্লাহ বলেছেন, আল্লাহর রাসূল বলেছেন – তখনই আমরা বলবোঃ আমরা শুনলাম এবং মেনে নিলাম।

    রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মৃত্যুর পর যখন আনসার সাহাবীরা একত্রিত হয়েছিল তাদের মধ্য থেকে খলিফা নির্ধারণ করার জন্যে তখন সেখানে আবু বকর (রা) এবং উমর (রা) ছুটে যান। আবু বকর (রা) যখন তাদের বললেন, আল্লাহর রাসূল বলেছেন, নেতা হবে কুরাইশদের মধ্য থেকে – সাথে সাথে সকল আনসার সাহাবী তা মেনে নিয়েছেন, দ্বিতীয় কোন যুক্তিই তারা পেশ করনে নি। কারণ তারা খুব ভাল ভাবেই এই আয়াতটি বুঝেছিলেন-
    “আল্লাহ তাআলা ও তাঁর রাসূল যখন কোন ব্যাপারে কোন সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন তখন কোন মুমিন পুরুষ ও কোন মুমিন নারীর তাদের সে ব্যাপারে নিজেদের কোন রকম এখতিয়ার থাকবে না -(যে তারা তাতে কোন রদবদল করবে); যে ব্যক্তি আল্লাহ তাআলা ও তাঁর রাসূলের নাফরমানী করবে, সে নিসন্দেহে সুস্পষ্ট গোমরাহীতে নিমজ্জিত হয়ে যাবে” (সূরা আহযাবঃ৩৬)