লগইন রেজিস্ট্রেশন

রফে ইয়াদাইন না করার স্বপক্ষে দলীল – পর্ব ২

লিখেছেন: ' মুনিস মোর্শেদ' @ বৃহস্পতিবার, জানুয়ারি ২৮, ২০১০ (১:২৩ অপরাহ্ণ)

প্রথম পর্বের পর ।

সেকালে জ্ঞান বিজ্ঞানে কুফা নগরীর অবস্হান ও মর্যাদা কোন পর্যায়ে ছিল তা ইতিহাসের পাতায় স্বর্নাক্ষরে লেখা রয়েছে । বস্তুত: এর জন্য একটি আলাদা গ্রন্হ আবশ্যক । অতএব , ইসলামী বিশ্বের এ দুটি বৃহৎ মর্যাদাবান ও গুরুত্বপূর্ন ঐতিহ্যবাহী কেন্দ্রেই রফে ইয়াদাইন না করবার আমলের প্রচলন থাকায় এটাই প্রমানিত হয় যে রফে ইয়াদাইন না করার বিধান আমলীগতভাবে মুতাওয়াতির পর্যায়ের । ইমাম শাফিঈ (রহ:) মক্কাবাসীদের আমলের দিকটি বিবেচনায় নিয়ে রফে ইয়াদাইনের মতটি গ্রহন করেছেন । আর মক্কাবাসীদের মধ্যে এর প্রচলন শুরু হয়েছিল আব্দুল্লাহ ইবনে যুবায়ের (রা:) খিলাফত কালে । কেননা তিনি রফে ইয়াদাইন করবার মত পোষন করতেন ।

এখানে আবার মনে করিয়ে দিতে চাই যে রফে ইয়াদাইন করা সম্পর্কে যে হাদিস আছে তা আমরা হানাফীরা কখনই অস্বীকার করি না এবং সে কারনেই রফে ইয়াদাইন এর উপর আমরা কোনো জারাহ বা সমালোচনা করি না । মূলত: অন্যায়ভাবে জারাহ করা বর্তমানে মানুষের স্বভাবে পরিণত হয়েছে । তাই যারা বলেন রুকুর সময় দুহাত উত্তোলন না করা হাদিস শরীফ দ্বারা প্রমানিত নয় তাদের বক্তব্য অবশ্যই হানাফীরা দলীলের দ্বারা খন্ডন করে। এবং কোরআন শরীফ , হাদিস শরীফ , ইজমা এবং কিয়াস ইসলামের এ চারি দলীল দ্বারা প্রমান করে যে হাত উত্তোলন না করাই উত্তম ও অগ্রাধিকার যোগ্য । কেননা রফে ইয়াদাইন এর হাদিসগুলো প্রথমদিকের । পরবর্তিতে এ পদ্ধতি রহিত হয়ে যায় এবং রুকুর সময় হাত উত্তোলন না করবার আমলটি জারি হয় এবং ফুকাহের কেরাম এর উপরই আমল করতে থাকেন ।

এখন , হানাফীরা কেন রফে ইয়াদাইন না করাকে তারযিহ বা প্রাধান্য দিয়ে থাকেন তা কোরাআন শরীফ , হাদিস শরীফ , ইজমা এবং কিয়াস এর আলোকে বর্ননা করবো , আল্লাহ পাকই তৌফিক দাতা ।

প্রথমত: আল্লাহ পাক কোরাআন শরীফে বলেন , “তোমরা নামাজের খুসু খুযুর সাথে দন্ডায়মান হও” ।

এর চাহিদা হলো নামাজে আল্লাহপাক আমার প্রতিটি নড়াচড়া প্রত্যক্ষ্য করছেন , আমার প্রতিটি কথা শুনছেন এবং আমার চিন্তা-ভাবনা সম্পর্কে জানছেন , অর্থাৎ মহান আল্লাহ পাককে হাজির নাজির জেনে বিনয় নম্রতার সাথে ধীর স্হীরভাবে নামাজের প্রতিটি রোকন আদায় করা , এবং নড়াচড়া একেবারেই কম করা।

এখন উসুল হলো দুটি হাদিস শরীফের মাধ্যমে বিরোধ দেখা দিলে কোরান শরীফের মাধ্যমে বিরোধ নিস্পত্তি করা । যেহেতু রফে ইয়াদাইন
না করার হাদিসসমূহ কোরান শরীফের সাথে অধিক সংগতি পূর্ন তাই এ পদ্ধতি সম্বলিত হাদিসাবলী প্রাধান্য পাবে । অর্থ্যাৎ যে হাদিসে নড়াচড়া কম হবে সে হাদিস এ আয়াত কারিমার সাথে অধিকতর সমন্জস্যশীল বিধায় অগ্রাধিকারযোগ্য ।

দ্বিতীয়ত: সহীহ মুসলিম শরীফের হাদিসে আছে ( ১/১৮১ )
জাবের বিন সামুরা (রা:) থেকে বর্নিত তিনি বলেন , একদা রসুলুল্লাহ ( সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লাম) আমাদের মাঝে তাশরীফ এনে বললেন, তোমাদের কি হলো যে তোমাদেরকে দেখছি বারবার হাত উত্তোলন করো , যেন তা শক্ত ঘোড়ার লেজ , বরং তোমরা নামাজে সকুন বা স্হিরতা অবলম্বন করো ।

যদিও হাদিসখানা সালামের সময় রফে ইয়াদাইন সম্পর্কিত , তথাপি রসুলুল্লাহর এ বাক্য “তোমরা বার বার হাত উত্তোলনের পরিবর্তে নামাজে
সকুন বা স্হীরতা অবলম্বন কর” এ কথা সাব্যস্হ হয় যে রফে ইয়াদাইন নামাযের স্হীরতার পরিপন্হি বিষয় । যা প্রকারন্তরে হানাফী মাজহাবের মাসলাকের সমর্থন স্বরূপ ।

তৃতীয়ত: নামাযের ধারাবাহিক ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায় , প্রাথমিক অবস্হায় নামাযে কথা বলা , সালামের উত্তর দেয়া , এদিক সেদিক তাকান প্রভৃতি যায়েজ ছিল । কিন্তু পর্যায়ক্রমে অতিরিক্ত আমল সহ অন্যসব নিষিদ্ধ হয়ে নামায কে সর্বাংগিন সুন্দর করবার পদ্ধতি পরিপূর্নতা লাভ করেছে । অর্থ্যাৎ হরকত বা নড়াচড়া থেকে সুকুন বা স্হিরতার দিকে পরিবর্তিত হয়েছে । সুতরাং এ বিষয়টিও একাধিকবার হস্ত উত্তোলনকে পরিত্যাগ করাকে প্রাধান্য দেয়ার দাবি রাখে ।

—— চলবে —————-

Processing your request, Please wait....
  • Print this article!
  • Digg
  • Sphinn
  • del.icio.us
  • Facebook
  • Mixx
  • Google Bookmarks
  • LinkaGoGo
  • MSN Reporter
  • Twitter
৩৫২ বার পঠিত
1 Star2 Stars3 Stars4 Stars5 Stars (ভোট, গড়: ৩.০০)

১ টি মন্তব্য

  1. কোরআন শরীফ , হাদিস শরীফ , ইজমা এবং কিয়াস ইসলামের এ চারি দলীল দ্বারা প্রমান করে যে হাত উত্তোলন না করাই উত্তম ও অগ্রাধিকার যোগ্য ।

    ভাই, সাধারণত উনারা উজমা ক্বিয়াস মানেন না।