জ্ঞান, জ্ঞানার্জন ও জ্ঞানদানের মাহাত্ম্য-৩
লিখেছেন: ' দ্য মুসলিম' @ সোমবার, মার্চ ১, ২০১০ (১০:২০ অপরাহ্ণ)
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারকাতুহু।
সুত্রঃ এহইয়াউ উলুমুদ্দিন (১ম খন্ড)। ইমাম গাজ্জালী (রহঃ)
অনুবাদঃ মাওলানা মুহিউদ্দিন খান। মদিনা পাবলিকেশন্স
জ্ঞান, জ্ঞানার্জন ও জ্ঞানদানের মাহাত্ম্য-১
জ্ঞান, জ্ঞানার্জন ও জ্ঞানদানের মাহাত্ম্য-২
জ্ঞানের শ্রেষ্ঠত্ব সম্পর্কে সাহাবী রাঃ ও তাবেয়ীগণের রঃ উক্তি নিম্নরূপঃ
হযরত আলী রাঃ কোমায়ল কে বললেন, “হে কোমায়ল! জ্ঞান ধন-সম্পদ অপেক্ষা উত্তম। জ্ঞান তোমার হেফাজত করে, আর তুমি ধন সম্পদের হেফাজত কর। জ্ঞান শাসক আর ধন-সম্পদ শাসিত। ধন ব্যয় করলে হ্রাস পায় আর জ্ঞান ব্যয় করলে বেড়ে যায়।”তিনি আরও বলেনঃ জ্ঞানী ব্যক্তি রোযাদার, এবাদতকারী ও জেহাদকারী অপেক্ষা উত্তম। আলেম ব্যক্তির মৃত্যু হলে কেউ পূরণ করতে পারেনা।
আবুল আসওয়াদ রঃ বলেনঃ “জ্ঞানের চেয়ে বেশী ইযযতের কোন বিষয় নেই। বাদশাহ জনগণের শাসক হয়ে থাকে এবং জ্ঞানীরা বাদশাহদের শাসক হয়ে থাকে।”
হযরত ইবনে আব্বাস রাঃ বলেনঃ “হযরত সোলায়মান ইবনে দাউদ আঃ কে এলেম, ধন-সম্পদ ও রাজত্বের মধ্য থেকে যে কোন একটি বেছে নেয়ার ক্ষমতা দেয়া হয়েছিল। তিনি এলেম পছন্দ করেছিলেন। ফলে তাঁকে এলেমর সাথে ধন এবং রাজত্ব ও দান করা হয়েছিল। “
হযরত ইবনে মোবারক রঃ কে কেউ জিজ্ঞেস করলঃ “মানুষ কে? তিনি বললেনঃ সংসার বিমুখ দরবেশ। প্রশ্ন হলোঃ নীচ কে? উত্তর হলোঃ যারা নিজেদের দ্বীন বিক্রি করে খায়।”
হযরত হাসান বসরী রঃ বলেনঃ জ্ঞানী লোকদের লেখার কালি এবং শহীদদের রক্ত ওজন করা হলে কালির ওজন বেশী হবে।
হযরত ইবনে মাসউদ রাঃ বলেনঃ হে লোক সকল! জ্ঞান অর্জন কর জ্ঞানকে তুলে নেয়ার পুর্বে। জ্ঞান তুলে নেয়ার অর্থ জ্ঞানী লোকদের মৃত্যু বরণকরা। আল্লাহর কসম, যার হাতে আমার প্রাণ- যারা আল্লাহর পথে শহীদ হয়েছে, তারা জ্ঞানী লোকদের মাহাত্ম দেখে আকাঙ্খা করবে যে, আল্লাহ তায়ালা তাদেরকে জ্ঞানী অবস্হায় পুনরুত্থিত করলেই ভাল হত। কেউ জ্ঞানী হয়ে জন্মগ্রহণ করে না, বরং অনুশীলনের মাধ্যমে জ্ঞান অর্জিত হয়।
হযরত ইবনে আব্বাস রাঃ বলেনঃ রাতের কিছু অংশে জ্ঞান চর্চা করা আমার মতে সারারাত জাগ্রত থেকে নফল এবাদত করা অপেক্ষা উত্তম। এ বিষয়টি হযরত আবু হোরায়রা রাঃ এবং ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল রঃ এর থেকেও বর্ণিত আছে।
হযরত ওমর রাঃ বলেনঃ হে লোকসকল! জ্ঞানব্রতী হও। আল্লাহ তা’য়ালার কাছে একটি মহব্বতের চাদর আছে। যেব্যক্তি কোন বিষয়ের জ্ঞান অন্বেষন করে, আল্লাহ তায়ালা সে চাদর তাকে পরিয়ে দেন। এরপর সে ব্যক্তি কোন গুনাহ করলেও তাকে আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টি লাভের তওফিক দান করা হয়। পুনরায় গোনাহ করলেও আল্লাহ তাকে এই তাওফীক দান করেন। তৃতীয় বার গোনাহ করার পরও এরূপ করা হয়। এভাবে বার বার তওফীক দানের উদ্দেশ্য হচ্ছে, তার কাছ থেকে সে চাদরটি ছিনিয়ে না নেয়া, যদিও তার গোনাহ বৃদ্ধি পেতে পেতে মৃত্যু পর্যন্ত পৌঁছে।
সালেম ইবনে আবী যাদ রঃ বলেনঃ আমি ক্রিতদাস ছিলাম। প্রভু আমাকে তিন’শ দেরহামের বিনিময়ে মুক্ত করে দিলে আমি কি কাজ শিখে জীবিকা নির্বাহ করবো সে সম্পর্কে ভাবতে লাগলাম। অবশেষে আমি জ্ঞানকে পেশা করে নিলাম। এরপর এক বছর অতীত না হতেই শহরের শাসক আমার সাথে সাক্ষাত করতে এলেন। আমি তাঁকে ফিরিয়ে দিলাম; কাছে আসতে দিলাম না।
হযরত ওমর রাঃ বলেনঃ হাজার রাত জাগরণকারী রোযাদার আবেদের মরে যাওয়া এমন জ্ঞানী ব্যক্তির তুলনায় কম, যে আল্লাহ তায়ালার হালাল ও হারাম সম্পর্কে বিশেষজ্ঞ।
Processing your request, Please wait....











