লগইন রেজিস্ট্রেশন

তালাকের প্রকারভেদ ও সংশ্লিষ্ট মাসআলা

লিখেছেন: ' মুনিস মোর্শেদ' @ সোমবার, অক্টোবর ২৬, ২০০৯ (৩:০৪ পূর্বাহ্ণ)

সংক্ষেপে তালাকের নিয়ম পদ্ধতি বর্ননা করা হলো:

১) তালাকে আহসান (সর্বোত্তম তালাক ) : মাসিক থেকে পবিত্র হবার পর দৈহিক সম্পর্ক স্হাপন না করে স্ত্রিকে এক তালাক দেয়া ।
এটি ‘রিজয়ী তালাক’ হিসেবে পরিগণিত হবে । স্ত্রীর ইদ্দত শেষ হওয়ার আগে স্বামী যদি দাম্পত্য সম্পর্ক বজায় রাখার সিদ্ধান্ত নেন , তাহলে স্ত্রীর সাথে দাম্পত্য সম্পর্ক বলবত রাখতে পারবেন । ( এর জন্য কিছু করতে হবে না , শুধু সিদ্ধান্তই যথেষ্ট ) । আর যদি ইদ্দত শেষ হয়ে যায় , তারপর স্বামী সেই স্ত্রীর সাথে দাম্পত্য সম্পর্ক রাখতে চায় তাহলে কেবল নতুন করে ( দেনমহর নির্দিষ্ট সহ ) বিয়ে করে নিলেই হবে, আর যদি স্ত্রীর আগের স্বামীর ( যদি থাকে ) সাথে পুনরায় বিয়ে বসতে রাজী না হন , তাহলে তিনি অন্য জায়গায়ও বিয়ে বসতে পারেন । এ পদ্ধতির তালাক সবচেয়ে উত্তম ।

২) তালাকে হাসান (উত্তম পদ্ধতি ) : ধারাবাহিক ভাবে তিনটি মাসিক থেকে পবিত্র হওয়ার পর প্রতি পবিত্রাবস্হার একটি করে মোট তিন মাসে তিনটি তালাক দেয়া । এ পদ্ধতিতে স্ত্রীর ইদ্দত শেষে পুনরায় স্বামী তাকে বিয়ে করতে চাইলে হালালা ( অর্থ্যাত অন্য জায়গায় বিয়ে হয়ে তালাক না হলে ) না করে স্বামী নতুনভাবে বিয়ে করতে পারবেন না ।

৩) বিদআত পদ্ধতি : এর কয়েকটি অবস্হা রয়েছে যেমন:
….ক) স্ত্রীকে মাসিকের সময় তালাক দেয়া
… খ) মাসিক থেকে পবিত্র হওয়ার পর তার সাথে দৈহিক মিলনের পর তাকে তালাক দেয়া
….. গ) একসাথে কিংবা একই অনুষ্ঠানে একই পবিত্রাবস্হায় (তুহর) তিন তালাক দেয়া
কেউ যদি উপরিউক্তভাবে বিদআত তালাক দেন তাহলে তালাক কার্যকর হয়ে যাবে , কিন্তু তালাক প্রদানকারী গোনাহগার হবে ।

সুতরাং একসাথে তিন তালাক দিলে তিন তালাকই কার্যকর হবে , তা রাগের বশবর্তি হোক কিংবা হাসিমুখে দেয়া হোক অথবা ইচ্ছা অনিচ্ছায় দেয়া হোক, তাতে তিন তালাক পতিত হবে । ইমাম আজম আবু হানিফা (রহ:) , ইমাম মালেক (রহ:) , ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল (রহ:) , ইমাম সুফিয়ান সওরী (রহ:) এক সংগে তিন তালাক দিলে তিন তালাক কার্যকর হবার মত পোষন করেছেন । ইমাম নখয়ী , ইমাম দারে কুতনী , ইমাম ইসহাক প্রমুখ ইমাম মুজতাহিদগন এ মতের উপরই ফতোয়া দিয়েছেন ।

(সূত্র: ফাতহুল কাদীর , আলমগীরী , শামী , আইনী , বাহরুর রায়েক ইত্যাদি ফতোয়ার কিতআব )

Processing your request, Please wait....
  • Print this article!
  • Digg
  • Sphinn
  • del.icio.us
  • Facebook
  • Mixx
  • Google Bookmarks
  • LinkaGoGo
  • MSN Reporter
  • Twitter
৩,৫৬৭ বার পঠিত
1 Star2 Stars3 Stars4 Stars5 Stars (ভোট, গড়: ৫.০০)

১০ টি মন্তব্য

  1. ১। তুহর কাকে বলে বুঝায়ে বলেন।
    ২। যদি একজন মহিলা পুরুষ হইতে স্বইচ্ছা তিন ইদ্দত দুরে থাকে ঐ মহিলারে এক সাথে তিন তালক দিলে হালালার দরকার নাই।
    ৩।ইমাম আজম আবু হানিফা (রহ:) , ইমাম মালেক (রহ:) , ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল (রহ:) , ইমাম সুফিয়ান সওরী (রহ:) এক সংগে তিন তালাক দিলে তিন তালাক কার্যকর হবার মত পোষন করেছেন । ইমাম নখয়ী , ইমাম দারে কুতনী , ইমাম ইসহাক প্রমুখ ইমাম মুজতাহিদগন এ মতের উপরই ফতোয়া দিয়েছেন ।

    এদের আমলে নয়, রাসুলের আমলে রাগের মাথায় এক সাথে তিন তালাক দিলে তালাক হয়ে যায় তার স্বপক্ষে কোরআন ও রাসুল সাঃ সুন্নাহ থেকে দলিল দেন।কেউ যদি উপরিউক্তভাবে বিদআত তালাক দেন তাহলে তালাক কার্যকর হয়ে যাবে , কেউ যদি উপরিউক্তভাবে বিদআত তালাক দেন তাহলে তালাক কার্যকর হয়ে যাবে , কিন্তু তালাক প্রদানকারী গোনাহগার হবে
    খুব সুন্দর যুক্তি , কিন্তু তালাক প্রদানকারী গোনাহগার হবে তার জন্য কিয়ামত পর্যন্ত অপেক্ষা করুন। আর মহিলাটিকে দুনিয়াতে বিনা অপরাধে বিরম্ভনাময় জীবন দিয়ে শাস্তি দিন???????????? ধন্যবাদ।

  2. কিন্তু তালাক প্রদানকারী গোনাহগার হবে তার জন্য কিয়ামত পর্যন্ত অপেক্ষা করুন। আর মহিলাটিকে দুনিয়াতে বিনা অপরাধে বিরম্ভনাময় জীবন দিয়ে শাস্তি দিন???????????? ধন্যবাদ।

    @মর্দে মুমিন, আপনার উপরিউক্ত বক্তব্য পরিষ্কার না , মনে হচ্ছে দলীল এর চেয়ে আবেগকেই আপনি প্রাধান্য দিচ্ছেন । কেউ যদি তালাক দিয়ে দেয় তাহলে তালাক হয়ে যাবে, এটা মহিলার জন্য সমস্যা হোক বা না হোক । যদি সে বিনা কারনে দ্যায় তাহলে গোনাহগার হবে কিন্তু বাস্তবে তালাক হয়ে যাবে । লেখকের বক্তব্য আমার কাছে অন্তত: পরিষ্কার । এবং দলীল অনেক ।

    বাস্তবে দেখা যায় কেউ যদি ডিভোর্স চায় , তাহলে কেউ তাকে ঠেকাতে পারে না , পরবর্তিতে কার কি সমস্যা সেটা আইন আদালত দেখে না ।

    মর্দে মুমিন

    তাহলে এক কাজ করুন খুনিকেও গোণাহগার বলে ছেড়ে দেন। কি দরকার কিসাসের? হাশরের দিনে বিচার হবে নে। দেখুন কোরআন খুলে আল্লাহ বলেছেন- খুন খারাবির চেয়ে সমাজে ফ্যাসাদ সৃষ্টি কারীর অপরাধ জগণ্যতম। সমাজ সৃষ্টি হয় পরিবার থেকে । আরএই পরিবারে যে ফ্যাসাদ সৃষ্টি করল তাকে শাস্তি নাদিয়ে যে মহিলা দোষ করে নাই তাকে শাস্তি ভোগ করতে হবে এ কোন ইনসাফ। আর ইসলাম তো দুনিয়ায় এসেছে ইনসাফ দিতে, পুরুষের দোষ নারী ঘাড়ে দিতে নয়।
    আর নিবন্ধ কারকে বলেছি কোরান ও সুন্নাহ থেকে সরাসরি দলিল দিতে, শত শত বছর পর কোন মুজতাহিদের ইজতেহাদ থেকে নয়। একমাত্র কোরআন ও সুন্নাহ ছাড়া আর কোন দলিল শ্বাশত নয়। যুগের প্রয়োজনে বদলানো যেতে পারে।
    বিদায় হজের ভাষণের কথা স্মরন করুন রাসুল সাঃ বলেছেন- তোমরা যারা এখানে আছ,আমার আজকের এই কথা গুলো যারা এখানে নাই তাদের কাছে পৌছে দিবে। হয়তো তারা তোমাদের চেয়ে আমার এই কথা গুলো ওরা ভাল বুঝবে। এই কথার দ্বারা রাসুল সাঃ পষ্ট একটা ঈশারা দিয়ে গেছেন। যেটা হল তাকাল্লিদ কে অন্ধ অনুস্মরন নয় আকলকে ব্যবহার কর। কোরআনেও মোট ৪৪ বার তাগিদ দেওয়া হয়েছে আকল ব্যবহারের জন্য। ধন্যবাদ।

    হাফিজ

    আরে মিয়া , আপনি তো অযথাই পেচাচ্ছেন । মনে হয় লেখকের পুরা বক্তব্য পড়েন না ঠিকমতো । সে তো একবারো বলে নাই তালাক দেয়া ভালো , ঐ কথার দিকে যাচ্ছেন কেনো ? এই আলাপ এখানে সম্পুর্ন অপ্রাসংগিক ।

    লেখকের বক্তব্য এক বসাতে তিন তালাক দিলে সেটা তিন তালাক হয়ে যাবে । আপনি এটার বিপক্ষে কোনো দলীল থাকলে সেটা দেন । সে চার মাজহাব থেকে দলীল দিয়েছে । কোরান হাদিসে না থাকলে চার মাজহাবে আসতো কিভাবে ? আপনার লেখায় তো আপনার নিজস্ব বক্তব্য ছাড়া কোনো দলীল পেলাম না ।

    মর্দে মুমিন

    আরে সাব আপনি দেখছি তলোয়ার নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ছেন নাদান না লায়েকে বুঝাতে!!!!!!! আপনি তো আমার পয়েন্ট ত্রি-সীমানার কাছেও যান নাই। আমার একটাই প্রশ্ন নিবন্ধকারের কাছে যে রাগের মাথায় তিন তালাক দিলে তা বৈধ কিনা? বৈধ হলে কোরআন ও সুন্নাহ থেকে তা প্রমাণিত করতে হবে রাসুল সাঃ বলেছেন রাগের মাথায় তালাক দিলে তালাক হয়ে যায়।

    আর আপনি অবগত আছেন মাযহাব রাসুলের তৈরী করা নয়। এতএব মাযহাবের রায় সর্ব ক্ষেত্রে কিংবা প্রায়োগিক বা সর্ব কালের জন্য নয়। ঐ গুলো ঐ সময়ের বিশেষজ্ঞ মানুষের ব্যাখ্যা মাত্র। এবং চার মাযহাবের ব্যাখ্যা কালও আজ থেকে ১২০০ আগের। সেই সময়ের মানুষের জ্ঞানে, কর্মে, জীবন ধারন, এই সময়ের মতোও ছিল না। আমি আমার যুগের মুফতিদের ইজতেহাদকে অগ্রাধিকার দেব।
    <>
    ১নং উৎস কোরানের ব্যাখ্যা এক এক মুফতি এক এক রকম কি হয়? ২নং উৎস শত শত হাদিস কেমন করে ফেইন হয়? এখানে মুল উৎসে যদি ভুল ব্যাখ্যার অবকাশ থাকে তবে মাযহাবে থাকবেনা কেন? আপনি তো ইমাম গাজ্জালী রঃ এর ভক্ত তাহলে বলেন তো উনার লেখা কিমিয়ায়ে শাহাদত গ্রন্থে মাযহাব সম্পর্কে কি মুল্যায়ণ করেছিলেন?

    আপনার কাছে আমার প্রশ্ন-১.ইসলাম কি রাগ করতে নিষেধ করে নাই? ২. ইসলাম রাগের মাথায় কোন সিদ্ধান্তকে বৈধ বলেছে? ৩.এখন যদি কেউ রাগের মাথায় তালাক দেয় আর তার যদি কোন সাক্ষী না থাকে তবে কি তা তালাক হিসাবে গণ্য হইবে?
    আর আমি তো বলি নাই যে আমি হলেম মুফতিই জামান,যে চাইলে দলিল দেব! আমার জানার এবং বুঝার অধিকার আছে,আর যতক্ষণ আমি সন্তুষ্ট না হব ততক্ষণ প্রশ্ন করতেই থাকব।
    রাগের মাথায় তালাক হয়না বলে মুফতিই জামানদের তিনটি ফতোয়ার লিংক দিলাম। দলিল হিসাবে নিতে পারেন আবার না নিতে পারেন। ফতোয়া নং ১ ফতোয়া নং ২ ফতোয়া নং
    যদি প্যাচাচ্ছেন বলে ধমকান তো আমি আর কোন প্রশ্ন এখানে করব না ধন্যবাদ।

  3. আপনি রসুলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লাম ) এর যুগের ঘটনা জানতে চেয়েছেন , নীচে দুটো হাদিস দেয়া হলো যেটা তখনকার সময়ের
    ১)
    তাবরানী ইবনে ওমর (রা:) এর একটি হাদিস বর্ননা করেন যা নিম্নরূপ :
    “আমি বললাম ইয়া রসুলুল্লাহ ( সাল্লাল্লাহু আলাইয়ে ওয়া সাল্লাম ) আমি যদি তাকে তিন তালাক দিতাম , তবে কি আমি তাকে ফিরিয়ে আনতে পারতাম ? রসুলুল্লাহ ( সাল্লাল্লাহু আলাইয়ে ওয়া সাল্লাম ) বললেন “তখন সে তোমার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতো এবং এটা তোমার জন্য হতো গোনাহের কাজ” ।

    ২)
    সুনানে নাসাঈতে (১/১০০ ) হযরত শাবী (রাহ:) বর্ননা করেন , তিনি বলেন : “ফাতিমা বিনতে কায়েস আমাকে হাদীস বর্ননা করেছেন , তিনি বলেছেন , আমি নবী করিম ( সাল্লাল্লাহু আলাইয়ে ওয়া সাল্লাম ) এর কাছে এসে বললাম , আমি খালিদ পরিবারের কন্যা । আমার স্বামী আমার কাছে তালাকের সংবাদ পাঠিয়েছেন । আমি তার পরিবারেরে কাছে খোরপোষ চেয়েছি । তারা আমাকে তা দিতে অস্বীকার করেছে । সাহাবায়ে কিরাম বললেন , ইয়া রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইয়ে ওয়া সাল্লাম তার স্বামী তার কাছে তিন তালাকের সংবাদ পাঠিয়েছে । ফাতিমা (রা:) বলেন অত:পর নবী করিম ( সাল্লাল্লাহু আলাইয়ে ওয়া সাল্লাম ) ইরশাদ করলেন , খোরপোষ ও বাসস্হান মহিলার জন্য হবে কেবল তখন , যখন তার স্বামীর জন্য তাকে ফিরিয়ে আনার অধিকার থাকে ” । এ দ্বারা মুজতাহিদ ব্যাখ্যা করেছেন নবী করিম ( সাল্লাল্লাহু আলাইয়ে ওয়া সাল্লাম ) তিন তালাক দেয়ার পর স্বামীকে প্রত্যাবর্তন করবার অধিকার দেননি ।

    আরো অনেক হাদিস শরীফ আছে , আমার নিকট কম্পিউটার না থাকার কারনে আমার উত্তর দিতে একটু দেরী হয় , কিছু মনে করবেন না ।

    মর্দে মুমিন

    জনাব, পরিস্কার জানতে চাইছি, আমার একটা প্রশ্ন -কোরআন ও সুন্নাহ থেকে তা প্রমাণিত করুন রাসুল সাঃ বলেছেন রাগের মাথায় তালাক দিলে তালাক হয়ে যায়। আপনার উদৃত হাদিস গুলোতে আমি রাগ শব্দটি খুঁজে পাই নাই। কার এট এ টাইমে তিন তালাক কেন বাইশ তালাকও মানুষ দিয়ে দেয় শুধু ঐ মানুষটা যখন সহ্য সীমানা ক্রস করে যায়। তার হিতাহিত জ্ঞান শূণ্য হয়।

  4. I would like to disagree with

    Point 2 in the Article :: 3 month 3 divorce condition. Quran does not indicate anything of that sort.
    The verses are very clear of the steps.

    Point 3 in the Article :: This is a disputed matter among scholars. The only common thing is in line with all scholars of the Schools is that the such thing is a mtter of sin if 3 divorce is given in a sitting.

    I would like to the conditions, analysis, hadiths and verses mentioned in my article

    http://www.peaceinislam.com/shane2k/179/

  5. ১.উৎস কোরানের ব্যাখ্যা এক এক মুফতির এক এক রকমের কেন হয়?
    ২.ফেইন নয় ফেইক হবে।

  6. আরে সাব আপনি দেখছি তলোয়ার নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ছেন নাদান না লায়েকে বুঝাতে!!!!!!!
    কি যে কন , পেন্সিল কাটার ছুড়ি দেখলে আমার হ্রদপিন্ড শুকিয়ে যায়, আর আপনি বলছেন তলোয়ার । ভুল হলে নিজ গুনে ক্ষমা করে দিয়েন ।